নীল কমলিনী
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৬, ২০১৮
লেখকঃ

 85 বার দেখা হয়েছে

এই লেখক এর আরও লেখা পড়ুনঃ

অনুগল্প: নীল কমলিনী
লেখা: অনুষ্কা সাহা ঋতু
.
চন্দনের শেষ ফোঁটাটা দিয়েই মা ঝরঝর করে কেঁদে ফেললেন। ছোট বেলায় এমন কত সাজিয়েছেন আমাকে। তখন মুচকি মুচকি হাসতেন, আর আজ কাঁদছেন। মা টাও ভারি অদ্ভুত। আচ্ছা, তবে কি দুটো সাজের অর্থ ভিন্ন! কি জানি?
.
হঠাৎ শঙ্খ আর উলুধ্বনি ভেসে এলো। মা দৌড়ে চলে গেলেন। বাবার হাত ধরে ছোট্ট পরিপাটি রুমটাতে আমি বসে আছি। চেলি চন্দন, আলতা ফুলে শোভিত একদম একটা লাল টুকটুকে কনে। যদিও শাড়িটা একটুও লাল না। নীলকমলিনী হয়ে বসে আছি। ওর প্রিয় রং।
.
ছাদনাতলায় বর বেশে নিপুণ দাঁড়িয়ে আছে। কলরব শুরু হলো “কনে আসছে,কনে আসছে “। আবারো শুরু হলো শঙ্খ আর উলুধ্বনি। কনে কিন্তু পিঁড়িতে করে না ভাইয়ের কোলে চেপে এলো। ছোট্ট দুটো পান পাতার আড়ালে ছোট্ট অধর লুকিয়ে।
.
পান পাতাটা সড়ে গেলো। কেউ খেয়াল করলো না ঠিক,আমার দৃষ্টিতে রাখা দৃষ্টি দুটো জুড়ে বন্যা বয়ছে। আর তো কিছুক্ষণ। ইচ্ছে করছে আজন্ম এই দৃশ্যটার মধ্যেই স্থির হয়ে যায়। সময় নেই আর হয়তো সুযোগ ও।
.
সাত পাঁকটাও পায়ে হেঁটে দিতে দিলো না। নিপুণ কোলে তুলে নিয়েছিলো। ওর দিকে তাকাতেই কানে কানে বলেছিলো,” সব নিয়মই পালন হবে আর সব প্রতিজ্ঞাও। বাঁধা দিও না পিপিন”। চুপটি করেই ছিলাম। শেষ পর্যন্ত। আজ সব ওর ইচ্ছেতেই হবে।
.
সিঁদুরদান টা হয়ে গেলো। সিঁদুরের রক্তিম আভা রাঙিয়ে দিলো আমার সারাজীবন। লজ্জা বস্ত্রের আড়ালেই সিঁথির সাথে সাথে রক্তিম হয়ে উঠলো নাক। কানাঘুষো হচ্ছে,”দেখ না পিপিনের নাকে সিঁদুর পড়েছে। স্বামী সোহাগীনি হবে” (দুষ্টু হাসিতে যেন ঢলেই পড়ছে)।
.
চোখের সামনের যজ্ঞের আগুনটা ধোঁয়াশে হয়ে উঠছে। চারদিক টা কেমন ধোঁয়া ধোঁয়া। কারো শব্দ কান পর্যন্ত এসে পৌঁছুচ্ছেনা। লজ্জা বস্ত্রের আড় থেকে নিপুণের দিকে তাকালাম। হাসি হাসি চেহারাটা যেন মলিন হয়ে গেলো আমার দিকে তাকিয়েই। অদ্ভুতভাবে তাকিয়ে কি যেন বলল বুঝলামই না।
.
চোখ দুটো খুলে রাখতে বড্ড কষ্ট হচ্ছে। জ্বালা করছে খুব। বড্ড ক্লান্ত লাগছে। এবার একটু না শুলেই নয়। গা টা এলিয়ে দিলাম। রাজার রাজকন্যা আজ ঘুমের অতল সমুদ্রে ডুব দেবে। কোনো সোনার কাঠি রূপোর কাঠিও সেই ঘুম ভাঙাতে পারবে না। নীলাবৃত দেহটা ধীরে ধীরে অসার হয়ে আসছে যেন।
.
নিপুণ দাঁতে দাঁত চেপে ঠাঁই বসে আছে। হাতের ভেতর চেপে ধরেছে স্যালাইনের নল লাগানো হাত দুটো। ও হাতে কোনো সাড় নেই। ক্রমশ শীতল হয়ে আসছে। সদ্য শুভ সিঁদুরে রাঙা মুখটিও স্থির হয়ে আছে। আর কমলাক্ষীরা হয়েছে নিস্প্রভ। নীলকমলিনীকে বিদায় জানানোর সময় হয়েছে। ব্রেইন ক্যান্সারটা ওকে আর থাকতে দিলো না। কিন্তু হাত দুটো তো ছাড়তেই মন চাইছে না।।

সম্পর্কিত পোস্ট

মা

মা

ইশু মণি বাহিরে ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে তাসবিহ্ ঘরের দরজা জানালা সব বন্ধ করে ঘরের এক কোণে গুটিসুটি মেরে বসে আছে।টিনের চালে বৃষ্টির ফোঁটা পড়ায় অনবরত শব্দ হচ্ছে, বাসার সাথে লাগানো পেয়ারা গাছটার বিশাল বড় ডালপালা গুলো চালের উপর চলে এসেছে বারবার সেগুলো বারি খাচ্ছে যার কারণে শব্দ...

শখের পাখি

শখের পাখি

লেখিকা-উম্মে কুলসুম সুবর্ণা এই তো সেদিন মেলা থেকে বাসার ছোট্ট ছেলেটা আমাকে কিনে এনেছিলো। তখন তো ছানা পাখি ছিলাম এখন বুড়ো হয়েছি। বাসায় মোট ছয়জন থাকে। আগে ভাবতাম দুই রুমের ক্ষুদ্র ফ্ল্যাট এ এত গুলো মানুষ কিভাবে থাকতে পারে। পরে বুঝলাম এই সব কিছু ছেলের বউয়ের চমৎকার। অনেক...

প্রেমের বিয়ে ও বাবা মা

প্রেমের বিয়ে ও বাবা মা

-মুহাম্মাদ আমিরুল ইসলাম . বউটা বাপের বাড়ি গেছে যেতে চাইনি আমিই জোর করে পাঠিয়েছি, ওর মামাতো ভাইয়ের বিয়ে, এদিকে জ্বরটাও হঠাৎ করে বাড়ছে..। মাথায় পানি দিতে হবে, একা তো উটতেই পারছিনা.. অবশ্য নীলা থাকলেও আমাকে একাই পানি দিতে হতো, প্রেম এর বিয়ে হলে যা হয় আর কি...! পাঁচ বছর...

০ Comments

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *