বুনোহাঁসের গল্প
প্রকাশিত: জুলাই ২০, ২০১৮
লেখকঃ

 51 বার দেখা হয়েছে

এই লেখক এর আরও লেখা পড়ুনঃ

লেখা:  আরাফাত

ঝিঁঝিঁপোকা ক্লান্তিহীন ভাবে ডাক দিয়ে যাচ্ছে। আকাশ গোমড়া  মুখ করে আছে। যেকোনো সময়ই বিষাদ গুলোকে বৃষ্টি রূপে মাটিতে পাঠাবে। আমিও গুনগুন করে গান গেয়ে যাচ্ছি, হাতে নিকোটিন মোড়ানো কাগজটি নিজে নিজে জ্বলছে। অনেক সুন্দর একটি মুহূর্ত। শ্রদ্ধেয় মান্না দে’র গান, খুব জানতে ইচ্ছে করে, মনের অজান্তেই প্রিয় গান কানে বাজতে লাগলো। বিশেষ করে, এখনো কি রোজ সকাল হলে স্নানটি সেরে পূজার ছলে আমারই কথা ভাবো মনেমনে? রাতে পরিবেশ নিস্তব্ধ হলে ফুলের সুবাস ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পায় বেশ। মাতাল করে দেয়া ঘ্রাণ। এখন যদি পাশে বসে কেউ উপন্যাস পড়ে শোনাতো! না, আমার কোনো আক্ষেপ নেই। মানুষটি ঠিকই আছে, তবে উপন্যাস পড়ে শোনানোর উপায় নেই। তার কথা ভাবতেই বারান্দা থেকে চোখ গেলো বিছানার দিকে। সোডিয়াম লাইটের স্নিগ্ধ আলোতে তাকে অনেক মিষ্টি লাগছে । কি নিষ্পাপ চেহারা! দেখেই শতসহস্র মান ভুলে থাকা যায় কয়েক মুহূর্ত। কিন্তু এই মানুষটিকেই খুব অসহ্য লাগে। সময় আর অনুভূতিগুলো খুব স্বার্থপর। অসময়ে এসে অনুভূতি সাড়া দেয়। দিন শেষে এক বুক হতাশার নিশ্বাস ফেলা ছাড়া আর কিছুই করার নেই আমার। প্রতিদিন নিজেকে অভিযোজিত করতে গিয়ে ঠিক বে রসিক বুড়ো হয়ে যাচ্ছি। কবিতাগুলোর মাঝে এখন আর আগের মতো রস দিতে পারি না। গল্পের চরিত্র ঠিক করতেও ভয় লাগে। অবশ্য এই এক জায়গায়ই আমি চূড়ান্ত ভাবে সফল। নিজ ইচ্ছেমত যাকে ইচ্ছে টেনে নিই, যাকে ইচ্ছে ছুড়ে ফেলে দিই। বাস্তব জীবনে যা খুবই দুষ্কর। এই গল্প আর কবিতার প্রেমে পড়েই মেঘের সাথে আমার পরিণয়। ও হ্যাঁ, আমি নভ। নভ হাসান। সরকারি ব্যাংকে সেকেন্ড অফিসার পদে চাকুরী করি। আর মেঘ? আমার বিবাহিতা স্ত্রী। সাত বছরের দাম্পত্য জীবন আমাদের। মেয়েটি পাগলের মতো ভালোবাসতো আমায়, হয়তো এখনো বাসে।

ন’বছর আগের কথা…..

দুপুরের খাবার খেয়ে আমি বিশ্রাম নিচ্ছিলাম। আর ভাবছিলাম গল্পের কথা। ঠিক এমনই সময় দরজায় ঠুকঠুক শব্দ শুনলাম। উঠে যেতেই ডাকপিয়ন একটি চিঠি হাতে দিয়ে রেজিস্ট্রি বই এগিয়ে দিলো। সাক্ষর করে আপাতত তাকে বিদায় দিলাম। চিঠির বাম দিকে প্রেরকের ঠিকানা দেখেই আমার চোখ কপালে উঠে গেলো। বিশ্বাসই করতে পারছি না। শখের বশে উন্মাদ হয়ে আমার কাব্যগ্রন্থ ” শেষ বিকেলের গল্প” পাঠিয়েছিলাম বাংলা একাডেমী পুরস্কারের জন্য সাহিত্য বিভাগে। আর এই চিঠিটি এসেছে বাংলা একাডেমী থেকে। বাংলা একাডেমী’র সাহিত্য বিভাগে আমার কাব্যগ্রন্থটি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে। এখানে তার একটি স্বারক কপি আর আমন্ত্রণ পত্র। খুশির খবরটি প্রথমে মাকে গিয়ে দিলাম। আমার মা অশিক্ষিত। অতশত বুঝেন না, শুধু বুঝতে পেরেছেন তার ছেলের কবিতা পুরস্কৃত হবে এটা শুনেই আনন্দে কেঁদে দিলেন। আমিও কখন যে চিঠিটি বুকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছি খেয়াল নেই।
আমার প্রত্যাশা পূরণ হতে আর মাত্র কয়েক মুহূর্ত বাকি। কিন্তু আমি প্রচুর চিন্তিত কী পড়ে সেখানে যাবো। সবশেষে  সিদ্ধান্ত নিলাম গত ঈদে মামার দেয়া নীল পাঞ্জাবী পড়েই সেখানে যাবো। যেই ভাবা সেই কাজ। আমি বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গণে গিয়ে খুব অবাক হলাম। কি সুন্দর আয়োজন চারিদিকে কত মানুষ! নিজের অনাড়ম্বর জীবন নিয়ে প্রথমবারের মতো সেদিনই আফসোস হলো। খুব নগণ্য মনে হলো নিজেকে। আমার আনমনা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা দেখে একজন ভদ্রমহিলা, না ঠিক তা না। একজন মেয়ে ডেকে বললো আসন গ্রহণ করতে। খুব শীঘ্র অনুষ্ঠান শুরু হতে যাচ্ছে। আমাকে পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখকদের আসনে বসতে দেখে মেয়েটি অবাকই হলো। হয়তো ভাবছে এত সাধারণ, অল্পবয়সী ছেলে এখানে কেন বসলো। যাক ইতোমধ্যে অনুষ্ঠান শুরু হলো। যথাক্রমে আমন্ত্রিত অতিথীগণ বক্তব্য রাখলেন। সর্বশেষে বাংলা একাডেমী’র চেয়ারম্যান নির্বাচিত লেখদের নাম ঘোষণা করলেন। এবং পর্যায়ক্রমে সনদ আর ক্রেস্ট নিয়ে অনুষ্ঠান সাফল্যমণ্ডিত করার অনুরোধ জানালেন। ধীরেধীরে সবাই পুরস্কার গ্রহণ করলেন। আমি সবার শেষে মঞ্চে উঠে পুরস্কার গ্রহণ করলাম। অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়ার জন্য উঠে দাঁড়ালাম। কোত্থেকে মেয়েটি এসে যেচে পরিচয় দিলো তিনি বাংলা একাডেমী’র চেয়ারম্যানের সুযোগ্য একমাত্র কন্যা মেঘ আহমেদ। আমি নিয়ম রক্ষার্থে নিজের নাম টুকু বলে হাঁটা শুরু করলাম। ছোটবেলা থেকেই মেয়ে ঘেঁষা আমার কাছে খুব বিরক্তিকর।

কলেজে পড়ার সময় আরাফাত অনুশী নামক একটি মেয়ে খুব জ্বালাতন করতো। মেয়েটির হাত থেকে বাঁচতে আমি কতদিন অবলার মতো কেঁদেছি! মনে পড়লেই এখন লজ্জা পাই। উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে আমি স্বপ্নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইবিএ তে পড়ার সুযোগ পেয়ে যাই মহান আল্লাহতালা’র কৃপায়। এরপরে আর অনুশীর খোঁজ ছিলোনা। প্রায় পাঁচ বছর পর, আমার কলেজ সহপাঠী আরহাম কে জিজ্ঞেস করতে জানতে পারলাম অনুশী মারা গেছে। খবরটি শুনেই আমি চরমভাবে মর্মাহত!
মেয়েটি দুই বছর ব্লাড ক্যান্সারে ভুগে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে পরাজিত সৈনিকের মতো প্রকৃতির চিরায়ত রূপের ধারায় জীবন নদীর ওপাড়ে যাবার বৈঠাবিহীন পাল তোলা খেয়ায় উঠে গেলো!
শেষ যে দুইমাস হাসপাতালে ছিল, জ্ঞান ফিরলেই আমার কথা জিজ্ঞেস করতো। একবার, শুধুমাত্র একটিবার আমাকে দেখার জন্যে আকুল হয়ে থাকতো সে। তার পরিবার আর বন্ধুবান্ধব আমার কত খোঁজ করেছে। অবশেষে যখন আরহাম আমার খোঁজ পেলো তখন কান্না মাখা মুখে কথা গুলো বলে যাওয়া ছাড়া আর কোন পথ ছিলোনা।
দুগাল বেয়ে লবণাক্ত পানি গড়িয়ে পড়লো।  জীবিত থাকাকালে আমাকে আর দেখা হলো না অনুশীর। এরপরে অবশ্য একবার তাদের গ্রামে গিয়ে অনুশীর কবর জিয়ারত করে এসেছিলাম। মেয়েটির মতো সুন্দর সাজানো গোছানো ছিল তার শেষ ঠিকানা।

কথা গুলো ভাবতে ভাবতে বাসায় এসে পৌঁছালাম। কিন্তু মেঘ আমার পিছু ছাড়েননি। একেবারে শ্রাবণের বৃষ্টি রূপে আমার অস্তিত্বে নেমে পড়লো। তিনদিন পর আমি টিউশনি থেকে এসে দেখি মেয়েটি মায়ের সাথে গল্প করতে ব্যস্ত। বহুদিন পর মায়ের হাসিমুখ দেখে নিজের কাছে ভালো লাগলো। তাই ওদের বিরক্ত না করে আমি রুমে চলে আসলাম। কিছুক্ষণ পরে মেঘ আমার রুমে আসলো। সাথে এক কাপ চা। দেখলাম মেয়েটি মিটিমিটি হাসছে। আমি কোন কথা না বলে চায়ের কাপটি হাতে নিয়ে সামনে থাকা বইয়ের দিকে নজর দিলাম। মেঘ হনহনিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো। রাগ করেছে বোধহয়। করলেও বা আমার কী?
এরপর থেকে প্রায় নিয়মিত আমাদের বাসায় আসতো মেঘ। কখনো মায়ের সাথে কথা বলার ছলে কখনওবা আমার নতুন লেখা পড়বে বলে। অবশ্য আমার তাতে আপত্তি ছিলোনা। একজন ভালো পাঠক পেয়ে বেশ অনুপ্রেরণাও পেলাম। আমার প্রথম একক গল্পগ্রন্থ, “বুনোহাঁসের গল্প” প্রকাশ করার পুরো কৃতিত্ব মেঘের। ধীরেসুস্থে আমিও চারদিকে নতুন লেখক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলাম। এতদিনে বুঝতে পারলাম সে আমার প্রতি কিছুটা দুর্বল। কথা বলার ভেতর আমাকে গিফট দেয়ার মাঝে বিভিন্ন ইঙ্গিত দিতো সে আমাকে ভালোবাসে। আমি বুঝেও না বুঝবার ভান করতাম। বরাবরেষু আমি নিরব ছিলাম। তবে তাকে যে ভালোবাসতাম না সেটা কিন্তু মিথ্যে। ভয় হতো বিচ্ছেদের। তাই নিজের সুপ্ত ভালোবাসা হৃদয়ের গহীনেই আগলে রেখেছিলাম। প্রকাশ করিনি।
ব্যাংকে চাকুরী পাওয়ার দুমাস পরে মেঘকে অবাক করে দিয়ে মাকে তাদের বাসায় পাঠালাম বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে। উনারাও রাজী হয়ে গেলেন। উভয় পরিবার আর আমাদের দুজনের সম্মতিতে বিয়ে সম্পন্ন হলো। বাসর ঘরে ঢুকবার সাথেসাথেই সালাম করে আমাকে জড়িয়ে ধরে মেঘের কান্না, ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। মেয়েটি নিজের পরিবার ছেড়ে আসার সময়ও এতটা কাঁদেনি। আমিও কান্না থামানোর বৃথা চেষ্টা করিনি। এ কান্না যে কষ্টের নয়, প্রাপ্তি, ভালোবাসা আর পরম শ্রদ্ধার। মেঘের পুরো জীবনটাই হয়ে গেলাম আমি। ঠিক যেমন আকাশের বুকে স্বাধীন মেঘমালা উড়ে বেড়ায় ইচ্ছেমত।
এর মাঝে বিবাহিত জীবনের সাত বছর কেটে গেলো টেরই পেলাম না!

আরেকটি সিগারেট জ্বালিয়ে কিছুক্ষণ সস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বিছানায় এলাম। তখন রাত তিনটে। সকালে আবার অফিস। মেঘের শরীর খারাপ। আমাদের রাজকুমারী বেড়ে উঠছে তার উদরে। দুনিয়ার আলো দেখার সময়ও হয়ে এসেছে। চোখ না লাগতেই পাশে শুয়ে থাকা মানুষটির গোঙরানির শব্দ পেলাম। হয়তো ভয়ে আমাকে জাগাচ্ছে না। লাইটের সুইচ দিতেই আমি থমকে দাঁড়ালাম। এসি চলা সত্ত্বেও মেঘ ঘেমে ভিজে গেছে। মাথার কাছে গিয়ে বসলাম। আমার হাত দুটো শক্ত করে ধরে বললো, ওগো আমাকে হাসপাতালে নিয়ে চলো। আমি বুঝতে পারলাম তাই দেরী না করে এম্বুলেন্স খবর দিলাম। মেঘকে যখন ইমার্জেন্সী রুমে ঢোকানো হচ্ছে তখন ঠিক সাড়ে পাঁচটা। কিছুক্ষণ পর ডাক্তার পরীক্ষানিরীক্ষা করে আমাকে অনুরোধ করলেন আল্লাহ্‌ কে ডাকতে। বাবুর অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন। এ অবস্থায় আমি সম্পূর্ণ একা। ভেঙে  না পড়ে ডাক্তার সাহেবকে অভয় দিলাম। যা ভালো হয় তাই করতে বললাম। এ মুহূর্তে মাকে মনে পড়ছে। আজ যদি বেঁচে থাকতেন! এগারোটার সময় এসে জানালেন,
ডাক্তার সাহেব শত চেষ্টা করেও বাবুকে বাঁচাতে পারলেন না। তবে মেঘ ভালো আছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রলয়ে উথালপাতাল আমার অন্তর। মেঘকে সান্ত্বনা দেয়ার মতো ভাষা আমার জানা ছিলোনা।
মেয়েটি আজ দ্বিতীয়বার ধরে খুব কান্না করলো সেদিনের মতো।

দুই বছর পরে এমনই এক কাক ডাকা ভোর বেলায় ডাক্তার সাহেব আমাকে দুঃখিত বলেন নি। আমার জীবনের বহুল আকাঙ্ক্ষিত এবং সবচেয়ে প্রিয় শব্দ অভিনন্দন বললেন। মহান আল্লাহ’র রহমতে জমজ সন্তানের মা-বাবা হয়েছি আমি আর মেঘ। ছেলেটির নাম রাখলাম আব্রার আহমেদ আর মেয়েটির নাম রাখলাম আরশী হাসান। ছোট্ট ছোট্ট হাত-পা ছুড়ে ছেলেমেয়ে দুটো আমাদের কথার জবাব দেয়।

সম্পর্কিত পোস্ট

যদি পাশে থাকো

যদি পাশে থাকো

তাসফিয়া শারমিন ** আজকের সকালটা অন্য রকম। সাত সকালে আম্মু বকা দিলো। মানুষের ঘুম একটু দেরিতে ভাঙতেই পারে। তাই বলে এত রাগার কী আছে ?একেবারে যে দোষ আমারও তাও নয়। মানুষ ঘুম থেকে উঠে ফোনে বা দেওয়াল ঘড়িতে সময় দেখে। কিন্তু আমি উঠি জানালার পর্দা সরিয়ে বাইরের আলো দেখে।কে জানে...

কুড়িয়ে পাওয়া রত্ন

কুড়িয়ে পাওয়া রত্ন

অনন্যা অনু 'আমিনা বেগম' মেমোরিয়াল এতিমখানার গেট খুলে ভেতরে ঢুকতেই ওমরের বুকটা ধুক ধুক করতে শুরু করে। ওমর ধীর গতিতে ভেতরে প্রবেশ করে। চারদিকে তখন সবেমাত্র ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে। ওমর গত রাতের ফ্লাইটে আমেরিকা থেকে এসেছে। সে এসেই সোজা আমিনা বেগম মেমোরিয়াল এতিমখানায়...

দাদাভাইকে চিঠি

দাদাভাইকে চিঠি

প্রিয় দাদাভাই, শুরুতে তোকে শরতের শিউলি ফুলের নরম নরম ভালোবাসা। কেমন আছিস দাদাভাই? জানি তুই ভালো নেই, তবুও দাঁতগুলো বের করে বলবি ভালো আছি রে পাগলী! দাদাভাই তুই কেন মিথ্যা ভালো থাকার কথা লেখিস প্রতিবার চিঠিতে? তুই কি মনে করিস আমি তোর মিথ্যা হাসি বুঝি না? তুই ভুলে গেছিস,...

৫ Comments

  1. Anamika Rimjhim

    সস্তি-স্বস্তি*
    আর পুরুষের ক্ষেত্রে “অবলা” শব্দটি ব্যবহার করা যায় না।এটা ভুল।
    আর সত্যি বলতে গল্পে কোন সৃজনশীলতা পেলাম না।পাঠককে গল্পের শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে লেখায় আর একটু ঘটনা আনতে হবে। তবে সিম্পল সুন্দর গল্প হয়েছে। সুখ সমাপ্তি গল্প আমি পারসোনালি পছন্দ করি।শুভ কামনা ভাইয়া।

    Reply
  2. Learner

    গল্পের মধ্যে টেনে নেয়ার মতো যে একটা চুম্বকীয় শক্তি লেখকের কলমে থাকতে হয় তার খুব একটা আভাষ পাইনি বলতে গেলে জোর করে পড়েছি, পর পর শব্দের ব্যবহারে আরো দৃষ্টি দিতে হবে লেখায় খুব একটা সুন্দর্য নেই। বাক্যের কথাগুলো শব্দের ব্যবহার এর কারনে সেভাবে পাঠককে আকৃষ্ট করতে পারেনি,, প্রথম বাক্যেই ” ডাক দিয়ে যাচ্ছে। ” কথাটা “ডেকেই চলছে” বা “ডেকেই যাচ্ছে” হলে বাক্যটা পড়তে আরো ভালো লাগতো। শুভকামনা ♥

    Reply
  3. Jannatul Ferdousi

    ছুড়ে→ ছুঁড়ে

    সাক্ষর → স্বাক্ষর

    পুরস্কৃত হবে → তারপর একটা কমা দেওয়া লাগত। নয়ত বাক্যটি কেমন জানি লাগছে!

    কী পড়ে সেখানে যাব→ পরে( পরিধান অর্থে)

    কি আয়োজন চারিদিকে কত মানুষ! → এখানেও সেই একই কথা। চারিদিকে লেখার পর একটা যতিচিহ্ন দরকার।

    এখন লজ্জা পাই→ পায়

    খবরটি শুনেই আমি চরম মর্মাহত→ মর্মাহত হই/ হলাম এমন কিছু যোগ দিলে বাক্যটি পরিপূর্ণ লাগে।

    দুগাল→ দু’গাল

    সস্তির→ স্বস্তির

    দ্বিতীয়বার ধরে কান্না করলো→ আমাকে ধরে কান্না লিখলে ভালো লাগতো বাক্যটা। তাহলে সামঞ্জস্য থাকত।

    ….
    লেখকের লেখার হাত চমৎকার। এই গল্পে অসাধারণ শব্দবুননের পারদর্শীততা দেখিয়েছেন তিনি। কিন্তু সমস্যা হলো, গল্পটি অতি দ্রুত স্কিপ করে গেছেন। মনে হচ্ছিল ঘটনাটুকু আরেকটু থেমে থেমে নিয়ে যেতে হতো। তাছাড়া গল্পটা মনে করেছিলাম মেঘ মারা গেছে। কিন্তু পরে দেখি জীবিতই আছে। আচ্ছা, স্ত্রী প্রেগন্যান্ট অবস্থায় আছে, কিন্তু উপরের উপস্থাপন কবি, লেখক এসব নিয়ে…
    একটা সিকুয়েন্স মেইন্টেইন করতে হতো।
    তবে বলবা না যে গল্পটা খারাপ হয়েছে। এক কথায় আমি শব্দশৈলী দেখে মুগ্ধ হয়েছি।
    আপনার হাত অনেক ভালো। আশা করি ভবিষ্যতে অনেকদূর এগিয়ে যাবেন।
    শুভ কামনা।

    Reply
  4. Halima Tus Sadia

    ভালোই লিখেছেন।

    রোমান্টিক বটে।তবে শেষের দিকে খারাপ লাগলো।যদি ও আবার দুই সন্তানের মা হতে পেরেছে। তবু ও মেয়েদের প্রথম সন্তানের খবরটা পেলে অনেক খুশি হয়।
    প্রথমবার মা হতে চলেছে খুশিতে আত্মহারা হয়ে যায়।
    সবসময় চায় ভালো থাকতে।

    নভ আর মেঘের ভালোবাসায় কোন ত্রুটি ছিলো না। সংসারটা ছিলো ভালোবাসায় পরিপূর্ণ

    বানানে কিছু ভুল আছে।

    দুমাস-দু’মাস

    দুগাল-দু’গাল

    দেরী-দেরি

    সাক্ষর-স্বাক্ষর

    শীঘ্র-শীঘ্রই

    সস্তির-স্বস্তির

    এসেযেচে–(এইটা বুঝলামনা?)

    বে রসিক-(বেরসিক এভাবে হবে হয়তো)

    শোনাতো! না—এখানে বিস্ময়সূচক চিহ্ন হবে না।আর না আগে হবে।

    লেখার হাত ভালো।এগিয়ে যান।

    শুভ কামনা রইলো।

    Reply
  5. Pranto

    Kharap hoy nai.. Motamuti porar moto… Shuvokamona bondhuu…

    Reply

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *