বোধ
প্রকাশিত: মার্চ ২১, ২০১৮
লেখকঃ vickycherry05

 161 বার দেখা হয়েছে

এই লেখক এর আরও লেখা পড়ুনঃ vickycherry05

গল্প লেখকঃ
নূর-এ-জাহান বিলকিছ

(মার্চ – ২০১৮)
————–

রাত ১২ টা বেজে ৪৫ মি.। হলুদ রঙের ট্যাক্সির সামনে দাঁড়িয়ে আছে মেয়েটা।মুখের অবয়ব পরিচিত ঠেকছে। তার শাড়ীর আঁচল কিছুটা নামানো। পটল গড়নের হালকা পাতলা চেহারায় গোলাপি রঙ আমার চোখ জোড়া আটকে দিচ্ছে মেয়েটির শরীরের ভাঁজে। বুঝতে পারছি তাকানো উচিত না, তাড়াতাড়ি চোখ টা সরিয়ে নিতে নিতে দেখলাম কয়েকজন লোক কৌতূহলী চোখ নিয়ে মেয়েটির উপর হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। সাথে লাইট ক্যামেরা। মেয়েটির সাথে কী কথা বলছে? জানতে আমি আর একটু কাছাকাছি গেলাম। অস্পষ্ট আওয়াজ ক্রমে চেনা চেনা লাগছে। আমার মতো এক জন পুরুষ লোক মেয়েটা কে প্রশ্ন করলো
— ‘নাম কি তোর?’
অন্য একজন বললো– ‘পণ্য হতে লজ্জা লাগে না?’
মেয়েটা কিছু বলতে পারছে না, স্তব্ধতা তার পৃথিবীকে গ্রাস করেছে। প্রথম জন আবার প্রশ্ন করলো– ‘এ কাজ করতে অপরাধ বোধ হয় না আপনার??’
মেয়েটা কিছুক্ষণ নিশ্চুপ থেকে লোকটির দিকে যখন তাকালো,তখন চোখ পাথরের মতো স্থির, চোখের ইন্দ্রিয় কোষে কয়েকশত বছর না ঘুমানোর তীব্র ক্লান্তি। শক্ত ঠোঁট জোড়া ছিটকে বেরিয়ে এলো কয়েকটা বাক্য — ‘ নিয়মের স্বাভাবিক রক্তের সাথে যেদিন প্রথম অনাকাঙ্ক্ষিত রক্ত এসে মিশে গেছে, সেদিন থেকে বোধ শক্তি হারিয়েছি! চিৎকার করেও মাংস পিপাসুদের থামাতে পারিনি, অথচ আপনারা তাদের মেনে নিলেন,আমাকেই কেউ মানতে পারেনি ! সেদিনের পর বোধগুলোতে বড্ড বেশি জঙ ধরে গেছে, অনেক দিন আগে ইচ্ছে করে কে যেন বোধ শক্তি গিলে খেয়েছে!’

কথা টা শুনে ভয়ে শিউরে উঠলাম। সমস্ত শরীর ঘামে ভিজে গেছে। আমাকে খুব জোড়ে দৌড়াতে হবে এবার। ভেতর থেকে চাপা শব্দ গুলো কি বেরিয়ে পড়ছে? আরো দ্রুত দৌড়াতে হবে, কেননা– ‘আমি কোনোদিন কারো বোধ শক্তি গিলে খাই নি, ‘আমি কোনোদিন কারো বোধ শক্তি গিলে খাই নি, ‘আমি কোনোদিন কারো বোধ শক্তি গিলে খাই নি!!’

সম্পর্কিত পোস্ট

মা

মা

ইশু মণি বাহিরে ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে তাসবিহ্ ঘরের দরজা জানালা সব বন্ধ করে ঘরের এক কোণে গুটিসুটি মেরে বসে আছে।টিনের চালে বৃষ্টির ফোঁটা পড়ায় অনবরত শব্দ হচ্ছে, বাসার সাথে লাগানো পেয়ারা গাছটার বিশাল বড় ডালপালা গুলো চালের উপর চলে এসেছে বারবার সেগুলো বারি খাচ্ছে যার কারণে শব্দ...

শখের পাখি

শখের পাখি

লেখিকা-উম্মে কুলসুম সুবর্ণা এই তো সেদিন মেলা থেকে বাসার ছোট্ট ছেলেটা আমাকে কিনে এনেছিলো। তখন তো ছানা পাখি ছিলাম এখন বুড়ো হয়েছি। বাসায় মোট ছয়জন থাকে। আগে ভাবতাম দুই রুমের ক্ষুদ্র ফ্ল্যাট এ এত গুলো মানুষ কিভাবে থাকতে পারে। পরে বুঝলাম এই সব কিছু ছেলের বউয়ের চমৎকার। অনেক...

নীল কমলিনী

নীল কমলিনী

অনুগল্প: নীল কমলিনী লেখা: অনুষ্কা সাহা ঋতু . চন্দনের শেষ ফোঁটাটা দিয়েই মা ঝরঝর করে কেঁদে ফেললেন। ছোট বেলায় এমন কত সাজিয়েছেন আমাকে। তখন মুচকি মুচকি হাসতেন, আর আজ কাঁদছেন। মা টাও ভারি অদ্ভুত। আচ্ছা, তবে কি দুটো সাজের অর্থ ভিন্ন! কি জানি? . হঠাৎ শঙ্খ আর উলুধ্বনি ভেসে...

১ Comment

  1. Oni

    আপু,আপনার গল্প সব সময় ভালো লাগে। রচনাশৈলী অনেক সুন্দর।

    Reply

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *