অপূর্ণতা
প্রকাশিত: এপ্রিল ১৫, ২০১৮
লেখকঃ vickycherry05

 202 বার দেখা হয়েছে

এই লেখক এর আরও লেখা পড়ুনঃ vickycherry05

গল্প লেখকঃ
Moumita Sarkar Neelove
(এপ্রিল – ২০১৮)
……………………

“আজও দেরী হয়ে যাবে বাড়ি ফিরতে। দিন দিন খুব কাজ বেড়েছে অফিসের। মাঝে মাঝে ভাবি ছেড়ে দিবো এ চাকরি। ভালো একটা ব্যবসা শুরু করবো। আমার ফ্যামিলিকে সময় দিতে হবে। এসব কথা রোজই ভাবি কিন্তুু কিছুই করতে পারিনা। এভাবেই কেটে যাচ্ছে দিন।”

ফ্যামিলিতে আছে বলতে শুধু আমার মেয়ে “হৃদিতা”। সাত বছর বয়স ওর। খুব শান্ত মেয়ে। আর আছে ফ্রেমে বাঁধানো আমার ভালোবাসা। সে আমার ঘরের একটা দেওয়াল জুড়ে আছে। কিন্তুু তাকে এতো কাছে রাখতে পারিনি। চলে গেছে সে আমাকে চেনা পৃথিবীতে রেখে অচেনা কোনো পৃথিবীতে। জানতে ইচ্ছে করে তুমি ভালো আছো তো?

ঘড়িতে ৭টা বেজে ৪৫ মিনিট অনেক দেরী হয়ে গেলো। এবার ফিরতে হবে আমাকে। মেয়েটা আমার একা একা অনেক ভয় পাবে। অবশ্য শিশির আছে। আমার কাছের এক বন্ধু। ওর কেউ নেই তাই আমাদের সাথে থাকে। যাওয়ার সময় চকলেট নিয়ে যেতে হবে। হৃদি খুব পছন্দ করে। রাগ ভাঙ্গানোর জন্য আজকের মতো এটাই রক্ষা কবজ।
“হৃদি? আমার হৃদি মা’টা কোথায়? এদিকে এসো দেখো আমি তোমার জন্য চকলেট এনেছি!!! কই তুমি ….”
“না বাপি আমি আসবো না। তুমি প্রতিদিন দেরী করো, আর আমাকে একা একা থাকতে হয়। আমার ভয় করেনা বুঝি। তোমার সাথে কথা নাই …আরি!!!”
“এই যে মা কান ধরেছি আর দেরী করবো না। এবার যদি করি তাহলে আমি এ চাকরি ছেড়ে দিয়ে আসবো।”
“সত্যি তো?? ”
“হুম!! একদম পাক্কা। এবার সামনে আসো কতক্ষণ না দেখে আছি বলোতো।”
“বাপি তুমি চোখ বন্ধ করো আমি আসতেছি।”
“আচ্ছা করলাম।”
ওর চিকন হাত দুটো যখন আমার গলা জড়িয়ে ধরে আর কানে কানে বলে “শুভ জন্মদিন বাপি”। তখন মনে হয় আমার মতো এতো সুখী হয়তো আর কেউ হতে পারবেনা। ওর দিকে তাকিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লাম আমি।
“বাপি তুমি কেঁদো না। আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি মা’র থেকেও বেশি। আমি তোমার সাথে সারা জীবন থাকবো। তোমাকে ছেড়ে কোথাও যাবো না। কেঁদো না বাপি ….প্লিজ।”
“না আমি কাঁদবো না। আমি কাঁদলে তোমার মা কষ্ট পাবে। আচ্ছা মা তুমি রাতে কি খাবে বলো। তুমি, আমি আর শিশির কাকু বাহিরে যাবো খেতে।”
“সে তো খাবো ..কিন্তু পরে, চলো এখন কেক কাটতে হবে।”
“কেক পেলে কোথায় তুমি? আর টাকায় বা আসলো কই থেকে?”
“তুমি কি মনে করেছো আমি জানি না তোমার বার্থডে কবে। আমি টাকা জমিয়েছি যেগুলো তুমি টিফিনের জন্য দিতে। আর শিশির কাকুকে দিয়ে কেক আনিয়েছি। চলো আর দেরি করো না কেক কাটতে হবে। আমি কাকুকে ডাকি। কাকু…কাকু উপরে এসো তাড়াতাড়ি।”
“আমি তো একদম অবাক আমার একরত্তি মেয়েটা কতকিছু করতে শিখেছে। মেয়েটা আমার একদম ওর মা’র মতো হয়েছে। কিছু কিছু জিনিস আলাদা। “মধু” আইসক্রিম পছন্দ করতো আর “হৃদি” চকলেট। মধু প্রচুর কথা বলতো আর হৃদি প্রয়োজন ছাড়া ওর মুখ থেকে কথা বের করা খুব মুশকিল। কিন্তু চোখের মধ্যে খুব মিল আছে। হৃদির চোখের দিকে তাকালে মনে হয়না এ আমার হৃদিতা ….এতো আমার সেই “মধুমিতা”।
“বাপি আজ রাতে আমাকে গল্প শোনাবে কিন্তু।”
“কার গল্প শোনাবো তোমায়, রাজকুমার না চাদেঁর বুড়ি।”
“নাহ, এইসব গল্প অনেকবার বলেছো। আজ তুমি আমাকে আমার “মা” এর গল্প বলবে। আচ্ছা বাপি মা ভালো ছিলো তাইনা?”
“নাহ্!!! হঠাৎ মা এর গল্প শুনবে কেনো?”
“মা এর কথা তো তেমন কিছুই জানি না।”
“তোমার মা ভালো ..না খুব ভালো ছিলো। আর ভালো মানুষ এই নিষ্ঠুর পৃথিবীতে থাকেনা।”

“অনেক বছর আগের কথা …..”
“আমি তখন অর্নাস ৩য় বর্ষের ছাত্র। আর মধুমিতা প্রথম বর্ষে ভর্তি হলো। একই ডিপার্টমেন্ট হওয়ার কারণে আমাদের প্রায় দেখা হতো কিন্তু কোনো কথা হতো না। ওকে একবার দেখলে বারবার দেখতেই ইচ্ছা হতো। সবার মতো ও ছিলো না। একদম সাধারণভাবে চলাফেরা করতো। যতোটা সাধারণভাবে থাকা যায় ও মনে হয় সেটাই চেষ্টা করতো। মধুর চোখের দিকে তাকালে মনে হতো চোখ দিয়ে হাজারো রঙিন স্বপ্ন ঝরছে। একরাশ লম্বা চুল পিঠ ছাড়িয়ে কোমড় পর্যন্ত। চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা আর কাজল। খুব চঞ্চল প্রকৃতির ছিলো কিন্তু দেখে বোঝা যাবে না। আমার খুব পছন্দ হয়েছিলো। আমি ওর আশেপাশে থাকতাম পর্যবেক্ষণ করতাম। কিভাবে ও কথা বলে কেমন করে চলে কি পছন্দ করে। ধীরে ধীরে পছন্দটা ভালোবাসায় পরিণত হয়। কিন্তু আমি তাকে বলবো কিভাবে। হয়তো আমাকে সে চেনে ই না। কারণ আমার সাথে কোনোদিন কথা হয়নি। দেখা বলতে যাওয়া আসার পথে চোখে চোখ পড়া এই আরকি। দেখতে দেখতে আমি ফাইনাল পরীক্ষা শেষ করলাম। এখন একদম ফ্রী আছি। বাসায় যেতে হবে অনেক দিন যাওয়া হয়নি। আবার মধুর কথা ভেবে যাইতে ইচ্ছা করেনা। খুব দোটানায় পড়ে গেলাম। আমার কাছের বন্ধুর সাথে ব্যাপারটা শেয়ার করলাম। নিলয় নাম ওর।”
“দেখ বন্ধু আমি যতোদূর জানি মেয়েটা খুব সেনসেটিভ। এসব প্রেম ভালোবাসা একদম পছন্দ করেনা। বাসা থেকে খুব কড়া শাষন আছে। হয়তো এর জন্যই এগুলো বিষয় নিয়ে মাথা খাটায় না।”
“তাহলে কি এভাবেই আমার ভালোবাসা গুলো পর্দার আড়ালে রেখে দেবো?”
“আমি কি বলি “হৃদয়” তুই সোজাসুজি গিয়ে বল তুই ওকে বিয়ে করতে চাস আর তোর ভালোবাসার কথা বলে দে। তারপর দেখ ও কি বলে তোকে এভাবে সংশয় নিয়ে আর কয়দিন থাকবি। বলে দে যা। আজই বলবি।”
অনেক সাহস নিয়ে ক্যাম্পাসে গেলাম আজ বলতেই হবে। খুঁজে বের করলাম ওকে বসে বসে উপন্যাস পড়ছেন ম্যাডাম। এই পড়াশোনা ছাড়া কি আর কিছুই নেই নাকি।
– কিছু বলবেন?
– কিছু না অনেক কিছু বলবো। সময় হবে তোমার?
– কেনো হবে না? বলেন কি বলবেন।
– দেখো মধু দুই বছর কিন্তু কম না। নিজের সাথে আর পেড়ে উঠছিনা। ভালোবেসে ফেলেছি তোমায়। বিয়ে করতে চাই তোমাকে। বাকিটুকু জীবন তোমার সাথে কাটাতে চাই। পাশে থাকতে চাই। অনেকটা পথ দুজনে মিলে পাড়ি দিতে চাই। দিবে কি?
– ক্রিকেটে কোন দল কে সার্পোট করেন?
– বাংলাদেশ।
– ফুটবল?
– ব্রাজিল।
– দেখুন আমার হাতে কিছু নেই। আমার বাবা মার সাথে কথা বলুন। তারা চাইলে আমি সেজেগুজে আপনাকে বিয়ে করবো। বাকিটুকু জীবন না হয় আপনার সাথে কাটিয়ে দিবো। পারবেন বাসায় গিয়ে বলতে? আমাকে চাইতে পারবেন? যদি না পারেন নিজের বাসায় ফিরে যাবেন আর আমার সামনে আসবেন না। বুঝেছেন?
– কেনো আসবো না?
– কারণ নিজেকে বার বার ভাঙতে পারবো না। হতে পারে সে শক্তি সৃষ্টিকর্তা আমাকে দেয় নি।
“হৃদি? মেয়েটা গল্প শুনতে শুনতে কখন যে ঘুমিয়ে গেছে। ওর গায়ে চাদরটা দিয়ে নিজের ঘরে এলাম। চারিপাশটা খুব নিস্তব্ধ। ঘরের মধ্যে মাঝে মাঝে কিছু একটা অনুভব করি। মনে হয় পাশে কেউ বসে অবাক দৃস্টিতে তাকিয়ে আছে। বলার চেষ্টা করছে কিন্তু বলতে পারছেনা। সে কাঁদতে চায় কিন্তু পারেনা। এমন কেনো হয় আমার? সবটাই আমার কল্পনা এ ছাড়া কিছুই না …হয়তো সত্যিই কেউ আছে যে আমাকে আগলে রাখে।”

“শিশির আমি অফিসে গেলাম আজ একটা মিটিং আছে তাড়াতাড়ি যেতে হবে। তুই একটু হৃদিকে অফিসে যাওয়ার পথে স্কুলে নামিয়ে দিস।”
“ঠিক আছে।”

‘অফিসে এসে শুনি বড় সাহেবের শরীর ভালো না। সেজন্য মিটিং আজ হবে না। যে যার মতো কাজ করছে কেউ বা বাড়ি চলে গেছে। আমার ও তেমন কাজ নেই। বাসায় গিয়ে সময় কাটানো ই ভালো। একটা ছুটি পাওয়া গেলো।”

“তুই এখন বাসায় আসলি যে। কোনো সমস্যা?”
“না তো! আজ কাজ নেই অফিসে সাথে বস ও নেই। বুঝলি আজ শুধু ছুটি আর ছুটি।”
“ওহ! শোন হৃদির মামা এসেছিলো হৃদিকে নিয়ে গেছে। তুই ফোন বাসায় ফেলে গিয়েছিলি তাই জানানো যাই নি।”
“যাক ঘুরে আসুক। আমি তো তেমন ওকে নিয়ে বাহিরে ঘুরতে যেতে পারিনা।”
“বাসার রান্না, ঘর পরিষ্কার, কাপড় ধোয়া ইত্যাদি কাজ করার জন্য একটা মাসী রাখা হয়েছে। তিনিই আমাদের এই পরিবারকে দেখভাল করেন। কাছের মানুষ হয়ে গেছে। মধু যাওয়ার পর থেকে।”

“অনেক সাহস নিয়ে মধুদের বাড়ি গিয়েছিলাম কথা বলার জন্য। আমার হাত-পা তো একদম বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে গেছিলো। বেশি কিছু করতে হয়নি খুব সহজেই তাদের মন জয় করতে পেরেছিলাম। আর আমি কি ছেলে হিসাবে খারাপ ছিলাম নাকি? যথেষ্ট ভালো ছিলাম তাদের মেয়েকে আমি ভালোই রাখবো। শেষ পর্যন্ত আমাদের বিয়ে হয়ে গেলো। নতুন জীবন নতুন সংসার।
– মধু বাসাটা কেমন হয়েছে বললে না তো?
– খুব সুন্দর! আমি ঠিক এমনটাই চেয়েছিলাম। খোলা ছাদের সাথে দুইটা রুম, একটা রুমের সাথে বেলকুনি। এখান থেকে আকাশ,পাখি,চাদঁ, বৃষ্টি সবকিছু দেখতে ছুঁতে পারবো।
– আমি তো তোমাকে দেখেই বুঝতে পারি তোমার কি চাই।
– তাই না!! খুব তো বুঝতে পারো।
– হুম। তুমি আমার জীবনে না আসলে বুঝতাম ই না ভালোবাসা কি।
– কতোটা ভালবাসা আছে আমার জন্য?
– আমার হয়তো পাহাড়ের মতো বিশাল উঁচু ভালবাসা নেই, কিন্তুু সেখানে তোমার জন্য অনেকটা গভীরতা আছে। আমার প্রতিটা স্পন্দনে তুমি আছো। সারা জীবন যেনো আমার মধুময় হয়ে থাকে।
– মধু আমার কাছে এসে জড়িয়ে ধরে বলেছিলো, “কতোটা ভালোবাসি জানি না কিন্তু তুমিই আমার পৃথিবী।”
– শোনো হৃদয় তোমাকে আজ একটা কথা বলি।
– বলো কি বলবা।
– এই যে তুমি ভার্সিটিতে আমাকে ফলো করতে সবটাই আমার জানা ছিলো। তুমি যে সেদিন আমাকে এইসব বলতে আসবা সেটাও আমি জানতাম। তোমার প্রায় সবকিছুই জানতাম শুধু ওই দুইটা জানা ছিলোনা তাই প্রশ্ন করেছিলাম। তুমি তো অবাক ই হয়েছিলে তাইনা যে এইসব কেনো এইরকম অবস্থায় জিজ্ঞেস করছি।
– তুমি কিভাবে জানতে এইসব? আর জেনেও দুরে ছিলে!!
– একজন বিশেষ কেউ আছে যে আমাকে তোমার খবর গুলো দিতো। আর আমি কেনো তোমাকে আগে বলতে যাবো? তুমি বলতে পারো না। এইটুকু কথা বলতে দুইটা বছর লাগায় দিলা।
– কে দিতো?
– শিশির বলতো। তুমি তো ওকে ও কিছু বলো নি। তোমার হাব ভাব এ বুঝতে পেরে আমাকে বলেছিলো। ও আমার প্রিয় বন্ধু তোমার ও কিন্তু।
– আমারও মানে? আমিতো প্রথম নাম শুনলাম তার।
– আসলে কি জানো বিয়ের পর তোমার সব বুদ্ধি আয়োডিনের মতো উবে গেছে।
– গেছেই তো মধুর ভালোবাসার উত্তাপে। এবার বলো শিশির কোন মহান ব্যাক্তি?
– নিলয় ….ওকে আমি শিশির বলেই ডাকি। ওইটা ওর ডাক নাম। কেমন দিলাম তোমাকে বলো?
– ভালোই দিয়েছো।
– হা ….হা …হা …হা …হা।

“আমাদের জীবন খুব সুন্দরভাবেই কাটছিলো। যেমনটা আমি চেয়েছিলাম ঠিক তেমনটাই। প্রতি মাসে তিনটা করে উপন্যাস কিনে দিতাম। মধু বই পড়তে খুব ভালোবাসে। ছবি তুলতে পছন্দ করতো। ওর আর আমার ছবি দিয়ে শোবার ঘরের দেওয়ালে একটা ক্যানভাস তৈরী করেছিলো। বিভিন্ন মুহূর্তের তোলা ছবিগুলো দিয়ে। আর বলতো আমি না থাকলে কখনোই তোমার মনে হবে না আমি নেই। প্রচন্ড গান শুনতে ভালোবাসতো। গানের ব্যাপারে যদি একটুও খারাপ কথা বলতাম তাহলে আমার ১২ টা না ১৮ টা বাজিয়ে দিতো।”

“হঠাৎ জানতে পারলাম আমাদের মাঝে একজন নতুন কেউ আসছে। সারা ঘরময় শুধু খুশি খুশি! শুরু হয়ে গেলো আমাদের নাম নিবার্চন করা। ছেলে হলে কি নাম হবে মেয়ে হলে কি নাম রাখবে। অবশেষে ঠিক হলো নাম ….যদি মেয়ে হয় তাহলে আমাদের দুজনের নামের সংমিশ্রণে হবে হৃদিতা আর ছেলে হয় তাহলে মৃন্ময়।”
“মধু ভেতরে আছে আমি বাহিরে অস্থিরভাবে পায়চারী করছি। ঈশ্বর যেনো ভালো থাকে আমার মধুকে ভালো রেখো।”

“প্রায় ঘন্টাখানেক পর নার্স এসে বললো, “হৃদয় সাহেব আপনার হৃদিতা কে দেখে আসুন।” “ধন্যবাদ জানিয়ে দৌড়ে চলে গেলাম কেবিনে। একটা ফুলের মতো শিশু। মায়া জড়ানো দুটো চোখ। কি পিচ্চি পিচ্চি দুইটা হাত। দেবীর মতো।”

– তাহলে হৃদিতা ই আসলো।
– তুমি খুশি হয়নি?
– আমি তো খুব খুশি। তুমি ভালো আছো তো, কোনো অসুবিধা হচ্ছে নাতো?
– নাহ আমি ভালো আছি। চিন্তা করো না। বাসায় বাবা মা কে জানিয়েছো?
– না …. জানাচ্ছি এখনই। শোনো মৃন্ময় না হয় কিছুদিন পর আসুক।
– হৃদয় …তুমিও না একটা ……!

হৃদিতার যখন ঠিক দুইবছর বয়স তখনই সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেলো। আমার সাজানো জীবন শেষ হয়ে গেলো। মধুর ব্লাড ক্যান্সার হয়ে দাড়ালো তার কারণ। হাতে ছিলো কিছু মাত্র সময়। ঘনিয়ে আসে শেষ মুহূর্ত। দুইটা কথা বলেছিলো সে … “নিজেকে কখনো কষ্ট দিবে না আর আমার প্রিয় জিনিস গুলো আগলে রাখবে …হৃদিতাকে দেখে রাখবে।” তারপর সব নিরব হয়ে গেলো। যে ঘরময় ছিলো হাসির কোলাহল আজ সে ঘর নিশ্চুপ। আর কোনো চেচাঁমেচি নেই, অভিমান নেই। সব ফাঁকা।

– হৃদয়, সব সময় ঘরে কি করিস। চল ছাদে যাই। অনেকদিন হলো একসাথে আড্ডা দেওয়া হয়না।
– দুজনে খোলা আকাশের নিচে, রোদ পড়ে গেছে। আবহাওয়াটাই অনেক সুন্দর। আসলে এই শহরটাই সুন্দর। প্রিয়জনের প্রিয় শহর।
– হৃদয়,মধুর কথা মনে পড়ছে তাইনা? এমনটা যে হবে আমার কল্পনার বাহিরে।
– আমার শুধু ভার্সিটির প্রথম দিন এর কথাগুলো মনে হয় যেমন দূর থেকে দেখতাম এখনো তেমনটাই দেখছি। ওর দেওয়া সব কথাই আমি রেখেছি। ও চেয়েছিলো আমি যেনো নিজেকে কষ্ট না দেই। কখনো কষ্ট দেয়নি নিজেকে। সবসময় হাসিখুশি থেকেছি। ওর প্রিয় জিনিসগুলো আগলে রেখেছি নষ্ট হতে দেয়নি। গল্পের বই, ছবির ক্যানভাস, ইয়ারফোন, খাতা এমনকি সিলেট থেকে ওর প্রিয় রাজশাহী শহরে চলে এসেছি। তুই ওর প্রিয় বন্ধু ছিলি তোকে ও কাছে এনে রেখেছি। আর হৃদিতার ওপর তো ছায়ার মতো আছি।
– আমি বুঝতে পারছি তোর মনের অবস্থা। সবই বিধাতার খেলা। তুই কখনো পারবি না এ নিয়ম আটকাতে।
– মধু খুব অভিমানী ছিলো মাঝে মাঝে ই বলতো সময় কিন্তু খুব খারাপ হঠাৎ সব পাল্টিয়ে দিবে তখন বুঝবা।
– আমি কিন্তু আমার কথা রেখেছি। মধু রাখতে পারলো না। বলেছিলো আমি যদি ওর বাসায় বিয়ের কথা বলতে পারি ওকে চেয়ে নিতে পারি তাহলে বাকিটুকু জীবন আমার সাথে কাটিয়ে দিবে। কোথায় তুমি? এখন কেনো আমাকে একা একা পার করতে হচ্ছে।
মধু তোমাকে ছাড়া এ রাজ অপূর্ণ লাগে। বড্ড একা মনে হয় ..খুব।

সম্পর্কিত পোস্ট

পূনর্জন্ম

জুয়াইরিয়া জেসমিন অর্পি . কলেজ থেকে ফিরেই পিঠের ব্যাগটা বিছানায় ছুড়ে ফেললো অন্বেষা। তারপর পড়ার টেবিলের কাছে গিয়ে চেয়ার টেনে নিয়ে ধপ করে বসে দুই হাত দিয়ে মাথাটা চেপে ধরলো।প্রচণ্ড মেজাজ খারাপ ওর। আজ ওদের সেমিস্টার ফাইনালের রেজাল্ট দিয়েছে। একদমই ভালো করেনি সে। যদিও শুরু...

অনুভূতি

অনুভূতি

লেখা: মুন্নি রহমান চারদিকে ফজরের আজানের সুমধুর ধ্বনি ভেসে আসছে। বাইরে এখনো আবছা অন্ধকার। তড়িঘড়ি করে বিছানা ছাড়লো মালা। ঘরের কাজ সেরে বের হতে হবে ফুল কিনতে। তাড়াতাড়ি না গেলে ভালো ফুল পাওয়া যায় না আর ফুল তরতাজা না হলে কেউ কিনতে চায় না। মাথার ওপরে তপ্ত রোদ যেন...

অসাধারণ বাবা

অসাধারণ বাবা

লেখক:সাজেদ আল শাফি বাসায় আসলাম প্রায় চার মাস পর। বাবা অসুস্থ খুব।তা নাহলে হয়তো আরও পরে আসতে হতো।গাড়ি ভাড়া লাগে ছয়শো পঁচিশ টাকা।এই টাকাটা রুমমেটের কাছ থেকে ধার নিয়েছি।তার কাছে এই পর্যন্ত দশ হাজার টাকা ঋণ হয়েছে।বলি চাকরি হলেই দিয়ে দিব। পড়াশোনা শেষ করে দুই বছর...

০ Comments

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *