নৌকা ভ্রমণ : জননীর খোঁজে
প্রকাশিত: অক্টোবর ১৮, ২০১৮
লেখকঃ

 250 বার দেখা হয়েছে

এই লেখক এর আরও লেখা পড়ুনঃ

লেখা: সাজ্জাদ অালম বিন সাইফুল ইসলাম
.
.
একটা অপরিচিত খবরের মাধ্যমে জানতে পারলাম আমার মা জামালপুরের ইসলামপুর নামক জায়গার জারুনতলা গ্রামে আছে। বলাবাহুল্য হঠাৎ করেই তিনি মানসিক সমস্যার কারণে বাড়ি থেকে উধাও হয়ে গিয়েছিলেন। মাকে হারিয়ে আমি যেমন পাথরের মতো হয়ে গিয়েছিলাম, আমার বাবাও প্রিয়তমা স্ত্রীকে হারিয়ে পাগলের মতো নয়টা মাস কাটিয়েছে।
মোবাইলের সংবাদ কতটুকু সত্য বা মিথ্যা ঠিক অান্দাজ করতে পারছিলাম না। এর আগেও বিভিন্ন খবর পেয়ে এখানে-সেখানে খুঁজে খুঁজে না পেয়ে শেষে ক্লান্ত-পরিশ্রা
ন্ত হয়ে ঘরে ফিরতে হয়েছিলো। তবুও মনটা কেন জানি উতলা হয়ে গেল। অাব্বুকে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করলাম। এই শেষবার!
জামালপুর নামটা শুনেই মনে হলো হয়তো খুব বেশি দূরে তার অবস্থান। পরে শুনলাম রংপুর থেকে গাইবান্ধা গিয়ে সেখানকার বিখ্যাত বালাসীর ঘাট গিয়ে নৌকায় করে দেড় ঘণ্টার মধ্যে জামালপুর যাওয়া সম্ভব। ২৪শে অক্টোবর সকালবেলা অাব্বু আর চাচ্চুসহ বের হলাম অজানা গন্তব্যে। সে জেলা কখনো দেখিনি চোখে।
দুপুর সাড়ে ১১টায় গিয়ে পৌঁছলাম বালাসীর ঘাটে। অটো থেকে নামার পর ব্রহ্মপুত্র নদ দেখে আমার চোখ ছানাবড়া হয়ে গিয়েছিলো। যেদিকে তাকাই শুধু পানি আর পানি। যদিও বর্ষাকাল চলছিলো না তবুও কোনো কোনো স্থানে পানির ডাক শোনা যাচ্ছিলো। নদীটা যেন সাদা চর হয়ে সাদা অাকাশে মিশে গেছে। এজন্য ঘাটটাকে অন্যরকম লাগছে।
অাব্বু এসে জানালো সাড়ে বারোটায় একটা নৌকা আছে। তারমানে আমাদের এখনো এক ঘণ্টা দেরি করতে হবে। এতক্ষণ কোথায় বসে থাকবো সেকথা ভেবে মনটা দ্বিগুন খারাপ হয়ে গেল। আব্বু হঠাৎ ফোন করে বললেন,
‘জামালপুর যাওয়ার আরেকটা নৌকা আছে ঠিক বারোটার সময়। তুমি তাড়াতাড়ি টিকিট কাউন্টারে চলো অাসো।’
যেখানে বসেছিলাম সেখান থেকে উঠে কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর টিকিট কাউন্টার খুঁজে পেলাম। টিকিট কাউন্টারে গিয়ে দেখলাম অাব্বু অার চাচ্চু টিকিট কাটছে। আমি পাশের একটা বেঞ্চে বসে পড়লাম। এর অাগে কোনোদিন নৌকায় চড়া হয়নি। বুকটা যেমন ধুঁকধুঁক করছে তেমনি আমার জননীর জন্য মনটা গত নয় মাস থেকে কাঁদছে। যেটা নিজের ফ্যামিলি বা অাত্মীয়-স্বজনদের কাউকেই দেখাতে পারিনি। তবে সবাই কয়েকদিন দেখেছে আমার হাউমাউ করে কান্নার দৃশ্য।
বেঞ্চে বসে নানান রকম ঘটনা দেখে যাচ্ছি। ঘাটে মানুষ গিজগিজ করছে। ওপারের লোক এপারে এসে কেউ কেউ বাজার-সদাই করে নৌকা বোঝাই করে চলে যাচ্ছে।
ঠিক বারোটায় নৌকার নিকটে গিয়ে দাঁড়ালাম। প্রচুর রোদ থাকার কারণে উঠতে ইচ্ছে করছিলো না। প্রায় লোকজনই দাঁড়িয়ে ছিলো। নৌকায় বসে থাকা একজন মধ্যবয়সী লোক বারবার তাগাদা দিচ্ছিলেন। লোকটার গায়ের পোশাক দেখে বুঝা যাচ্ছিলো হয়তো তিনি সরকারী উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা। নৌকার এক পার্শ্বে বসে বারবার মাঝিকে হাঁক পারছিলেন। আমরা প্রচণ্ড রোদের মধ্যেও নৌকায় উঠে বসলাম। আমাদের সাথে আরও এগারোজন যাত্রী উঠলেন। একজন বাদে সবাই পুরুষ মানুষ। মেয়েটার কোলে একটা শিশু বাচ্চা দেখে বুঝা যাচ্ছিলো বাচ্চাটা তারই। তবে মেয়েটার বয়স অল্প।
ঠিক বারোটা এগারো মিনিটে নৌকা ছাড়লো।
এখন নাকি বৈঠাসহ নৌকা খুব কম দেখা যায়। সব নৌকাই মেশিনের মাধ্যমে চলে। পুরনো স্মৃতি মনে পড়ে গেল আমার। একটা সময় ঠিকই বৈঠাসহ নৌকা চলছিলো। সময় পাল্টানোর সাথে সাথে মানুষের জীবনযাত্রার মানও বদলেছে। মানুষ এখন উন্নতর প্রযুক্তি ব্যবহার করতে শিখেছে।
নৌকা ছাড়া অবস্থায় তাড়াহুড়া করে নৌকায় চড়তে গিয়ে একজন যাত্রী নৌকার কাঠ অকেজো হয়ে যাওয়ার কারণে কাঠ ভেঙে পা কেটে ফেলেছিলো। পা দিয়ে কিছু রক্ত বের হচ্ছিলো। লোকটার এমন অবস্থা দেখে মাঝির কপালে কিছু অশ্লীল কথা ছুঁড়ে দিলো যাত্রীরা। লোকটা হেনস্থা হয়ে যাওয়ার পর বারবার পায়ের দিকে তাকাচ্ছিলো, এমনটা দেখে বুঝতে পারলাম তার খুব কষ্ট হচ্ছে। আমিই বা কী করবো!
ছোটো মানু্ষ আমি। নৌকায় মাঝখানে বসে থাকলাম। আব্বু আর চাচ্চু নৌকার কোণায় বসে কী যেন গল্প করছিলেন। নৌকার মধ্যে একমাত্র মেয়েটা ছাতা মাথায় দিয়ে মেয়ের সাথে খোশগল্পে মেতে ছিলো। সেই সাথে আমাদের নৌকাটাও এগিয়ে চলছিলো জামালপুরের দিকে।
কিছুক্ষণের মধ্যে রোদের মধ্যেও শীতলতা অনুভব করতে লাগলাম। যারা এতক্ষণ ছাতা মাথায় দিয়ে বসে ছিলো তাদের মনে হয় ছাতার আর কোনো প্রয়োজন নেই, তাই ছাতাগুলো বন্ধ করে রেখে দিয়েছে।
নৌকার মধ্যে কয়েক প্রকারের মানুষ দেখলাম। এক ধরণের ব্যক্তি যারা সবার সাথে গল্পে মেতে ছিলো, অন্য ধরণের মানুষ যিনি নৌকার অপরপ্রান্তে বাবুর মতো বসে একের পর একটা সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়ছিলো। পুরো দেড় ঘণ্টায় তার মুখ দিয়ে যেমন আমি একটা কথাও শুনিনি তেমনি আমিও একটা কথাও বলিনি। আমার বারবার মনে হচ্ছিলো যেখানে যাচ্ছি সেখানে আমার জননীকে খুঁজে পাবো তো? কিংবা ওখানে যাওয়ার পর পরিবেশটা কেমন হবে? নিশ্চয়ই গোলযোগের সৃষ্টি হবে?
নৌকার মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকলাম আর সামনের দিকে তাকালাম। অনেকদূরে কিছু বসতি দেখা যাচ্ছে। আমার মনে হলো হয়তো ওটাই ঘাট, কিন্তু একটার পর একটা করে বসতি পার হলাম কিন্তু নদী যেন ফুরতেই চাইছে না।
হঠাৎ আমার মনে হলো নদীর যে স্থানে আমরা অবস্থান করছি তার কিছুদূর সামনের পানিগুলোর রঙ কিছুটা কালো। খানিকটা অবাক হলাম। কেমন করে সম্ভব!
ফের ভাবলাম অাল্লাহর এ দুনিয়ায় সবকিছুই সম্ভব। আমার কাছে মনে হলো নদীতে দু’ধরণের পানি আছে। এক প্রকার সাদা পানি আর এক প্রকার কালো পানি। সাদা পানি অতিক্রম করার পর পেছনে ফিরে তাকিয়ে দেখি আমার অনুমান ভুল কিনা! ঠিকই তো আছে, সাদা রঙের পানি পার হয়ে কালো রঙের পানিতে অবস্থান করছি। এভাবে বারবার দেখছিলাম। নৌকা সাঁই সাঁই করে তার গন্তব্যে ছুটে চলছিলো। যেভাবে ছুটছিলো তাতে বাতাস এসে প্রচণ্ড রোদের মধ্যেও আমরা অারামবোধ করছিলাম। জীবনের প্রথম নৌকা ভ্রমনে চড়ে অনেককিছুই মনে উঁকি দিচ্ছে। হয়তো জননীর খোঁজে না গিয়ে অন্যকোনো কারণে জামালপুর গেলে পরিবেশটা অন্যরকম হতে পারতো। বিষণ্নমাখা মনে কিছুটা হলেও সুখের পরশ থাকতো। এসব কথা ভাবতে ভাবতে হঠাৎ চোখ গেল নদীর পাড়ের পাশের গ্রামটার দিকে। খানিকটা অবাক হলাম অামি, নদীর পাড় ভেঙে যাচ্ছে। আমার চোখের সামনেই বড় একটা মাটির ঢিবি ভেঙে নদীর সাথে তলিয়ে গেল। অাশেপাশের বাড়ির লোকজনেরা তাদের বাড়ি ভাঙতে ব্যস্ত। এমন দৃশ্য থেকে সত্যি আমি অনেক বেশিই অবাক হলাম। নৌকায় বসা একজন লোক তার পাশে বসে থাকা কয়েকজনকে হাত দিয়ে দেখিয়ে দিয়ে বললেন,
‘এই যে দেখছেন পানি জমেছে, সেগুলো বসতি ছিলো। কিছুদিন অাগে ভেঙে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।’
লোকটার কথা শুনে মনটা অারো খারাপ হয়ে গেল। এমন করেই বুঝি কাটে নদীর পাড়ের জীবন। মনে মনে ভাবলাম, এজন্যই বুঝি গান রচিত হয়েছে,
‘নদীর এ কূল ভাঙে ও কূল গড়ে এই তো নদীর খেলা।’
কিছুদিন যেতে অাকাশের দিকে তাকালাম। অাকাশটা যেন কালো মেঘে ঢেকে গেছে। ভয় পেলাম খানিকটা। নৌকার উপরে এমনকিছু নেই যা দিয়ে বৃষ্টি থেকে নিজেকে বাঁচাবো। বৃষ্টির সময় নৌকার লোকেরা কী করবে এ নিয়ে কানাঘুষা হচ্ছে। একজন লোক হাসতে হাসতে বললেন,
‘আরে চিন্তা কীসের? বৃষ্টি অাসলে মাঝি পেপার দিবে সবাইকে।’
তবুও যেন ভয় কাটছিলো না আমার। মনে মনে অাল্লাহকে ডাকছিলাম আর বলছিলাম যাতে এখনি কোনো প্রকার বৃষ্টি না পড়ে। তবুও বুঝলাম বৃষ্টির বড় বড় দানা এক ফোঁটা দু’ফোঁটা করে গায়ে পড়ছে। হাত দু’টো গুটিয়ে নিলাম। বারবার অাকাশের দিকে তাকাচ্ছিলাম। যাদের হাতে ছাতা ছিলো তারা মোটামুটি ছাতা খুলে মাথায় দেয়া শুরু করেছে। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যে মেঘ যেন কেটে গেল। আবারও রোদের ঝিলিক গায়ে পড়তে লাগলো। তখন কিছুটা হলেও ভালো লাগছিলো। অাস্তে অাস্তে যে আমরা মাঝ নদীর মধ্যে যাচ্ছি তা বেশ বুঝা যাচ্ছে। কারণ সেখানকার পানির ডাক রয়েছে। ঢেউগুলো বেশ জোরালো। ইচ্ছে হচ্ছিলো পানিগুলো স্পর্শ করে ছুঁয়ে দেই কিন্তু হৃদয়ের মাঝে লুকিয়ে থাকা অপূর্ণতা যেন সবকিছু শেষ করে দিচ্ছিলো। জীবনের প্রথম নৌকা ভ্রমন এমন করে হবে বুঝতেই পারিনি।
নৌকার কোণায় থাকা লোকটা ছাতা খুলে নিজেকে ঢেকে দুপুরের খাবার খাচ্ছে। সম্ভবত কলা, কেক আর বিস্কিট। কয়েকবার তার দিকে তাকিয়ে ভাবলাম দুনিয়াতে কত রকমের যে লোক অাছে তা এই নৌকা দেখলেই বুঝা যায়। কারণ তার মতো সরকারী উচ্চপদস্থ অারও একজন কর্মকর্তা তার অাশেপাশের লোকদের নিয়ে ঠিকই খোশগল্পে মত্ত অাছেন। তার পাশেই দাঁড়িয়ে অাছে পায়ে অাঘাত পাওয়া যুবকটি। যে কিনা বারবার তার পা’খানা পর্যবেক্ষণ করছিলো। মাঝ নদীতে অাসার পর হঠাৎ একটা টাওয়ার আমার চোখে পড়লো। ভাবলাম এটাই বুঝি ঘাট। তার সন্নিকটে অাসার পর বুঝলাম এটাও নয়। এতক্ষণ চুপচাপ থাকার পর মনটা অশান্ত হয়ে উঠেছে। হৃদয়ের ব্যাকুলতা যেন বেড়েই চলছে।
সামনে চরের মধ্যে কাশফুলের বাগান দেখে মনটা ভালো হয়ে গেল। কাশফুল সবসময় প্রিয় আমার। ইচ্ছে হচ্ছিলো চরের মধ্যে নেমে খুব জোরে চিৎকার করে বলি,
‘আমি হাজার বছর তোমার বুকে বাঁচতে চাই মা।’
মাঝ নদী থেকে অাস্তে অাস্তে পার হলাম। সামনে কিছু নিশানা দেখে অবাক হলাম। এগুলো অাবার কী! কিছুক্ষণ পর বুঝতে পারলাম নিশানার ওপাশে যাওয়া যাবে না। যতটুকু সম্ভব নৌকা নিয়ে নিশানার এদিকে থাকতে হবে।
নিশানার কিছুদূর পরেই স্পষ্ট বালি দেখা যাচ্ছে। মূলত এই বালি দেখেই আমি ভেবেছি নিশানার মানে এটা।
তবে ছোটো ছোটো ছেলে-মেয়েরা নদীতে নেমে গোসল করছিলো। আমি তাকিয়ে সবকিছু অবাক নয়নে দেখছি। এমন দৃশ্য সচক্ষে কখনো দেখার সুযোগ হয়নি তো। তবে চেয়েছিলাম বাড়ির পাশে তিস্তা নদী গিয়ে সেখানকার মানুষের জীবনযাত্রা সম্পর্কে কিছু তথ্য সংগ্রহ করে একটা গ্রাম্য সামাজিক উপন্যাসের রূপ দিবো। কিন্তু পারিবারিক কারণে সেখানে যাওয়ার অার সুযোগ হয়ে ওঠেনি।
আমাদের নৌকার সামনে আরও একটা কাশফুলের বাগান দেখতে পেলাম। কাশফুলের বাগান থেকে কিছুদূর পরেই দেখা যাচ্ছে ঢেউয়ের লম্বা লম্বা স্রোত। তার মানে হয়তো সেখানকার গভীরতা অনেক এবং পানিও বেশি।
বিষয়টা তখনি নিশ্চিত হলাম যখন দেখলাম জেলেরা জাল ফেলে একেবারে কিনারায় মাছ ধরছে। এমনভাবে জাল ফেলছে তাতে দেখা যাচ্ছে জালকে স্রোত ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু কিছুদূর পরই গিয়ে জেলে জালটা তুলছে। এতে কারো মাছ ধরা পড়ছে আবার কারো পড়ছে না।
এরকম জাল বাদেও আরও কয়েক ধরণের জাল আমার চোখে পড়লো। আমি গ্রামে থাকার সুবাদে যেমন জাল দেখেছি তার থেকে এগুলো প্রায় ভিন্ন রকমের।
হঠাৎ আমার চোখ গেল দূরে। মনে হচ্ছে এটাই ঘাট। কারণ কয়েকটা নৌকা বাধা অাছে। আর নৌকার মধ্যে গিজগিজ করা যাত্রী। এটা নৌকা তীরে পৌঁছালে তখন সেটি ছাড়বে গাইবান্ধার বালাসীর ঘাটের দিকে। অাপাতত আমরা আমাদের গন্তব্য জামালপুর চলে এসেছি।
অনেকবার অনুমান করার পর এবারই আমার অনুমান ঠিক হলো। নৌকার মাঝি নৌকা থামালো। অাস্তে অাস্তে সবাই নামতে শুরু করলো। অামি খুব অাস্তে নামছিলাম কারণ নৌকার কাঠগুলো খুব পুরনো হয়ে গেছে।
অনেকক্ষণ নৌকায় থাকার কারণে মনে হচ্ছে দুই ঘণ্টা হয়তো পার করেছি কিন্তু ঘড়ি দেখে বুঝতে পারলাম এক ঘণ্টা সতেরো মিনিট লেগেছে। কারো সাথে কথা না বলার জন্যই মনে হয় পথটা বেশি মনে হয়েছে। আমি নৌকা থেকে এক লাফে নেমে পড়লাম।
আমাদের পাশে থাকা মেয়েটির প্রয়োজনীয় অাসবাবপত্র আমার চাচ্চু নামিয়ে দিচ্ছে। মেয়েটি একাই নেমে পড়লো। তার বাচ্চাকে নিয়ে পরবর্তীতে আব্বু নামলো।
নৌকা থেকে নামার পর ভাবলাম, এটাই সেই জামালপুর জেলা! যেখানে আছে আমার জননী। যাকে গত ন’মাসে একটি বারের জন্য হলেও দেখিনি। যার জন্য আমার হৃদয়ে শূন্যতার তৈরি হয়েছে। যার জন্য বারবার মরতে গিয়েও ফিরে এসেছি। তাকে সত্যি সত্যি এখানে খুঁজে পাবো তো?
আমি নদীর দিকে তাকিয়ে একথাগুলো ভাবছিলাম। আব্বু পেছন থেকে বললেন,
‘বাবা চলো, এখন যাওয়া যাক।’
আমি মেকি হেসে বললাম,
‘চলেন।’
(সমাপ্ত)

সম্পর্কিত পোস্ট

যদি পাশে থাকো

যদি পাশে থাকো

তাসফিয়া শারমিন ** আজকের সকালটা অন্য রকম। সাত সকালে আম্মু বকা দিলো। মানুষের ঘুম একটু দেরিতে ভাঙতেই পারে। তাই বলে এত রাগার কী আছে ?একেবারে যে দোষ আমারও তাও নয়। মানুষ ঘুম থেকে উঠে ফোনে বা দেওয়াল ঘড়িতে সময় দেখে। কিন্তু আমি উঠি জানালার পর্দা সরিয়ে বাইরের আলো দেখে।কে জানে...

কুড়িয়ে পাওয়া রত্ন

কুড়িয়ে পাওয়া রত্ন

অনন্যা অনু 'আমিনা বেগম' মেমোরিয়াল এতিমখানার গেট খুলে ভেতরে ঢুকতেই ওমরের বুকটা ধুক ধুক করতে শুরু করে। ওমর ধীর গতিতে ভেতরে প্রবেশ করে। চারদিকে তখন সবেমাত্র ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে। ওমর গত রাতের ফ্লাইটে আমেরিকা থেকে এসেছে। সে এসেই সোজা আমিনা বেগম মেমোরিয়াল এতিমখানায়...

দাদাভাইকে চিঠি

দাদাভাইকে চিঠি

প্রিয় দাদাভাই, শুরুতে তোকে শরতের শিউলি ফুলের নরম নরম ভালোবাসা। কেমন আছিস দাদাভাই? জানি তুই ভালো নেই, তবুও দাঁতগুলো বের করে বলবি ভালো আছি রে পাগলী! দাদাভাই তুই কেন মিথ্যা ভালো থাকার কথা লেখিস প্রতিবার চিঠিতে? তুই কি মনে করিস আমি তোর মিথ্যা হাসি বুঝি না? তুই ভুলে গেছিস,...

০ Comments

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *