তিনুর বেঁচে উঠা
প্রকাশিত: অগাস্ট ৮, ২০১৮
লেখকঃ

 27 বার দেখা হয়েছে

এই লেখক এর আরও লেখা পড়ুনঃ

লেখক : মাহমুদা তাহিরা

ঘুম ভাঙলো ভোরেই, বিড়বিড় করে উঠে গেলাম। যদিও প্রায়ই ভোরবেলা উঠতে হয় কিন্তু আমি খুব ঘুমকাতুরে, চোখ থেকে ঘুম সরে যেতে সময় লাগে। রাশভারী বিরক্তি নিয়ে এলার্মটা অফ করলাম। একটা টোন এতো বিচ্ছিরি হয় কি করে! এলার্মের টোনের নাম Extreme, এই টোনে ঘুম ভাঙ্গলে যে কারো দিনটা নির্ঘাত খারাপ যাওয়াটাই তো স্বাভাবিক! একটা মানুষ চোখ পিটপিট করে ঘুমের রাজ্যে স্বপ্নের ঘোড়া চালাচ্ছে তখন হুট করে যখন টাইম ফিট করা বোমার সময়সংকেত টিট টিট করে বাজতে থাকবে! একটা মানুষ মৃত্যুভয় নিয়ে ঘুম থেকে হুড়মুড়িয়ে উঠবে, এটা হয়?
একবার মৃদু টোন দিয়েছিলাম এলার্মে, সাগরের ঢেউ আছড়ে পড়ছে তীরে, সেই মধুর শব্দে ঘুম থেকে তো আর উঠতাম না উল্টো ঘুমে আরো কাঁদা হতাম।
ওযু করে এসে নামাজ পড়লাম, বিনুকেও উঠিয়ে দিয়েছি আজ, উঠিয়ে হাল্কা ধমকের সুরে বলেও এসেছি ‘ সূর্য উঠে গেলো তো, তাড়াতাড়ি নামাজটা নে!’
বলে এসে আনন্দই লাগছে বৈকি! আমি এই পরিবারের বড় সন্তান, তিনু। কিন্তু আমার কোনো আধিপত্য নেই এই সংসারে, থাকার কথাও না, সবার কাছে আমি দুর্বলচিত্তের মানুষ হিসেবে বিবেচিত।
একদিন হয়তো পাশের বাসার রান্নাঘর থেকে ডিমভাজির গন্ধ আসে, ইচ্ছে হয় আম্মাকে গিয়ে বলি, ‘একটা ডিম ভেজে দেওনা? আমার পরোটা দিয়ে ডিমভাজি খেতে ইচ্ছে হচ্ছে’ কিন্তু আমি জানি ফ্রিজে হয়তো এখন দুটা ডিম আছে, যা দিয়ে শিপু আর আব্বার নাস্তা হবে। নাস্তা করার সময় মা তা থেকে একটু ভেঙ্গে বিনুকে দেবে, আমাকে দিবে কিনা জিজ্ঞেস করবে। আমি হ্যাঁ না করে না ই করবো থাক বিনুকেই আরেকটু দাও ও ডিম পছন্দ করে। শিপু বলবে ‘হইছে হইছে তিনু আপু বড় হইয়া গেছে সে না খাইলেও হবে’ শিপু প্রায়ই এমন বেয়াদবি করে কিন্তু আমি কিছু বলতে পারিনা, নিজেকেই যে সামলাতে পারে না আর দুই ভাইবোনকে সে সামলাবে কি করে?
একবার স্কুল বান্ধবী শিউলি বললো তাকে একটা চিঠি লিখে দিতে, আমি নাকি লিখতে পারি ভালো, ক্লাস টেনে তখন, ঘ্যানরঘ্যানরের জ্বালায় রাজি হলাম। বান্ধবী শিউলির জন্য পাড়ার সমিরের চিঠির উত্তর লিখতে বসে বিনুকে ডেকে জানতে চেয়েছিলাম কি লিখবো সে একটু বলে দিক না?
যে বড় বোন বান্ধবীর কারোর জন্য চিঠির উত্তর লিখতে বসে সেভেন পড়ুয়া বোনের সাহায্য নিতে যায় তাকে সম্ভবত ছোটো ভাইবোনেরা বড় বোন হিসেবে মানতে চায় না। আমি ওদের কাছে কুতকুতে টাইপ, ভাত খেতে গেলে জিজ্ঞেস করি, কিরে আম্মা কই? ভাত কি খেয়ে ফেলবো নাকি? তখন আরেক রুম থেকে যে সুযোগ পেয়ে শিপু চোখ কটমট করে তাকায় সেটা আমি বুঝতে পারি। চিবিয়েচিবিয়ে তখন বলে ‘না এখন খাইও না, আম্মা আসুক’
আমিও না খেয়ে এসে শুয়ে পড়ি।
মাঝেমাঝে আমার নিজেকেই নিজের প্রচন্ড বিরক্ত লাগে, ভাবি এমন স্বভাবের কারণটা কি? আরো কত কি ভাবি, ভাবতে ভাবতে ঘেমে উঠি, গরম লাগে, পাশে বসে বাবোল গেম খেলায় ব্যস্ত বিনুকে বলি ‘বিনু একটু কষ্ট করবি? কষ্ট করে ফ্যানটা একটু দে না? গরম লাগতাছে’ বিনু দেখি না শোনার মতো করে থাকে, এই মুহূর্তে বাবোল গেম যে পৃথিবীর যাবতীয় সব কাজের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ সেটা তার ঠোট কামড় দেখেই বুঝা যাচ্ছে।
বলে আমিই চুপ করে থাকি, ছোটোকে এতো খাতির করে না বললেও তো পারি! এভাবেই বললেই হতো না? ‘বিনু ফ্যানটা দে তো তাড়াতাড়ি! এই গরমের মধ্যে কেন ফ্যান বন্ধ করে রাখছোস! গরম লাগতাছে দেখোস না! আর এতো ফোন টিপাস ক্যান! যা পড়তে যা ভালোয়ভালোয়!’
কিন্তু বলতে পারিনা, বলার পরে কি হবে তাও বুঝতে পারিনা।
কলেজেও প্রায়ই এমন হয়, অবশ্য তেমন ভালো বন্ধু নেইও আমার। প্রথম দিকটায় খুব মন খারাপ হতো, একা একা কেঁদেও ফেলতাম সুযোগ পেলে। কলেজের বকুলতলার নিচে, লাইব্রেরির সামনে, ফুচকাভ্যানের পাশটায়, কলের পাড়ের দিক সবটা জায়গাতেই জটলা থাকে, বন্ধুদের জটলা। কোথাও চারজন, পাঁচজন, কোথাও দশ বারোজন, কোথাও দুজনও। কিন্তু একা কেউ নেই, শুধু আমি বাদে।
শুরুর দিকে কথা বলতে চাইতাম কয়েকজনের সাথে, ওদের ভালো লাগতো, স্নিগ্ধা, শিপ্রা, সামিয়া ওদের সাথে বসতে চাইতাম। ওদের কলেজব্যাগ, হাতের ঘড়ি, চুলে বাঁধা রিবন সবকিছুই কি সুন্দর, আমি শুধু দেখতাম। কয়েকদিন টুকটাক কথা বলেছিলো ওরা আমার সাথে কিন্তু এখন আর বলেনা।
এরপর থেকে পুরো কলেজে নিজেকে অপ্রয়োজনীয় লাগতো, ক্লাসের কারো কাছে আমার শুধু প্রয়োজন পড়তো যখন তাদের কলমের কালি ফুরিয়ে যেতো, কারণ তদ্দিনে ওরা ঠিকঠাক বুঝে গেছে আমি ওদেরকে একটা কলম দিয়ে সাহায্য করলাম কিন্তু পরে আর নিজেই ফেরত চাইতে যাবো না। কিংবা দেখা গেলো প্রায়দিনই কেউ এসে বলছে ‘তিনু তোর টিফিন আছে না? আমাকে আজ খাওয়া, মা আজ টিফিন দেয়নি। আমি তোকে আরেকদিন খাওয়াবো ‘
এভাবে আমার টিফিনই শুধু পেটে যেতো কারো, কারো টিফিন আর আমার পেটে না।
মাকে এসে কিছু বলতামও না, সে তার পেটে কেনো এমন হাবলা মেয়ে ধারণ করলো তা নিয়ে আর রাজ্যের কথা শুনতে ইচ্ছে হতো না বলে।
একদিন শিপ্রাকে বলতে শুনেছিলাম সামিয়ার কাছে ফিসফিসিয়ে ‘আরে তিনুর কথা বলছিস! আর বলিস না আস্ত একটা বলদ! এরে অতো পাত্তা দিস না, বোকাটোকা মেয়েরা ভীষণ বিরক্তিকর হয়’
এরপর থেকে আমিও আর ওদের কাছে যেতাম না তেমন। আমি বোকা বলদ বলদ কি না জানিনা তবে এতোটুকু মনে হতো আমারো যদি ওমন সুন্দর ব্যাগ, ঘড়ি, ধবধবে নতুন নতুন ড্রেসে প্রতিদিন কলেজ আসা হতো তাহলে হয়তো ওরা আমাকে ঠিকই পাত্তা দিতো।
সেদিন খুব মন করে ফিরেছিলাম বাসায়, আম্মার কাছে ঘুরঘুর করছিলাম, বারবার ইতিউতি করে থেমে যাচ্ছিলাম, মনে মনে ইতোমধ্যে অনেকবার আউড়ে ফেলেছি যে ‘আম্মা যে ব্যাগটা কলেজে নেই তেমন পছন্দ না আমার, আমার নিজের পছন্দে একটা কিনি এবার?’ কিন্তু পেটের কথা পেটেই থেকে যাচ্ছিলো।
‘কিরে এমন ঘুরঘুর করতাছিস যে? বলবি নাকি কিছু?’
‘আম্মা একটা ব্যাগ কিনতাম, তুমি যদি…’
শেষ না হতেই একটা পাঁচ কেজি ওজনের রামধমক শুনে পিটপিট করে নিজের রুমে এসে শুয়ে পড়লাম, রুম থেকে আম্মার গজগজ শুনতে পাচ্ছি ‘মেয়ে আমার শখ দেখো! দু’মাসও হয়নাই এখন আবার ব্যাগ চাচ্ছে! টাকা কি গাছে ধরে নাকি হ্যাঁ? তোর আব্বারে গিয়া কইস টাকা দিতে, আমার কাছে তো একটা পয়সাও দিয়া রাখেনা!’
আমি নিজেকে মনেমনে অসংখ্য গালি দিচ্ছিলাম, আসলেই তো ব্যাগটা তো এখনও নতুন ইসস আবার চাইতে গেলাম কোনমুখে! ভয়ে ভয়েই কুঁকড়ে যাচ্ছিলাম না জানি আব্বার কাছে আবার বিচার যায়!
উঠে রুমটা গোছাতে গোছাতেই শুনতে পেলাম শিপুর গলা, আম্মার সাথে রাগারাগি করছে সে ‘তুমি টাকাটা দিবা নাকি না! বিকালে ফুটবল খেলা আছে জার্সি কিনতে হইবো, রাতে আবার সবাই মিলে পার্টি দিবো, বিরিয়ানি করবো আর আমি কি চাইয়া থাকমু নাকি!
না, আব্বার কাছে কইতে পারতাম না আমি, হ আমার এখনই লাগবো, দেও কইছি’
আমি দেয়ালভেদ করে না দেখতে পারলেও ঠিকই টের পাচ্ছি, বিড়বিড় করে আলমারি খুলে আম্মা তার পুরনো শাড়ির ভাঁজ থেকে চারশো টাকা বের করে শিপুর হাতে গুঁজে দিচ্ছে।
টপটপ করে কয়েকফোটা পানিও গড়িয়েছিলো সেদিন চোখে, আমি আর কিছু বলিনি। আমার মনে হচ্ছিলো আমার কথা বলার ভঙ্গিটাতেই বুঝি সমস্যা, কেউ কানে নিতে চায়না, বুঝতে চায়না।
নাহয় শিপু তার পার্টির জন্যে চারশো টাকা পেলে আমিও ঠিকই একটা ব্যাগের জন্য পাঁচশোটা টাকা পেতাম।
এভাবেই বিষিয়ে যাচ্ছিলো জীবনটা, একাকীত্ববোধটাও বাড়ছিলো হুরহুর করে। আমার কোনো গুরুত্ব নেই, আমার কোনো অধিকারও নেই।
ছাত্রী হিসেবেও ভালো না, আমার তাহলে কোনো ভবিষ্যৎও নেই।
|
সাত বছর পরের কথা বলছি…
‘আপু কিছু টাকা দিতে পারবা? ভার্সিটিতে প্রোগ্রাম আছে’ ‘আচ্ছা নিস’ উত্তর দিলাম বিনুকে।
খাবার টেবিলের অপর পাশ থেকে দেখি শিপু আড়চোখে তাকাচ্ছে আর কাঁচুমাচু করছে।
‘কিরে শিপু কিছু বলবি নাকি?’ ‘না না কি বলবো, মানে জানতে চাচ্ছিলাম তুমি বেতন পাবে কবে এবার?’
আমার পাতে গোস্ত তরকারি পুরোটা ঢেলে দিতে দিতে মা বললো, ‘শিপুর ফোনটা নষ্ট হয়ে গেছে আর কি, অনেকদিন তোকে বলবে বলবে করছে, তাই বলছিলাম যদি পারিস এবার বেতনটা পেয়ে নাহয়….’
‘আচ্ছা আম্মা কিনে দেবো সমস্যা নাই, বেতনটা পেয়ে নেই।’
এখন রোজ শুক্রবারেও আমি ঘরে বসে থাকি না, বন্ধুদের কল আসে, হ্যাঁ এখন অনেক বন্ধু আছে আমার, অফিসের কলিগ তো আছে আছেই, স্কুল কলেজের বন্ধুরাও এখন কিভাবে এসে উদয় হলো এমন আন্তরিক হয়ে সেটাও ভেবে পাইনা।
কল দিয়েই বলে ‘আজ বের হবি? চল কিছু খেয়ে আসি, ঘুরে আসি কোথাও, জম্পেশ আড্ডা হবে’
আমিও বের হই, বান্ধবীদের সাথে ঘুরাঘুরি করি।
মা সুযোগ পেলেই বিয়ে নিয়ে পীড়া দেয়, আমি মুখ ফিরিয়ে থাকি, কিছু বলিনা। মনে হয় বয়স হয়েছে যথেষ্ট যদিও, তবু এখনই বিয়ে না করি, বিনু শিপুকে ভালোমতন একটা জায়গায় পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করি আগে, এখন যখন টাকা আছে, বরও হয়তো জুটে যাবে।
সারাদিন অফিস করে ক্লান্ত থাকি, রাতে শুয়েই ঘুমিয়ে পড়ি, কিন্তু মাঝেমধ্যে কি যে হয়, একেবারেই ঘুম আসেনা।
নিজেকে তখন খুব বেশি সুখী লাগে নাকি অসুখী লাগে তা নিয়েও দ্বিধায় পড়ে যাই।
আজ আমার টাকা আছে, গুরুত্ব আছে, ঘরের বড় হিসেবে আধিপত্য আছে, সবকিছু চাওয়ার অধিকার আছে। এসব ভাবি মাঝেমাঝেই, ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে যাই।
|
গোসল সেরে টুকিটাকি কিছু লিখার জন্য খাতা কলম নিয়ে বসেছি টেবিলে, সুযোগ পেলেই প্রতি রাতে বসে লিখালিখি করি খানিকটা। মা আসলেন রুমে, প্রতিদিনকার মতো এক কাপ চা নিয়ে,
‘তীনু দেখতো, ডায়েরিটা তোর? বিনুর কাছে নাকি কবে বলছিলি তোর একটা ডায়েরি খুঁজে পাচ্ছিস না?
নে ধর, আলমারির চিপায় পড়েছিলো, আজ ঘরের সব নাড়তে গিয়েই না পেলাম। আর চা টা খেয়ে নে’
বলে মা চলে গেলেন।
ডায়েরিটা দেখে চোখ চকচক করে উঠলো আমার।
বেশি না, মলাটের উপর হাল্কা হয়ে আসা সালটা ২০০৮ এর।
পাতাগুলো উল্টাতে থাকলাম পরম যত্নে। এই ডায়েরিতে লিপিবদ্ধ আছে আমার সেইসব দিনগুলি, একাকীত্বের দিনগুলি, তখনকার জরাজীর্ণ হৃদয় নিয়ে বেঁচে থাকা আদর-অভাবী এক তরুণীর দিনগুলি।
চোখ আটকালো কাঙ্ক্ষিত পাতাতেই,
‘ ১২.১১.০৮ সময়: সকাল ১০ : ০৯
গতরাতে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছিলাম । তবে এখনো বেঁচে আছি, পণ করেছি অপচেষ্টা করে আমি মরবো না, সৃষ্টিকর্তা কপালে যে মৃত্যু-সময় লিখে দিয়েছেন তার আগে আমি আর কোনোভাবেই মরবো না।
ইন্টার পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পর থেকেই সুইসাইডের বিষয়টা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিলো, যা ভেবেছিলাম রেজাল্ট তারচেয়েও খারাপ হয়েছে।
নিজেকে অনেক বুঝিয়ে শেষ চেষ্টাটা করেছিলাম ভর্তিযুদ্ধে, না সেখানেও পরাজিত আমি, কোত্থাও টিকিনি।
তাই গতরাতেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম সুইসাইড করবো, আমার বুঝি বেঁচে থাকার অধিকার ফুরিয়ে এসেছে, পরিবারের অনাদরী অকেজো অকর্মঠ গর্দভ মেয়ে, কলেজেপড়া অ-মেধাবী, মূর্খ মেয়ে, না কারো প্রিয়জন না কারো প্রয়োজন, অ-আকর্ষণীয় বোকা মেয়ে, তার বুঝি বেঁচে থাকতে নেই।
রাত একটার দিকে সবাই ঘুমিয়ে যাবার পর চেয়ারে উঠে দাঁড়িয়েছিলাম, রশি বাঁধাও সম্পূর্ণ তখন, জানালার পর্দা যে খানিকটা ফাঁকা হয়েছিলো খেয়াল করিনি আমি। হঠাৎই পর্দার ফাঁক গলে চোখ গেলো রাস্তায়, আমাদের বাসাটা বড় রাস্তার পাশেই, তিনতলায় ভাড়া থাকি। দেখলাম অন্ধ এক লোক, জামাকাপড় দেখে বুঝাই যাচ্ছে হতদরিদ্র গোবেচারা একজন মানুষ। যদিও রাত বারোটা তবুও রাস্তা ধরে গাড়ির আনাগোনা কম নয়, একের পর ট্রাক আর বাস সাঁ সাঁ করে চলে যাচ্ছিলো রাস্তা পেরিয়ে। অন্ধ লোকটির হাতে স্টিক ছিলো একটা, আমি চেয়ার থেকে নেমে দেখতে লাগলাম অন্ধ লোকটি রাস্তা পেরুনোর চেষ্টা করছে, একবার স্টিকটা রাস্তায় বাড়িয়ে ধরছেন তো আবার পিছিয়ে যাচ্ছেন গাড়ির শব্দে। নাহ কেউ খেয়াল করছে না তাকে, রাস্তায় দুয়েকজন লোকের চলাফেরা মাত্র। আমি দেখছি আর লোকটা ক্রমাগত চেষ্টা করেই যাচ্ছে রাস্তা পেরুনোর, কোনোমতেই সুবিধা করতে পারছেন না। বারবার সামনে গিয়ে আবার পিছিয়ে আসছেন।
আমি ফাঁসির কথা ভুলে গিয়ে কেনো জানি আনমনেই দেখতে লাগলাম তাকে, অন্ধ একটা মানুষ, শতরুপে রুপায়িত পৃথিবীর রুপ যার চোখে শুধু এক রঙেই ধরা পড়ে, কালো! মিশমিশে কালো! অথচ ইস! মৃত্যুর কি ভয় তার।
হঠাৎই আর্তচিৎকারে চোখ বিস্ফোরিত হলো আমার! ওমা একি! বুক ধকধকানি হচ্ছে প্রচন্ড, ল্যাম্পপোস্টের আলোয় লাল রক্ত কালচে দেখাচ্ছে। আনমনে ভাবছিলাম বলে খেয়াল করিনি এরই ফাঁকে অন্ধ লোকটি যে রাস্তার মাঝখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন, হলুদমতো ট্রাকটা সাঁ করে কখন যে এসে ধাক্কা দিয়ে ছুটে পালালো!
লোকটি কাতরাতে লাগলো বিষমভাবে, দৌড়ে ছুটে যাবো কিনা বাসার নিচে ভাবতেই দেখি তৎক্ষণাৎ কোত্থেকে তিনজন লোক এসেও গেলো, হায়হায় রব তুলে ধরাধরি করে অন্ধ লোকটিকে উঠিয়ে নিচ্ছেন, হাসপাতালেই তো নেবেন! হাত পা কাঁপছিলো আমার, কানে সূচ ফোঁটার মতো স্পষ্টই আমি শুনতে পাচ্ছিলাম লোকটির আর্তনাদ, ‘ভাই ও ভাই সাহায্য করেন ভাই খুব কষ্ট হইতাছে, হাসপাতালে নেন ভাই, দয়া করেন’
সরে চলে আসলাম জানালার পাশ থেকে, খাটে ধুপ করে বসে পড়ে স্তব্ধ হয়েছিলাম কিছুক্ষণ! কি ভাবছিলাম মনে নেই, শুধু মনে হচ্ছিলো এ কোনো ইশারা নয় তো আমার জন্য? অন্ধ লোকটির আর্তনাদে কি ছিলো আসলে? পৃথিবীর আলো দেখা থেকে বঞ্চিত হয়েও কি আকুতি তার নিজের জীবনটার জন্য! ভেতরে তোলপাড় চলেছিলো আমার, আমি নিজেকে কত্ত অসুখী ভাবি, কিন্তু এই অন্ধ লোকটার চেয়েও কি আমার অসহায়ত্ব বেশি? এই জীবনটা কি একটাবারের জন্যই নয়? মরে গেলেই রেহাই পেয়ে যাবো? সুইসাইড করলেই আমার সব ঠিক হয়ে যাবে?
প্রশ্নগুলো নিজেকেই করে যাচ্ছিলাম বিড়বিড় করে সারারাত ধরে।
জানিনা লোকটা বেঁচে আছে কিনা, কিন্তু এই যে বাঁচার জন্য একটা আকুতি তা যেনো আমৃত্যু বেঁচে থাকে প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে, মৃত্যুভয়ে আমি যেনো বারবার কাতর হয়ে বুঝতে পারি বেঁচে থাকা মানে কি!
এখন আর লিখবো না, মাথাটা ঝিমঝিম করছে, এক কাপ চা খেয়ে পড়তে বসবো।
আমি এখন শুধু জানি আমাকে বাঁচতে হবে, হ্যাঁ ভালোভাবেই বাঁচতে হবে। ‘
এতোটুকু পড়ে ডায়েরিটা বন্ধ করে ফেললাম, বাকিটা আর না পড়লেও আমি জানি কয়েক পাতা উল্টালেই দেখতে পাবো লিখা আছে,
‘ ১৭.১০.০৯
আলহামদুলিল্লাহ, ঢাবিতে চান্স পেয়েছি, মার্কেটিং বিভাগে। আমি পেরেছি। এবার যেনো জীবনের মোড় ঘুরে যায় স্রষ্টার কাছে সেই চাওয়া।’
চোখ দুটো চিকচিক করছে আমার, এই জল অন্যসব চোখের জলের মতই, নোনতা, কিন্তু আমার কাছে তা অন্যরকম, গাল বেয়ে মাটিতে পড়ার আগে যে জল অনুরোধ করে ‘প্লিজ দু’হাতে মুছে নাও আমায় তবুও পতিত হতে দিওনা!’
আমি এখন মার কাছে যাবো, ইচ্ছে করছে মায়ের পাশে শুয়ে বলি, ‘মা একটা গল্প শুনবে? তোমার মেয়ের গল্প? জীবন চেনানো একটা রাতের গল্প?

সম্পর্কিত পোস্ট

পূনর্জন্ম

জুয়াইরিয়া জেসমিন অর্পি . কলেজ থেকে ফিরেই পিঠের ব্যাগটা বিছানায় ছুড়ে ফেললো অন্বেষা। তারপর পড়ার টেবিলের কাছে গিয়ে চেয়ার টেনে নিয়ে ধপ করে বসে দুই হাত দিয়ে মাথাটা চেপে ধরলো।প্রচণ্ড মেজাজ খারাপ ওর। আজ ওদের সেমিস্টার ফাইনালের রেজাল্ট দিয়েছে। একদমই ভালো করেনি সে। যদিও শুরু...

অনুভূতি

অনুভূতি

লেখা: মুন্নি রহমান চারদিকে ফজরের আজানের সুমধুর ধ্বনি ভেসে আসছে। বাইরে এখনো আবছা অন্ধকার। তড়িঘড়ি করে বিছানা ছাড়লো মালা। ঘরের কাজ সেরে বের হতে হবে ফুল কিনতে। তাড়াতাড়ি না গেলে ভালো ফুল পাওয়া যায় না আর ফুল তরতাজা না হলে কেউ কিনতে চায় না। মাথার ওপরে তপ্ত রোদ যেন...

অসাধারণ বাবা

অসাধারণ বাবা

লেখক:সাজেদ আল শাফি বাসায় আসলাম প্রায় চার মাস পর। বাবা অসুস্থ খুব।তা নাহলে হয়তো আরও পরে আসতে হতো।গাড়ি ভাড়া লাগে ছয়শো পঁচিশ টাকা।এই টাকাটা রুমমেটের কাছ থেকে ধার নিয়েছি।তার কাছে এই পর্যন্ত দশ হাজার টাকা ঋণ হয়েছে।বলি চাকরি হলেই দিয়ে দিব। পড়াশোনা শেষ করে দুই বছর...

১২ Comments

  1. Halima Tus Sadia

    অসাধারণ লিখেছেন।
    বর্ণনাভঙ্গী খুবই ভালো হয়েছে।
    থিমটা ও ভালো লেগেছে।

    গল্পে তিনুর মতো মেয়েদের সংসারে অবহেলার পাত্র হিসেবে দেখে তা সুন্দরভাবে বর্ণনা করা হয়ছে।

    বাস্তবেও তিনুর মতো কিছু মেয়েদের জীবনে এমন ঘটনা রয়েছে।জ্ঞাণ নাই বলে পরিবারে তেমন মূল্যে নেই।ছোট ভাই বোনরাও মূল্যায়ণ করে না।

    অবশেষে তিনুর জীবন বদলে গেছে চাকরি পেয়ে।সবার মন জয় করতে পেরেছে। সফলতায় জীবনকে পূর্ণ করেছে।ভাই বোনদের আশা, আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ করছে।

    বানানে ভুল আছে।

    Extreme শব্দটা আবার ইংরেজিতে লিখলেন কেনো?

    গল্পে বাংলা শব্দ মানায়।

    সময়সংকেত–সময় সংকেত

    হাল্কা-হালকা

    চিবিয়েচিবিয়ে–চিবিয়ে চিবিয়ে

    বান্ধবী–বান্ধুবী

    ঠোট–ঠোঁট

    এরে এতো পাত্তা দেয় না—ওরে এতো পাত্তা দেয় না।

    ওমন–এমন

    কোথা ও দশ বারোজন–কোথাও দশ,বারো জন

    দুজনও-দুজন

    তদ্দিনে–ততদিনে

    মনেমনে–মনে মনে

    একফোটা–একফোঁটা

    কলেজেপড়া–কলেজে পড়া

    অ-আকর্ষণীয়–আকর্ষণীয়হীন

    অ-মেধাবী–মেধাবীহীন

    বানানের প্রতি যত্নশীল হবেন।
    অনেক জায়গায় বিস্ময়সূচক চিহ্ন ব্যবহার করছেন বেশি।

    এই গরমের মধ্যে কেনো ফ্যান বন্ধ করে রাখছোস!—এখানে প্রশ্নবোধক চিহ্ন হবে।

    আর এতো ফোন টিপাস ক্যান!–এখানেও প্রশ্নবোধক চিহ্ন হবে।
    টিপাস হবে না–টিপস হবে।

    সেদিন খুব মন করে ফিরছিলাম বাসায়—সেদিন মনে করে বাসায় ফিরছিলাম

    অনেক দিন তোকে বলবে বলবে করছে–এখানে করবে হবে না(ভাবছে হবে)।

    সৃষ্টিকর্তা কপালে যে মৃত্যু-সময় লিখে দিয়েছেন তার আগে কোনভাবেই আমি মরবো না—–সৃষ্টিকর্তা কপালে যে দিন মৃত্যুর সময় লিখে দিয়েছেন তার আগে কোনভাবেই আমি মরবো না।

    লেখিকার জন্য শুভ কামনা।

    Reply
    • সাইফ মিরাজ

      আপনি লেখিকার ভুল ধরেছেন।
      এখন উল্টো আপনার যে ভুলগুলো আমি ধরলাম বলে আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে তা নিচে উল্লেখ করলাম:
      ______________________________________
      ১.বর্ণনাভঙ্গী→বর্ণনাভঙ্গি
      ২.অবহেলার পাত্র→অবহেলার পাত্রী
      ৩.জ্ঞাণ→জ্ঞান
      ৪.মূল্যে→মূল্য
      ৫.ছোট ভাই বোনরা→বোনেরা
      ৬.আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ করছে→করেছে
      ৭.গল্পের প্রয়োজনে শব্দ ইংরেজি,উর্দু,হিব্রু,ম্যান্দারিন সব ভাষাতেই যেতে পারে
      ৮.সময় সংকেত→ সময়-সংকেত(একসাথে লিখা যেতেই পারে)
      ৯.হালকা→হাল ্কা(ঠিকই আছে বানান)
      ১০.ওরে→ওকে এতো পাত্তা দেয় না
      ১১. এমন→ওমন(বাচনভঙ্গি প্রকাশ করতে ব্যবহার করা যায়)
      ১২.ততদিনে→তদ্দিনে(একসাথে লিখা যেতেই পারে)
      ১৩. মনে মনে→মনেমনে(আগেরটার মতো)
      ১৪.কলেজে পড়া→কলেজেপড়া(আগেরটার মতোই)
      ১৫. অ-আকর্ষণীয়,অ- মেধাবী এগুলোও ঠিক আছে।
      লেখকের এসব ক্ষেত্রে কিছুটা ক্রিয়েটিভিটির সুযোগ আছে।
      যেটা রবীঠাকুর,নজরুল কিংবা মধুসূনেরা করে গেছেন।
      ১৬. “এই গরমের মধ্যে কেনো ফ্যান বন্ধ করে রাখছোস!—এখানে প্রশ্নবোধক চিহ্ন হবে।”
      এখানে আশ্চর্যবোধক চিহ্নও হবে!এটা অবাক হওয়াও বুঝায়।
      ১৭. “সৃষ্টিকর্তা কপালে যে মৃত্যু-সময় লিখে দিয়েছেন তার আগে কোনভাবেই আমি মরবো না—–সৃষ্টিকর্তা কপালে যে দিন মৃত্যুর সময় লিখে দিয়েছেন তার আগে কোনভাবেই আমি মরবো না।”
      এটাও ভুল। মৃত্যু-সময় লেখা যেতেই পারে একত্রে লিখলে।
      ১৮.”অনেক দিন তোকে বলবে বলবে করছে–এখানে করবে হবে না(ভাবছে হবে)।”
      বাচনভঙ্গির সুবিধার্থে এটাও লিখা যায়।
      .
      (নিজে একটু সচেতন হউন।অযথাই কাউকে বিভ্রান্ত করে হেনস্থা করা আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরানো কি ঠিক?)

      Reply
      • Halima tus sadia

        আমি লেখিকাকে একটু বিভ্রান্ত করি নাই।বরং আপনি করছেন।
        ওনি লেখার অনেক জায়গায় স্পেস দেয়নি।তাই সেটি ধরিয়ে দিয়েছি।
        তাতে আপনি এমন রিঅ্যাক্ট করতেছেন কেনো?

        Reply
    • Mahmuda Tahira

      ধন্যবাদ আপু, তবে কিছু ভুল যে শুধু ভুল ছিলো তেমনটাও না, আপনি যেগুলো দেখিয়েছেন তার মধ্যের কিছু ভাব প্রকাশের জন্য ব্যবহার করা যায় যদিও তবু পরবর্তীতে আমি যত্নবান হবো আরো।
      আবারো ধন্যবাদ আপনাকে

      Reply
  2. Anamika Rimjhim

    ভাঙ্গলে -ভাঙলে
    ভালোয়ভালোয়-ভালোয়-ভালোয়
    ঠোট-ঠোঁট
    ফোটা-ফোঁটা
    কোথা ও -কোথাও
    কলেজে নেই -কলেজে নিই/নিয়ে যাই।
    বানানের প্রতি একটু নজর দিবেন।
    গল্পের ম্যাসেজটা খুব সুন্দর। কখনো হাল ছাড়া উচিত না।
    নিজের ভাই বোন হয়ত কারো কারো এমন হয়, মানে যেরকম স্বভাবের লিখেছেন আর কি কিন্তু মা নিজের সন্তানদের মধ্যে তারতম্য করবেন ব্যাপারটা আমি ভালভাবে নিতে পারিনি। মা তো মা-ই তাই না? 🙂
    শুভ কামনা।

    Reply
    • Mahmuda Tahira

      কিছু গল্প যেনো গল্পের মতই, যা ঘটতে পারে আমাদের বাস্তবিক জীবনেও।
      ধন্যবাদ আপনাকে সুন্দর মতামতের জন্য
      @Anamika

      Reply
  3. আফরোজা আক্তার ইতি

    আপনার গল্পের বর্ণনাভঙ্গি অনেক সুন্দর, মনে হচ্ছিল হুমায়ুন স্যারের লেখা পড়ছি। আমি এতোটাই বিমোহিত ছিলাম যে বানানেও খেয়াল করি নি। গল্পটা ভালো লেগেছে। পরিবারের বড় সন্তান হওয়াতে অনেকেই তুচ্ছ ভাবে, তারও যে মন মানসিকতা বলে কিছু আছে সেটা অনেকেই ভুলে যায়। অনেক ক্ষেত্রে মায়েরাও ভাবেন যে পরিবারের বড় সন্তান মানেই ত্যাগ স্বীকার করবে। তার জীবনের আমূল পরিবর্তনের পেছনে যেই কাহিনী রয়েছে সেটিও ভালো লেগেছে। বানানে তেমন কোন ভুল নেই।
    কাঁদা- কাদা।
    ঠোট- ঠোঁট।
    এগিয়ে যান। শুভ কামনা রইল।

    Reply
    • Mahmudatahira

      ধন্যবাদ আপনাকে, গল্পের সারাংশটা সুন্দর করে বুঝে নেওয়ার জন্য ????

      Reply
  4. Rahim Miah

    বুন্ধদের-বন্ধুদের
    হয় নি-হয়নি(দুইটা একসাথে দিলে ভালো হয়)
    জামেলা-ঝামেলা
    দেরী-দেরি
    লেখাটা বেশ ভালো ছিল আর শিক্ষামূলক বটেই। সমাজে এইরকম ঘটনা প্রায়ই হচ্ছে, আর বানানের দিকে নজর দেওয়ার জন্য অনুরোধ রইল।

    Reply
  5. Halima tus sadia

    আমি লেখিকাকে একটু বিভ্রান্ত করি নাই।বরং আপনি করছেন।
    ওনি লেখার অনেক জায়গায় স্পেস দেয়নি।তাই সেটি ধরিয়ে দিয়েছি।
    তাতে আপনি এমন রিঅ্যাক্ট করতেছেন কেনো?

    Reply
  6. Mahbub Alom

    আমাদের মতো কিছু অবুঝ মানুষ কিছু হলেই আত্নহত্যার কথা চিন্তা করে।অথচ এই জীবনটা কতো গুরুত্বপূর্ণ তা আমরা নিজেরাই জানি না।

    তবে এতে কিছু মানুষের দোষ আছে।অবহেলা,অযত্ন,ছোটদের কটু কথা আরো কি।
    এই সামান্য কারণেই আমরা উল্টো পাল্টা চিন্তা করি।যারা জীবনের মানে বুঝে তারা বেঁচে থাকতে চায়।যেমনটি অন্ধ লোকটির ক্ষেত্রে দেখা গেছে।তবে তার চোখে না দেখাই তাকে শেষ পর্্যন্ত মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিলো।
    তবুও তার কি প্রবল বেঁচে থাকার ইচ্ছা।

    গল্পটা অনেক ভালো লেগেছে।শিক্ষামূলক একটি গল্প।তবে পরবর্তীতে বানানের দিকে একটু সচেতন হবেন।

    ধন্যবাদ

    Reply
  7. Sajjad alam

    ভুলগুলো দেখে নেই….
    .
    একটা টোন এতো বিচ্ছিরি হয় কি করে! ____ এত, কী
    .
    Extreme___ পুরো গল্পে একটা ইংরেজি শব্দ ব্যবহার করেছেন যা অসামঞ্জস্য।
    .
    গেলো___ গেল
    পারিনা___ পারি না
    .
    ভাবি এমন স্বভাবের কারণটা কি? ___ কী
    .
    মাঝেমাঝে___ মাঝে মাঝে
    .
    প্রচন্ড___ প্রচণ্ড
    ঠোট___ ঠোঁট
    ভালোয়ভালোয়___ ভালোয় ভালোয়
    .
    বলেনা___ বলে না
    যেতো___ যেত
    কেনো___ কেন
    জানিনা___ চাবি না
    এতোটুকু___ এতটুকু
    রাখেনা___ রাখে না
    ইসস___ স এর ডাবল ব্যবহার
    চায়না___ চায় না
    কিভাবে___ কীভাবে
    .
    পাইনা___ পাই না
    বলিনা___ বলি না
    আসেনা___ অাসে না
    অার্তচিৎকার___ অাত্মচিৎকার
    হলুদমতো___ হলুদ মতো
    যেনো___ যেন
    .
    কী/কি ব্যবহার দুর্বলতা লক্ষণীয়।
    .
    না পূর্ববতী মূল শব্দের সাথে যুক্ত হয়ে বসবে না। আলাদা বসবে। আপনার এ ব্যাপারে ভুল লক্ষণীয়।
    .
    নামকরণটা যথার্থ।
    বর্ণনাও মোটামুটি ভালো।
    কনসেপ্টটাও খুব সুন্দর।
    গল্পটা পড়লে অনেক মানুষ, ছেলে হোক বা মেয়ে তারা এখান থেকে ইন্সপায়ারেশন নিতে পারবে।
    গল্পের মেসেজটা দারুণ ছিলো।
    শুরুর দিকে জমাট না বাঁধলেও শেষের দিকে জমাটবদ্ধ হয়েছে।
    সবমিলে সুন্দর।
    শুভ কামনা।

    Reply

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *