লেখা_কানিজ_ফাতিমা ,
,
গত বছর রোজার শুরুতেই একদিন বাবা হঠাৎ করে বলল, এবার কাশ্মীর ঈদ করব। শুনেই মনটা খুশিতে নেচে উঠল। বইয়ে অনেক পরেছি কাশ্মীরের কথা, শুনেছি কাশ্মীরকে নাকি বলা হয় ভূস্বর্গ। তাই দিন গুনতে লাগলাম।
আমরা রওয়ানা দিলাম ২৮ শে রমজানের দিন অর্থাৎ ৪টা জুলাই। আমরা একটা প্যাকেজ ট্যুরের সহযোগিতায় যাত্রা শুরু করলাম। প্রথম দিন ঢাকা কলকাতা, অতঃপর কলকাতায় একরাত থাকার পর ভোর রাতে সেহরি খেয়েই এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম। কলকাতা থেকে দিল্লির পথ দুই ঘন্টার। দিল্লি থেকে আবার প্লেন পরিবর্তন করে কাশ্মীর ঢুকতে হবে।
কাশ্মীরে ঢোকার সময় চেকিং হল। আমার আর বাবার পায়ে কেড্স ছিলো। তারা কেড্স খুলে পর্যন্ত চেকিং করল। এরপর সাড়ে আটটায় প্লেনে উঠলাম।
দিল্লি থেকে কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগর দেড় ঘন্টার পথ। প্লেনের জানালা দিয়ে কাশ্মীর দেখছিলাম, তখনই মাইকে এলাউন্স করা হলো ওয়েলকাম টু শ্রীনগর। নামলাম পাহাড়ঘেরা এক অজানা শহর। এয়ারপোর্টের নেমে দেখলাম সেখানে কাশ্মীরের একজন লোক একটি কাগজে বাবার নাম লিখে দারিয়ে আছে, বুজলাম তিনি গাড়ি নিয়ে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছেন। আমরা মালপত্র নিয়ে গাড়িতে উঠলাম।
রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে কাশ্মীরেরর রাজধানী শ্রীনগর দেখছিলাম। অপূর্ব সুন্দর নাম না জানা গাছ আর দরজা দুধারে আর রাস্তার মাজখানে লাগানো আছে গোলাপসহ নানা ফুলের গাছ। বাড়িগুলোও খুব সুন্দর, শীতকালে বরফ জমার দরুন বাড়ির ছাদ আর জানালাগুলো সম্পূর্ণ ভিন্ন রকম।
হোটেলে পৌছিয়ে ফ্রেশ হলাম। রোজা রাখার কারণে শরীরটা খুব ক্লান্ত তাই একটু বিশ্রাম নিলাম। ড্রাইভার জানালে কখন দর্শনীয় স্থান দেখতে যেতে হবে। আমরা দুঘন্টা সময় চাইলাম। দুঘন্টা বিশ্রামের পর আমরা বের হলাম।
প্রথমেই গেলাম ” চেশমেশাহী ” নামে একটি বাগানে,,,,সেখানে এমন একটি জায়গা আছে যেখান থেকে অনবরত পানি নির্গত হচ্ছে যা পান করার যোগ্য। সেই পানির উৎস কোথা থেকে আসে কেউ জানে না। সবাই সেখান থেকে পানি সংরক্ষণ করছিল। এত ঠান্ডা পানি ছিলো যে ফ্রিজের থেকেও ঠান্ডা, ওই পানিতে পা দিয়ে দেখলাম পা ঠান্ডায় জমে যাচ্ছে। বাগানে নানা রকম ফুল গাছের সমারোহ দেখে আমি সত্যিই বিমোহিত হলাম।
সেখানে কিছুক্ষণ কাটানোর পর গেলাম ” নিসাত গার্ডেনে “। এটি মোঘল বাদশাহদের তৈরি। বাগানে তৈরি করা ছিলো অনেক উচু উচু ফোয়ারা। একটি বেয়ে নিচে নেমে যাচ্ছে আরেকটি ফোয়ারা, তার নিচে আরেকটি সবশেষে পানি যেয়ে পড়ছে ডাল লেকে। এটি এক অপূর্ব দৃশ্য,, যা স্বচক্ষে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না,,, আর তার চারপাশটা পাহাড় দিয়ে ঘেরা। সেখানে ফটোগ্রাফাররা দাঁড়িয়ে ছিলো কাশ্মীরেরর ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিয়ে ছবি তোলার জন্য। আমরা সেই পোশাক পরে ছবি তুললাম।
এরপর গেলাম মোঘল বাদশাহদের তৈরি আরেকটি বাগানে যার নাম ” শালিমার বাগ “। এটিও নানান ফুল আর সুন্দর ফোয়ারা দিয়ে ঘেরা। এতোগুলো সুন্দর জায়গা দেখে রোজা রেখেও কিন্তু ক্লান্ত হলাম না।
এরপর গেলাম ” হযরতবাল মসজিদে “,,, সেখানে আসরের নামায আদায় করলাম। মসজিদটা বাইরে দিয়ে যতটা সুন্দর তার থেকে দিগুণ সুন্দর ভিতরটা যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। তারপর হোটেলের দিকে রওয়ানা হলাম। ড্রাইভারর বলল,, এখানপ ইফতারের সময় ৭.৫০ মিনিট, অর্থাৎ আমাদের দেশের রাত ৮.২০ মিনিট। তাহলে বুজতেই পারছো, সূর্যটা কতো পশ্চিমে। রোজা রাখাটা সেদিন খুবই কষ্টের ছিলো। ইফতার করেই জানলাম কাল ঈদ।
পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মীরে চাদ দেখা যাওয়ার কারণে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরেও ঈদ ঘোষিত হলো। আমরা পরদিন কোথায় তা ড্রাইভাররের কাছে থেকে যেনে নিলাম। ঈদের জামাত হবে সকাল নয়টায়।
সকাল সকাল ফ্রেশ হয়ে নতুন পান্জাবী পরে, গাড়ি করে গেলাম কাশ্মীরের ঈদগাহ মাঠে। মাঠটির চারপাশে বড় বড় চিনার গাছ দিয়ে ঘেরা। গাছের পাতাগুলো কানাডার ম্যাপল গাছের পাতার মতো।
ঈদগাহে আমাদের দেশের মতো মাদুর বা কার্পেট বিছানো ছিলো না। পাশাপাশি আমরা কোনো মাদুর বা জায়নামাজ ও নিয়ে যাইনি। কি করব বুজতে পারছিলাম না। উপস্থিত মুসল্লিরা বুজতে পারলে আমরা ভিনদেশি, তারা তারাতারি করে তাদের আনা অতিরিক্ত জায়নামাজ আমাদের দিলো।
আমরা ঘাসের উপর সেটি বিছিয়ে ইমামের খুতবা শুনছিলাম। লক্ষ লক্ষ মানুষ সেখানে ঈদের নামাজ পরতে এসেছিল, তাই সত্যিই খুব ভালে লাগল। ইমাম যদিও উর্দু ভাষায় খুতবা দিচ্ছিলেন, তবুও তার কথা কিছু কিছু বুজলাম। তিনি সমগ্র কাশ্মীরবাসী তথা বিশ্বমানবজাতির শান্তি কামনা করছিলেন।
নামায সম্পন্ন করে সেই চিনার গাছের কাছে দাঁড়িয়ে ছবি তুললাম। এতো লোকের সমাবেশে ঈদের নামায এই প্রথম আমার জীবনে, তাই কখনো ভুলব না কাশ্মীরে পড়া ঈদের নামায।
যদি পাশে থাকো
তাসফিয়া শারমিন ** আজকের সকালটা অন্য রকম। সাত সকালে আম্মু বকা দিলো। মানুষের ঘুম একটু দেরিতে ভাঙতেই পারে। তাই বলে এত রাগার কী আছে ?একেবারে যে দোষ আমারও তাও নয়। মানুষ ঘুম থেকে উঠে ফোনে বা দেওয়াল ঘড়িতে সময় দেখে। কিন্তু আমি উঠি জানালার পর্দা সরিয়ে বাইরের আলো দেখে।কে জানে...
০ Comments