নারী সতীত্ব তোমার নিকট
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৮
লেখকঃ

 73 বার দেখা হয়েছে

এই লেখক এর আরও লেখা পড়ুনঃ

নারী,  সতীত্ব  তোমার নিকট আমানত স্বরুপ।

লেখা : বুনোহাঁস

,

১.
রাজিনের সাথে তানহার সম্পর্ক তিন বছর। রাজিনকে  অনেক কাঠ খড় পোড়াতে হয়েছিল তানহার মন জোগাতে। তা বলে এখন শুধু বুক ভরা শ্বাস ফেলা ছাড়া আর কিছু হবে না। এখন তানহার বেঁচে থাকার মানেই হলো রাজিন। পুরো পৃথিবী একদিকে আর রাজিন অন্য দিকে। রাজিনের মতো ছেলেই হয় না। সৃষ্টিকর্তা ঐ এক পিসই মাত্র বানিয়েছেন(যদিও এটা তানহার মনের কথা, তবুও পৃথিবীতে একই ধাঁচের একজন মাত্র মানুষ)। দুষ্টুমি, খুনসুটি, মিষ্টি মিষ্টি ঝগড়া আর অগাদ ভালোবাসা দু’জনের মাঝে। কোনো কিছুরই কমতি নেই। জীবনের সোনালী সময় পার করছে তানহা। রাজিনকে পেয়ে তার জনম যেন স্বার্থক। তো এমনই একদিন রাজিনের মনোভাব একদম পাল্টে গেল। তার সমবয়সী সব বন্ধুদের মোটামুটি কয়েক বার করে রুম ডেট হয়ে গেছে প্রেমিকার সাথে। শুধু রাজিনই একমাত্র হাফ লেডিস(বন্ধুদের মতামত)। জ্বলে পুড়ে শেষ হয়ে যাচ্ছে রাজিনের অন্তর। কী পেল তানহা কে ভালোবেসে? এমনই একদিন তানহার কাছে বায়না ধরলো রাজিন। রুম ডেট করতে হবে, তার ভালোবাসার প্রমাণ দিতে হবে। তানহা তেমন ভাবলো না। সত্যিই তো কী এমন দিয়েছে রাজিনকে! ছেলেটি এখনো পর্যন্ত তাকে ছুঁয়ে  পর্যন্ত দেখেনি। অনেক ভালো ছেলে। তার উপর তিন বছরের সম্পর্ক। রুম ডেট করাই যায়। বিয়ে তো তাকেই করবে। আর রুম ডেট করলে তানহার প্রতি রাজিনের একটু দুর্বলতা কাজ করবে(সম্পূর্ণ তানহার মনোভাব)। তানহা জিজ্ঞেস করলো রুম ঠিক করা আছে কিনা। রাজিন দুই দিন সময় চাইলো। দুই দিন পর তানহার মোবাইলে মেসেজে একটি ঠিকানা এলো। রাজিন কল করে বলে দেয় ঐ ঠিকানায় চলে আসতে বলে। বেচারি তানহা সাত পাঁচ না ভেবে সাজুগুজু করে বেরিয়ে পড়লো। মনে মনে কী যে আনন্দ! রাজিনের কোনো কু-মতলব নেই। শুধু বন্ধু মহলের কাছে হাফ লেডিস পদবীটা চাপা পড়লেই সে বাঁচে। চলে এলো সে মোক্ষম সময়। রাজিন আর তানহা হারিয়ে গেল তাদের ভালোবাসার সাগরে কোনো এক ছাদের নিচে। আহা! আজ পূর্ণতা পেল তাদের ভালোবাসা। ভাবতেই দু’জনের ঠোঁটের কোণে মৃদু মুচকি হাসি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

কোনো এক সময় রাজিনের বাবা হার্ট অ্যাটাকের সময় তাকে বললো, বাবা আমি তোর মফিজ আংকেলকে কথা দিয়েছি তার মেয়েকে ছেলের বউ করে নিয়ে আসবো। তুই বাবা তাড়াতাড়ি বিয়ের জন্য তৈরি হয়ে যা। নাহয় মরে গিয়েও আমি শান্তি পাব না। এই অবস্থায় রাজিনের কী করার আছে বলুন? নিরুপায় হয়ে বাবার পছন্দ করা মেয়েকেই বিয়ে করলো রাজিন।

২.
বিরাট বড়লোক বাবার একমাত্র সন্তান সানভি। দেখেতে মাশাল্লা, যেমন ফিগার তেমন হেয়ার স্টাইল। দক্ষিণা নায়কদের মতো সিক্স প্যাক সবে মাত্র সামান্য দেখা যায়। বাইক নিয়ে চলাফেরা করে। তো, একদিন চোখে পড়লো তাহিয়াকে। যাকে বলে লাভ এট ফার্স্ট সাইট। সানভি দুই তোড়া তাজা গোলাপ আর একটি ডায়মন্ডের রিং নিয়ে হাঁটু গেড়ে তাহিয়াকে প্রপোজ করলো। আবেগে আপ্লুত হয়ে তাহিয়া সেদিন কান্না করে দিয়েছিল। গর্বে তার বুক ফুলে যায়। এত এত সুন্দরী মেয়ে থাকতে সানভি তার প্রেমে পড়লো! খুশিতে আত্মহারা তাহিয়া মাঝে মাঝে কথা বলতে তোতলায়। এভাবে ছয় মাস চলার পর হঠাৎ একদিন সানভি দুইটা এয়ার টিকেট হাতে নিয়েতাহিয়ার সামনে হাজির হয়। তাহিয়াও রাজি হয়ে চলে যায় কক্সবাজার। নিভৃতে সময় কাটাতে। সানভি তাকে পাগলের মতো গাধা হয়ে এত ভালোবেসে কত কিছু করে, তার মন রঞ্জিত করতে সুযোগ পেয়ে তাহিয়া তিন মিনিট বোবা ছিল। সাত দিন কক্সবাজারে একান্ত সময় কাটিয়ে খুশি মনে বাড়ি ফিরতেই খবর আসে ব্যবসার জরুরী কাজে বাবার জায়গায় সানভিকে দুবাই যেতে হবে। সানভি বিদায় নিয়ে দুবাই চলে গেল তো গেল এমনভাবে গেল আর বাংলাদেশে ফিরলো না। তাদের ভালোবাসায় কাটানো কক্সবাজারে সাত দিন ইতিহাসে স্বর্ণালী বর্ণে লেখা হয়েছে গোপনে।

৩.
ভার্সিটিতে পড়ার সময় তিহানা সদ্য টিচার হয়ে জয়েন করা আফির স্যারের প্রেমে রীতিমত হাবুডুবু খাওয়া শুরু করেছে। কী করবে কী করবে ভাবতে ভাবতে একদিন চটাং করে ভালোবাসার কথা বলে ফেলে তিহানা। সে দেখতে শুনতে মাশাল্লা। আফির স্যার আর না করে থাকতে পারলেন না। দুই মাস পার হলো কোনরকম হাই হেলো করে। আফির স্যার ভাবে প্রিয়তমাকে কাছে পেতে তিনি চাইতেই পারে। মুখ ফসকে একদিন লজ্জা শরমের বালাই না করে বলেই ফেললেন তিনি। তিহানা ভাবছে টিচার মানুষ, বয়সে বড়। অনিচ্ছা প্রকাশ করলে যদি বদদোয়া দেয়। আর নুন ছাড়া যেমন তরকারী স্বাদ হয় না তেমন রোমাঞ্চ ছাড়া প্রেম হয়? তা তো সেকেলে কথা। চলতে চলতে হঠাৎ করে তারা ঠিক পৌঁছে গেল ভালোবাসার নদীতে।
এদিকে তিহানার বাবার শরীর দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। নাতী-নাতনীর মুখ দেখার আগ্রহ থাকলেও তা যেহেতু হচ্ছে না তাই মেয়ের জামাইকে নিজ নয়নে দেখে পরাণ জুড়াতে চান। তিহানা কান্নামুখো হয়ে আফিরকে সব জানালো। আফির কারণ দেখিয়ে বললো সে এখন বিয়ে করার জন্য প্রস্তুত নয়। নতুন চাকুরী সেটেল হতে সময় লাগবে। তিহানার পরিবার তার বিয়ে ঠিক করলো একজন মাদ্রাসার খতিবের সাথে। যদি ওপারে তিনি একটু সাহায্য করেন। এই আশে।
দিন শেষ তারা তিন জনের কেউই ভালোবাসার মানুষের(যার সাথে প্রেম অবৈধ)  সাথে বাকি জীবন কাটানোর সুযোগ পেল না। বিয়ে করতে হলো আরেক জনকে। অথচ তার জন্য কিছুই রাখতে পারলো না(যার সাথে প্রেম বৈধ)।
বি.দ্র.  তিনটি ঘটনাই আমার আশেপাশে ঘটে যাওয়া, বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেই।
* আরে বোকার দল, ভালোবাসার প্রমাণ যদি ছাদের নিচে গিয়ে দিতে হয় তাহলে সেরা ভালোবাসার মানুষ তো যৌনপল্লীর নারীরা।
* ভালোবাসা যদি দেহের মাঝে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে প্রেম না করে যৌনালয়ে যাও। একেকদিন একেক জনকে পাবে।

রূপ, যৌবন, টাকা-পয়সা ইত্যাদি আপনি শত চেষ্টা করেও ধরে রাখতে পারবেন না। কিন্ত সতীত্ব রক্ষা করার দায়িত্ব আপনার হাতে। প্রতিপক্ষ কেউ নেই(ধর্ষক বাদে)। আপনি চাইলে যেকোন দিকে যেকোনভাবে ব্যবহার করতে পারবেন। কিন্তু, এমন সুযোগ কাদের দেয়া হয় জানেন? যার প্রতি চরম বিশ্বাস, ভালোবাসা, আস্থা, নিশ্চয়তা থাকে যে সে মানুষটি আর যা করুক অন্তত সুযোগের অসদ্ব্যবহার করবে না। স্রষ্টা ঠিক এমনভাবেই আপনার হাতে সতীত্ব রক্ষার দায়িত্ব দিয়ে দিয়েছে! আর আপনি তার….. কী উত্তর আছে এর বিপরীতে?  এমন হাজারো লেখা প্রতিদিন লেখা হয়। চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেও পর্দা সরে না। ভুলে যাই না বলে যাওয়া আমানতের কথা। হয়তো কাল পারিবারিকভাবে বিয়ের জন্য পাত্রী দেখা হবে, কিন্তু সে বেঈমান। আমানত রাখতে পারেনি। যদি আপনার বর জানতে পারে, কীভাবে মুখ দেখাবেন? ঠিক স্বাভাবিকভাবে এই লেখা পড়ে কিছুক্ষণ ঘোরের মধ্যে থাকবেন, তারপরেই রোমাঞ্চকর কোনো সিনেমা দেখলে নিজের মধ্যে থাকা লালসার তৃপ্তি পূরণ করতে ভুলে যাবেন আপনার কাছে থাকা মহামূল্যবান আমানতের কথা।

written by: বুনোহাঁস।
বাকিহাটি, বক্সগঞ্জ, নাঙ্গলকোট, কুমিল্লা।

 

সম্পর্কিত পোস্ট

পূনর্জন্ম

জুয়াইরিয়া জেসমিন অর্পি . কলেজ থেকে ফিরেই পিঠের ব্যাগটা বিছানায় ছুড়ে ফেললো অন্বেষা। তারপর পড়ার টেবিলের কাছে গিয়ে চেয়ার টেনে নিয়ে ধপ করে বসে দুই হাত দিয়ে মাথাটা চেপে ধরলো।প্রচণ্ড মেজাজ খারাপ ওর। আজ ওদের সেমিস্টার ফাইনালের রেজাল্ট দিয়েছে। একদমই ভালো করেনি সে। যদিও শুরু...

অনুভূতি

অনুভূতি

লেখা: মুন্নি রহমান চারদিকে ফজরের আজানের সুমধুর ধ্বনি ভেসে আসছে। বাইরে এখনো আবছা অন্ধকার। তড়িঘড়ি করে বিছানা ছাড়লো মালা। ঘরের কাজ সেরে বের হতে হবে ফুল কিনতে। তাড়াতাড়ি না গেলে ভালো ফুল পাওয়া যায় না আর ফুল তরতাজা না হলে কেউ কিনতে চায় না। মাথার ওপরে তপ্ত রোদ যেন...

অসাধারণ বাবা

অসাধারণ বাবা

লেখক:সাজেদ আল শাফি বাসায় আসলাম প্রায় চার মাস পর। বাবা অসুস্থ খুব।তা নাহলে হয়তো আরও পরে আসতে হতো।গাড়ি ভাড়া লাগে ছয়শো পঁচিশ টাকা।এই টাকাটা রুমমেটের কাছ থেকে ধার নিয়েছি।তার কাছে এই পর্যন্ত দশ হাজার টাকা ঋণ হয়েছে।বলি চাকরি হলেই দিয়ে দিব। পড়াশোনা শেষ করে দুই বছর...

৯ Comments

  1. আফরোজা আক্তার ইতি

    খুবই শিক্ষামূলক এবং গুরুত্বপূর্ণ থিমের গল্প। তবে গল্পটি পড়ে গল্পের স্বাদ পেলাম না। অনেকটা ফেসবুক স্ট্যাটাসের মত লাগলো। আপনি যেকোন একটি কাহিনীকে কেন্দ্র করে গল্পের মত সাজিয়ে নিতেন তাহলে পড়তেও ও লাগতো। গল্পের থিম এবং মূল বার্তা অবশ্যই অসাধারণ। এই গল্পের থেকে অনেকেই শিক্ষাগ্রহণ করতে পারবে। এবং বিয়ের আগে অবৈধ সম্পর্কের ভয়াবহতা উপলব্ধি করতে পারবে। বেশ গুছিয়ে লেখা হয়েছে। আর বানানেও কোন ভুল পেলাম না।
    তবে শেষের কিছু উক্তিতে আপনি শুধু মেয়েদের ইঙ্গিত করেছেন। এতে ছেলে মেয়ে সমান দোষী। হয়ত কাল পারিবারিকভাবে পাত্র দেখা হবে কিন্তু সে বেইমান। আপনার স্ত্রী যদি জানতে পারে কি জবাব দিবেন তাকে?
    লেখার মূল বার্তা ভালো হলেও একপাক্ষিক হয়ে গেছে।

    Reply
    • আরাফাত তন্ময়

      আমি মূল শিক্ষাটা বুঝাতে চেয়েছি, খানিক পক্ষপাত হলেও নারী আসলেই অপরাধী অন্তত আমার কাছে। দেখে নিবেন, মূল অপরাধের প্রশ্রয় ওই নারীই আগে দেয়। আর গল্পের নামটিও ছিল ‘নারী, সতীত্ব তোমার নিকট আমানত স্বরূপ’ বুঝতেই পারছেন। আর গল্পটা এভাবেই সাজানো তাই রসটা একটু কম পেয়েছেন। সর্বোপরি শিক্ষামূলক ছিল। ধন্যবাদ আপনাকে

      Reply
  2. আখলাকুর রহমান

    কিছু ভুল তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।

    তানহা কে – তানহাকে (“কে” শব্দের সাথে বসে)

    কল করে বলে দেয় ঐ ঠিকানায় চলে আসতে বলে – বাক্যের শেষে বলে শব্দটা যোগ করা উচিৎ ছিলো না।

    দেখেতে – দেখতে

    নিয়েতাহিয়ার – নিয়ে তাহিয়ার (স্পেস হবে)

    দুবাই চলে গেল তো গেল এমনভাবে গেল আর বাংলাদেশে ফিরলো না – বাক্যের মাঝে কমা (,) ব্যবহার করা যেতো

    কোনরকম – কোনো রকম

    মাদ্রাসার খতিবের – খতিব মসজিদের হয়। মাদ্রাসার উস্তাদ লেখা যেতো।

    বাস্তব বিষয় সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন।
    শুভ কামনা রইল আপনার জন্য।

    Reply
    • আরাফাত তন্ময়

      আচ্ছা

      Reply
  3. Tasfiya Tanha jhum

    ওমন ভালবাসার খ্যাতায় আগুন দিয়েছি।প্রেম ভালবাসা করবো বিয়ের পর বরের সাথে????????

    Reply
    • আরাফাত তন্ময়

      বাঁচতে হলে ভালোবাসা দরকার জীবনে। তবে সেটা হতে হবে পবিত্র।

      Reply
  4. মাহফুজা সালওয়া

    আরাফাত,খুব সুন্দর একটা থিম নিয়ে লিখেছেন।
    বিষয় নির্বাচনে আপনি প্রশংসা পাওয়ার-ই যোগ্য।
    তবে,কিছু ত্রুটি চোখে পড়েছে, যা ইতিমধ্যে অনেকেই ধরিয়ে দিয়েছে।
    কয়েকটি বিষয়ে নজর রাখবেন —
    ১) গল্প-শব্দের শিল্প। আপনাকে শব্দ নির্বাচনে আরও সচেতন হতে হবে।
    ২)বিরামচিহ্ন ও বানানের বিষয়ে সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে।
    ৩)গল্পটা এমনভাবে লিখতে হবে,যাতে কয়েকটি বিষয় (ভূমিকা,কনভার্সেশন,বার্তা) স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় পাঠকের কাছে।

    আরাফাত তন্ময়,এটা আপনার নতুন হাতের লিখা (মনে হলো)।আশা করি,অদূর ভবিষ্যতে আমরা তন্ময়ের গল্প, তন্ময় হয়েই পড়বো!
    ❤❤❤
    অনেক অনেক দোয়া ও শুভকামনা রইল।

    Reply
  5. Md Rahim Miah

    nice

    Reply
  6. Md Rahim

    nice

    Reply

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *