স্মৃতির ফ্রেম
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৮
লেখকঃ

 93 বার দেখা হয়েছে

এই লেখক এর আরও লেখা পড়ুনঃ

লেখা :- জিন্নাত রিমা
#কবিতা :- স্মৃতির ফ্রেম

অরু মনে কি পড়ে?
শেষ কবে দিয়েছ দেখা,
এই বুঝি সময় পেলে
বিশটা বছর কাটিয়েছি একা।
জানো,আমাদের জোড়ায় লাগানো
গাছ হাসনাহেনা
তুমি ছেড়ে যাওয়ার কষ্টে
আর ফুল দিত না।
এক,দুই করে কাটিয়েছি
দেখ,কুড়িটা শরৎ
এই যেন জীবিত মানুষের
গোরস্তানে বসত।
আমার আর অশ্রুজলে
চোখ ভিজে না,
কতটা শোকে, পাথর এই মন
হিসাব রাখি না।
সামান্য জ্বরে, অভিমান করে
গিয়েছ ছেড়ে,
ভেবেছ কি, একা একা ছেলেটা
মানুষ করি কি করে?
আমিও জ্বর বাধাই দেহে
ছেড়ে কি যাওয়া হয়?
তোমার মতো নিষ্ঠুর না
দিয়েছি আপন পরিচয়
অরু এসেছো যখন,
নিয়ে যাও তোমার সাথে
ব্যস্ত দিনটা কাটানো সহজ
কষ্ট ভীষণ রাতে।
বাবা, কোথায় মা?
জ্বর গায়ে আবোল তাবোল বকো না।
কতবার বলেছি তোমায়, মা মৃত
ফিরে আর আসবেনা।
খোকা, খোকা তাকিয়ে দেখ
ঐ যে তোর মা,
না, বাবা এটা মা নয়
মায়ের ছবির কালো রঙের ফ্রেম খানা।

সম্পর্কিত পোস্ট

তুলসী বনের বাঘ

তুলসী বনের বাঘ --আল-মুনতাসির। চিনলে নাকো তাকে সে যে তুলসী বনের বাঘ ! ছদ্মবেশে ছড়িয়ে দিলো বিষম বিষের নাগ। ইচ্ছে করে কামড় খেলে, ভরলে হৃদয় বিষের নীলে কী করে আর দেখবে প্রিয় কৃষ্ণচুড়ার বাগ ? চিনলে নাকো তাকে সে যে তুলসী বনের বাঘ ! চোখে তোমার বিষের তেজে পর্দা এলো নেমে, জগত...

ভালোবাসা রং বদলায়

: ভালোবাসা রং বদলায় লেখা: অদ্রিতা জান্নাত ছোট মেয়েটা খুব করে কেঁদে কেঁদে অনুরোধ করেছিল আমি যেন একটি হলেও তার কাছ থেকে ফুল কিনে নেই, ঠিক যতবার আমি তাকে ঠেলে দূরে সরিয়ে দিচ্ছিলাম সে যেন ঠিক ততটাই আমার পিছু ছুটতে লাগল। আচ্ছা, এই যে শিশুটা যে কিছু টাকার বিনিময়ে আমাকে...

গোপন আর্তনাদ

কবিতা - গোপন আর্তনাদ #জয়নাল_আবেদীন মনে পড়ে কাজল চোখে মুগ্ধ করে রাখতে আমায়। কখনো নির্মল হাসিতে ভরিয়ে দিতে চারপাশ। ভুলে গেছো সেদিন ঘাটের পাশে নূপুর পায়ে নৃত্যের তালে এসেছিলে। লাল শাড়িটা এলোমেলো জড়িয়ে, মুখটা কেমন গম্ভীর ও করুণ দেখেছিলাম। বারবার আকাশে মেঘের গর্জন, বৃষ্টির...

৫ Comments

  1. আফরোজা আক্তার ইতি

    অনেক সুন্দর একটা কবিতা। পড়ে শেষ করেও মনে তার রেশ এখনো আছে। খুব ভালো লেগেছে। স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তিনি বিশটি বছর একা সন্তানের লালন পালন করেছেন। তার সঙ্গ ছাড়া পার করেছেন অনেক দিন। তাই শেষ মুহূর্তেও ভুলতে পারছেন না প্রিয় সঙ্গীনীকে।
    ছন্দমিল অনেক সুন্দর। বানানে কয়েকটা ভুল আছে।
    গোরস্তানে- গোরস্থানে।
    বাধাই- বাঁধাই।

    Reply
    • Zinnat Rima

      -‘ধন্যবাদ এবং ‘ভালোবাসা রইল আপু।

      Reply
  2. আরাফাত তন্ময়

    একটা প্রশংসা করতেই হয়, নিজের বিপরীত লিঙ্গ হয়ে লেখা! জাস্ট আলাদা একটা প্রতিভা। হাজারো চাপা আর্তনাদ লুকিয়ে ছিল প্রতিটি শব্দে, বাক্যে। অতুলনীয় একটি কবিতা। শুভ কামনা রইলো।

    Reply
  3. Halima tus sadia

    অসাধারণ একটি কবিতা।
    পড়ে মুগ্ধ হলাম।ছন্দেরও খুব মিল আছে।
    লেখিকা চমৎকারভাবে বর্ণনা করেছেন প্রিয়জনকে স্মরণ করার তীব্র আর্তনাদ।
    সেই কষ্ট কাউকে বলা যায় না।স্ত্রী সামান্য জ্বরে চলে গিয়েছে পরপারে স্বামী সন্তানকে রেখে।বিশটি বছর সন্তানকে নিয়ে বেঁচে আছে কতো কষ্ট করে।
    তবুও স্ত্রীকে খুব স্মরণ করেন।নিঃসঙ্গতায় ভোগে।
    শুভ কামনা রইলো।

    Reply
  4. মাহফুজা সালওয়া

    মৃত্যু – নির্মম সত্য।
    তবু, সেটা মেনে নিতেই হয়।
    কিন্তু প্রিয়মানুষের বিয়োগ, ভেতর কে নাড়া দেয়।
    কি জবাব আছে,যখন ছোট্ট শিশু জানতে চায়,তার মা কোথায়?
    কান্না আটকানো যাবে,যখন অবুঝ শিশুটি ও বুঝে যাবে,এটা তার মা নয়,মায়ের ছবি টাঙানো কালো ফ্রেমখানা?
    খুব সুন্দর আবেগমিশানো কবিতাটি।
    ভালো লেগেছে।
    কবির জন্য শুভেচ্ছা ও শুভকামনা।

    Reply

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *