জীবন মানে যন্ত্রণা
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারী ৬, ২০১৮
লেখকঃ vickycherry05

 185 বার দেখা হয়েছে

এই লেখক এর আরও লেখা পড়ুনঃ vickycherry05

লেখকঃ
মোস্তফা ইবনে (মাহী)
(লাল চোখ কালো ঠোঁট)
(ফেব্রুয়ারী’১৮)
…………………

আটপৌর কেরানীর আকাশে কোন সূর্য থাকেনা। মিমু তুমি চলে না গেলে আমি বুঝতেই পারতাম না। আমি ভুলে গেছি কবে কোন কালে নিপ্পন নাকি কোন দেশে সূর্য উঠেছিল। ইদানীং শুনি সেটা জাপান নয় ফিজি।

নক্ষত্রের কিছু ঝলকানিকে আলো ভেবে অফিস ছুটির পর সবার শেষে বাসে বাডুর ঝোলা হয়ে ঘরে ফেরে বাজারের ব্যাগ নিয়ে দে ছুট। সস্তা আলু পটল ডিম পামওয়েলে ভর্তি ব্যাগে ক্লান্ত শরীর। দোকানী করুনার চোখে দেখে অধম বেচারা!ভিখারির থালা হতে ফিরে আসে আধুলি,ঘরে এসে টিভির রিমোট খোঁজে জীবন মানে জী বাংলা। বউ ঝামটা মারে ছেলে ট্যা ট্যা করে,বাবা খুক খুক কেঁশে বলে খোকা ইনহোলার শেষ।ব্যাস্ততা শেষে নগ্ন রাতে নামে বীভৎস কাম অনাদি ব্যাৎসায়ন কোকশাস্ত্র। তেলপিয়া মাছের মুখে আসে আগামীর ডিম শিশু। পঁচা প্রণয়ের দূঃগর্ন্ধ ছোটে,প্যাক কাদায় কেঁকিয়ে চলে জীবনের চোরাস্রোত। গেটের মুখে পড়ে থাকে প্যান্থারের প্যাকেট। কিশোরীর মুখে ফুটে স্বলজ হাসি।

গলির মুখে ঝংকার তুলে মমতাজের গান। পানের পিকে ঠোট লাল করে সস্তা ফেসপাউডার মাখা যুবতী। ভাদ্রের ভ্যাপসায় জয় গোস্বামীর কবিতা ট্রামের চাকায় পিষ্ট। ডাস্টবিন হতে উঠে আসা কমরেডের লাল লিফলেট,পাতি গুন্ডার খিস্তি ছোটে। ইস্ট ইনডিয়া কোম্পানীর ইতিহাসের পাতায় মোড়ানো চানাচুরের ঝাঁলে
কিশোরীর ঠোট বাঁকানো ফেসবুকে সেলফি,লাইক কমেন্ট ঝড় উঠে। সিনেমার পোস্টারে অর্ধনগ্ন বুকে খোঁজে ঝুলে পড়া স্ত্রীর বুক। বেঙ্গল গ্যালারী বেইলী রোড ছেড়ে চলে বোট্যানিকাল গার্ডের চিপাায়। ককুরের মুখের খাবার কেড়ে নেয় পোলিও শিশু,বস্তা বন্দী নাগরিকের লাশ পড়ে থাকে ফুটপাথে। ওহঃ মিমু তুমি জানো না ঢাকাই ছবির সংলাপ মুখে লিপিস্টিক ঠোট “জীবন মানে শাবানার সংসার”।
রেল ক্রসিংএ ট্রাফিক জ্যাম বাইপাসে চলে জীবনের স্পন্দন। হট পটে উল্টো যায় পাঙ্গাশ মাছের ঝোল ।

যদি নামে বৃষ্টি হাটু জলে কাদা থাকে,ঘূর্নি বায়ুতে মেঘ ডেকে যায় নিকষ কালো অন্ধকার কোথায় থাকে সূর্য? তবু সকাল আসে,পাঁক খেয়ে এগিয়ে চলে জীবনের চোরাস্রোত। সিনেমা হল মুক্তি পায় নতুন চলচিত্র। বার বছরে কিশোর উদাস কন্ঠে গেয়ে উঠে “জীবন মানে যন্ত্রনা”।????

সম্পর্কিত পোস্ট

মা

মা

ইশু মণি বাহিরে ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে তাসবিহ্ ঘরের দরজা জানালা সব বন্ধ করে ঘরের এক কোণে গুটিসুটি মেরে বসে আছে।টিনের চালে বৃষ্টির ফোঁটা পড়ায় অনবরত শব্দ হচ্ছে, বাসার সাথে লাগানো পেয়ারা গাছটার বিশাল বড় ডালপালা গুলো চালের উপর চলে এসেছে বারবার সেগুলো বারি খাচ্ছে যার কারণে শব্দ...

শখের পাখি

শখের পাখি

লেখিকা-উম্মে কুলসুম সুবর্ণা এই তো সেদিন মেলা থেকে বাসার ছোট্ট ছেলেটা আমাকে কিনে এনেছিলো। তখন তো ছানা পাখি ছিলাম এখন বুড়ো হয়েছি। বাসায় মোট ছয়জন থাকে। আগে ভাবতাম দুই রুমের ক্ষুদ্র ফ্ল্যাট এ এত গুলো মানুষ কিভাবে থাকতে পারে। পরে বুঝলাম এই সব কিছু ছেলের বউয়ের চমৎকার। অনেক...

নীল কমলিনী

নীল কমলিনী

অনুগল্প: নীল কমলিনী লেখা: অনুষ্কা সাহা ঋতু . চন্দনের শেষ ফোঁটাটা দিয়েই মা ঝরঝর করে কেঁদে ফেললেন। ছোট বেলায় এমন কত সাজিয়েছেন আমাকে। তখন মুচকি মুচকি হাসতেন, আর আজ কাঁদছেন। মা টাও ভারি অদ্ভুত। আচ্ছা, তবে কি দুটো সাজের অর্থ ভিন্ন! কি জানি? . হঠাৎ শঙ্খ আর উলুধ্বনি ভেসে...

০ Comments

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *