শেষ প্রহর
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৮
লেখকঃ

 58 বার দেখা হয়েছে

এই লেখক এর আরও লেখা পড়ুনঃ

সাখাওয়াত আলী

 

রুমা অনেকক্ষন যাবৎ বসে আসে, শায়নের আসার খবর নেই। বললো ২ মিনিটের মধ্যে আসছি কিন্তু এখন ৪০ মিনিট হয়ে গেলো। কিন্তু সে তার উপর রাগ করতে পারছে না। অদ্ভুত এক ভালোলাগা কাজ করে তার উপর। এর আগেও সে বহুবার ঠিক এই কান্ডই করছে। এই আসছি বলে যায় আর আসার খবর থাকে না।মাঝে মাঝে রুমা ভাবে এই ভুলো মন নিয়ে সে জীবন যাপন করে কিভাবে।

শায়নের সাথে রুমার প্রথম দেখা হয় ঠিক ২ বছর আগে ভার্সিটির লাইব্রেরীতে। একদিন রুমা আর তার বান্ধবী নুপূর কি একটা কাজে লাইব্রেরীতে বসে বই ঘাটাঘাটি করছিলো। হঠাৎ একটা লাল টকটকে শার্ট পরা ছেলে তাদের কাছে এসে বললো ” এই বইটাকি আমাকে দেয়া যেতে পারে। কাল আমার পরিক্ষা। যদি বইটা দিতেন তাহলে আমি খুব উপকৃত হতাম”। রুমা খেয়াল করলো ছেলেটা লাল একটা শার্টের সাথে একটা কালো প্যান্ট পরেছে। চুলো গুলোও অগুছালো। দেখেই বুঝা যাচ্ছে পুরোপুরি সম্পূর্ন অগুছালো একটা ছেলে। রুমা বইটা দিতে চাচ্ছিলো কিন্তু নুপূর বাধা দিয়ে বললো, এই যে মিষ্টার আপনাকে যদি বইটা দিয়ে দেই তাহলে আমরা কি পরবো। কাল আমাদের এই বইটার উপর এ্যাসাইনমেন্ট আছে। শায়ন বললো, তাহলে আমি ওয়েট করি, আপনাদের কাজ শেষ হলে আমাকে দিয়েন। না, আপনি বরং অন্য কোনো উপায় খুজোন, আমরা দিতে পারছি না। সরি। আহ থাক না, আমরা না হয় আর এক জনের কাছ থেকে নিয়ে নিবো। তুই বইটা উনাকে দিয়ে দে,রুমা বললো। তারপর রুমা বইটা নিজেই শায়নকে দিয়ে দিলো। এরপর যতবার রুমার সাথে শায়নের দেখা হয়েছে ততবারই শায়ন রুমাকে তার উপকারের জন্য ধন্যবাদ জানাতো।

দীর্ঘ ২ ঘন্টা বসে থাকার পরও শায়নকে দেখা যাচ্ছে। রুমার একটু একটু ভয় লাগতে শুরু করলো। সে মনে মনে চিন্তা করতে লাগলো শায়নের কিছু হয় নি ত! সে শুনেছে ট্রেন ইষ্টেশনের পাশে নাকি অনেক খারাপ খারাপ লোক থাকে। তারা টাকার জন্য নাকি মানুষকেও খুন করে ফেলে। নাকি সে বিয়ে করবে তাই তাকে এখানে ফেলে চলে গেছে। এইসব চিন্তা করতে করতে ভয়ে তার হাত পা জমে গেছে। সে খেয়াল করে দেখলো সে নড়তে পারছে না।মনে হচ্ছে তার শরীর মূর্তির মত শক্ত হয়ে গেছে। সে দেখতে পাচ্ছে তার আশেপাশের মানুষজন তার দিকে কেমন কেমন করে তাকাচ্ছে। কিন্তু কাউকেই সে ঠিক চিনতে পারছে না। সবাইকেই কেমন যেনো অদ্ধুত লাগছে। সে কি ঠিক আছে? সে কিছুই চিন্তা করতে পারছে না। তার সামনে পুরো পৃথিবী ঘুরতে শুরু করলো।

চারপাশটা কেমন যেনো অন্ধকার অন্ধকার হয়ে আসছে। হালকা দমকা বাতাস বইছে। বুঝাই যাচ্ছে কিছুক্ষনের মধ্যে ঝড় শুরু হবে। শরৎকালের এই এক ঝালেমা প্রায় সারাটা মাস জুরেই ঝড় বৃষ্টি থাকে।

আপনি মনে হয় মাহবুব স্যার?
জি, আপনি? কথাটা শেষ করার আগেই লোকটা বলল, আমি জলিল। বড় স্যার আমাকে পাঠাইছে আপনাকে নেওয়ার জন্য।
মাহবুব লক্ষ্য করলো, লোকটার মুখ হাসি হাসি।পান খেয়ে দাত গুলো সব লাল করে রেখেছে। মাঝারি আকারের লোকটার বয়স ৪০-৪৫ বছরের বেশি হবে না। এই গরমের মধ্যেও গলায় একটা মাফলার।

স্যার, ব্যাগগুলা আমার কাছে দিয়া দেন। এই বলে মাহবুবের কাছ থেকে প্রায় জোর করেই ব্যাগগুলো নিয়ে নিলো।

বড় স্যার বলছিলো আপনি ১২টায় আসবেন। কিন্তু রাস্তায় একটা ঝামেলা হয়ে গেছিলো তাই আসতে একটু দেরি হইয়া গেছে। কিছু মনে কইরেন না স্যার।

মাহবুব তার প্রশ্নের কোনো জবাব দিলো না। আমাদের কতদূর যেতে হবে?
বেশি না স্যার, এইখান থেইকা একটা ভ্যান উঠলে ৩০ মিনিট লাগবো স্যার।
বলতে বলতেই বৃষ্টি নেমে গেলো। শরৎকালের বৃষ্টির জোর খুব বেশি থাকে। তারা বের হতে গিয়েও বের হতে পারলো না।বৃষ্টির ঝাপটায় অনেকটা ভিজে গেলো তারা।

স্যার, কিছুক্ষন অপেক্ষা করি, দেখবেন কিছুক্ষনের মধ্যেই বৃষ্টি থাইম্মা যাইবোগা। মাহবুব বুঝতেই পারছে লোকটা একটু বেশি কথা বলে। তবে বেশি কথা বলা লোকদের মন ভালো হয়, তাদের মনে এত প্যাচগোচ থাকে না।

মাহবুব হোসেন নতুন বদলি হয়ে এখানে এসেছেন। অংকের শিক্ষক। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ম্যাথমেথিক্স এ অনার্স, মাষ্টার্স পাশ করেছেন। ৩৫ বছেরের মানুষটি এর মধ্যে বিয়েও করে ফেলেছেন। ৪ বছরের একটি মেয়ে আছে তার। নাম ইকরি। নামটা অবশ্য তার দেয়া না। তার নানি নামটা ঠিক করেছেন। কিন্তু নামটা তার একটুও পছন্দ হয় নাই। সে মনে মনে বলে এইটা কোনো নাম হইলো। কিন্তু ভদ্রতার কারনে কিছুই বলতে পারে নায়। মাহবুব অংকের শিক্ষক হলেও বিজ্ঞান বিষয়ে তার দারুন দক্ষতা রয়েছে। সে মনে করে শুধু অংকে পারদর্শী হলে হবে না বিজ্ঞানেও পারদর্শীতা থাকতে হবে।

মাহবুব হোসেন আর জলিল ইষ্টিশনের এক কোনায় একটা চায়ের দোকানে দাড়িয়ে আছে। দোকানে লোকজন সমাগম কম। বুঝাই যাচ্ছে এই দিকটাই মানুষজন একটু কম আসে। মাহবুব মনে মনে ভাবছে বৃষ্টির যা অবস্থা মনে হয় না কয়েক ঘন্টায় থামবে।এইটা মনে করতে করতেই সে হঠাৎ তার বাম পকেটে হাত দিলো।আসার আগে নবনী তার কাছে একটা চিঠি দিয়েছিলো। বলছিলো সময় করে পড়ে নিতে। কিন্তু একদমই মনে ছিলো না তার। সে বাম পকেট থেকে চিঠিটা বের করে দেখলো তার অনেকটাই ভিজে গেছে। সে কোনো কিছু চিন্তা না করেই সেটা আবার বাম পকেটেই রেখে দিলো।

মাহবুব ইষ্টিশনের প্লাটফর্মের দিকে তাকিয়ে আছে। ছোট ছোট কয়েকটা ছেলে মেয়ে বৃষ্টির মধ্যে দৌরাদৌরি করছে। মাহবুব হঠাৎ লক্ষ্য করলো একটি মেয়ে বৃষ্টির মধ্যে প্লাটফর্মে বসে আছে। সে যেখানে বসে আছে তার উপরে ছাউনি নেই। মাহবুব লক্ষ্য করলো বৃষ্টিতে মেয়েটিকে খুবই অপরূপ লাগছে।সে এর আগেও বৃষ্টিতে ভিজতে অবস্থায় অনেক মেয়ে দেখেছে কিন্তু এত সুন্দর লাগে নি। প্রকৃতির সব সৌন্দর্য যেনো বৃষ্টি অবস্থায় মেয়েটিকে ঢেলে দিয়েছে…

সম্পর্কিত পোস্ট

পূনর্জন্ম

জুয়াইরিয়া জেসমিন অর্পি . কলেজ থেকে ফিরেই পিঠের ব্যাগটা বিছানায় ছুড়ে ফেললো অন্বেষা। তারপর পড়ার টেবিলের কাছে গিয়ে চেয়ার টেনে নিয়ে ধপ করে বসে দুই হাত দিয়ে মাথাটা চেপে ধরলো।প্রচণ্ড মেজাজ খারাপ ওর। আজ ওদের সেমিস্টার ফাইনালের রেজাল্ট দিয়েছে। একদমই ভালো করেনি সে। যদিও শুরু...

অনুভূতি

অনুভূতি

লেখা: মুন্নি রহমান চারদিকে ফজরের আজানের সুমধুর ধ্বনি ভেসে আসছে। বাইরে এখনো আবছা অন্ধকার। তড়িঘড়ি করে বিছানা ছাড়লো মালা। ঘরের কাজ সেরে বের হতে হবে ফুল কিনতে। তাড়াতাড়ি না গেলে ভালো ফুল পাওয়া যায় না আর ফুল তরতাজা না হলে কেউ কিনতে চায় না। মাথার ওপরে তপ্ত রোদ যেন...

অসাধারণ বাবা

অসাধারণ বাবা

লেখক:সাজেদ আল শাফি বাসায় আসলাম প্রায় চার মাস পর। বাবা অসুস্থ খুব।তা নাহলে হয়তো আরও পরে আসতে হতো।গাড়ি ভাড়া লাগে ছয়শো পঁচিশ টাকা।এই টাকাটা রুমমেটের কাছ থেকে ধার নিয়েছি।তার কাছে এই পর্যন্ত দশ হাজার টাকা ঋণ হয়েছে।বলি চাকরি হলেই দিয়ে দিব। পড়াশোনা শেষ করে দুই বছর...

০ Comments

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *