প্রত্যাবর্তন
প্রকাশিত: জুলাই ১৮, ২০১৮
লেখকঃ

 45 বার দেখা হয়েছে

এই লেখক এর আরও লেখা পড়ুনঃ

 

লেখা:মোস্তফা

 

-কোথায় তুমি?
-এইতো বাবু আমি রাস্তায়।আর পনের-বিশ মিনিটের মধ্যেই চলে আসব।
-আসার সময় কি আনবে মনে আছে তো?
-আরেহ হ্যাঁ বাবু,সব মনে আছে।আচ্ছা সব ঠিক ঠাক তো?
-আসলেই দেখবে নাহয়।আচ্ছা রাখি চলে আসো জলদি।বাই!
এ বলেই অনিতার বাসার দিকে হাঁটতে থাকে মারুফ।আজ ১৪ ই ফেব্রুয়ারি। সবাই যে যার প্রেমিকা নিয়ে ব্যস্ত।অনিতা ও মারুফের প্লানটা ও অনেকটা বাকিদের মতোই।দু বছরের সম্পর্ক তাদের।প্রথম প্রথম একটু বোকাসোকা ছিল মারুফ, তবে অনিতার সাথে রিলেশন হওয়ার পর তারা দুজনেই মর্ডার্ন।আজকালকার শহুরে প্রেমের অন্যতম অধ্যায় ‘রুম ডেট’।আধুনিক-আধুনিকাদের কাছে এ-ই যেন সম্পর্কের মূল ভিত্তি।আজ তাদের প্লান টাও সে লক্ষ্য পূরণের।
যাক একটা রিক্সা নিয়ে অনেকটা পথ ই অতিক্রম করে ফেলেছে মারুফ।সামনে ই নামতে হবে। তার মাঝে ই যেন এক বিনা মেঘে বজ্র এসে পড়ল তার উপর।অনেকটা তার মতোই দেখতে একটা ভার্সিটি পড়ুয়া ছেলে রাস্তা পারাপারে ব্যস্ত ছিল।ক্ষণিকের মধ্যেই একটি ট্রাক ছেলেটিকে স্বজোরে আঘাত করল।কি বিভত্স সে দৃশ্য!ছেলেটির মাথা একেবারেই থেতলে গেছে।মাথার মগজগুলো রাস্তার চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে গেছে।ট্রাক থামল না,চলে গেল!রক্তের এক ছোট খাট নালা বয়ে গেল ছেলেটির গা ধরে।
সেখানেই থমকে গেল মারুফ।যেহেতু রাস্তাটা জনবহুল খুব তাড়াতাড়ি লাশটি সরিয়ে নিল কর্তৃপক্ষ।সিটি কর্পরেশন এর লোকেরাও ব্যস্ত রক্ত পরিস্কার করায়।নিমিষেই ২ ইঞ্চি গোলাকার পাইপের পানি দ্বারা সব সাফ।আবার গাড়ির আনাগোনা।রিক্সাওয়ালাকে কখন টাকা দিয়ে বিদায় করে দিয়েছে তাও ঠিক মনে নেই।সব ঘটনা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেছে সে।মাথায় অনেক প্রশ্ন ঘুরছে,তবে এসব নিয়ে ভাবতে গেলেই বুকে কেমন যেন চাপ পরছে।
আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার….
নিকটেই মসজিদ, আসরের আজান এর ধ্বনি কানে বেজে উঠল।মাথায় প্রশ্ন আসে,”এ জীবন কি আসলেই গুরুত্বপূর্ণ? ” অথবা “এই ক্ষণিকের সুখগুলো?”
যেহেতু দেখা করার কথা আজ।তাই সব কাপড় ই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন।’কাপড় ভালো নেই’-এই অযুহাত আজ তাহলে বিবেকের কাছে খাটছে না।সিম টা অচিরেই মোবাইল হতে কোনো এই গহিন গভীরে তলিয়ে গেছে।অযু করে সালাতে দাঁড়িয়ে আছে মারুফ।আস্তে আস্তে এ জীবনের উদ্দেশ্য গুলো এক এক করে ভেসে উঠছে।বিবেক বলে উঠল,”তুমি এখানে একটি উদ্দেশ্যে এসেছো,এ জীবনটা-ই অন্তিম নয়!”
অনিতার কথা মাথায় নেই,হয়ত আর আসবে ও না।মসজিদ হতে বেরুতেই কি জানি কি হলো মারুফ বলে উঠল,”মন থেকে ভালোবাসি!”
পিছন হতে-“কাকে ভাই?”
-আমার আল্লাহকে!

সম্পর্কিত পোস্ট

মা

মা

ইশু মণি বাহিরে ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে তাসবিহ্ ঘরের দরজা জানালা সব বন্ধ করে ঘরের এক কোণে গুটিসুটি মেরে বসে আছে।টিনের চালে বৃষ্টির ফোঁটা পড়ায় অনবরত শব্দ হচ্ছে, বাসার সাথে লাগানো পেয়ারা গাছটার বিশাল বড় ডালপালা গুলো চালের উপর চলে এসেছে বারবার সেগুলো বারি খাচ্ছে যার কারণে শব্দ...

শখের পাখি

শখের পাখি

লেখিকা-উম্মে কুলসুম সুবর্ণা এই তো সেদিন মেলা থেকে বাসার ছোট্ট ছেলেটা আমাকে কিনে এনেছিলো। তখন তো ছানা পাখি ছিলাম এখন বুড়ো হয়েছি। বাসায় মোট ছয়জন থাকে। আগে ভাবতাম দুই রুমের ক্ষুদ্র ফ্ল্যাট এ এত গুলো মানুষ কিভাবে থাকতে পারে। পরে বুঝলাম এই সব কিছু ছেলের বউয়ের চমৎকার। অনেক...

যদি পাশে থাকো

যদি পাশে থাকো

তাসফিয়া শারমিন ** আজকের সকালটা অন্য রকম। সাত সকালে আম্মু বকা দিলো। মানুষের ঘুম একটু দেরিতে ভাঙতেই পারে। তাই বলে এত রাগার কী আছে ?একেবারে যে দোষ আমারও তাও নয়। মানুষ ঘুম থেকে উঠে ফোনে বা দেওয়াল ঘড়িতে সময় দেখে। কিন্তু আমি উঠি জানালার পর্দা সরিয়ে বাইরের আলো দেখে।কে জানে...

৭ Comments

  1. Anamika Rimjhim

    শুরুটা ভাললাগেনি তেমন।বানান ২/৩ টা ভুল আছে।তবে শেষটা ভাল ছিল।
    শব্দ সং্খ্যা অনেক কম ছিল।শুভ কামনা।

    Reply
    • মোস্তফা

      ধন্যবাদ আপু!????

      Reply
    • মোস্তফা

      অসংখ্য ধন্যবাদ! 🙂

      Reply
  2. Jannatul Ferdousi

    কি আনবে→ কী আনবে

    ঠিক ঠাক→ ঠিকঠাক

    প্লানটা→ প্ল্যানটা

    মর্ডার্ন→ মডার্ন

    পথ ই→ পথই

    বিভৎষ বানান এমন হবে।

    গহীন বানান এমন হবে।

    মাঝে মাঝে ই→ মাঝেমাঝেই

    সাদামাটা গল্প। গল্পটা বিস্তর উপস্থাপন প্রয়োজন ছিল। ভেতরে তেমন গল্পের রস পেলাম না। একটু টুইস্ট দরকার, দরকার ছিল বর্ণনাভঙ্গীর।
    তবে এভাবে লিখতে লিখতেই ভাল লিখবেন।
    শুভ কামনা।

    Reply
    • মোস্তফা

      ধন্যবাদ!
      আগামীবার হতে শুধরানোর চেষ্টা করব।ইনশাআল্লাহ! ????

      Reply
  3. Halima Tus Sadia

    ভালোই লিখেছেন।

    তবে গল্পটা ছোট।প্রতিযোগিতার জন্য বড় গল্প লিখতে হয়।

    মারুফের মতো সব ছেলেরা বুঝলে প্রেম থেকে দূরে থাকতো।
    সবাইকে এ অবৈধ প্রেম থেকে আল্লাহ রক্ষা করুক।আল্লাহকে ভালোবাসার মাঝেই রয়েছে প্রকৃত সুখ।

    আর এক্মিডেন্টের কথা মনে পরলে খুবই খারাপ লাগে।
    চোখের সামনে কেউ মারা গেলে তখন মনে হয় মৃত্যু খুবই সন্নিকটে।

    প্রেমের কারনে আজ আমরা খারাপ পথে যাচ্ছি।মেলামেশা করছি।
    আল্লাহ সবাইকে প্রত্যাবর্তন হওয়ার সুযোগ দান করুক।

    বানানে ভুল আছে

    গহিন– গহীন

    প্লানটা-প্ল্যানটা

    মর্ডার্ন–মডার্ন

    শহুরে-শহরে

    পনের-পনেরো

    পথ ই -পথই

    ঠিক ঠাক-ঠিকঠাক

    মাঝে মাঝেই–মাঝেমাঝেই।

    বানানের প্রতি যত্নশীল হবেন।
    এগিয়ে যান। শুভ কামনা।

    Reply
    • মোস্তফা

      অসংখ্য ধন্যবাদ দোয়া রাখবেন!

      Reply

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *