আশ্চর্য মূর্তি
প্রকাশিত: জুলাই ১৪, ২০১৮
লেখকঃ

 59 বার দেখা হয়েছে

এই লেখক এর আরও লেখা পড়ুনঃ

লেখক-গালিব হোসেন , জুলাই, ১৮

(০১)
ঈদের জামায়াত শেষ করে বাড়ি ফিরলো রফি। মনে একরাশ হতাশা।
“ছেলে মেয়েকে সামান্য কাপড় দিতে ব্যর্থ সে। অর্থহীনতা গ্রাস করে আছে তার ছোট্ট সংসারে। দুমুঠো সাদা ভাতে কোনোভাবে দিন কেটে যায়। তবুও চেষ্টা কম করেনা। ভাগ্যক্রমে চা বিক্রি করে সে। কিন্তু এতে কতটুকুই বা আয় করা সম্ভব!”
কথাগুলো ভাবতে ভাবতে মনে পড়ে গেলো বাবার শেষ চিহ্ন হিসেবে রেখে যাওয়া রহস্যময় চাবির কথা।
মৃত্যুর আগে তার বাবা হাতে রূপার তৈরী এক চাবি ধরিয়ে দিয়ে বলেছিলেন, “এটার মূল্য ওজনে নয় বাড়ির পেছনে বাগানটায় পাবি।”
অর্থ বোঝা ক্ষমতার বাহিরে থাকায় রফি এই নিয়ে আর ঘাটাঘাটি করেনি।
এর মাঝে বউ এসে জানিয়ে দিয়ে গেলো “তোমার ছেলে কান্নাকাটি করে সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেছে। আমায় না পারো কমপক্ষে ওদের তো কিছু দিবে।”
রফি মাথা নিচু করে বললো, “হাতের অবস্থা তো জানোই। কি করবো বলো?”
জবাবে কিছু এলোনা।
নিজেকে আজ অপরাধী ভাবছে রফি। তার কারণে কষ্ট পাচ্ছে পুরো পরিবার।
পবিত্র একটা দিনেও মন বেদনায় ভরপুর। শেষ শক্তি দিয়ে যা সহ্য করে নিতে হচ্ছে তাকে।
এভাবে আর কিছু সময় ভাবলে চোখ বেয়ে হয়তো অশ্রু নেমে আসবে। তাই নিজেকে সামলে সে হাঁটা দিলো বাড়ির পেছনের বাগানটায়।
বড় বড় গাছ ছাড়া কিছু নেই। মনোমুগ্ধকর নিরিবিলি এক পরিবেশ। ছায়ার সাথে মিলে আছে মিষ্টি শীতল হাওয়া। গা মেলে দিলে যেনো সব ক্লান্তি দূর হয়ে যাবে।
রফিও কম নয়। প্রকৃতির কাছে নিজেকে উজাড় করে দিয়ে ঘুরে ঘুরে দেখছে চারিপাশ।
আচমকা পায়ের নিচে ফাঁপা মনে হলো। ব্যাপারটা বুঝতে সে পা দিয়ে কয়েকবার মাটিতে আঘাত করলো।
অদ্ভুত ভাবে মাটির নিচে তখনো ফাঁপা বলে মনে হচ্ছে।
পুরোপুরি নিশ্চিত হতে এবার রফি মাটিতে কান পেতে হাত দ্বারা আঘাত করলো। এবারো অবাক, কিছুটা অন্যরকম শব্দ!
জাগ্রত হলো কৌতুহল। মনে হাজারো প্রশ্নের ছড়াছড়ি। কি করবে না করবে ভেবে শেষ।
অতঃপর সে নিজেকে শান্ত করলো।
কাজে লাগালো উপস্থিত বুদ্ধি। মাটিতে আঘাতের মাধ্যমে চারকোণা দাগ টানলো।
তারপর বাড়ি থেকে কোড়াল এনে দাগের মাঝ বরাবর গর্ত করতে লাগলো।
কিছুদূর গর্ত করার পর ছাদের ন্যায় কিছু একটায় বাঁধা প্রাপ্ত হলো।
রফি তবুও থামবার নয়।
সর্বশেষ শক্তি দিয়ে আঘাত করে চললো। হঠাৎ ভেঙে পরলো ছাদের অংশ বিশেষ।
রফি দু-পা পিছিয়ে নিচে তাকিয়ে বুঝলো এ কোনো মাটির নিচে ঘর। ভেতরটা অন্ধকারাচ্ছন্ন। সে তখন পকেট থেকে সেলফোন বের করে আলো জ্বেলে ভেতরটা দেখবার চেষ্টা করলো।
সাত কি আট ফুট গভীর হবে। পুরো ঘর খালি। শুধু ডান পাশে রয়েছে পুরনো এক সিন্দুক। রফি আবেগ সামলাতে না পেরে তাতে লাফিয়ে পরলো।
ভেতরটা কেমন যেন গা ঝুমঝুমে। দম আটকে যাবে অবস্থা।
অপরদিকে সিন্দুকে কি রয়েছে দেখবার বিষয়।
রফি আর দেরী না করে সিন্দুকের কাছে গেলো। যা ছিলো হতাশ হবার পালা।সিন্দুকে চাবি ঢোকানোর প্রবেশ পথ ছাড়া দ্বিতীয় ফাঁক পর্যন্ত নেই।
এবার ভ্রম থেকে বেরিয়ে রফি বুঝলো তাড়াহুড়া করতে গিয়ে সে আটকে গেছে। তবে নিজের ওপর তখনো বিশ্বাস হারায়নি।
চারিপাশ ভালোভাবে দেখে নিতে লাগলো রফি। তবে কোথাও বের হবার পথ নেই। এবার সে সিন্দুক গর্ত করা জায়গা মাঝ বরাবর নিয়ে এলো এবং তাতে ভড় করে বের হতে সক্ষম হলো।
তারপর বাড়ির উদ্দেশ্যে গেলো বাবার দেওয়া সেই রূপার চাবি আনতে।
(০২)
অতঃপর চাবি এনে সিন্দুক খুলে হুশ তাঁর যায় যায়।
সোনার তৈরী সুন্দর এক মূর্তি রাখা।পাশে ছোট্ট একটি চিরকুট।
রফি কৌতুজল বশত চিরকুট হাতে তুলে প্রথম থেকে পড়তে শুরু করলো-
“আজ আমি জীবনের সবচেয়ে ভালো কাজ করতে যাচ্ছি। জানি বিনীময়ে কষ্ট করতে হবে আমার ছোট্ট ছেলে এবং তাদের পরবর্তী প্রজন্মকে।
সময় থাকতে বোঝা উচিৎ ছিলো ক্ষমতা খুবই মূল্যবান সম্পদ। এর অপব্যবহার কখনো ভালো ফল দেয় না। কিন্তু এখন কি করার!
দেশের গরীবদের প্রতি অত্যাচারের অনুশোচনা যে কুরেকুরে খাচ্ছে আমায়।রাতের ঘুমও হারাম। হাজারো গরীব হয়তো আমারই কারণে এমন ঘুমহারা।
তাইতো এর প্রায়শ্চিত্ত করতে আল্লাহ্র কাছে ক্ষমা চেয়ে রাজ কোষাগারের সব সম্পদ বিলিয়ে দিচ্ছি তাদের মাঝে। স্মৃতি হিসাবে শুধু রেখে যাচ্ছি দাদার দেওয়া সোনার তৈরী এই মহা মূল্যবান মূর্তি।
মুর্তিটা যখন কেউ পাবে তখন আমি এই দুনিয়ায় থাকবো না। চলে যাবো বহুদূরে, না ফেরার দেশে।
তবে যেই পাক তার কাছে একটা অনুরোধ মূর্তি বিক্রি করে যে অর্থ পাবে তা যেন তিন ভাগ করা হয়। এক ভাগ নিজের জন্য এবং বাকি দুভাগ গরিবদের।
বিনীময়ে খোদা চরম অত্যাচারের শাস্তি ক্ষমা করবেন কি না জানিনা, তবে এটা রইলো আমার শেষ চাওয়া।”
পাশে ছোট্ট করে লিখা, “বাদশাহ রুস্তম হোসেন।”
নামটা দেখে রফি অবাক হয়ে গেলো। ছোটো বেলায় তার দাদা যখন বলতো তারা বাদশাহী বংশধর রফি তখন হেসে জবাব দিতো, “এখন বলবা তোমার দাদা রুস্তম হোসেন। অনেক মহান বাদশাহ ছিলো।গরীবের দুঃখ দেখতে না পেরে তিনি নিজের সব বিলিয়ে দিয়ে ছিলো। বাগানে কিছু একটা রয়েছে যা সময় মতন আমার বাবা আমায় বলবে এইতো!”
দাদু আর কিছু বলতোনা। তবে সবকিছু আজ রফির কাছে পরিষ্কার।
রফি মূর্তি সহ গর্ত থেকে বের হলো। সাথে সাথে ভূমিকম্প ন্যায় কিছু একটা হয়ে গর্ত দেবে গেলো। সেদিকে রফি ভ্রুক্ষেপ না করে পা বাড়ালো বাজারের উদ্দেশ্যে।
তারপর চেনা এক স্বর্ণকারের কাছে গিয়ে মূর্তি দেখাতে স্বর্ণকার অবাক।
– এই মূর্তি আপনি কোথায় পেলেন?
– পেয়েছি কোথাও একটা।
– জানেন এর মূল্য কত?
– কত?
– কয়েকশো কোটি টাকা।
– এতো টাকা দিয়ে কে কিনবে এই মূর্তি?
– আমার চেনা লোক আছে। আমি কথা বলে দেখছি। তবে এই ব্যাপারে আর কাউকে বলা ভালো হবে না।
– ঠিক আছে। কিন্তু এই মুহূর্তে কিছু টাকার প্রয়োজন ছিলো যে!
– যদি কিছু মনে না করেন তাহলে আমি আপনায় টাকা ধার হিসেবে দিতে পারি। পরে না হয় মিটিয়ে দিবেন।
– না, অনেক ধার নিয়ে ফেলেছি। মূর্তির বিনীময়ে এখন কত টাকা দিতে পারবেন আপনি?
– আপাতত দশ লক্ষ আছে।
– হুম, এটা অনেক। তবে একটা প্রশ্ন থেকে যায়।
– কি প্রশ্ন?
– এটা অনেক মূল্যবান মূর্তি বুঝলাম। কিন্তু এতো বেশী মূল্যবান হবার কারণ কি?
– ভাই, প্রাচীন আমলে প্রথম দিকের মূর্তি এটা। গায়ে সুন্দর নক্সা এর স্পষ্ট প্রমাণ। অদ্ভুত ভাবে মূর্তিটার জায়গা এখন মিউজিয়ামে হবার কথা ছিলো।এমন প্রাচীন মূর্তির খোঁজে হাজারো বিদেশি মিউজিয়াম কোটি টাকা নিয়ে বসে আছে।
– ওহ্, তবে কি বিদেশি কেউ কিনে নিবে এই মূর্তি?
– হুম,দেশে এর মূল্য সরকার দিতে পারবেনা।
– কোনোভাবে এটা কালো বাজারি ব্যবসার আওতায় পড়লো না তো?
– কিছুটা। দেশে এমন হাজারো মূল্যবান সম্পদ অযত্নে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাই আমার মনে হয় যদি এই মূর্তি বিদেশিরা পায় তবে যেমন প্রাচীন সভ্যতার চিহ্ন রয়ে যাবে তেমন দেশে আর্থিক স্বচ্ছলতা বৃদ্ধি পাবে।
– ঠিক আছে ভাই, আমি এখন আসছি।
– কোথায় যাবেন? মূর্তি দিয়ে দশ লক্ষ টাকা নিয়ে যান।
– আমি কিছু সময় ভেবে দেখি? মনে হচ্ছে এমন ঐতিহাসিক সভ্যতা অসৎ পথে চালান করা ঠিক হবে না।
– আপনি ভুল করছেন।
– হুম জানি, ধন্যবাদ আপনায়।
– ভেবে আবার আসবেন কিন্তু।
রফি কোনো জবাব না দিয়ে মূর্তি সহ পা বাড়ালো এলাকায় থাকা মিউজিয়ামের উদ্দেশ্যে।
ফেটে যাওয়া দেওয়ালে ঘেরা সামান্য সিকিউরিটি সম্পন্ন সে মিউজিয়াম।মূল্যব
ান ঐতিহ্যগুলো ধোলায় মেখে আছে প্রতিদিনকার যত্নের অভাবে।
(৩)
রফি মিউজিয়ামে পৌছে ম্যানেজারের সামনে মূর্তি তুলে ধরলো। ম্যানেজার কিছু সময় মূর্তি নেড়েচেড়ে তার চোখ কপালে উঠে যায় অবস্থা।
– কোথায় পেয়েছেন এই মূর্তি?
– বাড়ির পেছনে বাগানটায়।
– পৃথিবীতে এমন মূর্তি একটা রয়েছে।আর তা হলো ইংল্যান্ড মিউজিয়ামে। আমি বিশ্বাস করতে পারছিনা দ্বিতীয় মূর্তি আমার সামনে।
– পরিষ্কার করে বলুনতো এই মূর্তি সম্পর্কে।
– এগারোশো শতাব্দীপূর্ব এক বাদশাহ অর্ধেক পৃথিবী শাসন করতো। কোনো কিছুর কমতি ছিলোনা তাঁর। কিন্তু সবকিছু থাকা সত্তেও মন ভরেনি। চাওয়ার আকাঙ্ক্ষা বেড়েই চলেছিলো। তাইতো অন্যরকম কিছু পেতে সে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় স্বর্ণকারকে ডেকে পাঠায় এবং তাকে বলে সোনার অদ্ভুত মূর্তি তৈরী করে দেখাতে। স্বর্ণকার “কেমন অদ্ভুত” জানতে চাইলে বাদশাহ ধমক দিয়ে কাজে মন দিতে বলে।
এবার বিপদে পরে যায় স্বর্ণকার। তারপর অনেক ভেবে দুটি সোনার মূর্তি তৈরী করে।
যার একটি সূর্যের আলো এবং অপরটি চাঁদের আলোতে কালো রূপ ধারণ করে।
দূর্ভাগ্যক্রমে অভাবনীয় সে খেলা বাদশাহ বুঝে উঠতে পারেননি। অবুঝের ন্যায় কালো মূর্তি দেখে ক্রোধে সে এক কোপে স্বর্ণকারের গলা নামিয়ে দেয়। তারপর কি হয় সকলের অজানা। কিন্তু কয়েকশো বছর পর সূর্যের আলোতে জ্বলে ওঠা মূর্তি ইংল্যান্ড তাদের মিউজিয়ামে আবিষ্কার করে।
– অতুলনীয় ইতিহাস। সত্যি ভাবনার বাহিরে। যাইহোক এই মূর্তির বিনীময়ে কি দিতে পারবেন আমায়?
– সত্যি বলতে বিনীময়ে কিছু দেওয়ার সাধ্য আমার নেই। অমূল্য এই মূর্তি। তবে সরকারের কাছে আবেদন করে আমি আপনায় সম্মানের সাথে উপহার দেওয়াতে পারি।
– ঠিক আছে, আপাতত!
– বুঝতে পেরেছি। চলুন আমার সাথে।
অতঃপর মিউজিয়ামের ম্যানেজার সাথে নিয়ে গিয়ে পাঁচ লক্ষ টাকা দিলো। যা পেয়ে রফি অনেকটা খুশি।
এবার পালা বাদশাহ রুস্তম হোসেনের কথা রাখার।
সে টাকা তিন ভাগ করলো। যার দুভাগ এলাকার গরীবদের মাঝে বিলিয়ে দিয়ে এক ভাগ নিজের জন্য রাখলো।
গরীব দুঃখী মানুষ গুলোর দুর্দশা সময়ে টাকা হাতে পেয়ে যেনো ঈদের মর্ম বুঝতে পারলো। ফুটে উঠলো হাজারো লোকের মুখে প্রফুল্ল মাখা হাসি। হ্যা, ইহা যথেষ্ট হৃদয়ের কড়া নাড়িয়ে দিতে।
রফি দেরী না করে সোজা বাজারে চলে গেলো। সেখান থেকে বউ বাচ্চার জন্য কাপড় এর পাশাপাশি সেমাই, পোলাওয়ের চাউল, গোস্ত ইত্যাদি কিনে নিলো।
বাসায় ফিরবার জন্য যেনো তার আর তর সইছে না। কল্পনায় ভেবে নিয়েছে ছোট্ট পরিবারের আশ্চর্য হয়ে যাওয়া মুখ গুলো।
এরপর অধীর অপেক্ষা শেষে সে বাসায় ফিরলো।
দরজার সামনে দাঁড়াতে তার বউ অবাক।ছেলে মেয়ে “আব্বু” বলে দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরলো।
রফির মুখ থেকে যেনো হাসি সরছে না। রফি তার বউকে উদ্দেশ্য করে বললো, “কি হলো দাঁড়িয়ে না থেকে হাত থেকে এগুলো নাও।”
বউ অবাক সুরে বললো, “টাকা কোথায় পেলে?”
– যদি না বলি?
– বাপের বাড়ি চলে যাবো।
– অনাহারে থেকেও ছেড়ে যাওনি এখন তো…..
– ধ্যাত বলবা তুমি?
– হুম,সময় হোক। সব জানতে পারবা।
– এখন জানবো।
-রাজ বংশের ছেলে আমি। একটু তো সম্মান দাও।
– রাখো তোমার সম্মান। ওসব বাহিরে দেখাবা, ঘরে আমি সব।
– বুঝেছি মহারাণী। আপনার জন্য জামদানি শাড়ি এনেছি। দেখে নিন পছন্দ হয় কি না।
– কিই! ওই সত্যি করে বলবা তুমি এতো টাকা কোথায় পেয়েছো?
– রূপার চাবির কথা তো জানো?
– বিক্রি করে দিয়েছো?
– উঁহু, রহস্য উদঘাটন করেছি।
– কিসের রহস্য?
– মূর্তি।
– সব বলবা নাকি বাপের বাড়ি যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হবো।
– হুম হও, অনেকদিন শ্বশুরবাড়ি যাইনা।
– তুমি একটা যা তা।
– ওই জামদানি শাড়িটা পড়বা।
– হুহ্।
– কিছু কথা দিনে নয় রাতে নীরবে বোঝাতে হয়।
বউ আর কিছু না বলে মিষ্টি হাসির সাথে হাত থেকে ব্যাগ নিয়ে ঘরে গেলো।
ছোট্ট ছেলে মেয়ে তখনো জড়িয়ে ধরে আছে। রফি তাদের উদ্দেশ্য করে বললো “যাও সোনা, তোমরাও আম্মুর সাথে যোগদান করো।”
অতঃপর ফুলের ন্যায় বাচ্চা দুটো উজ্জ্বল মুখ নিয়ে নতুন জামা পড়তে চলে গেলো।
তার কিছুক্ষণ বাদে চিল্লাচিল্লি শুরু “আমারটা বেশী সুন্দর…না আমারটা বেশী সুন্দর।”
রফি তখন আনমনে ভাবতে লাগলো, “মূর্তি যেনো মূর্তি নয়, ছিলো হাজারো গরিবের খুশি।”
……………<সমাপ্ত>……….

সম্পর্কিত পোস্ট

যদি পাশে থাকো

যদি পাশে থাকো

তাসফিয়া শারমিন ** আজকের সকালটা অন্য রকম। সাত সকালে আম্মু বকা দিলো। মানুষের ঘুম একটু দেরিতে ভাঙতেই পারে। তাই বলে এত রাগার কী আছে ?একেবারে যে দোষ আমারও তাও নয়। মানুষ ঘুম থেকে উঠে ফোনে বা দেওয়াল ঘড়িতে সময় দেখে। কিন্তু আমি উঠি জানালার পর্দা সরিয়ে বাইরের আলো দেখে।কে জানে...

কুড়িয়ে পাওয়া রত্ন

কুড়িয়ে পাওয়া রত্ন

অনন্যা অনু 'আমিনা বেগম' মেমোরিয়াল এতিমখানার গেট খুলে ভেতরে ঢুকতেই ওমরের বুকটা ধুক ধুক করতে শুরু করে। ওমর ধীর গতিতে ভেতরে প্রবেশ করে। চারদিকে তখন সবেমাত্র ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে। ওমর গত রাতের ফ্লাইটে আমেরিকা থেকে এসেছে। সে এসেই সোজা আমিনা বেগম মেমোরিয়াল এতিমখানায়...

দাদাভাইকে চিঠি

দাদাভাইকে চিঠি

প্রিয় দাদাভাই, শুরুতে তোকে শরতের শিউলি ফুলের নরম নরম ভালোবাসা। কেমন আছিস দাদাভাই? জানি তুই ভালো নেই, তবুও দাঁতগুলো বের করে বলবি ভালো আছি রে পাগলী! দাদাভাই তুই কেন মিথ্যা ভালো থাকার কথা লেখিস প্রতিবার চিঠিতে? তুই কি মনে করিস আমি তোর মিথ্যা হাসি বুঝি না? তুই ভুলে গেছিস,...

৪ Comments

  1. Anamika Rimjhim

    শব্দচয়নে দু এক জায়গায় ভুল আছে। যেমন , যেখানে আপনি “কমপক্ষে” ব্যবহার করেছেন সেখানে “অন্তত” ব্যবহার করতে হইতো।এগুলো দেখে নিবেন।
    ভাল ছিল।শুভ কামনা।

    Reply
  2. robiul hossain

    ঐতিহাসিক গল্প, সাথে অর্থবানদের জন্য মেসেজও ছিল। ভাল লেগেছে গল্পটা।

    Reply
  3. Jannatul Ferdousi

    কোড়াল→ কুড়াল

    ভড়→ ভর

    তাঁর→ তার (চন্দ্রবিন্দু সম্মানী ব্যক্তির ক্ষেত্রে হয়।)

    বিনীময়ে→ বিনিময়ে
    দিয়ে ছিলো→ দিয়েছিল।

    বাপের বাড়ি যাবার জন্য প্রস্তুত হবো। → হবো (!)


    ভালো লাগল। তবে গল্পটি প্রতিযোগিতা হিসেবে ঠিক হয়নি। কিন্তু আপনি চমৎকার লিখতে পারেন।
    তাছাড়া রফির সততার বাহবা দিতে হয়।
    আপনার জন্য ঢের শুভভ কামনা। কলম থামাবেন না।

    Reply
  4. Halima Tus Sadia

    মূর্তি নিয়ে গল্প।
    এ যেন গরীবের মুখে হাসি ফুটে এলো।
    ঈদের দিনে ও নিজের সন্তানদের কিছু পারেনি পরে এই মূর্তির জন্যই সবার মুখে হাসি ফুটাতে পেরেছে।

    প্রতিযোগিতার জন্য গল্পটা অন্য রকম হয়ে গেছে।

    কোড়াল–কুড়াল
    বিনীময়ে–বিনিময়ে
    আল্লাহ্র-আল্লাহর
    তৈরী–তৈরি
    দেরী–দেরি
    পৌছে-পৌঁছে
    নক্ম-নঁকশা
    সত্তেও-সত্ত্বেও
    ভড়-ভর

    বানানের প্রতি যত্নশীল হবেন।
    পাঠকের মনে বিরক্ত সৃষ্টি করে বানান ভুল হলে।
    শুভ কামনা রইলো।

    Reply

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *