জানোয়ারের রক্ত
প্রকাশিত: মার্চ ৮, ২০১৮
লেখকঃ vickycherry05

 44 বার দেখা হয়েছে

এই লেখক এর আরও লেখা পড়ুনঃ vickycherry05

গল্প লেখকঃ
মোঃ রোবেল পারভেজ
(মার্চ – ২০১৮)
………………

হাতের রক্ত দ্রুতই ধুয়ে ফেলছে রাসেল। পুলিশের ভয়ে নয়। জানোয়ারের রক্ত। দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। মনে হয় আরবের কোন সুগন্ধিই এই বিশ্রী গন্ধ দূর করতে পারবেনা। হাতটা ভালো করে ধোয়েই গোসল সেড়ে নিলো রাসেল। মনের মধ্যে একটা ফুর্তি ফুর্তি ভাব।দুইটা জানোয়ারকে উপযুক্ত শাস্তি দিতে পেরেছে সে। পেরেছে পৃথিবীর কিছু কীটকে মাটির কীটদের খাদ্য হিসেবে দিতে। বিষাক্ত নিঃশ্বাস থেকে মুক্তি দিতে পেরেছে বাতাসকে। নতুন দিনের সূর্যকে আর দেখতে হবে না দুটো বিকৃত মুখ। বাতাসের অক্সিজেন মুক্তি পাবে জানোয়ারের ফুসফুসে থাকার ভয়াবহতা থেকে। রাস্তার ধুলো, চাঁদের আলোও হয়তো মুক্তি পাবে বিকৃত মস্তিষ্কের দুটি দুপেয়ে জানোয়ার হতে।

রাসেল ঠিক করেছে দুপুর খাবার খেয়ে একটা লম্বা ঘুম দিবে। ঘুম থেকে ওঠে আজম ভাইয়ের দোকানে গরুর দুধের দুই কাপ চা খাবে। তারপর কিছু সময় একা একা হাঁটবে। মাগরিবের নামায পড়ে কবরস্থানে যাবে। দাঁড়াবে রাবেয়ার কবরের পাশে। আজকে একটুও কাঁদবেনা রাবেয়ার জন্য। হাহাকার করবে না পাঁচ বছর ধরে ছোট বোনটাকে না দেখার যন্ত্রণায়। বিচার না পাবার আকুলতা ভেসে যাবেনা চোখের নোনাজ্বলে। বোনের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে স্মৃতিকাতরও হবেনা সে। আল্লাহর কাছে আর বোনের হত্যাকারীদের বিচারেরও দাবি জানাবেনা সে। বিচার নিজ হাতে করেছে রাসেল।

রাবেয়া রাসেলের ছোটবোন। বয়স ৮ বছর। ৩য় শ্রেণিতে পড়তো। ক্লাসে ফার্স্ট ছিলো সে। রাসেল আদর করে ডাকতো রাবু বলে। বড় বেশি ভাই নেওটা ছিলো রাবেয়া।সবসময় রাসেলের কাছাকাছি থাকতো। ভাইয়া, ভাইয়া করে অস্থির করে তুলতো একেবারে। রাসেল ও বোনকে খুব ভালবাসতো। হ্যাঁ,ভালোবাসতো। এখনও ভালোবাসে। কিন্তু সে ভালোবাসা রাবেয়ার স্মৃতির প্রতি। রাবেয়া যে অল্প বয়সেই পৃথিবীর জঘন্যতম রুপ দেখে মায়া কাটিয়েছে এ নোংরা পাপেপূর্ণ পৃথিবীর। রাবেয়াকে দেখে মনে হতো বেহেস্তি হুর বুঝি স্বর্গের দ্বার বেয়ে নেমে এসেছে। আর এই সৌন্দর্যই দুনিয়ার আলো,বাতাসের অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে তাকে। বঞ্চিত করেছে ভাইয়ের ভালোবাসা থেকেও। রাবেয়ার মৃত মুখটা দেখেই স্ট্রোক করেন রাসেলের বাবা।হাসপাতালে নেয়ার আগেই মৃত্যু হয় তাঁর। মা ও এতো শোক সহ্য করতে পারেনি।স্বামী, মেয়ে হারানোর যন্ত্রণায় পাগল হয়ে চিকিৎসাধীন মানসিক হাসপাতালে।
মুহুর্তেই রাসেলের স্বর্গীয় সুখে ভরা পরিবারে নেমে আসে নরকের হাহাকার।

বোনের হত্যাকারীদের শাস্তির জন্য থানায়,কোর্টে অনেক ঘুরেছে সে। প্রথমে ত থানা থেকে মামলাই নিতে চায় নি। কারণ আসামী প্রভাবশালী। যাদের হাত অনেক বড়।শেষ পর্যন্ত মামলা নিলেও চার্জশিট এতটাই হেয়ালি ছিলো যে আসামীদের বেকসুর খালাস হয়ে যায়। কোর্টের মাঠে বসে অনেকক্ষণ ধরে কেঁদেছে রাসেল। কোর্টের ঘাস সমবেদনায় মুষড়ে ওঠলেও অন্ধ আইনের চোখের জ্যোতি ফিরে নে। সেদিনই প্রতিজ্ঞা করেছিলো রাসেল বোন হত্যার প্রতিশোধ সে নিবে। আজ তার প্রতিজ্ঞা পূর্ণ হয়েছে।রাবেয়ার আত্না মুক্তি পেয়েছে বিচারের জন্য হাহাকার করা থেকে। হয়তো রাসেলের বাবার আত্নাও কিছুটা শান্তি পাবে।

স্কুলে যাবার পথে বাবলু,কিসলু দুই জানোয়ার আইসক্রিমের লোভ দেখিয়ে ছোট্র রাবেয়াকে নিয়ে যায় নির্জন স্থানে। নিজেদের পাশবিক ইচ্ছা পূরণ করে তারা এই নিষ্পাপ মেয়েটার ছোট্র দেহের উপরে। এই অত্যাচার সহ্য করতে পারেনি এতো ছোট দেহ। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে নারকীয় যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পায় সে। মৃত্যু হয় রাবেয়ার।মৃত্যু হয় বিবেকের, মৃত্যু হয় নিরাপত্তার, মৃত্যু হয় নৈতিকতার,মৃত্যু হয় অন্ধ আইনেরও। কিন্তু বোনের প্রতি ভাইয়ের ভালোবাসার ত মৃত্যু হয়না। মৃত্যু হয় না সন্তানের প্রতি পিতামাতার মমত্বের। আইনের চোখে ছানি পড়লেই ত জন্ম নেয় বিপ্লবী। বিল্পব সাধনে আইনের ছানির অপারেশন করে। রাসেলও তাই করেছে। পাঁঠা বলির খাঁড়া দিয়ে বলি দিয়েছে বাবলু,কিসলুকে। জানোয়ারের রক্ত ঢেলে দিয়েছে আইনের চোখের ছানিতে। পৃথিবীর সকল ভাইদের কাছে বার্তা দিয়েছে, নিরাপত্তাহীন পৃথিবীতে বোনের নিরাপত্তায় খাঁড়া হাতে নিতে হবে। জানোয়ারের বিষাক্ত চোখে ঢেলে দিতে হবে লেলিহান শিখা। প্রয়োজনে জানোয়ারের রক্তে ধৌত করতে হবে পা।

বোনের কবরের মাটি ছুঁয়ে এসে থানায় আত্নসমর্পণ করে রাসেল। দুইটা জানোয়ার বলির দায়ে তার পরণতি নিয়ে সে আজ ভাবনাহীন। তার বিশ্বাস আইন অন্ধ হলেও নিশ্চয় বিচারক অন্ধ হবেন না।

সম্পর্কিত পোস্ট

অঘোষিত মায়া

অঘোষিত মায়া

বইয়ের প্রিভিউ ,, বই : অঘোষিত মায়া লেখক :মাহবুবা শাওলীন স্বপ্নিল . ১.প্রিয়জনের মায়ায় আটকানোর ক্ষমতা সবার থাকে না। ২.মানুষ কখনো প্রয়োজনীয় কথা অন্যদের জানাতে ভুল করে না। তবে অপ্রয়োজনীয় কথা মানুষ না জানাতে চাইলেও কীভাবে যেন কেউ না কেউ জেনে যায়। ৩. জগতে দুই ধরণের মানুষ...

আমার জামি

আমার জামি

জান্নাতুল না'ঈমা জীবনের খাতায় রোজ রোজ হাজারো গল্প জমা হয়। কিছু গল্প ব্যর্থতার,কিছু গল্প সফলতার। কিছু আনন্দের,কিছু বা হতাশার। গল্প যেমনই হোক,আমরা ইরেজার দিয়ে সেটা মুছে ফেলতে পারি না। চলার পথে ফ্ল্যাশব্যাক হয়। অতীতটা মুহূর্তেই জোনাই পরীর ডানার মতো জ্বলজ্বলিয়ে নাচতে...

ভাইয়া

ভাইয়া

ভাইয়া! আবেগের এক সিক্ত ছোঁয়া, ভালবাসার এক উদ্দীপনা, ভাইয়া! ভুলের মাঝে ভুল কে খোঁজা, আর ভালবাসার মাঝে ভাইকে খোঁজা, দুটোই এক কথা! ভুল তো ভুল ই তার মাঝে ভুল কে খোঁজা যেমন মূর্খতা বা বোকামি। ঠিক তেমনি ভালবাসার মাঝে ভাইকে খোজাও মূর্খতা! আমার কাছে ভাইয়া শব্দটাই ভালবাসার...

০ Comments

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *