ভালো বাসা বাসি
প্রকাশিত: মে ২১, ২০১৮
লেখকঃ vickycherry05

 110 বার দেখা হয়েছে

এই লেখক এর আরও লেখা পড়ুনঃ vickycherry05

লেখকঃ
Ahmed Sobuj
(মে – ২০১৮)
……………

পরিক্ষার দু’দিন আগে এমন দাঁত ব্যথা করার কোনো মানে হয়? ডেন্টিস্টের পিছে লাইন ধরে দাঁড়ালে পরিক্ষার বারোটা বেজে যাবে..
গালে হাত দিয়ে এগুলো ভাবতে ভাবতে হলের দিকে যাচ্ছিলাম।
হঠাৎ একজনের কণ্ঠস্বরে পিছন ফিরে তাকাতে হলো। “একজন” বললে বোধহয় ভুল হয় “একজন অসম্ভব সুন্দরী নারী” বলতে হয়। একমহূর্তের জন্য দাঁতের ব্যাথা গেলাম ভুলে।
:-এইযে শুনুন, আপনার রক্তের গ্রুপ কি?

প্রথম দেখায় মানুষ নাম কিংবা কুশল জিজ্ঞাসা করে, এ সোজা রক্তের গ্রুপ। মতলব না বুঝেই অন্যমনস্কভাবে বলে ফেললাম, “এ পজেটিভ”।

মেয়েটার মুখ যেনো খুশিতে উজ্জ্বল হয়ে গেলো। “হুররে পেয়ে গেছি, পেয়ে গেছি”– করে চিৎকার করে উঠলো।
তারপর ঠেলতে ঠেলতে নিয়ে রিক্সায় উঠালো। আমার রক্তের গ্রুপ যাই হোক তাতে এ মেয়েটার খুশির কারণ কি? ওপজেটিভ কোনো ছেলের সাথে প্রেম-টেম করবে নাকি? তাছাড়া কেউ এভাবে রিক্সায় ওঠায়?

রাস্তায় কিছু জিজ্ঞেস করার সুযোগ পেলাম না। মেয়েটা কাকে কাকে যেনো ফোন করে বললো, “পেয়ে গেছি, পেয়ে গেছি!”

আমি মনে মনে খুশিই হলাম, ওর বান্ধুবীদেরকে মনে হয় আমার কথাই বলছে। কি আশ্চর্যকথা! মাত্র গতকাল জুম্মার নামাজের সময় মনে মনে বলেছিলাম, “আমার যদি একটা ইয়ে থাকতো”।
রিক্সা এসে থামলো হাসপাতালের সদর দরজায়। থমকে গিয়ে ভাবলাম,
আমার দাঁতে ব্যাথা মেয়েটা জানলো কিভাবে? আমি গালে হাত দিয়ে বললাম, “না না না, আমার এক্সাম আছে! আজ নয়”।

মেয়েটি হিহিহি করে হেসে বললো, আচ্ছা লোক তো আপনি! ভয় পাচ্ছেন কেনো, দাঁত উঠাতে বলেছি নাকি? আসুন।

একটা মেয়ের সামনে ভয় পাওয়া সমীচীন নয় তাই যথাসম্ভব বুক ফুলিয়ে “আমি কি ঢরাই সখি ভিখারি রাঘবে?” এরকম পোজ দিয়ে বললাম, “দেখো, আমার হাতে একদম সময় নেই, আজ নয়, অন্যদিন….”।

আমার হাত চেপে ধরে মেয়েটি বললো, তা তো হবে না! চলুন

লোকজন সন্দিগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। তাই আর ছোটার চেষ্টা না করে চারদিকে একবার তাকিয়ে করুণ হাসি হেসে সবাইকে বুঝালাম “দেখুন না কেমন আবদার!”

একজন নার্সের হাতে আমাকে সঁপে বলে দিলো, “যতটুকো লাগে নিয়ে নিন!”

কোথায় যেনো শুনেছিলাম, বোকাসোকা মানুষ পেলে নাকি তাদের উঠিয়ে এনে কিডনি কেঁটে রেখে দেয়। আমিতো বোকা নই! আমার সাথেও কি এরকম কিছুই হচ্ছে? এটা ভাবতেই আৎকে উঠে বললাম, “যতটুকো লাগে নিয়ে নিবে মানে? কি বলছো এসব? কি নিবে?”

মেয়েটি রেগে বললো, আপনার চোখ, দাঁত, কিডনি যা যা আছে সব!

নার্স আমায় টেনে নিয়ে যাচ্ছে, হঠাৎ করেই বানর আর কুমিরের গল্পটা মনে পরে গেলো, সাথে সাথে চেঁচিয়ে বললাম, “আমি তো ওগুলো আমার ঘরে রেখে এসেছি!”

চারদিকে হাসির রোল পড়ে গেলো।
ইতিউতি করে চারপাশে একবার তাকালাম, এখনোও ছুটে দৌড়াতে পারলে বেঘোরে প্রাণটা হারাতে হবে না। পালাবার চেষ্টা করার আগেই আমাকে শুইয়ে দেওয়া হলো, আমি আর উপায় না দেখে চোখবুজে আল্লাহ্‌র নাম স্মরণ করতে লাগলাম। হাতে চিমটির মত একটা ব্যাথা লাগলো, এই অসময়ে আবার রসিকতা করে কে? ঠাটিয়ে এক থাপ্পড় লাগাবো নাকি? পরক্ষণেই মনেহলো রসিকতা নয়, অজ্ঞান করার ইনজেকশন দিলো বোধহয়। এই বুঝি আমার পেটে ছুরি কাঁচি চালাবে…
মিনিট পাঁচেক পরে বললো, উঠুন কাজ হয়ে গেছে!

আমি আস্ত পেটের দিকে পরিষ্কার চোখে তাকিয়ে নার্সকে বললাম, এরই মধ্যে হয়ে গেলো? কাঁটাছেড়া ছাড়াই?

নার্স হেসে বললো, বোঝেনইতো! উন্নত প্রযুক্তি!

মনে মনে বললাম, “প্রযুক্তি না, তোমার মুণ্ডু!”

পরদিন ডেন্টিস্টের কাছ থেকে লম্বা প্রেশক্রিপশন নিয়ে হলে ফিরছি।
এমন সময় আবার একই ঘটনার পূনরাবৃত্তি! দাঁতের ব্যাথায় কুঁইকুঁই করে শুধু বললাম, সব কটা কিডনি খুলে নিয়ে যাও, আমার কিডনির দরকার নেই!
মেয়েটি শুধু আমার দিকে তাকিয়ে খিলখিল করে হেসেই যাচ্ছে! আমি বাঁকাচোখে তাকিয়ে চুপ করে রইলাম। এবার গিয়ে থামলো এক কেবিনে, গৌরবর্ণের একজন মহিলার পাশে ফুটফুটে একটা বাচ্চা শুয়ে আছে। বাচ্চাটির মা মৃদু হেসে এবং বাচ্চাটি তার কচি কচি আঙুল মেলে আমাকে অভ্যর্থনা জানালো। বুকের মাঝে যেনো একটা নতুন প্রাণের স্পন্দন পেলাম, চোখদুটো আনন্দে ভিজে গেলো।
কাব্য জানালো ওর ভাবির অপারেশন চলছিলো, হঠাৎ ইমার্জেন্সি রক্তের দরকার পরেছিলো তাই।

তারপর যা ঘটেছিলো তা সংক্ষেপে বললে দাড়ায়…
একজন আরেকজনের সাথে পরিচিত হওয়া, ফেসবুক আইডি আর কন্টাক্ট নম্বর লেনদেন, একসাথে অনেকটা সময় কাঁটানো, একজন আরেকজনকে ভালো লাগা….
তারপর?
তারপর… ইয়ে..মানে.. “ভালো-বাসা-বাসি”।

সম্পর্কিত পোস্ট

পূনর্জন্ম

জুয়াইরিয়া জেসমিন অর্পি . কলেজ থেকে ফিরেই পিঠের ব্যাগটা বিছানায় ছুড়ে ফেললো অন্বেষা। তারপর পড়ার টেবিলের কাছে গিয়ে চেয়ার টেনে নিয়ে ধপ করে বসে দুই হাত দিয়ে মাথাটা চেপে ধরলো।প্রচণ্ড মেজাজ খারাপ ওর। আজ ওদের সেমিস্টার ফাইনালের রেজাল্ট দিয়েছে। একদমই ভালো করেনি সে। যদিও শুরু...

অনুভূতি

অনুভূতি

লেখা: মুন্নি রহমান চারদিকে ফজরের আজানের সুমধুর ধ্বনি ভেসে আসছে। বাইরে এখনো আবছা অন্ধকার। তড়িঘড়ি করে বিছানা ছাড়লো মালা। ঘরের কাজ সেরে বের হতে হবে ফুল কিনতে। তাড়াতাড়ি না গেলে ভালো ফুল পাওয়া যায় না আর ফুল তরতাজা না হলে কেউ কিনতে চায় না। মাথার ওপরে তপ্ত রোদ যেন...

অসাধারণ বাবা

অসাধারণ বাবা

লেখক:সাজেদ আল শাফি বাসায় আসলাম প্রায় চার মাস পর। বাবা অসুস্থ খুব।তা নাহলে হয়তো আরও পরে আসতে হতো।গাড়ি ভাড়া লাগে ছয়শো পঁচিশ টাকা।এই টাকাটা রুমমেটের কাছ থেকে ধার নিয়েছি।তার কাছে এই পর্যন্ত দশ হাজার টাকা ঋণ হয়েছে।বলি চাকরি হলেই দিয়ে দিব। পড়াশোনা শেষ করে দুই বছর...

০ Comments

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *