কর্তব্য
প্রকাশিত: অক্টোবর ১৮, ২০১৮
লেখকঃ

 154 বার দেখা হয়েছে

এই লেখক এর আরও লেখা পড়ুনঃ

উম্মে_সালমা_নিশু

আমরা প্রায় সময় অন্যের ছেলে-মেয়েকে দেখে ভাবি ইশ্ আমার সন্তানটা যদি এমন হতো। অমুকের ছেলে-মেয়ে এই করে, তমুকের ছেলে-মেয়ে সেই করে আর নিজের সন্তান অকর্মা অপদার্থ।
আচ্ছা কখনো কি ভেবেছেন অন্যের সন্তান এতো ভালো আর আপনার সন্তান নয় কেন ? তবে কি আপনিই তাকে ভালোভাবে মামুষ করতে পারেন নি?
এই প্রশ্নটা শুনলে সবাই বলবে কোন বাবা-মা কি চায় তার সন্তান খারাপ হোক?
আচ্ছা!! তবে কেন সে ভালো হতে পারলো না?
ছেলে মেয়ে না হয় দায়িত্ব ঠিকমত পালন করছেনা, কিন্তু আপনারা কি পেরেছিলেন আপনাদের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করতে?
রাসূল (সাঃ) বলেছেন, প্রতিটি শিশুই ফিতরাত তথা ইসলাম গ্রহণের যোগ্যতাসহ জন্মগ্রহণ করে। তারপর তার পিতামাতা তাকে ইয়াহুদী, খ্রিস্টান অথবা অগ্নিপূজক বানায়। ১
এই হাদিস থেকে একটা ব্যাপার স্পষ্ট যে, প্রত্যেক মানুষ নিষ্পাপ হয়ে জন্মলাভ করে এবং তার পরিবেশ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে সে ভালো অথবা খারাপ হয়, মুসলিম অথবা বিধর্মী কিংবা নাস্তিক হয়। জন্ম থেকে কেউ পাপী নয়, পরিবেশের প্রভাবেই সে পাপী হয়।
এখন দেখার বিষয় হলো জন্মের পর আপনি আপনার সন্তানকে কেমন পরিবেশ দিচ্ছেন। আপনার সন্তানের এবং আপনার ভবিষ্যৎ তার উপরেই নির্ভর করছে।
একটা গল্প পড়েছিলাম, একটা মুরগি ঈগলের ডিমকে নিজের ডিম ভেবে বাসায় নিয়ে আসে। আর বাকি ডিমের সাথে সেই ডিমেও তা দিয়ে বাচ্চা ফোঁটায়। যথাসম্ভব মুরগির বাকি বাচ্চাদের সাথে ঈগলের বাচ্চা ও বড় হতে থাকে আর সে নিজেকে মুরগি ভাবতে শুরু করে। মুরগিদের মত মাটি খুঁড়ে বিভিন্ন পোকামাকড় খেতে থাকে। একদিন সে আকাশে কিছু একটাকে উড়তে দেখে তার এক মুরগি ভাইকে জিজ্ঞাসা করে আকাশে ওটা কি উড়ে ভাই? মুরগি ভাই বলল, ওটা হলো ঈগল। ওদের রাজত্ব পুরো আকাশ জুড়ে। ওরা আকাশের এপার থেকে ওপারে উড়ে বেড়ায়। আর আমরা এই মাটিতেই থাকি আকাশে উড়ে বেড়ানো কখনোই আমাদের সম্ভব না। সেই ঈগলের বাচ্চাটি মুরগি ভাইয়ের কথা শুনে সেটাই মেনে নেয়। নিজেকে মুরগি ভেবে মাটিতেই বাস করে কখনো আকাশে উড়ে বেড়ানোর কথা ঘুণাক্ষরেও চিন্তা করেনা। এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত ঈগলটি নিজেকে মুরগি’ই ভেবে গেছে।
ভাবুন তো, শুধুমাত্র পরিবেশের প্রভাব আর চেষ্টার অভাবে একটা ঈগল মুরগি হয়েই মৃত্যু পর্যন্ত জীবনযাপন করেছে।
আসুন এবার আমরা ইসলামের এক বীর সৈনিকের গল্প শুনি। তিনি হলেন ইমাম আহমাদ রাহিমাল্লাহু। উনার জীবনে মা-ই ছিলেন উনার প্রথম এবং সর্বপ্রধান শিক্ষক। উনার জীবন থেকে জানা যায়, উনার মা উনাকে প্রতিদিন ফজরের সালাতের ও কিছু আগে ঘুম থেকে জাগিয়ে দিতেন। ছেলেকে জাগাবার আগে ছেলের জন্য তিনি চুলোয় পানি গরম করতেন। এরপর ইমাম আহমাদকে জাগিয়ে দিয়ে মা-ছেলে দু’জন কিয়ামুল লাইল পড়তেন। মসজিদে যখন ফজরের আযান হতো, তখন উনার মা উনাকে মসজিদের পথে অনেকটা এগিয়ে দিয়ে আসতেন। এগিয়ে দেওয়ার কারণ মসজিদ খানিকটা দূরে ছিল আর রাস্তায় ঘুটঘুটে অন্ধকার থাকতো। সেই ছোট্টবেলা থেকে ইমাম আহমাদকে উনার মা ঠিক কিভাবে গড়ে তুলেছে ভাবুন তো? সেই ইমাম আহমাদ উম্মাহর জন্য কি সম্পদ হয়েছিল তা তো সবার জানা। উনাকে সুন্নাহর ইমাম বলা হয়।
আপনি আপনার সন্তানের জন্য কি করছেন নিজের বিবেককে প্রশ্ন করুন? আপনি কি পালন করছেন আপনার কর্তব্য? ছেলেকে পাশে রেখে পরকিয়া করা সিরিয়াল দেখছেন, যেখানে ঝগড়া -বিবাদ ও নানান সমস্যায় জর্জরিত ঘটনায় ভরপুর। এবং সেই অভিনেতা অভিনেত্রীরা অশ্লীল জামা-কাপড় পড়ে থাকে। ভেবে দেখুন তো এর প্রভাব কি আপনার বাচ্চার উপর একটুও পড়েনা ? বাচ্চাদের সামনেই ছেড়ে দেন অশ্লীল পোশাক পরিহিত আইটেম গান। আর বাচ্চারাও ধীরে ধীরে ওইসব গানের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে।
অথচ আপনি যদি নামাজ পড়তেন কুরআন তিলাওয়াত করতেন এবং ইসলামিক গজল শুনতেন আপনার বাচ্চাও তাতেই প্রভাবিত হতো। সে চাইতো আপনার মতো নামাজ পড়তে কুরআন পড়তে।
রাসূল(সাঃ) বলেছেন, তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্ববান এবং তোমাদের প্রত্যেককেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। ২
আচ্ছা একবারও কি ভেবেছেন সেদিন আল্লাহর কাছে আপনারা কি জবাব দিবেন?
বাচ্চারা হলো চারা গাছের মত। ছোট থেকে যে চারাগাছের যত বেশি যত্ন নিবেন সেই চারাগাছ বড় হয়ে তত ভালো ফল দিবে।
মৃত্যুর পর মানুষের সব আমল বন্ধ হয়ে গেলেও তিনটি আমল চালু থাকে। তন্মধ্যে একটি হলো সু-সন্তান, যে তার পিতা মাতার জন্য দোয়া করতে থাকে। ৩
ভেবে দেখুন এই সন্তান দুনিয়া এবং আখিরাতের জন্য আপনার কত বড় একটা নিয়ামত। যদি এই সন্তান মানুষের মত মানুষ হয় দুনিয়াতে যেমন আপনাকে কষ্ট পেতে দিবে না তেমনি আখিরাতেও আপনাকে কষ্ট পেতে দিবে না।
নবী কারিম (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, পিতামাতা সন্তানকে ভালো আদব-কায়দা ও স্বভাব-চরিত্র শিক্ষাদান অপেক্ষা উত্তম কোন দান দিতে পারেনা। ৪
সুবাহানাল্লাহ চিন্তা করুন আপনার নিজের সন্তান তাকে আপনি সুশিক্ষা দান করবেন আর সেই কাজের বিনিময় আল্লাহ আপনাকে সর্বশ্রেষ্ঠ দানের সওয়াব দান করবেন ৷ এরচেয়ে উত্তম আর কি হতে পারে?
এবার আসি সন্তানদের কাছে। আপনার বাবা-মা হয়তো কোন কারণে অথবা মূর্খতার কারণে আপনাকে সঠিক শিক্ষা দিতে পারেনি। তাই বলে আপনিও কি সারা জীবন মূর্খ হয়েই জীবন কাটাবেন? আপনি কেন ঈগল হয়ে মুরগির মত মাটিতে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকবেন? আপনার জন্য সীমাহীন আকাশের চেয়েও বিশাল এবং সম্মানী মোকাম আল্লাহতায়ালা তৈরি করে রেখেছেন। আপনি কেন সেই স্বর্গের সুখশান্তি পাবার চেষ্টা ছেড়ে নরকের কীট হতে সচেষ্ট থাকবেন?
আল্লাহপাক মানুষকে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে তৈরি করেছেন। মানুষকে দুনিয়াতে যেমন সর্বশ্রেষ্ঠ আসনে আসীন করেছেন তেমনি পরকালেও রেখেছেন সর্বশ্রেষ্ঠ সম্মান এবং স্বর্গীয় সুখ প্রদানের ব্যবস্থা। বান্দা যেন তার সৃষ্টিকর্তাকে খুশিরাজি করে সেই সম্মান অর্জন করতে পারে সেজন্য মানুষকে আল্লাহ বিচার-বিবেচনা, ঠিক-ভুল বুঝার জন্য জ্ঞান দান করেছেন। অবুঝ বয়সে আপনি না বুঝলেও জ্ঞান হবার পর তো আপনি ঠিকভুল বোঝার ক্ষমতা রাখেন। তবে আপনি কেন মূর্খদের কাতারে পড়ে থাকবেন ? আপনার কি উচিত না সঠিক জ্ঞান লাভ করা? আপনি কি চান না আপনার সন্তানের জীবনটা যেন আপনার থেকে আরো উন্নত হয়? আজ আপনার সন্তান যদি খারাপ হতো আপনার কেমন লাগতো? ঠিক তেমনি আপনার বাবা-মা হয়তো বুঝতে না পেরে আপনাকে ঠিক পথ দেখাতে পারেনি৷ তার মানে এই নয় যে তারা আপনার ভালো চায় না।
নিজের সন্তানকে বাবা-মা কতটা ভালোবাসে যেদিন আপনারা বাবা -মা হবেন সেদিন তা অনুধাবন করতে পারবেন। বাচ্চারা সব সময় অনুকরণ প্রিয়। তারা যখন এটা দেখতে দেখতে বড় হবে যে তার বাবা-মা নিয়মিত নামাজ পড়ে, কুরআন তিলাওয়াত করে, মা-বাবার সেবা করে সৎ পথে চলে, সত্য কথা বলে সেই বাচ্চাটি আপনা আপনি নিজে থেকেই এসবে অভ্যস্ত হয়ে যাবে।
রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, পিতামাতার প্রতি সন্তানের হক হচ্ছে প্রথমত তিনটি। ১. জন্মের পর পরই তার জন্য একটি উত্তম নাম রাখা। ২. জ্ঞান বুদ্ধি হলে তাকে কুরআন তথা দ্বীন শিক্ষা দেওয়া। ৩. আর সে যখন বালিগ হবে তখন তার বিয়ের ব্যবস্থা করা।৫
আর আপনারা জ্ঞান বুদ্ধি হলে বাচ্চাকে দ্বীনের শিক্ষা না দিয়ে তাদের পিঠে চাপিয়ে দেন স্কুলের বইয়ের বোঝা। তাদের শেখান, নাচ, গান, ক্যারাটি ইত্যাদি যাতে নিজের ক্যারিয়ার গড়তে পারে। অথচ যে সৃষ্টিকর্তা আমাদের সৃষ্টি করেছেন তার ইবাদাতের জন্য তাকেই ভুলে যান আপনারা। বাচ্চাকে রবের সাথে পরিচয় করানোর আগে পরিচয় করিয়ে দেন সাকিব, তামিম, মেসি, নেইমারের সাথে। যে বাচ্চা তার প্রিয় নবীর নাম বলতে পারবেনা তাকে যদি খেলার কথা বলেন সেও স্ব উৎসাহে বলে দিবে এইসব খেলোয়াড়দের নাম। যে বাচ্চা জানেই না ইসলামের সৌন্দর্য কি! ইসলামে মা-বাবার মর্যাদা কি! কর্তব্য কি! তার থেকে বড় হবার পর আপনি কি করে তা আশা করেন? যা তার ভিতরে দিতেই পারেন নি, তা আশা করা কি বোকামি নয়!!!
আর বালিগ হবার পর বিয়ে না দিয়ে ছেলে-মেয়েকে ক্যারিয়ার গড়তে উৎসাহ দেন৷ প্রেম করে ব্যভিচার করুক তাতে আপনাদের তোয়াক্কা নেই, অথচ বিয়ে করতে চাইলে তখন সে সন্তান হয়ে যায় বেহায়া,বেয়াদব, নির্লজ্জ। পিতা-মাতাদের এমন গাফেলেতির জন্যই এই সমাজে আজ বিয়ে হয়ে উঠছে কঠিন, আর ব্যভিচার হয়ে উঠছে সহজলভ্য।
আল্লাহ বলেন, তোমরা তো দুনিয়ার জীবনকেই প্রাধান্য দাও, অথচ আখিরাতই অধিক উৎকৃষ্ট এবং স্থায়ী। ৬
তাই আসুন দুনিয়াবি চিন্তাকে প্রাধান্য না দিয়ে আমরা আখিরাতের কথা ভেবে এসব অন্যায় থেকে বিরত হবার চেষ্টা করি। নিজেদেরকে শুধরে নিই চিরস্থায়ী আখিরাতের কথা ভেবে।
আর সন্তানদের উদ্দেশ্যে আল্লাহ পাক কুরআনের সূরা লোকমানের ১৪ নাম্বার আয়াতে বলেছেন, আমার প্রতি ও তোমার পিতামাতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও।
সূরা আহকাফের ১৫ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ আরও বলেন, আমি মানুষকে তার পিতামাতার প্রতি সদয় ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছি।
তাই পিতা-মাতার কথা মান্য করা সন্তানদের জন্য ফরজ যদি তারা কোন অন্যায় নির্দেশ না করেন। পিতা-মাতার যেমন সন্তানের প্রতি দায়িত্ব -কর্তব্য রয়েছে তেমনি সন্তানদের ও রয়েছে পিতা মাতার প্রতি দায়িত্ব কর্তব্য। একে অন্যকে কাঁদা ছোড়াছুড়ি করে কখনো সুখী হওয়া সম্ভব নয়, যে দিন চলে গেছে তা আর ফিরে আসবেনা। সামনের দিনগুলো কিভাবে সুন্দর করা যায় আসুন সেই প্রচেষ্টা করি। তাই যতটুকু পারি সকলেই নিজ নিজ কর্তব্য পালন করি তাহলেই সকল সমস্যার অবসান ঘটে, আধাঁর কেটে ফুঁটে উঠবে রবির আলো।
আমরা মানুষেরা ফেরেস্তা নই যে ভুল করবো না, অন্যায় করবো না, পাপ করবো না। কিন্তু পাপীদের মধ্যে তারাই উত্তম যারা পাপ করার পর অনুশোচনা করে এবং আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে। আল্লাহ বলেন, অবশ্যই আমি তাওবাহকারীদের ভালোবাসি। ৭
তাই আসুন আমরা সবাই নিজেদের ভুল গুলো শুধরে নিয়ে দিন থাকতে দ্বীনের পথে চলি যেন পরকালে কেউ দীন হয়ে না যাই। আমরা সবাই যদি ইসলামের পথে চলে জীবন গড়ি তাহলেই এই জীবন সুখ-শান্তিতে ভরে উঠবে কেটে যাবে সকল অন্ধকার এবং হতাশার গ্লানি।
★তথ্যসূত্রঃ
১.বুখারী ও মুসলিম, প্রথম খন্ড
২.বুখারী ও মুসলিম, সূত্রঃ মিশকাত, পৃ.৩২০
৩. মুসলিম, ১৬৩১
৪. তিরমিযী, সূত্রঃ মিশকাত, পৃ.৪২৩
৫.তাম্বীহুল গাফিলীন, ফীকহ্ আবুল লাইস সমরকন্দী, পৃ. ৪৭
৬.সুরা আ’লা, আয়াতঃ১৬-১৭
৭. সূরা বাকারা,আয়াতঃ২২২

সম্পর্কিত পোস্ট

যদি পাশে থাকো

যদি পাশে থাকো

তাসফিয়া শারমিন ** আজকের সকালটা অন্য রকম। সাত সকালে আম্মু বকা দিলো। মানুষের ঘুম একটু দেরিতে ভাঙতেই পারে। তাই বলে এত রাগার কী আছে ?একেবারে যে দোষ আমারও তাও নয়। মানুষ ঘুম থেকে উঠে ফোনে বা দেওয়াল ঘড়িতে সময় দেখে। কিন্তু আমি উঠি জানালার পর্দা সরিয়ে বাইরের আলো দেখে।কে জানে...

কুড়িয়ে পাওয়া রত্ন

কুড়িয়ে পাওয়া রত্ন

অনন্যা অনু 'আমিনা বেগম' মেমোরিয়াল এতিমখানার গেট খুলে ভেতরে ঢুকতেই ওমরের বুকটা ধুক ধুক করতে শুরু করে। ওমর ধীর গতিতে ভেতরে প্রবেশ করে। চারদিকে তখন সবেমাত্র ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে। ওমর গত রাতের ফ্লাইটে আমেরিকা থেকে এসেছে। সে এসেই সোজা আমিনা বেগম মেমোরিয়াল এতিমখানায়...

দাদাভাইকে চিঠি

দাদাভাইকে চিঠি

প্রিয় দাদাভাই, শুরুতে তোকে শরতের শিউলি ফুলের নরম নরম ভালোবাসা। কেমন আছিস দাদাভাই? জানি তুই ভালো নেই, তবুও দাঁতগুলো বের করে বলবি ভালো আছি রে পাগলী! দাদাভাই তুই কেন মিথ্যা ভালো থাকার কথা লেখিস প্রতিবার চিঠিতে? তুই কি মনে করিস আমি তোর মিথ্যা হাসি বুঝি না? তুই ভুলে গেছিস,...

৩ Comments

  1. তাহসিন আহমেদ

    আজব ব্যাপার হলো শুধু পিতামাতাই নন এর পেছনে সন্তান নিজেও দায়ি। খারাপ সঙ্গ পরিহার করলে তাকে মোটামুটি ভালো মানুষ বলা যেতে পারে। পিতামাতা যেটা শিক্ষা দেয় সন্তানও সেটাই শিক্ষা পায় এমনটা ভাবা ঠিক জরুরী নয়। পরিবর্তন সম্পূর্ণ নিজের মধ্যে। বাবা মা প্রাথমিক আচরণ শিক্ষা দেয়।

    ভালো লিখেছেন। শুভকামনা রইলো। রেফারেন্সের পরিমাণ বেশি হয়ে গেছে।

    Reply
  2. shahrulislamsayem@gmail.com

    মহাপবিত্র গ্রন্থ আল-কুরআন এবং হাদিসের রেফারেন্স সহ খুব সুন্দর একটি প্রবন্ধ পড়লাম

    আলহামদুলিল্লাহ।

    খুব সুন্দর একটা প্রবন্ধ পড়লাম। আসলে এক্ষেত্রে একটা বিষয় বিবেচ্য যে সব দোষ শুধুমাত্র অভিভাবকদেরই দেয়া যায় যায় না আবার পুরো দোষ সন্তানদেরও দেয়া যায় না। এক্ষেত্রে উভয়েরই সহযগিতার প্রয়োজন।

    Reply
  3. Parvej Mosharof

    আমাদের এই পরিবর্তনের একমাত্র কারন সময়। আমরা নিজেরা মনে করি অনেক এগিয়ে গিয়েছি। নিয়মিত আপডেট হচ্ছি। নিজেকে তুলে ধরছি বিলাসিতায়। কিন্তু আমাদের মাঝে নৈতিকতা আছে, ধার্মিকতা আছে, আছে নীতি, জ্ঞান। আমরা ভুলে গেছি সেটা। আমরা আজকের পৃথিবী থেকে পূর্বের পৃথিবী বিয়োগ করলে পাই, ‘নীতি’। যেটা আজ আর আমাদের মাঝে নেই। আমাদের মাঝে নীতি ঐক্য নেই বলে আমরা ভুলে যাচ্ছি আমাদের ভিতরে থাকা মনুষ্যত্বকে।

    Reply

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *