রাজাকারের প্রেতাত্মা
প্রকাশিত: জানুয়ারী ২৯, ২০১৮
লেখকঃ vickycherry05

 179 বার দেখা হয়েছে

এই লেখক এর আরও লেখা পড়ুনঃ vickycherry05

লেখকঃ
এইচ, এম, আবদুর রহমান।
এম, এস, এস
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
…………………

রকির ফোন এল। হ্যালো ভাই, রুনা আপু আসছে, তাড়াতাড়ি কার্জনে আসেন। কোন রকমে তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে রওয়ানা করলাম। একটা রিকশা ঠিক করলাম। রিকশাওয়ালার সাথে গল্প শুরু করলাম। ছেলেটি প্রায় আমার সম বয়সি। এক পর্যায়ে ছেলেটি বলল, আমার বাবা মুক্তিযোদ্ধা। আমি অবাক হয়ে বললাম,

– তোমার বাবা মুক্তিযোদ্ধা!! তাহলে রিকশা চালাও কেন? তুমি লেখা পড়া করনি?
-ও বলল, না। পড়া লেখা করিনি।
-তোমার বাবা কি করেন?
-বাবা ও বিভিন্ন কাজ করে। কখনো রিকশা চালায়, কখনো বিভিন্ন কারখানায় কাজ করেন।
আমি প্রশ্ন করলাম, কেন? উনি ভাতা পাননা?
– নাহ। আগে পেত। এখন পায়না।
– কারণ?
-আমাদের ঘরে আগুন লেগে সব কাগজ পুড়ে যায়। আর পরবর্তীতে কাগজ উঠাতে পারিনি।
– চেস্টা করেনি?
– করেছে অনেক। কিন্তু টাকা ছাড়া দেয়না।
-কি! একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার সনদ উঠাতে টাকা লাগে!!
– টাকা ছাড়া এ দেশে কিছুই হয়না। দেখা করতে গেলে ২০০০/৫০০০ টাকা এমনিতেই দেয়, কিন্তু কাজটা কেউ করে দেয়না।
মনটা খারাপ হয়ে গেল! রিকশা ৩ নেতার মাজার পর্যন্ত পৌছতেই, দেখলাম কেউ একজন আমার পাশে উঠে রিকশায় বসেছে। বলললাম, কিরে তুই কে?
– আমি রাজাকারের প্রেতাত্মা।
-এখানে?
– খাজা সাহবের সাথে দেখা করতে আসলাম।
-কি কথা হল?
– আর বলবেন না, কাছে যেতেই হক সাহেব লাথি মারল। কোন রকম দৌড়ে এসে আপনার পাশে রিকশায় বসলাম।
-যাহ ভাগ! না হলে আমার লাথি খাবি। আমি ও রাজাকারদের ঘৃণা করি।
– একটু সবুর করেন। তো আপনার মন খারাপ কেন?
– আর বলনা। রিকশাচালক একজন মুক্তিযুদ্ধার ছেলে।
– এ জন্য মন খারাপ?
– ওর বাবাও কোন রকম জীবন যাপন করে।
– আরে আপনিতো মহা বোকা দেশের কোন খবর রাখেন না। বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের পরিবার কেমন আছে?
– আমি বলতে পারবনা।
– খুবতো বললেন আমায় ঘৃণা করেন। তো যারা ৪০০০০ টাকায় সনদ কিনে ৪/৫ সন্তান সরকারী চাকরি করে তাদের ঘৃণা করেননা? সচিবরা যখন চাকরির মেয়াদ বাড়ানোর জন্য ভুয়া সনদ নেয়, তাদের কিছু বলছেন?
— দেখ আমার মন খারাপ, তুই নেমে যা।
— কেন? সত্য কথা তিতা লাগে? মুক্তিযোদ্ধারাও কেন এসবের প্রতিবাদ করেনা জানেন??
— কেন?
– কারণ তারাও অনেকে সনদ বাণিজ্যের সাথেজড়িত আছে। তাছাড়া তারা নিজেরাও জানে যে বৈষম্য দুর করতে তারা যুদ্ধ করেছে, তা দুর হয়নি। বরং তাদের দ্বারা নতুন বৈষম্যের দরজা উন্মুক্ত হলো।
– তুই চুপ কর। মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের গর্ব। তাদের নিয়ে আর কোন বাজে কথা বলবিনা। তাদের সব সুবিধা প্রাপ্য।
– বুঝলাম। তবে যারা মুক্তিযোদ্ধা সেজে বসে আছে? যারা ৭১ এ জন্ম না নিয়েও মুক্তিযোদ্ধা তাদের কি বলবেন?
– তাদেরকে আমি সহ, সমস্ত বাঙ্গালী তোর চেয়েও বেশি ঘৃণা করি!!
– দেখলেনতো, এতক্ষণ আমার দিকে তাক করা ঘৃণার আঙ্গুলটা আস্তে আস্তে সরে যাচ্ছে। হা হা হা হো হো হো…..
আমি চুপ হয়ে গেলাম। ঐ দিকে শয়তানটা খুশিতে অট্টহাসি দিচ্ছে!
রিকশা কার্জনের গেটে থামল। আমি রিকশাওয়ালা ছেলেটিকে কিছু বাড়তি টাকা সহ ভাড়া দিয়ে নেমে হাটতে লাগলাম। পিছনে তাকিয়ে দেখলাম রাজাকারের প্রেতাত্মাটা ছেলটির ঘাড়ে বসে অট্টহাসিতে আকাশ বাতাস কাপাচ্ছে। হাটতে হাটতে ভাবলাম যাদের কারনে আজ আমি হেরে গেলাম, যাদের কারণে রাজাকারের প্রেতাত্মা মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের উপর চেপে বসেছে, তাদের বিবেক জাগবেতো…!!

সম্পর্কিত পোস্ট

শয়তানকে পরাজিত করুন –

শয়তানকে পরাজিত করুন –

কোন এক দাওয়াতে এক ভাবী গল্প করছিলেন যে, এক মহিলা যখন তার Husband রাগ হয় তখন তিনি আয়াতুল কুরসি পড়েন আর তার স্বামী বিড়াল হয়ে যান । তখন আর এক ভাবী বললেন," ভাবী - আয়াতুল কুরসি পড়লে উনার স্বামী বিড়াল হন না বরং ঐ মহিলার সাথের শয়তানটা পালিয়ে যায়” । ভাবীদের এই...

একজন মানুষের গল্প

একজন মানুষের গল্প

দুই টাকার আইসক্রিম, বই সামনে নিয়ে চিৎকার করে পড়া, কলম দিয়ে এক অক্ষর বারবার লিখে হাত ব্যাথা সহ্য করতে করতেই ছোটবেলা কাটিয়ে দেওয়া। একটু বড় হওয়ার পর ছন্নছাড়া হয়ে যাওয়া। ক্লাস ফাঁকি দিয়ে বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দেয়া কোনো এক বট তলা। যেখানে বসে আড্ডা দিত কয়েকজন স্কুল পালানো...

অস্ফুট কান্না

অস্ফুট কান্না

লেখা: মোহসিনা বেগম , প্রচণ্ড শীত পড়েছে আজ। চারদিক কুয়াশা যেন চাদর বিছিয়ে রেখেছে। সকাল এগারোটা বেজে গেছে এখনও সূর্যের দেখা নেই। ছুটিতে কয়েকটা দিন গ্রামে থেকে আনন্দ করব কিন্তু প্রচণ্ড শীতে জমে যাচ্ছি। লেপের নীচ থেকে বের হতেই ইচ্ছে করছে না। ওদিকে মা কতক্ষণ ধরে ডেকেই...

০ Comments

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *