অরু
প্রকাশিত: জানুয়ারী ২২, ২০১৯
লেখকঃ আওয়ার ক্যানভাস

আওয়ার ক্যানভাস বই প্রেমীদের মিলন মেলা। লেখকদের লেখা পাঠকের কাছে বই আকারে পৌঁছে দেওয়া, আওয়ার ক্যানভাসের সাথে জড়িতদের সম্মানজনক জীবিকার ব্যবস্থা করার স্বপ্ন নিয়েই আমাদের পথ চলা।

 26 বার দেখা হয়েছে

এই লেখক এর আরও লেখা পড়ুনঃ আওয়ার ক্যানভাস

লিখা:ইমতিয়াজ আহম্মেদ

কাঁধে কারো হাতের ছোঁয়ায় পেছন ফিরে তাকালাম৷ স্ক্রেচ এ ভর দিয়ে দাঁড়ানো সাদা চুলের মোটামুটি বৃদ্ধ মানুষটা চোখাচোখি হতেই মুচকি হাসে৷ আমার মাথার চুলগুলো এলোমেলো করে বলল,
-কেমন আছো ?”
আমি জোর করে মুখে হাসি ধরে রেখে বললাম,
-এইতো চাচা ভালো আছি৷ আপনি?
-এইতো চলছে৷ তুমি কি জানো, আমি প্রতিদিন এখানে এসে বসি? আমি বেশকিছু দিন যাবৎ পার্কের এই বেঞ্চিটাতে তোমাকে দেখি প্রতি বিকেলে৷ আমি দেখি তুমি উদাস হয়ে তাকিয়ে থাকো৷ তুমি নিশ্চয় আমাকে দেখেছো?
-জ্বী চাচা৷ আমার সাথে আপনার প্রতিদিন দেখা হয়েছে৷ আমি এও জানি, কেউ একজন প্রতি বিকেলে আপনাকে ফিরিয়ে নিতে আসে৷ আপনাদের খুনসুটিগুলোও দেখি৷”
-আচ্ছা ছেলে তুমি কি আমাকে বলবে, তোমার হাসিটা এত বিবর্ণ কেন? তোমার প্রতিবিকাল মন খারাপে কাটে কেন? বলবে আমাকে?”
মানুষটার কথা শুনে আমার বড্ড অবাক লাগে৷ আমার মনের কথা গুলো ধরে ফেলেছে৷ মানুষটার কথার প্রতুত্তরে আমি কী বলবো ভেবে পাই না৷ আমি চুপ করে থাকি৷”
-শেয়ার করো৷ মন হালকা হবে৷ আমি ভেবে পাই না, এই বয়সে তুমি এতো হতাশ কেন? আমাকে আপন ভেবে বলো ছেলে৷”
আমার চুপ থাকা দেখে বলল মানুষটা৷
-চাচা আমার একজন সে ছিল৷ চলে গিয়েছে কিছুদিন হলো৷ আমার ভালো লাগে না কিছু৷ তাকে ছাড়া আমার মনের আকাশটাতে কালো মেঘ ভেসে বেড়ায়৷ মাঝরাতে নিঃশ্বাস আটকে আসে আমার৷ এই জায়গাটাতে আসলে আমার একটু শান্তি লাগে চাচা৷”
এক নিঃশ্বাসে বলি আমি৷
মানুষটা আমার কাঁধে হাত দিয়ে বলে,
-কেন ছেড়ে গিয়েছে সেটা জিজ্ঞেস করবো না আমি৷ তবে জেনে রাখো, সে কখনোই তোমার ছিল না৷ যদি তুমি চাও, একটা গল্প শুনাবো তোমাকে৷ শুনবে?”
-জ্বী চাচা৷
-শুনো তাইলে,
আমার একজন বান্ধবী ছিল আত্মার সম্পর্কের৷ নাম অরিত্রা৷ আমি অরু বলে ডাকতাম৷ মেয়েটার সাথে আমার বন্ধুত্ত হয়েছিল, মাধ্যমিক পরীক্ষার সময়৷ আমরা নিজেদের সবসময় বন্ধুই ভেবে এসেছি৷ দু’জন একই কলেজে ভর্তি হয়েছিলাম৷ দিনগুলো ছিল স্বপ্নের মতো৷ আমি নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে করতাম, এমন একটা বন্ধু পেয়েছি বলে৷ আমার চাওয়ার কিছুই ছিল না৷ পুরো কলেজে আমাদের বন্ধুত্তের একটা সাড়া ফেলে দিয়েছিলাম৷
ক্লাসের বেন্ঞ্চ থেকে শুরু করে ক্যান্টিনের সিঙ্গারার প্লেট৷ সব জায়গায় আমাদের শেয়ারিং, কেয়ারিং আর খুনসুটির ছাপ৷
ঠিক তেমনই এক দিনে, হুট করে ক্লাসের চেনা পরিচিত রিতু নামের মেয়েটা এসে বলেছিল,
-আমাকে তোমাদের বন্ধু বানাবা? তোমাদের মতো বন্ধু পেলে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান ভাববো৷ বানাবে আমাকে?”
মেয়েটার কথার জবাবে আমি কিছু বলিনি৷ অরুর দিকে তাকালাম৷ অামাকে অবাক করে দিয়ে মেয়েটার কথায় সায় দিয়েছিল অরু৷
তারপর থেকে আমাদের দু’জনের জায়গায় তিনজন হলাম৷ দিনগুলো মন্দ কাটছিলো না৷
কিন্তু কিছুদিনের মধ্যে, আমার কেন জানি মনে হয়েছিল৷ অরিত্রা মেয়েটা ভালো নেই৷ ভালো না থাকা মানুষগুলোর হাসি আমি খুব বুঝতে পারি৷ যেমনটা এখন তোমার বুঝতে পেরেছি৷ সেদিন আমি অরিত্রার হাসিটাও বুঝতে পেরেছি৷ জোর করে হাসা মানুষগুলোর হাসির শেষে তাদের মুখে বিবর্ণতা খেলে যায়৷
এক সকালে অরু আমাকে না বলেই কলেজ এসে পরে৷ যা আমার জন্য নতুন এক অভিজ্ঞতা ছিল৷ কলেজের এমন কোনো দিন নেই, যেদিন অরিত্রা আমাকে ফেলে এসেছে৷ কিন্তু সেদিন এসেছিল৷
আমি কলেজ ফিরে, রাগে গজগজ করে অরিত্রার কাছে যাই৷ হাতটা শক্ত করে ধরে দিঘীর পাড়ে নিয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম,
-তোর কী হয়েছে অরু? বল আমাকে৷ আমার কাছে এই অরু বড্ড অচেনা৷ আমি বিবর্ণ হাসির অরুকে চাই না৷ আমি চাই সেই অরুকে, যে অরু খিলখিল করে হাসবে৷ আমার নাক টিপে ধরে নিঃশ্বাস বন্ধ করে আমার ঘুম ভাঙাবে৷ আমি চন্ঞ্চলতায় ভরপুর অরুকে চাই৷ আমার অরুকে ফেরত দে৷”
আমাকে অবাক করে দিয়ে অরিত্রা ম্মিত হেসে বলেছিল,
-অনুভুতিগুলো মরে গেছে রে শ্রাবণ৷ আজকাল আমার মনটা ভালো থাকে না৷ আমার মনের বারান্দায় জ্যোৎস্নার আলো আসে না৷ নিজেকে বড্ড অসহায় লাগে৷”
অরু কথাটা বলে আর দাঁড়ায়নি৷ অদ্ভুত ভাবে আমার মুখ দিয়ে শব্দ বের হয়নি সেদিন৷ অরুকে আটকানোর শক্তিটাও আমি হারিয়ে ফেলেছিলাম৷ অরু আর পেছন ফিরে তাকাইনি৷ হাতের উল্টোপিঠ দিয়ে তার চোখের জল মুছার দৃশ্যটা আমার চোখ এড়ায়নি৷ সেদিনের পর আমি আর অরুকে দেখিনি৷”
-চাচা তারপর?
মাঝখানে বলে বসি আমি৷ মানুষটা মুচকি হাসে৷ আমার আগ্রহ দেখে আনন্দ পেয়েছে হয়তো৷
আবার বলা শুরু করে মানুষটা৷
-তারপর থেকে আমার সকালগুলো বিষণ্ণতা নিয়ে শুরু হতো৷ রুম বন্ধি করে রেখেছিলাম নিজেকে৷ অরুর বিবর্ণ চেহারাটা আমার ভেতরটা দুমড়ে মুচড়ে দিচ্ছিলো৷ আচ্ছা অরু কি আমাকে ভালোবাসতো? ভালোবাসলে এমন করলো কেন? নাহ কিসব ভাবছি৷ অরু আমার বন্ধু ছিল৷ ভালো বন্ধু৷ প্রশ্নগুলো প্রতিনিয়ত ঘোরপাক খায় আমার মনে৷ আমার মনের আকাশটাকে আরো গুমোঢ় করে তোলে৷”
তারপর মন খারাপের এক সকালে রিতু মেয়েটা এসে কড়া নাড়ে আমার দরজায়৷ মেয়েটা চুপচাপ এসে বসে আমার পাশে৷
হুট করে আমার হাতে হাত রেখে বলে,
-শ্রাবণ একটা কথা বলবো তোকে?
-বল৷
-জানিস, তোর সাথে পরিচয় হওয়ার পর থেকে আমার অনুভুতিগুলোর সবটুকু জুড়ে তুই ছিলি৷ আমি অনুভব করি, তোকে ছাড়া আমার চলবে না৷ আমি জানি, অরু তোর ভালো বন্ধু৷ কিন্তু বিশ্বাস কর, আমি তোকে প্রচণ্ড রকমের ভালোবেসে ফেলেছি৷ তুই আমাকে ফিরিয়ে দিস না৷ আমি সইতে পারবোনা৷ হারানোর বেদনা তো তুই বুঝিস৷ তোকে এভাবে দেখতে ভালো লাগে না আমার৷ তুই আমার হয়ে যা৷ তোকে ভালো রাখবো আমি৷ না আমি বলছিনা, তুই এখনই আমাকে ভালোবাস৷ তুই শুধু আমার আশেপাশে থাক৷ আমি ঠিকই তোর মনের মরুভূমিতে ভালোবাসার ফুল ফোটাবো৷”
মেয়েটার কথাগুলো কেন জানিনা আমাকে হ্যাঁ বলতে বাধ্য করেছিল৷
তবে আমি শর্ত দিয়ে বসেছিলাম৷ শর্ত ছিল, অরু যদি ফিরে আসে৷ অরু আমার বন্ধু হয়েই থাকবে৷ যেমনটা আগে ছিল৷ শর্তে রাজিও হয়েছিল রিতু মেয়েটা৷
তারপর থেকে শুরু হল অন্যরকম পথচলা৷ রিতু মেয়েটা কত বিকেল কাটিয়েছে আমার কাঁধে মাথা রেখে৷ হাত হাত রেখে বলেছিল, জীবনের শেষদিন পর্যন্ত থাকবে৷ সুখে-দুঃখে, হাসি-কান্নায় মিলে মিশে একাকার হবো দু’জন৷
কিন্তু সৃষ্টিকর্তা হয়তো তা চাইনি৷ রিতু একদিন বলে বসলো,
-একটা বাইক কিনো৷ তোমার কাঁধ জড়িয়ে দূরে কোথাও হারিয়ে যাবো৷
রিতুর অনুরোধে আমি বাবার কাছে বাইক চেয়ে বসলাম৷ বাবা আমার আবদারে না করতে পারেনি৷
তারপর থেকে রিতু মেয়েটা আরেকটু কাছে আসে মেয়েটা৷ আমিও ভেবে নিয়েছিলাম, এই মেয়ে আমাকে ছেড়ে যাবে না কিছুতেই৷
মাঝে মাঝে আমার অরুর কথা মনে পরতো৷ খুনসুটিগুলো বড্ড মিস করতাম আমি৷ রিতু তখন বলতো,
-ও স্বার্থপর মেয়ে৷ নয়তো এতদিনের বন্ধুত্ব এভাবে শেষ করে কেউ?
রিতুর কথা শুনে আমার রাগ হয়৷ প্রতিবাদ করতে গিয়ে থেমে যাই আমি৷ অন্যদিকে অরুর প্রতি অভিমানের দেয়ালটা দিনদিন উঁচু হচ্ছিল৷
সৃষ্টিকর্তা হয়তো মুচকি হাসছিল আমায় দেখে৷
তারপর আসলো সেই দিন,
শুক্রবারের বিকেল৷ রিতু আবদার করেছিল বাইকে করে লং ড্রাইভে যাবে৷ প্রেমিকার আবদার বলে ফেলতে পারিনি৷
ঠিকই বাইক নিয়ে বেরিয়েছিলাম৷ রিতু বসে ছিল আমার পেছনটাতে৷ মাঝরাস্তায় ইচ্ছে হল, ফুচকা খাওয়ার৷ রিতু আগেভাগে নেমে সামনে এগিয়ে যায়৷
আমি বাইকের স্টার্ট থামিয়ে সামনে তাকাতেই মুহূর্তেই আমার জীবনটা রঙহীন করে দিল একটা ছোট সাইজের ট্রাক৷ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশ ঘেষে আমার পায়ের গোঁড়ালিতে আঘাত হেনেছিল৷
.
জানো, আমার এক্সিডেন্টের পর রিতু মেয়েটা আমাকে দেখতেও যাইনি৷ তিনদিন পর গিয়েছিল৷ আমার হাত ধরে বসেছিল পাশে৷ ডাক্তার যখন এসে বলেছিল,
-ভাগ্য হচ্ছে, আপনি বেঁচেছেন৷ দূভার্গ্য হচ্ছে, আপনার পায়ের গোঁড়ালিতে অকেজো হয়ে গিয়েছে৷
ডাক্তারের কথা শোনামাত্রই রিতুর মেয়েটা আমার হাত ছেড়ে দেয়৷ আমি হুট করে রিতুর দিকে তাকায়৷ রিতু মাথা নিচু করে বলে,
-শ্রাবণ আমি আসছি৷”
এটাই ছিল রিতুর সাথে আমার শেষ কথা৷ অরুর মতো রিতু মেয়েটাও হারিয়ে গেল হুট করে৷ বিশ্বাস করো, অদ্ভূতভাবে আমার মনটা রিতুর জন্য খারাপ হয়নি৷ বরং মুচকি হেসেছিলাম৷ স্বার্থপর মনে হলো দুনিয়াটাকেই৷
কিন্তু মজার ব্যাপার কি জানো!
সৃষ্টিকর্তা কাউকে নিরাশ করে না৷ অকেজো গোঁড়ালি নিয়ে তখন আমার শুয়ে বসে দিন কাটছিলো৷
এক সকালে পৃথিবীর প্রতি একবুক অভিমান নিয়ে চোখ দু’টো বন্ধ করে শুয়েছিলাম আমি৷
মাথায় খুব পরিচিত এক হাতের পরশে চোখ মেলি আমি৷ চমকে উঠি আমি৷
অরু মেয়েটাকে দেখে বড্ড অবাক হয়েছিলাম৷ মায়া মায়া চোখ দিয়ে তাকিয়ে ছিল আমার দিকে৷ আমার খুব ইচ্ছে হয়েছিল, গালগুলো ছুঁয়ে দিতে৷ কিন্তু অভিমানের দেয়াল টপকাতে পারি না আমি৷
অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে বলেছিলাম,
-করুণা দেখাতে এসেছিস?
-না ভালোবাসতে এসেছি৷ আমি জানতাম, যাকে আমি প্রতি মুহূর্তে চেয়েছিলাম৷ তাকে আমি পাবো৷ কিন্তু এভাবে কখনোই চাইনি৷
কিন্তু বিশ্বাস কর, আমি তোকে প্রচন্ড রকমের ভালোবাসি৷
-ফেলে গিয়েছিলি কেন?
-তোকে ভালো রাখতে৷ রিতু যেদিন হাত ধরে বলেছিল, তোকে ভালোবাসে৷ আমি আর না করতে পারিনি৷ আমি তোর কাছে থেকে নিজেকে আটকে রাখতে পারছিলাম না৷
-এখন কেন আসলি?
-তোকে ভালোবাসতে৷
-পা দেখেছিস আমার? কিছুদিন পর তোরও অনিহা এসে যাবে৷
-তুই আমাকে চিনলি না এখনো৷ তোর কামাই করা লাগবেনা৷ সব আমি করবো৷ আমাকে শেষবিকেলে ঘুরতে নিয়ে যাওয়া লাগবেনা৷ আমিই নিয়ে যাবো তোকে৷ কোলে তুলে জ্যোৎস্না বিলাস করাতে ছাদে উঠানো লাগবেনা৷ বরং আমাদের ছোট্ট বারান্দাতে বসেই তোর কাঁধে মাথা রেখে জ্যোৎস্না দেখবো৷ দরকারে প্রতিদিন তোকে বিরিয়ানী রেঁধে খাওয়াবো৷ বিনিময়ে আমায় একটু ভালোবাসবি তুই৷ ছেলে তুই রাজি?”
অামি চোখে জল আর মুখে হাসি নিয়ে অরুর কথায় মাথা নাড়িয়ে সায় দিয়েছিলাম৷ মেয়েটা সেদিন থেকে আজও আগলিয়ে রেখেছে আমায়৷”
এই যে দেখো, আমার পায়ে যে সমস্যা আছে দেখেছো? কিন্তু আমার কখনোই নিজেকে অসহায় মনে হয়নি৷ হয়তো এটা না হলে, আমার যাকে প্রয়োজন তাকে পাওয়া হতো না৷ বছর কয়েক আগে রিতুর সাথে দেখা হয়েছিল৷ ভালোই আছে, ওর ভালো থাকা দেখে আমারও ভালো লেগেছে৷ কিন্তু জানো, মেয়েটা আমার দিকে তাকানোর সাহস পায়নি৷”
কথা শেষ করে আমার দিকে তাকিয়ে বললো চাচা৷ কথা শুনে আমি হাসি একটু৷ চাচা আমার কাঁধে হাত রেখে বলল,
-আমার জীবনে অরু ছিল৷ তোমার হয়তো অরু নেই৷ কিন্তু হতাশ হইয়ো না ছেলে৷ ঐ যে উপরে একজন আছে৷ হিসাব মিলিয়ে দিবে৷ দিনশেষে বিশ্বাস রেখো, কেউ একজন এসে ঠিকই গুছিয়ে দিবে তোমাকে৷ আগামীকালের জন্য বাঁচো৷ সুন্দর সকালের আশায় বাঁচো৷ গৌধুলী বিকেলের সূর্য ডুবি দেখবে প্রিয় মানুষের হাতে হাত রেখে৷ এই আশায় বাঁচো৷”
আমি হুট করে মানুষটাকে জড়িয়ে ধরি৷ কান্না আসে আমার৷ কান্না জড়ানো গলায় বলেছিলাম,
আমি বাঁচবো চাচা৷ একদিন আমিও কাউকে আপনার মতো করে আমার গল্প শুনাবো৷”
মানুষটা মুচকি হেসে আমার পিঠ চাপড়ে দেয়৷”
আজ বড্ড হালকা লাগছে নিজেকে৷ মায়ের হাতে তুলে ভাত খাবো আজ৷ গভীর ঘুমে মগ্ন হবো আমি৷ আগামীকালের সুন্দর সকাল আর গোধূলি বিকেল যে আমার অপেক্ষায় আছে।

সম্পর্কিত পোস্ট

যদি পাশে থাকো

যদি পাশে থাকো

তাসফিয়া শারমিন ** আজকের সকালটা অন্য রকম। সাত সকালে আম্মু বকা দিলো। মানুষের ঘুম একটু দেরিতে ভাঙতেই পারে। তাই বলে এত রাগার কী আছে ?একেবারে যে দোষ আমারও তাও নয়। মানুষ ঘুম থেকে উঠে ফোনে বা দেওয়াল ঘড়িতে সময় দেখে। কিন্তু আমি উঠি জানালার পর্দা সরিয়ে বাইরের আলো দেখে।কে জানে...

কুড়িয়ে পাওয়া রত্ন

কুড়িয়ে পাওয়া রত্ন

অনন্যা অনু 'আমিনা বেগম' মেমোরিয়াল এতিমখানার গেট খুলে ভেতরে ঢুকতেই ওমরের বুকটা ধুক ধুক করতে শুরু করে। ওমর ধীর গতিতে ভেতরে প্রবেশ করে। চারদিকে তখন সবেমাত্র ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে। ওমর গত রাতের ফ্লাইটে আমেরিকা থেকে এসেছে। সে এসেই সোজা আমিনা বেগম মেমোরিয়াল এতিমখানায়...

দাদাভাইকে চিঠি

দাদাভাইকে চিঠি

প্রিয় দাদাভাই, শুরুতে তোকে শরতের শিউলি ফুলের নরম নরম ভালোবাসা। কেমন আছিস দাদাভাই? জানি তুই ভালো নেই, তবুও দাঁতগুলো বের করে বলবি ভালো আছি রে পাগলী! দাদাভাই তুই কেন মিথ্যা ভালো থাকার কথা লেখিস প্রতিবার চিঠিতে? তুই কি মনে করিস আমি তোর মিথ্যা হাসি বুঝি না? তুই ভুলে গেছিস,...

৩ Comments

  1. Halima tus sadia

    অসাধারণ লিখেছেন।
    মনোমুগ্ধকর লেখা।

    অরু হয়তো চলে গিয়েছিলো।
    তবে ভালোবেসে অন্যের সুখের জন্য।
    রিতা আর শ্রাবণের সুখের জন্য।
    তৃতীয় পক্ষ হয়ে থাকেনি।

    তবে রিতার ভালোবাসা ছিলো মিথ্যা মায়ায় জড়ানো।
    গল্পের মতো কতো রিতা বাস্তবেও সুখের জন্য শ্রাবণদের মতো ছেলেদের রেখে চলে যায়।

    বানানে কিছু ভুল আছে।

    শুভ কামনা রইলো।

    Reply
  2. Md Rahim Miah

    কারো-কারোর
    এইতো-এই তো(হয়তো আর নয়তো শব্দ বাদে তো আলাদা বসে)
    তুমি কি জানো, আমি প্রতিদিন এইখানে এসে বসি? -তুমি কি জানো আমি প্রতি এইখানে এসে বসি? (মাঝখানে কমা হবে না যেহেতু প্রশ্নবোধক চিহ্ন শেষে দেওয়া হয়েছে)
    শুনে-শোনে
    কথা গুলো-কথাগুলো(গুলো শব্দের সাথে বসে)
    শুনো-শোনো

    পারবোনা-পারবো না(না আলাদা বসে যেহেতু শব্দ)
    বলছিনা-বলছি না
    জানিনা-জানি না
    চাইনি-চায়নি
    হল-হলো
    ভাগ্য হচ্ছে, আপনে বেঁচেছেন-ভাগ্য ভালো আপনে বেঁচে গিয়েছেন(এইভাবে দিলে লাইন সুন্দর দেখায়)
    কামাই-রোজগার
    লাগবেনা-লাগবে না
    বাহ্ অসাধারণ লিখেছেন। আসলে কিছু মানুষ নিজের স্বার্থের আশায় ডুবে থাকে আর যখনি দেখে ব্যর্থ হতে হবে কিংবা সুখ পাবে না। তাহলে সে ফিরে চলে যায়। কিন্তু পৃথিবীতে এখনো কিছু মানুষ আছে যারা নিজের স্বার্থ বুঝে না, শুধু অন্যদেরকে ভালোবাসতে জানে কিছু না পেলেও। গল্পের মাঝে এইরকমই কিছু বুঝানো হয়েছে। পড়ে অনেক অনেক ভালো লেগেছে। এইরকম স্বার্থহীন মেয়ে পেলে সত্যিই যেকোনো ছেলে নিজেকে ধন্য মনে করবে। ভুলের মান বেশি সেইদিকে আগামীতে খেয়াল রাখবেন আশা করি। আর অনেক অনেক শুভ কামনা রইল।

    Reply
  3. আফরোজা আক্তার ইতি

    খুবই সুন্দর লিখেছেন। গল্পটা জীবনের বাস্তবতার ভিত্তিতেই লেখা বলে মনে হচ্ছে। বর্তমান ভালোববাসআ হয়তো এমনই, হীরের মতো দূর্লভ।
    শ্রাবণকে অরু অনেক ভালোবাসলেও তার জীবনে কাঁটা হয়ে থাকে নি, প্রকৃত ভালোবাসতো বলেই যখন শ্রাবণ আর রিতুর সম্পর্কে জানতে পেরেছে তখন সে সরে গেছে। কিন্তু রিতুও তাকে ছেড়ে চলে গেল।
    অবশেষে শ্রাবণকে সবই হারাতে হলো।
    বাস্তবে এমন ঘটনা কতোই না ঘটছে। সুন্দর লিখেছেন।
    বন্ধি- বন্দী।
    ঘোরপাক- ঘুরপাক।
    গুমোঢ- গুমোট।
    শুভ কামনা।

    Reply

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *