রাজকন্যা
প্রকাশিত: মে ২৯, ২০১৮
লেখকঃ vickycherry05

 83 বার দেখা হয়েছে

এই লেখক এর আরও লেখা পড়ুনঃ vickycherry05

লেখকঃ শামীম আহমেদ (ShaM)
(মে – ২০১৮)
……………………

বাইরের কোলাহলে ঘুম ভেঙ্গে গেল। চোখ কচলিয়ে হাই তুলতে তুলতে চোখ খুললাম। বড্ড ঘুম পাচ্ছিল কেননা কাল রাতে একটুও ভাল ঘুম হয়নি। সারা রাত পায়চারী করতে করতে কখন যে চেয়ারে বসে বসেই ঘুমিয়ে পড়ছিলাম বুঝতেও পারিনি। ঘুমে চোখ টলমল করছে কিন্তু এখন ঘুমালে চলবে না। অনেক কাজ পরে আছে আমার।

চেয়ার থেকে উঠে রুমের বাইরে এলাম। ছোট বড় সবার চিল্লাচিল্লিতে পুরো বাড়িতেই একটা অন্য রকম আনন্দময় পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। দেখেই বুঝা যাচ্ছে সবার মনে অনেক আনন্দ, এক আমি বাদে। সবার আনন্দ হবেই বা না কেনো? বিয়ে বাড়ি বলে কথা। আনন্দ হওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমার মনে অন্য সবার মতো আজ আনন্দ হচ্ছে না, বুকের ভেতর কেমন যেন একটা চাপা কষ্ট অনুভব করছি।

সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় মিলির সাথে দেখা হল। আমাকে দেখেই মিলি বলে উঠল-
-আরে ভাইয়া ঘুম থেকে কখন উঠলে? আচ্ছা তুমি বসার ঘরে বসো আমি চা নিয়ে আসছি।
আমি মুখে কিছু না বলে মাথা নাড়িয়ে জবাব দিলাম। নিচে এসে সোফায় বসে রইলাম। চিরচেনা বাড়িটাকেও আজ কেমন যেন অচেনা অচেনা মনে হচ্ছে।

পুরো বাড়িটায় রঙ বেরঙ এর লাইট আর অর্কিড দিয়ে সুন্দর করে সাজানো হয়েছে। অর্কিড রিহার অনেক পছন্দ। আজ থেকে না সেই ছোট বেলা থেকেই মেয়েটা এক অর্কিড ছাড়া অন্য কোন ফুল পছন্দই করত না। একবার রিহার জন্মদিনে আমি যখন গোলাপ আর রজনীগন্ধা ফুল আনি তখন ও অনেক অভিমান করে বলে অর্কিড না আনলে জন্মদিনের কেকই কাটবে না। মেয়েটা বড্ড অভিমানী আর জেদি। তাই বাধ্য হয়ে অনেক কষ্ট করে আবার অর্কিড আনতে হল। কষ্ট এজন্যই বলছি এই শহরে গোলাপ, রজনীগন্ধা ফুল যেখানে সেখানেই মিলে। কিন্তু অর্কিড মিলানো পুরোটা খড়ের গাদায় সুঁচ খুঁজার মতো অবস্থা।

ওহ আসল কথা বলাই তো হয়নি। আজ রিহার বিয়ে। নামটা অনেক মিষ্টি নাহ? আমার কাছে নামটা অনেক ভাল লাগে। পুরো নাম রিহানা ইমরান। আমি ছোট্ট করে রিহা বলে ডাকি। মেয়েটার নামটা যতোটা মিষ্টি মেয়েটা দেখতেও তেমনি অনেক মিষ্টি। যে একবার দেখে সেই হা করে তাকিয়ে থাকে। আমার তো মনেই হয় না এতো মিষ্টি মেয়ে আমার আমার জীবনে আর দ্বিতীয়টি আর কোথাও দেখছি। আমিও মাঝে মাঝে মেয়েটার দিকে অবাক চোখে তাকিয়ে থাকি। মেয়েটার দিকে তাকালেই অদ্ভুত ধরণের ভাল লাগা কাজ করে, মায়া কাজ করে।

জানি না এই মায়ার নাম কী, আর কী বা এতো মায়ার রহস্য। রহস্য যেমনিই থাকুক তা জানতে চাই না। কিন্তু এটা চাই মেয়েটা সারাজীবনই এভাবে আমার চোখের সামনে থাকুক। কিন্তু ভাগ্যের কি পরিহাস চাইলেও অনেক সময় সবাইকে বেঁধে রাখা যায় না। তাইতো আজ মেয়েটার বিয়ে হয়ে অন্যের ঘরে চলে যাবে। বিষয়টা কষ্টকর হলেও মেনে নিতে হবে। এছাড়া অন্য কোন উপায় নাই।

রিহাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছিল তাই ওর ঘরের দিকে উকি ঝুঁকি মারতে লাগলাম। কিন্তু নাহ মেয়েটাকে দেখাই যাচ্ছে না। মেয়েটাকে ঘিরে আরো অনেকগুলা মেয়ে বসে আছে, হয়তো রিহাকে বধুর সাজে সাজাচ্ছে তাই দেখা যাচ্ছে না। রিহা সাজতে অনেক ভালোবাসতো। তাই ওকে আমি বাজারের সব ধরণের কসমেটিক্সই কিনে দিয়েছি। আমি ওর কোন চাওয়াই অপূর্ণ রাখতে চাই না, কেননা ওকে যে আমি বড্ড ভালোবাসি। রিহাই আমার একমাত্র কলিজার টুকরা। রিহা ছাড়া এই আমিটাই অপূর্ণ, তাই ওর সব শখ আহ্লাদই আমার শখ আহ্লাদ।

মিলি চা নিয়ে এসে বলল
-ভাইয়া এই নাও তোমার চা।
আমি চায়ের কাপ হাতে নিতেই মিলি আবার বলল,
-ভাইয়া তুমি কালকে রাতে একদমই ঘুমাওনি নাহ।
-কেনো রে ঘুমাইছিলাম তো।
-কই ঘুমাই ছিলা। তোমার চোখই প্রমাণ দিচ্ছে তুমি একটুও ঘুমাওনি।
-হ্যাঁ তা একটু ঘুমাইনি। কিন্তু তুই চোখ দেখে বুঝলি কেমনে?
-আরে তোমার চোখের নীচে কালো হয়ে গেছে আরো কেমন যেনো ফোলা ফোলা লাগছে কাঁদলে যেমনটা হয় তেমনি। তুমি কাঁদছিলা নাকি?
-দূর,তুই যে কি বলিস না। আমি কাঁদবো কি জন্য।
-কি জন্য কাঁদবা নিজেই জানো। কাল সারা রাত দেখছি মেয়েটার ঘরে সামনে পায়চারী করছিলা।
-হ তুই বেশিই বুঝস। আচ্ছা সজিব কই? আর বাকি সব ঠিকঠাক আছে তো?
-হ্যাঁ ভাইয়া সবই ঠিক আছে। তুমি একটুও চিন্তা করো না। আল্লাহর রহমতে সব কিছুই ঠিক মতো হচ্ছে। আর সজিব মনে হয় একটু বাইরে গেছে।
-আচ্ছা আমি দেখে আসি ওরা কি কি করছে। তুই একটু রিহার ঘরে দেখে আয় মেয়েটার কি অবস্থা।
-আচ্ছা ভাইয়া।

চায়ের কাপটা হাতে নিয়েই বাড়ির বাইরে আসলাম। আজ আকাশের রৌদটাও কেমন নিস্তেজ হয়ে গেছে। হালকা বাতাস এসে গায়ে লাগল। আহ! অন্য রকম এক ভাল লাগা কাজ করছে। শিরশির বাতাসে পাখিগুলো কুঞ্জন শুরু করছে।

আজ রেনুর কথা অনেক মনে পড়ছে। রেনু সজিবের মা। আজ রেনু বেঁচে থাকলে সব থেকে বেশি খুশি হত। কেননা আজ যে তার সবচেয়ে খুশির দিন। ঠিক এমন দিনেই আমার সাথে রেনুর বিয়ে হইছিল। আর আজ রিহারও বিয়ে। বিষয়টা কাকতালীয় না কোন রহস্য আছে আমি জানি না। কিন্তু একি দিন, একি তারিখ, একি আবহাওয়া, একি ধরণের পরিবেশ কেমনে হচ্ছে এসব আমার মাথায় ধরছেনা।

রেনু অনেক লাজুক স্বভাবের ছিল। তবে মনটা অনেক ভাল ছিল। যেদিন রেনুকে প্রথম ওর বাসায় দেখতে যাই। মেয়েটা আমায় দেখেই ফিক করে হেসে দিছিল। এই ফিক করে হাসার প্রেমে সেদিন থেকে যে পড়ছিলাম আজো সেই হাসিটা ভুলতে পারিনি। ওর এই হাসির কথা মনে পড়তেই অজান্তেই আমার ঠোঁটের কোণে কখন হাসি ফুঁটে উঠল নিজেই বুঝিতে পারিনি।

আমাকে দেখে হাসিম ভাই এগিয়ে এসে বললেন-
-কিরে ইমরান এখানে কাপ হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে একা একা হাসছিস কেনো?
-না ভাইজান এমনি।
-তোর শরীর ঠিক আছে তো?
-হ্যাঁ ভাইয়া ঠিক আছে। এদিকের কি অবস্থা? বর যাত্রী আসার সময় হয়ে এলো যে।
-তুই কোন চিন্তা করিস না এদিকে সবই ঠিক আছে।
-তোমরা আছো বলেই আমাকে আর চিন্তা করতে হয় না।
-হুম সেটাইতো আমরা থাকতে তোর কিসের চিন্তা। শুধু শুধু চিন্তা করে শরীর খারাপ করলে আবার আমাদেরই টানতে হবে। তার চেয়ে চিন্তা না করতে দেওয়াই ভাল নাহ?
-হাহাহা ভাইয়া তুমি আসলেই অনেক রসিক মানুষ।
-আচ্ছা তুই যা রেডি হয়ে নে,বাকি সব আমি সামলে নেবো।
-আচ্ছা ভাইয়া।

রিহার রুমের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। মেয়েটাকে বধুর সাজে অসম্ভব রকমের সুন্দর লাগছে। মনে হচ্ছে কোন এক কল্প পুরীর সৌন্দর্য্য দিয়ে সৃষ্টি কর্তা মেয়েটাকে পরম যত্নে বানিয়েছেন। লাল বেনারসিতে রিহাকে ঠিক ওর মায়ের মতো লাগছে। রিহার দিকে চেয়ে আমি হা করে দাঁড়িয়ে আছি, ঠিক এভাবেই আমার বিয়ের দিন রেনুর দিকে অবাক চোখে হা করে তাকিয়ে ছিলাম। সৃষ্টি কর্তা কিভাবে মেয়েদের এতো সুন্দর করে বানালেন বুঝি না।

আমার কাধে হাত দিয়ে মিলি বলল-
-এভাবে আর কতোবার মেয়েটাকে দেখবে?
-কই কতো বার আমি তো মাত্রই এলাম।
-মিথ্যে বলো না ভাইয়া। সেই সকাল থেকে এই অবধি কম করে হলেও ৩০ থেকে ৩৫ বার দেখছো।
-এতো বার! কি বলিস রে, সত্যি নাকি?
-হ্যাঁ ভাইয়া। আমার তো খুব চিন্তা হয় মেয়েটা যখন ওর শ্বশুর বাড়ি চলে যাবে তখন তুমি থাকবে কি করে।
-জানি না রে।
-দেখছো ভাইয়া আমাদের রিহাকে কতো সুন্দর লাগছে।
-হ্যাঁ রে সুন্দর লাগবেই তো দেখতে হবে না রাজকন্যাটা কার।
-হইছে এখন মেয়েকে রেখে যাও গিয়ে রেডি হয়ে নাও। ওরা আসার সময় হয়ে গেছে।

আর কথা না বাড়িয়ে আমার ঘরে চলে এলাম। হঠাৎ করে কেমন যেন বুকটা কেঁপে উঠল। জানি না কেনো, গত কয়েকদিন ধরেই হঠাৎ করে বুকটা কেঁপে উঠে প্রচণ্ড বুক ব্যথা শুরু হয়। কিন্তু একি আজ অন্য দিনের চেয়ে একটু বেশিই ব্যথা করছে। মেয়েটা আজ আমায় একা করে চলে যাবে তাই হয়তো। এই ব্যথার কারণটাই হয়তো রিহা, কেননা মেয়েটাকে ছাড়া আমি কিছুই ভাবতে পারি না। মেয়েটাই আমার সব। তাই আর এই ব্যথার কথা কাউকে বলিনি। ধপাস করে চেয়ারে বসলাম। ক্রমশ বুকের ভেতর চাপা কষ্ট অনুভব করতে শুরু করলাম। নিজের অজান্তেই চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়া শুরু করল। লজ্জায় কারো সামনে কাঁদতে পারবো না জন্য দরজাটা একটু আটকিয়ে দিলাম। এই বুকে যাকে এতো দিন পরম আদরে বেঁধে রেখেছিলাম, আজ তার জন্য বুকটা ভেতরে ভেতরে খাঁ খাঁ কষ্টে কান্না করতে লাগল। মনে হচ্ছিল আমার পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে যাচ্ছে। পুরো শরীরটা কাঁপুনি দিয়ে উঠল। নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করলাম। শান্ত হয়ে একটু বসার চেষ্টা করলাম।

বাইরের আওয়াজ শুনে মনে হচ্ছে বর যাত্রীরা এসে গেছে। পড়নের কাপড়টা পালটে রেনুর পছন্দের সেই সাদা পাঞ্জাবীটা পড়লাম।

সবকিছুই সজিব আর বড় ভাই সামলাচ্ছেন। আমি শুধুই মেহমানদের মতো দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছি। বরের পাশে আমার রাজকন্যাটাকে বেশ মানিয়েছে। অপলক দৃষ্টিতে ওদের দিকে তাকিয়ে রইলাম।

বিয়ের সব কাজ মোটামুটি সম্পন্ন হয়ে গেছে। আর এদিকে আমার ভেতরেও ধীরে ধীরে উতাল পাতাল চলতেছে। আনমনা হয়ে কোণায় একটা চেয়ারে বসে ছিলাম। সজিব এসে ডাক দিল
-বাবা বাবা।
-হ্যাঁ।
-বাবা এদিকে একটু এসো রিহাকে যে বিদায় দিতে হবে।
-বিদায়!
-হ্যাঁ বাবা।
-ও হ্যাঁ চল।

উঠে আমার রাজকন্যাটার দিকে আসলাম। দেখি আমার রাজকন্যাটা কাঁদছে। ওর কান্না দেখে আমার সহ্য হচ্ছিল না। বুকের ভেতর হাহাকার শুরু হয়ে গেল। কিন্তু আমার আর কিছুই করার নাই। বাস্তবতা যে বড়ই নিষ্ঠুর। মেয়েটার কাছে আসতেই মিলিকে ছেড়ে আমার বুক শক্ত করে ধরে কাঁদতে লাগল। মেয়েটার কাঁন্নায় মনে হচ্ছিল আমার হৃদকম্পনটাই বুঝি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আমার রাজকন্যাটাকে শক্ত করে বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরলাম। নিজেকে আর ধরে রাখতে পারলাম না। অবশেষে সবার সামনেই কেঁদে ফেললাম। মিলি আর সজিবও কাঁদছে। ওরাও আমাদের জরিয়ে ধরল। কিছুক্ষণের জন্য পুরো পরিবেশটাই থমথমে হয়ে গেল।

বাতাসে কাঁন্নার রোল, বুকে চাপা কষ্ট। অবশেষে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করলাম। রিহাকে জরিয়ে ধরে জামাইয়ের কাছে গেলাম। জামাইয়ের হাতে আমার মেয়েটার হাত দিলাম। কথা বলতে খুব কষ্ট হচ্ছিল। তাও কাঁন্নাভেজা কণ্ঠে বললাম
-বাবা, আজ থেকে আমার এই পাগলী মেয়েটাকে তোমার হাতে সারাজীবনের জন্য দিয়ে দিলাম। ও শুধু আমার মেয়ে নয়, ও আমার মা। এই রাজকন্যাটা আমার পরম আদরের। আজ তুমি শুধু আমার রাজকন্যাটাকে নিচ্ছো না আজ তুমি আমার কলিজার একটা টুকরো নিয়ে যাচ্ছো। ওকে দেখে রেখো বাবা। প্লিজ ওকে কখনো কষ্ট দিও না………..কথা বলে শেষ করার আগেই ডুকরে আবার কেঁদে উঠলাম। বড় ভাইয়া এসে আমাকে ধরলেন। কি আর করা মেয়েটাকে তো বিদায় দিতেই হবে। যাবার বেলা মেয়েটাকে হাসি মুখে বিদায় না দিলে যে মেয়েটা বড্ড কষ্ট পাবে। তাই চোখের জল মুছে মেয়েটাকে হাসি মুখে বিদায় দিলাম।

সজিব রিহাকে গাড়িতে তুলে দিল। মিলি আমার কাছে হাত রেখে অনবরত কেঁদেই চলল। শেষ বারের মতো তাকিয়ে দেখি আমার রাজকন্যাটা কেঁদেই যাচ্ছে তো কেঁদেই যাচ্ছে। মেয়েটা আমার দিকে তাকাচ্ছে বার বার। একটা হাসি দেয়ার চেষ্টা করলাম। জানিনা কতোটুকু হাসতে পেরেছি। কিন্তু মেয়েটা চোখের আড়াল হতেই চোখটা দিয়ে আবার পানি গড়িয়ে এলো।

ছোট্ট থেকেই রাজকন্যারা সব বাবার চোখের মণি হয়ে থাকে। একটা বাবার নিশ্বাস বিশ্বাস জুড়ে এসব রাজকন্যারাই থাকে। কিন্তু ভাগ্যের একি পরিহার এই রাজকন্যাদের তাদের রাজাকে ছেড়ে কোন একদিন অন্য এক রাজকুমারের কাছে চলে যেতে হয়। তবুও রাজকন্যারা প্রতিটা বাবার অন্তরে চির অম্লান হয়ে থাকে।

সম্পর্কিত পোস্ট

পূনর্জন্ম

জুয়াইরিয়া জেসমিন অর্পি . কলেজ থেকে ফিরেই পিঠের ব্যাগটা বিছানায় ছুড়ে ফেললো অন্বেষা। তারপর পড়ার টেবিলের কাছে গিয়ে চেয়ার টেনে নিয়ে ধপ করে বসে দুই হাত দিয়ে মাথাটা চেপে ধরলো।প্রচণ্ড মেজাজ খারাপ ওর। আজ ওদের সেমিস্টার ফাইনালের রেজাল্ট দিয়েছে। একদমই ভালো করেনি সে। যদিও শুরু...

অনুভূতি

অনুভূতি

লেখা: মুন্নি রহমান চারদিকে ফজরের আজানের সুমধুর ধ্বনি ভেসে আসছে। বাইরে এখনো আবছা অন্ধকার। তড়িঘড়ি করে বিছানা ছাড়লো মালা। ঘরের কাজ সেরে বের হতে হবে ফুল কিনতে। তাড়াতাড়ি না গেলে ভালো ফুল পাওয়া যায় না আর ফুল তরতাজা না হলে কেউ কিনতে চায় না। মাথার ওপরে তপ্ত রোদ যেন...

অসাধারণ বাবা

অসাধারণ বাবা

লেখক:সাজেদ আল শাফি বাসায় আসলাম প্রায় চার মাস পর। বাবা অসুস্থ খুব।তা নাহলে হয়তো আরও পরে আসতে হতো।গাড়ি ভাড়া লাগে ছয়শো পঁচিশ টাকা।এই টাকাটা রুমমেটের কাছ থেকে ধার নিয়েছি।তার কাছে এই পর্যন্ত দশ হাজার টাকা ঋণ হয়েছে।বলি চাকরি হলেই দিয়ে দিব। পড়াশোনা শেষ করে দুই বছর...

০ Comments

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *