নির্ণেয় ফলাফল শূন্য
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারী ১২, ২০১৮
লেখকঃ vickycherry05

 110 বার দেখা হয়েছে

এই লেখক এর আরও লেখা পড়ুনঃ vickycherry05

গল্প লেখকঃ
Khairun Nesa Sultana
(ফেব্রুয়ারী’১৮)

ঘটক : তা কথা হইলো গিয়া পোলা মস্ত বড় চাহরি করে, ঢ্যাকা শহরে থাহে, এমন ভালা পোলা কিন্তু আর পাইবানা রমজান আলি! আর মেয়ের যা বয়স হইসে তাতে তো পাইবাই না ধইরা লও।

“তাতো তুমি ঠিক কইছো রে ভাই! আমগো মতো সাধারণ পরিবারের মাইয়ার যে এত্তো বড় ঘরে বিয়া হইবো এ কথা তো স্বপ্নেও ভাইবা পাই নাই গো!”

ঘটক : তাইলে এই বিয়া পাকাপাকি হইলো, সামনের বুধবার ছেলে পক্ষ আইবো, বিয়াডা পড়াইয়াই মাইয়া ঢ্যাকা শহরে নিয়া যাইব। তাদের কোনো দাবি দাওয়া নাই কিন্তু তাও তুমি খুশি মনে যা দেও আর কি!

“গেরামের গরীব মানুষ আমরা, কদ্দুর ই বা ট্যাহা আছে কন? তাও জমি জমা বেইচা যা হয় তাই দিমুনে!”

ঘটক : এই কথাই রইলো তাইলে। আইজ উঠি।

বুধবার, সন্ধ্যা সাতটা পনেরোতে ছেলে পক্ষ এসে পৌঁছালো। পর্দার ফাঁকা দিয়ে নিজের বরকে প্রথম বার দেখলো রাবেয়া।

কাজি সাহেব বিয়ে পড়ান! ……..
কাজি : পিতা রমজান আলি, মাতা মরহুম কুলসুম আরার একমাত্র কন্যা মোসাম্মৎ রাবেয়া আরার সঙ্গে পিতা এজাদ মেম্বার, মাতা লুৎফিন নাহারের একমাত্র ছেলে মোহাম্মদ খলিলের দুই লক্ষ্য টাকা কাবিন ধার্য করিয়া বিয়া পড়াইতেসি আমি কাজি মোহাম্মদ মিজান কিসলু, এই বিয়েতে ইসলামি বিধি মোতাবেক পর্যাপ্ত সাক্ষী উপস্থিত রইয়াছে, বলেন কবুল?
জ্বি কবুল!
মা !তিনবার বলেন কবুল।
জ্বি! কবুল ,…. কবুল, ……কবুল।
আলহামদুলিল্লাহ্
বাবা এইবার আপনি বলেন কবুল।
জ্বি! কবুল,… কবুল ….কবুল।
আলহামদুলিল্লাহ, এই বিয়ে সম্পন্ন হইয়াছে, আল্লাহ আপনাদেরকে সুখী দাম্পত্য জীবন দান করুক, আমিন, সবাই বলেন আমিন!
আমিন!!
“বিয়া তো শেষ এইবার মাইয়ার বিদায়ের পালা, তা মাইয়ারে যে গয়নাগুলো পড়াইসো তা কি সোনার? না সোনার পানি চড়ানো?”

” ছি! ছি! বেয়াইন সাহেব! পানি চড়াইন্না হইতে যাবো কেন? এইডা তার মৃত মায়ের গহনা, বড় স্বাদ কইরা রাইখা দিসিলাম তার বিয়ের লাইগা। বড় আদর কইরা পালসি এই মাইয়াডারে! একটু দেইখা রাইখেন। এখন সে আপনাগো কাছে আমানত!”
“তা আমরা রাখুম নে যেমনটা রাখতে হয় আমাদের বাড়ির বউ রে, যেন তেন বাড়িতে না মেম্বার বাড়িতে যাইতেসে সে! ”

বিদায়ের সময়ের কান্না পার করে, রাবেয়া তার স্বামীর ঘরে যাচ্ছে। কত স্বপ্ন, কত আশা!

বেশ কয়েক ঘন্টা পর ….

“এই তোরা সবাই নাম রে, ঢাকা আইশা পড়সি, মাইডারা নামা ..আর আপা রে গিয়া বল বাজারে নতুন মাল আইসে, দাম কত দিবো? …তাড়াতাড়ি নাম ….”

রাবেয়া : এইডা কেমন যাইগায় বাড়ি আপনেদের? এইতো নোংরা পরিবেশ! এইখানে তো সব খারাপ মাইয়া দেখা যাইতেসে। এইখানে কেন আনলেন আমারে আপনারা?

“তোরে বেইচা দিমু তাই! ”

” খলিল সাহেব, এইডা কি কইতেছেন আপনি? আমি আপনের বিয়া করা বউ! আমারে আপনি? ছি ছি! কন্ এইসব মিছা কথা। আপনে মজা করতেছেন আমার লগে, কন সব মিছা!”

“তোরে মিছা কইয়া আমার কি লাভ ক? কিন্তু তোরে বেইচা আমার লাভ আছা …নগদ দুইলক্ষ্য টাকা! টাকার লাইগা নকল বাপ, নকল ঘটক, নকল সবকিছু নিয়া তোরে বিয়া করছি। এখন এই টাকাটা উসুল না করলে কেমনে? একটা ধান্ধা আছে না?
তোর বাপের দেওয়া স্বর্ণের গয়না হইলো উপরি কামাই হা হা হা! ভালোই ধান্ধা হইছে এইবার যাই বল!
তুই টেনশন নিস না! তোর যে রুপ ম্যাডামের ব্যাবসা তুই আসমানে লইয়া যাইবি, আর ম্যাডাম খুশি হইয়া আমারে মালামাল কইরা দিবে ”

“আপনে মানুষ না, আস্তা একটা ইতর!! বাপজান জানলে আপনারে ..”

“তোর বাপজান কিস্যু করতে পারবো না, বাজারে একবার যে মেয়ে উঠসে, সে বাজারেই থাকে, এইডাই এইখানের নিয়ম!

আর ইতর কইতছোস? হা ইতরই! মস্তবড় ইতর!
দেখ তুই না আমার বিয়া করা বউ? তাইলে জামাইরে কামাই কইরা খাওয়া তাইলেই তো স্ত্রী ধর্ম পুরন হইব।
আর শুন এইখানে থেকে পালাইতে চাইয়া কোনো লাভ নাই, তোরে আর তোর বাপজানকে মারতে ম্যাডামের একটা রিং দিলেই হইবো, নিজের বাপরে বাচাইতে চাইলে গেরামের জীবন ভুইলা যা। এইখানে নতুন রঙের দুনিয়া। নতুন রঙ শিখবা, নতুন ঢঙে চলবা, দেখবা আস্তে আস্তে সব ঠিক লাগতেসে!

আরেহহ পাগলি কাদোস ক্যা? এইখানে আর মাইয়াগুলা মাইয়া নাহ? তুমিও এদের মতো থাকবা আর কি, ভালো ভালো খাইবা, পড়বা, আনন্দ ফূর্তি করবা।

“আল্লাহ আপনারে কখনো মাফ করবোনা। আমি মইরা যামু তাও আমারে দিয়া এই সব হইব না!”

“হাসাইলিরে রাবেয়া, তুই আমারে হাসাইলি!সবাই একি কথা কয় শুরুতে। এইখানে তুই শরীরে মরবিনা মরবি খালি মনে! মিলাইয়া নিস, এই খলিল দালালের কথা মিলাইয়া নিস! ”

“ছিঃ!! নিজেরে দালাল কইতে শরম লাগেনা আপনের? এইকাম করেন কেমনে আপনে? এর থেকে মইরা যাইতেন! …ছিঃছিঃ …থুঃ! ”

“নোংরায় যার জন্ম সে নোংরা সইতে শরম পায় না, মাতা মৃত লুৎফুন্নাহার বেগম এককালে এই চানবাজারের সেরা আসিলো, আর বাপ ছিলো এক খদ্দের! বাপের নামটাও জানি নাই আজ পর্যন্ত! …আর কিসু কওনের আছে তোর?
………………………………

এই মুবিনন মাইডারে নামা তো গাড়ি থেইকা। আমি ম্যাডামের সাথে দাম ঠিক কইরা আসি! ”

জানকী ম্যাডাম : দেখ খলিল মাইয়াডা সুন্দর আছে ঠিক! কিন্তু এই চানবাজারে মেলা সুন্দর মাইয়া আসে, তাই টাকা যা দিছি লইয়া যা। আর কথা বাড়াইস না।
চানাবাজারের নতুন মল্লিকা বানামু তোর বউকে!

“আপা বউ বইলেন না কেমন জানি লাগে ভিত্রে! হাজার হোক বিয়া করসি তো , কবুল তো কইছি। কেমন জানি লাগে ভিত্রে। সে আমারে ইতর কইসে, নিজেরে আমার ইতরের চাইতেও অধম লাগতাছে এহন!

একমাত্র যদি আপনে তাদের গেরামে হঠাৎ গিয়া তারে পছন্দ না করতেন তাইলে এত্তো ছলে তারে বিয়া করতাম না আমি, আর বিয়া করলেও এইভাবে তারে এই বাজারে ছাড়তাম না, বরং ঘরে তুইলা সংসার বাধতাম! কিন্তু এহন আপনি তার লাইগা আমারে দশহাজার টাকা কম দিলে তো আমার মনডা আরও ভাইঙ্গা যাইবো। এমন চাঁদমুখ বউরে ধান্ধায় তুলতাসি, আরও বিশহাজার বেশি পাওন আসিলো আমার! ”

জানকী বাই : তোর লগে কথায় পারুম নারে খলিল, তুই আসলেই খলিল দালাল! এই মাইয়াডারে আমার লাগতো, আর তুই ছাড়া কেউই এই মাইয়ারে আমার কাছে আইনা দিতে পারতোনা। বিশহাজার বেশি না দিলেও গোটা দুইলক্ষ্যই দিলাম তোরে। মালতী তোর লাইগা ঘর সাজাইতেসে, নিয়া যা তোর বউরে …কালকে সকাল থেকে রাবেয়া আর রাবেয়া না রুমকি হইয়া যাইবো!

রাবেয়ার রুমকি হওয়ার ঘটনার প্রায় একবছর কিংবা তারও বেশি হয়ে গেছে !
শুরুতে রাবেয়ার অনেক কষ্ট হতো, তিনবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে সে কিন্তু এইখানে কাউকে এত্তো সহজে মরতে দেওয়া হয় না, আর রুমকি নামের পণ্যে পরিণত রাবেয়ার মৃত্যু এত্তো সহজে কিভাবে হতে দে জানকী বাই? সে যে খুব নামকরা দামী, লোভনীয় এক পণ্য!

এখানে এখন রাবেয়ার অনেক বান্ধবী! উনি বছর বয়সী রাবেয়ার সবচেয়ে ভালো বান্ধবী হলো জোনাকি। অবশ্য এটা তার মার্কেট না। তার আসল নাম শেফালি ছিলো। বয়স যখন সতেরো তখন কিসলু নামে একলোক তাকে বিয়ে করে এই বাজারে ম্যাডামের কাছে বিক্রি করে দেয়। এই কিসলু রাবেয়ার সেই ঘটক কিসলু! আশ্চর্য! কি সস্তায় সম্পর্ক গুলো এই বাজারে বিক্রি হয়ে যায়। আর সবচেয়ে সস্তায় বিক্রি হয় শরীর!
এইদিকে রাবেয়ার বাবার শোকে মৃত্যু হয় যখন সে জানতে পারে তার রাবেয়ার সড়ক দূর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে। এমনকি লাশটাও নাকি চেনা যাচ্ছেনা। আর এভাবেই বাবার মৃত্যুর সাথে তিনকুলে রাবেয়ার আর কেউ রইলো না! বাবার মৃত্যুর খবর শুনে রাবেয়ার যেন বেঁচে থাকার মতো আর কিছু রইলো না। মেয়েটা আগে চিৎকার করে কাঁদতো কিন্তু এখন তো কষ্টের বিন্দুমাত্র ছাপ নেই তার মাঝে। কষ্টে মানুষ নাকি পাথর হয়ে পড়ে, রাবেয়া হয়তো এখন তাই ই।

দিন আসে আর দিন যায়, নতুন নতুন চেহারা রোজ এই বাজারে আসে। তিন বছর পর হঠাৎ পুরানো এক চেহারা। রাবেয়া প্রথমে মনে করতে পারছেনা কিন্তু কাছে আসতেই বুঝতে পারলো এই তো সেই খলিল! তার স্বামী খলিল, যে কিনা তাকে এই নরকের মাঝে রেখে গেছে জীবিত জ্বলার জন্য! রাবেয়াকে দেখে আশ্চর্য হয়ে দেখছে খলিল! গ্রামের সেই সাধারণ সুন্দরী মেয়ে রাবেয়াকে দেখতে ঠিক বাজারের কৃত্রিম লোভনীয় সুন্দরী রুমকির মতো লাগছে। রাবেয়া দৌড়ে গেলো তার কাছে। কাছে এসেই জড়িয়ে নিলো তাকে। খলিল বুঝতে পারছেনা কি বলবে।

খলিল : কেমন আসো রাবেয়া?

“রাবেয়া না, রুমকি! এইডাই এখন নতুন নাম আমার। ”

খলিল : নাহ রাবেয়া ঠিক আসে ….কেমন আছোছ তুই??

“ঠিক যেমনটা তুমি রাইখা গেছো! তুমি ভালা আছো তো? সংসার কেমন চলে তোমার?”

খলিল : আমি ভালা আছি। সংসার আর কই হইলো। জেলে আসছিলাম এত্তোদিন। আইজকা ছাড়া পাইছি আর ম্যাডাম তলব করলো। তাই আর কি আসা এইহানে। ভাবতাছিলাম তোর লগে দেখা হইলে কি কইমু। আর দেখা হইয়া গেলো গা! কি রকম জানি লাগতাছে ভিত্রে!

” কি আর কইবার আছে তোমার? একখান কাম করো ম্যাডামরে বইলা আমারে লইয়া ঘুরতে চলো। ম্যাডাম রাজি হইবো। এইডা হইলো নতুন নিয়ম এইখানকার। যারা এই নোংরার মধ্যে আসতে চায় না তাদের জন্য আমরা সাইজা বাইরে যাই। কখনো স্কুল কলেজে পড়ুয়া ছাত্রী সাইজা যাই আবার কখনো এমনে! তুমি না হয় আমারে তোমার বউ সাজাইয়া লইয়া যাও? ”

রাবেয়ার চোখ থেকে পানি পড়ছে! খলিল এটা দেখে রাজি হয়ে গেল আর ম্যাডামের কাছে অনুমতি নিতে গেল।

জানকী বাই : তা এত্তো দিন পরে আইলা কডা দিন পড়ে বউরে নিয়া যাও? বুঝো তো ধান্ধায় সিজন চলে এখন, এখন তারে নিয়া গেলে আর কেমনে?

“ও জানকী আপা! উনারে আমারে লইয়া যাইতে দাও না, কতদিন তো তোমার সেবা করতাসি আর তুমি এইটুকু দিবা না?
এই যে তোমার আর তোমার সব মাইয়াগোর লাইগা মালাইই দিয়া চা কইরা আনসি, তুমি চটপট খাইয়া লও তো আর আমাদের একটু বাইরে যাইতে দাও। ”

জানকী বাই : তোদের লগে আর পারিনা রে, আমারও তো বয়স হইছে, দে.. চা টা দে …আর বিকালের আগে চইলা আসবি কিন্তু। আমার ধান্ধায় যেন দেরি না হয়!

“তা হইবো না, তুমি খালি চা টা খাও ……..”

খলিল : রাবেয়া আজ তোরে অনেক সুন্দর লাগতাছে ঠিক বিয়ার দিনের মতো।

“কি কও!”

খলিল : হও! একদম সত্যি কইতাছি ……..
…..তা বের তো হইলাম এখন কই যাবি?

” হাটি কদ্দুর দেখি রাস্তা কদ্দুর যায়! ”

খলিল : হাটতে হাটতে ব্রীজের মাথায় চইলা আইলাম …আর কদ্দুর???

” এই তো বেশি না …সামনে হাঁটো তুমি ..আমি আসতাছি পিছে …”

হঠাৎ!! খলিলের পিঠ থেকে রক্ত ঝড়ছে …রাবেয়া খলিলের পিঠ থেকে ছুরিটা একটা টান মেরে বের করলো। আবার ঢুকিয়ে দিলো ..তারপর আবার ..তারপর আবার…তারপর আবার……।
খলিল চিৎকার করছে। রাস্তায় অনেক লোক জড় হয়ে গেছে। সবাই দেখছে এক নারী তার স্বামীকে ছুরিকাঘাত করছে আর চিৎকার করে বলছে,
” আইজকার এই দিনটার লাইগা আমি বাইচা আছি। তোরে আমি সামনে থেইকা মারতে পারতাম কিন্তু মনে আছে তুই আমারে কিভাবে ধোকা দিছিলি? তুই আমারে পিঠ পিছে মারোস নাই? বল মারোস নাই? …কি পাপটা করছিলাম আমি? আমি সুন্দর বইলা? আমি গরীব বইলা? আমার বাপ সরল বইলা? নাকি তোর ম্যাডামের আমারে পছন্দ হইছিলো বইলা ? ………তোর সেই ম্যাডামও এত্তোক্ষনে শেষ! চায়ে যে বিষ দিছি তাতে দুইঘণ্টার বেশি কেউ বাচে না। ……..এই বিষ রক্তে মিশে, তাই কেউ বাচেনা। চিকিৎসায়ও বাচে না। যে কাস্টমারদের কাছে তুই একদিন আমারে বেইচা গেছিলি, তারই একজন আমারে দিয়া গেছে এই বিষ। আমি খাই নাই, অনেক কিছু সহ্য করছি কিন্তু মরি নাই! রাইখা দিসি, অপেক্ষা করছি খালি তোর লাইগা। তোরে মারনের লাইগা। আইজ তুই মরবি, আমার হাতেই মরবি! ”

রাবেয়া চিৎকার করে কাঁদছে। খলিলের লাশটা মাটিতে পড়ে গেছে কিন্তু রাবেয়া
তীব্র আক্রোশে অনবরত ছুরি দিয়ে আঘাত করে যাচ্ছে। ক্ষত বিক্ষত হয়ে যাচ্ছে খলিলের শরীর! কিন্তু তার ক্ষত মানবিকতার সামনে কিছু নয়!

পুলিশ এসে রাবেয়াকে এরেস্ট করে। থানায় এসে সে জানতে পারে চানবাজারের আপা জানকীর বিষপানে মৃত্যু হয়েছে, আর তার সাথে মারা গেছে বেশকয়েকটি মেয়ে। একটি মেয়ের নাম জোনাকি ওরফে শেফালী। রাবেয়া অবাক হলোনা কিন্তু ভাবতে লাগলো, রাবেয়ার মনে আছে সে শেফালীকে এই বিষমিশানো চা খেতে বারণ করেছিলো, পুরো ঘটনাতে শেফালী ছিলো রাবেয়ার সঙ্গী, তাহলে সে কেন এই কাজ করলো?

রাবেয়াকে থানার বড়বাবু এই খুনের কারণ জিজ্ঞেস করলে সে উত্তরে বলে, “জীবনের কিছু হিসাব মেলাচ্ছিলাম সাহেব!”

” তা হিসাব করে কি পেলি? ফলাফল কত?”

” নির্ণেয় ফলাফল শুন্য, সাহেব! একেবারেই শূন্য! “

সম্পর্কিত পোস্ট

অঘোষিত মায়া

অঘোষিত মায়া

বইয়ের প্রিভিউ ,, বই : অঘোষিত মায়া লেখক :মাহবুবা শাওলীন স্বপ্নিল . ১.প্রিয়জনের মায়ায় আটকানোর ক্ষমতা সবার থাকে না। ২.মানুষ কখনো প্রয়োজনীয় কথা অন্যদের জানাতে ভুল করে না। তবে অপ্রয়োজনীয় কথা মানুষ না জানাতে চাইলেও কীভাবে যেন কেউ না কেউ জেনে যায়। ৩. জগতে দুই ধরণের মানুষ...

আমার জামি

আমার জামি

জান্নাতুল না'ঈমা জীবনের খাতায় রোজ রোজ হাজারো গল্প জমা হয়। কিছু গল্প ব্যর্থতার,কিছু গল্প সফলতার। কিছু আনন্দের,কিছু বা হতাশার। গল্প যেমনই হোক,আমরা ইরেজার দিয়ে সেটা মুছে ফেলতে পারি না। চলার পথে ফ্ল্যাশব্যাক হয়। অতীতটা মুহূর্তেই জোনাই পরীর ডানার মতো জ্বলজ্বলিয়ে নাচতে...

ভাইয়া

ভাইয়া

ভাইয়া! আবেগের এক সিক্ত ছোঁয়া, ভালবাসার এক উদ্দীপনা, ভাইয়া! ভুলের মাঝে ভুল কে খোঁজা, আর ভালবাসার মাঝে ভাইকে খোঁজা, দুটোই এক কথা! ভুল তো ভুল ই তার মাঝে ভুল কে খোঁজা যেমন মূর্খতা বা বোকামি। ঠিক তেমনি ভালবাসার মাঝে ভাইকে খোজাও মূর্খতা! আমার কাছে ভাইয়া শব্দটাই ভালবাসার...

২ Comments

  1. আতিকা অনন্যা

    সুন্দর..জাস্ট পড়ে কেমন জানি শূন্য ভোতা অনুভূতি হইসে..খাইরুন্নেসা আপনি লিখে যান ????

    Reply
  2. খায়রুন্নেসা

    ভালো

    Reply

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *