সময়
প্রকাশিত: নভেম্বর ২০, ২০১৮
লেখকঃ

 107 বার দেখা হয়েছে

এই লেখক এর আরও লেখা পড়ুনঃ

.
প্রবন্ধ : সময়
লেখা : রেজওয়ানুল হক
.
প্রত্যেকটা জিনিসরই শুরু এবং শেষ দুটোই রয়েছে। যেমন : মানুষের জীবন। জন্মের মধ্য দিয়ে মানুষের জীবনের শুরু ঘটে। আর মৃত্যূর মাধ্যমে জীবনাবসান ঘটে। ঠিক তেমনি একটি বছরেরও শুরু এবং শেষ দুটোই রয়েছে। নতুন বছর শুরু হয়, আবার শেষও হয়। এভাবে চক্রাকারে এটা ঘটতেই থাকে। প্রত্যেক বছরই আমাদের জীবনে কোনো না কোনোভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকে। তবে একটু পার্থক্য রয়েছে, সেটা হলো কোনো বছরের কথা আমাদের সারাজীবন মনে থাকে আর কোনোটা কিছু সময়। কারো মনে সুখের স্মৃতি, আর কারো মনে থাকে বেদনা। বছর শেষে কেউ কাঁদে আর কেউবা হাসে।
.
আমাদের সমাজে নতুন বছরকে বরণ করার জন্য নানা ধরনের আয়োজন করা হয়। সবাই সেই সব আনন্দ উৎসবে মেতে উঠে। খুব কম সংখ্যক লোকই আছে যারা তাদের সময়ের মূল্য দিতে জানে। কথায় আছে, ‘সময় ও স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না।’
এই বাক্যটি বর্তমানে শুধু বইয়ের পাতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এর বাস্তবিক রুপ আর দেখতে পাওয়া যায় না। আজ সবাই উৎসবের আমেজে মেতে উঠে। কেউ তার ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত নয়। সবাই ঝুঁকে পড়ছে অপসংস্কৃতির দিকে। তারা কখনো ভাবে না যে, একটি বছর চলে যাওয়া মানে এ পৃথিবীতে বেঁচে থাকার সময় কমে যাওয়া।
বয়স যতই বাড়বে আমাদের বেঁচে থাকার সময় ততই ফুরিয়ে যাবে। আমরা মৃত্যূর খুব কাছাকাছি চলে আসবো। সময়ের স্রোতধারা সবসময়ই গড়িয়েই চলবে। সময় থাকতে নিজের স্বপ্নগুলো খুব কম মানুষই পূরণ করতে পারে। সময়ের সৎ ব্যবহার জীবনকে অনেক সফল করে তুলতে পারে। ঠিক তেমনি অসৎ ব্যবহার জীবনকে দূর্বিষহ করে তুলতে পারে।
.
একটি বছর চলে যায়, আবার নতুন বছর আসে। আমরা কি কখনো ভাবি পার করা বছরটি আমরা কিভাবে কাটিয়েছি? নিজের বিবেককে প্রশ্ন করলে এর উত্তর মিলবে।
আমরা বাঙালি। আমরা বীরের জাতি। এটা আমরা সবসময় প্রমাণ করেছি। কিন্তু তবুও কেন আজ আমরা পিছিয়ে আছি? এর উত্তর হলো আমরা সময় সম্পর্কে উদাসীন। আমাদের মাঝে সব গুণই বিদ্যমান। কিন্তু আমরা সময়ের মূল্য দিতে জানি না। সময়কে আমরা অবহেলা করে কাটিয়ে দেই। আমাদের এই অলসতাই আজ বড় শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই আমরা আজ এত সাহসী হওয়ার পরেও অবহেলিত। পৃথিবীর প্রায় সকল রাষ্ট্র আজ আমাদের থেকে এগিয়ে। সময়ের সঠিক মূল্য দিলে আজ হয়তো আমরা সবার থেকে এগিয়ে থাকতাম। কিন্তু সেটা অসম্ভব ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আমরা আজ সময় সম্পর্কে একেবারেই উদাসীন। খেল-তামাশার মাধ্যমে নিজের সময়গুলো ব্যয় করছি। আমাদের সময়ের হিসেব সম্পর্কে কোনো জ্ঞানই নেই। আমরা বসে হাজার হাজার টাকার হিসেব করতে পারি, কিন্তু আমাদের জীবন থেকে প্রতিনিয়ত চলে যাওয়া সময়গুলোর হিসেব কষতে একেবারেই ব্যর্থ। আধুনিক সভ্যতায় এসে আমরা এখন আধুনিকতার দিকে ছুটছি। আমরা আধুনিক সভ্যতায় টিকে থাকা হিসেবে অর্থ সম্পদকে বেছে নিয়েছে। কিন্তু আমাদের এই বেছে নেওয়াটা কি ঠিক?
এটা কোনোভাবেই ঠিক নয়। সময়ের সঠিক ব্যবহার ছাড়া আমরা কোনোভাবেই নিজেদেরকে আধুনিক করে তুলতে পারবো না। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর দিকে তাকালেই আমরা এর উদাহরণ দেখতে পারবো। তারা তাদের সময়কে সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হিসেবে বেছে নিয়েছে। তাই তারা আজ উন্নত।
আমরা বীরের জাতি হয়েও কেন পিছিয়ে?
কারণ, আমরা আমাদের সময়গুলোকে সঠিকভাবে ব্যয় করছি না। আমরা অকারণের কোনো অযথা কাজেই সময় ব্যয় করি। আমরা সবসময় আমোদ-ফূর্তিতেই নিজেদের সময়গুলোকে উড়িয়ে দেই। আমরা ভাবি আমাদের সময় অফুরন্ত! সত্যিই কি সময় অফুরন্ত?
এটা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। কারণ, মানুষ মরণশীল। আর আমাদের সময় শেষ আমাদের মৃত্যুর মাধ্যমে। আজ আমরা আমাদের সম্পদের সীমিত ব্যবহারে জন্য বড়ই সতর্ক। কিন্তু আমাদের সবচেয়ে মূল্যবান জিনিস সময়ের ব্যবহারের দিকে কোনো মনোযোগই দিই না। এই উদাসীনতাই আমাদের জন্য ভবিষ্যতের কাল।
.
প্রত্যেক নতুন বছরের শুরুতে আমাদের উচিৎ পুরো বছরটার জন্য একটা খসড়া পরিকল্পনা করা। সময়ের সবচেয়ে ভালো ব্যবহার করার জন্যই আমাদের এই পরিকল্পনাটি করতে হবে। আর বছরের শেষে উচিৎ কাটানো পুরো বছর থেকে সময়ের ভালো ব্যবহারের শিক্ষা নেওয়া। তবেই আমরা একদিন বাঙালি জাতি হিসেবে উন্নত জাতির খাতায় নাম লেখাতে পারবো।
আর তা না হলে, বাঙালি জাতির পাশে ‘অলস’ লেখাটা সবসময়ের জন্য যুক্ত হয়ে যাবে।
(সমাপ্ত)

সম্পর্কিত পোস্ট

যদি পাশে থাকো

যদি পাশে থাকো

তাসফিয়া শারমিন ** আজকের সকালটা অন্য রকম। সাত সকালে আম্মু বকা দিলো। মানুষের ঘুম একটু দেরিতে ভাঙতেই পারে। তাই বলে এত রাগার কী আছে ?একেবারে যে দোষ আমারও তাও নয়। মানুষ ঘুম থেকে উঠে ফোনে বা দেওয়াল ঘড়িতে সময় দেখে। কিন্তু আমি উঠি জানালার পর্দা সরিয়ে বাইরের আলো দেখে।কে জানে...

কুড়িয়ে পাওয়া রত্ন

কুড়িয়ে পাওয়া রত্ন

অনন্যা অনু 'আমিনা বেগম' মেমোরিয়াল এতিমখানার গেট খুলে ভেতরে ঢুকতেই ওমরের বুকটা ধুক ধুক করতে শুরু করে। ওমর ধীর গতিতে ভেতরে প্রবেশ করে। চারদিকে তখন সবেমাত্র ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে। ওমর গত রাতের ফ্লাইটে আমেরিকা থেকে এসেছে। সে এসেই সোজা আমিনা বেগম মেমোরিয়াল এতিমখানায়...

দাদাভাইকে চিঠি

দাদাভাইকে চিঠি

প্রিয় দাদাভাই, শুরুতে তোকে শরতের শিউলি ফুলের নরম নরম ভালোবাসা। কেমন আছিস দাদাভাই? জানি তুই ভালো নেই, তবুও দাঁতগুলো বের করে বলবি ভালো আছি রে পাগলী! দাদাভাই তুই কেন মিথ্যা ভালো থাকার কথা লেখিস প্রতিবার চিঠিতে? তুই কি মনে করিস আমি তোর মিথ্যা হাসি বুঝি না? তুই ভুলে গেছিস,...

৩ Comments

  1. Tanjina Tania

    যেমনের পর : না দিয়ে কমা দিলে ভালো হত।প্রতিযোগিতার প্রবন্ধ আরেকটু ডিটেইলস লেখা উচিৎ ছিল।

    Reply
  2. Md Rahim Miah

    কেউবা-কেউ বা

    বাহ্ অসাধারণ ছিল আর ভুলের মাত্রাও কম। কিন্তু আরো বিস্তারিত লিখলে ভালো হত। যাইহোক শুভ কামনা রইল

    Reply
  3. অচেনা আমি

    আসসালামু আলাইকুম।
    প্রবন্ধটা আর কিছুটা বড় হলে আরও ভালো লাগতো। তবে অল্প পরিসরে অনেক কিছুই খুব সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছেন। বানানে কিছু কিছু ভুল রয়েছে। যেমন –
    রুপ – রূপ
    ততই – ততোই

    আগামীর জন্য শুভ কামনা।

    Reply

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *