নাম তার এলার্ম সরকার
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৮
লেখকঃ

 13 বার দেখা হয়েছে

এই লেখক এর আরও লেখা পড়ুনঃ

লেখক:রোকসানা রশিদ লিলি।

আজ আমি কোনো রূপকথার গল্প গাইতে আসি নি।আজ এসেছি আমার জীবনের গল্প বলতে।খানিকটা অগোছালো হলেও,ধোয়া ওঠা গরম কফির মগে চুমুক দেয়ার মতোই তাজা স্বাদ।জানি না কোথা হতে,কেমন করে সে আমায় খুজেঁ পেয়েছিল।তখন বয়স আমার সতেরো ছুই ছুই।যেমনটা হয় আরকি।আধুনিকতার ভীড়ে জীবনের খেই হারিয়ে ফেলা এক কিশোরী।পাওয়া না পাওয়ার হিসেব মেলাতে বসে চোখে সরিষা ফুল দেখা।জ্বলে ওঠার আগেই নিভু নিভু দ্বীপের মতোন।নিজেকে গুটিয়ে নিতে নিতে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছিলো আমার।কেউ বুঝতো না আমায়।কাউকে বুঝিয়ে বলতে গেলে খানিক বাদে সেও ঠাট্টা করতো আমায় নিয়ে।প্রচন্ড আশাবাদী সম্ভবনাময়ী আমি আস্তে আস্তে অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছিলাম।
দিনটা পচিঁশে জানুয়ারি।অদ্ভূদ নামের একটা ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে রিকুয়েস্ট এল।নাম তার এলার্ম সরকার।প্রথম প্রথম তো ভিষণ হাসি পেয়েছিলো।বন্ধুতালিকায় যোগ করলাম।দু/চার দিন টুকটাক বার্তা আদান প্রদান হলো।মাস পেরুতেই আমার কাছে খুব গুরত্বপূর্ন হয়ে উঠলো এলার্ম।ও অন্য সবার মতো নয়।আমার সব কথা খুব মন দিয়ে শোনে।আমার ক্যারিয়ার,আমার পড়াশোনা,আমার লক্ষ্য সবকিছুতেই ওর প্রচন্ড আগ্রহ।ঠিক যেমনটা আমি চাইতাম।দিন যত গড়াচ্ছিলো আমার চমকে যাবার মাত্রা ততটাই বাড়ছিলো।আমার কল্পনার মানুষটা কিভাবে জীবন্ত হয়ে উঠতে পারে?এলার্ম যেন আমার ধূলোমাখা সপ্নগুলোকে ঝেড়ে মুছো সাফ করে দিয়েছিলো।চিৎকার করে বলেছিলো “কাম ব্যাক অহনা” “কাম ব্যাক” ফেরাটা সহজ ছিলো না।কষ্টের তবুও আনন্দের।প্রতিটা মুহূর্ত এলার্ম আমায় ঘিরে রাখতো।উৎসাহ,যত্ন,ভালোবাসার এক অফূরন্ত সমুদ্র নিয়ে হাজির।দিনে কত মেসেজ যে আমাদের মধ্যে চালাচালি হতো তার হিসেব নেই।ওকে নিয়ে আমার কোনো অভিযোগের জায়গা ছিলো না।শুধু অভিযোগ একটাই স্বশরীরে দেখা দিতে সে নারাজ।বছর দু কেটে গেছে তবুও নাকি সঠিক সময় আসে নি।এ নিয়ে তর্কে গেলে কেমন করে যেন ও আমায় ঠিক মেনেজ করে নিতো।আমায় নিয়ন্ত্রন করার সকল ক্ষমতা ওর ছিলো।কেমন গুছিয়ে কথা বলতো।কলেজে ভালো রেজাল্ট করলে,হকিতে বা ডিবেটে ম্যাচ জিতলেই থাকতো পুরষ্কার।কুরিয়ার করে পাঠিয়ে দিতো।খুব দামি কিছু নয় বরং খুব প্রিয় কিছু।বাক্স ভর্তি লাড্ডু,রেশমি চুড়ি,হকি স্টিক,ডিবেট কম্পিটিশনের রেজিস্ট্রশন ফর্ম কিংবা জরজেটের গাঢ় নীল শাড়ি আরো কত কি।গিফটের লোভ আমার উৎসাহ আরো বাড়িয়ে দিতো।আমার কাছে জীবনের মানেই ছিলো অনেক অনেক সপ্ন আর এলার্ম।ও জানতো আমার আশেপাশের মানুষ গুলোর সাথে সম্পর্ক ভালো নয়।সবসময় খারাপ ব্যবহার করি আমি।এতদিন কিছু বলে নি এই বিষয়ে।সেদিন হঠ্যাৎ বলে উঠলো”আচ্ছা ধরো তোমার সাথে প্রতিদিন দেখা হয়,আমি তাদের মধ্যেই কেউ একজন।তুমি যদি কখনো জানতে পারো যে না বুঝেই তুমি আমার সাথে অন্যায় আচরণ করেছো,তখন তোমার কেমন লাগবে?”ওইদিনের পর থেকে আমি কারো সাথে খারাপ ব্যবহার করেছি বলে আমার মনে পড়ে না।বদলে গেছি আমি।পুরোটা।ঠিক যেমনটা চাইতাম আমি।দিনে ঘন্টা চারেক ঘুম আর বাকিটা সপ্ন জয়ের জন্য বরাদ্দ।শুধু খানিক পর পর অল্প সময়ের জন্য এলার্মের মেসেজে ডুব দেয়া।এলার্ম একটা কথা প্রায়ই বলতো “একটা অনুর্বর জমিতে তুমি হচ্ছো লাঙলের সাথে বাধা উন্মত্ত ষাড়।সপ্নগুলো হচ্ছে ভবিষতের চারাগাছ।পেছনে দাড়ানো চাষী হচ্ছি আমি।তুমি যত দৌড়বে জমি ততই উর্বর হবে।সপ্নগুলো শিকড় গেড়ে মাথা উচিয়ে দাড়াবে।” “দৌড়াও অহনা……..দৌড়াও…….আরো জোড়ে…..ক্লান্তি যেন তোমার নাগাল না পায়।”
কদিন আগে সাতাঁশ বছরে পা দিয়েছি।নটা বছর অনেক লম্বা সময়।বয়সের হিসেবে আমার সাফল্যের তালিকাটা যেকারো কাছেই ঈর্ষনীয়।তবে এমন একটা ব্যর্থতা আছে যেটা আমি মুহূর্তের জন্যও ভুলে থাকতে পারি না।আজোও এলার্ম দেখা দেয় নি।হাপিয়ে উঠেছি আমি।প্রচন্ড হাপিয়ে উঠেছি।আগে ভাবতাম ওকে ছাড়া বেঁচে থাকাই সম্ভব না।কিন্তু বহুদিন ধরে এমন আচরণ করছে যাতে আমি প্রায়ই ভাবছি ওকে ছাড়া কিচ্ছু যা আসে না আমার।যা পাবার তার চেয়ে অনেক কিছু পেয়ে গেছি আমি।তবুও বেইমান মনে হয় ওকে।মুখে যাই বলি ভেতর ভেতর তো বহুদূর ভেবেছি ওকে নিয়ে।বহুদিন হলো কথা হয় নি।আজকাল তেমন একটা মনেও পড়ে না।সফল,ব্যস্ত মানুষের জন্য সেটাই হয়তো স্বাভাবিক।
সকাল থেকে এই নিয়ে তৃতীয়বারের মতো আমার সহকারী মনে করিয়ে দিলো আমার একটা চিঠি এসেছে।এই আমলে কেউ কাউকে চিঠি লেখে?এক রাশ বিরক্তি নিয়ে চিঠিটা খুললাম।একজন অবসর প্রাপ্ত সাইকোলজিস্টের নাম দেখে কৌতুহল জাগলো।
“অহনা,
আমার মৃত্যুর পর সর্বপ্রথম এই চিঠিটা তোমার নামে পোষ্ট করা হবে,সেটাই ছিলো আমার শেষ ইচ্ছে।অথ্যাৎ তুমি যখন এই চিঠিটা পড়ছ তখন আমি বেচেঁ নেই।তোমার কাছে আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি।কারণ আমার এক্সপেরিমেন্টের শিকার তুমি।যদিও এটা তোমার জীবন বদলে দিয়েছে তবুও নিঃসন্দেহে নিষ্ঠুর এক্সপেরিমেন্ট এটা।মনোবিজ্ঞানী হিসেবে নিজের ক্ষমতা নিয়ে প্রচন্ড অহংকার ছিলো আমার।আমি প্রমান করতে চেয়েছিলাম শুধু বাস্তব জগতে নয় ভার্চুয়াল জগতেও আমি সফল এবং অপ্রতিদন্ডী।

অবসর গ্রহনের পর তোমার মতো অসংখ্য হতাশ এবং বিভিন্ন সমস্যা ভোগা মানুষকে বেছে নেই আমার এক্সপেরিমেন্টের জন্য।পুরুষ হয়েও কারো কাছে হয়ে উঠি নারী।পঞ্চান্ন বছর বয়স নিয়ে কারো জন্য পচিঁশ বছরের যুবক।এভাবে বহু কেসে সফল হয়েও আমার অপরাধবোধ দিন দিন বেড়েই চলছিলো।আমার সবচেয়ে সফল ও স্পর্শকাতর কেস ছিলে তুমি।জানতাম তোমার মুখোমুখি হলে হিতে বিপরীত হবে।আমি অন্যের মন নিয়ন্ত্রণে পটু,তাই বলে যে কখনো ক্ষণিকের জন্য হলেও নিজের মনের নিয়ন্ত্রণ হারাই নি তা কিন্তু নয়।আশা করি চিঠিটা পাবার পর তোমার কাছে সব পরিষ্কার।সুতরাং জীবনের সর্বশেষ অপূর্ণ জায়গাটা পূর্ণ করে নিয়ো।
ইতি
নূরুল হূদা।

সম্পর্কিত পোস্ট

পূনর্জন্ম

জুয়াইরিয়া জেসমিন অর্পি . কলেজ থেকে ফিরেই পিঠের ব্যাগটা বিছানায় ছুড়ে ফেললো অন্বেষা। তারপর পড়ার টেবিলের কাছে গিয়ে চেয়ার টেনে নিয়ে ধপ করে বসে দুই হাত দিয়ে মাথাটা চেপে ধরলো।প্রচণ্ড মেজাজ খারাপ ওর। আজ ওদের সেমিস্টার ফাইনালের রেজাল্ট দিয়েছে। একদমই ভালো করেনি সে। যদিও শুরু...

অনুভূতি

অনুভূতি

লেখা: মুন্নি রহমান চারদিকে ফজরের আজানের সুমধুর ধ্বনি ভেসে আসছে। বাইরে এখনো আবছা অন্ধকার। তড়িঘড়ি করে বিছানা ছাড়লো মালা। ঘরের কাজ সেরে বের হতে হবে ফুল কিনতে। তাড়াতাড়ি না গেলে ভালো ফুল পাওয়া যায় না আর ফুল তরতাজা না হলে কেউ কিনতে চায় না। মাথার ওপরে তপ্ত রোদ যেন...

অসাধারণ বাবা

অসাধারণ বাবা

লেখক:সাজেদ আল শাফি বাসায় আসলাম প্রায় চার মাস পর। বাবা অসুস্থ খুব।তা নাহলে হয়তো আরও পরে আসতে হতো।গাড়ি ভাড়া লাগে ছয়শো পঁচিশ টাকা।এই টাকাটা রুমমেটের কাছ থেকে ধার নিয়েছি।তার কাছে এই পর্যন্ত দশ হাজার টাকা ঋণ হয়েছে।বলি চাকরি হলেই দিয়ে দিব। পড়াশোনা শেষ করে দুই বছর...

৪ Comments

  1. আফরোজা আক্তার ইতি

    দারুণ চমৎকার একটা গল্প। শেষের দিকে পুরোই টুইস্টে ভরা। এছাড়াও এটি একটি শিক্ষণীয় গল্প। সোশিয়াল ওয়েবসাইটে অনেকেই সম্পর্ক গড়ে তে,অনেক সময় তা খারাপ হতে পারে অনেক সময় তা খারাপও হতে পারে। অহনার ক্ষেত্রেও ঠিক তেমনটিই ঘটেছে। অনলাইনের মাধ্যমে গড়ে ওঠা এই প্রণয় তাকে নতুন জীবন দিয়েছে, তাকে সাহায্য করেছে সকল বাধা পেরিয়ে সফলভাবে সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে, তেমনি অন্যদিকে তার পছন্দের মানুষের জায়গাটা অপূর্ণই রয়ে গেছে। খুবই সুন্দর একটি গল্প।বাস্তবতার ছোঁয়া আছে।
    বানানে অনেক ভুল আছে।লেখিকার প্রতি বানানে সচেতন হওয়ার অনুরোধ রইল।
    ধোয়া- ধোঁয়া।
    খুজেঁ- খুঁজে।
    ছুই ছুই- ছুঁই ছুঁই।
    দ্বীপের- দীপের।
    পচিঁশে- পঁচিশে।
    অদ্ভূদ- অদ্ভুত।
    ভিষণ- ভীষণ।
    গুরত্বপূর্ন- গুরুত্বপূর্ণ।
    সপ্ন- স্বপ্ন।
    মুছো- মুছে।
    নিয়ন্ত্রন- নিয়ন্ত্রণ।
    সাতাঁশ- সাতাশ।
    নটা- ন’টা।
    হাপিয়ে- হাঁপিয়ে।
    অপ্রতিদন্ডী- অপ্রতিদ্বন্দ্বী।

    Reply
  2. আখলাকুর রহমান

    ধোয়া – ধোঁয়া

    খুজেঁ – খুঁজে

    প্রচন্ড – প্রচণ্ড

    পচিঁশে – পঁচিশে

    অদ্ভূদ – অদ্ভুত

    সপ্নগুলোকে – স্বপ্নগুলোকে

    মুছো – মুছে

    মেনেজ – ম্যানেজ

    মানুষ গুলোর – মানুষগুলোর (স্পেস হবে না)

    বলে নি – বলেনি (স্পেস হবে না)

    হঠ্যাৎ – হঠাৎ

    ষাড় – ষাঁড়

    কদিন – ক’দিন

    সাতাঁশ – সাতাশ

    নটা – ন’টা

    যেকারো – যে কারো

    কিচ্ছু যা আসে – যায় আসে

    অথ্যাৎ – অর্থাৎ

    অপ্রতিদন্ডী – অপ্রতিদ্বন্দী

    লেখার হাত নতুন মনে হয়।
    বানানে যথেষ্ট দুর্বলতা ছিল।
    তবে ছিম ভালো ছিলো।
    শুভ কামনা রইল পরবর্তী লেখার জন্য।

    Reply
  3. মাহফুজা সালওয়া

    অনেক ভালো লেগেছে আপু।
    অন্যরকম একটা গল্প।
    লিখাটা অনেক গুছানো, ছিমছাম। মনে হলো যেনো,আমাকে ছুঁয়ে গেছে গল্পটা!
    তবে,বানানের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করবেন।
    আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা এবং দোয়া রইল।।।।।।????????

    Reply
  4. মাহফুজা সালওয়া

    অনেক ভালো লেগেছে আপু।
    অন্যরকম একটা গল্প।
    লিখাটা অনেক গুছানো, ছিমছাম। মনে হলো যেনো,আমাকে ছুঁয়ে গেছে গল্পটা!
    তবে,বানানের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করবেন।
    আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা এবং দোয়া রইল।।।।।।????????

    Reply

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *