বড়বাবুর নিঁখোজ সমাধান
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারী ২১, ২০১৮
লেখকঃ vickycherry05

 115 বার দেখা হয়েছে

এই লেখক এর আরও লেখা পড়ুনঃ vickycherry05

লেখকঃ
Robin Mohanto
(ফেব্রুয়ারী’১৮)
……………

টানা দশদিনের কর্মব্যস্ততা শেষে আজ চায়ের কাপটা নিয়ে বসার সুযোগ পেয়েছি। কয়েকদিন কাজের চাপে আয়েশ কেন প্রয়োজনীয় ঘুমটাও ঠিকমত হয় নি। অফিসে ফাইলে পাহাড় শেষ করে আজ চায়ের কাপটা নিয়ে বসার সুযোগ পেয়েছি। ক্লান্তিময় সময়টা পার করে চায়ের কাপে চুমুক দিতে ভালোই লাগছে। অনেকদিন পর কোনো কিছু জুট করে শুরু করলে সেটা বেশ ভালো, তাই তো আজ চিরচেনা চা টাও কতটা শান্তি দিচ্ছে। সূর্যাস্তটাকে আজ নতুন করে দেখছি। তবে চারপাশের পরিবেশটা এক্কেবারে চেনা তাই একটু একঘেয়ামি লাগছে ভালো লাগার যেন কিছু নেই, এই ইট পাথরের শহরে ভাল লাগার আর থাকবেই বাকি? অবসাদটা কাটানো দরকার। কোথায় যাওয়া যায় সেটা নিয়ে ভাবতেই অনিমেষ উপস্থিত। অনিমেষ আমার কলিগ এবং বিকেলের চা আড্ডার পার্টনার। সামনে দাঁড়িয়েই রয়েছে। কোনো কিছু বলার আগেই বলল কি এত চিন্তা করছিস?
-চিন্তা করছিলাম বুঝি?
-তা নয়ত কি? কতক্ষন দাঁড়িয়ে আছি দেখেছিস?
-ওহ্ আচ্ছা বস।
অনিমেষকে চায়ের কাপটা এগিয়ে দিয়ে ভাবতে থাকলাম। এবং অনিমেষকে বললাম
-বুঝলে বন্ধু অনেকদিন পর মুক্তি পেলাম। ভাবছি ছুটিটা বাইরে কোথাও কাটাই। একবারে শহুরে কোলাহল থেকে বাইরে।
-আমার গ্রামের বাড়িটা কেমন হয়?
মনে মনে ভাবতে থাকলাম। এতো মেঘ না চাইতেই জল। জায়গাটাও মনের মত আবার থাকা খাওয়ার ঝামেলা হবে না। ভদ্রতা রক্ষার খাতিরে বললাম
-না রে ভাই, শুধু শুধু তোমার বাড়ির লোককে কেন জ্বালাবো?
-আরে না, আমার বাড়িটা তো ফাকাই পড়ে থাকে। আমি তো বছরেও একবার যেতে পারি না। দাদু থাকতো সেও অনেকদিন নিঁখোজ। অনেক খোঁজার পরও তাকে পাওয়া যায় নি। ভেবে দেখ যদি যাস আমি মংলাকে বলে দিই।
-আচ্ছা আমি জানাবো নি।

পরের সপ্তাহে যাওয়ার দিন ঠিক হলো। সকালবেলা বেরিয়ে পড়লাম। প্রথমে ট্রেন তারপর দুই দফা বাস এবং সর্বশেষে রিক্সাযোগে গ্রামে পৌঁছালাম। যা ভেবেছিলাম এই গ্রাম তার চাইতেও বেশি নিরিবিলি। মনে হচ্ছিল তিনশ বছর পিছনে ফিরে গেছি। রিক্সা এমন জায়গায় নামায়ে দিল সেখান থেকে আরো অর্ধ কিলোমিটার হাটলে সেই বাড়ি। মাঝখানে একটা জঙ্গল পড়ল। জঙ্গল পেরিয়েই চোখে ঝলক লাগল। এই জায়গায় এই বিশাল অট্টালিকাটা হয় কিভাবে? এমন বিলাসবহুল বাড়ী শহরেও খুব কম দেখেছি । দোতলা সাদা বাড়ীটি থেকে চোখ ফেরানোর শক্তি নেই কারো। পাশে সুউচ্চ একটি গম্বুজ। অনিমেশরা বেশ সৌখিন। বাড়ির রংটাও সবার মত নয়, একটু আলাদা। বাড়ির চারপাশে ফুলের বাগান। সাইডে কিছু ওষুধি গাছ। আমাকে দেখে মংলা ছুটে আসল। মুখ ভর্তি খোচা খোচা দাঁড়ি তার। চোখটা দেখে মনে হচ্ছে যেন রক্ত ঝরছে। একপ্রকার খুনি খুনি চেহারা। কিন্তু ব্যবহার দেখে আমার ধারনা ভাঙল। খুব নম্রভাবে বলল ব্যাগটা দিন। এবং আমাকে পথ দেখিয়ে ভিতরে আনল। ভিতরে ঢুকতেই নজরে পড়ল বেশ সুন্দর পেইন্টিং। এরকম পেইন্টিং আগে কোথাও দেখি নি। পেইন্টিং গুলোর দিকে তাকালেই যেন কোনো এক অজানা শক্তি টেনে ধরে। অবাক হলাম এটা জেনে যে এগুলো নাকি তারই আকানো। পুরো বাড়িতে অনেক গুলো পেইন্টিং দেখলাম। থাকার ঘরের জন্য সে আমাকে নিচের সিঁড়ির পাশের একটা রুম দিল। কিন্তু আমি বললাম না দোতলায় বাম দিকের রুমটায় থাকব। বামপাশের রুম শুনেই সে এক প্রকার ঘাবড়ে গিয়ে চোখ গরম করে বলল, না ওটা বড় বাবুর ঘর ওখানে কাউকে থাকতে দিব না। তার ঘাবড়ে যাওয়াটা অস্বাভাবিক লাগল তাই জোড় করেই সেই রুমে গেলাম। দরজা খুলতেই একটা বিদঘুটে গন্ধ আসল। ঘরের ভিতরে সবকিছু অগোছালো। বাম কোনায় চেয়ারটি উল্টোভাবে পড়ে রয়েছে। ফুটরেস্টের উপর ময়লার বিশাল স্তর পড়েছে । মেঝেতে কিছু বই ছড়িয়ে রয়েছে। বড় বাবু এখানে বসে হয়ত বই পড়ত। খাটটা একটু ঝেরে নিয়ে শুয়ে পড়লাম। মংলা মশাই চা নিয়ে হাজির। মুখে ভয়ের ছাপ, এদিক ওদিক অদ্ভুতভাবে তাকাতাকি করছে। মংলার এই আচরনটা অস্বাভাবিক লাগছে। চা দিয়েই পিছনে সরে গিয়ে দাড়ালো।
ধমক দিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম এত গন্ধ কিসের?
অপ্রস্তুতভাবে বলল, কিসের আমি কিভাবে বলব। অনেকদিন আলো বাতাস প্রবেশ করে নি তাই হয়ত।
দুপুরের খাওয়া শেষে রুমটা পরিষ্কার করতে বলে, সিগারেট নিতে বের হলাম। বাড়ি থেকে একটু দূরেই একটি ছোট চায়ের দোকান। দোকান বয়স্কদের বেশ আড্ডা জমেছে। চায়ের ফাকে ফাকে নিজেদের মত গলা বাজাচ্ছে। দোকানের কাছে যেতেই শুনতে পেলাম আলোচনার বিষয়, বড়বাবু নিঁখোজ হওয়া। আলোচনা শুনে বুঝলাম, বড়বাবু হারিয়ে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই, তিনি একলা মানুষ। বাড়ি থেকে বেরই হন না ।
একজন আমাকে দেখতে পেয়ে বলল
– কে আপনি?
– চিনবেন না, এখানে বেড়াতে এসেছি। ঐ বড় বাড়িতে কয়েকদিন থাকব।
-বড় বাড়িতে বেড়াতে এসেছেন মানে? ছোটবাবুই তো নেই। আর বড়বাবু তো অনেকদিন থেকে নিঁখোজ।
-আমি ওনার বন্ধু। উনি আসবেন কয়েকদিন পরে।
ওদের মধ্যে কয়েকজন মংলাকে নিয়ে কিছু অদ্ভুত কথা বলল। তাদের হিসেবে মংলার মানসিক সমস্যা রয়েছে। মংলা একটা পাগল। তার থেকে যেন সাবধানে থাকি।
কথা না বাড়িয়ে সিগারেট কিনে সেখান থেকে চলে আসলাম। সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরলাম। সন্ধ্যার হালকা আলোতে মংলার পেইন্ট গুলোকে জীবিত জীবিত লাগছে। মনে হচ্ছে সেগুলোর প্রান রয়েছে। লাল রং গুলোকে কালো দেখাচ্ছে মনে হচ্ছে যেন রক্ত দিয়ে আকানো ।

বেলকনিতে বসে সিগারেট ফুকছি। মংলা বাবু নাস্তা নিয়ে হাজির। মংলা বাবুকে বললাম,আঁকাআঁকি তো ভালোই করেন।
– করি একটু।
একটু মজা করে বললাম, কিসের রক্তে আঁকেন?
উনি কেন জানি ভয় পেয়ে হাত ঘষতে থাকলেন। এই সুযোগে আর একটু চাপ দিয়ে বললাম মানুষের রক্ত নয় তো?
উনি সেখান থেকে চলে গেলেন।
রাতের খাবার শেষ করে শুয়ে পড়লাম। শুয়ে শুয়ে বইয়ের পাতা উল্টাচ্ছি। শুনশান নিরবতায় বই পড়ার একটা আলাদা অনুভুতি হচ্ছে। কিছুক্ষন পরেই গোঙানির আওয়াজে সেই নিস্তব্ধতা কেটে গেল। একটু ভয় পেয়ে গেলাম। গোঙানির আওয়াজটা স্পষ্ট না হওয়ায় ভয় পেয়ে গেলাম। একটু পরেই উপলব্ধি করলাম আওয়াজটা খাটের নিচ থেকে আসছে।
খাটের নিচে তাকানোর সাহস হলো না। তবুও জোড় করে তাকিয়ে দেখলাম মৃত প্রায় বড়বাবু। দুই গাল বসে গেছে চোখ গুলো অস্থি কোটরে। চামড়াগুলো ঝুলছে। দেখে জীবিত কংকাল মনে হচ্ছে। টেনে বের করলাম বড়বাবুকে। ব্যাথায় কাহিল বড় বাবুর শরীরে হাত দেওয়া যাচ্ছিল না। সারা শরীর কাটা এবং ফুটো ফুটো দাগ। ফুটো গুলো দেখে মনে হচ্ছে কিছু দিয়ে খোচানো হয়েছে।
মংলাকে ডাকতে যেতেই সে ঘরে প্রবেশ করল। চোখগুলো আগুনের মত করে বড়বাবুর দিকে তাকালো। বড়বাবুকে পেয়েছি এটা তার ভালো লাগল না। মুখ দিয়ে অদ্ভুত শব্দ বের করতে থাকল আর অদ্ভুত আচরন করতে থাকল।
বলতে থাকল রক্ত দরকার, আকার জন্য রক্ত দরকার।
এটাই তাহলে মংলার রক্তের শিল্প। তার এই পাগলামির শিকার তার মালিকেই হতে হয়েছিল।
পুলিশকে খবর দেওয়া হলো বড়বাবুকে হাসপাতালে নেওয়া হলো। কয়েক মাস পিশাচ রক্ত চুষেছে সেটা পূরন করতে হবে।
আর মংলা?? তার স্থান হবে মানসিক হাসপাতালে…………

সম্পর্কিত পোস্ট

অঘোষিত মায়া

অঘোষিত মায়া

বইয়ের প্রিভিউ ,, বই : অঘোষিত মায়া লেখক :মাহবুবা শাওলীন স্বপ্নিল . ১.প্রিয়জনের মায়ায় আটকানোর ক্ষমতা সবার থাকে না। ২.মানুষ কখনো প্রয়োজনীয় কথা অন্যদের জানাতে ভুল করে না। তবে অপ্রয়োজনীয় কথা মানুষ না জানাতে চাইলেও কীভাবে যেন কেউ না কেউ জেনে যায়। ৩. জগতে দুই ধরণের মানুষ...

আমার জামি

আমার জামি

জান্নাতুল না'ঈমা জীবনের খাতায় রোজ রোজ হাজারো গল্প জমা হয়। কিছু গল্প ব্যর্থতার,কিছু গল্প সফলতার। কিছু আনন্দের,কিছু বা হতাশার। গল্প যেমনই হোক,আমরা ইরেজার দিয়ে সেটা মুছে ফেলতে পারি না। চলার পথে ফ্ল্যাশব্যাক হয়। অতীতটা মুহূর্তেই জোনাই পরীর ডানার মতো জ্বলজ্বলিয়ে নাচতে...

ভাইয়া

ভাইয়া

ভাইয়া! আবেগের এক সিক্ত ছোঁয়া, ভালবাসার এক উদ্দীপনা, ভাইয়া! ভুলের মাঝে ভুল কে খোঁজা, আর ভালবাসার মাঝে ভাইকে খোঁজা, দুটোই এক কথা! ভুল তো ভুল ই তার মাঝে ভুল কে খোঁজা যেমন মূর্খতা বা বোকামি। ঠিক তেমনি ভালবাসার মাঝে ভাইকে খোজাও মূর্খতা! আমার কাছে ভাইয়া শব্দটাই ভালবাসার...

০ Comments

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *