পূজো
প্রকাশিত: জুন ২৮, ২০১৮
লেখকঃ vickycherry05

 16 বার দেখা হয়েছে

এই লেখক এর আরও লেখা পড়ুনঃ vickycherry05

লেখিকাঃ
Fatema Ahmed

বাংলার ঘরে ঘরে আনন্দের ঢেউ।
কত সুখ,দুঃখ চাপিয়ে এই আনন্দের স্রোত বাংলার ঘরে ঘরে প্লাবন এনেছে।
সবাই কত রঙ্গে ডঙ্গে মহা পূজার আয়োজনে ব্যস্ত।
এত সাজসজ্জা পূজর আনন্দ হয়তো উথলে উঠতো বাড়িতে কিন্তু বিমলের শরীর ভালো নেই, দেবচন্দ্র সেনের চোখের চাহনি মলিন হয়ে উঠলো, দেবচন্দ্রের ভ্রাতুষ্পুত্র বিমল। সপ্তমীর দিন দেবচন্দ্র মুখ গুটিয়ে ঘরে বসে আছেন, পিছন থেকে বিমল এসে তার কাঁধে হাত রেখে বলে “কাকাবাবু এভাবে ঘরে বসে থাকবে! বাহিরে যাবে না? ” বিমল কে বুকে চেপে ধরে বলে উঠলেন ” খোকা তোর জন্য কিছু করতে পারছি না, তোর বাবা-মা এর দাহ করার সময় শষানে দাড়িয়ে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম তোকে সারা জীবন ভালো রাখার, তোকে একটা উজ্জল ভবিষৎ দেওয়ার কিন্তু তোর হতভাগা কাকাবাবু তা পারলো না” দেবচন্দ্রের নয়নের জল মুছে দিয়ে বিমল বললো ” কাকাবাবু তুমি আবার কাঁদছো? তোমাকে না বললাম এভাবে না কাঁদতে, তুমি দেখো কাকাবাবু আমার কিছু হবে না, বিমলের কথা শুনে নয়নের জল মুছে বললেন ” হ্যাঁ খোকা তোর কিছু হবে না দেখিস, ভগবান আছেন উপরে, চল বাহিরে যাই, তুই তো বাতাসা খেতে পছন্দ করিস, তোকে আজ কিনে দিবো।
আনন্দিত হয়ে দেবচন্দ্র ও বিমল বাহিরে গেলেন।
.
পঞ্চদশ বছর পূর্বে বিমলের বাবা ‘অনিলচন্দ্র সেন’ ও মা ‘বিম্বমালা সেন’ এইচআইভি(HIV) রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহন করে পরকাল গমন করেন, মৃত অনিলচন্দ্র সারাদিন ক্ষেত খামারে কাজ করতেন, তার অনুপস্থিতিতে স্ত্রী বিম্বমালা পরকিয়ায় জড়িয়ে পড়েন, স্বামী অনিলচন্দ্র যতক্ষনে জানতে পারেন ততক্ষণে তাদের দেহে বাসা বাঁধে মরণব্যধি এইসআইভি (HIV)!
বছরখানিক কেটে যায়, বিমল তখন নিন্তত্যই এক শিশু, তাকে কোলে পিঠে করে স্বর্গীয় আদর স্নেহ দিয়ে মানুষ করতে থাকেন দেবচন্দ্র।
বিমলের বয়স যখন বারো ছুঁই ছুঁই তখন দিনকে দিন বিমল অসুস্থ হতে শুরু করে, বিভিন্ন পরিক্ষা-নিরীক্ষায় দেবচন্দ্রের আশষ্কা সত্য হলো! বিমল এইচআইভি (HIV) রোগে আক্রান্ত! পিতৃক ভিটে বাড়ি বিক্রি করে কলকাতা শহরে বিমলের চিকিৎসা করান দেবচন্দ্র কিন্তু গোধূলি ক্ষণে দেবচন্দ্রের আয়ত চোখ জলভরা হয়ে যায় ঘরের অত্যুজ্জ্বল আলোটার দিকে তাকিয়ে বলে ” তবে কি আমার খোকা কখনো সুস্থ হবে না!”
কলকাতা শহর থেকে শূন্য হাতে ফিরে এলেন দেবচন্দ্র, বিমলের চিকিৎসার জন্য হাতে কানাকড়ি নেই।
এভাবেই কেটে গেলো অষ্টমী।
দশমীর দিন সকাল সকাল মন্দিরে যান দেবচন্দ্র।
বিমলের জন্য পূজ দিতে বসে পুরোহিত মশায়ের সঙ্গে কথোপকথনে পুরোহিত মশাই জানায় কলকাতা শহরে রাজবীর সিং নামে এক ধনী লোক আছে, যার প্রকান্ড দুটো বাগান বাড়ি আছে,প্রায় আড়াইশ বিঘে জমি আছে।
দশমী উপলক্ষে সে দু’হাতে দান করছেন।
পুরোহিত মশায়ের কথা শুনে খুশির ঝলকে মুখমন্ডল ছুঁয়ে যায় তার, পূজ শেষে দ্রুত বাড়ি ফিরে কলকাতা শহরে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন দেবচন্দ্র।
বিমল কে রেখে যেতে মন সায় দিচ্ছে না তার তবুও তার শরীরের কথা ভেবে তাকে রেখে একা যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় দেবচন্দ্র। বিমল তার কাকাবাবু কে প্রণাম করে বলে ” কাকাবাবু বিকেলের আগে ফিরে এসো,তোমাকে ছাড়া এই আলৌকসজ্জা বড় অন্ধকার লাগে, বিমলের কপালে চুমু খেয়ে বিদায় নিলেন দেবচন্দ্র।
কলকাতা শহরে গিয়ে রাজবীর সিং এর নিকট তিনি সাহায্য চায় বিমলের জন্য, রাজবীর সিং তার হস্তে কুড়ি হাজার টাকা হস্তান্তর করেন।
প্রতিময় ভালোবাসা নিয়ে ফিরে আসেন দেবচন্দ্র।
চারপাশ হাস্য দ্বারা রঞ্জিত,বাড়ি দেবচন্দ্র ডাকছেন ” খোকা..খোকা.. দেখ তোর জন্য কি এনেছি! বিমলের কোন সাড়াশব্দ নেই, ঘরে প্রবেশ করতেই হাত থেকে মাটির ঘোড়া পড়ে যায়! খোকা বলে বিকট চিৎকার দিলেন দেবচন্দ্র।
.
পর পর পঞ্চম বারের মত দশমী এসে চলে যায় কিন্তু বিমল আর ফিরে আসে না, দেবচন্দ্রের নয়নের জ্যোতিটুকু মলিন হয়ে উঠে, ” কাকাবাবু বিকেলের আগে ফিরে এসো, তোমাকে ছাড়া এই আলৌকসজ্জা বড় অন্ধকার লাগে” দশমীর দিনে কথাটা যেনো চারপাশে বাজতে থাকে!!

সম্পর্কিত পোস্ট

পূনর্জন্ম

জুয়াইরিয়া জেসমিন অর্পি . কলেজ থেকে ফিরেই পিঠের ব্যাগটা বিছানায় ছুড়ে ফেললো অন্বেষা। তারপর পড়ার টেবিলের কাছে গিয়ে চেয়ার টেনে নিয়ে ধপ করে বসে দুই হাত দিয়ে মাথাটা চেপে ধরলো।প্রচণ্ড মেজাজ খারাপ ওর। আজ ওদের সেমিস্টার ফাইনালের রেজাল্ট দিয়েছে। একদমই ভালো করেনি সে। যদিও শুরু...

অনুভূতি

অনুভূতি

লেখা: মুন্নি রহমান চারদিকে ফজরের আজানের সুমধুর ধ্বনি ভেসে আসছে। বাইরে এখনো আবছা অন্ধকার। তড়িঘড়ি করে বিছানা ছাড়লো মালা। ঘরের কাজ সেরে বের হতে হবে ফুল কিনতে। তাড়াতাড়ি না গেলে ভালো ফুল পাওয়া যায় না আর ফুল তরতাজা না হলে কেউ কিনতে চায় না। মাথার ওপরে তপ্ত রোদ যেন...

অসাধারণ বাবা

অসাধারণ বাবা

লেখক:সাজেদ আল শাফি বাসায় আসলাম প্রায় চার মাস পর। বাবা অসুস্থ খুব।তা নাহলে হয়তো আরও পরে আসতে হতো।গাড়ি ভাড়া লাগে ছয়শো পঁচিশ টাকা।এই টাকাটা রুমমেটের কাছ থেকে ধার নিয়েছি।তার কাছে এই পর্যন্ত দশ হাজার টাকা ঋণ হয়েছে।বলি চাকরি হলেই দিয়ে দিব। পড়াশোনা শেষ করে দুই বছর...

০ Comments

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *