স্লো পয়জন
প্রকাশিত: মে ২৭, ২০১৮
লেখকঃ vickycherry05

 67 বার দেখা হয়েছে

এই লেখক এর আরও লেখা পড়ুনঃ vickycherry05

লেখক : ইমরান হোসাইন
(মে – ২০১৮)
………………

ভোরের আলোয় উদ্ভাসিত নতুন একটা দিনের আগমন ঘটে। মেঘলা আকাশ বলে চারদিকে আলো আধারির খেলা চলছে। আমি চার তলার জানালা দিয়ে বাহিরে তাকিয়ে আছি। দেখছিলাম দূর আকাশের কান্নার আয়োজন। খানিক পরই যেন আকাশ ভেঙ্গে নামবে বৃষ্টি। প্রতিটি ফোঁটায় ফোঁটায় সিক্ত হবে প্রকৃতির সবুজ দিগন্ত। উল্লাসে নেচে উঠবে মন। তবে আগমনী সেই উল্লাস যেন কোথায় গিয়ে থমকে দাঁড়ায়!

কাশিমপুর কারাগার, গাজিপুর।
হাই সিকিউরিটির মধ্যে রাখা হয়েছে আমাকে। পূর্ব দিকের ভবনটার চার তলায়। ছোট একটা খুপরির মতো রুম। কর্ণারের দিকে কোমর সমান উঁচু দেয়াল তুলা একটা বাথরুম। ক্ষণে ক্ষণে উঁটকু দুর্গন্ধ ভেসে আসে সেখান থেকে। প্রথম প্রথম অসহ্য লাগতো। মুখ ভরে বমি আসতো। তবে এখন সয়ে গিয়েছে।
আমার সাথে এই রুমে আরও একজন আছে। বেটে করে একটা লোক। কাঠ-খুট্টা চেহারা, বলিষ্ঠ দেহের গড়ন। সাত দিন হলো আমি এখানে এসেছি। তবে অদ্যাবধি লোকটির সাথে কোনো কথা হয়নি। কিন্তু আজ খুব কথা বলতে ইচ্ছে করছে।
আমার থেকে মাত্র এক ফিট দূরেই লোকটি একটা চাদরে হাত-পা ছড়িয়ে লম্বা করে শুয়ে আছে। আমি লোকটির একদম কাছে গেলাম। চেহারাটা তার ফ্যাকাশে হয়ে আছে। খানিকটা সময় ভাবছিলাম কিভাবে শুরু করা যায়। আমি মুচকি হাসি দিয়ে তার দিকে হাতটা বাড়িয়ে দিয়ে বললাম, “প্রফেসর সাহেদ আলম।”
লোকটি আমার দিকে হা করে খানিকটা সময় চেয়ে রইল। আমি হাসির রেশ খানিকটা বাড়িয়ে লোকটির দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকি। তার সুগভীর চোখ জোড়ায় আমার স্থির দৃষ্টি। আমি অনুভব করি, আমার চোখ জোড়া যেন তাকে গ্রাস করতে চায়। আমার সেই অগ্নি ছড়ানো দৃষ্টি উপেক্ষা করেই লোকটি বলে, “শুনলাম, আপনি আজ ছাড়া পাচ্ছেন?”
আমি কোনো কথা না বলে কিঞ্চিৎ হেসে মাথাটা হালকা করে নাড়ালাম। পাশের লোকটিও হাসলো। সেই হাসিতে তার নাকের বা পাশের কাটা দাগটা হাসির ভাঁজে হারিয়ে যায়। মিষ্টি আর নিষ্পাপ সেই হাসি। তবে লোকটির এই হাসির পিছনের ইস্পাত কঠিন চরিত্রটা উদ্ধার করা বেশ দুর্বোধ্য।
বিকাল নাগাত আমার জামিন হয়ে যাবে। যা করার এর মাঝেই করতে হবে। ইতোমধ্যে অনেক কাঠ-খড় পুড়িয়ে এই জায়গা অবদি পৌঁছেছি শুধু পাশের লোকটির সাথে দেখা করার জন্য। সেই মনো ভাসনা অবশেষে পূর্ণ হলো। পাশের এই লোকটির নাম আফসার। আমার দীর্ঘ দিনের আকাঙ্ক্ষা তার সাথে সাক্ষাৎ করার। আজ সেই সাক্ষাৎ এর সমাপ্তি লগ্ন।
দুপরের খাবারের সময় হতেই দু’জন কারারক্ষী আমাদের খাবার নিয়ে আসে। আমি টাকা দিয়ে খাবার নিয়ে আসি। তাই আমার খাবার যথেষ্ট মানসম্মত। এক টুকরো মাংস আর সাদা ভাত। এই জেলে যা অনেকের কাছে স্বপ্নের মতোই।
আফসারের প্লেটে আমার দৃষ্টি পড়ে। সে খাবার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। চেহারায় ক্ষুধার্ত ভাব, করুণ তার দৃষ্টি। প্লেটে অল্প কিছু ভাত, সাথে কাকর, পাথর, কালো ভাত অনেক কিছুই আছে যা চোখে পড়ার মতো। আর তরকারির অবস্থা আরও জঘন্য, দুই টুকরো অর্ধেক করা আধা সিদ্ধ আলু আর আস্ত আস্ত দুইটা সিম। একটা কৌটায় এটে পানির মতোই খানিকটা ডাল। আমি সেদিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে আফসারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করে বললাম, “আপনি যদি কিছু মনে না করেন, আমার খাবারগুলো নিতে পারেন। আমি তো একটু পরেই বেরিয়ে যাব, বাহির থেকেই খেয়ে নিতে পারবো।” কথাগুলো বলতে বলতে আমি তার দিকে আমার প্লেটটা এগিয়ে দিলাম। আফসার একটা শব্দও করলো না। দীর্ঘ দিন পর এমন সুস্বাধু খাবার পেয়ে চোখের পলক ফেলার কথাও ভুলে গেল সে। বড় বড় লোকমা তুলে অল্প সময়ের মধ্যেই খাবারগুলো শেষ করে নিল। ক্ষুধার তাড়নায় হয়তো ভাতের মধ্যকার বিষাক্ত তরলের মিহি গন্ধটা সে বুঝতে পারেনি। আমার চোখে আনন্দের ঝলকানি।
বিকেলের দিকেই আমি জেল থেকে ছাড়া পাই। আমাকে নেওয়ার জন্য কেউই আসেনি। আসার কথাও না। আমি নিঃসঙ্গের মতো গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে চলছিলাম। আর বহুদিনের কাঙ্ক্ষিত কাজটি করতে পেরে মনটা আনন্দে নেচে উঠে।

সন্ধ্যের খানিকটা পর আমি আমার আগারগাঁও এর ফ্লাটে এসে পৌঁছাই। এসিটা ছেড়ে হাত-পাগুলো ছড়িয়ে সোফায় গা’টা এলিয়ে দেই। চোখ জোড়া বুজে আসে আমার। আর চোখের সামনে ভেসে উঠছিল কিছু সুখ আর বেদনার অতীত স্মৃতি। আমি দেখতে পাই বদলে যাওয়া জীবনের ইতিকথা।
প্রায় সাত মাস পূর্বের কথা। আমি আর নিপু সদ্য বিয়ে করে আগরগাঁওয়ের এই ফ্লাটে উঠেছি। দক্ষিণমুখী তেরো তলা বেশ বড় একটা বাড়ি। আমাদের ফ্লাটটা নয় তলায়। প্রতিটি ফ্লোরে ছয়টা করে ফ্লাট। অর্থাৎ আমাদের ফ্লোরে আমরা ছাড়াও আরও পাঁচটা পরিবার বাস করে। নাগরিক জীবনের চিরাচরিত রীতি অনুযায়ী অন্যদের মতোই আমাদেরও কারো সাথে সখ্য হয়ে উঠেনি। রোজকার রুটিন অনুযায়ী চলছিল আমাদের জীবন।
এখানে আসার কিছু দিনের মাঝেই নিপুর একটা চাকুরি হয়। যদিও আমি তাকে চাকুরি করতে না করেছিলাম, তবে তার খুব সখ ছিল কি না! তাই আর বাধা দিলাম না। আমার বাড়ি ফিরতে সামান্য রাত হয়ে যেত আর নিপু বিকেলের মধ্যেই বাড়ি পৌঁছতো। তারপরের বাকি সময়টা আমরা দু’জন দু’জনার হয়ে কাটিয়ে দিতাম। গভীর রাতে ভালোবাসার আলিঙ্গনের নেশায় বুঁদ হয়ে ঘুমের ঘোরে আচ্ছন্য হয়ে থাকতাম। কখনো রাত-বিরাতে বাড়ির ছাদে উঠে যেতাম চাঁদ দেখতে। নিপু ছাদে দাঁড়িয়ে থাকতো। আমি তাকে পিছন থেকে জাড়িয়ে ধরে তার কাঁধে চিবুক রেখে তাকিয়ে থাকতাম চাঁদের চেয়ে অপরূপা এক তনয়ার দিকে। এটাও যেন এক নেশা। মাদকাময় গভীর নেশা।
এখানে আসার পর কারো সাথে তেমন কথা না হলেও বাড়িওয়ালা দাদুর সাথে প্রায়শই কথা হত। বৃদ্ধ বয়েসের একা একজন নিঃসঙ্গ মানুষ। বহু বছর পূর্বে উনার স্ত্রী উপারে পারি জমান। আর ছেলে-মেয়ে সব বিদেশে থাকে। বাসায় উনার দেখ-বাল করার জন্য দু’জন কাজের লোক রয়েছে। তাতে উনার জীবন চলে যায় বটে, তবে মনের মাঝে বাসা বেধে থাকে পাহাড়সম কষ্ট। একাকিত্বে জর্জরিত লোকটিকে দেখে আমার খুব মায় হতো। প্রায়শই আমি আর নিপু যেতাম উনার বাসায়। দাদুও আসতেন। খুব ভালো লাগতো আমার লোকটিকে।

একদিন সন্ধ্যার আরও খানিকটা পর হঠাৎ দাদু ফোন দেয় আমাকে। জলদি করে হসপিটাল যেতে বলে। কেন, কী কারণ সেসব কিছু না বলেই ফোনটা কেটে দেন উনি। আমার অফিস তখনো শেষ হয়নি। আমি চটজলদি বেরিয়ে হসপিটাল পানে চলতে থাকি। হসপিটাল করিডোরে পৌঁছেই দাদুকে দেখে চমকে উঠলাম।

উনার সফেদ পাঞ্জাবিটা রক্তে লাল হয়ে আছে। আমার মুখ থেকে কোনো কথা সরছে না। নির্বাক হয়ে খানিকক্ষণ দাদুর দিকে তাকিয়ে রইলাম। দাদু অশ্রুসজল চোখে আমার দিকে কিছুটা সময় তাকিয়ে আমার হাতটা ধরে আমাকে টেনে নিয়ে চলেন।
সরকারি হসপিটাল। আয়োডিনের উঁটকু গন্ধ। আমার খুব অপছন্দ। সেসব পরোয়া না করেই আমি দাদুর সাথে চলছিলাম। জরুরি বিভাগের কাছে আসতেই আমার মাথাটা যেন ঘুরতে শুরু করলো। করিডোরে একটা মেয়ে পড়ে আছে। রক্তাক্ত, মাথাটা থেতলে আছে। বিভৎস সে দৃশ্য। দাদু না বললে হয়তো কোনোভাবেই চিনতে পারতাম না। সরকারি হসপিটালের বারান্দায় অযত্নে, অবহেলায় আমার নিপু বিভৎস, রক্তাক্ত লাশ হয়ে শুয়ে আছে! আমি আরও খানিকটা এগিয়ে নিপুর থেতলে যাওয়া মাথাটা দেখতেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলি।

আমার জ্ঞান ফিরে গভীর রাতে। আমি তখন বাসায়। আশে পাশে মা-বাবাকে দেখলাম। নিপুর বাবা-মাও আছে। নিপুকে তখনো হসপিটালের মর্গে রাখা হয়েছে। পরদিন বিকেল নাগাত শবচ্ছেদ শেষে তাকে বাসায় নিয়ে আসা হয়। অতঃপর লাশ নিয়ে সবাই চলে যাই গ্রামে। সেখানেই সবাই মিলে তার কাফন-দাফন সম্পূর্ণ করে। ততক্ষণে আমি একটি কথাও বলিনি। আমার চোখে জল আসেনি। কোনো কষ্ট অনুভব করিনি। সত্যি বলতে সেই মুহূর্তগুলোতে আমি আমার নিজেকেই অনুভব করিনি। আমি যেন এক জিন্দা লাশে রূপান্তরিত হয়েছিলাম।

সাত দিন পর আমি আগারগাঁও আমার ফ্লাটে আসি। তখনই প্রথম দাদুর কাছে সব কথা শুনতে পাই। দাদুকে নিয়ে নিপু শপিং করতে বের হয়েছিল। রিক্সায় চড়ে যাচ্ছিল তারা। পথের মধ্যেই একজন মোটর সাইকেল আরোহী ছিনতাইকারী নিপুর ব্যাগ ধরে টান দিতেই ব্যাগ সহ নিপু রাস্তায় পড়ে যায়। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই পিছন থেকে আসা একটা প্রাইভেট কারের নিচে চাপা পড়ে সে!
কথাগুলো বলতে বলতে দাদু অঝরে কাঁদছিল। ডুকরে ডুকরে কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন তিনি, “আমি আবারো একা হয়ে গেলাম রে!”
দাদু কাঁদছিল। আমি নিশ্চুপ। কোনো অদ্ভুত কারণে আমার কান্না আসছিল না। বরং মনের ভীতরে প্রলয়ংকারী ঘুর্ণিঝড় বয়ে চলছিল। অল্প কিছুদিনের মাঝে সেই ছিনতাইকারীরকে ধরা হয়। তাকে আদালতে পেশ করে জামিন নামঞ্জুর করে কাশিমপুর জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। পুলিশ বলছিল খুনীর অন্তত সাত বছরের সাজা হবে। তবে আমার মনটা কেমন যেন উতলা হয়ে ছিল। মনে হচ্ছিল যেন ঐ লোকটাকে নিজের হাতে খুন না করতে পারলে শান্তি পাব না। প্রতিনিয়ত আমি নিপুকে দেখতাম। অসহায় দৃষ্টিতে সে তাকিয়ে থাকতো আমার দিকে। তার চেহারাটা রক্তাক্ত। অনেক কষ্ট করে সে যেন আমার কানে কানে কিছু বলতে চায়। তবে তার পূর্বেই তার শক্তি নিঃশেষ হয়ে যায়। তার নির্লিপ্ত, রক্তাক্ত বদন আমার অন্তরে অগ্নিলাভা প্রজ্বলিত করে। দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে মস্তিষ্কের স্নায়ু কোষগুলো।

দাদুকে দেখতাম, প্রতিনিয়ত কষ্ট পাচ্ছিলেন তিনি। ঠিক সেই মুহূর্তে এক সকালে তার মৃত্যুর সংবাদ আমাকে খুব হতবাক করেনি। আগের দিন সকালে খাবারের সাথে দাদুকে আমিই স্লো পয়জন মিশিয়ে দিয়েছিলাম। ধীরে ধীরে ভিতর থেকে জীবনটা কেড়ে নিয়েছিল এই বিষ। খুব বেশি নয় চব্বিশ থেকে আটচল্লিশ ঘন্টা সময় লাগে স্লো পয়জন কার্যকারী হতে। দাদু আঠারো ঘন্টা পরই মারা গিয়েছিল। হয়তো বৃদ্ধর কল-কবজা এমনিতেই অকেজো ছিল, তাই খুব একটা সময় লাগেনি। আর তার পর থেকেই আমি নিপুর আসল হত্যাকারীকে কিভাবে খুন করা যায়, সেই পথ খুঁজতে থাকি। তাকে জেলহাজতে রাখায় কাজটা আমার জন্য কিছুটা কঠিন হয়ে পড়ে। মনের মাঝে তীব্র এক যন্ত্রণা অনুভব করছিলাম। অনেক ভেবে অবশেষে একটা উপায় বের করি। আমার অনেক পুরাতন এক বন্ধু, তখন রমনা থানার ওসি ছিল। তার সাহায্যে নিজের নামে ছোট একটা কেইস ফাইল করি। আইনজীবি নিয়োগ না করায় আদালত আমাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেয়। সেই বন্ধুর সহযোগিতায় আমাকে আফসারের সেলে রাখার ব্যবস্থা করা হয়। আমার সাথেই একটা সাবানের মধ্যে করে আমি স্লো পয়জনের শিশিটা জেলের মধ্যে নিয়ে এসেছিলাম।
আমি জেলে আসার তিন দিন পর আমার আইনজীবি নিয়োগ করা হয়। সাধারণ একটা অর্থ কেলেঙ্কারির মামলা, যার কোনো ভিত্তিই ছিল না, তাই জামিন নিতে খুব একটা কষ্ট হলো না। আর এর মাঝেই আমি আমার কর্ম সম্পাদন করে নিলাম।

সোফায় ক্লান্ত শরীরটা নেতিয়ে পড়েছে। এসির তাপমাত্রা কমিয়ে আঠারোতে নামিয়ে নিলাম। মনটা কিছুটা শান্ত এখন। নিপুর হত্যাকারীকে খুন করতে পেরে রাজ্যের প্রশান্তি মনের মাঝে উল্লাসে মেতে ওঠে। দাদুকে মারার কোনো ইচ্ছাই আমার ছিল না। তবে লোকটার কষ্ট সহ্য হচ্ছিল না। নিপুর মৃত্যুর শোকে জর্জরিত হয়ে তিলে তিলে মরছিল বৃদ্ধ। কেন যেন মনে হচ্ছিল লোকটির এই একাকিত্ব ছেড়ে মরে যাওয়াই উচিত। হয়তো দাদুরও তাই মনে হচ্ছিল, যেমনটি এখন আমার মনে হচ্ছে!
রাতে পাশের এক হোটেল থেকে এক পেকেট বিরিয়ানি নিয়ে আসলাম। আলমারিতে লুকিয়ে রাখা শেষ স্লো পয়জনের শিশিটা নামিয়ে যত্ন করে পুরোটা বিরিয়ানিতে মিশিয়ে নিলাম। অতঃপর মন ভরে খেতে লাগলাম। খাবার মুহূর্তে একটা বারের জন্যও মনে হয়নি এই খাবারের মধ্য দিয়েই নিজের জীবনের সমাপ্তি লগ্নে পৌঁছে যাব। খাবার শেষ করে একটা তৃপ্তির ঢেকুর তুলে বিছানায় পিঠটা এলিয়ে দিলাম। মাথাটা হালকা ঝিম ঝিম করছিল। চোখ জোড়ায় রাজ্যের ঘুম এসে ভর করছে। আমি জানি, এটাই হয়তো আমার জীবনের শেষ ঘুম। মনের মাঝে রাজ্যের প্রশান্তি নিয়ে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছিলাম আমি অজানা কোনো জগতে। যে জগৎ থেকে ফিরার কোনো পথ নেই। খানিকটা সময়ের জন্য আঁৎকে ওঠলাম। তবে ততক্ষণে অদৃশ্য কোনো শক্তির পরশে আমি ভেসে যাই দূর দিগন্তে।

সম্পর্কিত পোস্ট

পূনর্জন্ম

জুয়াইরিয়া জেসমিন অর্পি . কলেজ থেকে ফিরেই পিঠের ব্যাগটা বিছানায় ছুড়ে ফেললো অন্বেষা। তারপর পড়ার টেবিলের কাছে গিয়ে চেয়ার টেনে নিয়ে ধপ করে বসে দুই হাত দিয়ে মাথাটা চেপে ধরলো।প্রচণ্ড মেজাজ খারাপ ওর। আজ ওদের সেমিস্টার ফাইনালের রেজাল্ট দিয়েছে। একদমই ভালো করেনি সে। যদিও শুরু...

অনুভূতি

অনুভূতি

লেখা: মুন্নি রহমান চারদিকে ফজরের আজানের সুমধুর ধ্বনি ভেসে আসছে। বাইরে এখনো আবছা অন্ধকার। তড়িঘড়ি করে বিছানা ছাড়লো মালা। ঘরের কাজ সেরে বের হতে হবে ফুল কিনতে। তাড়াতাড়ি না গেলে ভালো ফুল পাওয়া যায় না আর ফুল তরতাজা না হলে কেউ কিনতে চায় না। মাথার ওপরে তপ্ত রোদ যেন...

অসাধারণ বাবা

অসাধারণ বাবা

লেখক:সাজেদ আল শাফি বাসায় আসলাম প্রায় চার মাস পর। বাবা অসুস্থ খুব।তা নাহলে হয়তো আরও পরে আসতে হতো।গাড়ি ভাড়া লাগে ছয়শো পঁচিশ টাকা।এই টাকাটা রুমমেটের কাছ থেকে ধার নিয়েছি।তার কাছে এই পর্যন্ত দশ হাজার টাকা ঋণ হয়েছে।বলি চাকরি হলেই দিয়ে দিব। পড়াশোনা শেষ করে দুই বছর...

০ Comments

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *