ইন্টারভিউ
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৩, ২০১৭
লেখকঃ vickycherry05

 58 বার দেখা হয়েছে

এই লেখক এর আরও লেখা পড়ুনঃ vickycherry05
Moniruzzaman Sarkar
নাবহান ঢাকায় এসেছে। তার নানা বড় আশা করে নাম রেখেছিলেন নাবহান। আজ ওর চাকুরির ভাইবা। কালো প্যান্ট আর ঘিয়া রঙের ফুলহাতা শার্ট ইন করে রাস্তা দিয়ে সে হেঁটে চলেছে। পায়ে সদ্য কালি করা জুতো। এই গরমে ফর্মাল ড্রেসে সে ঘেমে-নেয়ে একাকার। তার ডাক পরতে প্রায় দৌড়ে গিয়ে সাক্ষাতকার রুমে প্রবেশ করলো: সিনেমা-নাটকে সে দেখেছে ভাইবা বোর্ডের সদস্যরা হয় ভুঁড়িওয়ালা। তারা চেয়ারে হেলান দিয়ে আড় চোখে তাকিয়ে প্রার্থীকে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করে। কিন্তু আজ ঘটনা ঠিক তার উল্টো। তাদের সকলকেই তার পুরোদস্তুর ভদ্রলোক বলেই মনে হলো। বোর্ড: নাম কী? – জ্বি, মোঃ নাবহান। নামের পিছে আর কিছু নাই? – জ্বিনা। নাবহান অর্থ কী? -খ্যাতিমান। আপনি তো বাংলায় পড়াশুনা করেছেন। আচ্ছা বলুন তো রবীন্দ্রনাথ এর স্ত্রী প্রমিলা দেবী কত সালে মারা যান? -স্যার উনি তো নজরুলের স্ত্রী। ও, তাহলে বলুন প্রমীলা দেবী কত খ্রিস্টাব্দে মারা যান? – দুঃখিত স্যার, এটা বলতে পারছি না। (আরেক জন সদস্যের দিকে তাকিয়ে) বুঝলেন, সাদেক সাহেব এই যুগের পোলাপান তো পড়াশোনা কিছু করে টরে না। খালি মোবাইল নিয়া টেপাটেপি। অন্যজন ঘাড় নেড়ে সায় জানালেন। বলুন তো দেখি নাসার বর্তমান প্রধানের নাম কী? – দুঃখিত স্যার। তাহলে বলুন তো দেখি ব্রহ্মপুত্র নদের দৈর্ঘ্য কত? – এতক্ষণে নাবহান যা বোঝার বুঝে ফেলেছে। সে একবার প্রশ্ন করতে চাইলো সিলেকশন কী আগেই হয়ে গেছে? কিন্তু ভাইবা বোর্ডে তো এসব কথা বলা নিষেধ। রুম থেকে বেরুনোর সময় নাবহানের কানে ভেসে আসলো: আজকালকার পোলাপান কি আর পড়াশোনা করে? (অন্যজন সায় দিয়ে) ঠিকই বলেছেন। নাবহান ট্রেনে বাড়ি ফিরছে। ট্রেনের অনবরত আওয়াজ যেন তার নেশা ধরিয়ে দিয়েছে। খটখট খটখট খটখট খটখট…..

সম্পর্কিত পোস্ট

মা

মা

ইশু মণি বাহিরে ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে তাসবিহ্ ঘরের দরজা জানালা সব বন্ধ করে ঘরের এক কোণে গুটিসুটি মেরে বসে আছে।টিনের চালে বৃষ্টির ফোঁটা পড়ায় অনবরত শব্দ হচ্ছে, বাসার সাথে লাগানো পেয়ারা গাছটার বিশাল বড় ডালপালা গুলো চালের উপর চলে এসেছে বারবার সেগুলো বারি খাচ্ছে যার কারণে শব্দ...

শখের পাখি

শখের পাখি

লেখিকা-উম্মে কুলসুম সুবর্ণা এই তো সেদিন মেলা থেকে বাসার ছোট্ট ছেলেটা আমাকে কিনে এনেছিলো। তখন তো ছানা পাখি ছিলাম এখন বুড়ো হয়েছি। বাসায় মোট ছয়জন থাকে। আগে ভাবতাম দুই রুমের ক্ষুদ্র ফ্ল্যাট এ এত গুলো মানুষ কিভাবে থাকতে পারে। পরে বুঝলাম এই সব কিছু ছেলের বউয়ের চমৎকার। অনেক...

নীল কমলিনী

নীল কমলিনী

অনুগল্প: নীল কমলিনী লেখা: অনুষ্কা সাহা ঋতু . চন্দনের শেষ ফোঁটাটা দিয়েই মা ঝরঝর করে কেঁদে ফেললেন। ছোট বেলায় এমন কত সাজিয়েছেন আমাকে। তখন মুচকি মুচকি হাসতেন, আর আজ কাঁদছেন। মা টাও ভারি অদ্ভুত। আচ্ছা, তবে কি দুটো সাজের অর্থ ভিন্ন! কি জানি? . হঠাৎ শঙ্খ আর উলুধ্বনি ভেসে...

০ Comments

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *