প্রিয়তম কে চিঠি
প্রকাশিত: জানুয়ারী ২২, ২০১৯
লেখকঃ

 136 বার দেখা হয়েছে

এই লেখক এর আরও লেখা পড়ুনঃ

জিন্নাত রিমা

প্রিয় মারুফ,
পত্রের শুরুতে নিয়মমাফিক কেমন আছো জানতে চাইবো না। কারণ, তুমি নিজেই বলেছো, আমি থাকতে নাকি তোমার ভালো না থাকার কারণ নেই। আমিও ভালো আছি। এমন এক আত্মার আত্মীয় যার আছে সে কি খারাপ থাকে!
তোমার কি মনে আছে? আগামী ৫ই ফেব্রুয়ারি আমাদের সম্পর্কের তিন বছর পূর্ণ হতে চলেছে।
হুট করেই ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে ভার্চুয়ালে আমাদের পরিচয়। তুমি প্রবাসী। আমি তখন ভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। আস্তে আস্তে ভালো লাগা, বন্ধুত্ব। ফেব্রুয়ারির পাঁচ তারিখ চ্যাটিং করতে করতে রাত তিনটে পার হয়ে যায়। তুমি ঘুমিয়ে পড়ো। আমার ঘুম আসে না। আমি ডুব দেই চিঠিতে। লিখে ফেলি ইয়া বড় এক চিঠি। প্রাপক তুমি। প্রেরক আমি। লিখে ফেললাম তোমাকে ভালো লাগার কথা। ভালোবাসার কথা। পরক্ষণে মনে পড়ে তুমি প্রবাসী। এই চিঠি ডাকে পাঠাই কি করে! আবার লিখে ফেলি তা মোবাইল কি-বোর্ডে। রাত ভোর হয়ে যায়। চিঠিটা সেন্ড করে শুয়ে পড়ি। ঘুম আসে না। তুমি চিঠি দেখ। উত্তর দাওনা। সকাল চলে যায়। তারপর দুপুর। বিকেল। সন্ধ্যা। আসে না চিঠির উত্তর। রাত দশটা। হঠাৎ ম্যাসেজ টোন বেজে উঠে। আমি দেখি। তোমার ম্যাসেজ। উত্তর পেয়েছি। ভালোবাসার উত্তর। দু’মাসের বন্ধুত্বের সম্পর্কটা রূপ নেয় ভালোবাসায়। ইশশ! কি নির্লজ্জ, বেহায়া মেয়ে আমি। নিজেই প্রথমে ভালোবাসার কথা বলি। তবে ভুল করিনি। হয়তো, নিজে না করলে তোমাকে আর পাওয়া হতো না। তুমি যেরকম লাজুক প্রেমিক আমার।
আচ্ছা, আমাদের প্রথম দেখা কি মনে আছে তোমার?
সম্পর্কের মাস খানেক পর আমাদের প্রথম দেখা। মার্চের তিন তারিখ তুমি দেশে আসলে। পাঁচ তারিখ দেখা। আদৌ এমন দেখা হয় কি কোনো প্রেমিক প্রেমিকাদের? আম্মার সাথে ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলাম। ডাক্তারের চেম্বার দ্বিতীয় তলায়। তুমি আসবে। আমি আম্মাকে ফাঁকি দিয়ে নিচ তলায় এসে অপেক্ষা করি। সূর্য তখন ডুবুডুবু অবস্থা। তুমি আসলে।
দু’জন লজ্জায় মাথা নিচু করে আছি। আমি আড় চোখে এক আধটু দেখেছিলাম তোমার পবিত্রতার লাজুক হাসি। তুমিও বুঝি দেখেছিলে? প্রথম দেখাটা মাত্র মিনিট দুয়েকে কয়েকটা শব্দ খরচে শেষ হলো। তারপর, তুমি বলেছিলে আর কোনো দেখা হবে না আমাদের। দ্বিতীয় দেখাটা ছাদনাতলায়। তোমার প্রতিজ্ঞা তুমি আমি দু’জনেই রক্ষা করেছি। আমাদের দেখা হয়নি আর। সম্পর্কের দু’বছরের মাথায় আমাদের সম্পর্কটা পারিবারিক দিক থেকে সম্মতি পায়।
সবকিছু এত সহজে হয়ে গেছে তা ভাবলে এখনো অবিশ্বাস লাগে। দু’মাস আগে তোমার দাদু মারা যায়। যার ফলে আম্মা( শাশুড়ি) একা হয়ে পড়ে। এদিকে তোমারও আসা হচ্ছে না। প্রবাস জীবন তো এমনই। চাইলে আসা যায় না। দাদু মারা যাওয়ার পরে দুই পরিবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোবাইলে আপাতত আকদটা সম্পূর্ণ হবে। তারপর তাই হলো। চলে আসলাম তোমার বেড়ে উঠার সেই স্থানে। এখনো আছি। আমি শুধু তোমাকে না, নিজস্ব একটা পরিবারও পেয়েছি। তবুও তোমাকে ছাড়া শূন্য লাগে সব। সময় ফুরোয় না। ফুরোতে চায় না। হয়তো সবার ফুরোয়। আমার না। আল্লাহ পাকের রহমতে ইনশাল্লাহ, আর কিছুদিন পর আমাদের দ্বিতীয় দেখা হবে। আমরা এক হবো। সে অপেক্ষায় আছি। শুনেছি ভার্চুয়ালে নাকি রিয়েল লাভ হয় না। তাহলে আমাদেরটা কী? যারা এই ধারণা মনে পুষে তারা হয়তো ভালোবাসার মানে বুঝে না। একটা সম্পর্ক টিকে থাকে, বিশ্বাস, শ্রদ্ধা, ভরসা, ত্যাগ, পবিত্রতা এই কয়টা শব্দের ব্যবহারের দ্বারা। যার সবটাই আমার মাঝে কমতি থাকলেও তোমার মাঝে পুরোটাই আছে। ওহ, হ্যাঁ’ আরেকটা কথা মনে রাখবে বস, আম্মার কাছে শুনেছি তুমি দেশে আসলে নাকি বাচ্চাদের সাথে বেশি মিশো। সময় কাটাও। এবার তা হবে না। তোমার সবটুকু সময় শুধু আমার জন্য বরাদ্দ রাখবে। না হয় জানোই তো! রণক্ষেত্র ঘটিয়ে ফেলব। সুতরাং সাবধান।
যাক আমার কথা আর বাড়াবো না। শেষ করার আগে আরেকটা বার্তা দিয়ে যাই। তোমাকে ভালো রাখার জন্য, আমি তোমার ছিলাম, আছি, থাকবো।
ইতি
তোমার অন্তরাত্মা

সম্পর্কিত পোস্ট

যদি পাশে থাকো

যদি পাশে থাকো

তাসফিয়া শারমিন ** আজকের সকালটা অন্য রকম। সাত সকালে আম্মু বকা দিলো। মানুষের ঘুম একটু দেরিতে ভাঙতেই পারে। তাই বলে এত রাগার কী আছে ?একেবারে যে দোষ আমারও তাও নয়। মানুষ ঘুম থেকে উঠে ফোনে বা দেওয়াল ঘড়িতে সময় দেখে। কিন্তু আমি উঠি জানালার পর্দা সরিয়ে বাইরের আলো দেখে।কে জানে...

কুড়িয়ে পাওয়া রত্ন

কুড়িয়ে পাওয়া রত্ন

অনন্যা অনু 'আমিনা বেগম' মেমোরিয়াল এতিমখানার গেট খুলে ভেতরে ঢুকতেই ওমরের বুকটা ধুক ধুক করতে শুরু করে। ওমর ধীর গতিতে ভেতরে প্রবেশ করে। চারদিকে তখন সবেমাত্র ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে। ওমর গত রাতের ফ্লাইটে আমেরিকা থেকে এসেছে। সে এসেই সোজা আমিনা বেগম মেমোরিয়াল এতিমখানায়...

দাদাভাইকে চিঠি

দাদাভাইকে চিঠি

প্রিয় দাদাভাই, শুরুতে তোকে শরতের শিউলি ফুলের নরম নরম ভালোবাসা। কেমন আছিস দাদাভাই? জানি তুই ভালো নেই, তবুও দাঁতগুলো বের করে বলবি ভালো আছি রে পাগলী! দাদাভাই তুই কেন মিথ্যা ভালো থাকার কথা লেখিস প্রতিবার চিঠিতে? তুই কি মনে করিস আমি তোর মিথ্যা হাসি বুঝি না? তুই ভুলে গেছিস,...

২ Comments

  1. আফরোজা আক্তার ইতি

    খুব মিষ্টি একটা চিঠি পড়লাম। প্রিয়জন দূরে থাকলে সবকিছুই অন্যরকম লাগে। কোনোকিছুই ভালো লাগে না। আর তা যদি হয় একজন সদ্য বিবাহিতা যুবতীর সাথে ঘটে যাওয়া তবে তো কথাই নেই।
    এটা সত্যিই প্রকৃত ভালোবাসা কোনও স্থান দেখে হয় না, সেটা ভার্চুয়ালেও হতে পারে, রিয়েলেও হতে পারে। সম্পর্কটা নির্ভর করে দু’জন মানুষের মনের উপর কোনো জায়গার উপর নয়।
    অপেক্ষার প্রহর খুবই শীঘ্র শেষ করে তার স্বামী ফিরে আসুক এটাই কামনা। সেই সাথে শুভ কামনা আপনাকেও।

    Reply
  2. Md Rahim Miah

    প্রিয়তম কে-প্রিয়তমকে (কে শব্দের সাথে বসে, তবে প্রশ্ন বুঝাতে আলাদা বসে। শিরোনামে ভুল বড্ড খারাপ দেখায়)
    কারণ, তুমি -কারণ তুমি(কারণের পর কমা হবে না)
    যায়-যাই(যেহেতু নিজের কথা বলেছে)
    হয়তো, নিজে-হয়তো নিজে(মাঝখানে কমে হবে না, এতে পড়তে অসুবিধা হয়)
    আচ্ছা, আমাদের-আচ্ছা আমাদের
    পায়-পাই(যেহেতু নিজের কথা বলেছে)
    ইনশাল্লাহ -ইনশাআল্লাহ্
    বাহ্ অসাধারণ লিখেছেন। মনে হচ্ছে পড়ে সত্যিকারের ভালোবাসার ঘটনা পড়েছি। পড়ে অনেক ভালো লেগেছে। তবে ভুলের মান বেশি বলা যায়। আর হ্যাঁ শেষে তোমার অন্তরাত্মা না দিয়ে নাম উল্লেখ করে দিলে ভালো হতো । নাম দিলে চিঠি পূর্ণতা পেতো। যাইহোক শুভ কামনা রইল

    Reply

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *