পুতুল বিয়ের প্রতিশোধ
প্রকাশিত: অগাস্ট ৬, ২০১৮
লেখকঃ

 182 বার দেখা হয়েছে

এই লেখক এর আরও লেখা পড়ুনঃ

লেখিয়েঃ- ইফরাত আরা মুক্তি

এ কেমন বিয়ে হচ্ছে আমার। ফাঁকা বাড়িটায় নেই কোন লোকজন, নেই কোন বন্ধু বান্ধব অথবা কোন সাজ শ্রীর বিন্দুমাত্র বালাই। অয়ন জ্যামে আটকে আছে রাস্তায়। খুব তাড়াতাড়িই পৌছে যাবে এখানে। আমি যে বাড়িটায় আছি সেখানে একজন হুজুর বসে আছে আমি আসার আগে থেকেই। বাড়িটা জনমানবহীন তা বোঝাই যাচ্ছে মাথার উপরে ও দেওয়ালের ঝুলময়লা আর কিছু কিছু জায়গায় প্লাস্টার খসে যাওয়ায় দাঁত বের করা লাল ইট গুলো দেখে। উঠানটায় কতদিন ঝাটার বাড়ি পরেনি তা বোঝা মুশকিল। গেট থেকে ঢুকেই একটা ইটের সরু রাস্তা চলে এসেছে বিল্ডিং এর দরজা পর্যন্ত। তার দুপাশে বড় বড় ঘাস মাথা উচু করে দাড়িয়ে আছে। ঘাষের ভিতরেই ঝিঝি পোকার মতো কি একটা পোকা অবিরাম ডেকে চলেছে। প্রথমে তো আমার ঢুকতেই কেমন একটা ভুতূরে পরিবেশ মনে হয়েছিলো। তারপর হুজুরকে দেখে সাহস পেয়েই বাড়িটায় ঢুকলাম।
এটা অবশ্য আমার বা অয়নের বাড়ি নয়। অয়ন আমাকে এখানে আসতে বলেছিলো বিয়ে করবো তার জন্য। আমি বাড়ির ভিতরে ঢুকেই প্রথম রুমটায় একটা অনেক পুরানো কিন্তু পরিষ্কার সোফা দেখতে পেয়ে সেখানেই বসে বসে অয়নের অপেক্ষা করছি। মনে হয় আমরা আসবো বলেই শুধুমাত্র এ রুমটা কেউ পরিষ্কার করে রেখেছে। হুজুরটা আমাকে দেখে কোন কথা বলেনি। শুধু বাড়ির দরজাটা খুলে ভিতরে ঢোকার জন্য ঈশারা করেছিলো। সোফাটায় বসে বেশ আরাম পেলাম। মনে মনে নতুন বউ সাজার জন্য খুব লোভ লাগছে। কিন্তু যেহেতু পালিয়ে বিয়ে করতে বাধ্য হচ্ছি তাই বউ সাজার সখটা অপূর্নই রয়ে গেলো। আগে থেকে প্লান করা থাকলে নিজেই নিজের বিয়ের শাড়ি কিনে নতুন বউ সেজে বড় একটা ঘোমটা টেনে বসে থাকতাম। কিন্তু বিয়েটাতো হঠাৎ কাল রাতেই ঠিক করলাম আমরা। সিদ্ধান্ত যখন একবার নিয়েই ফেলেছি তাই আমাকে আজ বিয়ে করতেই হবে। এটা ছাড়া আমার আর কোন উপায় নেই।
আমি সানা। আমার যার সাথে আজ বিয়ে হবে তার নাম অয়ন। দু মাস আগে আমাদের দেখা হয় শপিং কমপ্লেক্সে। প্রথম দেখাতেই অয়নকে আমার খুব ভালো লেগে যায়। তারপর আমি নিজ থেকে তার কাছে গিয়ে ফোন নাম্বারটা চেয়েছিলাম। অয়ন ও দীর্ঘদিনের পরিচিতের মতোই আমার সাথে স্বাভাবিক ভাবে কথা বলতে শুরু করেছিলো। তাই ফোন নাম্বারটা চাইতেই ও নাম্বারটা আমাকে দিয়ে দেয়।
কিছুদিনের মধ্যেই আমার আর অয়নের সাথে বেশ শখ্যতা গড়ে ওঠে। অয়ন তার বাবা মা এর একমাত্র সন্তান। ঢাকাতে তার বাবা একজন নাম করা ব্যবসায়ী। তার কাকা একজন এম,পি। তাদের ঢাকায় কয়েকটা বাড়িও আছে। বেশ প্রভাবশালী পরিবারের ছেলে অয়ন। দেখতে যেমন হ্যান্ডসাম তেমনি ওর মাঝে একটা আলাদা রকমের মায়া আছে। যে কোন অল্প বয়সি আবেগি মেয়েই তাকে দেখে প্রেমে পড়তে চাইবে।
আমি খুব সাধারন মধ্যবিত্ত ঘরের একটা মেয়ে। অনেক বেশি সুন্দরী না হলেও আমি দেখতে মোটেও খারাপ নই। তা না হলে অয়নের মতো ছেলের আমার সাথে বন্ধুত্ব করার কোন কারন আমি খুজে পাই না। আমার বাবা লক্ষীবাজারের একটা ছোট কাপড়ের দোকানদার। আমরা পুরান ঢাকায় ভাড়া বাসায় থাকি। চার ভাই বোনের মাঝে আমি সবার বড়। পড়ালেখায় মোটামুটি ভালো ছাত্রী হওয়াতে আমি ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে চান্স পাই। এখন আমি ইতিহাসে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী।
আজ বারবার বাবার বন্ধুর মেয়ের কথা মনে পড়ছে। বাবার বন্ধু আসাদ আঙ্কেল। ওনার ঢাকা শহরে এক্সপোর্ট ইমপোর্ট এর ব্যবসা। আর্থিক অবস্থা খুব ভালো। ওনার একমাত্র মেয়ে রেহেনা। আসাদ আঙ্কেল বাবার বন্ধু হলেও আমাদের সম্পর্ক টা ঠিক পারিবারিক। দুই পরিবারের মাঝে দারুন সখ্যতা। ঠিক আপন আত্মীয়ের মতোই। কখোনো কখোনো রক্তের সম্পর্কের কাছে ভালোবাসা দিয়ে তৈরী হওয়া সম্পর্কগুলো হার মেনে যায়। প্রায় সাপ্তাহিক ছুটিতে আমরা একজায়গায় পরিবারসহ মিলিত হই। রেহেনা আমার থেকে বয়সে বছর খানেকের ছোট হলেও আমাদের সম্পর্কটা বন্ধুর মতোই ছিলো। আমরা দুজন দুজনকে নাম ধরেই ডাকতাম। কত পুতুল খেলেছি দুজন একসাথে। আমরা ঘটা করেই পুতুলের বিয়ে দিতাম। আজ সত্যিকারের বিয়ের পিড়িতে বসে পুতুলের বিয়েটা মনে দাগ কাটছে বারবার।
রেহেনা বলতো তোর বিয়েতে আমি নিজের হাতে সাজিয়ে দিব অনেক সুন্দর করে। মাঝে মাঝে বেড়াতে এসে কোন কারন ছাড়াই আমাকে ও খুব করে সাজাতো। ঠোটে লাল লিপস্টিক, পায়ে আলতা, চোখে টানা করে কাজল, আই শ্যাডো আর মাশকারা দিত খুব যত্ন করে। আমার আলমারি থেকে নিজে বের করে গহনা পড়িয়ে দিতো। টিকলি পড়াতেও ভুল করতো না। মাথায় একটা ওড়নার ঘোমটাও টেনে দিত। তারপর আমাকে আয়নার সামনে নিয়ে দাড় করিয়ে বলতো, দেখতো তোকে কত সুন্দর বউ লাগছে। এখন তোকে কোন ছেলে দেখলে নির্ঘাত স্বর্গের অপ্সরী বলে ভাববে। সত্য বলতে আয়নায় তখন নিজেকে দেখে নিজেই চমকে যেতাম। এসব ভাবতেই চোখের পানি গড়িয়ে আমার হাতের উপর পড়লো। গরম পানির স্পর্শে আমি নড়েচড়ে বসলাম।
অয়নের আসতে এতো সময় তো লাগার কথা নয় তারপরও কেন দেরী হচ্ছে বুঝতে পারছিলাম না। ওকে কল করলাম। কিন্তু কলটা ও রিসিভ করলো না। হয়তো গাড়িতে আছে যার জন্য ও শুনতে পায়নি রিংটোন। এতো সময় হয়তো আমার বাড়িতে সকলে টের পেয়ে গেছে যে আমি পালিয়ে এসেছি। আমার ঘরে যদি কেউ ঢুকে না থাকে তাহলে টের পাবার কথা নয়। কারন এখন আমার কলেজে থাকার কথা। ঘরে ঢুকলে টের পাবে কারন আমি আলনা থেকে আমার জামা কাপড়, আলমারী থেকে আমার কাছে রাখা গহনা, টাকা পয়সা সব নিয়ে এসেছি। অয়ন নিজেই আমাকে এগুলো নিয়ে আসতে বলেছিলো। বলেছিলো নিজের যা কিছু সব নিজের কাছেই রাখা ভালো ওগুলো তোমার কাছে থাকলে বিপদের সময় কাজে লাগবে। আমি তাই বাবার আলমারী থেকেও না বলে দশ হাজার টাকাও সাথে এনেছি। বাবা টাকাটা খুজতে গেলেই আমি ধরা পড়ে যাবো। এসব কিছু ভাবছিলাম তখনি দেখলাম অয়ন ওর বন্ধু সোহানকে নিয়ে বাড়ির ভিতরে আসছে। ওকে দেখে একটু রাগ হলো। আমি না হয় বউ সাজতে পারিনি তাই বলে ও কি পারতো না একটা পান্জাবী পড়ে আসতে। নরমাল জিন্স আর শার্ট পড়ে চলে এসেছে। যাই হোক ওর হাতে একটা সুন্দর ফুলের তোড়া। ওটা দেখেই মনটা ফুরফুরে হয়ে গেলো। অয়ন এসে আমার পাশেই সোফায় বসলো। হুজুর ঘরের ভিতর এসে কি কয়েকটা দোয়া কালাম বিড় বিড় করে পড়লেন। তারপর আমাকে বললো কবুল বলতে। আমি ভেবে অবাক হচ্ছিলাম এ কেমন বিয়ে। তারপর আবার কি মনে করেই অয়নের মুখের দিকে তাকিয়ে কবুল বলেই ফেললাম।
হুজুর উঠে দাড়িয়ে অয়নের সাথে কোলাকুলি করলেন। অয়ন আমাকে বললো তোমার কাছে টাকা আছে না?
:- হ্যা, আছেতো কিছু টাকা।
:- ৫০০০ টাকা দেওতো। হুজুরকে দিতে হবে। আর বলিও না বুথ থেকে টাকা তুলতে গেছিলাম। ভুল পিন দেওয়াতে আমার কার্ডটা আটকে দিলো ব্যাটারা। তবে বাবাকে বলে দিয়েছি। আগামীকালই আমার কার্ড ঠিক করে দিয়ে দেবে। এজন্যই তো দেরী হলো আসতে।
:- টাকাটা ওর হাতে দিয়ে বললাম, সে বুঝলাম। কিন্তু আমাদের বিয়ের রেজিস্টার কোথায়? রেজিস্ট্রি ছাড়া কি বিয়ে হয় নাকি?
:- রেজিষ্টার এর নাকি হঠাৎ শরীর খারাপ হয়েছে। তাই আসতে পারবে না।
:- অন্য রেজিষ্টার কেন ঠিক করলে না?
:- শোন আমি তোমাকে ভালোবাসি তো। আমাদের ভালোবাসাইতো আমাদের সব থেকে বড় রেজিষ্ট্রি। আর আগেকার দিনে কি রেজিষ্ট্রি হতো নাকি? বাদ দাও ওসব। তারপরও তেমার বিশ্বাস না হলে আমরা কদিন পর রেজিষ্ট্রি করে নিব সোনা।
অগত্যা অয়নের কথা মেনে নিলাম। কারন এ মূহুর্তে আমার পিছু ফিরে যাবার কোন উপায় নেই। একবার যখন বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছি তখন বাড়িতে আর ফিরে যেতে পারবো না আমি।
আমার মতো মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়েকে অয়নের পরিবার কখনো মেনে নেবে না। এটাই স্বাভাবিক। আমি অয়নকে ভালোবেসে যেমন পরিবার ছেড়েছি তেমনি অয়ন আমার জন্য ওর পরিবার ছেড়ে আমাকে নিয়ে সুখে থাকতে চায়। এটা আমার সব থেকে বড় পাওয়া। আমি আর অয়ন এখন যাচ্ছি হোটেলে। আপাতত কয়েকদিন আমরা হোটেলে থাকবো। তারপর একটা ভালো বাসা খুজে আমরা বাসায় উঠবো। সেখানেই আমরা সুখে ঘর বাধব। আমাদের সংসার হবে সব থেকে সুখের সংসার।
হোটেলে যাবতীয় বিল আমি আমার কাছে থাকা টাকা থেকেই দিলাম। তারপর দোতালায় সুন্দর একটা রুমে আমরা উঠলাম। ঘরটা সুন্দর পরিপাটি করে সাজানো। বিছানায় ছড়িয়ে আছে গোলাপ ফুলের পাপড়ি। অয়ন জানালো এ রুমগুলোয় থাকে সদ্য বিবাহিত কাপলদের জন্য সাজানো। এটাই আমাদের ফুলসয্যা। অয়ন তোয়ালে নিয়ে বাথরুমে ঢুকে গেলো। ফ্রেস হয়ে এসে আমাকে বললো তোমার কাছে রাখা গয়না আর টাকা পয়সা আমার কাছে দেও। ওদিকটার আলমারীতে রেখে দেই। এখানের ওয়েটারদের চুরি করার অভ্যাস আছে। আমিও অয়নকে নির্ধিদায় সব কিছু দিয়ে মনের সুখে ফ্রেস হতে বাথরুমে ঢুকলাম। বের হয়ে এসে দেখি ওয়েটার খাবার নিয়ে দাড়িয়ে আছে। আমি খাবারগুলো টেবিলে রেখে যেতে বললাম।
সারাদিনের ধকলে পা দুটো ব্যাথা করছিলো। খাটের উপর গিয়ে বসতেই অয়ন খাবারের ট্রে আমার সামনে এনে রাখলো। আমার হাতে তুলে দিলো মিষ্টি। আমি বারবার বললাম আমি মিষ্টি পছন্দ করি না। তা স্বত্তেও অয়ন বারবার আমাকে মিষ্টিমুখ করাতে চাইলো। জানি অয়নের অনুরোধ আমি কিছুতেই ফেলতে পারবো না। তবুও দুষ্টুমি করে বললাম মিষ্টি খেতে পারি একটা শর্তে। আমাকে গান শোনাতে হবে। অয়ন রাজি হলো। ” আজ এই দিনটাকে মনের খাতায় লিখে রাখো” গানটা ও চমৎকার সূরে গাইলো। ও গান গাওয়া শেষ করতেই আমার দুটো মিষ্টি খাওয়া শেষ হয়ে গেলো।ক্লান্তি আর চিন্তায় হোক কিংবা অয়নের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে আমার দুচোখ ঘুমে জড়িয়ে এলো। অয়ন আমাকে আলতো করে ধরে বিছানায় শুয়ে দিলো।
আধা ঘন্টা পর আমার রুমে প্রবেশ করলো অয়ন, সোহান, অয়নের বন্ধু রোমেল সাথে আমার বাবা, আসাদ আঙ্কেল এবং কয়েকজন পুলিশ কনস্টেবল। অয়ন ও তার বন্ধুদের হাতে হাতকড়া। আসাদ আঙ্কেল দৌড়ে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে বললেন তুই পেরেছিস মা, তুই পেরেছিস শয়তানগুলোকে প্রমানসহ হাতে নাতে ধরিয়ে দিতে।
আসলে সেদিন আমাদের বিয়েটা কোন হুজুর পরিয়েছিলেন না। রোমেলকে হুজুর সাজিয়ে আমাকে মিথ্যা বিয়ের অভিনয় করেছিলো অয়ন। ভুলিয়ে ভালিয়ে মেয়েদের বিয়ের অভিনয়টা অয়নের কাছে পুতুল খেলা ছাড়া আর কিছু নয়। রেহেনার সাথেও ঠিক এমনটাই ঘটেছিলো ক মাস আগে। সেদিন রেহেনা এত বড় শকড আর অপমান সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছিলো। মরে যাবার আগে আমাকে সব বলেছিলো রেহেনা। ওর কাছে অয়নের কয়েকটা ছবি ছাড়া আর কোন প্রমাণ ছিলো না এ ঘটনার। আমি অয়নের দেওয়া মিষ্টি না খেয়ে ফেলে দিয়েছিলাম অয়নের অলক্ষ্যে খাটের কোনে। আমি জানতাম মিষ্টিতে ঘুমের ঔষুধ মেশানো ছিলো। আমি ঘুমের ভান ধরে পড়ে থাকার পর অয়ন গহনা ও টাকা পয়সা নিয়ে হোটেল রুম থেকে বেড়িয়ে যায়। আগে থেকেই আমাদের পুলিশ ঠিক করা ছিলো।
রেহেনার মতো এমন আর কোন প্রাণ যেন অয়নের মতো মানুষরুপি শয়তানটা নষ্ট করতে না পারে তার জন্যই আমার নিজের স্বত্তা ভুলে পুতুল সেজে বিয়ে করার এতো অভিনয়। এ কয়টা দিনের সখ্যতায় অয়নের উপর আমার যে ভালোবাসা আর মায়ার সৃষ্টি করেছিলো তা কয়েকফোটা অশ্রু হয়ে আমার গাল বেয়ে গলিয়ে পড়ছে কিন্তু আমি হাসছি যুদ্ধ জয় করার হাসি।

সম্পর্কিত পোস্ট

পূনর্জন্ম

জুয়াইরিয়া জেসমিন অর্পি . কলেজ থেকে ফিরেই পিঠের ব্যাগটা বিছানায় ছুড়ে ফেললো অন্বেষা। তারপর পড়ার টেবিলের কাছে গিয়ে চেয়ার টেনে নিয়ে ধপ করে বসে দুই হাত দিয়ে মাথাটা চেপে ধরলো।প্রচণ্ড মেজাজ খারাপ ওর। আজ ওদের সেমিস্টার ফাইনালের রেজাল্ট দিয়েছে। একদমই ভালো করেনি সে। যদিও শুরু...

অনুভূতি

অনুভূতি

লেখা: মুন্নি রহমান চারদিকে ফজরের আজানের সুমধুর ধ্বনি ভেসে আসছে। বাইরে এখনো আবছা অন্ধকার। তড়িঘড়ি করে বিছানা ছাড়লো মালা। ঘরের কাজ সেরে বের হতে হবে ফুল কিনতে। তাড়াতাড়ি না গেলে ভালো ফুল পাওয়া যায় না আর ফুল তরতাজা না হলে কেউ কিনতে চায় না। মাথার ওপরে তপ্ত রোদ যেন...

অসাধারণ বাবা

অসাধারণ বাবা

লেখক:সাজেদ আল শাফি বাসায় আসলাম প্রায় চার মাস পর। বাবা অসুস্থ খুব।তা নাহলে হয়তো আরও পরে আসতে হতো।গাড়ি ভাড়া লাগে ছয়শো পঁচিশ টাকা।এই টাকাটা রুমমেটের কাছ থেকে ধার নিয়েছি।তার কাছে এই পর্যন্ত দশ হাজার টাকা ঋণ হয়েছে।বলি চাকরি হলেই দিয়ে দিব। পড়াশোনা শেষ করে দুই বছর...

৭ Comments

  1. Anamika Rimjhim

    ঘাষের -ঘাসের
    ঝিঝি -ঝিঁঝিঁ
    সখ-শখ
    অপূর্ন-অপূর্ণ
    প্লান -প্ল্যান
    খুজে-খুঁজে
    ঠোট-ঠোঁট
    বাধব-বাঁ্ধব
    সয্যা-শয্যা
    পরিয়েছিলেন- পড়িয়েছিলেন
    ভাল ছিল। শুভ কামনা।

    Reply
  2. Halima Tus Sadia

    ভালো লিখেছেন।

    গল্পের মধ্যে বাস্তবতার মিল রয়েছে।
    অয়নের মতো আমাদের সমাজে কিছু বড়লোকের সন্তান আছে।
    মেয়েদের জীবনে আসে অভিশাপ হয়ে।
    জীবন নষ্ট করতে একটু ও পিছ পা হয় না।

    অয়ন তার প্রাপ্য শাস্তি পেয়েছে।
    তবে সানা পেরেছে অয়নের সাথে প্রেমের অভিনয় করে।

    আর কিছু মেয়ে ও বুঝে না।বড়লোকের ছেলের প্রেমে পড়ে যায়।

    বানানে ভুল আছে।

    পৌছে —পৌঁছে

    দুপাশে–দু’পাশে

    দাড়িয়ে–দাঁড়িয়ে

    ঘাষের–ঘাসের

    দারুন–দারুণ

    খুজতে–খুঁজতে

    প্লান–প্ল্যান

    পান্জাবী–পাঞ্জাবী

    ঠোটে–ঠোঁটে

    দেরী–দেরি

    তৈরী-তৈরি

    ঈশারা–ইশারা

    হ্যা-হ্যাঁ

    মূহুর্ত–মুহূর্ত

    ফুলসয্যা–ফুলশয্যা

    বাধব–বাঁধবো

    সূরে–সুরে

    ব্যাথা –ব্যথা

    গহনা পড়িয়ে দিতো(পরিধান অর্থে পরিয়ে হবে)

    বানানের প্রতি যত্নশীল হবেন।

    আমি বাড়ির ভিতরে ঢুকেই প্রথম রুমটায় একটা অনেক পুরানো কিন্তু পরিস্কার সোফা দেখতে পেয়ে সেখানেই বসে বসে অয়নের অপেক্ষা করছি।
    লাইনটা প্রথমে এলোমেলো লাগলো।

    আমি বাড়ির ভিতরে ঢুকেই প্রথম রুমটায় অনেক পুরনো একটা সোফা দেখতে পেয়ে সেখানে অয়নের জন্য অপেক্ষা করতেছি।
    এভাবে লাইনটা হলে গুছানো হতো।

    শুভ কামনা রইলো।

    Reply
  3. আফরোজা আক্তার ইতি

    অসাধারণ একটা গল্প। ভীষণ ভালো লেগেছে আমার। বর্ণনাভঙ্গিও যথেষ্ট ভালো ছিল। গল্পের শেষের দিকের টুইস্টটা খুব ভালো লেগেছে। এসব অয়নদের মত মুখোশধারীদের জন্যই অনেক মেয়ে তার জীবন শেষ করে দিচ্ছে। অথচ এই নরপশুগুলো নিশ্চিন্তে সমাজে ঘুরে বেড়ায়। সানার মত সাহসী হয়ে এদের উচিৎ শিক্ষা দেয়া উচিৎ যেন আর কেউ রেহানার মত প্রাণ না হারায়। বানানে প্রচুর ভুল আছে।
    পৌছে- পৌঁছে।
    বাড়ি-বারি।
    ঝাটা- ঝাঁটা।
    উচু- উঁচু।
    ঘাষের- ঘাসের।
    ঝিঝি- ঝিঁঝিঁ।
    ঈশারা- ইশারা।
    অপূর্নই- অপূর্ণই।
    প্লান- প্ল্যান।
    বিয়েটাতো- বিয়ের সিদ্ধান্তটাতো।
    দুমাস- দু’মাস।
    এম,পি- এম.পি।
    সাধারন- সাধারণ।
    সূরে- সুরে।
    নির্ধিদায়- নির্দ্বিধায়।
    লক্ষীবাজার- লক্ষ্মীবাজার।
    শখ্যতা- সখ্যতা।
    কখোনো- কখনো।
    আমার কাছে দেও- আমার কাছে দাও।
    টিকলি পড়াতেও- টিকলি পরাতেও। (পরিধানে র হয়)
    ঠোট- ঠোঁট।
    দাড়- দাঁড়।
    বলিও না- বোলো না।
    কারন- কারণ।
    বাধব- বাঁধব।
    দোতালায়- দো’তলায়।
    এগিয়ে যান। শুভ কামনা রইল।

    Reply
  4. জুয়েল ইসলাম

    তেমার – তোমার
    অনেক ভুল বানান আছে গল্পে।যেহেতু উপরের কমেন্টে প্রায় সব তুলে ধরা হয়েছে তাই আর নতুন করে ধরলামনা।গল্পটা খুবই ভালো ছিলো।অনেক শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।

    Reply
    • ifrat arafat

      ধন্যবাদ। পরবর্তীতে ভুলগুলো শুধরে নিবো।

      Reply
  5. Sajjad alam

    খুব সহজ সহজ বানানগুলোই ভুল করেছেন….
    .
    ইট গুলো__ইটগুলো
    পৌছে___ পৌঁছে
    উচু___ উঁচু
    দাড়িয়ে___ দাঁড়িয়ে
    ঘাষের____ ঘাসের
    ঝিঝি___ ঝিঁঝিঁ
    প্লান___ প্ল্যান
    শখ্যতা___ সখ্যতা
    স্বাভাবিক ভাবে___ স্বাভাবিকভাবে
    .
    এম,পি___ এম.পি
    কারন___ কারণ
    খুজে___ খুঁজে
    সম্পর্ক টা___ সম্পর্কটা
    কখোনো___ কখনো
    লক্ষীবাজার___ লক্ষ্মীবাজার
    অপূর্ন__\ অপূর্ণ
    .
    পিড়িতে___ পিঁড়িতে
    ঠোটে___ ঠোঁটে
    এতো___ এত
    দেরী___ দেরি
    দাড়___ দাঁড়
    .
    পান্জাবী___ পাঞ্জাবী
    পড়ে___ পরে
    যাই হোক___ যাইহোক
    গেলো___ গেল
    বিড় বিড়___ বিড়বিড়
    রেজিষ্টার___ রেজিস্টার
    ভালোবাসাইতো___ভালোবাসাই তো
    মূহুর্তে___ মুহূর্তে
    বাধব___ বাঁধব
    সব কিছু___ সবকিছু
    নির্ধিদায়___ নির্দিধায়
    স্বত্তেও___ সত্ত্বেও
    কোনে___ কোণে
    .
    এত বানান ভুলের কারণে গল্পের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে গেছে।
    .
    নামকরণটা যথার্থ….
    প্রচুর বানান ভুল যা উপরে সাধ্যমতো ধরিয়ে দিয়েছি।
    কনসেপ্টটা খুব পুরনো হলেও শেষে একটু ভিন্নতা এনেছেন বলে কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে।
    নতুবা বলেই দেয়া যাচ্ছিল এরপর কী হতে চলেছে।
    বাক্যগঠনে আরেকটু সচেতনা অবলম্বন করতে হবে।
    .
    খুব বেশি ভালো না, মোটামুটি।
    শুভ কামনা রইলো।

    Reply
  6. Mahbub Alom

    শেষের দিকে গল্পের ভিন্ন মোড় নেয়ায় কিছুটা আরো সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি পেয়েছে।অয়ন একজন পথ ভোলানো পিশাচ।ওর মতো মুখুশধারী লোকের জন্য কতো নারী মৃত্যুকে শেষ আশ্রয় হিসেবে বেছে নেয়।এরকম মুখুশধারী লোকদের ফাঁসি দেয়া উচিৎ।

    গল্পটা অনেক ভালো লেগেছে।বানানে কিছু ভুল আছে।
    শুভকামনা রইলো।

    Reply

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *