শূন্য খাঁচা
প্রকাশিত: জানুয়ারী ১৬, ২০১৮
লেখকঃ vickycherry05

 167 বার দেখা হয়েছে

এই লেখক এর আরও লেখা পড়ুনঃ vickycherry05

লেখকঃ
Sidratul Rafsana
……………

ময়মনসিংহ কে ক্ষণস্থায়ী বিদায় জানিয়ে আসার সময় নিয়ে আসি খুব শখের এক জোড়া পাখি। খুব ভালোবেসে দুটি নামও ঠিক করলাম-হিমু এবং নীলু।????
নায়িকা নীল বর্ণের হওয়ায় নামকরণ করা হয় নীলাঞ্জনা। সংক্ষিপ্ত করে নীলু। আর নায়ক হচ্ছে হলুদ বর্ণের,বুঝতেই পারছেন কি নাম হতে পারে! হ্যাঁ, হিমু।
ছোট একটি সংসার হিমু এবং নীলুর। একটি ছোট ঘর, দুটি খাবার বাটি, আর ছোট একটি হাঁড়ি।
সারাক্ষণ তাদের মধ্যে ভাব বিনিময় চলতেই থাকে। কিছুক্ষণ তুঁমুল ঝগড়া আর খুনসুটি,পরক্ষণেই আবার ভালোবাসার আদান-প্রদান।
দেখেলেই প্রাণ-জুড়ায়। ওদের নিয়ে বিকেল-ভ্রমন, কিছু ফটোসেশন করেই কিছুদিন কেটে যায়। আমার তখন বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা চলছে, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির গড়মিলে চারদিকে হতাশার ঘন-কুয়াশা।
রুটিনহীন দিন কাটে, পাখিগুলোর তেমন খোঁজ নেয়া হতো না! ঘুম থেকে কখনোই সকালে ওঠা হয়ে উঠেনা। প্রতিদিনের মতো ঘুম থেকে ওঠে এক রুম থেকে অন্য রুমে যাওয়ার সময় আচমকা চোখ চলে যায় বারান্দায় ঝুলানো পাখির খাঁচায়। চিৎকার করে ‘মা’ কে ডাকলাম। আমার পাখি কই!!! আমার চিৎকার করে কান্না করতে ইচ্ছা হচ্ছিলো। খাঁচায় জড়োসরো হয়ে নীলু বসে আছে। হিমু নেই! আশেপাশে অনেক খুঁজেও পেলাম না হিমুকে, হঠাৎ একবার দেখতে পেলাম কোন এক গাছের মগডালে, ধরা-ছোঁয়ার বাহিরে। এরপর আর দেখতেও পাইনি।
সে আর ফিরে আসতে চায় না! কীভাবে হিমু বের হলো সেটা আজও অজানা!! নীলু এখন খুব একা, সবসময় মন খারাপ থাকে, কিছু খায় না। উড়িয়ে দিতে চেয়েও দেয়া হয়নি, ভেবেছিলাম আর একটি হিমু নিয়ে আসবো। কিন্তু সে সময় আর নীলু আমাকে দিলোনা!হঠাৎ করে সেও মারা যায়। হিমুর উপর বিশাল অভিমান তার।
আর আমার উপর রাগ,অভিমান সব।
শুধু আমি পারিনি কারও উপর রাগ-অভিমান করতে,কষ্টটা প্রকাশ করতে।
আমার রাগ সবটাই যে নিজের উপর।
বাসার পাশেই নীলুর চির নিদ্রার স্থান।
হিমু নেই, নীলুও নেই, কিন্তু আজও পরে আছে “হিমু????নীলু”-হীন “শূন্য খাঁচা”।

সম্পর্কিত পোস্ট

শয়তানকে পরাজিত করুন –

শয়তানকে পরাজিত করুন –

কোন এক দাওয়াতে এক ভাবী গল্প করছিলেন যে, এক মহিলা যখন তার Husband রাগ হয় তখন তিনি আয়াতুল কুরসি পড়েন আর তার স্বামী বিড়াল হয়ে যান । তখন আর এক ভাবী বললেন," ভাবী - আয়াতুল কুরসি পড়লে উনার স্বামী বিড়াল হন না বরং ঐ মহিলার সাথের শয়তানটা পালিয়ে যায়” । ভাবীদের এই...

একজন মানুষের গল্প

একজন মানুষের গল্প

দুই টাকার আইসক্রিম, বই সামনে নিয়ে চিৎকার করে পড়া, কলম দিয়ে এক অক্ষর বারবার লিখে হাত ব্যাথা সহ্য করতে করতেই ছোটবেলা কাটিয়ে দেওয়া। একটু বড় হওয়ার পর ছন্নছাড়া হয়ে যাওয়া। ক্লাস ফাঁকি দিয়ে বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দেয়া কোনো এক বট তলা। যেখানে বসে আড্ডা দিত কয়েকজন স্কুল পালানো...

অস্ফুট কান্না

অস্ফুট কান্না

লেখা: মোহসিনা বেগম , প্রচণ্ড শীত পড়েছে আজ। চারদিক কুয়াশা যেন চাদর বিছিয়ে রেখেছে। সকাল এগারোটা বেজে গেছে এখনও সূর্যের দেখা নেই। ছুটিতে কয়েকটা দিন গ্রামে থেকে আনন্দ করব কিন্তু প্রচণ্ড শীতে জমে যাচ্ছি। লেপের নীচ থেকে বের হতেই ইচ্ছে করছে না। ওদিকে মা কতক্ষণ ধরে ডেকেই...

১ Comment

  1. Saeeba shehroze jafri

    Heart touching story apu

    Reply

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *