সময়ের কলমের ছোঁয়ায় ভালো থেক তুমি কবি
প্রকাশিত: নভেম্বর ৫, ২০১৮
লেখকঃ

 87 বার দেখা হয়েছে

এই লেখক এর আরও লেখা পড়ুনঃ

.
গল্পঃ “সময়ের কলমের ছোঁয়ায় ভালো থেকো তুমি কবি।”
লেখায়ঃ অবকাশ বিশ্বাস নীল
.
“নিস্তব্ধতার জাল ছিঁড়ে ভেসে আসে রাত্রির দীর্ঘশ্বাস। ঘুমহীন দু’চোখের পাতায় জ্বালা ধরায় সিগারেটের ধোঁয়া। তুমিহীন যে জীবনটা একদিন ছিল স্বপ্নাতীত। আজকে সেটাই রূঢ় বাস্তব।
একবার ফিরে এসো নীলাঞ্জনা, তোমায় ছাড়া আমি আজও বড্ড অসহায়।”
✍ কোজাগরী
.
– আপনি কি লেখালিখি করেন?
ঘটনার আকস্মিকতায় কোজাগরী হতচকিত হয়ে তাকায় পাশে বসা মানুষটার দিকে।
– জ্বী। টুকটাক লেখালেখি করি। কেন বলুন তো?
– নাহ্, এমনি। কিছু মনে করবেন না আমি জানি অন্যের মোবাইলের দিকে তাকানো খুব অন্যায় তবুও লেখাটা পড়ে খুব ভালো লাগলো তাই পুরোটা পড়ে ফেললাম। আপনাকে একটা কথা জিজ্ঞাসা করব?
– জ্বী নিশ্চয়।
– আচ্ছা, আপনি বিশিষ্ট সাহিত্যিক “একলা আকাশ?”
– আপনি আমাকে চেনেন?
– না, আসলে আমার এক বন্ধুর কাছে আপনার কথা শুনেছি কোন একটা পেজের অনুষ্ঠানে আপনাকে ও দেখেছিল, আপনার ছবিও তুলেছিল। আপনাকে ওনার মতো দেখতে লাগছে!
– জ্বী, আমিই সেই “একলা আকাশ।”
– আমি উমা বিশ্বাস। অনার্স ২বর্ষের পড়ি।
– বেশ।
– আপনি এই ভাবে ট্রেনে যাচ্ছেন যে? না মানে আপনার মতো একজন এত বড় লেখক!
– আমি কোনো বড় লেখক নই আমি একজন অতি সাধারণ মানুষ। সব জায়গায় বাসে – ট্রেনে যাতায়াত করি।
– আপনি কি করেন?
– আমি পেশায় একজন সাংবাদিক। অফিসের কাজে সিলেট এসেছিলাম এখন বাড়ি ফিরে যাচ্ছি। তুমি কত দূর যাবে? বয়সে ছোট হবে তো তাই তুমি বললাম।
– জ্বী নিশ্চয়। আমি ঢাকা যাবো তারপর চেঞ্জ করে অন্য গাড়ি। আচ্ছা, একটা কথা জিজ্ঞাসা করব? আপনার প্রতিটা লেখা আমি মন দিয়ে পড়েছি আপনার সব লেখাতেই আমি দুঃখ কষ্ট যন্ত্রণার ছাপ পেয়েছি, কখনো না পাওয়ার যন্ত্রনা আছে তো কোথাও পেয়েও হারানোর বিলাপ আছে। এত দুঃখ কিসের আপনার? কাকে খুঁজছেন আপনি?
– ভালোবাসা…
– ভালোবাসা?
– আমার ভালোবাসাকে খুঁজে ফিরছি আমি। সেই ভালোবাসা যে কখনো ধরা দিয়েছে আমার হিয়ার মাঝে তো কখনো মন কেমনের কবিতা হয়ে হারিয়ে গেছে রংরুটে। আমি খুব সাধারণ পরিবারে বড় হয়েছি, বাবা ছিলেন বাসের পিঠ চাপড়ানো একজন সাধারণ কর্মচারী। দারিদ্রতার আগুনে বড় হয়ে উঠেছি একটু একটু করে স্কুল তারপর কলেজ তারপর নিজের শখ পূরণ। ছোট থেকেই সাংবাদিকতার ভুত মাথায় চেপে ছিল কলেজ ছাড়ার পর তা পরিণতি পায়। দীর্ঘ সাংবাদিকতার জীবনে বহু চড়াই উৎরাই পার করেছি আমি; বহুবার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নানান ধরণের খবর সংগ্রহ করে পৌঁছে দিয়েছি সাধারণ মানুষের কাছে। এক সাধারণ নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে হয়েও স্বপ্ন দেখেছি এগিয়ে যাবার তার জন্য শুনেছি নানান কটূক্তি। সেই কটূক্তিগুলো চলার পথে আমাকে নতুন করে বাঁচতে সাহায্য করেছিল তারা হয়তো আমাকে ভুলে গেছেন কিন্তু আমি তাদের ভুলিনি। ভুলিনি তার কারণ সমাজের থেকে আসা প্রতিটা আঘাত আমাকে আরো শক্ত করেছে দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করার শক্তি জুগিয়েছে। এটা যেমন সত্যি আমি মানুষের মাঝে থাকতে ভালোবাসি মানুষের দুঃখ কষ্ট আমাকে ভীষণ ভাবে ব্যাথিত করে তেমনি এটাও একটা ধ্রুব সত্যি আমি পাখির মতো মুক্ত আকাশে উড়তে চেয়েছি তাই দশটা পাঁচটার গতে বাঁধা জীবনে আবদ্ধ হতে চাইনি। আমি চেয়েছিলাম মানুষের মাঝে হারিয়ে গিয়ে মানুষের জন্য লড়তে তাই নির্দ্বিধায় আমি আমার সরকারি চাকরি ছেড়ে বেরিয়ে পড়েছিলাম ক্যামেরা হাতে সহকর্মীদের সঙ্গে। প্রতিমুহূর্তে সমাজের চোখ রাঙানিকে উপেক্ষা করে এগিয়ে গেছি। আজ আমি এক সংবাদপত্রের সাংবাদিক, চলার পথে পাশে পেয়েছি অনেকেই তাদের মধ্যে কেউ খুব ভালো বন্ধু হিসেবে থেকেছে তো কেউ বন্ধুত্বের সীমানা ছাড়িয়ে জায়গা করে নিয়েছে আমার মায়ের ছোট্ট সংসারে। একদিন হঠাৎ জঙ্গলে খবর করতে গিয়ে গাড়িতে বসেই লিখে ফেললাম “কাজুর জন্য।” তারপর আসতে আসতে আরো অনেক কিছু।
– কাজু কে?
– আমার হারিয়ে যাওয়া কবিতাগুছ। বাস্তবে যার কোনো অস্তিত্ব নেই কিন্তু ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে আছে আমার সাথে। “কাজু” আমার না পাওয়া ভালোবাসার হাহাকার। সারাজীবন যাকে পেতে চেয়েছি শুধুমাত্র নিজের করে কিন্তু সে ধরা দেয়নি; সারারাত আমার কল্পনার ক্যানভাসে রামধনুর সাত রঙে ভরিয়ে সকালে ফিরে গিয়েছে রাতপরীদের দেশে। খুঁজতে খুঁজতে একদিন ভার্চুয়াল দুনিয়ায় পেয়েছিলাম এক মরীচিকাকে কিন্তু তার চোখে আমি কখনো আমার স্বপ্নের রাজকন্যা কাজু’কে পাইনি। তবুও অনেক চেষ্টা করেছিলাম জানো? অনেক বুঝিয়েছিলাম তাকে, ভালোবেসেছিলাম। সত্যি তাকে আমি খুব ভালোবেসে ফেলেছিলাম কিন্তু সে বোঝেননি। সে মেনে নিতে পারেনি আমার পরিবারকে আমার গৃহবধূ মাকে আমার বাবাকে। সমাজের কাছে ওই মানুষগুলোর পরিচয় দিতে বেঁধে ছিল তার। সে এসেছিল অনেক অনেক আশা নিয়ে তার সেই আশা পূরণ করার সাহস আমি দেখাতে পারিনি। আমি পারিনি আমার মা – বাবা আমার পরিবারকে ছেড়ে তার সাথে সুখের ঘর বাঁধতে। সে ফিরে গেছে তার রঙ্গিন পৃথিবীতে আর আমি আমার একলা আকাশকে ভালোবেসে থেকে গেছি টালির চালের মাটির ঘরে। যে চোখের ভাষায় নতুন নতুন কবিতা জন্মাত। এখন সেই পুরোনো কবিতারা মরে গিয়ে প্রতি রাতে জন্ম নেয় অব্যক্ত যন্ত্রনারা তাদের আমি সযত্নে সাজিয়ে রাখি আমার ল্যাপটপের বেনামি ফোল্ডারে। জীবনের অনেকটা পথ পেরিয়ে আর কথা হয়ে ওঠেনি, কাছাকাছি আসা হয়নি কখনো আর ভালোবাসাও হয়নি। তবুও তো জীবন এগিয়ে চলে। ডায়েরির পাতায় জমতে থাকে কবিতারা, চোখের পাতায় রাত ফুরোলে স্বপ্ন। যে প্রেম পরিণত হওয়ার আগেই ভগ্ন হয় তার কী নাম দেব? ঝরাপাতার বসন্ত নাকি কাঁচের একাকী ঘরে জমতে থাকা বাস্প। জানো? কাজু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে পরিবর্তন এসেছে, চোখে নেমেছে অন্ধকার তবু আজও হারিয়ে যায়নি সেদিনের স্বপ্নগুলো। আজও প্রতিরাতে স্মৃতিগুলো আমার মস্তিস্ক কুরে কুরে খায়, বুকে অসহ্য যন্ত্রনারা ভীড় করে আর আমি নির্লজ্জের মতো, ‘ভালো আছি’ নামক একটা বিশাল পাথর চাপা দিয়ে রাখি নিজের বুকেই।
– তারপর?
– রাত গভীর হয়। ঘুমহীন দু’চোখে নামহীনা কোনও নদী বয়ে যায়। আমার স্বপ্নগুলো ভেঙে চৌচির হয়ে যায় বারবার। আবার স্বপ্ন দেখি রাত গভীর হলে। এখন আর ঘুম আসে না একলা রাতগুলোতে। আমার ঘরের ব্যালকনি থেকে রাতের আকাশটাকে পরিস্কার দেখা যায়। একাকীত্ব এখন আমার অভ্যাস হয়ে গেছে। অবসরে কবিতা আমার সঙ্গী। ওদের লিখি ডায়েরির পাতায়। ধুলো জমে ঝেড়ে ফেলে আবার লিখি। আজ রাতটা একান্তই আমার। জানো? এখনও আমার ঘরের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে আছি ভীষণ একাকী আশেপাশে তুমি নেই। এভাবেই একদিন বয়স ফুরোবে, জীবন এগিয়ে যাবে আকাশের পথে। কিন্তু আমার চোখের স্বপ্নগুলো স্মৃতির পাতায় রয়ে যাবে চির নতুন যেমন করে ভালোবাসা জন্মায় প্রতিদিন তোমার আমার মনের ক্যানভাসে। রাতের পর রাত হয়তো এভাবেই স্বপ্নগুলো জন্ম নেবে আমার চোখের পাতায়। তখন তুমি অনেক দূরের বাসিন্দা হয়তো তবুও চিলেকোঠায় জমতে থাকবে আমাদের ইচ্ছেগুলো আর কাঁচের ঘরে পরিণতি পাবে এক টুকরো আশা। চলো স্টেশন এসে গেছে এবার নামতে হবে তোমাকে।
চমক ভাঙ্গলো। এতক্ষন মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনছিল তার প্রিয় কবির জীবন কাহিনী।
– কিছু যদি মনে না করেন আমি কি আপনার সাথে একই কম্পার্টমেন্টে উঠতে পারি? আমি তো বগুড়া নামবো।
– ওহহ্! তার মানে আমরা দু’জন একই পথের যাত্রী।
– জ্বী.. আচ্ছা, আপনি কি কখনো আপনার কাজু’কে খুঁজে পাননি?
– হ্যাঁ, পেয়েছি সেই পরশপাথর কে। খুবই অদ্ভুত ভাবে পেয়েছিলাম তাকে, আমার কবিতার ছন্দ হয়ে সে এসেছিল আমার জীবনে আমার দুধ সাদা জীবনে ঢেলে দিয়েছিল এক মুঠো কেশর। উত্তাল সমুদ্রের ঢেউ হয়ে আঁছড়ে পড়া সেই মরীচিকার বিরহ যন্ত্রনায় কাতর হয়ে একদিন লিখে ফেললাম একটা কবিতা, পোস্ট করলাম আমার টাইমলাইনে হঠাৎ এক আগন্তুকের মন্তব্য আমাকে নতুন করে ভাবায়। কথা বলতে শুরু করি তার সাথে কথা বলতে বলতে একদিন অনুভব করি আমি তার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ছি দিন দিন কিন্তু আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ কথা দিয়েছিলাম আমার মরীচিকাকে আমি তার পাশেই থাকবো শুধু তাকেই ভালোবাসবো। আমার দোদুল‍্যমান হৃদয়ের অব্যক্ত ভাষা বুঝে নিতে তার একটুও দেরি লাগেনি গঙ্গার কোলে ডুবতে থাকা সূর্যটাকে সাক্ষী রেখে সে আমার চোখে চোখ রেখে আমার হাত দুটো ধরে চিৎকার করে বলেছিল, “কবি আমি তোমাকে ভালোবাসি ভালোবাসি ভালোবাসি। আমি কখনো তোমার ওপর নিজের অধিকার দেখাবো না তুমি থাকো তোমার পৃথিবীতে, সুখের চাদরে মুড়ে রেখো তোমার অর্ধাঙ্গিনীকে শুধু মনে রেখো একজন আছে যে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত শুধু তোমাকেই ভালোবেসে যাবে।” সেই কথাগুলো এখনো শিহরণ জাগায় আমার শিরা – উপশিরায়। সেদিনের সেই চুরি যাওয়া আলোয় আমি তার চোখে আমার কাজুকে খুঁজে পেয়েছিলাম। তাই অশান্ত মনে ছুটে গিয়েছিলাম আমার প্রিয় বন্ধুর কাছে, জীবনে চলার পথে যাকে সব থেকে বেশি করে কাছে পেয়েছিলাম আমি; মাঝখানে কাটিয়েছিলাম শুধুমাত্র একটা রাত তারপর সমস্ত দ্বিধা – ধন্ধ ভুলে আপন করে নিয়েছিলাম নিদ্রাকে। সেই আগন্তুকের নাম নিদ্রা। আমার জীবনের পরশপাথর আমার স্বপ্নের রাজকন্যা কাজু। কিন্তু ওই যে বলে না সুখ দুঃখ একে অপরের পরিপূরক নিদ্রা আমার জীবনে একতোড়া রজনীগন্ধার সুবাস হয়ে এলেও ওর পরিবার আমাকে নিদ্রার অযোগ্যই মনে করেছিল। আমাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরির জন্য ওকে পড়াশুনার জন্য আমেরিকায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
– তারপর কি হলো? তার সাথে আপনার আর দেখা হয়নি কোনোদিন? সে আর ফিরে আসেনি?
– বেশ কিছু বসন্ত পেরিয়ে তার সাথে আমার আবার দেখা হয় রাজধানীর রাজপথে। আমি এটা তো জানতাম সে এখন ঢাকায়। কিন্তু তার বাড়ির ঠিকানা আমার জানা ছিল না। স্টেশনে তাকে দেখেছিলাম একবার। কিন্তু কিছু বলার আগেই সে হারিয়ে গেল মানুষের ভিড়ে। একটা অচেনা অজানা শহরে কোথায় খুজতাম তাকে? কিন্তু ওই যে বলে না সময় সব কিছু ফিরিয়ে দেয়; কথাটা একদম ঠিক সময় তাকেও ফিরিয়ে দেয় আমার কাছে। ওর সাথে আমার আবার দেখা হয় রাজশাহীর বুকে অনুষ্ঠিত এক কবি সম্মিলনী’র অনুষ্ঠানে। সেই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন কবি সাহিত্যিকদের সাথে আমিও উপস্থিত ছিলাম আর সে এসেছিলো তার কলেজের বন্ধুদের সাথে। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত সব অথিতিই একে একে তাদের বক্তব্য রাখলেন; সূচি অনুযায়ী ডাকা হলো আমার নাম। বহুযুগের অপেক্ষার অবসান আজ আমি সবাইকে শোনাবো আমার কাজু’র গল্প। স্টেজে আসার পর আমি বাকরুদ্ধ; অডিয়েন্সে একদম প্রথম সারিতে বসে আছে সে। তার দুচোখ বেয়ে নেমেছে ভালোবাসার ঝর্ণা ধারা। সঞ্চালকের ডাকে হুস ফেরে আমার, আমি সবাইকে শোনাতে থাকি আমার কাজু’র গল্প। গল্প শেষে অনেকেই তোমার মতো আমার কাছে জানতে চায় কে এই কাজু?
– আপনি কি বললেন?
– বলিনি, দেখিয়েছিলাম। সেদিন সবাই দেখেছিল আমার স্বপ্নের রাজকন্যা নিদ্রা অর্থাৎ কাজুকে। পরদিন সবার চোখ এড়িয়ে আমরা দেখা করি। আবার সেই সূর্য ডোবার পালা সেই আমার চোখে চোখ হাতে হাত রেখে চিৎকার করে বলা, ভালোবাসি.. ভালোবাসি.. ভালোবাসি.. সেই প্রথম দিনের নিদ্রার এর সাথে আজকের নিদ্রার শুধু একটাই পার্থক্য আমার চোখে পড়েছিল আগের থেকে অনেক বেশি প্রাপ্ত ছিল তার চোখের ভাষা। নিদ্রা আমাকে কথা দিয়েছে আমার একলা আকাশে সে অরুন্ধতী হয়ে ফুটে থাকবে সারাজীবন। সে ফিরে আসবেই তার কবির কাছে।
ট্রেন যখন প্লাটফর্ম ছুঁলো ঘড়ির কাঁটা জানান দিচ্ছে বিকেল গড়িয়ে সবে সন্ধ্যে নেমেছে। বগুড়া স্টেশনে হুইসেল বাজিয়ে ট্রেন প্লাটফর্ম ছেড়ে বেরিয়ে গেল ধীরে ধীরে। যেতে যেতে একসময় হারিয়ে গেল দূরে থেকে আরো দূরে। উমা দাঁড়িয়ে রইলাম একা আর হাতে আমার প্রিয় কবির লেখা কিছু কথা। সময়ের কলমের ছোঁয়ায় ভালো থেকো তুমি কবি।
-সমাপ্ত-

সম্পর্কিত পোস্ট

পূনর্জন্ম

জুয়াইরিয়া জেসমিন অর্পি . কলেজ থেকে ফিরেই পিঠের ব্যাগটা বিছানায় ছুড়ে ফেললো অন্বেষা। তারপর পড়ার টেবিলের কাছে গিয়ে চেয়ার টেনে নিয়ে ধপ করে বসে দুই হাত দিয়ে মাথাটা চেপে ধরলো।প্রচণ্ড মেজাজ খারাপ ওর। আজ ওদের সেমিস্টার ফাইনালের রেজাল্ট দিয়েছে। একদমই ভালো করেনি সে। যদিও শুরু...

অনুভূতি

অনুভূতি

লেখা: মুন্নি রহমান চারদিকে ফজরের আজানের সুমধুর ধ্বনি ভেসে আসছে। বাইরে এখনো আবছা অন্ধকার। তড়িঘড়ি করে বিছানা ছাড়লো মালা। ঘরের কাজ সেরে বের হতে হবে ফুল কিনতে। তাড়াতাড়ি না গেলে ভালো ফুল পাওয়া যায় না আর ফুল তরতাজা না হলে কেউ কিনতে চায় না। মাথার ওপরে তপ্ত রোদ যেন...

অসাধারণ বাবা

অসাধারণ বাবা

লেখক:সাজেদ আল শাফি বাসায় আসলাম প্রায় চার মাস পর। বাবা অসুস্থ খুব।তা নাহলে হয়তো আরও পরে আসতে হতো।গাড়ি ভাড়া লাগে ছয়শো পঁচিশ টাকা।এই টাকাটা রুমমেটের কাছ থেকে ধার নিয়েছি।তার কাছে এই পর্যন্ত দশ হাজার টাকা ঋণ হয়েছে।বলি চাকরি হলেই দিয়ে দিব। পড়াশোনা শেষ করে দুই বছর...

১১ Comments

  1. Md Rahim Miah

    অনেক ভালো ছিল

    Reply
  2. Md Rahim Miah

    অনেক ভালো ছিল

    Reply
  3. Md Rahim Miah

    ওনার-উনার
    ভুত- ভূত
    বোঝেননি-বোঝেনি
    কুরে-কুড়ে
    খায়-খাই(নিজের বেলা ই হয়)
    এতক্ষন-এতক্ষণ
    যন্ত্রনায়-যন্ত্রণায়
    উমা দাঁড়িয়ে রইলাম একা আর হাতে আমার প্রিয় কবির লেখা কিছু কথা(লাইনটা মনে হয় এইভাবে হবে, উমা দাঁড়িয়ে রইল একা আর হাতে তাঁর প্রিয় কবির কিছু লেখা।
    যাইহোক পড়ে ভালোই লেগেছে ,কোনো এক কবির জীবন ভেবেই লেখা। কিছু ভুল আছে দেখে নিবেন, আপনার জন্য শুভ কামনা।

    Reply
  4. Tanjina Tania

    ভুত বানানটাতে ূ হবে। ভুত-ভূত। গল্পের নামটা বেশ বড় হলেও আকর্ষণীয়। আমার ভালো লেগেছে গল্পটা। ঠিক তার নামের মতোই চমৎকার।

    Reply
  5. অচেনা আমি

    আসসালামু আলাইকুম। গল্প প্রসঙ্গে কিছু কথা :
    সত্যি কথা বলতে গল্পটা তেমন একটা আমাকে আকৃষ্ট করতে পারেনি। আর পিছে অনেকগুলো কারণ রয়েছে।
    অচেনা কাউকে খুব সহজে মানুষ নিজের বিষয়ে এতো কিছু বলে না। তাছাড়া পুরো গল্পটা জুড়েই এক ধরনের বিষাদ ভরা কথা লেখা। কেমন যেন একঘেয়েমি ভাব। তাছাড়া বানানেও বেশ ভুল রয়েছে।
    করব – করবো
    এত – এতো
    ভুত – ভূত
    ধরণের – ধরনের
    ভীষণ ভাবে – ভীষণভাবে
    গতে মানে বুঝিনি
    ওতপ্রোত ভাবে – স্পেস হবে না
    সারারাত – সারা রাত
    রাতপরীদের – রাত পরীদের
    বোঝেননি – বোঝেনি
    বাস্প – বাষ্প
    কুরে কুরে – কুড়ে কুড়ে
    পরিস্কার – পরিষ্কার
    আপনি কি করেন? – আপনি কী করেন?

    এই রকম আরও অনেক ভুল আছে। আগামীতে বিষয়গুলোর দিকে খেয়াল রেখে লিখলে আশা করি ভালো হবে। শুভ কামনা।

    Reply
  6. Nafis Intehab Nazmul

    প্রথম কথা হচ্ছে, বানানে অনেক ভূল। এখানে প্রতিযোগিতা চলছে। বানান ভূল গেলেই মার্ক হারাবেন। সো, বি কেয়ারফুল।
    গল্পটা সুন্দর ছিলো। একদম কবি কবি ভাব নিয়ে লেখা।

    Reply
  7. Halima tus sadia

    চমৎকার লিখেছেন।
    বর্ণনাভঙ্গি দারুণ ছিলো।
    তবে বানানে প্রচুর ভুল।শুধরে নিবেন।
    লেখার হাত ভালো,এগিয়ে যান।
    শুভ কামনা রইলো।

    Reply
  8. AH Saju

    ভালো!

    Reply
  9. AHSaju

    ভালো!

    Reply
  10. Ah saju

    Good

    Reply
  11. Ah saju

    এক কথায় অসাধারণ ছিলো।

    Reply

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *