শখের পাখি
প্রকাশিত: অগাস্ট ২০, ২০২০
লেখকঃ আওয়ার ক্যানভাস

আওয়ার ক্যানভাস বই প্রেমীদের মিলন মেলা। লেখকদের লেখা পাঠকের কাছে বই আকারে পৌঁছে দেওয়া, আওয়ার ক্যানভাসের সাথে জড়িতদের সম্মানজনক জীবিকার ব্যবস্থা করার স্বপ্ন নিয়েই আমাদের পথ চলা।

 234 বার দেখা হয়েছে

এই লেখক এর আরও লেখা পড়ুনঃ আওয়ার ক্যানভাস

লেখিকা-উম্মে কুলসুম সুবর্ণা

এই তো সেদিন মেলা থেকে বাসার ছোট্ট ছেলেটা আমাকে কিনে এনেছিলো। তখন তো ছানা পাখি ছিলাম এখন বুড়ো হয়েছি।
বাসায় মোট ছয়জন থাকে। আগে ভাবতাম দুই রুমের ক্ষুদ্র ফ্ল্যাট এ এত গুলো মানুষ কিভাবে থাকতে পারে। পরে বুঝলাম এই সব কিছু ছেলের বউয়ের চমৎকার। অনেক গুণ তার বৃদ্ধা আর বৃদ্ধকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দুই ছেলেমেয়ে সহ দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে চোখের সামনে। এই তো সেদিন বৃদ্ধার চিঠি এলো বৃদ্ধ নাকি মারা গেছে। ছেলে তো যতই হোক মা-বাবার জন্য একটু হলেও মায়া আছে।মা যখন আঁচল দিয়ে মুখ ঢেকেছিলো ছেলের তখন চোখে জলে ছেয়ে গিয়েছিলো। তাই মাকে আর ফেলে দিয়ে আসতে পারেনি ঘরেই নিয়ে এসেছিলো সেদিন। মার পরনে শাড়ি নোংরা,মুখে গন্ধ এই সব দেখে ছেলের বউ ছিঃ ছিঃ করেছিলো তাই বান্ধবীর সামনে মায়ের পরিচয় হলো বাড়ির কাজের খালা।

মরার ক’দিন আগে বৃদ্ধা বিছানায় সারতো সব কাজ। তার টয়লেটে উঠে যাবার মত শক্তি ছিলো না।
এই দেখে বাড়ির বউ ঘৃণা দেখালো।এই তো সেদিন বৃদ্ধার জায়গায় হলো রান্না ঘরে। মা বলল-“আল্লাহ অভিশাপ দিবে দেখো”। অভিশাপ লাগার আগেই বৃদ্ধার হলো ন্যাচারাল ডেইথ।শুধু আমি তো দেখেছিলাম মরার তিন দিন আগের থেকে বৃদ্ধাকে খাবার দেয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো।

যেদিন বৃদ্ধা মারা গেল সেদিন থেকে আমারো খাবার দেয়া বন্ধ হয়ে গেল। খাঁচায় থাকতে থাকতে আমি হয়ে গেলাম রোগা,হাড্ডিসার। আর আগে ছিলো লম্বা লেজ, লাল ঠোঁট, গলায় লাল চেইন।

যেখানে মায়ের দেখা শোনা হলো না। সেখানে আমার দেখা শোনা কি হবে।ছোট ছেলেটা এখন পান-সিগারেট খায় আর ছোট মেয়েটার বাচ্চা হয় না আজ চার বছর হলো।
এইদিকে বৃদ্ধা মরে যাবার পর ছেলের বিজনেস এ ভাঁটা পরল । বাড়ির বউ এখন আর হন্যে হয়ে পার্লার কিংবা শপিংমলে ঘুরে বেড়ায় না।ছোট মেয়েটার জন্য মানত করে দিন রাত আল্লাহর দরবারে।

সম্পর্কিত পোস্ট

মা

মা

ইশু মণি বাহিরে ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে তাসবিহ্ ঘরের দরজা জানালা সব বন্ধ করে ঘরের এক কোণে গুটিসুটি মেরে বসে আছে।টিনের চালে বৃষ্টির ফোঁটা পড়ায় অনবরত শব্দ হচ্ছে, বাসার সাথে লাগানো পেয়ারা গাছটার বিশাল বড় ডালপালা গুলো চালের উপর চলে এসেছে বারবার সেগুলো বারি খাচ্ছে যার কারণে শব্দ...

নীল কমলিনী

নীল কমলিনী

অনুগল্প: নীল কমলিনী লেখা: অনুষ্কা সাহা ঋতু . চন্দনের শেষ ফোঁটাটা দিয়েই মা ঝরঝর করে কেঁদে ফেললেন। ছোট বেলায় এমন কত সাজিয়েছেন আমাকে। তখন মুচকি মুচকি হাসতেন, আর আজ কাঁদছেন। মা টাও ভারি অদ্ভুত। আচ্ছা, তবে কি দুটো সাজের অর্থ ভিন্ন! কি জানি? . হঠাৎ শঙ্খ আর উলুধ্বনি ভেসে...

প্রেমের বিয়ে ও বাবা মা

প্রেমের বিয়ে ও বাবা মা

-মুহাম্মাদ আমিরুল ইসলাম . বউটা বাপের বাড়ি গেছে যেতে চাইনি আমিই জোর করে পাঠিয়েছি, ওর মামাতো ভাইয়ের বিয়ে, এদিকে জ্বরটাও হঠাৎ করে বাড়ছে..। মাথায় পানি দিতে হবে, একা তো উটতেই পারছিনা.. অবশ্য নীলা থাকলেও আমাকে একাই পানি দিতে হতো, প্রেম এর বিয়ে হলে যা হয় আর কি...! পাঁচ বছর...

০ Comments

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *