গীবত
প্রকাশিত: নভেম্বর ১৯, ২০১৮
লেখকঃ

 147 বার দেখা হয়েছে

এই লেখক এর আরও লেখা পড়ুনঃ

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।#প্রবন্ধ
প্রবন্ধের নামঃ গীবত

মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন – “মুমিনগন, তোমরা অনেক ধারনা থেকে বিরত থাক। নিশ্চয়ই কতক ধারনা গোনাহ। এবং গোপনীয় বিষয় সন্ধান করো না। তোমাদের কেউ যেন কারো পশ্চাতে নিন্দা না করে। তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভ্রাতার গোশত ভক্ষন করা পছন্দ করবে? বস্তুতঃ তোমরা তো একে ঘৃণাই কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।“ (সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত ১২)

যদি কাউকে কখনো জিজ্ঞাসা করা হয় কখনো মানুষের গোশত খেয়েছেন? খেতে কেমন? তুলতুলে নাকি শক্ত? তখন হয়তো কেউ ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে দাড়িয়ে থাকে অথবা বুঝতে চেষ্টা করে যে প্রশ্নকারী পাগল কিনা? আর পাগল না হলে কেউ এরকম অযৌক্তিক কথা বলে নাকি? আবার অনেকে হয়তো পাগল/ছাগল বলেই ফেলে। কিন্তু কেউ আদৌ ভেবে দেখে না যে প্রশ্নটা কি আসলেই অযৌক্তিক??

গীবত কি?

আসলে আমরা অনেকেই গীবতের সুস্পষ্ট ধারণা জানি না বলে অনেক সময় নিজের অজান্তেও গীবত করে ফেলি। গীবত একটি আরবি শব্দ। এর অর্থ পরনিন্দা, পরচর্চা, অসাক্ষাতে দুর্নাম করা, সমালোচনা করা, অপরের দোষ প্রকাশ করা, কুৎসা রটনা করা ইত্যাদি।
একদা মহানবী(স.) বললেন, ‘গীবত হলো-তুমি তোমার ভাইয়ের এমনভাবে আলোচনা করবে যা শুনলে সে মনে কষ্ট পায়। অতঃপর মহানবী(স.)-কে বলা হল,আমি যা বলব তা যদি আমার ভাইয়ের মধ্যে পাওয়া যায় সেক্ষেত্রেও কি তা গীবত হবে? উত্তরে মহানবী(স.) বললেন,তুমি যা বলছ তা যদি তার মধ্যে থাকে তবে তা গীবত হবে। আর যদি তা তার মধ্যে না পাওয়া যায় তবে তা হবে অপবাদ’(গ্রন্থঃ সহীহ মুসলিম (হাঃ একাডেমী) অধ্যায়ঃ ৪৬। সদ্ব্যবহার, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা ও শিষ্টাচার (হাদিস নম্বরঃ ৬৪৮৭)

চায়ের দোকানে আড্ডায়, ক্লাসের ব্রেকে বন্ধুদের সাথে আড্ডায়, যেকোনো অনুষ্ঠানে, পাশের বাসার ভাবির সাথে কথাবার্তা, অফিসের ফাকের আড্ডা, খেলাধুলা সহ প্রায় সবখানেই এখন আলোচনার মুখ্য বিষয়টাই যেন গীবত করা। যেকোনো আলোচনায় কেউ কারো নামে কোন কিছু একটু কিছু বললেই হয়েছে, এরপরে যেন সেটা সবার কানে একেবারে মধুর মত ঠেকে। আর তারপরে শুরু হয় সেই মধুকে আরও খাটি মধুতে পরিনত করার প্রতিযোগিতা। সবাই যেন উঠেপড়ে লেগে যায় সেই গীবতের প্রতিযোগিতায় জয় লাভ করার জন্য।
এটা (গীবত) করা যেন এখন মানুষের সামাজিক দায়িত্ব হয়ে গেছে, যেটা না করলে ভাতও হজম হয় না আবার রাতে ভালো ঘুমও হয়না।
আসলে ইসলাম এরকম নয়। ইসলাম হলো একটি শান্তিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা। এখানে কাউকে হেয় করার কোন সুযোগ নেই। যদি কারো মধ্যে যদি আমরা কোন দোষ বা ত্রুটি খুঁজে পাই, তাহলে সেটা সকলের কাছে প্রচার না করে যার ভুল তাকেই সেটা জানানো এবং সেখান থেকে বেরিয়ে আসার পরামর্শ দেয়াটাই আমাদের কর্তব্য।
ওই দেখ, দেখ ওই ছেলেটা টাখনুর নিচে প্যান্ট পড়েছে, আরে অমুক তো নামাজই পড়ে না, আরে তমুক তো রোজা রাখে না………………এভাবেই শুরু হয়ে আর চলতে থাকে গীবত। এখানে একটু চিন্তা করি যে,আমি যদি সবাইকে বলে বেড়াই যে অমুক নামাজ পড়ে না, তমুক রোজা রাখে না তাহলেই কি অমুক নামাজ পড়া শুরু করবে? তমুক রোজা রাখা শুরু করবে?
এর চেয়ে ভালো হয় যদি আমরা তাকে গিয়ে বুঝিয়ে বলি নামাজের গুরুত্ব, রোজার গুরুত্ব তাহলে হয়তো বা সে নামাজ-রোজার গুরুত্ব উপলব্ধি করে নামাজ রোজা শুরু করতে পারে ইসলামের পথে ফিরে আসলেও আসতে পারে

গীবত কতটা ভয়ংকর?
এক্ষেত্রে অনেকেই ভাবতে পারে যে গীবত আর তেমন কি গুনাহ, যা বলছি (অন্যের নামে) সেটা তো সত্যিই। কিন্তু না, এটা কোনো ছোটোখাটো অপরাধ নয়।
এক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ(স.) বলেছেন, ‘গীবত ব্যভিচারের চাইএও মারাত্মক। সাহাবিগন বললেন, হে আল্লাহর রাসুল গীবত কিভাবে ব্যভিচারের চাইতেও মারাত্মক অপরাধ হয়? রাসুল(স.) বললেন, কোন ব্যক্তি ব্যভিচার করার পর তওবা করলে মহান আল্লাহ তায়ালা তাকে ক্ষমা করে দিতে পারেন। কিন্তু গীবতকারীকে ততক্ষন পর্যন্ত মহাণ আল্লাহ তায়ালা মাফ করবেন না, যতক্ষন না যার গীবত করা হয়েছে সে ব্যক্তি মাফ করবে’(বায়হাকি)
ইয়াহইয়া (রহঃ) … ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুটি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি বললেনঃ নিশ্চয়ই এ দু’জন কবরবাসীকে আযাব দেওয়া হচ্ছে। তবে বড় কোন গুনাহের কারণে কবরে তাদের আযাব দেয়া হচ্ছে না। এই কবরবাসী পেশাব করার সময় সতর ঢাকতোনা। আর ঐ কবরবাসী গীবত (পরনিন্দা) করে বেড়াত। এরপর তিনি খেজুরের একটি কাঁচা ডাল আনিয়ে সেটি দু’টুকরো করে এক টুকরো এ কবরটির উপর এবং এক টুকরো ঐ কবরটির উপর গেড়ে দিলেন। তারপর বললেনঃ এ ডালের টুকরো দুটি না শুকানো পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা অবশ্যই তাদের আযাব কমিয়ে দিবেন।(গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (ইফাঃ) অধ্যায়ঃ ৬৫/ আচার ব্যবহার(হাদিস নম্বরঃ ৫৬২৬)

গীবতের পরিণতিঃ
গীবত একটি মারাত্মক অপরাধ,যার শাস্তি আমাদের অনেকেরই ধারনার বাইরে
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মি‘রাজের রাতে আমি এমন এক কওমের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলাম যাদের নখগুলো তামার তৈরী এবং তা দিয়ে তারা অনবরত তাদের মুখমন্ডলে ও বুকে আচড় মারছে। আমি বললাম, হে জিবরীল! এরা কারা? তিনি বললেন, এরা সেসব লোক যারা মানুষের গোশত খেতো (গীবত করতো) এবং তাদের মানসম্মানে আঘাত হানতো(গ্রন্থঃ সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত)অধ্যায়ঃ ৩৬/ শিষ্টাচার(হাদিস নম্বরঃ ৪৮৭৮)

এই গীবত নানাভাবে ব্যক্তিগত এবং সামাজিক জীবনে সমস্যা হয়ে দাড়ায় এবং হয়ে যায় অশান্তির কারণ, তাই আমাদের সকলের উচিৎ গীবত থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকা এবং এড়িয়ে চলা

সম্পর্কিত পোস্ট

যদি পাশে থাকো

যদি পাশে থাকো

তাসফিয়া শারমিন ** আজকের সকালটা অন্য রকম। সাত সকালে আম্মু বকা দিলো। মানুষের ঘুম একটু দেরিতে ভাঙতেই পারে। তাই বলে এত রাগার কী আছে ?একেবারে যে দোষ আমারও তাও নয়। মানুষ ঘুম থেকে উঠে ফোনে বা দেওয়াল ঘড়িতে সময় দেখে। কিন্তু আমি উঠি জানালার পর্দা সরিয়ে বাইরের আলো দেখে।কে জানে...

কুড়িয়ে পাওয়া রত্ন

কুড়িয়ে পাওয়া রত্ন

অনন্যা অনু 'আমিনা বেগম' মেমোরিয়াল এতিমখানার গেট খুলে ভেতরে ঢুকতেই ওমরের বুকটা ধুক ধুক করতে শুরু করে। ওমর ধীর গতিতে ভেতরে প্রবেশ করে। চারদিকে তখন সবেমাত্র ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে। ওমর গত রাতের ফ্লাইটে আমেরিকা থেকে এসেছে। সে এসেই সোজা আমিনা বেগম মেমোরিয়াল এতিমখানায়...

দাদাভাইকে চিঠি

দাদাভাইকে চিঠি

প্রিয় দাদাভাই, শুরুতে তোকে শরতের শিউলি ফুলের নরম নরম ভালোবাসা। কেমন আছিস দাদাভাই? জানি তুই ভালো নেই, তবুও দাঁতগুলো বের করে বলবি ভালো আছি রে পাগলী! দাদাভাই তুই কেন মিথ্যা ভালো থাকার কথা লেখিস প্রতিবার চিঠিতে? তুই কি মনে করিস আমি তোর মিথ্যা হাসি বুঝি না? তুই ভুলে গেছিস,...

৭ Comments

  1. Halima tus sadia

    আমরা এখন গীবতটাকে প্রাধান্য দেই।কারও সম্পর্কে কিছু বললে যাচাই না করে তার কথা বিশ্বাস করি।না জেনে অন্যকে অপবাদ দেই,এর জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
    ভালো লিখেছেন।গীবত সম্পর্কে চমৎকার বর্ণনা।
    বানানে কয়েকটা ভুল
    ধারনা-ধারণা
    কতক্ষন –কতক্ষণ
    এতক্ষন-এতক্ষণ
    ছোটো-ছোট
    শুভ কামনা রইলো।

    Reply
    • shahrulislamsayem@gmail.com

      অসংখ্য ধন্যবাদ, আর সেই সাথে ধন্যবাদ বানান ভুল ধরিয়ে দেয়ার জন্য

      Reply
  2. Tanjina Tania

    গীবত করা মৃত ভাইয়ের মাংস খাওয়ার সমান, এটা জেনেও যে গীবত করে ধীক্কার তার জন্য

    Reply
    • shahrulislamsayem@gmail.com

      এটাই যদি এখনাকার মানুষ মনে রাখতে পারতো

      Reply
  3. Md Rahim Miah

    দাড়িয়ে-দাঁড়িয়ে
    ফাকের-ফাঁকে
    উঠেপড়ে -উঠে পরে
    হয়না-হয় না
    পাই-পায়
    ততক্ষন-ততক্ষণ
    যতক্ষন-যতক্ষণ
    ঢাকতোনা-ঢাকতো না
    ঐ-ওই
    এ-এই
    ঐ-ওই

    এ-এই
    অসাধারণ হয়েছে গীবত নিয়ে লেখা, তাঁরপরও কিছু মানুষ গীবত করে মজা পায়। আল্লাহ্‌ তাদের বুঝার তৌফিক দান করুক। কিছু ভুল ছিল ঠিক করে দিলাম, শুভ কামনা রইল।

    Reply
  4. অচেনা আমি

    আসসালামু আলাইকুম।
    অনেক সুন্দর করে লিখেছেন। সবাই পড়ে অনেক কিছু শিখতে পারবে। তবে বানানে কিছু ভুল রয়েছে। আশা করি আগামীতে শুধরে নিবেন।
    চিহ্নের ব্যবহারে কিছুটা সমস্যা রয়েছে।

    ধারনা – ধারণা
    থাক – থাকো
    দাড়িয়ে – দাঁড়িয়ে
    ফাকের – ফাঁকের
    কোন – কোনো
    মত – মতো
    হয়না – হয় না
    পরিনত – পরিণত
    জীবনব্যবস্থা – জীবন ব্যবস্থা
    চাইএও – চাইতেও / চেয়েও
    রাসুল – রাসূল
    কিভাবে – কীভাবে
    ততক্ষন – ততোক্ষণ
    মহাণ – মহান
    উঠেপড়ে – উঠে পড়ে

    আগামীর জন্য শুভ কামনা।

    Reply
  5. Nafis Intehab Nazmul

    লেখক কে প্রথমেই ধন্যবাদ জানাই ইসলাম বিষয়ক একটি প্রবন্ধ লেখার জন্য। সুন্দর লিখেছেন।
    গীবত এমন একটা জিনিস, যেটা থেকে বেঁচে থাকা কষ্টকর । খুবই সতর্ক থাকা উচিৎ। মনের অজান্তে অনবরত গীবত করে চলেছি আমরা। অথচ, এটার শাস্তি ভ্যাবহ। আল্লাহ আমাদেরকে গীবত তগেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দান করুক।

    Reply

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *