প্রতিদান
প্রকাশিত: এপ্রিল ১০, ২০১৮
লেখকঃ vickycherry05

 18 বার দেখা হয়েছে

এই লেখক এর আরও লেখা পড়ুনঃ vickycherry05
লেখক:শৌর্য দাস
(এপ্রিল – ২০১৮)
……………………
১.
“ঐ জোরে জোরে হাত চালা। আবুলরে দেখ। কত জান লাগাইয়া কাজ করে! সে পারলে তোরা পারবি না কেন? ” আবুলের কাজের স্বীকৃতির দিকে নজর দেওয়ার না সময় আছে, না ইচ্ছা। তাকে কাটতে দেওয়া রডগুলোর আকৃতির দিকেই এর চেয়ে বেশি নজর তার! বেশি কী? আসলে সবটা নজরই ঐ দিকে। আবুলকে এ কারণে কথাও কম শুনতে হয় নি। তাকে অন্য শ্রমিকরা ডাকে আবাল। ডাকবে না? অন্যের মার্কেটের কাজে এত জান-প্রাণ লাগানোর মানে কী? মার্কেটটা কী ওর বাপের? তার উপরে, ওর কারণে অন্য শ্রমিকদের কথা শুনতে হয়। এমনকি যে ফজলু চাচা ওর সহজ সরল আর মায়াবী চেহারা দেখে কম-বয়সী হওয়া সত্ত্বেও ওকে কাজে ঢুকিয়েছে, তার কাছেও এখন সে বিড়ম্বনা বৈ আর কিছু নয়। যাই হোক, আবুলের এতে যায় আসে না। কন্ট্রাক্টর রহিম চাচা ওরে বলেছে- “এই শপিং মল হবে দেশের সবচেয়ে বড় শপিং মল। এটাতে তোদের মতো শ্রমিকদের জন্য বিশেষ সুবিধা থাকবে। তোরা এখান থেকে পায়ের জুতা থেকে শুরু করে মাথার তেল পর্যন্ত সব কিছু পানির দামে পাবি। কাজ কর, ভালো কইরা। ভালো কাজ করলে, আমি মালিকরে সুপারিশ কইরা দিব তোর জন্য সব কিছু ফ্রি রাখতে!” আবুল উল্লাস নিয়ে জানতে চায়- “বিয়ার কাপড় পাওয়া যাইব নি এহানে?” রহিম চাচা হাসিতে ফেটে পড়ে-“কী রে? এখনই বিয়ের শখ হইছে? তোর চিন্তা নাই, পাওয়া যাইব। তোর জন্য তো বিনা দামে!” আবুলের চোখে রূপালি আলোর ঝিলিক। চোখের তারায় আনন্দের শিহরণ। তার গ্রামে তার বড় বুবুর বিয়ের কথা চলছে। বছরখানেকের মধ্যে হয়ে যাবে। কিন্তু বাড়িতে কারো কোনো ফুর্তির আমেজ নেই।বিয়ের অশন-বসনের চিন্তায় সবার দিন যায়। অন্তত এখানে কাজ করতে এসে অশনের না হোক, বসনের চিন্তা তো সে দূর করতে পারল! অবশ্য আশেপাশের সবাই, এমনকি ফজলু চাচাও ওকে বারবার বলল- “আবুলরে! তুই আবালই রইয়া গেলি। তোর মনে হয় এই বড়লোকের ছাওয়ালগুলা তোরে পাত্তা দিব? গ্রাম থেকে আসছস, শহর চিনস না, এই শহরের বহর দেইখা ঠাহর করতে পারবি না এই বড়লোকগুলা কত বড় ছোটলোক!” আবুল ওদের কথায় কান না দিয়ে নিজের কাজে প্রাণ দেয়। আম্মা বলসেন, “বাজান রে, শহরে যাইতাসোস,যা। তবে শুন, যে নিজের কাজে প্রাণ দেয়, আল্লাহ তারে মান দেয়, সবাই তারে জান দেয়,বুঝলি?” কথাগুলো কানে বাজে, প্রাণে বাজে, মনে বাজে। ওর আম্মাকে মনে পড়লেই ওর বুকটা আঁইঢাঁই করে। চোখে জলের অস্তিত্ব টের পায়। হায়, জীবন! কিন্তু না, মায়ের জন্য মন খারাপ কইরা বসলে হবে না। ওর যে বাবা মারা গেল, এখন এগুলো ভাবলে কী ঘর চলবে? ওর টাকা লাগবে, টাকা! নিজের জন্য না, যাদের যাদেরকে ভালোবাসে, সেই ভালোবাসার মানুষগুলোর আশা পূরণ করতেই তো ওকে লড়তে হবে, কাজ করতে হবে!
২.
দিন ফুরোয়, রাত ফুরোয়, প্রথমদিক কার লাজ ফুরোয়, কিন্তু কাজ ফুরোয় না। আর ফুরোয় না, ওর স্পৃহা।ছেলেটার অর্থের জন্য লড়াই করার সামর্থ্য সবাইকে অবাক করে দেয়। একদিন সব কাজ শেষ হয়, ও এতদিনের মতো শেষ দিনেও সবার চেয়ে কম টাকা নেয়। মনে মনে ভাবে, এরপরে কত কাপড় চোপড়-গয়নাগাটি কিনব এখান থেকে! এখন থেকেই একটু একটু করে ঋণ শোধ করতে হবে! অহংকার ওর মধ্যে নাই থাকুক, আত্মসম্মানের ঢংকার ঠিকই আছে। অর্থ-কড়ি সম্পর্কে অজ্ঞতা যতই থাকুক না কেন, কৃতজ্ঞতা ঠিকই আছে ওর মধ্যে। বাড়ি ফিরে আম্মার হাতে টাকাটা তুলে দিবে ও। জীবনের প্রথম উপার্জন। ওর এই অর্জনের আনন্দটা ভিতরে ভিতরে গর্জন করতে থাকে। কিন্তু রাস্তায় হঠাৎ কার জানি গর্জন শুনতে পেল। একি? এ দেখি বজ্জাত মকবুল মাতব্বর। কোনো এক কালে, প্রকাশে,বা অন্তরালে, বিপদে পড়ে আবুলের বাবা এই মকবুলের কাছ থেকে টাকা নিয়েছিলো। সুদের হারে বুদ হয়ে মকবুল মাতব্বর সেই ঋণ যে কতগুণ বাড়িয়েছেন,তার ইয়ত্তা নেই। আবুলের বাবা মারা যাওয়ার পরও মকবুল প্রায়ই সেই ঋণের জন্য জ্বালিয়ে বেড়ায়, আর আবুলরা পালিয়ে বেড়ায়। কিন্তু আজকে বোধহয় রক্ষা নেই। মকবুল আবুলদের বাড়িতে গিয়েছিলো, যথারীতি টাকা ফেরতও চেয়েছিল। টাকা না পেয়ে আবুলের বাবার শেষ চিহ্ন তার মাছ ধরার জালটা নিয়ে যেতে সে যখন উদ্যত হয়, তখন আবুলের মা আকাশ-পাতাল এক করে সেটা রক্ষা করতে চাইল। উপায় না পেয়ে অসহায় বেশে সব শেষে বললেন যে, আবুল শহরে কাজ করে একটু একটু করে টাকা জমাচ্ছে। একদিন সব ঋণ শোধ করে দেবে। শুরুতে মকবুল মাতব্বর মানতে না চাইলেও চারপাশে লোক জড়ো হওয়ায় আর বাড়াবাড়ি করলেন না।জানতে চাইলেন, -“আবুল কবে আসবে?” -“বাজান আইজ সন্ধ্যার মধ্যে ঈদের লইগ্যা বাড়ি আইবো।” শুনে নিজের মধ্যে হায়েনার আনন্দ অনুভব করলেন মকবুল মাতব্বর। ‘পেয়েছি এবার, যায় কোথায়?’ গ্রামে আসার রাস্তার পাশে দাঁড়িয়েছিল হায়েনারা। পরিস্থিতির শিকার আবুলকে নিজেদের শিকার বানানোর জন্য। আজন্ম অনাদরে থাকা আবুলের গায়ে আরেকবার হাত পড়ল, পিতার ঋণের দায়ে আঘাতে আঘাতে তার দাঁত পড়ল, দিন শেষ হতে হতে সন্ধ্যা পেরিয়ে গ্রামে রাতও পড়লো; কিন্তু মকবুলের লোভ পড়লো না। জোর করে আবুলের কষ্টার্জিত প্রতিটি কড়ি নিয়ে যাওয়ার পর হায়েনার হাসি কিন্তু সিংহের গর্জন নিয়ে মকবুল বললো-আরো দশ হাজার টাকা বাকি! দশ হাজার টাকা! আরো দশ! আবুল আকাশ থেকে পড়ল। সে জানত না, কোনো এক কালে তার পিতার নেওয়া সাড়ে চার হাজার টাকার ঋণ কীভাবে দশ হাজারের বেশি হয়ে যায়! সে জানত না, কীভাবে তার পিতার বয়সী তাকে মারতে গিয়ে হায়েনার চেয়েও হিংস্র হয়ে যায়! সে জানত না, তার স্বপ্নগুলো আদৌ কোনোদিন পূরণ হবে কি না! সে শুধু জানত,তার হার মানলে চলবে না, তার থামলে চলবে না, তার ঘামলে চলবে না! তার যে দুটো কাঁধ আছে, সেই দু-কাঁধে দায়িত্বের বাঁধ আছে! সে কিভাবে থামে? এই ছোট্ট দুর্বল শরীরে এত সবল একটা মন যিনি দিতে জানেন, তিনিই মনে হয় আল্লাহ, ঈশ্বর, গড, স্রষ্টা!
৩.
‘দিন যায়, ক্ষণ যায়, সময় চলিয়া যায় / বেগে ধায় নাহি রহে স্থির!’ আবুলের জীবনও চলতে থাকে। তার কষ্টের, কিংবা নষ্টের জীবন। ওদিকে ওর বড় বুবুর বিয়ের দিন চলে আসছে। বাড়তি ধার-দেনা আর জমানো সব টাকা খরচ করেও শাড়ি-গয়না কেনা হয় না; অবশ্য আবুল আগে থেকেই ধরে রেখেছিল যে শাড়ি-গয়না জোগাড় করা যাবে না। তার জীবনের এই ঘনঘোর বর্ষায় ভরসা শুধু একটাই-শহরের সে শপিং কমপ্লেক্স। তার সিম্পল জীবন এখন শপিং মলের কমপ্লেক্স দয়ার উপর নির্ভরশীল। বুবুর প্রতি ভালবাসা আর এক বুক আশা নিয়ে যথারীতি সে শহরে যায়। তার দুচোখে রাত জাগার পরেও ঘুম নেই, বোনের বিয়ের ধুম নেই; শুধু আশা আছে। “পাবো তো?কেন পাবো না? শিক্ষিত লোকরা ঠকায় না, বড়লোকরা ঠকায় না!”
আবুলের মনের সরলতা বড়লোকদের মনের গড়লতা বুঝতে পারে না, খুঁজতে পারে না! হায় রে জীবন! আহা জীবন!
৪.
বাবা! শপিং কমপ্লেক্স না যেন আস্ত একটা শহর! কী নেই এখানে! আবুলের মাথা ঘুরে যায়। তার গর্ব করে বলতে ইচ্ছা করে,”দেখেন, দেখেন, এ বিশাল বিল্ডিং, আমি বানাইছি ইট-পাথর দিয়া। আমি বানাইছি! আমি!”  ধাক্কা খেয়ে পড়ে যায় সে। সে আর মনের কথা বলতে পারে না, অবাক বিস্ময়ে চলতে পারে না। শপিং কমপ্লেক্সের জৌলুশের মধ্যে তাকে বেমানান লাগছিল। কোনো এক ভদ্রমহিলার ভদ্র আহ্বানে সিকিউরিটি তাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়। -ঐ ভিখারীর বাচ্চা, এখানে কি?
 – চাচা, মানে, ঐ আমার বইনের বিয়া। কাপড় লাগত। গয়নাও।
 – বইনের বিয়া? কাপড়? গয়না? দেখা, টাকা কই দেখা! টাকা আনসোস?
 – চাচা, আমার বাসভাড়া আনসি, শাড়ি-গয়নার তো ম্যালা দাম। এতো টাকা পামু কই?
 – তাইলে গয়না কিনবি তোর বইনের নাম বেইচা?
 – না, আমি এই শপিং কমপ্লেক্স বানাইন্নার কাজে ছিলাম। আমারে কইসিলো ফ্রিতে দিব। আমি ভালো কাজ করসিলাম তো, তাই!
মুহূর্তে দারোয়ান অট্টহাসিতে ফেটে পডল, পালোয়ান হয়ে আবুলের ঘাড় ধরল। বলল-“ভিখারী! এইটা ভিক্ষার জায়গা না। বাইর হ।” আবুল যেতে চাইল না, দারোয়ানের হাত-পা আর যা যা পারল, ধরল। কিন্তু না, কাজের কাজ হলো না। শুধু ভীড় জমল চারপাশে। এতো হুড়োহুড়িতে না শপিং কমপ্লেক্সের ইমেজ নষ্ট হয়! তাই ভীড় ঠেলে মালিক গোছের কেউ একজন বেরিয়ে এলেন। সব শুনে তার দয়া হলো, আর এতোই দয়া হলো যে পাঁচ টাকা দিয়ে বলল এক কাপ চা খেয়ে নিতে। আবুল ঠাট্টা গায়ে মাখল না। এক দৌড়ে সে দোকান থেকে দোকানে ভিক্ষা চাইতে লাগল। ভিক্ষাই,তার প্রাপ্যটুকুর ভিক্ষা। রেগে- মেগে দারোয়ান-গাড়োয়ান-পালোয়ান সবাই তার পিছে ছুটল। নাগাল পাওয়া মাত্র প্রহার দেওয়া আরম্ভ হলো। আবুলের কোমল অঙ্গে কঠোর প্রহার পড়ল, হায়েনারা আরো একটা শিকার আহার করল। ধাক্কা দিয়ে তাকে বের করে দেওয়ার আগে বলা হলো-“ভিখারীর বাচ্চা, এটা ভিক্ষার জায়গা না, দানের জায়গা না!” এই কয়েক ঘন্টায় আবুল বড় হয়ে গেল, পৃথিবীর আসল রূপ আর তার অজানা নয়। দুঃখে, দুর্ভোগে, দুর্ভাগ্যে পীড়িত আবুল শুধু বলল – “আবুল দান চায় নায়, প্রতিদান চাইছে শুধু, প্রতিদান!” আর এভাবেই রোজকার দিনে স্বপ্নগুলো সস্তা দামে বিকোয়!
৫.
সর্বাঙ্গ জুড়ে ছড়িয়ে থাকা ব্যথা নিয়ে আবুল ফিরতে লাগল। রাজ্যের দুশ্চিন্তা নিয়ে, বুক ভরা দুঃখ আর মুখ ভরা দাগ নিয়ে আবুল হাঁটতে লাগল। “কী হবে আম্মার? কি হবে বুবুর? আল্লাহ,তোমার প্রতি কী দোষ করছিলাম?কও! আমারে তুমি এই কষ্ট দিয়া মুক্তি দাও আল্লাহ! মুক্তি দাও!”  “মুক্তি দাও! মুক্তি দাও!” -বলে গোঙাতে গোঙাতে পথ চলতে গিয়ে আবুল খেয়াল করে নি, ওর মুক্তির ব্যবস্থা ও নিজেই করে ফেলেছে। রাস্তার মাঝ দিয়ে হাঁটতে গিয়ে ও এসে পড়ে একটা ট্রাকের সামনে। এই ট্রাক স্বপ্ন চেনে না, শাড়ি-গয়না চেনে না, আবুলের মতো অসহায় ময়নাও চেনে না; শুধু চেনে দেহকে। ট্রাকটা জানে একটা দেহকে কীভাবে উড়িয়ে দিতে হয়, কয়েকটা স্বপ্নকে কীভাবে গুড়িয়ে দিতে হয়! নির্দ্বিধায়! নির্বিঘ্নে! আবুলের দেহটা ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ে থাকে, আর সাথে পড়ে থাকে, হয়তো তার স্বপ্নগুলোও!
৬.
এদিকে আবুলের মা আবুলের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। “আমার আবুল! বাজান আমার কখন জানি আইবো?” দেরি দেখে নিজের মেয়েকে জিজ্ঞাসা করেন তিনি- “এতো দেরি ক্যান করতেসে আবুইল্লা?”  পরে নিজেই জবাব দেন- “ও,দেরি তো হইতেই পারে। সাহেবরা নাকি ওরে অনেক আদর করে! এতোদিন পর দেখসে, হয়তো ছাড়তে চায় না। আর অত কিছু আনতেও তো সময় লাগব! কত কী! শাড়ি! গয়নাগাটি!”  আহারে আবুলের মা! এতোটুকুও তিনি জানেন না যে এই দুনিয়ায় আবুলদের জন্য সাহেবদের আদর মানে মাথায় হাত বুলিয়ে আশ্বাস দেওয়া না, ঘাড়ে ধাক্কা দিয়ে নিঃশ্বাস কেড়ে নেওয়া! এতোটুকুও তিনি জানেন না যে এই দুনিয়ায় আবুলদের মনের ইচ্ছা পূরণের জন্য সোনার গয়না না, মরণের ইচ্ছা পূরণের জন্য লোহার ট্রাক থাকে! এতোটুকুও তিনি জানেন না যে, এই দুনিয়ায় আবুল, আবুলের মা, আবুলের বোনের জন্য টুকটুকে লাল শাড়ি না, ধবধবে সাদা কাফনের কাপড় থাকে! হ্যাঁ,কাফনের কাপড় থাকে!

সম্পর্কিত পোস্ট

শয়তানকে পরাজিত করুন –

শয়তানকে পরাজিত করুন –

কোন এক দাওয়াতে এক ভাবী গল্প করছিলেন যে, এক মহিলা যখন তার Husband রাগ হয় তখন তিনি আয়াতুল কুরসি পড়েন আর তার স্বামী বিড়াল হয়ে যান । তখন আর এক ভাবী বললেন," ভাবী - আয়াতুল কুরসি পড়লে উনার স্বামী বিড়াল হন না বরং ঐ মহিলার সাথের শয়তানটা পালিয়ে যায়” । ভাবীদের এই...

একজন মানুষের গল্প

একজন মানুষের গল্প

দুই টাকার আইসক্রিম, বই সামনে নিয়ে চিৎকার করে পড়া, কলম দিয়ে এক অক্ষর বারবার লিখে হাত ব্যাথা সহ্য করতে করতেই ছোটবেলা কাটিয়ে দেওয়া। একটু বড় হওয়ার পর ছন্নছাড়া হয়ে যাওয়া। ক্লাস ফাঁকি দিয়ে বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দেয়া কোনো এক বট তলা। যেখানে বসে আড্ডা দিত কয়েকজন স্কুল পালানো...

অস্ফুট কান্না

অস্ফুট কান্না

লেখা: মোহসিনা বেগম , প্রচণ্ড শীত পড়েছে আজ। চারদিক কুয়াশা যেন চাদর বিছিয়ে রেখেছে। সকাল এগারোটা বেজে গেছে এখনও সূর্যের দেখা নেই। ছুটিতে কয়েকটা দিন গ্রামে থেকে আনন্দ করব কিন্তু প্রচণ্ড শীতে জমে যাচ্ছি। লেপের নীচ থেকে বের হতেই ইচ্ছে করছে না। ওদিকে মা কতক্ষণ ধরে ডেকেই...

০ Comments

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *