পিতার কাছে পুত্রের চিঠি
প্রকাশিত: জানুয়ারী ১৩, ২০১৯
লেখকঃ

 128 বার দেখা হয়েছে

এই লেখক এর আরও লেখা পড়ুনঃ

সাইয়িদ রফিকুল হক

ইলাহী ভরসা
৮১-সি, ওয়েস্টার্ন লজ,
জনস স্ট্রিট, ম্যানহাটন,
নিউইয়র্ক, আমেরিকা।
১১/০১/২০১৯
শ্রদ্ধেয় আব্বাজান,
আমার সশ্রদ্ধ সালাম নিবেন। আসসালামু আলাইকুম। আশা করি, আল্লাহর রহমতে বাড়ির সকলকে নিয়ে আপনি ভালো আছেন। আমরাও মহান আল্লাহর ইচ্ছায় ভালো আছি। কিছুদিন আগে মায়ের অসুখের কথাটা শুনে বিচলিত হয়েছিলাম। এখন তিনি সুস্থ আছেন শুনে আমরা আনন্দিত। সব মিলিয়ে আমরা ভালো আছি। কিন্তু এখানে আমাদের জীবনে একটা বড় ধরনের সমস্যা হওয়ায় আপনার কাছে এই বিষয়ে সুপরামর্শ চেয়ে আজ বিশেষ প্রয়োজনে আপনাকে পত্র লিখতে বসলাম।
আপনি তো জানেন, আমরা প্রায় বারো বছর যাবৎ আমেরিকার ক্যার্লিফোনিয়া অঙ্গরাজ্যে বসবাস করছিলাম। কিন্তু গত মাসে আমরা নতুন চাকরিসূত্রে নিউইয়র্ক শহরে চলে আসতে বাধ্য হয়েছি। আমার আগের চাকরিটা চলে যাওয়ায় নিউইয়র্কে আমি আর-একটা নতুন চাকরি পেয়েছি। কিন্তু এখানে এখন আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় নানারকম সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। আপনাকে সব কথা ধীরে ধীরে খুলে বলছি।
ক্যার্লিফোনিয়ার চেয়ে নিউইয়র্ক আরও বেশি আধুনিক শহর। এখানকার মানুষের জীবনযাত্রা আরও বেশি বেপরোয়া। আপনার নাতনীরা এখন বেশ বড় হয়েছে। আর ওদের স্কুলে যাওয়া-আসা শুরু হয়েছে। এখানে, ওদের নতুন একটা স্কুলে ভর্তি করে দিয়েছি। আপনার বড় নাতনী ফারিহা এবার এগারো বছরে পা দিয়েছে। আর সাবিহার বয়স আট। এখানকার স্কুলের ও স্কুলের আশেপাশে মানুষের পোশাকআশাক ভয়ানক উগ্র আর নগ্ন। স্কুলে যাওয়ার পথে আপনার নাতনীরা রোজ-রোজ এগুলো দেখতে পায়। এসব ওদের সঙ্গে দেখতে আমাদেরও খুব শরম লাগে। ওরা দু’বোন সেদিন আমাকে বলছিল—ওদের মতো ছোট-ছোট পোশাক পরবে। অনেক বুঝিয়েশুনিয়ে ওদের শান্ত করেছি। ওদের মা-ও নিয়মিত ওদের এসব বোঝায়। আমরা ওদের আরও বলেছি: আমরা মুসলমান। আমাদের পোশাক আলাদা। আমাদের সবসময় শালীনতার সঙ্গে চলাফেরা করতে হবে। তবুও ওরা ছোট-ছোট পোশাকের আমেরিকানদের দেখে বায়না ধরে ওদের মতো পোশাক পরতে। এসব হয়তো বুঝিয়েশুনিয়ে কিছু সময়ের জন্য ওদের শান্ত করা যায়। কিন্তু ওদের জন্য আশেপাশে এখনও কোনো বাংলা মিডিয়াম বা বাঙালিদের স্কুল খুঁজে পাইনি। চাকরির সুবিধার জন্য আমরা দু’জনেই কর্মস্থলের কাছাকাছি একটা বাসায় অবস্থান করছি। কিন্তু এখানকার মানুষগুলো বড় নগ্ন। দেখা যায়, রাস্তাঘাটে এরা নগ্ন অথবা অর্ধনগ্ন অবস্থায় শুয়ে কিংবা বসে থাকে। আবার দেখা যায়, এপার্টমেন্টের সামনে সুবিশাল চত্বরে সকালে এরা সর্বস্তরের নারী-পুরুষ মিলে ‘সান-বাথ’ করছে। আর এসময় এদের গায়ে কোনো পোশাক থাকে না বললেই চলে। এদের কাছে এভাবে খোলামেলা জীবনযাপন প্রক্রিয়াটা একেবারে সুস্থ ও স্বাভাবিক। কিন্তু আমাদের জন্য বিরাট হুমকিস্বরূপ। আপনার বউমাও এসব দেখে-দেখে এখন একেবারে বিরক্ত। ওর চাকরিটা পার্টটাইম। তাই, সে আপনার নাতনীদের নিয়মিত স্কুলে আনা-নেওয়া করতে পরে। মাঝে-মাঝে অবশ্য আমিও ওদের স্কুলে যাতায়াতে সাহায্য করে থাকি। সে সময় আমিও দেখেছি, এই নগ্ন পরিবেশে ওরা হয়তো বিপথগামী হয়ে যেতে পারে। তাই, বুঝতে পারছি না এখন কী করবো। আশা করছি, আপনি বিষয়টা নিয়ে ভেবেচিন্তে আমাকে একটা পরামর্শ দিবেন।
আপনার বউমা আগে আমেরিকা ছেড়ে বাংলাদেশের কোনো গ্রামে ফিরতে চাইতো না। এখন দেখি, তার মতও পরিবর্তিত হয়েছে। সেও এখন মাঝে-মাঝে বলে, “এর চেয়ে বাংলাদেশ অনেক ভালো। হয়তো দেশে স্বল্প আয়-রোজগার হবে। তবুও ভালো যে, ওখানে মানসম্মান নিয়ে বসবাস করা যাবে। নিজের ইচ্ছেমতো পর্দাপুশিদা করা যাবে।” পর্দা তো কিছুটা এখানেও করা যায়। কিন্তু আমরা পর্দা করলে কী হবে? কারণ, আমাদের ধর্মের বাইরে বাকী লোকগুলো যে নগ্ন হয়ে বসে আছে! যত দিন যাচ্ছে সমস্যা যেন ততই বাড়ছে। মানুষের লজ্জাশরম কোথায় যে পালাচ্ছে চাকরির অবসরে বসে-বসে তা-ই শুধু ভাবি। আপনি আমার জন্মদাতা-অভিভাবক। তাই, এখানকার সব কথা আপনাকে আজ অকপটে খুলে বলছি।
ফারিহা ও সাবিহার স্কুলের মেয়েগুলো এত স্বল্প পোশাক পরে যে, তা দেখে ওদের শিশুমনে নানারকম বিরূপ ধারণার জন্ম হচ্ছে। আশেপাশে একটা ভালো বাঙালি-স্কুল খুঁজছি। কিন্তু তা যে কবে পাবো তার কিছুই বুঝতে পারছি না। ফারিহা ও সাবিহা এখনই দেশে ফিরতে চায় না। ওরা এখানে বসবাসের পক্ষে। ইতোমধ্যে ওদের শিশুমনে নানারকম ভালোলাগা ও না-লাগার একটা বিরাট ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে। আর-কিছুদিন আমরা এখানে বসবাস করলে হয়তো ওরা নিজেদের দেশে আর ফিরতেই চাইবে না। বাসায় আমরা টেলিভিশন রাখিনি। তবুও ওরা স্কুলে নানারকম কার্টুন ও মুভি দেখে। আর বাড়িতে এসে ওরা এসব নিয়ে আমাদের সঙ্গে আলোচনা করতে চায়। এসব বিষয়ে আমরা ওদের সঙ্গে কণ্ঠ না মেলালে ওরা খুব মন খারাপ করে। এসব অবস্থা বিবেচনা করে আমরা দেশে ফিরে আসতে চাচ্ছি। তার কারণ, আর কিছুদিন গেলে হয়তো ওরা আমাদের নাগালের বাইরে চলে যাবে। এব্যাপারে আপনার সুচিন্তিত সুপরামর্শ চাই। আমাদের দৃঢ়বিশ্বাস, আপনি আমাদের সমস্যা-সমাধানে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবেন।
আপনি একজন স্বনামধন্য প্রধান শিক্ষক। জীবনের সকল ক্ষেত্রে আপনার অভিজ্ঞতা আমার চেয়ে অনেক বেশি। অধিকন্তু, আপনি একজন বিচক্ষণ, জ্ঞানী, সৎসাহসী, ধার্মিক, নিষ্ঠাবান, কর্তব্যপরায়ণ ও ধীরস্থির সিদ্ধান্তের অধিকারী ব্যক্তিত্ব। তাই, আপনার কোনো সিদ্ধান্ত ভুল হতে পারে না। আর আমার জীবনে আপনার চেয়ে বড় কোনো অভিভাবক আর নাই। এজন্য আমি সবকিছু বিবেচনা করে আজ আপনার শরণাপন্ন হয়েছি। শৈশবে আপনি যেমন আমাকে সকলপ্রকার আপদবিপদ থেকে সযত্নে ও স্বহস্তে উদ্ধার করেছেন—আজও আমাকে সেভাবে উদ্ধার করে চিরকৃতজ্ঞতার পাশে আবদ্ধ করবেন। আমি মনে করি, সন্তানসন্ততি যত বড়ই হোক না কেন, পিতার কাছে সে সামান্য এক শিশুমাত্র। জীবনের এই সংকটাপন্ন অবস্থায় আজ আমি আপনার দোয়া ও সাহায্যপ্রার্থী
। মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হ’ন। আমীন।
পরিশেষে, আপনার ও আম্মার জন্য রইলো সশ্রদ্ধ সালাম। ছোটবোন রেহানার পড়ালেখা কেমন হচ্ছে তা আমাকে জানাবেন। ওর বিয়ের জন্য ভালো একটা পাত্র দেখতে শুরু করে দিন। আমি ফিরে এসে ওর বিয়ের ব্যবস্থা করবো। ভালো, সৎ ও দ্বীনদার পাত্র পেলে আমাকে সঙ্গে-সঙ্গে জানাবেন। আমি যেকোনো সময় বাংলাদেশে আসতে পারবো। আর আমার সর্বকনিষ্ঠ দুই ভাই জাভেদ ও জামসেদকে মন দিয়ে পড়ালেখা করতে বলবেন। ওদের সবার জন্য রইলো অশেষ দোয়া ও আশীর্বাদ। সবাইকে সালাম দিয়ে আজ এখানেই শেষ করছি। আমীন।
ইতি
আপনার জ্যেষ্ঠপুত্র
আব্দুল আলিম আরশেদ
১১/০১/২০১৯
প্রেরক:
আব্দুল আলিম আরশেদ
৮১-সি, ওয়েস্টার্ন লজ,
জনস স্ট্রিট, ম্যানহাটন,
নিউইয়র্ক, আমেরিকা।
১১/০১/২০১৯
প্রাপক:
মোহাম্মদ খোরশেদ আলম
প্রধান শিক্ষক
কাশীনাথপুর হাই স্কুল
ডাকঘর: কাশীনাথপুর
থানা: আমিনপুর
জিলা: পাবনা
বাংলাদেশ।
সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।

সম্পর্কিত পোস্ট

যদি পাশে থাকো

যদি পাশে থাকো

তাসফিয়া শারমিন ** আজকের সকালটা অন্য রকম। সাত সকালে আম্মু বকা দিলো। মানুষের ঘুম একটু দেরিতে ভাঙতেই পারে। তাই বলে এত রাগার কী আছে ?একেবারে যে দোষ আমারও তাও নয়। মানুষ ঘুম থেকে উঠে ফোনে বা দেওয়াল ঘড়িতে সময় দেখে। কিন্তু আমি উঠি জানালার পর্দা সরিয়ে বাইরের আলো দেখে।কে জানে...

কুড়িয়ে পাওয়া রত্ন

কুড়িয়ে পাওয়া রত্ন

অনন্যা অনু 'আমিনা বেগম' মেমোরিয়াল এতিমখানার গেট খুলে ভেতরে ঢুকতেই ওমরের বুকটা ধুক ধুক করতে শুরু করে। ওমর ধীর গতিতে ভেতরে প্রবেশ করে। চারদিকে তখন সবেমাত্র ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে। ওমর গত রাতের ফ্লাইটে আমেরিকা থেকে এসেছে। সে এসেই সোজা আমিনা বেগম মেমোরিয়াল এতিমখানায়...

দাদাভাইকে চিঠি

দাদাভাইকে চিঠি

প্রিয় দাদাভাই, শুরুতে তোকে শরতের শিউলি ফুলের নরম নরম ভালোবাসা। কেমন আছিস দাদাভাই? জানি তুই ভালো নেই, তবুও দাঁতগুলো বের করে বলবি ভালো আছি রে পাগলী! দাদাভাই তুই কেন মিথ্যা ভালো থাকার কথা লেখিস প্রতিবার চিঠিতে? তুই কি মনে করিস আমি তোর মিথ্যা হাসি বুঝি না? তুই ভুলে গেছিস,...

৭ Comments

  1. আফরোজা আক্তার ইতি

    বাহ! এত চমৎকার, গোছানো আর অভিনব চিঠি পড়ে আমি মুগ্ধ। চিঠিটা প্রশংসার দাবিদার। ভিন্নমাত্রের লেখনী মন ছুঁয়ে গেছে আমার। কত সুন্দরভাবেই না আপনি মনের কথাগুলো এবং মুখোমুখি হওয়া সমস্যার কথাগুলো তুলে ধরলেন চিঠিটাতে। সবকিছু মিলিয়ে চিঠিটা আমাকে মুগ্ধ করতে বাধ্য, সবকিছুই বাস্তব মনে হয়েছে।
    তবে একটা জিনিস ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না, এটা কি প্রবাসী বাবাকে চিঠি পাঠানো হলো? কারণ গল্পের নিয়মানুযায়ী প্রবাসী কাউকে চিঠি লিখতে হবে। তবে আপইই সত্যিই অসাধারণ লিখেছেন। অনেকগুলো শুভ কামনা আপনার জন্য। বানান নির্ভুল।

    Reply
  2. আফরোজা আক্তার ইতি

    বাহ! চিঠিটার যে বিষয়টি আমাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছি সেটি হলো এটি পূর্ণ নিয়মে লেখা একটি চিঠি। পুরো চিঠিটা পড়েই মনে হচ্ছিল এটা বাস্তব। আসলেই পাশ্চাত্য দেশের উগ্র নিয়ম আমাদের মুসলিম দেশের জন্য অত্যন্ত হানিকর এবং লজ্জাষ্কর। এজন্য বিব্রত হতে হয় বাবা-মাকেও। খুব সুন্দর করে সমস্যাগুলো চিঠিটিতে তুলে ধরে পিতার কাছে তার সমাধান চেয়ে লিখে পাঠিয়েছেন। চিঠির সাবলীল লেখা আমার মন ছুঁয়ে গেল।
    অসংখ্য শুভ কামনা রইল প্রতিযোগীকে।

    Reply
    • সাইয়িদ রফিকুল হক

      প্রবাসী ছেলে, দেশে অবস্থানরত তার বাবাকে চিঠি লিখেছে। এটা ক্যানভাসের নিয়মেই আছে। আপনি ভালোভাবে পড়ে দেখুন।
      সুন্দর মন্তব্যের জন্য আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ।
      সঙ্গে শুভেচ্ছা ও শুভকামনা।

      Reply
  3. Md Rahim Miah

    বুঝিয়েশুনিয়ে-বুঝিয়ে শুনিয়ে(যেহেতু শব্দ দুইটা আলাদা বসবে)
    বাকী-বাকি
    চাইবে-চায়বে(যেহেতু মেয়ের কথা বলা হয়েছে, নিজের কথা নয়)
    চাই-চায়
    বাহ্ বেশ ভালো লিখেছেন, বাস্তব চিত্র ফুটে তুলেছেন সেখানের। তবে প্রথমে আমরা আর আমাদের বলার কারণে খটকা লেগেছিল, পরে দেখি সহপরিবার নিয়ে। যাইহোক চমৎকার ছিল চিঠিটা আর বানানে ভুলের মানও কম। তারপরও আগামীতে বানানের দিকে খেয়াল রাখবেন আশা করি। অনেক শুভ কামনা রইল।

    Reply
    • সাইয়িদ রফিকুল হক

      বুঝিয়েশুনিয়ে—একশব্দ। এটি একদম শুদ্ধ।
      বাকী—আরবি শব্দ। ‘বাকী’ শুদ্ধ। আবার ‘বাকি’-ও শুদ্ধ।
      চাইবে—এখানে, ‘চাইবে’ হবে। আপনার ‘চায়বে’ অশুদ্ধ।
      চাই—এখানে চাই হবে। আপনার “চায়” অশুদ্ধ।

      অশেষ ধন্যবাদ আপনাকে। আর সঙ্গে রইলো শুভেচ্ছাসহ শুভকামনা।

      Reply
  4. হালিমা তুস সাদিয়া

    খুব সুন্দর একটি চিঠি পড়লাম।
    বেশ গুছানো।

    চিঠিতে আমেরিকার সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন।

    প্রাশ্চাত্য দেশগুলো বিভিন্ন সংস্কৃতিতে ভরপুর।
    উগ্রভাবে চলাফেরা করা তাদের কাছে কিছুই না।
    কিন্তু মুসলিম হিসেবে আমাদের জন্য বিব্রতকর অবস্থা।
    কারণ এভাবে চলাফেরা করা আমাদের ধর্মে নেই।

    তাই ভালো কিছুর জন্য ওখান থেকে চলে আসাটাই বেটার।

    শুভ কামনা রইলো।

    Reply
    • সাইয়িদ রফিকুল হক

      সুন্দর মন্তব্যের জন্য আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ।
      আর সঙ্গে রইলো শুভেচ্ছাসহ শুভকামনা।

      Reply

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *