অদৃশ্য বন্ধন
প্রকাশিত: নভেম্বর ২০, ২০১৮
লেখকঃ

 61 বার দেখা হয়েছে

এই লেখক এর আরও লেখা পড়ুনঃ

গল্প : অদৃশ্য বাঁধন
(১)
আজ অনুর বিয়ে। যে অনুকে ঘিরে আমার সকল কল্পনা-জল্পনা সেই অনুই আজ কনে সেজে বসে আছে মণ্ডপে। কী অদ্ভুত সুন্দর দেখাচ্ছে মেয়েটাকে!
কতবার চেয়েছি মেয়েটাকে এক নজর শাড়ি পরে দেখতে। একবার তো নিজের ইচ্ছে দমাতে না পেরে চিরকুট লিখেই বসলাম ‘তোকে শাড়ি পরে খুব দেখতে ইচ্ছে করছে’। জানি না তুই চিরকুটটা পেয়েছিলি কিনা, তবে তুই সেদিন শাড়ি পরেছিলি না জন্য কতই না মন খারাপ হয়েছিল আমার। পরে অবশ্য নিজেকে প্রবোধ দিয়েছিলাম এই বলে, যে তুই চিরকুটটা পাসনি। আচ্ছা তুই কি সত্যি সেদিন চিরকুটটা পেয়েছিলি না? নাকি খুব যত্ন করে এড়িয়ে গেছিলি আমায়?
জানিস অনু আজ তোকে ভীষণ সুন্দর দেখাচ্ছে। ইচ্ছে করছে শুধু তোকেই দুচোখ ভরে দেখতে। কিন্তু তোকে দেখার সেই অধিকার তো আমার নেই। তোকে দেখা যে আমার জন্য নিষিদ্ধ। কেননা তুই তো আর আমার জন্য সাজিসনি। তাহলে কীভাবে অন্যের জিনিসে ভাগ বসাই বল?
(২)
– তপু, এই তপু। কখন থেকে ডাকছি শুনতে পাচ্ছিস না নাকি?
– হ্যাঁ, হ্যাঁ মা বলো। শুনছি তো।
– কোন জগতে থাকিস বুঝি না বাপু। তোর খালা তোকে খুজঁতে খুজঁতে হয়রান হয়ে যাচ্ছে। আর তুই কিনা এখানে দাঁড়িয়ে মেয়ে দেখে বেড়াচ্ছিস! যা শিগগির খালার কাছে।
– খালা কেন খুঁজছে আমায়?
– অদ্ভুত কথা বলছিস তো তুই! তুই কি ভুলে গেছিস আজ অনুর বিয়ে? সবকিছু দেখার জন্য কে আছে বল তো আমরা ছাড়া। দুলাভাইয়েরও তো বয়স হয়েছে নাকি। মেয়ের বিয়ের এতো চাপ কি তিনি একলা নিতে পারেন।
– আজ অনুর বিয়ে। এটা কি ভোলা যায়। আমি যাচ্ছি খালার কাছে।
(৩)
– কীগো ঘষেটি বেগম, মুখ এমন প্যাচার মতো করে বসে আছ কেন? মেয়ের বিয়েই তো হচ্ছে। কুরবানী তো আর হচ্ছে না।
– বাজে বকিস না তো। আমার কিনা টেনশনে হাত-পা জমে যাচ্ছে, আর তুই আছিস ঠাট্টা নিয়ে।
– আচ্ছা সরি। ভুল হয়ে গেছে আমার। এখন বলো আমায় খুঁজছিলে কেন?
– কেন খুঁজি বুঝিস না তুই? আমার কী আর পাঁচ-দশটা ছেলে-মেয়ে আছে যে সব দায়-দায়িত্ব তাদের উপর দিয়ে নিশ্চিন্ত থাকবো। তোকে তো আগেই বলেছি সব দায়িত্ব তোর। নিজের মানুষ ভেবে সবকিছু একটু সামলালেই পারিস।
– ওহ, এই ব্যাপার। আমি ভাবলাম, আমি তোমার মেয়েকে নিয়ে পালাবো সেই ভয়ে তুমি বুঝি আমায় চোখে চোখে রাখছ।
– মজা করিস না তো। বাইরে যেয়ে দেখ বরপক্ষ কতদূর।
– আচ্ছা যাচ্ছি। তা হিটলার সাহেব কোথায়? উনাকে তো দেখতে পাচ্ছি না।
– হিটলার আবার কে?
– কেন তোমার বর।
– তপু…
– ওকে ওকে যাচ্ছি।
(৪)
পৃথিবীটা বড়ই রহস্যময়। যেখানে আজ কিনা আমার দরজা বন্ধ করে বসে শোক দিবস পালন করার কথা, আর সেখানেই কিনা আমার উপর এসে পড়েছে সব দায়-দায়িত্ব। জানি না এর আগে কারো সাথে এমনটা ঘটেছে কিনা। চোখের সামনে প্রেয়সীর বিয়ে হয়ে যাচ্ছে, অথচ শান্তি মতো যে একটু কাঁদব সেই উপায়ও নেই। প্রকৃতি ভীষণভাবে খেলছে আমাকে নিয়ে। সে যেন এক অদ্ভুত রহস্যময় খেলা।
.
– তপু, এই তপু বরপক্ষ এসে গেছে। যা শিগগির বরকে গাড়ি থেকে নামা। আর নামানোর সময় বরের হাতে এই আংটিটা পরিয়ে দিবি বুঝলি?
– মা এসব না করলে হয় না? আমার এসব ভালো লাগছে না।
– তোর ভালো লাগতে হবেও না। যা বলেছি তাই কর। অযথা বাজে বকে সময় নষ্ট করিস নাতো। ওদিকে অনেক কাজ পড়ে আছে। আমি গেলাম।
.
মাথাটা কেমন ভন ভন করছে। হাত-পা যেন অবশ হয়ে আসছে। আমি সর্বস্ব দিয়েও যেন সামনের দিকে এগোতে পারছি না। কেন আমার সাথে এমন হচ্ছে? আর কত?
(৫)
কে যেন হাত ধরে টেনে বরপক্ষের সামনে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে আমায়। নিজের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করছি মুখটা হাসি হাসি রাখার। জানি না কতটা ঠিকঠাক অভিনয় করতে পারছি।
অনিচ্ছা সত্ত্বেও বরের হাত এখন আমার হাতের ভেতরে। খুব করে ইচ্ছে করছে হাতজোড় করে বলতে, জানো তো ভাই আমি না অনুকে ভীষণ ভালোবাসি ভীষণ। অনুকে প্লিজ ভিক্ষা দেবে আমায়? বিশ্বাস করো একটুও কষ্ট দেব না। খুব যত্ন করে রাখবো নিজের কাছে।
না, আমার মুখ দিয়ে কেন জানি কোনো শব্দই বের হচ্ছে না। তাই সৌজন্যতা দেখিয়ে বলতেও পারছি না, ভেতরে চলুন সবাই।
নাহ, এক মুহূর্তও আর এখানে থাকা ঠিক হবে না। আমার লুকানো ব্যথা কারো সামনে প্রকাশ পাওয়ার আগেই সবার চোখের আড়ালে চলে যেতে হবে।
(৬)
অনুর বিয়ে হয়ে গেছে সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ। আমার সবার সাথে থাকা হয়নি।
বর এনে বুঝিয়ে দিয়েছি খালুর হাতে। আমার দায়িত্ব মোটামুটি শেষ।
মেয়ে বিদায় নিয়ে সবার মধ্যে হুলুস্থুল কাণ্ড। একমাত্র মেয়ে বলে কথা। একবার খালার মাথায় পানি ঢালতে হচ্ছে তো আরেকবার খালুর মাথায়। আর আমি তো হয়ে গেছি জড় পদার্থ। শুধু জায়গা দখল করে পড়ে আছি।
দরজা বন্ধ দেখে মা কয়বার ডাকতে এসেছে। বলেছি মাথা ব্যাথা করছে। মা তাই কোনো কথা না বাড়িয়েই চলে গেছে। আর জোর করার প্রয়োজন মনে করেনি।
.
রাতটা কীভাবে কেটে গেছে জানি না। সকাল যে হয়েছে বুঝতে পারছি। তবে কয়টা বাজে সেটা বলা মুশকিল। ঘড়িটা যে কোথায় রেখেছি। মা বারবার দরজায় কড়া নাড়ছে।
– তপু, এই তপু ঘুম কি ভাংলো তোর। শিগগির দরজাটা খোল তো বাবা।
– খুলছি।
– “তোর নামে একটা চিঠি এসেছে। কে পাঠিয়েছে ঠিক বুঝতে পারছি না। নাম ঠিকানাও লেখা নেই। দেখ তো তুই বুঝতে পারিস কিনা” বলেই চিঠিটা হাতে দিয়ে মা বিছানার উপর বসে পড়লো।
– এর আগে হয়তো চিঠির কথা শুনলে বেশ অবাক হতাম। কারণ আমার মতো মানুষের কাছে কেউ চিঠি লিখবে ব্যাপারটা হাস্যকর। তবে কেন যেন আজ অবাক লাগছে না। মনে হচ্ছে এটাই স্বাভাবিক। তাই বেশি কিছু না ভেবে চিঠিটা খুলে পড়া শুরু করলাম।
.
প্রিয়… (তপু লিখবো না তপু ভাই লিখবো ঠিক বুঝতে পারছি না। তাই জায়গাটা ফাঁকাই রাখলাম। চিঠিটা পড়ার পর নিশ্চয় বুঝতে পারবেন আমি কে তাই আর পরিচয় দিতে চাইছি না।)
জানেন একসময় স্বপ্ন দেখতাম পঙ্খিরাজ ঘোড়ায় করে আমার স্বপ্নের রাজকুমার আমাকে নিয়ে দূরদেশে পাড়ি জমাবে। অদ্ভুত হলেও সত্যি সেই স্বপ্নের রাজকুমার হিসেবে আপনার মুখটাই বারবার চোখে ভেসে উঠতো। আমি জানতাম আপনি আমাকে পছন্দ করতেন। অবশ্য সেটা কী শুধুই পছন্দ ছিল নাকি তার থেকে বেশি কিছু ছিল তা আমি জানি না। জানেন আমার শাড়ি পরতে মোটেও ভালো লাগতো না। কিন্তু আপনার খুব ইচ্ছে ছিল আমাকে শাড়ি পরে দেখার। মুখে তো কখনো বলতে পারবেন না, তাই চিরকুট দিয়ে সেটা প্রকাশ করলেন। খুব বোকা ছিলেন আপনি। ভেবেছিলেন আমি হয়তো বুঝতেই পারবো না চিরকুটটা কে লিখেছে। কিন্তু আমি যে আপনার হাতের লেখা খুব ভালো করেই চিনি তা হয়তো আপনি জানেনই না।
এখন হয়তো মনে প্রশ্ন জাগছে চিরকুটটা পেয়েও কেন আমি সেদিন শাড়ি পরিনি? আমার শাড়ি পরতে ভালো লাগে না তাই?
আসলে সত্যি কথা বলতে, আমি আপনাকে প্রশ্রয় দিতে চাইনি। আমি যদি সেদিন শাড়ি পরতাম তবে সেটা হতো আপনাকে প্রশ্রয় দেওয়া। মানুষ কাকে প্রশ্রয় দেয় জানেন?
যাকে মানুষ পছন্দ করে তাকেই প্রশ্রয় দেয়। অবশ্য সেদিক থেকে বলতে গেলে আপনাকে অপছন্দ করি জন্য প্রশ্রয় দেইনি তেমনটা ভাবাও ভুল। কী অদ্ভুত ব্যাপার দেখেন আমি আপনাকে অপছন্দ করি তেমনটা নয়, আবার প্রশ্রয় দিতেও চাইছি না। ব্যাপারটা আপনার কাছে রহস্যময় মনে হতে পারে। অবশ্য কিছু জিনিস রহস্য থাকায় ভালো।
আপনাকে একটা প্রশ্ন করি, অবশ্য এটা ধাঁধাঁও বলতে পারেন।
‘এক সারিতে তিনটি প্রানীর অবস্থান। এদের মধ্যে দুটি প্রানী একে অপরকে খুব ভালোবাসে। কিন্তু তারা পরস্পরকে ভালোবাসলেও কোনোদিনও এক হতে পারবে না তৃতীয় প্রানীটির জন্য। কেননা তৃতীয় প্রানীটি যে ভীষণ ভয়ংকর। আচ্ছা আপনি কি বলতে পারবেন এই তৃতীয় প্রানীটি আসলে কী? এটাই আপনার কাছে আমার রহস্য রইলো। যেদিন এই রহস্যের মানে উদঘাটন করতে পারবেন সেদিনই আপনার কাছে সবকিছু পরিষ্কার হবে।
আপনাকে চিঠি লেখার খুব ইচ্ছে থাকলেও কখনো হয়ে ওঠেনি। অবশ্য আমি ভাবতেও পারিনি আপনাকে এইভাবে চিঠি লিখবো। বাসর ঘরে বসে কেউ যে কাউকে এইভাবে চিঠি লিখে সেটা বোধহয় আজই প্রথম ঘটছে। আপনাকে শেষবারের মতো দেখার খুব ইচ্ছে ছিল। কিন্তু আপনি তো আর দেখায় দিলেন না। অবশ্য দেখা না দিয়ে ভালোই করেছেন। অযথা মায়া বাড়িয়ে কী লাভ বলুন।
আপনার জীবন খুব খুব সুন্দর হোক সেই কামনায় করি। ভালো থাকবেন।
আর হ্যাঁ, একটা কথা। খালা কিন্তু সবকিছুই জানে। কীভাবে জানে সেটা নাহয় রহস্যই থাক।
ইতি
..
চিঠিটা আবার আগের মতো ভাজ করে বুক পকেটে রেখে দিলাম। আচ্ছা এখন কি আমার কান্না করা উচিত নাকি হাসা উচিত? ইদানিং সবকিছু নিয়ে বড্ড দোটানায় পড়ে যাই। চোখের কোনেও কিছু একটার উপস্থিতি টের পাচ্ছি। নাহ, সেটা ঝরে পরার আগেই মুছে ফেলতে হবে। কেননা ছেলেদের যে কাঁদতে নেই।
মা এখনো ঠিক আগের জায়গাতেই বসে আছে। আচ্ছা মা কি এখন জিঙ্গেস করবে চিঠিটা কার ছিল?
যদি বলি, অনুর ছিল। তাহলে কি মা অবাক হবে? নাকি স্বাভাবিক ভঙ্গিতেই বলবে? ওহ আচ্ছা।
(৭)
– তপু একটা গল্প শুনবি?
আমি জানি মায়ের গল্প মানে শুধু গল্প না। মায়ের গল্পের মধ্যে লুকিয়ে থাকে অনেক রহস্য। যা বরাবরই মা গল্প আকারে প্রকাশ করে। এর আগেও মা গল্পের ছলে অনেক কিছুই জানিয়েছে। অবশ্য তার মধ্যে বেশিরভাগই ছিল আমার জন্য আনন্দের সংবাদ।
যেমন- একবার আমি পরীক্ষার রেজাল্টের টেনশনে ঘর বন্দি হয়ে বসে ছিলাম। রেজাল্ট যে অলরেডি পাবলিশড হয়ে গেছে সেই খেয়ালটা পর্যন্ত নেই। তখন মা কাছে এসে বসে আমার মাথাটা কোলের উপর নিয়ে বললো, খোকা একটা গল্প শুনবি? আমি বললাম, হ্যাঁ বলো শুনছি। মা গল্প বলা শুরু করলো-
এক দেশে ছিল এক রাণী আর রাজপুত্র। রাজপুত্রটার পরীক্ষার রেজাল্টের টেনশনে কাহিল অবস্থা। যদিও রাজপুত্রটা ছাত্র হিসেবে বেজায় খারাপ তবু সে অবিশ্বাস্যভাবে A+ পেয়ে গেল। আচ্ছা বল তো সেই রাজপুত্রটা কে?
(৮)
– কি রে গল্প শুনবি না?
মায়ের গল্প মানে সেই রাণী আর রাজপুত্রের গল্প। মায়ের গল্পে কখনোই রাজা থাকে না। কেন থাকে না সেটা অবশ্য কখনো জানতেও ইচ্ছে করেনি। আমি শুধু ভাবছি মা এখন যে গল্পটা বলবে সেটা কি আমার জন্য আনন্দের হবে নাকি কষ্টের? অবশ্য আমার জীবনে সত্যি কি আর কোনো আনন্দের কিছু বাকি আছে?
– আমি জানি তপু তুই বিষন্নতায় ভুগছিস। অবশ্য সেই কারণটা যে আমার অজানা তেমনটাও নয়। তবে কী জানিস আঘাতের উপর আঘাত দিলে সে আঘাতটা নাকি কম লাগে।
.
আমার এতোক্ষণে খুব ভালো করেই বোঝা হয়ে গেছে মা এখন যে গল্পটা বলবে সেটা আমার জন্য মোটেও সুখকর হবে না।
.
মা গল্প বলা শুরু করেছে। আমি বরাবরের মতো মায়ের কোলে মাথা রেখে মনোযোগ সহকারে গল্প শোনার চেষ্টা করছি।
– এক দেশে ছিল এক রাজা আর রাণী। তারা পরস্পরকে খুব ভালোবাসতো। তাই পালিয়ে বিয়েও করেছিল। বেশ সুখেই কাটছিল তাদের দিন। কিন্তু সুখ তো সবার কপালে বেশিদিন টিকে না। তাই এক দুঃসংবাদ তাদের জীবনে কালবৈশাখী ঝড় হয়ে হানা দিল। সেই ঝড়ে রাজা রাণীকে ছেড়ে অনত্র ঘর বাঁধলো। সেই কালবৈশাখীর নাম কী জানিস?
”রাণী নাকি কোনোদিনও ‘মা’ হতে পারবে না”এতোটুকু বলেই মা থামলো। মায়ের চোখ কেমন যেন ছলছল করছে। আর আমার মনে ভীড় করেছে হাজারো প্রশ্নেরা। কারণ আমি জানি এই গল্পের রাণী আর কেউ নয়, বরং আমার মা নিজেই।
(৯)
কেন যেন মায়ের কোলের উপর থেকে মাথা তুলে উঠে পড়েছি। পৃথিবীটা বড়ই অচেনা লাগছে। সবকিছু কেমন যেন এলোমেলো হয়ে গেছে। আমি কে? এই প্রশ্নটাই যেন বারবার মাথার ভেতর আঘাত হানছে। আমি আর এক মুহূর্তও কোনোদিকে না তাকিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে পড়েছি। বের হওয়ার সময় একটা কথায় বারবার কানে বাজছিল, ‘ জন্ম না দিলে কি মা হওয়া যায় না? তুইও কি তোর বাবার মতো আমাকে ছেড়ে চলে যাবি?’
.
‘বাবা’ শব্দটা শুনলে কেন জানি খুব হাসি পায় আমার। পাশাপাশি খুব ঘৃণাও হয়। যে তার সন্তানকে পিতৃপরিচয়হীন করে রাস্তায় ছুড়ে ফেলতে পারে, সে কি কারো বাবা হওয়ার যোগ্যতা রাখে? আর যে কারো অক্ষমতার সুযোগ নিয়ে তাকে ছেড়ে চলে যেতে পারে সেই বা কীভাবে কারো বাবা হতে পারে? পৃথিবীর সব পুরুষের হয়তো বাবা হওয়ার সক্ষমতা থাকতে পারে। কিন্তু সবার বাবা হওয়ার যোগ্যতা থাকে না।
(১০)
রাস্তায় হাঁটছি আর অনুর কথা ভাবছি। অনুর সাথে দেখা করতে ভীষণ ইচ্ছে করছে। খুব বলতে ইচ্ছে করছে, জানিস অনু আমি তোর ধাঁধাঁর রহস্য উদঘাটন করতে পেরেছি।
এক সারিতে তিনটি প্রাণীর অবস্থান। তার মধ্যে দুটি প্রাণী একে অপরকে খুব ভালোবাসে। তারা পরস্পরকে ভালোবাসলেও কোনোদিনও এক হতে পারবে না তৃতীয় প্রাণীটির জন্য। কেননা তৃতীয় প্রাণীটি যে ভীষণ ভয়ংকর। সেই তৃতীয় প্রাণীটি আসলে কী জানিস?
সেই তৃতীয় প্রাণীটি আর কেউ নয়। তৃতীয় প্রাণীটি হলো মানুষের জীবনের কঠিন বাস্তবতা। যা শুধু মানুষকে কষ্টই দিয়ে যায়।
রাস্তার ছেলেকে রাস্তা থেকে তুলে এনে বাড়িতে আশ্রয় দিয়ে সহানুভূতি হয়তো প্রদর্শন করা যায়। কিন্তু সারাজীবন ভালোবেসে মনের ভেতর জায়গা দিয়ে আগলে রাখা যায় না। এটাই বাস্তবতা।
.
রাস্তায় হাঁটছি আর ভাবছি কিছু সত্য অজানা থাকলে ক্ষতি তো কিছু ছিল না। তাহলে কেন এতো অপ্রিয় সত্যের মুখোমুখি হয়ে কষ্ট পেতে হয়? আমি তো এই সত্যির মুখোমুখি কখনো হতে চাইনি। তাহলে আমার সাথেই কেন এমন হচ্ছে?
মনে মনে নিজেকেই নিজে প্রশ্ন করছি বারবার, আমি আসলে কে?
বারবারই উত্তর আসছে, ”I am nobody”.
(সমাপ্ত)

সম্পর্কিত পোস্ট

পূনর্জন্ম

জুয়াইরিয়া জেসমিন অর্পি . কলেজ থেকে ফিরেই পিঠের ব্যাগটা বিছানায় ছুড়ে ফেললো অন্বেষা। তারপর পড়ার টেবিলের কাছে গিয়ে চেয়ার টেনে নিয়ে ধপ করে বসে দুই হাত দিয়ে মাথাটা চেপে ধরলো।প্রচণ্ড মেজাজ খারাপ ওর। আজ ওদের সেমিস্টার ফাইনালের রেজাল্ট দিয়েছে। একদমই ভালো করেনি সে। যদিও শুরু...

অনুভূতি

অনুভূতি

লেখা: মুন্নি রহমান চারদিকে ফজরের আজানের সুমধুর ধ্বনি ভেসে আসছে। বাইরে এখনো আবছা অন্ধকার। তড়িঘড়ি করে বিছানা ছাড়লো মালা। ঘরের কাজ সেরে বের হতে হবে ফুল কিনতে। তাড়াতাড়ি না গেলে ভালো ফুল পাওয়া যায় না আর ফুল তরতাজা না হলে কেউ কিনতে চায় না। মাথার ওপরে তপ্ত রোদ যেন...

অসাধারণ বাবা

অসাধারণ বাবা

লেখক:সাজেদ আল শাফি বাসায় আসলাম প্রায় চার মাস পর। বাবা অসুস্থ খুব।তা নাহলে হয়তো আরও পরে আসতে হতো।গাড়ি ভাড়া লাগে ছয়শো পঁচিশ টাকা।এই টাকাটা রুমমেটের কাছ থেকে ধার নিয়েছি।তার কাছে এই পর্যন্ত দশ হাজার টাকা ঋণ হয়েছে।বলি চাকরি হলেই দিয়ে দিব। পড়াশোনা শেষ করে দুই বছর...

৫ Comments

  1. Md Rahim Miah

    শাড়ি পরে দেখতে-শাড়ি পরানোতে দেখতে
    শিগগির -শীঘ্ররী
    ভাংলো ভাঙলো
    করি-করার
    কী-কি
    ওঠেনি -উঠেনি
    কী-কি
    কোনেও-কোণেও
    ‘জিজ্ঞেস’ এইভাবে হবে

    এতোক্ষণে-এতক্ষণে
    এতোটুকু-এতটুকু
    শেষে হলেও মনে হচ্ছে শেষ হয়নি। আরেকটু লিখলে ভালো হত। বাস্তবতা বড় অদ্ভুত, কষ্টের উপর কষ্টে মুখামুখি হতে হল তপুর। বানানে ভুল ছিল বলে দিলাম দেখে নিবেন। আর কি ও কী এর ব্যবহার নিয়মটা হয়তো আপনে জানেন না। কি ও কী লেখার ক্ষেত্রে নিয়ম আছে। তবে পড়ে ভালোই লেগেছে, শুভ কামনা রইল।

    Reply
  2. অচেনা আমি

    আসসালামু আলাইকুম। গল্প প্রসঙ্গে কিছু কথা :
    গল্পে কিছু ভুল থাকলেও লেখনী খুব ভালো ছিল। গল্পের প্লটও খুব ভালো। বাস্তবতা সত্যি বড্ড কঠিন। তবু আমাদের তা মেনে নিয়েই চলতে হয়। কিছুই করার থাকে না। গল্পটা ভিন্ন রকমের ছিল বেশ। পড়তে তাই একটুও একঘেয়েমি লাগেনি। সবকিছু মিলিয়ে বেশ লেগেছে। আশা করি পরবর্তীতে এমনই অসাধারণ কিছু লেখার মাধ্যমে সবাইকে মুগ্ধ করবেন। আগামীর জন্য অনেক অনেক শুভ কামনা।

    Reply
  3. Tanjina Tania

    এমন শেষ হইয়াও হইলো না টাইপ গল্প আমার ভালো লাগলো। কিছু জিনিস পাঠক নিজে বুঝে নিলে বেশ ভালো হয়। ভালো লিখেছেন। শুভকামনা।

    Reply
  4. Halima tus sadia

    অসাধারণ লিখেছেন।
    অন্যরকম একটা গল্প পড়লাম।
    বেশ ভালো লাগলো।গল্পের থিমটা দারুণ হইছে।
    শব্দচয়নেও ভালো।
    মনোমুগ্ধকর লেখা।
    বাস্তব জীবন বড় কঠিন।কঠিন হলেও বাস্তবতাকে মানতে হবে।কিছু করার নেই।জীবন তার নিয়মের গতিতেই চলে।
    বানানে কিছু ভুল আছে।শুধরে নিবেন।
    বানানের প্রতি যত্নশীল হবেন।
    শুভ কামনা রইলো।

    Reply
  5. সুস্মিতা শশী

    অসাধারণ ছিলো গল্পটি। চমৎকার থিম। শুভকামনা আপনার জন্য।

    Reply

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *