দুটি বাস ও একটি প্রেম
প্রকাশিত: জুলাই ৯, ২০১৮
লেখকঃ আওয়ার ক্যানভাস

 199 বার দেখা হয়েছে

এই লেখক এর আরও লেখা পড়ুনঃ আওয়ার ক্যানভাস

লেখক: মোঃ সোহরাব হাসান (জুুলাই ,১৮)

বাবা-মা হতে শুনলাম আমরা এবারের ঈদটা গ্রামে করব। এক মহানন্দে ভেসে গেলো আমার মন। আসলে যখন এই নান্দনিকতায় ডুবে থাকা পৃথিবীতে আমার জন্ম হয়েছিল. তখন থেকেই আমি আমার ছেলেবেলা কাটিয়েছি শহরে। তাই গ্রামের প্রতি এক বিশেষ আকর্ষন রয়েছে। আমার উল্লাসিত মন সকল ব্যাবস্থা শেষ করে গ্রামের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমাতে ব্যাস্ত হয়ে পরে। ব্যাস…আজ রাতে আমাদের যাত্রারম্ভ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হল। রাত ন’টায় আমরা বাস কাউনটারে পৌছে গেলাম। আমাদের গ্রামের বাড়ি যেতে হলে বাস ও ট্রেন দুইয়েরই যাতায়াতের সু-ব্যাবস্থা আছে। তবে আমরা প্রতিবারের মতো এবারো বাসে করেই যাবো। লবন ছাড়া তরকারি আর ইয়ারফোন ছাড়া জার্নি দুইটাই সমান। তাই আমি বাসা থেকে বের হওয়ার আগে প্ল্যান করে বের হয়েছি সারা রাস্তা গান শুনে শুনে যাবো। হাত দিয়ে দেখলাম ইয়ারফোন টা আমার প্যান্টের ব্যাক পকেটেই আছে। বাস আমাদের টিকিট কাটা হল।

ওহ সরি!!! আমি তো আমার পরিচয়টাই দিলাম না।
আমি সোহরাব!!! সোহরাব হাসান
এবার অনার্স ফাইনাল ইয়ার। আমার ফ্যামিলি বলতে আমার বাবা-মা এবং আমার কলিজার টুকরা ছোট বোন। এবং এবার আমরা স্বপরিবারে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছি। বাবা টিকিট কাউন্টারে টিকিট কেটে ওখানে কি নিয়ে যেন আলাপ করছেন। আর আমার বোনটি আমার মায়ের সাথে আমার সাথে দাঁড়িয়ে আছেন। আমার বোন বেশি বড় নয়…বয়স ৬+…….
হটাৎ খেয়াল করলাম আমার শরিরে কাপুনি অনুভব করলাম। পকেটে হাত দিলাম। বুঝলাম কাপুনির কারন। মোবাইলটা ভাইব্রেশন এর কারনে আমি এমনটা মনে করেছি। মোবাইলটা বের করে দেখি অবনী ফোন করেছে। “wait”
অবনী…..তার নাম হচ্ছে অবনী নুর.. আমার বেটার হাফ। মানে আমার ভালোবাসার মানুষ। আমাদের সম্পর্ক আজ ৩ বছর। অবনী আমাকে খুব খুব ভালোবাসে। আমাদের সম্পর্কের মাঝে নানান রকমের খুনসুটি রয়েছে। এবং রয়েছে না ভোলার মতো
মুহুর্ত। আমি তাকে যতটা না ভালোবাসি তার চেয়ে আরোও বেশি ভালোবাসে সে আমায়। আমি যে বাসিনা তা না..আমিও খুব খুব ভালোবাসি। ভার্সিটিতে আমাদের প্রথম দেখা এবং প্রপোজ সব ভার্সিটিতেই হয়েছিল। ও এবার অনার্স ফার্স্ট ইয়ার। আমি মাঝে মাঝে অবাক হয়ে যায় একটা সম্পর্কের মাঝে কিভাবে এতো ভালবাসা আসতে পারে…..? আমাদের ৩ বছরের সম্পর্কে আছে অনেক অনেক ঘটনা। একবার কি হয়েছে শুনুন……….

যখন আমাদের সম্পর্কের একটি বছর অতিবাহিত হয়েছিল সেদিন আমরা দেখা করেছিলাম একটা পার্কে। আমি পার্কে গেলাম ৫ঃ১৫ মিনিটে। আসলে যাওয়ার কথা ছিল বরাবর ৫টায়। আমি লেইট….তাই গেলাম গিয়ে দেখি আমার অবনী সেই পুরোনো বেঞ্চটাতে বসে আছে একা….বেচারী আজও আমার আগে এসেছে….আজ সে শাড়ি পড়ে এসেছে.. তাও আবার নীল শাড়ি ও চোখে কালো কাজল..ঠিক যেমনটা আমি পছন্দ করি..খুব সুন্দর লাগছে তাকে..একদম অপ্সরীর মতো লাগছে….কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে আমি গিয়ে দেখা করলাম…

—কিহ বাবু সাহেব!!!! এতো তাড়াতাড়ি চলে এলেন যে…..??
—চুপ……!!
— কি.?? কথা বলছেন না কেনো…??
— সরি….আসলে রাস্তায় অনেক জ্যাম ছিল
— ওওও রাস্তায় জ্যাম শুধু আপনাকেই পছন্দ করে……তাই না….!!!!
— বললাম তো সরি…..কখন আসছো…..??
— মিনিট পনেরো আগে।
— ওওও….আচ্ছা চল একটু বসি।
—ইহিম…. যেহেতু তুমি বরাবরের মতো লেইট তাই আর বসা চলবেনা…চলো হাটা শুরু করি আজ অনেকটা হাটবো..।
— একটু বসি….???
— না বললাম না…!!!
— ওকে বাবা চলো…..।

ব্যাস আমাদের হাটা শুরু.. হলো চলবে অনেকক্ষন। সেদিন কেনো জানি ও বার বার বলছে চলো পার্কের আরো ভিতরে যাই..এটা বলে বলে আমরা পার্কের অনেকটা গভীরে চলে এসেছি..আমরা কথা বলছিলাম। এক পর্যায়ে আমি কথা বলতে বলতে বুঝলাম অনেকক্ষন অবনির কোনো জবাব নেই।
পিছু ফিরে যা দেখলাম তা হয়ত দেখার জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না…আমি দেখলাম অবনী আমার থেকে কিছুটা পিছনে মাটিতে পড়ে আছে। আমি হটাৎ ভয় পেয়ে গেলাম। দৌড়ে তার কাছে গেলাম। গিয়ে দেখি সে মাটিতে পড়ে আছে। তাকে ডাকলাম অনেককিছু করলাম নাহ সে কিছুতেই উঠছেনা। ততক্ষনে আমার বুকের ভেতর এক অজানা ভয়াল ঝড় শুরু হয়ে গেছে। আমার প্রায় কাঁদো কাঁদো অবস্তা। কোনো কিছু সাহায্য না পেয়ে অবশেষে তাকে কোলে নিয়ে দৌড় শুরু করলাম। দে দৌড়..আলুর বস্তা..হাইয়া..লবনের বস্তা হাইয়া.. হাহাহা….। আসলে আমি এখন যতটা না ফানমুডে বলছি ততটা ফানমুডে ছিলাম না। খুবই ভয়ার্ত ছিলাম। ব্যাস প্রায় অনেকটা পথ চলে এসেছি আর একটু পরই পার্ক থেকে বের হয়ে যাবো। হটাৎ আমি অবনীর শরিরে নড়াচড়া লক্ষ করলাম। তার মুখের দিকে তাকালাম। দেখি তার মুখটা কেমন যেন মুচকি হাসি দিচ্ছে। আরে আজিব তো!!! ধীরে ধীরে তা অট্টহাসিতে রুপ নিল। ব্যাস আর বুঝতে বাকি রইলনা। যে এটা অবনীর…আমার কোলে উঠে হাটার শখ পুরন করার এক মিথ্যে ছলনা। আমি দাঁড়িয়ে গেলাম। দেখছি অবনী হাসছে। হ্যা খুব হাসছে। আমি তাকে নিচে নামিয়ে দিয়ে চলে আসতে লাগলাম। আর বললাম হাসো হাসো…আমাকে চিন্তায় ফেলে..আমাকে কাঁদিয়ে আনন্দ পাও না…?? যেদিন মরে যাবো সেদিন বুঝবে প্রিয়জনের বিপদে কতটা আনন্দ পাও..এদিকে ও কান্না শুরু করে দিয়েছে। থাকো তুমি এই আমি গেলাম..এই রকম মিথ্যে নাটক করে তুমি মজা পেয়েছো আর এদিকে আমি কতটা ভয় পেয়েছিলাম তোমার তা খেয়াল আছে…?? তারপর শুনলাম সে আমাকে ডাকছে। আমি পাত্তা না দিয়ে চলে আসতে লাগলাম। ও আমাকে অনেক ডাকছে। কিন্তু আমি চলে আসছি। হটাৎ অনুভব করলাম আমাকে কেও জরিয়ে ধরেছে। আমি বলছি ছাড়ো!! নাহ সে ছাড়ছেনা বরং কেদেই চলেছে। খুব কাদছে। আসলে ও আমার মরার কথা শুনলে কেপে উঠে। খুব ভয় পায় তখন।আমি পিছনে ফিরলাম এবং ফিরে তো পুরাই অবাক।

—আরে এই তুমি কে…???
— এখন কি চিনতে পারছোনা….??(উহু উহু)
—তোমার মুখের এই অবস্থা কেনো…??
(আসলে কেঁদে কেঁদে চোখের কাজল গুলো একদম লেপ্টে গেছে চোখের আশেপাশে ছড়িয়ে গেছে। একদম ডাইনির মতো লাগছে)
—কি অবস্থা..?
— কাজল দিয়ে পুরু চোখ কালো হয়ে গেছে….
— উহু উহু উহু
— কেন করলে এমনটা…?
—উহু উহু আমি তো শুধু তোমার কোলে উঠতে এমন করেছি উহু উহু
— তাই বলে এভাবে…..???? জানো আমি কতটা ভয় পেয়েছিলাম..???
— সরি…!! উহু উহু

ব্যাস অইদিনের কথা আমি কোনোদিনও ভুলতে পারবোনা।
এই যে হেলো……!!!!!বাস্তবে ফিরে আসুন। অবনী কল দিয়েছে। এখন কি করি??? বাব-মায়ের আড়ালে গিয়ে ফোনটা রিসিভ করলাম।

—হেলো অবনী..!!!
—তুমি কি হ্যা…???
—কেন..আমি আবার কি করলাম.??
—সেইযে বিকেলে ফোন দিলে..আর কোনো খবর নাই..।
— আসলে প্যাকিং নিয়ে বিজি ছিলাম।
— তো গাড়িতে উঠেছ??
— নাহ এখনো উঠিনি..উঠব একটু পর
—আচ্ছা উঠে ফোন দিও..আর সারারাত আমার সাথে যোগাযোগ রাখবে কেমন…??? আমি সারারাত ফোন দিব…।
— কেন.?? তুমি ঘুমাবেনা…??
—নাহ আজ আর ঘুমাবোনা…
—মাত্র কয়েকদিনের জন্যই তো যাচ্ছি এত অস্থির হচ্ছো কেন..??
—দেখ আমি তোমাকে একদিন না দেখে থাকতে পারবনা। আর তুমি বলছো কয়েকদিন…??
—চিন্তা করোনা…কিছুদিনের পরই চলে আসব।
— আচ্ছা গাড়িতে উঠে কল দিও কিন্তু
—আচ্ছা!!!

কল শেষ করে বাসে উঠলাম গাড়ি ছাড়ার এখনো পনের মিনিট বাকি আছে। আমি বাসে বসে আছি। জানালার পাশে ড্রাইভার এর পিছন সারিতে আর আমার পাশে বসে আছেন এক বৃদ্ধা লোক। আমি ওনার সাথে পরিচিত হলাম। এবং আমার আসনের বরাবর ঐ পাসের সারিতে আমার বাবা-মা বসে আছেন এবং আমার বোনটি তাদের কোলে বসে আছে।
আসলে আমার এই জানালার পাশে সিট পাওয়ার পিছনে রয়েছে আমার বাবার অবদান। তিনি জানেন তার বড় ছেলেটা জানালার পাশে বসতে খুব ভালোবাসে তাই তিনি আমার আসনটা আমার পছন্দ মতোই রেখেছে। কেনো জানি খুব খারাপ লাগছে। মনটা আনচান আনচান করছে। হয়ত অবনীকে ছেড়ে যাচ্ছি বলে এমনটা লাগছে। গান শুনার উদ্দেশ্য নিয়ে পকেট থেকে ইয়ারফোন টা বের করলাম। কানে লাগিয়ে “মায়া” নাটকের দূরে দূরে গানটা শুনছিলাম। কিছুক্ষন পর কেন জানি ভালো লাগছিল না। তাই ইয়ারফোনটা কান থেকে খুলে ফেললাম। এত শখ করে আনলাম তবুও কেন জানি শুনতে ভালো লাগছেনা। কিছুক্ষন বাবা-মায়ের সাথে কথা বললাম ও বোনটির সাথে কথা বললাম। তবুও আমার মনের ভিতর একটা অজানা অস্থির ঝর বয়ে যাচ্ছে। আমার পাশে বৃদ্ধা লোকটির কারনে আমি অনেকটা বাবা-মায়ের থেকে আড়াল হয়ে আছি। তাই অবনীকে একটা ফোন করলাম। কল পড়তে দেরী বাট রিসিভ করতে দেরী করলনা।

— হ্যালো…অবনী..??
— হ্যা..বলো কোথায় আছো…???
— এখনো বাসেই আছি…হয়ত এখন ছাড়বে।
— ওওও…তো কেমন ফিল করছ…??
— জানিনা ভালো লাগছে না তোমায় ছেড়ে যেতে….
—আমার কি খুব ভালো লাগছে…যাও তবে তাড়াতাড়ি চলে এসো….
— হুম
—আচ্ছা এখন রাখি তাহলে…যোগাযোগ রেখো। আমিও কল দিব…আর হ্যা..গাড়িতে একদম ঘুমাবেনা।
—হুম
— আচ্ছা রাখি তাহলে বাবা বুঝি চলেই এলো..
—বাই

অবনীর সাথে কথা বলে কিছুটা ভালো লাগছে। পাগলী কি বলে..!! গাড়িতে না ঘুমিয়ে কি আমি সবার পকেট পাহাড়া দিব রাতের বেলা..এসব ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে গেলাম বুঝতেই পারিনি। তারপর বাবার ডাকে ঘুম ভেঙে গেলো।

—সোহরাব!! এই সোহরাব উঠ..গাড়ি এখানে ২০ মিনিট দাঁড়াবে। উঠে হাতমুখ দুয়ে ফ্রেশ হয়ে নে।
— বাবা আপনারা যান…আমি যাবোনা আমার ঘুম পাচ্ছে। নিভু নিভু চোখে দেখলাম গাড়ির যাত্রি সবাই প্রায় নেমে গেছে। শুধু মাত্র কয়েকজন বসে আছে
কয়েকজন ছাড়া সবাই হাল্কা পাতলা হতে চলে গেছে সাথে আমার পাশের বৃদ্ধা লোকটিও। আমি আবার ঘুমে ঢলে পরলাম। তারপর আবার একটা ঝাকুনিতে ঘুম থেকে জেগে গেলাম নিভু নিভু চোখে দেখলাম গাড়িটা আস্তে আস্তে চলতে শুরু করেছে। ধাবায় থাকার সময় শেষ এখন যাত্রিদের খুশি করার পাশাপাশি নিজের তেলের ডাব্বাও লোড করে নিয়েছে। আমার চোখে এখন রাজ্যের ঘুম। তবুও আমি দেখছি। আমাদের গাড়িটা এখন অল্প অল্প করে ধাবা থেকে কোনাকোনি ভাবে রাস্তায় উঠছে। এখন আমাদের গাড়িটা রাস্তায় উঠছে আর আমি নিভু নিভু চোখে দেখছি এই রাস্তায় ছুটে চলে আসা এক দ্রুতগামী বাস তার নিজস্ব সর্বোচ্ছ গতিতে আমাদের দিকে ছুটে আসছে। আমার চোখ নিভু নিভু। চোখ বন্ধ করলাম তারপর এক বিকট শব্দ। আমি চোখ খুললাম। দেখলাম আমি আমার আসনে বসে নেই আমি আমার আর বৃদ্ধার আসন জুরে পড়ে আছি আমাদের গাড়িটা পুরু লন্ডবন্ড হয়ে গেছে আমাদের গাড়িটা বেপরুয়া ভাবে রাস্তায় বীপরিত পাশে গাড়ি আছে কি না আছে তা না দেখে সোজা রাস্তায় উঠে গেছে। তাই অন্য গাড়ি এসে আমাদের গাড়ি সোজা ধাক্কা দিল। পুরু গাড়িটা কাচ দিয়ে ছেয়ে গেছে। জানালার কাচ গুলো একটাও আস্ত নেই। আমার ঘাড়টাকে গরম অনুভব করলাম। ধীরে ধীরে ক্রমশ আমার ঘাড় প্রচণ্ড গরম হয়ে গেল। আসলে মাথা থেকে বহমান রক্তপাতের কারনে এরকমটা লেগেছে। আমার মাথা ফেটে গেছে ইভেন মাথায় কাচ ডুকেছে। আমাদের সবার অবস্থা প্রায় এক। সবাই যে যেখানে বসে আছে সেখানেই বসে আছে নড়ার কোনো উপায় নেই। নড়লেই কাচের কারনে কেটে যাবে। আমি দেখলাম আমার পাশের বৃদ্ধা লোকটি দুই আসনের সারির মাঝের খালি হাটাচলা করার স্থানে পড়ে আছে। আমার বাবা আমার দিকে দ্রুত আসছে যেন আমাকে কোনো বাঘে কামরাচ্ছে আর উনি সাহায্যকারি হিসেবে আমাকে বাচাতে আসছে। তারপর আমি আমার চোখ খুললাম।

তারপর অনেকটা সময় হয়ত পরঃ

আমি আমার চোখ খুললাম
চোখ গুলো ব্যাথা করছে। হয়ত অনেকটা সময় পর খুলেছি বিধায়। দেখলাম আমি আমার গ্রামের বাড়িতে। তবে আমাদের বাড়িতে অনেক লোকের সমাগম। আমি বাড়ির ভিতরে ডুকলাম। ঢুকে দেখি সেখানে অনেক কান্নাকাটি। আর সেখানে একটি চাঙারিও আছে। আর সেখানে হয়ত একজন চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন।আমি পাশে গিয়ে দেখি আরেহ!! এটাতো আমি। ওখানে আমি শুয়ে আছি। আর আমার নাকটাকে সাদা তুলো দ্বারা আবদ্ধ করা হয়েছে। আর আমার লাশের পাশে একটি ছোট্ট মেয়ে বসে আছি। আর সেটা হচ্ছে আমার বোন। কথা হচ্ছে ওখানে আমি থাকলে এখানে আমিটাকে….? আমি সামনে গেলাম গিয়ে দেখি আমার বোনটি চোখ ফুলিয়ে রেখেছে। সে হয়ত এতক্ষনে বুঝতে পেরে গেছে যে এখানে কি হচ্ছে। তবে সঠিক ভাবে বলতে পারছেনা।
বোনরে!!! বোন!! ও বোন আমি যে তোকে খুব ভালোবাসিরে বোন!!! তুই বল আমি এখন কি করব। ওও বোন!!! আমি কেন তোকে ধরতে পারছিনা কেন আমি তোর সাথে কথা বলতে পারছিনা। বোন ও বোন!!! কেন আমি সারাটি জীবন তোর লক্ষি ভাইটি হয়ে থাকতে পারলামনা। এদিকে সবাই কান্নার রোলে ভাসিয়ে দিচ্ছেন কেও আমার বোনের এই অবুঝ আবেগের দৃশ্য দেখে। ওপাশে দেখি বাবাও মা বসে আছেন। তারা বার বার জ্ঞ্যান হারাচ্ছেন। আর আমার চাচা-আন্টি ও দাদা দাদুরা মিলে তাদের কে শান্তনা দিয়ে যাচ্ছেন। আমি মায়ের ও বাবার কাছে গেলাম। গিয়ে মায়ের আচল ধরে টান দিলাম। কিন্তু আমি মায়ের আচল ধরতে ব্যার্থ। আমি মাকে আমার কষ্টের কথা বলতে পারছিনা। মা মা!! ও মা!!!! আমার যে খুব কষ্ট হচ্ছে গো মা!! ও মা আমি কেনগো তোমার কোলে আর শুতে পারছিনা। বাবা ও বাবা!! তুমিতো অন্তত আমার সাথে কথা বল। বাবা কখনো তোমাকে বলা হয়নি যে বাবা বাবা!!! ওও বাবা বাবা!!! আমি যে তোমায় খুব ভালোবাসি বাবা। আমার দিকে তাকাও আমার সাথে কথা বল। কেওও আমার সাথে কথা বলেনা। কেও আমাকে দেখতেও পায়না।
[বিঃদ্রঃ কেনো কোনো মানুষ আমাকে দেখতে পারছেনা।] ওপাশে দেখি একটু দূরে একটা মেয়ে বসে আছে। তার চোখেও মুখে প্রচুর মাটি লেগে আছে। হয়ত মাটিতে গড়াগড়ি করেছে তাই তার সুন্দর মুখটিতে এভাবে বেমানান লাগছে। পাশের লোকজন বলাবলি করছিল মা নাকি আমার ফোন দিয়ে তাকে কল করে জানিয়ে দিয়েছিল। ব্যাস ছুটে চলে এসেছে। আমাদের সম্পর্কের কথা মা জানত তাই তিনি অবনীকে জানিয়ে দিয়েছে। আচ্ছা!!! যখন অবনী আমার মরার কথা শুনতে পেয়েছে তখন তার কি ফিলিং হয়েছিল..???? সে তো আমার মরার কথা শুনলেই ঘাবড়ে যেত আর আজ কিভাবে সহ্য করবে বেচারি। আমার খুব ইচ্ছা করছে অবনীকে বুকে নিয়ে তাকে বলি অবনী খুব ভালোবাসি তোমায় খুব। আমি যে আর তোমায় নিয়ে দেখা স্বপ্নে অগ্রসর হতে পারবোনা। কেনো আমি তোমায় নিয়ে সারাটি জীবন পার করতে পারিনি। কই সবাই তো তার ভালোবাসার মানুষকে নিয়ে বেচে থাকে আমি কেনো তোমাকে নিয়ে বেচে থাকতে পারিনি। বেচারি অবনী হয়ত খুব কেদেছে। সুন্দর হওয়ার কারনে তার চোখ ও গাল লাল হয়ে গেছে। হটাৎ অবনী চেয়ার থেকে মাটিতে পড়ে গেলো। সবাই ছুটে গেলো তার দিকে। সে মাটিতে পড়ে আর কোনো শব্দ করছেনা। অনেক ডাকল সবাই। কিন্তু সারা-শব্দ নেই।

হটাৎ খেয়াল করলাম আমাকে কেও পিছন থেকে ডাকছে। পিছু ফিরে দেখি আরেহ!!!! এতো অবনী!!! ও আমাকে দেখল কিভাবে।??????

—-অবনী তুমি…!!!!!
—- খুব ভালোবাসি যে তোমায়…….!!!

 

সম্পর্কিত পোস্ট

যদি পাশে থাকো

যদি পাশে থাকো

তাসফিয়া শারমিন ** আজকের সকালটা অন্য রকম। সাত সকালে আম্মু বকা দিলো। মানুষের ঘুম একটু দেরিতে ভাঙতেই পারে। তাই বলে এত রাগার কী আছে ?একেবারে যে দোষ আমারও তাও নয়। মানুষ ঘুম থেকে উঠে ফোনে বা দেওয়াল ঘড়িতে সময় দেখে। কিন্তু আমি উঠি জানালার পর্দা সরিয়ে বাইরের আলো দেখে।কে জানে...

কুড়িয়ে পাওয়া রত্ন

কুড়িয়ে পাওয়া রত্ন

অনন্যা অনু 'আমিনা বেগম' মেমোরিয়াল এতিমখানার গেট খুলে ভেতরে ঢুকতেই ওমরের বুকটা ধুক ধুক করতে শুরু করে। ওমর ধীর গতিতে ভেতরে প্রবেশ করে। চারদিকে তখন সবেমাত্র ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে। ওমর গত রাতের ফ্লাইটে আমেরিকা থেকে এসেছে। সে এসেই সোজা আমিনা বেগম মেমোরিয়াল এতিমখানায়...

দাদাভাইকে চিঠি

দাদাভাইকে চিঠি

প্রিয় দাদাভাই, শুরুতে তোকে শরতের শিউলি ফুলের নরম নরম ভালোবাসা। কেমন আছিস দাদাভাই? জানি তুই ভালো নেই, তবুও দাঁতগুলো বের করে বলবি ভালো আছি রে পাগলী! দাদাভাই তুই কেন মিথ্যা ভালো থাকার কথা লেখিস প্রতিবার চিঠিতে? তুই কি মনে করিস আমি তোর মিথ্যা হাসি বুঝি না? তুই ভুলে গেছিস,...

১০ Comments

  1. robiul hossain

    ভাল লেগেছে।

    Reply
    • মোঃ সোহরাব হাসান

      অসংখ্য ধন্যবাদ!!

      Reply
  2. Anamika Rimjhim

    ঈদ- ইদ*
    ব্যাস্ত-ব্যস্ত*
    ব্যাবস্থা-ব্যবস্থা*
    বীপরীত-বিপরীত*
    বেপরুয়া-বেপরোয়া*
    বৃদ্ধা লোক-বৃদ্ধ লোক*
    সর্বোচ্ছ-সর্বোচ্চ*
    লন্ডবন্ড-লন্ডভন্ড*
    কাউনটার -কাউন্টার*

    সহ আরও অনেক বানান ভুল! লেখার উন্নতি করতে হবে।কাহিণী ভাল ছিল।শুভ কামনা।

    Reply
    • মোঃ সোহরাব হাসান

      ভুল শুধরে দেওয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ

      Reply
  3. Md Alamgir

    হুম ভালো লিখেছেন। কিন্তু আরও ভালো হতে পারতো। নামকরণটাও ঠিকমতো মিলেনি। গল্পে ছেলেটি গাড়ির অ্যাক্সিডেন্টে মারা যাওয়ার ঘটনাটি ঠিকমতো না ফুটিয়ে হুট করে এমন উদ্ভট বর্ণনা দিয়ে দিলেন যেটা না হলেও পারতো। সুন্দরভাবে ছেলেটির মৃত্যুটাও উপস্থাপন করতেন আর আত্মা হয়ে পরিবারের পাশে ঘুরে বেড়ানোর ঘটনাটাও ফুটাতে পারতেন। বিষয়টা কেমন যেন হয়ে গেল।

    গল্পের শুরুতে একটি মেয়ের সাথে প্রেমের ঘটনা নিয়ে শুরু হলো। মাঝখানে ছেলেটি মারা গেল এবং শেষে মেয়েটিও মারা গেল। এই পুরো ব্যাপারটা আরও সুন্দর করে গুছিয়ে উপস্থাপন করলে মন্দ হতো না।

    আর বানানে এত বেশি ভুল হলে লেখা পড়তেই অনিহা চলে আসে।

    গেলো* গেল
    আকর্ষন* আকর্ষণ
    ব্যাবস্থা * ব্যবস্থা
    ব্যাস্ত* ব্যস্ত
    কাউনটারে* কাউন্টারে
    পৌছে * পৌঁছে
    শরিরে* শরীরে
    কারন* কারণ
    মুহুর্ত * মুহূর্ত
    আরোও * আরও
    কিভাবে * কীভাবে
    কিছুক্ষন* কিছুক্ষণ
    হাটবো* হাঁটবো
    অনেকক্ষন* অনেকক্ষণ
    আরো * আরও
    হয়ত* হয়তো
    উঠছেনা* উঠছে না
    ততক্ষনে* ততক্ষণে
    অবস্তা* অবস্থা
    হটাৎ* হঠাৎ
    রুপ* রূপ
    রইলনা* রইল না
    পুরন * পুরণ
    হ্যা* হ্যাঁ
    ছাড়ছেনা* ছাড়ছে না
    কেদেই* কেঁদেই
    কাদছে * কাঁদছে
    পুরু* পুরো
    পারবোনা* পারবো না
    হেলো * হ্যালো
    দেরী * দেরি
    লন্ডবন্ড* লন্ডভন্ড
    সর্বোচ্ছ * সর্বোচ্চ
    বীপরীত* বিপরীত
    ব্যাথা* ব্যথা
    জ্ঞ্যান * জ্ঞান
    শান্তনা* সান্ত্বনা
    ব্যার্থ* ব্যর্থ
    কিভাবে* কীভাবে
    বেচে* বেঁচে

    Reply
    • মোঃ সোহরাব হাসান

      হয়ত ভালো হতে পারতো!!!
      তবে নিজ ভাবনা থেকে লিখে নিজের শেষ টুকু দেয়ার চেষ্টা করেছি। আশা করিনি খারাপ হবে

      Reply
  4. Jannatul Ferdousi

    ব্যাবস্থা, ব্যাস্ত→ ব্যবস্থা, ব্যস্ত।

    ব্যাস্ত হয়ে পরে→ এখানে পড়ে হবে।

    লবন→ ণ হবে
    পৌছে→ পৌঁছে
    কাউনটার→ কাউন্টার

    ইয়ারফোন টা→ ইয়ারফোনটা[টা শব্দের সাথে বসে]

    কিছুক্ষন→ ণ হবে।

    আমি অবাক হয়ে যায়→ যাই

    হাটা→ হাঁটা।
    অবস্তা→ অবস্থা।

    হটাৎ→ হঠাৎ

    শরির→ শরীর

    হেলো→ হ্যালো

    লক্ষী→ লক্ষ্মী
    ব্যাথা→ ব্যথা


    প্রচুর প্রচুর বানান ভুল।???? এত বানান ধরিয়ে দিতে যাওয়াও সময় সাপেক্ষ।
    গল্পে সাবলীলতা ফুটিয়ে তুলতে হবে। মনে হচ্ছে একবার লুতুপুতু গল্প পড়ছি আবার থেকে থেকেই কেমন একটা! তবে শেষে ট্র্যাজেডি দিয়েছেন। তা আগে থেকে আন্দাজ করতে পেরেছিলাম। আপনার জন্য পরামর্শ স্বরূপ বলতে পারি, পাঠ্যভাসটা আগে গড়ে তুলুন। দেখবেন একদিন সাবলীল বর্ণনা শিখে গেছেন। গল্পটা মনে হচ্ছে আনাড়ি হাতের লেখা এই যা!
    আগামীর জন্য শুভ কামনা।????

    Reply
  5. Jannatul Ferdousi

    ব্যাবস্থা, ব্যাস্ত→ ব্যবস্থা, ব্যস্ত।

    ব্যাস্ত হয়ে পরে→ এখানে পড়ে হবে।

    লবন→ ণ হবে
    পৌছে→ পৌঁছে
    কাউনটার→ কাউন্টার

    ইয়ারফোন টা→ ইয়ারফোনটা[টা শব্দের সাথে বসে]

    কিছুক্ষন→ ণ হবে।

    আমি অবাক হয়ে যায়→ যাই

    হাটা→ হাঁটা।
    অবস্তা→ অবস্থা।

    হটাৎ→ হঠাৎ

    শরির→ শরীর

    হেলো→ হ্যালো

    লক্ষী→ লক্ষ্মী
    ব্যাথা→ ব্যথা


    প্রচুর প্রচুর বানান ভুল।???? এত বানান ধরিয়ে দিতে যাওয়াও সময় সাপেক্ষ।
    গল্পে সাবলীলতা ফুটিয়ে তুলতে হবে। মনে হচ্ছে একবার লুতুপুতু গল্প পড়ছি আবার থেকে থেকেই কেমন একটা! তবে শেষে ট্র্যাজেডি দিয়েছেন। তা আগে থেকে আন্দাজ করতে পেরেছিলাম। আপনার জন্য পরামর্শ স্বরূপ বলতে পারি, পাঠ্যভাসটা আগে গড়ে তুলুন। দেখবেন একদিন সাবলীল বর্ণনা শিখে গেছেন। গল্পটা মনে হচ্ছে আনাড়ি হাতের লেখা এই যা!
    আগামীর জন্য শুভ কামনা।????

    Reply
  6. Learner

    লেখা ভালো ছিলো! কিন্তু এতো পরিমাণ বানান ভুল পাঠককে বিরক্ত করার জন্য যথেষ্ট। আরো একটি বিষয় ঘটনার ধারাবাহিকতা না থাকলে পাঠকের আকর্ষণ থাকেনা, হুটহাট দিক পরিবর্তন করার সময় পাঠককে চমকে না দিয়ে হতাস করেছেন। লেখার বানান, গল্পের ধারাবাহিকতা একটি সুন্দর গল্পের জন্য অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। গল্পের ধারাবাহিকতা না থাকলে ভালোগল্পও পড়তে খারাপ লাগে। আশাকরি পরবর্তীতে এইসব দিক খেয়াল রাখবেন। শুভকামনা ♥

    Reply
  7. Halima Tus Sadia

    গল্পটা কেমন যেনো হয়ে গেলো।ছেলেটা এক্মিডেন্টে মারা গেলো,কিভাবে মারা গেলো সেটা ও আর ও বর্ণনা করতে পারতেন।

    তারপর আবার মেয়েটা ও মারা গেলো।শেষের দিকে ট্রাজেডি।
    খারাপ লাগলো।

    বানানে প্রচুর ভুল

    শরিরে-শরীরে
    ব্যাস্ত–ব্যস্ত
    পৌছে-পৌঁছে
    শান্তনা–সান্ত্বনা
    হেলো–হ্যালো
    লন্ডবন্ড-লন্ডভন্ড
    অনেকক্ষন-অনেকক্ষণ
    ব্যাবস্থা–ব্যবস্থা
    কিছুক্ষন-কিছুক্ষণ
    পূরন–পূরণ
    কেদেই–কেঁদেই
    মুহুর্তে-মুহূর্তে
    কারন –কারণ
    হটাৎ–হঠাৎ
    সর্বোচ্ছ–সর্বোচ্চ
    জ্ঞ্যান–জ্ঞান
    বেপরুয়া-*বেপরোয়া
    দেরী–দেরি
    বীপরীত–বিপরীত
    রুপ–রূপ
    কাউনটার-কাউন্টার
    আকর্ষন-আকর্ষণ
    বেচে-বেঁচে

    অনেক ভুল বানানে

    বানানের প্রতি যত্নশীল হবেন।
    এতো বানান ভুল হলে গল্পের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যায়।পড়তে ভাল্লাগে না।
    আরও ভালো গল্প লিখবেন আশা রাখি।

    Reply

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *