জীবনের অর্থ
প্রকাশিত: অক্টোবর ১৭, ২০১৮
লেখকঃ

 205 বার দেখা হয়েছে

এই লেখক এর আরও লেখা পড়ুনঃ

ইমরান হোসাইন

 

বৈচিত্রে পরিপূর্ণ মানুষের জীবন। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র সর্বোপরি পুরো পৃথিবী জোরে মানুষের জীবনের পরিধি। আর এই বিস্তৃত পরিধিতে মানুষকে কাটাতে হয় ব্যস্ত সময়। সীমাহীন গন্তব্য, অজস্র স্বপ্ন আর অসীম চাহিদা মানুষকে প্রতিনিয়ত ছুটে চলতে বাধ্য করে।
এই ব্যস্ত ছুটে চলার মাঝে আমাদের খুব কম সময়ের জন্যই মনে হয়, আসলেই আমাদের জীবনের লক্ষ্য কী? কেন এই নিরন্তর ছুটে চলা। এর শেষ কোথায়? নাকি এই ছুটে চলার শেষ মুহূর্তেই অপেক্ষা করছে মৃত্যু!
আজ সরকারি ছুটি। বাড়িতে একা একা বসে আছেন। আজ আর কোনো কাজ রাখার দরকার নেই। চলুন একটু সময়ের জন্য অবসর গ্রহন করি। নিরন্তর ছুটে চলার মাঝে ছোট একটা ব্রেক কষে একটু ভাবনার জগতে চলে যাই। দেখি না এই ভাবনা আমাদের কোথায় নিয়ে চলে…?
এই যে জীবন, কী উদ্দেশ্য এই জীবনের? চলুন একটু হিসেব কষে দেখি। উচ্চতর গণিত কিংবা পদার্থের জটিল কোনো হিসেব নয়। জীবনের অতি সরল হিসেব।
এক একটা সেকেণ্ড, মিনিট, ঘন্টা আর দিন চলতে চলতে আজ জীবন থেকে হারয়ে গেল বিশ/পঁচিশ/ত্রিশ… বছর। কী অর্জন আমাদের এই সময়ের মাঝেকার?
মনে করুন আপনি প্রেম করছেন অথবা বিবাহিত জীবন। দু’টাতেই মানুষ সুখ খুঁজে এবং পায়ও। তবে এই জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত কী সুখের? কখনোই নয়। এটা অসম্ভব। বরং বাস্তবিক দিক থেকে বিচার করলে আমরা প্রায় সবাই অসুখি। সুখের মুহূর্তগুলো কেবল হাতরে বেঁচে থাকি আমরা। অর্থিক অনটন, স্বামী/স্ত্রীর চারিত্রিক অবনতি সংক্রান্ত দুঃশ্চিন্তা, নানা ধরণের রোগ-শোক ইত্যাদি প্রতিনিয়ত গ্রাস করছে আমাদের। এসব ছাড়াও রয়েছে স্বপ্ন বাস্তবায়িত না হবার যন্ত্রণা, জীবন যুদ্ধ, কঠোর পরিশ্রম।
ব্যক্তিগত জীবন থেকে যদি একটু সামনের দিকে চোখ মেলে তাকাই, তবে চোখের সামনে ভেসে উঠে, দুর্নীতি, হত্যা, গুম-খুন, ক্ষমতার অপব্যবহার, আইনের অপপ্রয়োগ; এত কিছুর মাঝে সুখ কোথায়?
মনের চোখ জোড়া যদি আর একটু সামনে এগিয়ে নেই, তবে চোখের সামনে ভেসে উঠে হিরোশিমা, প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, স্নায়ুযুদ্ধ, পারমানবিক বোমা, হইড্রোজেন বোমা, আফগানিস্থান, ইরাক, সিরিয়া, মায়ানমার, কাশ্মীর অথবা ফিলিস্তিন। অথবা খুব কাছ থেকে দেখলে ১৯৭১ সাল। খুব জঘন্য সেসব দৃশ্য, তাই না? ভাবুন তো, তাদের জীবনের সুখটা কোথায়?
সত্যি কী এসব ভাবনার বিষয় নয়? চিন্তা করা উচিত নয় কী এই জীবনের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য কিংবা স্বার্থকতা কী?
আমরা প্রতিটা মানুষ শুধু অপেক্ষায় থাকি। অফিসে শেষে বাড়ি পৌঁছাবার অপেক্ষা, শহরে চাকরি করতে এসে মাস শেষে গ্রামে যাবার অপেক্ষা, কাজ শেষে একটু বিশ্রাম কিংবা বিনোদনের অপেক্ষা।
অবসরে বসে বসে টাস খেলে সময় কাটানো। এই সময় কাটানো কিসের অপেক্ষায়? এতসব অপেক্ষার মধ্য দিয়ে আমরা চরম এক অপেক্ষার পথ পাড়ি দিচ্ছি, সেটা আমাদের মনে রাখার সময় এবং সুযোগ কোনোটাই নেই। চূড়ান্ত সেই অপেক্ষার অবসান, ‘মৃত্যু’।
একা বসে একটু ভাবুন। আমরা যতই যুক্তি দেই না কেন, জীবনের শেষ কাজটা মৃত্যুই। এর মাঝেই আমাদের সমাপ্তি। মৃত্যু হলো এমন একটা অবস্থা কিংবা কাজ, যার মধ্য দিয়ে এই পৃথিবীতে আমাদের সকল কাজ করার ক্ষমতা চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়। সমাপ্ত ঘটে জীবনের।
এবার ভাবুন তো, এই মৃত্যু অবধি জীবনে কী পেলেন আপনি? জীবনের কী স্বাদ আস্বাদন করলেন? অথবা এটা কী হলো আপনার সাথে?
সারাটা জীবন এ কাজ, ও কাজ, দুঃখ, পরিশ্রম, যন্ত্রণা ভোগ করে জীবনটা কাটিয়ে দিলেন, আর সব কাজের শেষে মৃত্যু! তবে জীবনটা কোথায়? অথবা, আপনি তো জীবনের কিছুটা হলেও স্বাদ পেয়েছেন, আর যারা জন্মের পরই কিংবা কিশোর বয়েসেই মরে গেছে। অথবা সেই মানুষটা, যে বিনা অপরাধে জেলের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে জীবনটা পার করে দিয়েছে? যারা বোমার আঘাতে কিংবা কোনো দূর্ঘটনায় মারা গেছে, তাদের জীবনটা কোথায়?
পৃথিবীতে অনেক ক্ষমতাবান মানুষ লক্ষ লক্ষ নিরিহ মানুষদের হত্যা করেছে, তাদের জীবনটা কোথায়?
এভাবে তারা মারা গেলে, জীবন থেকে হারিয়ে গেল, কেমন হয়ে গেল না বিষয়টা?
তবে এটাই বাস্তবতা। আর স্বাভাবিকভাবে এটাই হয়ে থাকে। কারণ, পৃথিবীর এই জীবনটা মানুষের একটা অস্থায়ী আবাস। যদি শুধু মাত্র পৃথিবীর জন্য আমরা আমাদের জীবনটা ভেবে থাকি, তাহলে আসলেই বিষয়গুলো কেমন হয়ে যাচ্ছে। অবিচার করা হচ্ছে সেই লোকগুলোর উপর।
তবে বস্তবতা হলো, অল্প কিছু সময়ের জন্য মানুষের এই পৃথিবীতে আগমন। মানুষের জীবনের অর্থ শুধু মাত্র পৃথিবীর হিসেবে হিসেব করে কেউ মিলাতে পারবে না। কখনোই না। কারণ পৃথিবী মানুষের সাথে প্রতিটা মুহূর্ত প্রতারণা করে। এই প্রতারণার হিসেব কে দিবে কিংবা নিবে? এর দায়-ভার কার? আমরা কী জীবিত কিংবা মৃত অবস্থায় এই পৃথিবীতে একটা ঝাঁকি দিয়ে বলতে পারবো, এই পৃথিবী, তুই আমার সাথে এমন করলি কেন?
আর এতসব ভাবনার পরিসমাপ্তি একটা জায়গাতেই। সেটা হচ্ছে পরকাল। অর্থাৎ এই পৃথিবীর জীবন আমাদের জন্য সমাপ্তি নয়। এর পরে আরও একটা জীবন আছে। আর শুধু এই ভাবনাটার মাঝেই আমরা জীবনের অর্থটা খুঁজে পাই। এই পৃথিবীতে সারাটা জীবন শুধু দুঃখ, যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে কাটালেও হতাশার কিছু নেই, কারণ সামনেই অপেক্ষা করছে অনন্তকালের মহা জীবন। যার কোনো শেষ নেই। জীবনের প্রকৃত অর্থটা এখানেই নিহিত।
এই পৃথিবীতে জীবন ধারনের পাশাপাশি আমাদের আরও দুইটি কাজ রয়েছে, প্রথমত : যতটা সম্ভব ভালো কাজ করা, যার ফলে যতদিন পৃথিবী থাকবে, মানুষ আমাকে ভালো জানবে। তাতে পৃথিবীর জীবনটা স্বার্থক হবে। আর দ্বিতীয়ত : মহান আল্লাহ তায়ালার হুকুম ও আহ্কাম মেনে চলা। যাতে আমাদের পরকালকে আমারা শান্তির আবাসস্থল রূপে পাই।

সম্পর্কিত পোস্ট

যদি পাশে থাকো

যদি পাশে থাকো

তাসফিয়া শারমিন ** আজকের সকালটা অন্য রকম। সাত সকালে আম্মু বকা দিলো। মানুষের ঘুম একটু দেরিতে ভাঙতেই পারে। তাই বলে এত রাগার কী আছে ?একেবারে যে দোষ আমারও তাও নয়। মানুষ ঘুম থেকে উঠে ফোনে বা দেওয়াল ঘড়িতে সময় দেখে। কিন্তু আমি উঠি জানালার পর্দা সরিয়ে বাইরের আলো দেখে।কে জানে...

কুড়িয়ে পাওয়া রত্ন

কুড়িয়ে পাওয়া রত্ন

অনন্যা অনু 'আমিনা বেগম' মেমোরিয়াল এতিমখানার গেট খুলে ভেতরে ঢুকতেই ওমরের বুকটা ধুক ধুক করতে শুরু করে। ওমর ধীর গতিতে ভেতরে প্রবেশ করে। চারদিকে তখন সবেমাত্র ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে। ওমর গত রাতের ফ্লাইটে আমেরিকা থেকে এসেছে। সে এসেই সোজা আমিনা বেগম মেমোরিয়াল এতিমখানায়...

দাদাভাইকে চিঠি

দাদাভাইকে চিঠি

প্রিয় দাদাভাই, শুরুতে তোকে শরতের শিউলি ফুলের নরম নরম ভালোবাসা। কেমন আছিস দাদাভাই? জানি তুই ভালো নেই, তবুও দাঁতগুলো বের করে বলবি ভালো আছি রে পাগলী! দাদাভাই তুই কেন মিথ্যা ভালো থাকার কথা লেখিস প্রতিবার চিঠিতে? তুই কি মনে করিস আমি তোর মিথ্যা হাসি বুঝি না? তুই ভুলে গেছিস,...

১ Comment

  1. Rifat

    বৈচিত্রে — বৈচিত্র্যে
    খুব সুন্দরভাবে জীবনের মানেটা বুঝিয়েছেন। লেখাটি পড়ে অনেক ভালো লাগলো।
    শুভ কামনা।

    Reply

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *