আলোর পথযাত্রী
প্রকাশিত: জুলাই ১৯, ২০১৮
লেখকঃ

 77 বার দেখা হয়েছে

এই লেখক এর আরও লেখা পড়ুনঃ

লেখা: রেহেনা বেগম

‘এত্ত সময় লাগে আসতে’ বলতে বলতে ফোনটা হাতে নিল তানিয়া। সেই কখন থেকে সিয়ামের জন্য অপেক্ষা করছে।
চারিদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার,থমথমে পরিবেশ,ঝিঁ ঝিঁ পোকার কলরব। প্লান মতই সব হচ্ছে। সিয়ামের কথা মতই তানিয়া তার মা আর ছোট বোনকে নানু বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। আজ তারা একে অপরকে পুরোপুরি কাছে পাবে। নিজেকে আজ হারিয়ে দেবে সিয়ামের কাছে। আজ অন্যরকম অনুভূতি হচ্ছে তানিয়ার।
.
প্রায় তিন বছর ধরে তানিয়া আর সিয়ামের সম্পর্ক। সিয়াম ধনী বাবার একমাত্র ছেলে। অনার্স ৪র্থ বর্ষের ছাত্র। আর তানিয়া মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে।অনার্স প্রথম বর্ষে পড়ে। মা আর ছোট বোনকে নিয়ে তার পরিবার। বাবা দু’বছর আগে রোড এক্সিডেন্টে মারা যান। মামা সম্পদশালী থাকায় তাদের আর কোন অসুবিধা হয় না।
.
‘এখনো এলো না’ সিয়ামকে মনে মনে বকছে তানিয়া। রাত প্রায় একটা বেজে দশ মিনিট হয়ে গেছে। সিয়াম আসেনি। কল করার জন্য মোবাইলটা আবার হাতে নিতে যাবে তখনই মোবাইলটা পড়ে যায়। মোবাইল ফোনটা তুলে দেখল সুইচ অফ হয়ে গেছে। অন করে আবার কল দিল। অপাশ থেকে শুনা গেল ‘এই মুহুর্তে সংযোগ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না একটু পরে আবার ডায়াল করুন।’
‘সিয়াম কী তাহলে আমার সাথে প্রতারণা করল। ওতো এমন করবে না। সিয়াম তো বলল ঠিক বারোটায় আসবে। এখন একটা বেজে বারো মিনিট হয়ে গেল। নানু অসুস্থ- এই কথা বলে মাকে পাঠিয়ে দিলাম। কথাটাতো সিয়ামই শিখিয়ে দিন।তাহলে ও আসলো না কেন?আর ফোনই বা অফ কেন?সিয়াম তাহলে আমাকে ধোকা দিয়েছে! ‘ রুমের মধ্যে পায়চারী করছে আর বিড়বিড় করে বলছে তানিয়া।
কোন উত্তর মেলাতে পারছে না তানিয়া।
.
বিদ্যুৎ চলে যায়। মোমবাতি জ্বালিয়ে বসে থাকে সে। বাসায় সে একা। কাজের বুয়াকেও একদিনের জন্য ছুটি দিয়ে দিয়েছে। বুয়া থাকলে সিয়ামের সাথে রাতটা সুন্দরভাবে উপভোগ করতে পারবে না।
চারিদিকে সুনসান নিরবতা। কখনো কখনো কুকুরের ঘেউ ঘেউ শব্দ শুনা যাচ্ছে। অজানা একটা ভয় শুরু হতে থাকলো তানিয়ার মধ্যে। কী যেন একটা ভুল করে ফেলেছে সে। অনেক বড় একটা ভুল করতে যাচ্ছিল। মনে মনে অনুশোচনা করতে লাগল। আল্লাহ কী আমায় ক্ষমা করবেন! না না এই খারাপ কাজ আমি করবো না। সিয়াম আসেনি ভালোই হয়েছে। যিনা কারীর কোন ক্ষমা নেই। এটা আমি জানি। কুরআন এ্যাপসে পড়েছিলাম ব্যভিচারিণী নারী ব্যভিচারী পুরুষ; তাদের প্রত্যেককে একশ’ করে বেত্রাঘাত কর। আল্লাহর বিধান কার্যকর কারণে তাদের প্রতি যেন তোমাদের মনে দয়ার উদ্রেক না হয়, যদি তোমরা আল্লাহর প্রতি ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাক। মুসলমানদের একটি দল যেন তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে।
এদিকে আকাশে কালো মেঘ জমেছে। পাচ-সাত মিনিট পরে প্রচণ্ড বৃষ্টি নামছে, আর আকাশে বজ্রপাতের আওয়াজ শুনা যাচ্ছে। তানিয়া বাসার বারান্দার পাশে একটি রুমে থাকে।
আকাশের বজ্রপাতের ভয়ংকর শব্দে তানিয়ার কান ফেটে যাচ্ছে এবং অনুভব করছে বজ্রপাতগুলো শুধু ওকে কেন্দ্র করেই ঘুর ঘুর করছে।তানিয়া ভয়ে আতংকিত হচ্ছে, বজ্রপাত যেন তার উপরই ঝাঁপিয়ে পড়তে চাচ্ছে। কিছুতেই বজ্রপাতের ভয়ংকর শব্দ ওর কান থেকে যাচ্ছেনা। বজ্রপাতগুলো ওর মাথার উপরেই ঘুর ঘুর করছে। মাঝেমাঝে ওর রুমের দেয়ালের এক পাশে আগুনের ঝিলিক দেখতে পাচ্ছে। উপরে টিনের চাল তাই ওর ভয় ভয় হচ্ছে।
এই ভয়ানক অবস্থা দেখে ওর আর বুঝতে বাকি রইলনা যে, এটা হলো তার সারা রাতের ফল। মনে অশান্তির ঢেউ খেলছ। ভয়ে কাঁদতেছে আর বজ্রপাত থেকে মুক্তি পাওয়ার দুয়া পাঠ করছে । কিন্তু কোন কাজ হচ্ছেনা, বজ্রপাতের ভয়ংকর শব্দ যেন আরো তীব্র আওয়াজ দিচ্ছে,আর ওর রুমের উপর ঘুর ঘুর করছে। তখন আরো আতঙ্কিত হয়ে কান্না শুরু করল আর মনে মনে বলতে লাগল, হে আল্লাহ আমি এখন যে অবস্থাতে আছি সে অবস্থাতে মারা গেলে, জানি আমি জাহান্নামী ছাড়া আর কিছু হতে পারবনা।আমার মনে কুবাসনা ছিল। হে আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করো,হে আল্লাহ আমি এসব পাপের কাজ আর কখনো করবনা, হে আল্লাহ্ আমাকে এই অবস্থাতে মরন দিওনা। হে আল্লাহ্ আমাকে নাপাক থেকে পাক হতে দাও। কিন্তু কোনভাবেই বজ্রপাতের ভয়ংকর শব্দ কমছেনা, তখন তানিয়া ভাবলো কমবেই বা কেনো, আমি এখন যে নাপাকীয় অবস্থায় আছি, সে অবস্থায় তো আল্লাহ্ ডাক শুনবেই না। তানিয়া আরো কান্নায় ভেঙে পড়ল। কিছুক্ষণ পর বজ্রপাতের শব্দ ও রুমের উপরের ঘুর ঘুরানি বন্ধ হলো।
.
তানিয়া বিছানা থেকে ওঠে গোসল করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও পাক হয়ে আল্লাহর দরবারে তওবা করল যে, হে আল্লাহ আমি আরর কোনদিন এইসব কাজ করবনা, কুবাসনা নিয়ে থাকবো না। নাপাকীয় অবস্থায় শুয়ে থাকবো না। আরো অনেক পার্থনা ও তওবা করে ফজরের নামাজ আদায় করল। আর কোন নামাজ ছাড়বেনা বলে প্রতিজ্ঞা করল।
.
খুব ভোরে ঘুম ভাঙ্গলো তানিয়ার। ফজরের নামাজ পড়ে কুরআন তেলাওয়াত করতে শুরু করলো। তানিয়া পড়ছে, “দুশ্চরিত্রা নারী দুশ্চরিত্র পুরুষের জন্য, দুশ্চরিত্র পুরুষ দুশ্চরিত্রা নারীর জন্য, সচ্চরিত্রা নারী সচ্চরিত্রা পুরুষের জন্য এবং সচ্চরিত্রা পুরুষ সচ্চরিত্রা নারীর জন্য।” [সূরা আন-নূর, আয়াত: ২৬]
এভাবে সে কুরআনের আয়াত যত পড়ছে ততই বিগলিত হয়ে যাচ্ছে। কুরআন তেলাওয়াত শেষে সে নাস্তা সেরে নিল। তারপর বারন্দায় দাড়িয়ে সুন্দর আকাশটাকে দেখছে আর মনে মনে ভাবছে, কী সুন্দর আকাশটা! আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীটাকে কত সুন্দর করে সৃষ্টি করেছেন আর আমরা পাপ করে পৃথিবীটাকে অসুন্দর করে দিচ্ছি। সবাই যখন আলোর পথে ফিরে আসবে ঠিক তখনই পৃথিবীটা আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠবে।
কুরআনে সে পড়েছে, “আমি প্রতিটি জিনিসই জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছি, যাতে করে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করে।” মনে মনে ভাবলো আল্লাহ তায়ালা তো সবকিছু জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন। আমার সাথে যাকে সৃষ্টি করেছেন তাকে তো একদিন না একদিন পাব তাহলে এই বিয়ের আগে অবৈধ সম্পর্ক করার কী দরকার।
.
.
‘কী ভাবছিস তানিয়া’ তানিয়ার কাধে হাত দিয়ে বলেন আসমা খাতুন।
‘আরে মা! কখন এলে?’ চমকে ওঠে বলল তানিয়া।
আসমা খাতুন বলেন, ‘এই তো এলাম। তুই এভাবে আনমনে আকাশের দিকে তাকিয়ে কী ভাবছিস আর ভিড়ভিড় করেই বা কী বলছিস?’
তানিয়া ছোট্ট শিশুর মতন মায়ের বুকের ওপর কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। আসমা খাতুন কিছু বুঝে ওঠতে পারেন না।
‘কী হয়েছে তানিয়া’ মেয়ের মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বলেন আসমা খাতুন।
গত কালকে কী অপরাধ করতে যাচ্ছিল সেটা খুলে বলল মাকে। নানু বাড়িতে যে মিথ্যা বলে পাঠিয়েছিল সেটাও তার মাকে বলল। তানিয়ার কথাগুলো শুনে থমকে যান আসমা খাতুন। তবুও তিনি কিছু বললেন না কারণ মেয়েটা যে ভুল বুঝে আল্লাহ তায়ালার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছে -এর চেয়ে বড় আর কী হতে পারে!
‘মা, আমি আর কোনদিন খারাপ পথে পা বাড়াব না। কোন খারাপ চিন্তা মাথায়ই আনবো না। এখন থেকে পরিপূর্ণ ভাবে পর্দা করে ইসলামের প্রতিটি কাজ মেনে চলবো।’ কাঁদতে কাঁদতে মাকে জড়িয়ে ধরে বলে তানিয়া।
মেয়ের এমন কথা শুনে আসমা খাতুনের দু’চোখ ছলছল করে ওঠলো। আল্লাহর কাছে তিনি লাখ লাখ শুকরিয়া আদায় করতে লাগলেন।
মেয়েকে উদ্দেশ্য করে আসমা খাতুন বলেন, ‘তানিয়া, ছেলেটার নাম কি?’
‘ওর নাম সিয়াম’
‘কি করে?’
‘ আমাদের কলেজেই অনার্স ফোর্থ ইয়ারে পড়ছে।’
‘ঠিক আছে। ও যদি আর ফোন দেয় তাহলে সাফ সাফ বলে দিবে সে যেন আমাদের বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসে।’
তানিয়া মাথা নেড়ে বলে, “না মা, আমি সিয়ামকে কখোনই বিয়ে করবো না। আমি এমন একজনকে বিয়ে করব যে আমাকে ইসলামের প্রতিটি কাজ পালনে উৎসাহ দিবে। আর কোন বিষয়ে ভুল করলে শুধরিয়ে দেবে। এমন একজনকে চাই যে আমাকে জান্নাতে নিয়ে যেতে সাহায্্য করবে।মা, আমি কুরআনে পড়েছি, ‘দুশ্চরিত্রা নারী দুশ্চরিত্র পুরুষের জন্য, দুশ্চরিত্র পুরুষ দুশ্চরিত্রা নারীর জন্য, সচ্চরিত্রা নারী সচ্চরিত্রা পুরুষের জন্য এবং সচ্চরিত্রা পুরুষ সচ্চরিত্রা নারীর জন্য।”
আসমা জাহান বলে ওঠেন,”আমিন।”
.
কলেজ থেকে ফেরার পথে অনেকগুলো ইসলামিক বই নিয়ে আসে তানিয়া। মাকে ডেকে বলে, ‘মা, কোথায় তুমি?’
রান্না ঘর থেকে মা এসে বলেন, কিরে কী হয়েছে।
‘দেখ মা বইগুলো কত্ত সুন্দর না!’ একটা একটা করে মাকে দেখিয়ে বলছে।
‘হ্যাঁ।’ মেয়েকে আদর করে বলেন আসমা খাতুন।একটু পর তানিয়া বলে, ‘জানো মা, আজ বোরকা পরে যাওয়ায় কেউ আমার দিকে ফিরেও তাকায় নি। আগে যখন জিন্স প্যান্ট আর শার্ট পরে যেতাম তখন ছেলেরা শরীরে হাত দেবার বাহানায় কাছে এসে গাঁ ঘষতো। আর আজ চোখ নিচু করে আমার সামনে দিয়ে চলে যায়। সত্যই পর্দাই নারীর আসল অলংকার। সেটা আগে বুঝিনি। তুমি আমাকে কত্তবার বুঝিয়েছিলে কিন্তু আমি বুঝতে চাইনি। ‘
‘আজ হোক কাল হোক সবাই যদি এভাবে বুখতে পারে তাহলে পৃথিবীতে ইভটিজিং আর ধর্ষনের মতো অপরাধ ঘটতো না।’ একটা দীর্ধ নিঃশ্বাস ফেলে বলেন আসমা খাতুন।
.
সুন্দরভাবে দিন কাটতে থাকে তানিয়ার। কুরআনের প্রায় ১৬ পারা মুখস্থ করে ফেলেছে। সিয়ামও আর ফোন করেনি। তানিয়ার পরিবার ঢাকা থেকে সিলেটে চলে আসেন মামার বাসায়।
এভাবে কেটে গেল তিনটা বৎসর।
.
আজ তানিয়ার বিয়ে। মনের মতো একজন স্বামী পাচ্ছে। তানিয়ার স্বামী একটি মসজিদের ইমাম আর একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করে। যার সাথে তার বিয়ে হয়নি তাকে সে দেখেনি পর্যন্ত। কারণ সে জানে
‘দুশ্চরিত্রা নারী দুশ্চরিত্র পুরুষের জন্য, দুশ্চরিত্র পুরুষ দুশ্চরিত্রা নারীর জন্য, সচ্চরিত্রা নারী সচ্চরিত্রা পুরুষের জন্য এবং সচ্চরিত্রা পুরুষ সচ্চরিত্রা নারীর জন্য।’
.
পরিপূর্ণ পর্দা করে বিয়ের সাজে বসে আছে তানিয়া। আক্দ শেষ হবার পর শুধু খেজুর দিয়ে আপ্যায়ন করা হয় বরযাত্রীদের। এটা তানিয়ার স্বামীর কথা। কারণ সে বলেছে- ইসলামে মেয়েপক্ষকে বরযাত্রীদে খাওয়ানোর কোন বিধান নেই।
খুব সাদামাটা ভাবেই বিয়েটা হয়ে যায়।
.
বাসর ঘরে বসে আছে তানিয়া। তানিয়ার স্বামী দরজা লাগিয়ে কাছে আসতেই তানিয়া চিৎকার দিয়ে ওঠে, ‘সিয়াম তুমি! এটা হতে পারে না।’
সিয়ামও বলে ওঠে, ‘আমারও তো একি প্রশ্ন তুমি এখানে? তুমিই তাহলে সেই তানিয়া।’
“মানে?” সিয়ামের দিকে তাকিয়ে বলে তানিয়া।
উত্তরে সিয়াম জানায়, ৩ বছর আগে যখন তোমার বাসায় যাবার কথা ছিল তখন তোমার বাসার প্রায় কাছাকাছি চলে আসছিলাম। মোটর বাইক করে আসছিলাম। রাতটাও অনেক অন্ধকার ছিল। হঠাৎ কোথা থেকে যেন একটা ট্রাক এসে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। রাস্তার মধ্যে আমি একা পড়ে থাকি। মোবাইলটাও কোথায় যেন পড়ে যায় আর পাইনি। নিজেকে অনেক বড় পাপী মনে করতে থাকি। মনে মনে ভাবতে থাকি আমার মনে কি ইচ্ছা ছিল হয়তো এর জন্যই আল্লাহ তায়ালা আমাকে এই বিপদে ফেললেন। এখন যদি আমি মারা যাই তাহলে তো আমি গুনাহগার হয়ে মারা যাব। আল্লাহর কাছে অনেক ক্ষমা চাইতে থাকি। আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। যখন জ্ঞান ফিরল তখন নিজেকে হাসপাতালের মধ্যে আবিষ্কার করি। আল্লাহর কাছে কোটি কোটি শুকরিয়া জানাতে থাকি-অন্তত একবার নামাজে বসে আল্লল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে পারব।
তানিয়া কিছু বুঝে ওঠতে পারে না। সিয়ামকে বলল, তুমি আলোর পথে ফিরে এলে কিভাবে সেটাই বল।
সিয়াম বলতে থাকে, আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যান একজন ইমাম সাহেব। যিনি আমাদের বিয়ের উকিল ছিলেন তিনি। আমি সুস্থ হওয়ার পর আল্লাহর কাছে তওবা করি। ইমাম সাহেবের কাছ থেকে ইসলামের অনেক কিছু শিখলাম।তিনি আমাকে বলেন, মহান আল্লাহ বলেন, মুমিনদেরকে বল,তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে এবং তাদের লজ্জাস্থান এর হেফাযত করে, এটা তাদের জন্য.পবিত্রতম তারা যা করে সে বিষয় আল্লাহ অবগত।(সূরা-নূরঃ -৩০)
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ “কোন বেগানা নারীর প্রতি দৃষ্টি দেওয়া চোখের যেনা, অশ্লীল কথাবার্তা বলা জিহ্বার যেনা, অবৈধভাবে কাউকে স্পর্শ করা হাতের যেনা,ব্যাভিচারের উদ্দেশ্যে হেঁটে যাওয়া পায়ের যেনা, খারাপ কথা শোনা।কানের যেনা আর যেনার কল্পণা করা ও আকাংখা করা মনের যেনা। অতঃপর লজ্জাস্থান একে পূর্ণতা দেয় অথবা অসম্পূর্ণ রেখে দেয়”। ( সহীহ আল- বুখারী, সহীহ আল-মুসলিম)।
কুরআন হাদিসের আলোকে নিজেকে পরিবর্তন করতে থাকি । কোন ভুল হলে ইমাম সাহেব আমাকে শুধরিয়ে দিতেন। ছোট ভাইয়ের মত আমাকে স্নেহ করেন। তাই আমি তাকে ইমাম ভাই বলে থাকি। কয়েকদিন পর আমার বাবা বিদেশে মারা যান। একেবারে একা হয়ে যাই আমি। এরপর থেকে ইমাম ভাইয়ের সাথে থাকতে শুরু করি। একদিন তোমাকে ফোন দিব বলে নাম্বার তুললাম তখন ইমাম ভাই বললেন, তুমি কি মেয়েটার সাথে আবার অবৈধ সম্পর্ক করতে চাও?আবার যিনা করতে চাও? আমি নিরব হয়ে রইলাম।
ইমাম ভাই বলেন, তুমি যদি মেয়েটার সাথে কথা বলো তাহলে ওর মিষ্টি মিষ্টি কথায় তুমি আবার খারাপ কাজ করতে চাইবে। তোমার মনে কুবাসনা জাগবে ওকে নিয়ে। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, “যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় করো,তবে পরপুরুষের সাথে কোমল ওআকর্ষনীয়।ভঙ্গিতে কথা বলো না, ফলে সেইব্যক্তি কুবাসনা করে, যার অন্তরে ব্যাধি রয়েছে তোমরা সঙ্গতকথাবার্তা বলবে।” (সূরা আহযাব- ৩২)
সিয়ামের কথাগুলো শুনে তানিয়ার দু’চোখ ছলছল করতে লাগলো। তারপর বলল, এজন্য আজকাল মোবাইলে এই কথা বলার ফিতনায় পড়ে কত ছেলে-মেয়ের জীবন ধ্বংস হয়েছে তা নিশ্চয়ই বলার অপেক্ষা রাখে না। অনেক পরিবারের স্বামী বেচারা, স্ত্রীকে হারাচ্ছে অথবা অসহায় স্ত্রী, স্বামীকে হারাচ্ছে শুধুমাত্র ফোনে নরম স্বরে কথা বলা বা কোন অনুষ্ঠানে আকর্ষণীয় ভঙ্গিমায় কথা বলা বিপরীত লিঙ্গের যেনার দিকে উত্তেজিত করার মাধ্যমে।
‘হ্যাঁ তানিয়া’ তানিয়ার হাতে হাত রেখে বলে সিয়াম। সিয়াম বলে, একদিন ইমাম ভাই এসে তোমার কথা বললেন।আমি রাজি হয়ে যাই। আমি জানতাম না যে তুমিই সেই তানিয়া। তানিয়া, এবার তোমার কথা বলো।
তানিয়া সবকিছু বলল। কিভাবে সে অন্ধকার থেকে আলোর পথে আসলো সবকিছু সিয়ামকে জানালো।
তারপর কিছুক্ষণ নিরবতা। দু’জনের চোখে পানি। হঠাৎ তানিয়া বলে ওঠে, ‘দেখলে সিয়াম আমরা আল্লাহ তায়ালাকে খুশি করতে একে অপরকে ভুলে গিয়েছিলাম আর আজ সেই আমাদেরকে একে অপরের জীবন সঙ্গী বানিয়ে দিলেন।’ দুজনেই আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে নিল।
‘চলো তানিয়া আমরা দুজন অজু করে আসি। আমাদের নতুন জীবন দু’রাকাত নামাজ পড়ে শুরু করি।’ বিছানা থেকে নামতে নামতে বলল সিয়াম।
তারপর দুজনেই অজু করে নামাজ পড়তে লাগল। আর ফেরেশতারা জান্নাতের ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে দিয়ে মোবারকবাদ জানাতে থাকে।
.
(সমাপ্ত)

সম্পর্কিত পোস্ট

যদি পাশে থাকো

যদি পাশে থাকো

তাসফিয়া শারমিন ** আজকের সকালটা অন্য রকম। সাত সকালে আম্মু বকা দিলো। মানুষের ঘুম একটু দেরিতে ভাঙতেই পারে। তাই বলে এত রাগার কী আছে ?একেবারে যে দোষ আমারও তাও নয়। মানুষ ঘুম থেকে উঠে ফোনে বা দেওয়াল ঘড়িতে সময় দেখে। কিন্তু আমি উঠি জানালার পর্দা সরিয়ে বাইরের আলো দেখে।কে জানে...

কুড়িয়ে পাওয়া রত্ন

কুড়িয়ে পাওয়া রত্ন

অনন্যা অনু 'আমিনা বেগম' মেমোরিয়াল এতিমখানার গেট খুলে ভেতরে ঢুকতেই ওমরের বুকটা ধুক ধুক করতে শুরু করে। ওমর ধীর গতিতে ভেতরে প্রবেশ করে। চারদিকে তখন সবেমাত্র ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে। ওমর গত রাতের ফ্লাইটে আমেরিকা থেকে এসেছে। সে এসেই সোজা আমিনা বেগম মেমোরিয়াল এতিমখানায়...

দাদাভাইকে চিঠি

দাদাভাইকে চিঠি

প্রিয় দাদাভাই, শুরুতে তোকে শরতের শিউলি ফুলের নরম নরম ভালোবাসা। কেমন আছিস দাদাভাই? জানি তুই ভালো নেই, তবুও দাঁতগুলো বের করে বলবি ভালো আছি রে পাগলী! দাদাভাই তুই কেন মিথ্যা ভালো থাকার কথা লেখিস প্রতিবার চিঠিতে? তুই কি মনে করিস আমি তোর মিথ্যা হাসি বুঝি না? তুই ভুলে গেছিস,...

৪ Comments

  1. Anamika Rimjhim

    পাচ-পাঁচ*
    শুনা- শোনা*
    পাথনা-প্রার্থনা*
    আরো-আরও*
    ভিড়ভিড়-বিরবির*
    আকাং্খা-আকাঙ্ক্ষা*
    এছাড়াও আরও কিছু বানান ভুল চোখে পড়েছে। আর হ্যাঁ,শুধু বোরকা পরলেই যদি ধর্ষন বন্ধ হতো তাহলে ত ৪-৭৭ বছরের বৃদ্ধা সবাই ধর্ষন এর স্বীকার হতেন না। আবার এমনও না যে যারা বোরকা পড়েন তারা ধর্ষন এর হাত থেকে বেঁচে যান।
    শুভ কামনা।

    Reply
  2. Learner

    গল্পে লেখিকা বাস্তবিক ভাবে ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছে এবং এক পাক্ষিক দৃষ্টিকোণ থেকে বাস্তবিক এবং প্রচলিত সত্য মনে হলেও সব দিক দিয়ে দেখলে গল্প গল্পই, আর গল্প হিসেবে বিচার করলে লেখা ভালো ছিলো বানানে আরও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে,, শুভকামনা ♥

    Reply
  3. Jannatul Ferdousi

    প্লান→ প্ল্যান

    অপাশ→ ওপাশ

    কথাটা সিয়ামই শিখে দিন→ শিখে দিয়েছিল।

    ধোকা→ ধোঁকা

    পাচ→ পাঁচ

    শুনা→ শোনা

    শিক্ষা গ্রহণ করে→ করো

    দাঁড়িয়ে বানানে চন্দ্রবিন্দু হবে।

    ভিড়ভিড়→ বিড়বিড়

    আরো কিছু বানান ভুল আছে।
    গল্প লেখার পর হয়ত রিভিশন দেননি। দিলে অনেক ভুলই নজরে আসতো। ছোটখাটো কিছু বাক্যে ভুল ছিল।
    তবে গল্পের ভেতর কিছু মিসিং লাগছিল। এমনিতে আপনার লেখার হাত ভালোই। গল্পটার থিমও ভালো। কিন্তু বানান আর বাক্য গঠনের ক্ষেত্রে একটু নজর দিবেন।
    শুভ কামনা

    Reply
  4. Halima Tus Sadia

    বাস্তবতার সাথে মিল রেখে
    গল্পটা লিখেছেন।
    ভালো লাগলো।

    শিক্ষণীয় ছিল।

    সিয়াম আর তানিয়ার মতো কতো শত মেয়ে এভাবে খারাপ কাজ করে যাচ্ছে।
    আল্লাহকে ভয় করে না।অবৈধ সম্পর্ক করে নিজের শরীরটাকে বিলিয়ে দিচ্ছে।

    পাপের শাস্তির কথা চিন্তা করে না।
    সিয়াম আর তানিয়ার মত চিন্তা করলে অতি তাড়াতাড়ি খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকতে পারতো।

    সবাইকে নিজের সম্মান রাখার বুঝ দান করুক।নিজের সম্মান নিজেকেই রাখতে হয়।
    অবশেষে তারা একই বন্ধনে আবদ্ধ।পবিত্র ভালোবাসার বন্ধনে একত্রিত।
    এ বন্ধনই সারা জনমের বন্ধন।
    অটুট থাকুক পবিত্র ভালোবাসা।

    বানান ভুল আছে

    ভিড়ভিড়-বিড়বিড়

    দাড়িয়ে-দাঁড়িয়ে

    ধোকা-ধোঁকা

    পার্থনা-প্রার্থনা

    অপাশ–ওপাশ

    শুনা-শোনা

    পাচ-পাঁচ

    প্লান-প্ল্যান

    সুনসান-শুনশান

    সাহায্া্য–সাহায্য

    দীর্ধ-দীর্ঘ

    মুহুর্তে-মুহূর্তে

    বরযাত্রীদে–বরযাত্রীদের

    শিখিয়ে দিন–শিখিয়ে দিল।

    বানানের প্রতি যত্নশীল হবেন।
    অনেক বানান ভুল হইছে।

    শুভ কামনা রইলো।

    Reply

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *