মধ্যবিত্তের সততা
প্রকাশিত: নভেম্বর ২১, ২০১৮
লেখকঃ

 182 বার দেখা হয়েছে

এই লেখক এর আরও লেখা পড়ুনঃ

Π.
গল্প – মধ্যবিত্তের সততা
নীরা মাজহার
.
শুভ্র ক্লান্ত! সাততলা অফিস বিল্ডিংটির পাঁচতলা থেকে সে সিঁড়ি ভেঙ্গে নিচে এসে রাস্তায় দাঁড়িয়েছে। আজকেও অফিস বাস মিস! বামহাতের ঘড়িতে সময় দেখে সে, পাঁচটা বেজে পঞ্চাশ মিনিট। অফিস ছুটি হয় সাড়ে পাঁচটায়। বিশ মিনিট লেট করলে ঘরমুখো মানুষগুলো তার একার জন্য অপেক্ষা করবে কেন!
.
অফিস ছুটি হওয়ার পর সবাই যখন বাসায় ফিরতে তাড়াহুড়ো করে শুভ্র তখন অফিসের কেরানি বজলু মিয়াকে এক কাপ চা আনতে বলে নিজের চেয়ারটায় গা এলিয়ে দিয়ে বসে। বজলু মিয়া চা নিয়ে আসলে শুভ্র বেশ সাহেবি কায়দায় চা’য়ে চুমুক দিয়ে তৃপ্তির একটা ভাব করে। দিনের শেষ কাপ চা। বাসায় যাওয়ার পর তো মনে হয় নরকে এসে ঢুকেছে। নরকে কি আর চা পাওয়া যায়!
.
চা শেষ করে শুভ্র অফিস থেকে বের হয়। বিল্ডিং-এ লিফট থাকলেও সে লিফট ব্যবহার করে না। পাঁচতলা থেকে সিঁড়ি ভেঙ্গে নামে। তারপর দেখে অফিস বাস তাকে রেখেই চলে গিয়েছে। এটা নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। অবশ্য এসব অফিস শেষে চা খাওয়া, সিঁড়ি ভেঙ্গে নামার মত আদিখ্যেতারও যথেষ্ট কারণ আছে শুভ্রর। চা’য়ের প্রতিটি চুমুকে ও সিঁড়ির প্রতিটি ধাপে সে নিজেকে প্রশ্ন করে, ঘুষটা কেন নিতে পারলাম না?
.
শুভ্ররা তিন ভাই-বোন। শুভ্রই বড়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিজিক্সে এমএসসি করছে। ছোট ভাই পড়ে ইন্টারমিডিয়েটে। আর বোনটা ক্লাস সেভেনে। বাবা প্যারালাইজড। মা একটা প্রাইমারী স্কুলের টিচার। মায়ের একার আয়ে সংসার, বাবার চিকিৎসা আর সবার পড়ালেখার খরচ চালানো দুঃসাধ্য। শুভ্র পার্টটাইম জব করে তাই। তারপরেও অভাবের রেশ কাটে না। মা বাসায় সবসময় চিৎকার করে। এমন দুঃখের দিন সে মেনে নিতে পারে না। বাবার মাঝেও নমনীয়তা নেই। নিজের অপারগতা ঢাকতেই যেন সে ছেলেমেয়েকে অকর্মণ্য প্রমাণ করতে ব্যস্ত। অসুস্থ একটা পরিবেশ। শুভ্রর দমবন্ধ হয়ে আসে।
.
ভালবাসা যা একটু অবশিষ্ট আছে তা ওই দুই ভাইবোনের মাঝেই। মা-বাবা তো আজকাল অনেক দূরের মানুষ। ভালবাসাকে আঁকড়ে ধরে সব কিছু ছেড়ে আসা দুইটি মানুষের মাঝে কিভাবে এত দূরত্ব সৃষ্টি হতে পারে তা শুভ্র ভেবে পায় না। অপুর সামনে টেস্ট পরীক্ষা। সারাদিন বইয়ে মুখ গুঁজে থাকে। আর অর্পির তো দেখাই পাওয়া যায় না। মা স্কুল, টিউশনি নিয়ে ব্যস্ত। বাসার টুকটাক কাজ তো অর্পিকেই সামলাতে হয় পড়া শেষে। তারপরেও মা এসেই অর্পিকে বকতে শুরু করে কিছু উল্টাপাল্টা দেখলেই। অর্পির মলিন মুখটা দেখে খুব কষ্ট হয় শুভ্রর। অফিসে যাওয়ার সময় স্কুলগামী কিশোরীদের বিশ্বজয়ী স্বপ্ন উপচে পড়া মুখগুলো দেখলে মা-বাবার উপর অনেক ক্ষোভ জন্মায় শুভ্রর। এত বড় পৃথিবীতে বেছে বেছে তাদের জীবনটাই কি এমন হতে হবে!
.
অফিস থেকে ফিরে ফ্রেস হয়ে নিজের রুমের দরজা লাগিয়ে বসে আছে শুভ্র। প্রতিদিনের মত দরজার ওপাশ থেকে বাবার কথার পিঠে মায়ের তীক্ষ্ণ গলার আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। মনটা তেতো হয়ে ওঠে শুভ্রর। ইচ্ছে হয় সব ছেড়ে চলে যায় কোথাও!
এমন সময় অপু আসে রুমে। দুঃখী দুঃখী মুখটায় আজ চিন্তার ছাপ স্পষ্ট। অপুকে দেখে শুভ্র নড়েচড়ে বসে। জিজ্ঞেস করে, কি রে, কিছু বলবি? আর্দ্র কণ্ঠে জবাব দেয় অপু, ভাইয়া, আমার রেজিস্ট্রেশন ফি লাগবে। আম্মুর কাছে নাকি টাকা নাই! নিজের খালি পকেটের কথা চিন্তা করে শুভ্র। সামান্য বেতনের প্রায় পুরো টাকাটাই তো চলে যায় বাবার চিকিৎসার জন্য তোলা লোনের কিস্তি দিয়ে। ভাইবোনের শখ তো দূরের কথা, প্রয়োজনই বা সে মিটাবে কিভাবে!
অফিসের কিছু সিক্রেট ইনফরমেশনের জন্য রফিক সাহেবের অফার করা চকচকে এক হাজার টাকার নোটের বাণ্ডিলটা চোখে ভাসে তার। এই একটা বাণ্ডিলই তাকে অনেক সমস্যার সমাধান করে দেবে। কিন্তু বিবেকের সাথে যুদ্ধ করে বারবার ওপথ থেকে ফিরে আসে সৎ শুভ্র।
.
পরেরদিন অফিসের লাঞ্চ টাইমের কিছু সময় আগে আবার আসে রফিক সাহেব। রফিক সাহেবকে দেখেই ভ্রু কুঁচকে ফেলে শুভ্র। তেলতেলে স্বভাবের এই মানুষটিকে বড্ড অপছন্দ করে সে। অফিসের এমন কোনো মানুষ নেই যাকে সে টাকা খাইয়ে স্বার্থ হাসিল করেনি। শুধু শুভ্রের সাথেই পেরে ওঠেনি। তাই শুভ্রের কাছে এসে তাকে নানান কুবুদ্ধিতে বিপথে নেওয়া এখন তার একমাত্র মিশন।
আজকে এসেও সে তার স্বভাবসুলভ তেলতেলে হাসিটি দিয়ে জিজ্ঞেস করেন, শুভ্র সাহেব, আপনাকে আজকে তো অনেক টায়ার্ড লাগছে। বাসায় কোনো ঝামেলা চলছে নাকি? আপনার ভাইয়ের সামনে এক্সাম শুনলাম? শুভ্র উত্তর দেয় না। বেশ বিরক্তির ভাব নিয়ে তাকিয়ে থাকে রফিক সাহেবের দিকে। তা অবশ্য রফিক সাহেব আমলে নেন না। হাসি হাসি ভাবটা বজায় রেখেই আবার বলেন, সংসার তো আমিও করি ভাই। আমারও জনা সাতেক সদস্যের পরিবার একহাতে সামলাতে হয়। তাই বলছিলাম কি…।
হাত উঁচু করে শুভ্র থামিয়ে দেয় তাকে। গাম্ভীর্য ভাব নিয়ে আমি লাঞ্চ করতে যাচ্ছি বলেই উঠে পরে সে। হনহন করে চলে যায় অফিসের ক্যান্টিনে।
.
তবে আজ মনে হয় আর পিছু না ছাড়ার প্ল্যান নিয়েই এসেছেন রফিক সাহেব। লাঞ্চ শেষে নিজের ডেস্কে এসে শুভ্র বসতে না বসতেই আবার এসে হাজির হয় সে। শুভ্রর কুঁচকানো ভ্রু জোড়া উপেক্ষা করে হাত কচলাতে কচলাতে বলে, মাত্র কয়েকটা ইনফরমেশনই তো শুভ্র সাহেব। দিয়ে দেন না! এতে আপনারও যেমন লাভ আমারও তেমন লাভ। কেও কিচ্ছু জানবে না।
এরপর গোপন কোনো কথা বলছে এমন ভঙ্গী করে শুভ্রর আরও কাছে এসে ফিসফিস করে বলে, এক বাণ্ডিল না, দুই বাণ্ডিল দেব। রাজি হয়ে যান না ভাই!
শুভ্র রাগে কাঁপতে থাকে। প্রায় ধমকের সুরেই সে চলে যেতে বলে সিনিয়র কলিগকে।
শুভ্রর প্রত্যাখ্যানে অবাক হয় রফিক সাহেব। এত টাকার লোভ সামলানোর মত মানুষও আছে দুনিয়ায়!
কিছুটা ক্ষোভেই চলে যায় সে।
.
সেদিন অফিস শেষেও বজলু মিয়াকে চা আনতে বলে শুভ্র। চেয়ারে গা এলিয়ে ভাবতে বসে। ঘুষের রাজ্যে নীতি দেখিয়ে সে কি সত্যি ভাল আছে?
.
রোজকার দিনের মত নরক দেখার প্রস্তুতি নিয়েই বাসায় ঢোকে শুভ্র।
কিন্তু আজকের পরিবেশ একদমই অন্যরকম। কেমন একটা থমথমে ভাব। বাবা বিছানায় আজ চুপচাপই শুয়ে আছে। মা’কে দেখা যাচ্ছে না। বিষয়টা অবাক করলেও খুব একটা মাথা ঘামায় না শুভ্র এসব নিয়ে। তার চোখে রাজ্যের ক্লান্তি। কোনোমতে ড্রেস চেঞ্জ করে ফ্রেস হয়ে এসে বিছানায় শুয়ে পরে সে।
.
কখন ঘুমিয়ে পরেছিল তা নিজেও জানে না। দরজায় নক করার শব্দে তার ঘুম ভাঙ্গে। একটু পর ঘরে আসে অপু। তার চেহারা আজকে আরও বেশি বিধ্বস্ত। কিছু একটা হয়েছে আঁচ করে শুভ্র। চেহারা বিধ্বস্ত হলেও বেশ উত্তেজনা দেখা যায় অপুর চোখে। জানিস ভাইয়া, আম্মু আজকে বাসায় ফিরে অর্পিকে অনেক পিটিয়েছে!বাসায় চাল ছিল না। আম্মুকে আগে কেন জানায়নি অর্পি- এই তার অপরাধ। আম্মু খুব রেগেছে। শুভ্র অবাক হয়। আম্মু কি দিনদিন মানসিক রোগী হয়ে যাচ্ছে নাকি! সংসারের এসব ঝামেলা এই বাচ্চা মেয়ে কিভাবে সামলাবে?
তার চেয়েও বড় আরেকটি সংবাদ ছিল। অপু জানায় আম্মু নাকি এটাও বলেছে যে সে শীঘ্রই অর্পির বিয়ের ব্যবস্থা করবে। এত ঝামেলার মাঝে অর্পি নাকি একটা বোঝা! এই বোঝা নামাতে পারলেই নাকি সে অনেকটা হালকা হবে।
শুভ্রের অবাক হওয়ার পালা সীমা ছাড়িয়ে যায়।
তার মা যথেষ্ট শিক্ষিত। এমন শিক্ষিত একজন মা হয়েও এত বাচ্চা একটা মেয়ের বিয়ের কথা ভাবল কি করে! আর মেয়েটা যে বোঝা এমন চিন্তাই বা তার মাথায় কি করে আসে!
অপুর দিশেহারা মুখটা দেখে কষ্ট হয় শুভ্রর। অপুর হাতটা ধরে মৃদু চাপ দেয় সে, মন খারাপ করিস না অপু। আমি আছি তো, সব ঠিক করে ফেলব।
.
অর্পি তার বড় ভাইয়ের সামনে খুব কম আসে। কেন সেটা সে নিজেও জানে না। ছোটবেলায় শুভ্র অনেক গল্প শোনাত তাকে। গল্প শোনার লোভেই সে শুভ্রর অন্ধভক্ত ছিল। হাসি খুশি গল্প বলা ভাইটি আজ সংসারের চাপে কতটা বদলে গেছে!
শুভ্রর এই গম্ভীর, চিন্তিত মুখটি ঠিক সহ্য করতে পারে না অর্পি। তাইতো এত দূরত্ব।
.
শুভ্র বসে বসে অপুর বলে যাওয়া কথাগুলো ভাবছিল। এমন সময় দরজা হালকা খুলে গেল আবার। চুলে লাল ফিতে বাধা আদুরে একটা কিশোরীর মুখ উঁকি দিল। চোখের দৃষ্টি বিভ্রান্ত, যেন নানা দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছে। একরাশ জড়তা নিয়ে সে রুমে ঢুকলো। নিচু গলায় বলল, ভাইয়া, আম্মু কী বলেছে শুনেছো? না, অর্পির গলা কাঁপছে না, কোনো ক্ষোভ বা হাহাকারের ছাপ নেই তার কণ্ঠে। আছে ব্যর্থতার আক্ষেপ। শুভ্রের মনে পরে পিএসসিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাওয়ার পর এই মুখটিই কত স্বপ্নে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল।
বুকের ভেতর মোচর দিয়ে ওঠে শুভ্রর। সবার ব্যর্থতার গ্লানি আর স্বপ্নভঙ্গের জন্য কেন যেন নিজেকেই দায়ী মনে হয় তার।
শুভ্র বসা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে অর্পির মাথায় হাত রাখে। নরম স্বরে বলে, আম্মু যা বলেছে তা রাগের মাথায় বলেছে রে বুড়ি। আমি থাকতে তোর স্বপ্নগুলো নিজের ইচ্ছেতেও ভাঙ্গতে পারবেনা। পরম ভরসার স্পর্শে ভাইকে জড়িয়ে ধরে বহুদিন পর আবার হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে অর্পি।
.
পরদিন সকালে অফিসের বাসে চেপে অফিসে যাচ্ছে শুভ্র। মাথায় নানা চিন্তা। মা’র জন্য আজকাল ওর খুব মন কেমন কেমন যেন করে। মা অনেক বদলে গেছে, আগের সাথে বর্তমানের মা’কে একটুও মেলানো যায় না। মা হয়ত এত প্রেশার আর নিতে পারছে না। সামনের মাসে বেতনের টাকা পেলেই মা’কে একজন ভাল সাইক্রিয়াটিস্টের কাছে নিয়ে যাবে ভাবে শুভ্র। কিন্তু পরক্ষণেই মা’কে সাইক্রিয়াটিস্ট দেখাতে গেলে যে লোনের কিস্তির টাকায় ঘাটতি হবে তা ভেবে দীর্ঘশ্বাস ফেলে।
.
কাজ করার ফাঁকেফাঁকে শুভ্র খেয়াল করল যে প্রায় সবাই-ই কেমন যেন নিচু গলায় ফুসুরফাসুর গুজুরগুজুর করছে। চাপা উত্তেজনা সবার মাঝে। একটু ব্যতিক্রমী হওয়ায় অফিসের সব তথাকথিত হেল্পফুল কলিগরাই তাকে এড়িয়ে চলে। শুভ্র এসব নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে নিজের কাজে মন দেয়।
কিছুক্ষণ পরই হাজির হয় রফিক সাহেব। তার তেল চিটচিটে মুখে আজ বেশ কাঠিন্য খেলা করছে। দৃঢ় গলায় সে বলে, শুভ্র সাহেব, আপনি কি চান বাইরের কেও এসে আমাদের অফিসের মানুষকে টাকা খাইয়ে মূল্যবান ডকুমেন্টারি নিয়ে রাতারাতি বড়লোক হয়ে যাক?এরচেয়ে টাকাগুলো আমাদের মাঝে থাকলেই কি ভাল হয় না? ভেবে দেখুন, যদি চান তো টাকা আরেকটু বাড়িয়ে দেব। শুধু একটা পাসওয়ার্ডই তো!
.
উত্তরটা শোনার জন্য লোকটির আগ্রহ ভরা মুখে একটা চড় মারতে ইচ্ছা হয় শুভ্রর। কঠিন কিছু কথা শোনানোর জন্য মনে মনে প্রস্তুত হয় সে।
এইসময় ফোন বেজে ওঠে তার। রিসিভ করার পর অপরিচিত একজন জানায় যে অপু রোড এক্সিডেন্ট করেছে, অবস্থা মরণাপন্ন।
মাথাটা চক্কর দিয়ে ওঠে শুভ্রর। খবরটির আকস্মিকতায় কিছুক্ষণ ঝিম মেরে বসে থাকে সে। তারপর কেমন ঘোর লাগা কণ্ঠে বলে, রফিক সাহেব, আপনার ফোন নম্বরটা দেবেন। পাসওয়ার্ডটা মেসেজ করে দেব।
চকচক করে ওঠে রফিক সাহেবের চোখ। ভাড়াটে গুণ্ডাগুলো কাজ তাহলে ঠিকঠাক ভাবেই করেছে।
শুভ্রের মাথাটা যেন শূন্য হয়ে গেছে। সেখানে শুধু একটা কথাই ঘুরপাক খাচ্ছে, মধ্যবিত্ত জীবন, তুই আমাকে ভাল থাকতে দিলি না।

সম্পর্কিত পোস্ট

পূনর্জন্ম

জুয়াইরিয়া জেসমিন অর্পি . কলেজ থেকে ফিরেই পিঠের ব্যাগটা বিছানায় ছুড়ে ফেললো অন্বেষা। তারপর পড়ার টেবিলের কাছে গিয়ে চেয়ার টেনে নিয়ে ধপ করে বসে দুই হাত দিয়ে মাথাটা চেপে ধরলো।প্রচণ্ড মেজাজ খারাপ ওর। আজ ওদের সেমিস্টার ফাইনালের রেজাল্ট দিয়েছে। একদমই ভালো করেনি সে। যদিও শুরু...

অনুভূতি

অনুভূতি

লেখা: মুন্নি রহমান চারদিকে ফজরের আজানের সুমধুর ধ্বনি ভেসে আসছে। বাইরে এখনো আবছা অন্ধকার। তড়িঘড়ি করে বিছানা ছাড়লো মালা। ঘরের কাজ সেরে বের হতে হবে ফুল কিনতে। তাড়াতাড়ি না গেলে ভালো ফুল পাওয়া যায় না আর ফুল তরতাজা না হলে কেউ কিনতে চায় না। মাথার ওপরে তপ্ত রোদ যেন...

অসাধারণ বাবা

অসাধারণ বাবা

লেখক:সাজেদ আল শাফি বাসায় আসলাম প্রায় চার মাস পর। বাবা অসুস্থ খুব।তা নাহলে হয়তো আরও পরে আসতে হতো।গাড়ি ভাড়া লাগে ছয়শো পঁচিশ টাকা।এই টাকাটা রুমমেটের কাছ থেকে ধার নিয়েছি।তার কাছে এই পর্যন্ত দশ হাজার টাকা ঋণ হয়েছে।বলি চাকরি হলেই দিয়ে দিব। পড়াশোনা শেষ করে দুই বছর...

৬ Comments

  1. সুস্মিতা শশী

    মধ্যবিত্ত লোকদের মানসম্মান আর সততা ছাড়া আর কিইবা আছে। কিন্তু ওইতো মধ্যবিত্তদের সততাও একসময় চাপা পড়ে যায় প্রয়োজনের তাগিদে। ভালো লেগেছে।

    Reply
  2. Md Rahim Miah

    সিঁড়ি ভেঙে -সিঁড়ি দিয়ে(৩জায়গাতে এইভাবেই হবে)
    ফ্রেস-ফ্রেশ
    ওঠে-উঠে
    ফি-ফ্রি
    কিচ্ছু-কিছু
    ফ্রেস-ফ্রেশ
    ‘ভাঙতে’ এইভাবে হবে
    পারবেনা-পারবে না

    সত্যিই তাহলে শুভ্র তাঁর সততা বিক্রি করে দিল। এই গল্পের মাঝে তাহলে আমরা কি শিখলাম অনেক কিছু। তবে শুভ্র যেহেতু নিজের সততা টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দিয়েছে, গল্পের সাথে ‘মধ্যবিত্তের সততা’ নামটা মানায় না। সততা যেখানে টাকার বিনিময়ে বিক্রি হয়ে যায়, সেইখানে মধ্যবিত্তের সততা থাকে বা কীভাবে? কিন্তু কিছু করার নেই বাস্তব বড় কঠিন। টাকার অভাব যখন বেশি দেখা দেয়, তখন মানুষের আর কিছু খবর থাকে না, যা গল্পের মাঝে বুঝানো হয়েছে। অনেক ভালো ছিল গল্পটা। বানানে ভুলের মাত্রাও কম, শুভ কামনা রইল।

    Reply
  3. Tanjina Tania

    মধ্যবিত্তরাই সৎ থাকে, অসৎ তো হয়…. দারুণ কন্টেন্টে লেখা গল্পটা। শুভকামনা।

    Reply
  4. Halima tus sadia

    চমৎকার লিখেছেন।
    বর্ণনাভঙ্গি ভালোই।
    টাকার বিনিময়ে যদি কেউ সততা বিক্রি করে ফেলে তাহলে সততা থাকলো কই।
    শত দুঃখে থাকলেও নিজের সততাকে কখনো হারাতে নেই।
    তবে অভাব শব্দটা আছে বলে কতো মানুষের সততা হারাতে হচ্ছে।কি আর করা।অভাবের কষ্ট, বড় কষ্ট।
    শুভ কামনা রইলো।
    আরও ভালো লিখবেন।

    Reply
  5. অচেনা আমি

    আসসালামু আলাইকুম। গল্প প্রসঙ্গে কিছু কথা :
    গল্পটা শুরুর দিকে ভালোই চলছিল। কিন্তু শেষের দিকে এসে কেমন যেন ছিটকে গেলো। সততা কখনো টাকার কাছে বিক্রি হতে পারে না। আর যা টাকার বিনিময়ে বিক্রি হয় তাকে আর যাইহোক সততা বলা যায় না। আর মধ্যবিত্ত মানুষই প্রকৃতপক্ষে সৎ হয়ে থাকে। কিন্তু এই গল্পে তার উল্টো ঘটেছে। গল্পটা অন্যভাবে শেষ করে শিক্ষণীয় গল্পে রূপ দেওয়া যেত, পড়তে ভালোও লাগতো।
    চিহ্নের ব্যবহারে আরও সচেতন হতে হবে।
    কি / কী এর ব্যবহারে কিছুটা সমস্যা রয়েছে।
    অন্যান্য ভুলগুলো :
    সাততলা – সাত তলা
    বামহাতের – বাম হাতের
    কিভাবে – কীভাবে
    এত – এতো
    গুঁজে – গুজে
    ফ্রেস – ফ্রেশ
    জনা সাতেক – জন সাতেক / সাত জন
    মত – মতো
    শুয়ে পরে – শুয়ে পড়ে
    পরেছিল – পড়েছিল
    স্বপ্নভঙ্গের – স্বপ্ন ভঙ্গের
    পারবেনা – পারবে না
    ফাঁকেফাঁকে – ফাঁকে ফাঁকে
    এইসময় -এই সময়

    লেখনী বেশ ভালো ছিল। আগামীতে নিশ্চয়ই আরও ভালো হবে।
    শুভ কামনা।

    Reply
  6. Nafis Intehab Nazmul

    বাস্তবতার সাথে মিল আছে। টাকার বিনিময়ে সততা বিক্রি হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
    গল্পের নাম টার সাথে কেমন অমিল।
    বানান…
    মনে পরে~ মনে পড়ে

    Reply

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *