নিঃশব্দ অনুভূতি
প্রকাশিত: জুলাই ২০, ২০১৮
লেখকঃ

 171 বার দেখা হয়েছে

এই লেখক এর আরও লেখা পড়ুনঃ

লেখা: সাজ্জাদ আলম বিন সাইফুল ইসলাম
.
.
ভ্যাপসা গরমে ঘরের ভিতর থাকাটাই দায় হয়ে পড়েছে। গরমের কারণে গাছের তলে কিংবা পার্কে বসে হাওয়া খাচ্ছে নগরবাসী। মিষ্টি জানালার পাশে বসে বাইরের দৃশ্যগুলো বোঝার চেষ্টা করছে। নিচ থেকে যদিও তেমন ভালো করে দেখা যায় না। খানিকটা পানির তৃষ্ণা পেয়েছে তার। খুব সাবধানতা অবলম্বন করে জগ থেকে পানি ঢেলে ঢকঢক করে খেয়ে নিল।
অাস্তে অাস্তে ঘরের পিছনের বাগানে গিয়ে ফুলের গাছগুলো পর্যবেক্ষন করতে লাগলো। বাড়ির ভিতরের চারদিকটা জনশূন্যহীন। বাবা-মা বিয়ের দাওয়াত খেতে গেছেন। মামা বেশিরভাগ সময় বাড়িতে থাকলেও এখন তিনিও বাইরে। হয়তো জরুরী কোনো কাজে বাইরে গেছে।
সূর্যটা মাথার উপর কিরণ দিচ্ছে। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ঘরে ঢোকার পাশে সিমেন্টের মোটা অাস্তরণটার দিকে তাকালো।
ছোট্ট একটা মেয়ে তার মায়ের সাথে নিশব্দে হাসছে। মেয়েটার মা তার চুলগুলো পরিপাটি করে বেঁধে দেয়ার চেষ্টা করছেন।
দৃশ্যটা দেখার পরই চোখের কোণা দিয়ে কয়েক ফোঁটা পানি তার গাল স্পর্শ করে। হাত দিয়ে মুছে অাস্তে অাস্তে এগিয়ে যায় ঘরের দিকে, এখন তার বিশ্রামের প্রয়োজন।
সিমেন্টের মোটা অাস্তরণটা উপরে সতর্কভাবে শায়লা বেগম মিষ্টির মাথা সুন্দর করে পরিপাটি করে দিতেন।
ঘরের ভিতর এসে হঠাৎ চোখ গেল অাকাশের দিকে। একটু একটু করে মেঘ করতে শুরু করেছে। মেকি হাসলো সে।
বৃষ্টি তার খুব পছন্দের। মাঝে মাঝে বৃষ্টির সাথে মিশে যেতে ইচ্ছে করে মিষ্টির। কিন্তু প্রতিবন্ধকতার কারণে না হয়ে উঠলেও জানালা দিয়ে হাত বের করে নতুন পানির ছঁটা তালুবন্দি করে তার মুখের উপরে মেখে নেয়।
পিছনে কীসের যেন আওয়াজ শুনে চমকে উঠে সে। ঘুরে দেখে সাদা বিড়ালটা শোকেসের উপর থেকে এক লাফে নিচে নেমে দৌড় দিয়েছে। মিষ্টি ফের মেকি হাসে।
অাকাশে মেঘ করতে দেখে বিশ্রাম নেয়া হয় না তার। বৃষ্টিপিপাসু ষোড়শী বয়সের মেয়েটা যে মেঘ, বৃষ্টি, কালবৈশাখী ঝড় এসব ভালোবাসে।
এসবই তার বন্ধু। খুব কমই কোলাহলপূর্ণ শহরের ভিতর গরমে সিদ্ধ হওয়ার জন্য যাওয়া হয়। এত কোলাহলের চাইতে নিস্তব্ধতা ঢের পছন্দ তার।
‘আপামনি খাবার দিব?’
মর্জিনার কথায় সম্বিৎ ফিরে পায় মিষ্টি। মিষ্টি করে মর্জিনার দিকে হেসে তাকিয়ে থাকে সে। কোনো উত্তর না দিয়ে মাথা নেড়ে তাকে জানান দেয় সে এখন খাবে না।
মর্জিনা বলে উঠে, ‘বাবু রাগ করবে আপামনি। আপনি খেয়ে নেন।’
মিষ্টি করুণ চাহনিতে মর্জিনার দিকে ফের তাকায়। আবারও জানান দেয় সে এখন খাবে না। মর্জিনা বলে,
‘ঘরের ভিতর হাতের কাছে রেখে গেলাম। যখন ইচ্ছে খেয়ে নিবেন।’
কথাগুলো বলেই মিষ্টির হাতের নাগালে খাবারের ট্রে’টা রেখে চলে গেল মর্জিনা। অাকাশ দেখাতে ফের মনোযোগ দেয় সে। গরমের প্রার্দুভাব অাস্তে অাস্তে কমতে শুরু করেছে। শিরশিরে বাতাস বইছে। গাছের পাতারগুলো নড়ছে। মনে হচ্ছে রাতের মধ্যেই বৃষ্টি অাসার সম্ভাবনা ঢের বেশি।
এমন অসম্ভব সময়ে তার দেখা পেলে জীবনটাকে সে ধন্য মনে করতো। স্বপ্নে দেখা সে রাজকুমার। রাজকুমারের কথা মনে হতেই লজ্জায় চোখ দু’টো লাল হয়ে উঠে মিষ্টির। মা একসময় তাকে জড়িয়ে ধরে বলেছিলেন,
‘দেখিস মিষ্টি, তোকেও তোর স্বপ্নে দেখা রাজপুত্র এসে ঘোড়ায় করে রাজপ্রাসাদে নিয়ে যাবে।’
মায়ের এমন কথা যে শুধু তার মনটা ভালো করার জন্য বলা সেটা সে তখন না বুঝলেও এখন ঠিকই বুঝে।
.
‘আমার সোনা মা, আমার সোনা যাদু। আসো আসো কাছে আসো।’
হাস্যোজ্বল মুখে মেয়ের দিকে তাকিয়ে বলছেন শাফায়ত চৌধুরী। মিসেস চৌধুরী মেয়েকে কোলোয় নিয়ে সারা বাড়ি মাথায় করে ফেলেছেন। একমাত্র মেয়েকে তার বাবার থেকে কোথায় লুকিয়ে রাখবেন এই ভেবে। মিস্টার চৌধুরীও খুব মনোযোগী যে মেয়ের মা তাকে যেখানেই রাখুক না কেন তিনি তাকে খুঁজে বের করে পিঠে নিয়ে ঘোড়া ঘোড়া খেলবেন।
সারা বাড়ি খুঁজেও তিনি মেয়ে আর তার মাকে খুঁজে পেলেন না। অবশেষে মন খারাপ করে সোফায় বসে রইলেন। হঠাৎ পিছন থেকে চমকে দিলেন মিসেস চৌধুরী। শাফায়ত চৌধুরী মেয়েকে কোলোয় নিয়ে অাজগুবি সব গান শোনাচ্ছেন। মিসেস চৌধুরী বলে উঠলেন,
‘তেরো মাস পার হয়ে গেল, অথচ আমাদের বাবু কেন হাঁটে না শাফায়ত?’
মিসেসের কথা শুনে চমকে উঠলেন তিনি। সত্যি তো তার অাদুরে মেয়েটা যে হাঁটে না সেটা তো তিনি বেমালুম ভুলে গেছেন। মেয়েকে এতটাই ভালোবাসেন যে ফ্লোরে নামানোর প্রয়োজনবোধ করেন না। আজ হঠাৎ মিসেসের কথা শুনে বিষয়টা মাথায় গিজগিজ করতে লাগলো। মিসেসকেও চিন্তিত মনে হচ্ছে। তাকে সান্ত্বনা দেয়ার জন্য বললেন,
‘সবে তো তেরো মাস পার হলো, এত চিন্তা করার কী দরকার বলো? সময় হলেই হাঁটবে।’
মিসেস আর কোনো কথা বলেন না। মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকেন।
পার হয় আরও দু’টো মাস। তবুও হাঁটে না পিচ্ছি মেয়েটা। কোনদিন মা-বা বলেও ডাকেনি। মাঝে মাঝে শুধু ইশারা করে। ব্যাপারটা সিরিয়াস ভাবে নেন মিস্টার চৌধুরী।
ডাক্তার ছোট্ট মেয়েটার সবরকম পরীক্ষা করে বলেন,
‘সরি মিস্টার চৌধুরী। ইয়র বেবি ইজ অটিস্টিক।’
অটিস্টিক কথাটা শুনে মাথা ঘুরে যায় শাফায়ত সাহেবের। মিসেস চৌধুরী তো মাথা ঘুরে পড়েই গেলেন। কিছুক্ষণ পর তার জ্ঞান ফিরলে তিনি হাউমাউ করে কেঁদে উঠেন। মিস্টার চৌধুরী তার মিসেসকে বুকে টেনে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
ডাক্তার সাহেব বলেন, ‘দেখুন আপনার মেয়ে জন্মগতভাবে অটিস্টিক। ও হাঁটতে পারবে না কোনদিন আর কথাও বলতে পারবে না।’
নিজেদের সামলে বাড়িতে ফিরে আসেন মিস্টার চৌধুরী ও মিসেস চৌধুরী। ছোট্ট মেয়েটার দিকে তাকালে বুকটা ভরে যায় তাদের। খুব ইচ্ছে করে ছোট মেয়েটার সাথে বাগান কিংবা ঘরের ভিতর দৌড়াদৌড়ি করতে। কিন্তু ছোট্ট শিশুটি তখনও ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকতো।
মিসেস চৌধুরী খাওয়ার সময় খাওয়াতেন, গোসল করার সময় গোসল করাতেন। মাঝে মাঝে তিনি মেয়েকে গানটাও শুনাতেন। সে হাসতো, মিষ্টি হাসি। ছোট্ট থেকেই তার মুখে মিষ্টি হাসি দেখে বাবা-মা তার নাম রেখেছিলেন মিষ্টি।
মিষ্টি মিষ্টির মতোই সুন্দর, তার চারপাশটা সুন্দর। শুধু সুন্দর নয় তার পা আর কথা বলার স্পৃহা। মেয়ে, স্বামীর কাছে লুকিয়ে মিসেস চৌধুরী কাঁদতেন। মিষ্টি দুনিয়ায় আসার সময় তার সন্তান জন্ম নেওয়ার থলিটা কেটে ফেলা হয়েছে। আর কখনোই তিনি সন্তান প্রসব করতে পারবেন না। কিন্তু সন্তান থাকার পরও তারা এই মিষ্টি ডাকটা শোনা থেকে বঞ্চিত।
.
মিষ্টির যখন বারো বছর বয়স তখন শায়লা বেগম মারা যান। অাধো সুখের সংসারটা বিষণ্ণতায় ছেঁয়ে যায়। শাফায়ত চৌধুরী ব্যবসার কাজে সবসময় বাইরে থাকেন, সেজন্য মেয়েকে সময় দেয়া হয়ে উঠে না। সকালে অফিস যাওয়ার সময় একবার দেখা হলে ঠিক রাতে আরেকবার দেখা হয়।
মিষ্টি বাবার জন্য ভাত নিয়ে ডাইনিং টেবিলে বসে থাকে। শাফায়ত চৌধুরী বেশ কয়েকদিন নিষেধ করা সত্ত্বেও সে শোনেনি। বাবাকে নিজ হাত দিয়ে খাইয়ে নিজে খেত। কখনও মিস্টার চৌধুরীও মিষ্টিকে খাইয়ে দিতেন।
বন্ধের দিন মেয়েকে নিয়ে পার্কে বা অন্য কোথাও ঘুরতে যেতেন। মিষ্টি হুইল চেয়ারে বসে থাকতো আর মিস্টার চৌধুরী ঠেলে ঠেলে কোনো নিস্তব্ধ স্থানে বসে নানান সব অাজগুবি গল্প করতেন।
মিষ্টি অনেক সময় বুঝতো এগুলো অাজগুবি গল্প। তারপরও কোনকিছু না বলে চুপচাপ বাবার কথা শুনতো। মায়ায় মিষ্টির মুখটা দেখলে শাফায়ত চৌধুরী নিমিষেই সব কষ্ট ভুলে যান।
কখনো বা মেয়ের মাথার চুল অাছড়ে দিয়ে বিনুনি করে দিতেন। বাগানের সুন্দর ফুলটা ছিঁড়ে বিনুনি কোনো একপ্রান্তে বসিয়ে দিতেন।
বাবা-মেয়ের ভালোবাসার বন্ধন অাস্তে অাস্তে দৃঢ় থেকে সুদঢ় হয়। কোনকিছুর প্রয়োজন হলে মিষ্টি বাবাকে মোবাইলে মেসেজ করতো। কথা বলতে না পারলেও বাড়িতে প্রাইভেট শিক্ষকের মাধ্যমে অক্ষর জ্ঞান নিয়েছে সে। সেই কারণে অনেকসময় গল্প, উপন্যাস কিংবা ধর্মীয় বইগুলো হুইল চেয়ারে বসে অনায়াসেই পড়তে পারে।
শাফায়ত চৌধুরী মেয়ের সামনে সবসময় হাসিখুশি থাকলেও রাতে কিংবা অন্য ফাঁকা সময়ে বিষণ্ণতায় কাটান। মিষ্টি অনেকদিন লক্ষ করলেও কিছুই বলে না। তার তো জীবনের অনেকটা সময় পরে অাছে। তিনি কেন শুধু প্রথম স্ত্রীর স্মৃতি নিয়ে বেঁচে থাকবেন!
বিষয়টা মাঝে মাঝে খুব ভাবায় মিষ্টিকে। মা মারা যাওয়ার দু’বছর পার হয়ে গেল অথচ বাবা তার সামনে দিব্যি হাসিখুশি থাকছে।
অফিস থেকে ফিরে ফ্রেশ হয়ে মিষ্টির রুমে আসেন শাফায়ত চৌধুরী। মিষ্টি তখন ‘হাজার বছর ধরে’ বইটা পড়ছিল। বাবাকে দেখে মিষ্টি করে হেসে দিয়ে খাতায় কী যেন লিখে দেখালো। লেখাটা দেখে চৌধুরী সাহেবের চোখ ছানাবড়া।
মিষ্টি লিখেছে, ‘বাবা আমার একজন নতুন মা চাই।’
মেয়ের এমন কথায় চুপসে যান তিনি। কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলেন, ‘আমার কাছে কীসের কমতি তোমার?’
মিষ্টি লিখলো, ‘আমাকে সারাদিন একা থাকতে ভালো লাগে না। প্লিজ বাবা।’
মিষ্টি জানে সব সৎ মায়েরা ভালো হয় না। তবুও বাবার জীবনের কথা চিন্তা করে এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। শাফায়ত চৌধুরী কোনো কথা না বলে চলে যান।
বাবাকে কীভাবে রাজি করাতে হয় সেটা ভালো করেই জানে মিষ্টি। বাবার সুখের জন্য হলেও তাকে এতটুকু কাজ করতেই হবে।
পরদিন বাবার সাথে কোনো কথা বললো না মিষ্টি। এমন কী কোনো খাবারও গিললো না। কয়েকদিন মান-অভিমানের পর্ব শেষে রাজি হয়ে গেলেন চৌধুরী সাহেব। কোনো এক সন্ধ্যায় মধ্যবয়সী সুন্দরী মেয়েকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রীর স্বীকৃতি দিয়ে বাড়িতে তোলেন চৌধুরী সাহেব।
নতুন মাকে কাছে পেয়ে অানন্দ আর ধরে না মিষ্টির। হাত ইশারা করে মাকে অনেক কথা বুঝাতো সে। প্রথম প্রথম মুচকি হেসে সবকিছু সহ্য করে নিতো নতুন মা।
কয়েকদিনের মধ্যে তাদের বাড়িতে যুক্ত হলো নতুন মায়ের ছোটভাই বিপ্লব। ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সুবাদে এখানেই থাকবে সে। বিপ্লব মামা মাঝে মাঝে তাকে নতুন নতুন বই এনে দিতো।
সবকিছু মিলে প্রথম কয়েকমাস ভালোই কাটছিলো মিষ্টির। হৃদয়ের অগোচরে থাকা অতৃপ্তিটুকু নতুন মা এসে পূরণ করে দিচ্ছে। সময় যত গড়াতে থাকে পরিবারের নতুন সদস্যদের মধ্যে অাস্তে অাস্তে পরিবর্তন দেখা দেয়।
সুখটুকু বিলীন হতে থাকে মিষ্টির।
.
বিকালের শীতল বাতাসকে ছাপিয়ে ঝিরঝির করে বৃষ্টি পড়তে শুরু করলো। মিষ্টি অনেকক্ষণ যাবত সেখানে বসে প্রকৃতি দেখছে। প্রকৃতির রঙ মনের মধ্যে মেখে মনটাকে শীতল করতে ইচ্ছে হচ্ছে। গাছের পাতার উপর বৃষ্টির ফোঁটাগুলো পড়ে টপটপ করে মাটিতে পড়ে ড্রেনে চলে যাচ্ছে।
জানালা দিয়ে ফের বৃষ্টির ফোঁটাগুলো হাত নেয় মিষ্টি। ঠাণ্ডা লাগতে শুরু করেছে। এমন সময় গেট খুলে বিপ্লব মামাকে ঢুকতে দেখে। লোকটা বৃষ্টিতে ভিজে চুপসে গেছে। রিকশা থেকে নেমে খাতাপত্র ঝাড়তে ঝাড়তে বিরবির করে কী যেন বলছিলো। লোকটা সবসময় পড়া নিয়ে ব্যস্ত থাকে। ভার্সিটিতে ক্লাস না থাকলে সারাদিন ঘরের ভিতর কী যেন করে। নতুন মায়ের ভাষ্যমতে বিপ্লব মামা পড়ে, খুব পড়ে। হয়তো আবা না। লোকটাকে অাজ অবধি বুঝতে পারেনি সে। বিপ্লব মামার থেকে চোখ সরিয়ে বৃষ্টিবিলাসে ফের চোখ দিলো।
‘আপামনি আপনি এখনো খাননি!’
অবাক হয় মর্জিনা। মাগরিবের অাযানের অার কিছুক্ষণ বাকি, আর মিষ্টি এখনও তার দুপুরের খাবার খায়নি। মর্জিনা খানিকটা বিরক্ত হলো। মিষ্টি তার দিকে তাকাচ্ছে না দেখে অাবল-তাবল বলতে বলতে চলে গেল।
মর্জিনাকে চলে যাওয়া দেখে হাসতে লাগলো মিষ্টি। বাবাকে ছাড়া তার যে খেতে ইচ্ছে করে না সেটা সে তাকে বোঝাবে কীভাবে!
এমন সময় তার স্বপ্নে দেখা রাজপুত্র যদি দেখা দিত কিংবা তার পাশে এসে বসতো তাহলে বুঝি লজ্জায় মরেই যেত সে। প্রতিবন্ধীদেরও যে লাজ-লজ্জা অাছে সে নাহয় কেউ অন্তত দেখুক। এমন বৃষ্টিভেজা সময়ে গান শুনলে মন্দ হয় না। হুইল চেয়ার ঠেলে বিছানার উপর থেকে মোবাইলটা নিয়ে প্লে করলো,
‘আমার সারাটা দিন মেঘলা অাকাশ, বৃষ্টি তোমাকে দিলাম,
শুধু শ্রাবণ সন্ধ্যাটুকু তোমার কাছেই চেয়ে নিলাম।’
মনের মধ্যে কল্পনা এঁকে তার পাশে কাউকে উপস্থিত মনে করে এক মুঠো বৃষ্টি এগিয়ে দেয়। তার কিছুক্ষণ পর ভাবে, ‘আমি তো হাঁটতে পারি না, কথাও বলতে পারি না। আমি তো প্রতিবন্ধী। আমাকে কে বিয়ে করবে? সব স্বপ্নই তো বৃথা।
সত্যি তো, প্রতিবন্ধীদের স্বপ্ন দেখতে মানা। তাদের কোনো স্বপ্ন থাকতে নেই। তারা সমাজের বোঝা।’
রাতে ঘটা করে বৃষ্টি হচ্ছে। বাবা আর নতুন মা যে আজকে সেখানেই থাকবেন সেটা স্পষ্টভাবে বলে গিয়েছেন। অগত্যা তাদের জন্য অপেক্ষা না করে অল্পকিছু মুখে দিয়ে শুয়ে পড়ে। খুব দ্রুতই চোখ লেগে অাসে। স্বপ্নে সে তার রাজপুত্রকে দেখতে পায়। ঠিক মা যেমন বলেছিলেন তেমন রাজপুত্র। টগবগ টগবগ করে ঘোড়ায় চেপে আসছে।
হঠাৎ বুকটা ছ্যাঁত করে উঠে তার। ঘুম ভেঙে যায়। দরজার দিকে তাকিয়ে দেখে দরজা বন্ধ করা। লাইট তো অফ করা ছিলো, কিন্তু ডিম লাইট জ্বালিয়েছে কে?
পাশে ফিরে দেখে মানুষরূপী রাক্ষসটা বিদঘুটে হাসছে। খুব দ্রুতই সমস্তকিছু তার শেষ হয়ে গেল। বৃষ্টি পড়ার শব্দে তার নিশব্দ অাত্মচিৎকার ম্লান হয়ে গেল।
পা দু’টো কাঁপছে। বুকের হাড় মনে হয় ভেঙে গেছে। বিছানা থেকে ফ্লোরে পড়ে গিয়ে কপাল ফেঁটে রক্ত বের হচ্ছে।
মানুষরূপী রাক্ষসটা সুখানুভব করে দরজা খুলে চলে গেল। রেখে গেল নিশব্দ অনুভূতির একজন ধর্ষিতাকে।
.
বাড়িতে অশান্তি হবে বিধায় কাউকেই কোনকিছু বলে না মিষ্টি। শরীরটা যেন তার অপবিত্রায় ছেঁয়ে গেছে। সূর্য কিংবা লাইটের অালো বড্ড বিরক্তিকর। প্রতিদিন ছোটখাটো বিষয় নিয়ে নতুন মা অলক্ষী, পোড়ামুখী বলে গালি দেয়।
মেজাজ গরম থাকলে তো কানা, ল্যাংড়া বলতেও দ্বিধাবোধ করে না।
গত তিনমাসে সে কালপিটটার খাবার হয়েছে বেশ কয়েকবার। বাড়ির সুখের জন্য সবকিছু নিরবে সহ্য করছে মিষ্টি। দুনিয়াটাকে বড্ড বিষাক্ত মনে হয় তার। তার সাথে যা হয়েছে তা কীভাবে বাবা কিংবা নতুন মাকে বলবে!
ইদানিং নিজের মায়ের কথা খুব মনে পড়ে মিষ্টির। তার সাথে ক্রিয়া-কৌতুকের সময়গুলো। নতুন বিয়ে করার পর বাবাও কিছুটা ব্যস্ত হয়ে গেছেন। কোনকিছুই ভালো লাগে না মিষ্টির।
সেদিন সন্ধ্যাবেলা লাইট অফ করে শুয়েছিল। হঠাৎ তাড়াতাড়ি করে শাফায়ত চৌধুরী বাড়িতে ফিরে আসলেন। যে কাজের জন্য বাড়িতে ফিরলেন সেটার সমাধান খুব দ্রুত হয়ে গেল। আর তিনি অফিসে গেলেন না। হাতমুখ ধুয়ে চা খেয়ে মিষ্টির রুমে গেলেন। মিষ্টি তখন শুয়েছিল।
‘কী রে মা লাইট অফ করে রেখেছ যে!’
খানিকটা অাশ্চর্য হয়ে বলেন শাফায়ত চৌধুরী। কথাটা বলেই লাইট জ্বালিয়ে দিলেন। বিছানার উপরে অাস্তে অাস্তে উঠে বসলো মিষ্টি। ইশারা করে বাবাকে তার পাশে বসতে বলে। শাফায়ত চৌধুরী মেয়ের পাশে অনেকদিন পর বসেন।
কুশল বিনিময়ের পর বুঝতে পারলেন কোনো এক কারণে মিষ্টির মন খারাপ। মুখখানা শুকিয়ে গেছে।
‘চা খাবে?’
মিষ্টি মাথা নেড়ে না বলে উত্তর দেয়। কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর খাতায় কী যেন লিখে দেখায় বাবাকে।
শাফায়ত চৌধুরী অবাক বনে যান।
মিষ্টি লিখেছে, ‘বাবা আমার স্বপ্নের রাজপুত্র আমাকে নিতে কবে আসবে?’
কষ্টটা বুকে চেপে রেখে বলেন, ‘আসবে মা আসবে।’
মিষ্টি ফের লিখে, ‘বাবা সত্যি কি আমার মতো অটিস্টিক মেয়ের বিয়ে হবে?’
অটিস্টিক কথাটা শুনে বুকটা ফেঁটে যায় শাফায়ত চৌধুরীর। তবুও নিজেকে কন্ট্রোল করে বলেন, ‘কেন হবে না! সত্যিই তোমার বিয়ে হবে মা। তোমার জন্য আমি রাজপুত্র নিয়ে আসব।’
মিষ্টি ফের লিখে, ‘জানো বাবা, আমার না বউ সাজতে খুব ইচ্ছে করে।’
লেখাটা দেখানোর সময় লজ্জায় লাল হয়ে গিয়েছিল মিষ্টি। মিষ্টির এমন কথায় নিজেকে অার ধরে রাখতে পারেন না মিস্টার চৌধুরী।
মিষ্টির মাথায় হাত বুলিয়ে ‘থাকো’ বলে চলে যান। মিষ্টি বাবার চোখের কোণে স্পষ্ট পানি দেখতে পায়। লাইটটা অফ করে নিশব্দে কাঁদতে থাকে মিষ্টি। একটা স্বাভাবিক জীবন পেলে হয়তো জীবনে অনেক ভালো কিছু করতো সে।
কয়েকদিন পর শাফায়ত চৌধুরীকে তাড়াতাড়ি বাড়িতে ফিরতে বলেন সালেহা বেগম (মিষ্টির নতুন মা)।
শাফায়ত চৌধুরী বাড়িতে আসাতেই মেয়ের কুকর্মের কথা জানিয়ে দেন তিনি।
হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার পর ডাক্তার এনেছিলেন তিনি। ডাক্তার সাহেবই সুসংবাদটা দিয়ে গেছেন। সালেহার এমন কথা বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় মিস্টার চৌধুরীর। বিশ্বাস আছে তার মেয়ের উপর। তিনি বিশ্বাস করেন এমনিতেই কোনো পরপুরুষকে নিজের সতীত্ব কোনদিনই দিবে না মিষ্টি।
মিষ্টিকে খুব মেরেছে সালেহা বেগম। অসতী, অপয়া, পোড়ামুখী বলে চুলের মুঠি ধরে খুব মেরেছেন। কপাল ফেঁটে রক্ত বের হচ্ছে মিষ্টির। শরীরটা নেতিয়ে পড়েছে তার। সারা শরীরে মারের ব্যথায় কুকড়ে উঠছে সে।
শাফায়ত চৌধুরী মেয়েকে বুকে জড়িয়ে বলেন, ‘সত্যি বলতো মা, কে এই কাজটা করেছে?’
মিষ্টি নির্বাক হয়ে জানালার পাশে থাকা ফুলদানীটার ফুলগুলো অানমনে গুনতে লাগলো। অনেকক্ষণ চেষ্টার পরও স্বীকার করলো না মিষ্টি। শুধু একটি কথাই লিখলো, ‘সব জানবে বাবা।’
মিষ্টির উপর গায়ে হাত তোলা দেখে বিপ্লব সেদিন থেকেই নিখোঁজ।
মিষ্টির অ্যাবরশন করানো হলো। মিষ্টি ক্লান্ত বড্ড ক্লান্ত। শাফায়ত চৌধুরী একদিন বললেন,
‘আমরা কক্সবাজার ঘুরতে যাচ্ছি মা। তোর মাও আমার সাথে যাচ্ছে। তুই যাবি?’
হ্যাঁ বলতে যাবে তখনি নতুন মায়ের দিকে তাকালো মিষ্টি। মিষ্টিকে সাথে নেওয়াতে তিনি অখুশি। মিষ্টি মাথা নেড়ে না করে দিলো। শাফায়ত চৌধুরী তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে গেলেন।
অাজ বাবা আর নতুন মা ফিরে আসবে।
.
মিষ্টি বাগান থেকে অনেকগুলো ফুল এনে ঘরের দরজা বন্ধ করে অাস্তে অাস্তে বিছানা সাজাতে লাগলো। মরা মায়ের বিয়ের শাড়ি, গহনাগুলো নিয়ে এসে নিজে নিজে সাজতে লাগলো। যদিও কোনদিন সে শাড়ি পরেনি তবু্ও কোনমতে পেঁচিয়ে নিলো। সাজগোজ শেষ হলে মাথায় নতুন বউয়ের মতো ঘোমটা দিয়ে আয়নার সামনে একবার নিজেকে দেখার চেষ্টা করলো। সত্যি তো নতুন বউয়ের মতো লাগছে তাকে।
বাবার কিনে দেয়া ডায়েরীটাতে অনেকদিন কিছু লেখা হয়নি। আজ লিখতে বসেছে সে,
‘প্রতিবন্ধীরা নাকি সমাজের বোঝা বাবা। তাদের নাকি সামাজিক স্বীকৃতি নেই। আমাকে তোমাদের দেখানো স্বপ্নটায় দেখলাম যে, আমাকে রাজপুত্র ঘোড়ায় চেপে রাজপ্রাসাদে নিয়ে যাচ্ছে। আজ আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি বাবা, ও আসছে আমাকে নিতে। তোমার বোঝা হয়ে আর আমাকে থাকতে হবে না বাবা। বাবা প্লিজ আমার সতীত্বকে কখনোই অপবিত্র মনে করো না। আমি নিজে ধর্ষিতা হইনি, আমাকে বানানো হয়েছে। সত্যিই অপরাধী সমাজে, আমি প্রতিবন্ধী বলে। নিজের প্রতি যত্ন নিও বাবা। নতুন মাকে আমার ভালোবাসা দিও।’
ডায়েরীটা বন্ধ করে বিছানায় শুয়ে শেষবারের মতো চোখ দু’টো বন্ধ করলো মিষ্টি।
.
শাফায়ত চৌধুরীর মুখ থেকে কথাগুলো শুনে অানমনে দীর্ঘশ্বাস ফেললো দৃষ্টি। মুখ ঘুরিয়ে বাবার দিকে তাকিয়ে দেখলো, বাবা একহাতে একটা পুরনো ডায়েরী আরেক হাতে প্রতিবন্ধীর সার্টিফিকেট পাওয়া অবহেলিত মিষ্টির ছবি নিয়ে কাঁদছেন। দৃষ্টি মিষ্টিরই ছোট বোন।
(সমাপ্ত)

সম্পর্কিত পোস্ট

যদি পাশে থাকো

যদি পাশে থাকো

তাসফিয়া শারমিন ** আজকের সকালটা অন্য রকম। সাত সকালে আম্মু বকা দিলো। মানুষের ঘুম একটু দেরিতে ভাঙতেই পারে। তাই বলে এত রাগার কী আছে ?একেবারে যে দোষ আমারও তাও নয়। মানুষ ঘুম থেকে উঠে ফোনে বা দেওয়াল ঘড়িতে সময় দেখে। কিন্তু আমি উঠি জানালার পর্দা সরিয়ে বাইরের আলো দেখে।কে জানে...

কুড়িয়ে পাওয়া রত্ন

কুড়িয়ে পাওয়া রত্ন

অনন্যা অনু 'আমিনা বেগম' মেমোরিয়াল এতিমখানার গেট খুলে ভেতরে ঢুকতেই ওমরের বুকটা ধুক ধুক করতে শুরু করে। ওমর ধীর গতিতে ভেতরে প্রবেশ করে। চারদিকে তখন সবেমাত্র ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে। ওমর গত রাতের ফ্লাইটে আমেরিকা থেকে এসেছে। সে এসেই সোজা আমিনা বেগম মেমোরিয়াল এতিমখানায়...

দাদাভাইকে চিঠি

দাদাভাইকে চিঠি

প্রিয় দাদাভাই, শুরুতে তোকে শরতের শিউলি ফুলের নরম নরম ভালোবাসা। কেমন আছিস দাদাভাই? জানি তুই ভালো নেই, তবুও দাঁতগুলো বের করে বলবি ভালো আছি রে পাগলী! দাদাভাই তুই কেন মিথ্যা ভালো থাকার কথা লেখিস প্রতিবার চিঠিতে? তুই কি মনে করিস আমি তোর মিথ্যা হাসি বুঝি না? তুই ভুলে গেছিস,...

৬ Comments

  1. Anamika Rimjhim

    বেশ ভাল।শেষটা নিয়ে আরেকটাবার ভাবতে পারতেন।মিষ্টিকে না মেরেও সুন্দর ভাবে শেষ করা যেত গল্পটা।তাতে আরও কিছু শিক্ষণীয় বিষয় থাকত। শুভ কামনা।

    Reply
  2. Learner

    সাজ্জাদ আলম এর গল্প মানেই দারুণ কিছু, সব গল্পে নেতিবাচক মন্তব্য করা যায়না ইচ্ছা থাকলেও করা যায়না। লেখাটা ভালো ছিলো তবে আরো অনেক ভাবেই সমাপ্তি করা যেতো। শুভকামনা ♥

    Reply
  3. Tasnim Rime

    খুব সুন্দর গল্প..
    কয়েকটা শব্দে টাইপিং মিস্টেক অাছে।
    প্রতিবন্ধীদের অনুভূতি খুব সুক্ষ্মভাবে ফুটিয়ে তুলেছে গল্পে, শুভ কামনা লেখকের জন্য।

    Reply
  4. Tasnim Rime

    খুব সুন্দর গল্প..
    কয়েকটা শব্দে টাইপিং মিস্টেক অাছে।
    প্রতিবন্ধীদের অনুভূতি খুব সুক্ষ্মভাবে ফুটিয়ে তুলেছে গল্পে, শুভ কামনা লেখকের জন্য।

    Reply
  5. Jannatul Ferdousi

    পর্যবেক্ষন→ ণ

    কোলোয়→ কোলে

    পিচ্ছি→ পিচ্চি

    মা-বা→ সম্ভবত বা নয় বাবা হত।

    বিরবির→ বিড়বিড়

    ফেঁটে→ ফেটে

    অলক্ষী→ অলক্ষ্মী

    কুকড়ে→ কুঁকড়ে

    শব্দচয়নে লেখকের হাত বেশ পাকা। ভীষণ ভালো গল্পের থিম, উপস্থাপন। গল্পের কোথাও বিরক্তিভাব লাগেনি। বরং বারবার পড়তে ইচ্ছে হচ্ছিল, এরপর মিষ্টির কী হবে, কী হতে চলেছে সৎ মায়ের সংসারে। তবে আন্দাজ হচ্ছিল মেয়েটির কপালে সুখ বলে কিছু নেই। আর লেখক সাহেব সত্যিই তাই করে দিলো মিষ্টির জীবনে।
    সব মিলিয়ে পরিপাটি একটি গল্প। ভালো লেগেছে- এক কথায়।
    লেখকের কলম চর্চায় ভবিষ্যতে ভালো কিছু উপহার পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। লেখকের আগামী দিন ভালো হোক।
    শুভ কামনা

    Reply
  6. Halima Tus Sadia

    অসাধারণ লিখেছেন।
    অন্য রকম একটা গল্প পড়লাম।
    প্রতিবন্ধীদের গল্প দারুণভাবে বর্ণনা করেছেন।

    মিষ্টির জন্য খারাপ লাগলো।
    এমনিতেই মা মারা গেছে।
    তারপর একা হয়ে গেলো।
    আবার সৎ মা এলো।যদি ও কিছু দিন ভালো ছিল তারপর আবার অশান্তি লেগে গেলো সংসারে।

    মিষ্টির কপালে সুখ সইলো না।বিপ্লবের মতো খারাপ লোকদের বিবেক একটু ও বাধা দিলো না, কিভাবে প্রতিবন্ধী মেয়েটাকে নষ্ট করি।
    একদিন বিচার হবে।

    মিষ্টির ও খুব স্বপ্ন ছিলো বউ সাজার।
    অবশেষে মিষ্টির জন্য খারাপ লাগলো।

    বানানে তেমন ভুল নেই।
    বিরবির—বিড়বিড়
    পিচ্ছি–পিচ্চি
    কোলোয়–কোলে
    পাতারগুলো–পাতাগুলো
    পর্যবেক্ষন– পর্যবেক্ষণ
    মা -বা—-বাবা হবে।

    শুভ কামনা রইলো।

    Reply

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *