আমার জীবন
প্রকাশিত: জুলাই ১৫, ২০১৮
লেখকঃ

 192 বার দেখা হয়েছে

এই লেখক এর আরও লেখা পড়ুনঃ

লেখা : Arif Al Araf , জুলাই, ১৮
.
ছোট বেলা থেকেই একটা স্বপ্ন ছিলো
জীবনটা নিজের মতো করে সাজাবো।আসলে
সেটাই করা উচিত।কেননা প্রত্যেক মানুষের একটা
ইচ্ছা থাকে।সে ইচ্ছাটা হতে পারে ভিন্নতর।কেউ
বড় হয়ে ডাক্তার হবে কেউবা ইঞ্জিনিয়ার।সত্যিকার
অর্থে এ দুটোই যেন প্রধান হয়ে দাড়িয়েছে।
কাউকে জিজ্ঞেস করা হোক ‘তুমি কি হতে চাও’।
এই প্রশ্নের কিছু সাধারণ উত্তর হলো:ডাক্তার-ইঞ্
জিনিয়ার,ব্যাংকার ইত্যাদি।আসলেই কি আমাদের সকলের
ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার হওয়া উচিত?সবাই যদি ডাক্তার হয়
তবে রোগী হবে কে?আবার কাউকে না
কাউকে তো ডাক্তার হতেই হবে অন্যথায়
রোগী চিকিৎসার অভাবেই পরপারে পাড়ি জমাবে।
আমাদের সমাজে যে রকম প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষা
ব্যবস্থা চালু আছে তাতে করে সবাই যেন মৌমাছি
বনে গেছে।অর্থাৎ সকলেরই লক্ষ হলো মধু
আহরণ করা।মধুর মিষ্টতা থেকে বেরিয়ে যেন
বাস্তবতার তেতো স্বাদ নিতে অনাগ্রহ প্রকাশ
করে সকলেই।দু-এক জন যারা এই তিক্ত স্বাদ নিতে
চায় তাদের যেন সমাজের এই চিরাচরিত ভাইরাস
আক্রমন করে।যাতে করে সে সমাজের এই নিয়ম
রাতারাতি পাল্টে দিতে না পারে।
.
.
ছেলেটার নাম তানিম।ছোটবেলা থেকে রক্তে
যেন ফটোগ্রাফি মিশে আছে।বয়স এগারো কি
বারো।বাবার কাছে বায়না ধরেছিলো ক্যামেরা
কিনে দিতে হবে।ছোট মানুষ আবদার
করেছে,একটা ক্যামেরা দেয়াই যায়।বাবাতো আর
বুঝতে পারেনি তার ছেলেটা সমাজের নিয়ম ভাংতে
চলেছে।বুঝতে পারলে বাবা কখনোই কিনে
দিতেন না।কোন বাবাই চায়না তার সন্তান সমাজের
নিয়মের তোয়াক্কা না করে নতুন নিয়ম সৃষ্টি করুক।
পশ্চিমাবিশ্বে এসব ভিন্নতা সৃজনশীল মেধা
হিসেবে গণ্য হলেও এই বাংলার বুকে তা হয়
বোকামি।আধুনিক সময়ে এসেও কিছু মানুষের
মানসিকতা সেই মধ্য যুগেই অবস্থান করছে।
.
সারাক্ষণ ছবি তোলা তানিমের অভ্যাসে পরিণত
হয়েছে।ছেলেটা চাইলেও এ অভ্যাস ত্যাগ
করতে পারেনা।লেখাপড়ার সাথে তাল মিলিয়ে
চলছে ফটোগ্রাফি।তানিমের তোলা ছবিতে
ছেয়ে আছে তার রুমের দেয়াল। এতটুকু জায়গা
খালি আছে বলে মনে
হয়না।ঘরটাকে দেখলে ছোটখাটো ষ্টুডিও
বলে মনে হয়।এযাবতকাল কত ছবি যে
তুলেছে তার শেষ নেই।ছবিগুলোতে প্রান
আছে।যেন কথা বলতে চাইছে।প্রকৃতি
থেকে শুরু করে গ্রামীণ জীবন সবই আছে
তার সংগ্রহে।এ যেন আধুনিক যুগের জয়নুল
আবেদিন।শিল্পাচার্য রং তুলিতে ছবি
ফুটিয়ে তুলতেন আর তানিম
ক্যামেরাতে।
.
মাঝে মাঝে বাবাকেও সেই ছবিগুলো
দেখাতো।বাবা অবশ্য খুশি হতেন।তাদের
পারিবারিক কতো ছবি তুলে রেখেছে
তানিম তার আর শেষ নেই।ছেলেটা যেন
বাড়িটার প্রান।সারাক্ষন সবাইকে
আনন্দে মাতিয়ে রাখে।ছেলেটার জন্য
কেউ মুখ গোমড়া করে থাকতে পারে
না।মুহূর্তের মধ্য সকলকে হাসিয়ে
দেয়।ফটোগ্রাফির পাশাপাশি পূর্ণ
উদ্যমে চলছে লেখাপড়া।বরাবরই খুব
ভালো রেজাল্ট করে তানিম।তাই তার
সকল দুষ্টুমি সহ্য করে সবাই।আর
ফটোগ্রাফিতেও বাধা দেয়না কেউ।
.
সময়টা ভালোই ছিলো।সবকিছুই যেন অনুকূলে
ছিলো।বাবা-মায়ের একটাই কথা,”ফটোগ্রাফি করো
আর যা ইচ্ছা তাই করো, পরীক্ষায় চালো রেজাল্ট
করা চাই”।ওহ্ এখানে আবার একটা কথা আছে,ভালো
রেজাল্ট বলতে শুধু পাশ নয় ভালো রেজাল্ট
বলতে A+ কে ইঙ্গিত করা হতো।লেখাপড়া মানেই
কি শুধু A+ পাওয়া?A+ পাওয়া মানেই কি ভালো
স্টুডেন্ট?কতজন তো নকল করেও A+ পায়।তার
মানে কি তারাও ভালো স্টুডেন্ট?এটা যেন বর্তমান
প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীর মেধা যাচাইয়ের মাপকাঠি
হয়ে দাঁড়িয়েছে।আজকাল তো আবার A+এর
কেনা-বেচাও হয়।আজব শিক্ষাব্যবস্থা।
একটা ছেলে
যে সারাবছর ফাঁকিবাজি করেও প্রশ্নপত্র পেয়ে
ভালো পরীক্ষা দেয় অথচ সারাবছর লেখাপড়া করা
ছেলেটা দূর্ঘটনা বশত সম্পূর্ণ উত্তর করতে
পারেনা।যার ফলাফল সারাবছর লেখাপড়া করা ছেলেটা
হয় বাজে ছাত্র আর ফাঁকিবাজ হয় ভালো ছাত্র।বরই
আজব লাগে।লেখাপড়া এখন A+ আর সার্টিফিকেট
নির্ভর হয়ে গেছে। অবশ্য সেটা নিয়ে তানিমের
কোন মাথা ব্যাঁথা নেই।কেননা সে খুব ভালো
করেই জানে মা-বাবা যেটা চাইছে তা সে খুব
সহজেই দিতে পারবে।ক্লাসের ফাষ্ট বয় বলে
কথা।সবকিছুই ঠিকঠাক যাচ্ছিলো।দেখতে দেখতে
প্রাইমারী পেরিয়ে হাই-স্কুলে ভর্তি হলো।
সেখানেও যথারীতি প্রথম স্থান।তবে বয়সের
একটা বিষয় আছে।যেটাকে বলা হয় ইমোশনাল
এইজ।ধিরে ধিরে পরিবর্তন আসতে লাগলো
তানিমের মানসিকতায়।
.
এখন সে নিজের ভালোলাগা কে প্রাধান্য দিতে শুরু
করেছে।অষ্টম শ্রেনিতে পড়াকালীন তানিম ছবি
তোলায় আরো আগ্রহি হয়ে ওঠে।ওইটুকু বয়সে
ছেলেটা ফটোগ্রাফিতে যে রকম পারদর্শী
হয়ে ওঠে তাতে করে খুব সহজেই বোঝা যায়
ছেলেটা চাইলেই খুব সহজে একজন ভালো
ফটোগ্রাফার হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে
পারবে।এবং যেটা তানিম নিজেও চায়।দেখতে
দেখতে অষ্টম শ্রেনির বার্ষিক পরীক্ষা চলে
আসে।বাবা ক্যামেরাটা নিয়ে যায়।বন্ধু বলতে এক
ক্লাসমেট আর ক্যামেরাটাই তানিমের সম্বল।বাবাকে
কতো করে বুঝালো কিন্তু বাবা তার সিদ্ধান্তে
অটুট।বাবার ভাষ্যমতে পরীক্ষার সময় ক্যামেরা
নিয়ে পরে থাকলে A+ মিস হতে পারে।অথচ
ছেলেটা কেবল অষ্টম শ্রেনিতে পড়ে।অষ্টম
শ্রেনির A+টা তার জীবনের কি কাজেই বা লাগতে
পারে।মা নিজেও বাবার পক্ষে, ছেলেটাকে
সাপোর্ট করার মতো কেউ নেই।সার্টিফিকেটের
নেশা আমাদের কি পরিমান অমানবিক করে তুলেছে
ভাবা যায়!একটা ছেলে যে শুধুমাত্র ছবি তুলেই দিব্যি
আনন্দে থাকে তার কাছ থেকে তার ভালো থাকার
একমাত্র সম্বলটাকে কেড়ে নেয়া হয়েছে
শুধুমাত্র পরীক্ষায় A+ না পাওয়ার সংশয়ে।
.
অথচ সেই ছোটবেলা থেকে ছেলেটা দিব্যি
ভালো রেজাল্ট করে আসছে।তার পরও একটাই
চিন্তা A+ পেতে হবে।বোঝা মুশকিল আমরা শিক্ষা
অর্জন করছি না সার্টিফিকেট।অতঃপর তানিম অভিমান
নিয়েই পরীক্ষা দিলো এবং সেই রেজাল্টই নিয়ে
আসলো যার জন্য এতকিছু।নবম শ্রেনিতে ভর্তির
সময় বাবাকে কে যেন কানপরা দিলো ছেলেকে
সাইন্স থেকে না পড়ালে ভবিষ্যতে ভালো কিছু
করতে পারবে না।আমাদের আশেপাশে প্রতিনিয়ত
এমন এলিয়েন টাইপের মানুষ দেখতে পাওয়া যায় যারা
অন্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে অধিক চিন্তিত থাকে।এটা নয়
ওটা করো,ওটা নয় এটা করো,এটা কেন করলে,এটা
তোমার দ্বারা মানায় না,তুমি এই কাজ করবে ভাবতেই
পারিনি ইত্যাদি ইত্যাদি।এমন ভাব দেখাবে যেন
আমাদের শুভাকাঙ্ক্ষী কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এরাই
আমাদের বড় শত্রু যারা আমাদের জীবনে একটা
আধিপত্য বিস্তার করতে চেষ্টা করে। হ্যা তবে
সত্যিকার অর্থে আমাদের কিছু শুভাকাঙ্ক্ষী থাকে
যারা আমাদের ভূল ধরিয়ে দিয়ে সংশোধনে সাহায্য
করে।
.
বাবা সিদ্ধান্ত দিলেন সাইন্স নিয়ে পড়তে হবে।
তাতেও তানিমের কোন আপত্তি নেই।তার শুধু
একটাই চাওয়া তার আর ছবির মাঝে কেউ যেন বাধা না
দেয়।সে বাবাকে এটাও বলেছে বাবা তুমি
যেভাবে বলবে আমি সেভাবেই সব কিছু করবো
শুধু একটা শর্ত ফটোগ্রাফিতে নিষেধ করা চলবে
না।ছেলেটা যে তার এই শখটাকে কতটা
ভালোবাসে সেটা স্পষ্ট বোঝা যায়।বাবার
কথামতো সাইন্স নিয়ে পড়ছে তানিম।সেই সাথে
ফটোগ্রাফি তো আছেই।বাবার সাথে কি যেন
একটা কথা আছে তার।বাবাকে বলেছিলো সে বড়
হয়ে ফটোগ্রাফার হতে চায়।কিন্তু বাবার একটাই
কথা”সাইন্স নিয়ে পড়ছো তার মানে তোমাকে
ডাক্তার হতে হবে আর আমি এবং তোমার মাও এটাই
চাই”।
.
বাবার মুখের ওপর কিছু বলতে পারেনা সে।আসলে
বাবাকে খুব সম্মান করে আর ভয়ও পায়।পরক্ষনেই
তানিমের মুখটা মলিন হয়ে যায়।কতো আশা তার
ফটোগ্রাফার হবে।বিখ্যাত সব ফটোগ্রাফারদের
জীবনি পড়ে সে।তাদের ছবি তোলার কৌশল
শিখে রাখে।কিন্তু বাবা যা বললেন তাতে করে
ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তায় পরে গেলো তানিম। যে
ছেলে সারা বাড়ি মাথায় করে রাখে সে আজ
নিরব।কি যেন একটা হাহাকার।কি একটা কষ্ট কাজ করছে
ছেলেটার মাঝে।সারাক্ষণ শুধু কি যেন ভাবে আর
বিড়বিড় করে কি যেন বলতে থাকে।লেখাপড়ার
অবস্থা কেবলই অবনতির দিকে যাচ্ছে।প্রচন্ড রকম
মানসিক চাপের মধ্যে থাকে।কিসের এতো ভাবনা?
তবে কি তার স্বপ্ন অপূর্ণ রয়ে যাবে?হয়তো হ্যা।
আর তানিম সেটা ভালো করেই জানে।বাবা যখন
একবার না বলে দিয়েছে তখন সেটা না।কথার তো
আর নড়চড় হয়না আর ছেলেটাও তার চাঞ্চল্যতা
ফিরে পায়না।বয়সটা যখন ১৬-১৭ এর কোঠায় তখন
এমনিতেই নানারকম মানসিক চিন্তা থাকে আর তার ওপর
যদি স্বপ্ন ভাঙার প্রকোপ হয় তখন যে একটা
কিশোর কি পরিমান চাপের মধ্য দিয়ে জীবন পার
করে সেটা কেবল সে কিশোর বলতে পারে।
আসলেই ফটোগ্রাফি তানিমের রক্তে মিশে
আছে।
.
সময়টা এসএসসি টেষ্ট পরীক্ষার আগে।বাবা
জিজ্ঞেস করছে”সামনে তো টেষ্ট
পরিক্ষা,লেখাপড়া কেমন চলছে”?তানিম কোন জবাব
দেয়নি।ছেলেটা এতটাই মন মরা হয়ে থাকে যে
সামনে তার পরীক্ষা সে দিকে কোন খেয়ালই
নেই।ঠিক মতো খায়না,পড়তে বসেনা।কেমন
যেন অগোছালো হয়ে গেছে।এরই মধ্যে
লেখাপড়ায় অনেকটা পেছনে পরে গেছে।সময়
মতো টেষ্ট পরীক্ষা শেষ হয়ে গেলো।
রেজাল্ট এলো Aগ্রেড।
.
সর্বনাশের আরম্ভ হলো।তানিমকে প্রায় একঘড়ে
করে দিলো বাবা।সেখানেই নাওয়া সেখানেই খাওয়া।
এমন সময় কোথায় সাপোর্ট করবে তার পরিবর্তে
মানসিক চাপ দিচ্ছে।তানিমের কেন জানি মনে হয়
বাবার মানসিক সমস্যা আছে।হবে হয়তো।অবহেলা
পেতে পেতে এখন যেন সহ্যক্ষমতা বেড়ে
গেছে।সময় তো আর বসে থাকেনা।নিজের
নিয়মে সময় চলে যাচ্ছে।এরই মাঝে তিনমাসভ
কেটে গেলো।এসএসসি পরীক্ষা চলে
এলো।যথেষ্ট প্রস্তুতি ছাড়াই পরীক্ষা শেষ
হলো তানিমের।পরীক্ষার জন্য যে মানসিক
প্রস্ততির প্রয়োজন তার ছিটেফোঁটাও ছিলো না
তার।।এদিকে বাসা থেকে ফয়সালা দিলো A+না
পেলে তাকে বাসা থেকে বের করে দেয়া
হবে।কেননা A+না পেলে ডাক্তারি পড়তে
পারবেনা।ভাবা যায় কতটা অমানবিক হলে মানুষ এমন
করতে পারে।
.
পৃথিবীর প্রতি ঘৃনা ধরে গেছে ছেলেটার।যেন
এখানে তার জীবনের কোন দাম নেই।নেই তার
ইচ্ছে আর মতামতের অধিকার।অঝর নয়নে কাঁদতে
থাকে ছেলেটা।সে কি বাবা মায়ের কাছে
অযোগ্য?যদি তা না হয় তবে কেন সবাই তার সাথে
এমন করে?উত্তরটা জানা নেই।তবে খুব জানতে
ইচ্ছে করে। তানিম খুব ভালো করেই জানতো
সে যেভাবে পরীক্ষা দিয়েছে তাতে করে
বাবার আশা পূরণ হবেনা।রেজাল্টের পর কি হবে
সেটা ভাবতেই শরীর ঠান্ডা হয়ে আসে তানিমের।
.
বেশিদিন ভাবতে হয়নি।পরীক্ষার ফলাফল দিবে
আজ।তানিম জানে তার জন্য কি ভয়ানক সময় আসতে
চলেছে।সারাদিন রুম থেকে বের হয়নি।ভেতর
থেকে দরজার হুক দিয়ে রেখেছে।নিজের
মোবাইল থেকেই রেজাল্ট দেখছে তানিম।
.
সর্বনাশ!GPA: 3.85। অর্থাৎ A-।বাবা আজ তাকে কি
করবে সেটা ভাবতেই বুকের ভেতর মোচড়
দিয়ে উঠছে।তার ওপর চাচাতো ভাই A+
পেয়েছে।এখন তো অবস্থা আরও বেগতিক।কিছু
সময়ের মধ্যেই বাবার হুংকার শুনতে পাওয়া
গেলো।”কোথায় গেছে হারামজাদা।আজকে
ওকে মেরেই ফেলবো।আমার স্বপ্ন ভেঙে
দিলো বেয়াদবটা।ওদিকে ভাইয়ার ছেলে A+
পেয়েছে।এখন আমি মুখ দেখাই কি করে”।
.
বাবার কথা শুনে তানিমের সারা শরীর কাঁপছে।বাবার
জন্য ডাক্তার আংকেলের দেয়া ঘুমের ওষুধগুলো
একাই নিমিষে সাবাড় করে দিয়েছে।বাবার জন্য
একটাও রাখেনি।অল্প সময়েই মাটিতে পরে
গেলো দেহটা।ক্যামেরাটা হাতেই আছে।চোখটা
ঝাপসা হয়ে আসছে।ওদিকে তাকে খুজতে এসে
বাবা দরজা ভেঙে ফেলেছে।ছেলেটার নিশ্বাস
ঘন হয়ে আসছে।সময় আর বেশি নেই।দেহটা
নিথর হয়ে আসছে।তানিমের এ
অবস্থা দেখে বাবার রাগ যেন কোথায় চলে
গেলো।মা দৌড়ে এসে ছেলেটার মাথা নিজের
কোলে তুলে নিলেন।বাবা-মা বাস্তবতা বুঝতে
পারছেন।কিন্তু ততক্ষনে অনেক দেরি হয়ে
গেছে।মায়ের চোখের দিকে তাকিয়ে একটা
মুচকি হাসির সাথে বড় একটা নিশ্বাস ,শেষ নিশ্বাস।
হয়তো সকলকে কিছু বলতে চেয়েছিলো।
তবে কিছু কথা না বলাই ভালো।
.
————————–সমাপ্ত———

সম্পর্কিত পোস্ট

যদি পাশে থাকো

যদি পাশে থাকো

তাসফিয়া শারমিন ** আজকের সকালটা অন্য রকম। সাত সকালে আম্মু বকা দিলো। মানুষের ঘুম একটু দেরিতে ভাঙতেই পারে। তাই বলে এত রাগার কী আছে ?একেবারে যে দোষ আমারও তাও নয়। মানুষ ঘুম থেকে উঠে ফোনে বা দেওয়াল ঘড়িতে সময় দেখে। কিন্তু আমি উঠি জানালার পর্দা সরিয়ে বাইরের আলো দেখে।কে জানে...

কুড়িয়ে পাওয়া রত্ন

কুড়িয়ে পাওয়া রত্ন

অনন্যা অনু 'আমিনা বেগম' মেমোরিয়াল এতিমখানার গেট খুলে ভেতরে ঢুকতেই ওমরের বুকটা ধুক ধুক করতে শুরু করে। ওমর ধীর গতিতে ভেতরে প্রবেশ করে। চারদিকে তখন সবেমাত্র ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে। ওমর গত রাতের ফ্লাইটে আমেরিকা থেকে এসেছে। সে এসেই সোজা আমিনা বেগম মেমোরিয়াল এতিমখানায়...

দাদাভাইকে চিঠি

দাদাভাইকে চিঠি

প্রিয় দাদাভাই, শুরুতে তোকে শরতের শিউলি ফুলের নরম নরম ভালোবাসা। কেমন আছিস দাদাভাই? জানি তুই ভালো নেই, তবুও দাঁতগুলো বের করে বলবি ভালো আছি রে পাগলী! দাদাভাই তুই কেন মিথ্যা ভালো থাকার কথা লেখিস প্রতিবার চিঠিতে? তুই কি মনে করিস আমি তোর মিথ্যা হাসি বুঝি না? তুই ভুলে গেছিস,...

৩ Comments

  1. Anamika Rimjhim

    গল্পটা মনে হয় একটা সমঝোতা দিয়ে সুন্দর সমাপ্তি করা যেত।
    যাই হোক,শুভ কামনা।

    Reply
  2. Jannatul Ferdousi

    ছোট বেলা→ ছোটবেলা
    দাঁড়িয়েছে বানানে চন্দ্রবিন্দু হবে।
    ভাংতে→ ভাঙতে
    ষ্টুডিও→ স্টুডিও
    ব্যাঁথা→ ব্যথা
    শ্রেনি→ ণ হবে
    আগ্রহি→ আগ্রহী
    পরিমান→ পরিমাণ
    সারাক্ষন→ সারাক্ষণ
    টেষ্ট→ টেস্ট
    পরিক্ষা→ পরীক্ষা
    একঘড়ে→ একঘরে
    খুজতে→ খুঁজতে
    কিছুক্ষন→ কিছুক্ষণ

    গল্পের থিম দারুণ ছিল। এভাবেই অনেক তানিম শেষ করে দেয় নিজের জীবন।
    আপনার লেখার হাত মোটামুটি ভালো। তাছাড়া সমসাময়িক এই লেখাটা অনেক বাবার মার জন্য পড়া দরকার।
    আপনার জন্য শুভ কামনা রইল। কলম চলুক এই প্রত্যাশা করি।

    Reply
  3. Halima tus sadia

    তানিমের জন্য খারাপ লাগলো।
    কিছু বাবা মায় সন্তান কেবল এ প্লাস পাক।সন্তানদের মানসিক প্রেসার দিতে থাকে।যার ফলে অকালেই কিছু ছেলে মেয়ের জীবন ঝরে যায়।
    আর এতো অল্প বয়সে ফটোগ্রাফি সেটাই ওর পড়াশোনা ক্ষতি করেছে।বাবা মার বুঝা উচিৎ সন্তানদের।
    আর পড়াশোনা করতেছে কিনা সেটা খেয়াল রাখা।
    বানানে ভুল আছে
    ব্যাঁথা-ব্যাঁথা
    প্রাইমারী-প্রাইমারি
    ছোট বেলা -ছোটবেলা
    পরক্ষনেই-পরক্ষণেই
    শ্রেনি-শ্রেণি
    খুজতে-খুঁজতে

    ভাংতে-খাঙ্গতে
    ভাংতে-ভাঙ্গতে
    পরিমান-পরিমাণ
    তিনমাসভ-তিন মাস
    টেষ্ট-টেস্ট
    একঘড়ে-একঘরে
    শুশুভ কামনা রইলো।

    ুচু

    Reply

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *