বেকারী বিস্কুট
প্রকাশিত: জুলাই ৮, ২০১৮
লেখকঃ

 267 বার দেখা হয়েছে

এই লেখক এর আরও লেখা পড়ুনঃ

আদিত্য আবরার (জুুলাই,১৮)

১.
এমন সাদাটে সকাল সবাই কিন্তু উপভোগ করতে পারে না। অতিরিক্ত স্পীডে চলা গাড়ির জানালায় মুখ দিয়ে রাখলে অল্পতেই শিশির জমে, মুখে ঘামের মত গড়ায়, মাথায় ধুলো পড়ার মতো আর কাপড়ে দুষ্টুমি করে পানি ছিটিয়ে দেয়ার মতো অবস্থা। নূরুলের কিন্তু কিছুই হচ্ছে না।
একটু আঁধার থাকতে থাকতেই নিয়মিত বাসা থেকে বের হয়। প্রতিদিনকার রুটিন না হলেও সপ্তাহের অন্তত ছয়টা দিন তার একইভাবে কাটে। আজও তাই। এসময় ভোরের পাখিরা তাদের নিয়মিত ডাক কাউকে পৌছায় না। হয়তোবা ওদেরও ঘুমের সময়। এই আবছায়া অন্ধকারে নূরুল গাছের দিকে তাকায়, যদি কোনো পাখির চোখে চোখ পড়ে, নিজ বলয়ে তার উপস্থিতি জানান দিতে ভুলে না। তাহলে তো পূর্ণতা পাবে ‘সময়ের’ আকাঙ্ক্ষা, সুখ বাতাসও মিটমিটে হাসি হাসবে।
এগুলোর আদৌ কোনো প্রয়োজন ছিল? কারো মনে হবে কখনোই না! আবার কারো মনে চঞ্চল মানুষের মতো প্রশ্ন জাগবে, এটা কি কোনো রোমান্স করার জায়গা? আবার কেউ, “যার যা মনে চায় সে তা করবেই” করুক! এতে আমাদের মাথা ঘামানোর কোনো দরকার আছে?
নূরুল শেষ প্রকারের মানুষের দিকেই তাকায়। অস্থির, কিংবা হতাহত কোনো মানুষের নীরব চাহনির মতো! কেউ কেউ এসময়ে নামাজে যায়। ফজরের নামাজ। দিনের শুরুতে প্রভুকে জানান দেয়া যে, আমি তোমারই সৃষ্টি, আমার সবকিছুতেই তুমি বা এমন কিছু একটা। নূরুল নামাজ পড়ে না। বলতে গেলে পড়া হয় না। কখনো কাজের চাপ, আবার কখনো দিগ্বিদিক নানান কথা মাথায় বোঝার মতো চাপিয়ে সেটাকে সরাতে না পারার কারণে। কিন্তু এই প্রভুভক্ত মানুষদের খুব ভালো যানে নূরুল। এদের কথা খোদা শোনেন, এটাও বেশ ভালোভাবেই বিশ্বাস করেন। এজন্যই সেদিন এলাকার ইমাম সাহেবকে ডেকে খাওয়ালো, কিছু টাকাও ধরিয়ে দিয়েছিল নূরুল। “একটু দুয়া করেন” বলে বিদায় দিয়েছিল হুযুরকে।
রাস্তার কুকুরগুলোও কি নূরুলের সাথে শত্রুতামি শুরু করল? প্রতিদিন এসময় কিছু কুকুর গায়ের ময়লা ঝাড়ে – শরীরকে বার কয়েক ঝাকি দিয়ে। যেন এক ঝাঁকুনিতেই পরিষ্কার হয়ে যাবে পুরো লোমবিশিষ্ঠ চামড়া। কুত্তা ঘেউ ঘেউ করে, নূরুল গন্তব্যে হেঁটে চলে। পিছু পিছু কুকুরগুলো আসতে চায়, কিন্তু সুড়কির বড় বড় আস্তর তীরবেগে ছুটে কুকুরগুলোর গায়ে লাগায় থেমে যেতে হয় চতুষ্পদ জন্তুগুলোর। নূরুল নিজের মিল খোঁজার চেষ্টা করে, এই লাল সাদা কিংবা কালো সাদা কুকুরগুলোর সাথে কোথায় যেন মিল আছে নিজের। হাঁটার গতি কমার কথা হলেও ক্রমশ বেড়ে যায়। ভাবনার চাকাগুলো ক্ষণেক্ষণে ধারালো থেকে আরো তীক্ষ্ণত্ব হয়। জ্বলজ্বল করে ওঠে অলক্ষেই। রাতের নিস্তব্ধ সময়গুলোতে কুকুরগুলো খুঁজে নেয় নিজের নিরাপদ আবাসস্থল। কোনো দোকানের বারান্দা, কোনো বাড়ীর পাশের ময়লার স্তুপ আবার কখনো ধান মাড়িয়ে রাখা খেড়ের ভেতর গুটিসুটি হয়ে বসে থাকা; এত অল্পতেই যে ওরা কত খুশি, ক্যাও ক্যাও করে হায় তুলে চোঙের মতো মুখটাকে বুকের সাথে লেপ্টে নেয়ার দৃশ্যটা চোখে পড়লে ব্যাপারটা আরো খোলাসা হয়। অথচ নুরুল দিনের বেলায় এভাবে নিজের একটু বিশ্রামের কথা ভেবে কখনো কাঠেরপুলের বটগাছ, আবার কখনো ঘোড়ে শাহর মাজার আবার কখনো আম কাঠালহীন কোনো বাগানের পাতার স্তুপে চাইলেও ঘড়ির কাটাকে ঘুরতে দেয়নি। শুধু দিন কিংবা একটা রাতের পার্থক্য একটা কুকুর আর আরেকটা বুঝমান মানুষের ভেতর। এগুলো কোনো সলিউশন কিংবা দরকারি আলোচনাও না যে এমন অবান্তর উল্টাপাল্টা ভাবনা নিয়ে নূরুল বসে থাকবে। হাঁটার গতী আবার বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু রাস্তার কোনো কিনারা খুঁজে পাচ্ছে না কেন? কেমন যেন ভবঘুরে! নিজের গায়ে নিজেই একটা টুক্কা মারে। হালকা ব্যাথায় বুঝে যে সে যা করছে সব ঠিকঠাক ভাবেই করছে। কোনোরকম গোলমাল যে নেই সেটাও কনফার্ম। রাস্তায় কারেন্টের পিলারে লাগানো টিউব লাইটের সুইচ অফ করে আবার হাঁটা শুরু করে।
ততক্ষণে প্রভাত।
২.
তূর্য্য বেকারি। বাজারের সেরা বেকারিগুলোর মধ্য থেকে একটা বেকারি। বিশ তিরিশটা চায়ের দোকান, কয়েকটা ফাস্টফুড আর কিছু মুদি দোকানে মাল দেয় এই বেকারি। ভেড়ামারা থানার পেছনে ব্যাঙের ছাতার মতো হঠাৎ করে গড়ে উঠলেও প্রশিদ্ধির দিক থেকে মোটামুটি বেশ উপরে। ব্যাপারটা সবার নজরে পড়লেও সবাই দিব্বি খাচ্ছে। কোনো দ্বিমত কিংবা অরুচিকর কথাবার্তা এখনো কারো মুখে আসেনি। চায়ের দোকানের টুংটাং আওয়াজে সবাই একটা করে পাউরুটি খায়। কখনো বা লাল লাল ইট রঙের বিস্কিটও মুখে নেয় অনেকে। দাঁত পড়ে যাওয়া মানুষগুলো বেশ আয়েশ করে বসে। শীতের ঠাণ্ডা বিকেল সন্ধায় জড়ো হয় কিছু চা খোর মানুষ। সকালের ধোয়ার মতো উড়ে বেড়ানো কুয়াশার ভেতরেও জমা হয় কিছু গল্প পাগলা মানুষ। বেকারি সামগ্রি এভাবেই বেশ সুন্দরভাবেই গলধ হচ্ছে।
ঈশ্বরদীতেও যায় এখানকার কেক, বিস্কিট আর পাউরুটি। ভোরের আলো ফুটতে ফুটতে দু’একজন কর্মীকে পাঠানো হয় লালন শাহ ব্রিজের ওপারে। ওরা রাতের ঘুম ঘুমুতে যায় সন্ধ্যার আগমনী বার্তাতেই। বাড়ীর বউ বাচ্চাদের বকাঝকাকে উপেক্ষা করে এগুলো করতে হয়। করেও। এটাকে ফর্মালিটি বলে চালিয়ে দেয় অনেকেই। স্ত্রীর স্বামীদের প্রতি একটু অতিরিক্ত আগ্রহ দেখানোর মাত্রা বলেই চালিয়ে দেয়। ব্যাপারটা কিন্তু সহজ না। নূরুলের সাথের লোকটি তার বাড়ীর কথা বলে। সেলোমেশিনে চালিত ভুটভুটিতে করে তারা ব্রিজ পার হয়। টোল দেয়। এটাকে এরা টোল বলে না, “সরকারের খাবার” বলে। একথা বলার সময় কেউ সামান্য হাসে আবার কেউ আগের মতই বহাল থাকে।
রুপপুরের যে পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র হচ্ছে সেটার দিকে নূরুল বেশ আগ্রহ ভরে তাকায়। পাশে চালক তার এমন অমনোযোগীতে “মিয়া ভালো করে ধরেন, পড়ে গেলে বাঁচার আশা নাই কলাম”। নূরুল হঠাৎ সম্বিত ফিরে পেয়ে চালকের দিকে আর সামনের পিচ ঢালা রাস্তার দিকে তাকায়। দূর থেকে এ রাস্তাকে মনে হয় খুব মিহিন কিছু দিয়ে লেপে দেয়া। তেলতেলে একটা ভাব চোখে বাজে। কিন্তু যেখানে এমন দৃষ্টিভ্রম হয় সে জায়গাটা আসলেই খোসপাঁচড়ার মত ফুলে ফুলে ওঠা পাথরের কোণা দেখা যায়। আবার কখনো কখনো এলার্জির চুলকানিতে গোটা গোটা জায়গা জুড়ে যেমন উঁচু হয়ে যাওয়ার মতোও দেখা যায়।
নূরুল চুপচাপ মোড়ের পাশে ভুটভুটি থামিয়ে লিস্ট করা নামের দোকানগুলোতে মাল দেয়। ততক্ষণে চালক সিগারেট ফুঁকে বা ফোনে কথা বলে। তার এই ফোনে কথা বলার ধরণ দেখলে মনে হয় জগতের সব সুখ তার ভেতর এসে জমা হয়েছে। কোনো টেনশন ফ্রি লোকেরই হয়ত এমন হওয়া সম্ভব। এসব ভেবে একটা চায়ের দোকানে বসে। কড়া লিকারে রঙ চা দিতে বলে দোকানিকে। সামনে ঝোলানো পাউরুটির প্যাকেট গাছে ঝুলে থাকা কোনো ফলের মতো দুলতে থাকে। ডাকতে থাকে মনে মনে। কিংবা কামনা করে যে, দ্রুত কেউ আমাকে খেয়ে ফেলুক। কিংবা তার রুপে কেউ আটকা পড়ে যে কেউ তাকে খেয়ে ফেলুক। ব্যাপারটা মাথায় ধরে নূরুলের। সব দিক থেকে খেয়াল করলে বিষয়টা কেমন যেন খাওয়া খাওয়াই হচ্ছে। চুপচাপ থেকে পাশে থাকা টুলটার দিকে তাকায় নূরুল। সুন্দর প্লাস্টিক দিয়ে বানানো সেটা। কেউ তার উপর লোলুপ দৃষ্টি ফেললে সে বিক্রি হয়ে যায়। আবার ভালো লাগলেই চলে যায় কারো ভারি নিতম্বের তলে।
– রুটি কতো?
– আট ট্যাকা।
– দ্যান তো একটা!
ওদের হালকা কথাবার্তাতে আবার গিয়ে মনোযোগ পড়ে রুটির ওপর। ওদের জন্মস্থল কিংবা জন্মদানের মাধ্যম মনে করার চেষ্টা করে নূরুল। বমি বমি ভাব চলে আসে অল্পতেই। অর্ধেক চা রেখেই গাড়ীর কাছে ফেরে।
চলেন যায়!
হুম, চলেন।
বিল সব পাইছেন?
হ পাইছি, তাড়াতাড়ি চলেন বেলা পড়ে যাচ্ছে!
৩.
কাল থিক কাজে না আসলিও চলবিনি, আর তুমার বেতন নি গেলে নি যাও, বলে বেকারি মালিক নূরুলকে কিছু টাকা গুঁজে দিয়ে বাইরে চলে যায়।
এইযে রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে পাশে চলে যাওয়া কলেজের ফুলে ফেঁপে ওঠা মেয়েগুলো চলে যাচ্ছে, ওদের কোনো ভাবনা নেই। কোচিংয়ে যাচ্ছে সবাই। কেউ কেউ আঁড় চোখে একবার নূরুলকে দেখেও নিচ্ছে। নিজেকে অদ্ভুত রকমের কেউ বলে মনে হচ্ছে।
ক্যাশে বসে বসে বিস্কুটের প্যাকেট গুনতে গুনতে কারো আসার আওয়াজ শুনেছিল। জুতার সোল আর ফ্লোর বালির সংস্পর্শে হয়ত এমন হয়েছিল। তাকিয়ে দেখে মেঘলা। আরে মেঘলা তুমি, কেমন আছো? বলে চেয়ারটা এগিয়ে দেয় নূরুল। মেঘলা নূরুলের অনেক ছোট, তাই অল্পতেই তুমি তুমি শুরু হয়েছে। কী খাবে বলো, গরম বিস্কুট না কেক? একরকম ব্যাস্ত হয়ে পড়ে। মেঘলা উঠে গিয়ে টোস্ট বিস্কুট বানানোর জন্য রাখা পাউরুটির একটা পিছ এনে মুখে দেয়। একে একে সব উত্তর দিতে থাকে। নুরুলের আবার বমি আসে। মেঘলার হাত থেকে রুটিটা ঝট করে ফেলে দিয়ে ওয়াসরুমে যায়। হড়হড় করে ভেতর থেকে উঠে আসে সবকিছু।
আয়নার সামনে মুখে পানির ঝাপটা দিতে দিতে ভাবে, পাউরুটির জন্য আটাগুলো বেলার বা পেশার কোনো মেশিন ওদের বেকারিতে নেই। খালি গায়ে, লুঙ্গি কাছা মেরে দুইতিনজন ছেলে ঐ আটাকে পানি দিয়ে বেলতে থাকে। গরমে শরীর দিয়ে ঘাম ঝরে, হাত দিয়ে মুছে নাকের শ্লেষ্মা। এগুলো আজ বলবে মালিকের কাছে। সাথে একটা মেশিন কেনার কথাও বলবে।
ভ্রু কুঁচকে মুখ ভেঙচি দিয়ে বেরিয়ে গেল মেঘলা। মালিক খুব শান্তশিষ্ট অবস্থায় নূরুলকে আবার ক্যাশে বসতে বলে গেল।
সন্ধ্যা বেলায় যখন টাকা দিয়ে আর না আসার কথা বলছিল মালিক মির্জা সাহেব, তখন একবারও তাকাননি নূরুলের দিকে। ফণা তোলা সাপের মতো ঠান্ডা রক্তজবা চোখ দিয়ে একবার শুধু কাঁধে হাত রেখেছিলেন।
মাথায় একটু ব্যাথা ব্যাথা করছে কেন? আশপাশে কারো আওয়াজ সুস্পষ্ট। আম্মার কথায় বা এখন মনে হচ্ছে কেন! মাথায় হাত উঠিয়ে যে দেখবে জ্বরটর আসছে কি না, সেটাও পারছে না। আচ্ছা, আমি কি মরে গেছি না বেঁচে আছি? সেটাও তো বুঝতে পারছি না। হাতটা উরু পর্যন্ত এসে থেমে গেছে, ওখানেই একটা ছোট্ট চিমটি কাটে, ব্যাথা পায়, পিপড়া কামড় দেয়ার পরে যে ব্যাথা হয় তেমন কিংবা তার থেকে আরো কম। ডাক্তার এসে ইনজেকশন পুশ করছে। বলছে, খুব বেশি লাগেনি আপনার ছেলের মাথায়। একটু রডের বাড়ি। সেলায় দিয়েছি, সব ঠিক হয়ে যাবে।
আম্মার মৃদু কান্নার আওয়ার কানে ভাসে নুরুলের।
মির্জা সাহেবের “মেয়ের কোনো কথা আমি অপূর্ণ রাখতে পারি না” কথাটাও আবার কানে বেজে ওঠে। মেঘলার টোলপাড়া গালে হাসিমাখা মুখটাও ভেসে ওঠে আনমনেই।
রাস্তাতে হাঁটতে হাঁটতে অনেক অনেক সময় পেরিয়েছিল কি না, সন্ধ্যার রঙহীন পরিবেশও এসেছিল। চাকরি হারানোর কথা ভুলে কী সব আজেবাজে চিন্তা করতে করতেই ভাবনাই ছেদ পড়েছিল।
আচ্ছা, এটাকে কি কোনো জীবন বলা যায়?
সমাপ্ত

সম্পর্কিত পোস্ট

যদি পাশে থাকো

যদি পাশে থাকো

তাসফিয়া শারমিন ** আজকের সকালটা অন্য রকম। সাত সকালে আম্মু বকা দিলো। মানুষের ঘুম একটু দেরিতে ভাঙতেই পারে। তাই বলে এত রাগার কী আছে ?একেবারে যে দোষ আমারও তাও নয়। মানুষ ঘুম থেকে উঠে ফোনে বা দেওয়াল ঘড়িতে সময় দেখে। কিন্তু আমি উঠি জানালার পর্দা সরিয়ে বাইরের আলো দেখে।কে জানে...

কুড়িয়ে পাওয়া রত্ন

কুড়িয়ে পাওয়া রত্ন

অনন্যা অনু 'আমিনা বেগম' মেমোরিয়াল এতিমখানার গেট খুলে ভেতরে ঢুকতেই ওমরের বুকটা ধুক ধুক করতে শুরু করে। ওমর ধীর গতিতে ভেতরে প্রবেশ করে। চারদিকে তখন সবেমাত্র ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে। ওমর গত রাতের ফ্লাইটে আমেরিকা থেকে এসেছে। সে এসেই সোজা আমিনা বেগম মেমোরিয়াল এতিমখানায়...

দাদাভাইকে চিঠি

দাদাভাইকে চিঠি

প্রিয় দাদাভাই, শুরুতে তোকে শরতের শিউলি ফুলের নরম নরম ভালোবাসা। কেমন আছিস দাদাভাই? জানি তুই ভালো নেই, তবুও দাঁতগুলো বের করে বলবি ভালো আছি রে পাগলী! দাদাভাই তুই কেন মিথ্যা ভালো থাকার কথা লেখিস প্রতিবার চিঠিতে? তুই কি মনে করিস আমি তোর মিথ্যা হাসি বুঝি না? তুই ভুলে গেছিস,...

৬ Comments

  1. robiul hossain

    ঠিকই বলেছেন, কিছুকিছু ব্যাকারি খুবই অস্বাস্থ্যকর।

    Reply
  2. Anamika rimjhim

    যানে – জানে*
    শত্রুতামি- শত্রুতা*
    গতী- গতি*
    ব্যাস্ত- ব্যস্ত*
    প্রথমের দিকে বুঝতে পারছিলাম না গল্পের বিষয় বস্তু। পরে বুঝেছি।আর এটুকু বলতে পারি যে আমি আর পাউরুটি খাব না -_-
    লাইনগুলো বেশ লিখেছেন। তবে গল্পের নাম টা অন্যকিছু দিলে মনে হয় ভাল হতো। শুভ কামনা। 🙂

    Reply
  3. Md Alamgir

    মোটামুটি ভালো বলা চলে। প্রতিযোগিতার জন্য আরও ভালো লেখা হওয়া উচিত ছিল। শুরু থেকে যদিও গল্পের মোড় বোঝা দুষ্কর ছিল, কিন্তু সামনে এসে সেটা বুঝা গেল। তবে গল্পের শেষ ফিনিশিংটা আরও সুন্দরভাবে হতে পারতো। কেন যেন মনে হচ্ছে ‘এরপরে কী হলো’ এমন একটা অতৃপ্তি থেকে যাচ্ছে।

    গল্পটার টুইস্ট খুঁজে পেলাম না। শিক্ষণীয়ও কোনো দিক চোখে পড়লো না। বেকারীতে যেভাবে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবারগুলো বানানো হয় সেসব অন্যরা না জেনে ও না দেখে দিব্বি খেয়ে যাচ্ছে এবং তাদের কোনো অরুচিও আসছে না। কিন্তু যিনি নিজে বানায় সে নিজে তো খায়ই না বরং অন্যকে খেতে দেখে বমি করে! এটাই স্বাভাবিক। মানুষ বিষ বানিয়ে সেটা নিজে কখনো খায় না, বরং অন্যদেরকেই খাওয়ায়। কারণ আমারা হলাম ‘মা নু ষ’।

    কিছু ভুল বানান চোখে পড়েছে। যেমন,

    স্পীডে * স্পিডে
    পৌছায় * পৌঁছায়
    হয়তোবা * হয়তো বা
    কারো * কারও
    যানে * জানে
    বাড়ীর * বাড়ির
    গতী * গতি
    ব্যাথায় * ব্যথায়
    কারো * কারও
    অমনোযোগীতে * অমনোযোগিতে
    গাড়ীর * গাড়ির
    ব্যাস্ত * ব্যস্ত
    ব্যাথা * ব্যথা

    Reply
  4. Jannatul Ferdousi

    পৌছায়→ পৌঁছায়
    কারো মনে হবে কখনোই না→ কারো মনে হবে? কখনোই না!
    যানে→ জানে
    ঝাকি→ ঝাঁকি
    প্রশিদ্ধির→ প্রসিদ্ধির
    ব্যাথা→ ব্যথা
    ভারি→ ভারী
    অমনোযোগীতে→ অমনোযোগীতে
    কাল থিক→ কাল থিকা(আঞ্চলিক)
    …..
    গল্পের প্রত্যেকটি বাক্য যদি আলাদা আলাদা করে দেখা হয় তবে বলব আপনার লেখনশৈলী দারুণ। কিন্তু গল্পে যা নাম দিয়েছেন তার সাথে বর্ণনার একাংশে মিল পেয়েছি। আপনার টার্গেট গল্পের নামকে কেন্দ্র করে উপস্থাপন করা । শেষদিকটা অন্যরকম লাগলো। আশা করা যায় আপনি ভবিষ্যতে আরো ভালো কিছু করবেন। কেননা আপনার লেখার হাত চমৎকার।কিন্তু বিষয়বস্তুরর দিকে খেয়াল রাখিতে হবে। তাছাড়া বানানের প্রতিও যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন।
    শুভ কামনা।
    গল্পটা মোটামুটি ছিল।

    Reply
  5. Learner

    গল্পের মুল ধারার চাইতে বাহ্যিক বিষয়বস্তু বেশী দেয়া হয়েছে, তবে জনসচেতনতা সৃষ্টি করার জন্য বিষয়টি আরো স্পষ্ট করা দরকার ছিলো, সব মিলিয়ে সুন্দর বিষয় বস্তু দিয়ে সাজানো গল্প। ভালো লেখা।
    শব্দের ব্যবহারে আরো সতর্ক হতে হবে :
    পিছু পিছু → পিছুপিছু
    কুত্তা আবার কুকুর! যেকোনো একটি ধারায় শব্দ প্রয়োগ করতে হবে।
    বড় বড় → বড়বড়
    রঙ চা → লাল চা

    বানানে প্রচুর ভুল আছে উপরের কমেন্টে কিছু ধরিয়ে দেয়া হয়েছে আমিও কয়েকটা ধরিয়ে দিলাম :
    তীক্ষ্ণত্ব হয় → তীক্ষ্ণতর হয়
    খেড়ের → খড়ের
    ঝোলানো → ঝুলানো
    চলেন যায়→ চলেন যাই
    ভেঙচি → ভেংচি
    ব্যাথা → ব্যথা
    কথায় বা → কথাই বা
    সেলায় → সেলাই
    রঙহীন → রংহীন
    ভাবনাই → ভাবনায়

    ইংরেজি শব্দ কখনোই বাংলা সাহিত্যের সুন্দর্য বাড়ায়না, বরং নষ্ট করে তবে যেগুলোর বাংলা কঠিন বা অপরিচিত এমন ক্ষেত্রে ইংরেজি প্রচলিত শব্দ ব্যবহার করা ভিন্য হিসাব যেমন : মিনিট, শার্ট। বেশ কয়েকটি ইংরেজি শব্দ ব্যবহার করেছেন যার ভালো বাংলা শব্দ আছে
    * সলিউশন
    * কনফার্ম
    * কারেন্ট
    * টেনশন ফ্রি

    বিরামচিহ্ন প্রয়োগেও বেশ কিছু ভুল ছিলো:
    ★করতে হয়। করেও। → এখানে এক শব্দের পর আবার দাড়ি! ব্যাপারটা এমন হতে পারতো ” করতে হয়, করেও। ”
    এরকম কিছু ভুল শুধরে নিলে আরো ভালো লাগতো। শুভকামনা ♥

    Reply
  6. Halima Tus Sadia

    শিক্ষণীয় ছিল।
    আমাদের দেশে অনেক ফ্যাক্টরি আছে এরকম। আটা,ময়দাগুলো পায়ে পিষে।অথচ শরীর থেকে কতো ঘাম ঝরে।
    এগুলোই আমরা আরাম করে খাই।

    গল্পের বর্ণনাভঙ্গি ভালো ছিল।
    শব্দগুচ্ছ, থিমটা ও অনেক সুন্দর করে লিখেছেন।
    লেখায় সাবলীলতা আছে।

    বানানে ভুল আছে

    দুয়া–দোয়া

    গাড়ীর–গাড়ির

    প্রশিদ্ধির–প্রসিদ্ধির

    ব্যাস্ত–ব্যস্ত

    গতী–গতি

    হুযুরকে–হুজুরকে

    সুড়কির–সড়কের

    যানে–জানে

    বাড়ীর–বাড়ির

    দুইতিনজন–দুই তিন জন

    ঝোলানো—ঝুলানো

    সেলোমেশিন–সেলাইমেশিন

    পৌছায়–পৌঁছায়

    দ্যান তো–দেন তো

    ব্যাথায়—ব্যাথায়

    কুত্তা,কুকুর দুইটাই সম্বোধন করছেন।
    মাঝে মধ্যে ইংরেজি শব্দ বৌবহার করছেন।
    কনফার্ম

    বানানের প্রতি যত্নশীল হবেন।

    শুভ কামনা রইলো।

    Reply

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *