তিলোবতীর গল্প
প্রকাশিত: অগাস্ট ২১, ২০১৮
লেখকঃ

 115 বার দেখা হয়েছে

এই লেখক এর আরও লেখা পড়ুনঃ

লেখা :সাকিব জাহান পিয়াস
.
আমি উৎসুক হয়ে জানতে চাইলাম, ‘তারপর? তারপর কি করলেন?’
‘আমি চলে এলাম।’
‘ভাবী আর কখনো ফেরত আসেননি?’
‘না! পরের মাসেই ডিভোর্স হয়ে গেলো। তার তিন মাস পরে আবার…’
‘কি? আপনি গিয়েছিলেন দেখা করতে?’
‘না! ও আরেকটা বিয়ে করলো।’
‘আপনি ডিভোর্সের পরে ভাবীর সাথে একবারো যোগাযোগ করেননি?’
‘দুইবার করেছিলাম। কিন্তু আবার বিয়ে করে ফেলার পর লিজার সাথে আর কোনদিন কথা হয়নি।’
‘আপনাদের বিয়েটা তাহলে কতদিন টিকলো?’
‘দেড় বছরের মতো।’
‘ইশ…এতো তাড়াতাড়ি যদি ছেড়ে যাবে আপনাকে, তাহলে বিয়ে করার দরকার কি ছিলো? ভাবী কি আপনাকে ভালোবাসতেন না?’
‘আসলে আমরা তো এতো কিছুর সুযোগ পাইনি। কিভাবে কিভাবে সব হয়ে গেলো, নিজেরাও টের পেলাম না। টের পাওয়ার আগেই লিজা বাসর ঘরে বউ সেজে আমার সামনে চুপটি করে বসে আছে!
যখন দেখলাম সেই তিলবতী মেয়েটা আমার সামনেই বসে আছে, আমি চাইলেই তার বাম ঠোঁটের নিচের তিলটা ছুঁয়ে দেখতে পারছি, ওতে চুমু দিতে পারছি, ঠিক তখন আমার ঘোর ভাঙলো।
এই ঘোরের শুরুটা হয়েছিলো যেদিন ওকে প্রথম দেখেছিলাম। পহেলা ফাল্গুনের দিন! কি সুন্দর করে মেয়েরা নানা রঙের শাড়ি পড়ে সেজেগুজে বাইরে বের হচ্ছিলো। বাতাসে বসন্তের সুবাস! মেয়েদের শাড়িতে, গাছের পাতায় পাতায় বসন্তের কচি রঙ! আমি মুগ্ধ হয়ে নতুন বসন্তের আগমনের উদযাপন দেখতে দেখতে বাড়ি ফিরছি, হঠাৎ একটা রিকশায় চোখদুটি আটকে গেলো! বাসন্তী রঙা শাড়ি পড়া এক অষ্টাদশী ফাল্গুনের রূপকে হার মানিয়ে রিকশায় চড়ে যাচ্ছে! মনে হচ্ছিলো যে কোন সময় রিকশাসমেত সেই অপ্সরী উড়তে শুরু করবে। তার শরীরে কৃষ্ণচুড়ার রঙ, গোলাপি ঠোঁট, বাম ঠোঁটের নিচে বিন্দুর মতো এক তিল। তার সারা শরীরে যে রঙের ছটা — তারচেয়ে সেই বাদামী তিলের দিকেই সবার প্রথমে চোখ চলে যায়। সেই থেকে আমি একটা ঘোরের মধ্যে আটকে গেলাম।
তারপর তাড়াতাড়ি মোটরসাইকেল ঘুরিয়ে সেই রিকশার পিছু নিলাম। যতোটা রাস্তা আমি চললাম, সেই রিকশা চলল, সেই পুরো সময়ে আমি আর কোনদিকে তাকাতে পারলাম না! বারবার শুধু বাম ঠোঁটের নিচে ছোট একটা সমুদ্রের মতো তিলটা চোখের সামনে ভেসে উঠছিলো। যখন রিকশা থামলো, আমি থামলাম — না থামলেই বোধহয় ভালো হতো, কারণ সেখানে তিলবতীর প্রেমিক তার জন্য অপেক্ষা করছিলো।
আমি এখন এখানে বসে বলতে পারবো না, ওই সময়ে আমার ঠিক কি অনুভূতি হয়েছিলো। আমি জানি এতো তাড়াতাড়ি, শুধুমাত্র একবার দেখে কাউকে ভালোবেসে ফেলা যায় না। কেউ যদি বলে একবার দেখেই ভালোবেসে ফেলেছে, তাহলে সে ধাপ্পাবাজিতে সেরা। কিন্তু তুমিই বলো, তাহলে ওই সময়ে আমার এতটা কষ্ট লাগলো কেন? কষ্ট পাওয়ার ব্যাপারটা তো মিথ্যা ছিলো না। শুধু আকর্ষণের কারণে? এরকম আকর্ষণ তো আমি কতো নারীর প্রতিই অনুভব করেছি। কই তাদের ব্যাপারে তো কখনো এমন তীব্র কষ্টের অনুভূতি হলো না! তাহলে ওর প্রেমিককে দেখে কেন এমন আঘাত পেলাম?’
আমি বললাম, ‘বুঝতে পারছি না। প্রেমবিষয়ক জ্ঞান আমার একদম নেই বললেই চলে।’
আসাদ ভাই আবার বলতে শুরু করলেন, ‘তুমিও যেমন, আমিও তখন এমনই ছিলাম। প্রেমের সীমাপরিসীমা কিছুই জানি না! কিন্তু কষ্টের কারণ জানতে খুব আগ্রহ হলো আমার।
সেই আগ্রহের জোরেই সেদিন ওদের পিছুপিছু ঘুরলাম। ওর বাসা চিনে এলাম। ধীরেধীরে সেই তিলবতী মেয়েটার সাথে জড়িয়ে যেতে থাকলাম! ও যখনই কোথাও যেতো, আমি ওর পিছু নিতাম। সামনাসামনি গিয়ে তো কথা বলার সাহস ছিলো না, কারণ পরিণামটা জানতাম। তার যে প্রেমিক আছে! কিন্তু ওর পিছু নেওয়াটাও একবারে ছেড়ে দিতে মন চাইতো না।
সবচেয়ে অবাক করা বিষয়টা কি জানো? প্রায় মাস দুই এভাবে ওর পিছুপিছু ঘোরার পরেও, লিজা আর লিজার প্রেমিক কেউ কিছুই টের পেলো না! কিন্তু এভাবে কতদিন চলতে পারা যায়?
ততদিনে আমি লিজাকে পুরোপুরি ভালোবেসে ফেলেছি, নিজের অজান্তেই! এই রহস্যময়ীর মায়াজালে অদ্ভুতভাবে আটকে গেছি!
ততদিনে সেই তিলবতী মেয়েটাকে আমি মন থেকে চাইতে শুরু করেছি!
ততদিনে আমি কৃষ্ণচূড়া রঙা অপরূপাকে নিজের জীবনে ঠাই দিয়ে দিয়েছি।
আমি জানতাম এর কোন ভিত্তি নেই, এটি অন্যায়পথ, তবুও তো, ভালোবাসা কবে কার নিয়মনীতি মেনেছে?’
আসাদ ভাই কাহিনী বলতে বলতে হাফিয়ে গেলেন। তাই আমি বললাম, ‘ভাই, এক কাপ চা খাবেন?’
তিনি মাথা নেড়ে না করলেন। তারপর আবার বলতে লাগলেন, ‘দুই মাস পরে আমি অনেক ভেবেচিন্তে ঠিক করলাম, লিজার বাসায় বিয়ের প্রস্তাব পাঠাবো। লিজার সাথে প্রেম করার জন্য এছাড়া আমার জন্য অন্য কোন রাস্তা খোলা নেই। আমি একটা কোম্পানিতে ভালো বেতনে চাকরী করি, ময়মনসিংহ শহরে আমাদের তিনতলা বাড়ি আছে, আমার সম্পর্কে কোন মানুষ কোন বাজে কথা বলতে পারবে না। তাছাড়া ওদের পরিবার সম্পর্কে এতদিনে যতদূর জেনেছি — আমি নিশ্চিত যে লিজাদের পরিবার আমাকে ফেলে দিতে পারবে না। কিন্তু আমার ধারনা ভুল প্রমাণিত হলো। ওদের পরিবার ঠিকই আমাকে ফেলে দিলো! তার কারণ – লিজার বাগ্দান হয়ে গেছে! তার সেই প্রেমিকের সাথেই!
এর পর আমি সত্যিসত্যি দমে গেলাম। খুব কষ্ট পেলাম মনে। প্রথমদিন লিজাকে ওর প্রেমিকের সাথে দেখে যতটা কষ্ট পেয়েছিলাম, তারচেয়েও হাজারগুণ বেশি কষ্ট পেলাম এই খবরে, বা অপমানে।’
আসাদ ভাইয়ের বোধহয় হাফানির সমস্যা আছে। তিনি বারবার থেমে থেমে হা করে নিশ্বাস নিচ্ছেন! ফুসফুসে অনেকখানি বাতাস ভরার পর তিনি উদাস চোখে কতক্ষণ চায়ের দোকানের উপরের আকাশের দিকে তাকিয়ে রইলেন। তারপর আবার বললেন, ‘বুঝলে, এই ঘটনার পর আমি আস্তে আস্তে লিজার পিছু যাওয়া কমিয়ে দিতে লাগলাম। একসময় একবারেই ছেড়ে দিলাম। তবুও কিন্তু ওকে ভুলতে পারলাম না। মাঝেমাঝে মাঝরাতে ওর কথাটা হঠাৎ করেই মনে পড়ে যেতো, তখন আনমনেই চোখ থেকে এক দুই ফোটা জল ঝরে পরতো। হঠাৎ খুঁজে পাওয়া মানুষটিকে আবার হঠাৎ হারিয়ে ফেলার বিষয়টা কোনমতেই মেনে নিতে পারতাম না। তবুও মেনে নিতে হলো!
একদিন কাচারি ঘাটে বসে আছি, হঠাৎ দেখি কয়েকজন মানুষ কাকে ঘিরে জটলা করে দাঁড়িয়ে আছে। ব্যাপারটা কি দেখতে উৎসাহ হলো। তাড়াতাড়ি করে জটলাটার কাছে গেলাম। গিয়ে দেখি একটা মেয়ে রাস্তার ধারে অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে আছে। কে বা কারা যেন ওকে গাড়ি দিয়ে এখানে ফেলে রেখে পালিয়ে গেছে। মেয়েটাকে ওরা রেপ করেছে, তারপর নির্যাতনও করেছে নিশ্চয়ই। কিন্তু ভিড়ের মধ্যে সবাই বলাবলি করছে, মেয়েটা মারা যায়নি! আমি ভিড় ঠেলে আরোও কাছাকাছি এগিয়ে গেলাম। তারপর যা দেখতে পেলাম, এই দৃশ্য দেখার জন্য আমি কোনমতেই প্রস্তুত ছিলাম না! দেখি, লিজার অর্ধনগ্ন শরীরটা মাটিতে শুইয়ে রাখা! আমার লিজা!
আমি তাড়াতাড়ি অটোরিকশা দিয়ে ওকে হাসপাতালে নিয়ে গেলাম। ওর বাড়িতে খবর দিলাম। ওদের বাড়ির মানুষেরা আসলে আমি চুপচাপ আমার নিজের বাসায় ফিরে আসলাম।
কিন্তু আমি জানতাম ঘটনা এখানেই শেষ হবে না। হলোও তাই। লিজার যে বিয়েটা ঠিক হয়েছিলো, সেটা ভেঙ্গে গেলো। ওর প্রেমিকের বোধহয় তেমন অমত ছিলো না, কিন্তু সে তার পরিবারকে উপেক্ষা করতে পারেনি!
সিনেমা, গল্পের মতো আমি তখন লিজার সামনে গিয়ে উপস্থিত হলাম, ওর হাতটা ধরলাম। যত যাইহোক, ভালোবাসি তো! ভালোবাসার মানুষটার এই চরম দুঃসময়টা আমি নিজের করে নিলাম। ওর পাশে দাঁড়ালাম, সাহস দিলাম। তারপর দুই পরিবারের অনুমতিতে বিয়েটাও করে ফেললাম!’
‘ভাবীর মত ছিলো তো বিয়েতে?’
‘লিজা তো তখন অপ্রকৃতস্থ! বুঝতেই তো পারো, এমন একটা সময়ে একটা মেয়ের মনের অবস্থা কেমন হতে পারে।’
‘তা বুঝতে পারি।’
‘ধীরেধীরে আমার পরিচর্যায় লিজা ভালো হয়ে উঠলো। আমি ওকে খুব ভালোবাসতাম। কিন্তু ও মনে হয় না আমাকে তেমনভাবে ভালোবাসতে পেরেছে। ও শুধু আমার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশক অভিনয় করতো, আমি ঠিক বুঝতে পারতাম। ওর ঠোঁটের নিচের সেই তিল থেকে শুরু করে ওর হৃদয়ের প্রতিটা হাসি, কান্না আমি বুঝতে পারতাম, টের পেতাম।
অন্যদের মতো অফিস থেকে ফিরলে দেখতাম লিজা আমার জন্য সজাগ বসে আছে, ছুটির দিনে ওকে নিয়ে বাইরে ঘুরতে যেতাম, বৃষ্টির দিনে একসাথে বসে চা খেতাম, ভিজতাম, তবুও যেনো কোথাও একটা ফাঁকা রয়েই গেলো। সবকিছু স্বাভাবিক হওয়ার পরেও একটা চরম অস্বাভাবিকতা প্রচণ্ডভাবে টের পেতাম। লিজা যেনো আমাকে ওর নিজের করে নিতে পারছিলো না কিছুতেই। ওকে পেয়েও ওর শরীরটা ছাড়া আর কিছু আমি নিজের একান্ত ব্যক্তিগত হিসেবে পেলাম না কখনোই!
সবচেয়ে মজার বিষয়টা কি জানো? লিজা তার আগের প্রেমিককে কখনো মন থেকে তাড়াতে পারেনি! ওর সেই পুরানো প্রেমিকের সাথে প্রায়ই তার কথা হতো, আমি এইটা জানতামও! কিন্তু আমি কখনো ওকে সরাসরি ব্যাপারটা জিজ্ঞেস করিনি। মনের মধ্যে কষ্টকে পুষে রেখে নিজেকে সান্ত্বনা দিতাম, একদিন লিজা ঠিকই সব ভুলে গিয়ে আমাকে ভালোবাসবে।’
আসাদ ভাই আবার চুপচাপ হয়ে যেতেই আমি তাড়া দিলাম, ‘তারপর?’
‘তারপর আর কি, একদিন লিজা ওই বিষয়টা জেনে গেলো। আসলে আমিই ওকে বলে দিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম এটা বললে হয়তো আমার প্রতি ওর ভালোবাসার সৃষ্টি হবে। কিন্তু কিসের কি? ও আমার সাথে যে অল্পঅল্প কথা বার্তা বলতো, এরপরে সেইটাও কমে গেলো। লিজা যেন পুরো অন্য একটা মানুষ হয়ে গেলো। আমাকে এড়িয়ে চলতে শুরু করলো। আমরা এক বিছানায় শুতাম বটে, কিন্তু মনে হতো আমি ওর চেয়ে যোজন যোজন দূরে! এইভাবে বেশিদিন চললোও না, সাতদিনের মাথায় আমাকে না জানিয়েই সে বাপের বাড়ি চলে গেলো। সেই যে গেলো, আর কোনদিন ফিরলো না!’
‘তিন মাস পরে ভাবীর বিয়ে কার সাথে হয়েছিলো?’
‘ওর সেই পুরানো প্রেমিকের সাথে!’
‘আশ্চর্য! ছেলেটাও তাহলে ভাবীকে অনেক ভালোবাসতো।’
‘অবশ্যই আমার চেয়ে কম।’
‘হতে পারে। আপনার এখনো ভাবীর জন্য খারাপ লাগে?’
‘খারাপ? পূর্ণেন্দুর একটা কবিতা আছে –
“যাকে সে হারাবে, তাকে পেতে-চাওয়া কেন?
ভেজানো দুয়ার ভেঙে প্রত্যেক ঘুমের রাতে তবু
তার আসা, যাকে সে পাবে না।
এসেছিল, এসে চলে গেছে।
এখন রয়েছি শুয়ে তারিই ঘ্রানে, ঘাসে ও কাঁটায়।”
পিয়াস, এখন আমি উঠি। পরে দেখা হবে আবার।’
একটু দূরে বসে আরেকটা ছেলে এতক্ষণ আমাদের সব কথা শুনছিলো, ও হঠাৎ বলল, ‘ভাই, ওই বিষয়টা কি?’
আসাদ ভাই অবাক হয়ে ছেলেটার দিকে তাকালেন, তিনি খুব অপ্রস্তুত হয়ে বললেন, ‘পিয়াসের কাছে শুনে নিও, ওকে বলেছি শুরুতে।’
তারপর হনহন করে চায়ের দোকান থেকে বেড়িয়ে গেলেন।
ওই ছেলেটা আবার আমার দিকে ফিরে জানতে চাইলো ওই বিষয়টা আসলে কি, যেটার জন্য ভাবী এভাবে চলে গেলো।
আমি চায়ে কয়েকটা চুমুক দেওয়ার পর বললাম, ‘ছল চাতুরী করে কি ভালোবাসা পাওয়া যায়? ভালোবাসার মানুষকে চোখ বেধে র্যাপ করে, তারপর কাহিনী সাজিয়ে বিয়ে করলেই মানুষটা নিজের হয়ে গেলো? আসলেই কি এভাবে কেউ কাউকে পেতে পারে?
লোকটার মাথায় গন্ডগোল আছে, বুঝলেন?’

সম্পর্কিত পোস্ট

পূনর্জন্ম

জুয়াইরিয়া জেসমিন অর্পি . কলেজ থেকে ফিরেই পিঠের ব্যাগটা বিছানায় ছুড়ে ফেললো অন্বেষা। তারপর পড়ার টেবিলের কাছে গিয়ে চেয়ার টেনে নিয়ে ধপ করে বসে দুই হাত দিয়ে মাথাটা চেপে ধরলো।প্রচণ্ড মেজাজ খারাপ ওর। আজ ওদের সেমিস্টার ফাইনালের রেজাল্ট দিয়েছে। একদমই ভালো করেনি সে। যদিও শুরু...

অনুভূতি

অনুভূতি

লেখা: মুন্নি রহমান চারদিকে ফজরের আজানের সুমধুর ধ্বনি ভেসে আসছে। বাইরে এখনো আবছা অন্ধকার। তড়িঘড়ি করে বিছানা ছাড়লো মালা। ঘরের কাজ সেরে বের হতে হবে ফুল কিনতে। তাড়াতাড়ি না গেলে ভালো ফুল পাওয়া যায় না আর ফুল তরতাজা না হলে কেউ কিনতে চায় না। মাথার ওপরে তপ্ত রোদ যেন...

অসাধারণ বাবা

অসাধারণ বাবা

লেখক:সাজেদ আল শাফি বাসায় আসলাম প্রায় চার মাস পর। বাবা অসুস্থ খুব।তা নাহলে হয়তো আরও পরে আসতে হতো।গাড়ি ভাড়া লাগে ছয়শো পঁচিশ টাকা।এই টাকাটা রুমমেটের কাছ থেকে ধার নিয়েছি।তার কাছে এই পর্যন্ত দশ হাজার টাকা ঋণ হয়েছে।বলি চাকরি হলেই দিয়ে দিব। পড়াশোনা শেষ করে দুই বছর...

৩ Comments

  1. Mahbub Alom

    ছলছাতুরী করে কি ভালোবাসা পাওয়া যায়?
    লোকটার মাথায় গণ্ডগোল আছে বুঝলেন?
    লাইনদুটু অনেক ভালো লেগেছে।

    গণ্ডগোলটা ভালোবাসার।তবে ভুল পথে হেঁটেছেন আসাদ ভাই।

    কাহিনীটা একটু ভিন্ন ধরণের।ভালো লাগার মতো।

    Reply
  2. Halima tus sadia

    ভালোবাসা পেতে হলে ছলচাতুরী নয়।ভালোবেসে,প্রেম,যত্ন আদর দিয়ে ভালোবাসা পেতে হয়।
    আসাদ যদিও ভালোবাসত তবে এভাবে ভালোবাসা পাওয়া যায় না।
    তার কাজটা করা ঠিক হয়নি।
    আর একতরফা ভালোবাসা কখনো হয় না। দুজনেরেই মন থাকতে হয়।না হয় সম্পর্ক কখনো টিকে থাকে না।

    বানানেও তেমন কোনো ভুল নেই।
    একবারো–একবারও
    রঙা–রঙের
    রিকশাসমেত- রিকশা থেকে
    হাফিয়ে–হাঁপিয়ে
    ঘোরার–ঘুরার
    চাকরী–চাকরি
    শুভ কামনা।

    Reply
  3. আফরোজা আক্তার ইতি

    আসাদ তার বিবেক অনুযায়ী ঠিক কাজই করেছেন। ধর্ষিতা মেয়েটিকে কেউই বিয়ে করতে রাজি হচ্ছিল না, বরং তাকে কটু কথা শোনাচ্ছিল তাই তিনি তাকে ভালোবাসতেন বলেই বিয়ে করে ঘরে তুলেন। কিন্তু সবকিছুর উপর জোড় দেয়া যায় কিন্তু মনের উপর জোড় দেয়া যায় না। তাই মেয়েটি শতকিছুর পরও ছেলেটিকে দূর করতে লারে নি মন থেকে তাই তার কাছেই ছুটে গেছে। সুন্দর গল্প। পড়তে বেশ ভালো লাগছিল। সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা। বানানে কোন ভুল পেলাম না।
    হাফাতে- হাঁপাতে।

    Reply

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *