মিয়ার পুকুর
প্রকাশিত: মে ২২, ২০১৮
লেখকঃ vickycherry05

 37 বার দেখা হয়েছে

এই লেখক এর আরও লেখা পড়ুনঃ vickycherry05

লেখকঃ
রাকিব
খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম
(মে – ২০১৮)
……………

রাতের বেলা তো দূরের কথা দিনের বেলাও কেউ পুকুর পাড়ের রাস্তা দিয়ে হাটেনা।
পুকুরটার চারদিকে বাঁশ ঝাড় আর নানা রকম গাছ গাছালি ভরা। গাছের পাতা পরে পানিগুলা কেমন কালো রুপ ধারন করছে। পুকুরপাড় চার পাশে ভেঙ্গে পরে রয়েছে চারটে সিঁড়ি। গাছ গাছালি থাকায় সবসময় অন্ধকার থাকে পথটা।
কিন্তু এই তো তিন মাস আগের কথা।
পুকুরটা ছিল মতি মিয়ার। তার বৌ এর ইচ্ছায় পুকুরটা তৈরি করেছিল।
বাড়ির পাশেই ছিল পুকুরটা।
মতি মিয়া ছিল মুক্তিযোদ্ধা আলমাস উদ্দিন এর একমাত্র ছেলে। আলমাস উদ্দিন মারা যায় মুক্তিযুদ্ধে।
তারপর থেকেই তার ছেলে এই বাড়ি আর সামানে জায়গা নিয়েই থাকত। বাড়ির পাশের জায়গাটা খালি ছিল বলেই বৌ এর কথা মত পুকুর তৈরি করেছে।
এক বছর হয়নি মতি মিয়া ফাতেমা কে বিয়ে করে। পাশের গ্রামে বাড়ি ফাতেমার। বিকেল বেলা পুকুরের সিঁড়িতে বসে দুজনে গল্প করত, মাঝেমাঝে রাতে দুজনে নৌকা করে ঘুরত পুকুরে।
পুকুরপাড় জুরে সারাদিন ছিল মানুষের আনাগোনা। সকাল থেকে শুরু করে সন্ধ্যে পর্যন্ত বাচ্চাদের লাফালাফি, পাড়ার বৌদের সকালে হাড়ি পাতিল ধোয়া, কাপড় কাচা, রান্নার পানি নেওয়া, সব কিছু চলত এই পুকরে। বিকালবেলা বড়শী দিয়ে মাছ ধরা, পুকুরপাড় বসে আড্ডা চলত। বলতে গেলে পুকুরটা যেন একটা মেলার মাঠ।
কিন্তু একদিন সব শেষ হয়ে গেল। প্রতিদিনের মত সকাল বেলা পাড়ার বৌ’রা এসেছে কাপড় চোপড় আর থালাবাসন নিয়ে। কিন্ত ঐদিন সকালে সবাই যেন এক পলকে থমকে যায়।
পুরো গ্রাম একদম নিস্তব্দ হয়ে যায়। গ্রামের সবাই পুকুরপাড় জুরে দাড়িয়ে আছে। সবাই শুধু চেয়ে চেয়ে দেখছে।
পুকুরের সবুজ পানি রক্তে লাল হয়ে আছে।
সবাই তখন বুঝতে পারলও না কি হচ্ছে এসব।
৮ টার দিকে পুলিশ এসে লাশ দুটো পাড়ে উঠায়। গ্রামের সবাই অবাক। এ যে মতি আর ফাতেমার হাত পা বাধা গলা কাটা লাশ।
সবাই হতবাক।
ইতিমধ্যে পুলিশ জিজ্ঞাসা শুরু করে দিয়েছে কিন্তু কেউ ভয়ে মুখ খুলছিল না।
পুলিশ সবাইকে বারবার জিজ্ঞাসা করছিল যে, এই বিষয়ে কেউ কিছু যানে কিনা। পুলিশ কে সাহায্য করার জন্য বারবার বলছিল পুলিশ।
পুলিশ অফিসারটা বলতে লাগল : এমন কিসের ভয় যে আপনারা কেউ কোন কথা বলছেন না।
সবাই শুধু নিরব হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল।
এভাবে চলল প্রায় দুই ঘণ্টা।
তারপর লোকজনের ভীর ঠেলে এক বুড়ি পুলিশ এর কাছে মুখ খুলল…
বুড়ি : দেখ বাবা আমরা গরিব মানুষ, গ্রামের সবাই এক সাথে মিলেমিশে থাকতে চাই।
তাই বলে আমাদের যেমন কোন শত্রু নাই তেমন কিন্তু না। আমাগ যেমন শত্রু আছে তেমনি মতিরও শত্রু আছে। আর সেইডা হইল রাজাকারের পোলা আক্কাইয়া।
যুদ্ধের পর থাইক্কা রাজাকার আবুইল্লার মতির বাড়ি আর জমি খান দখল করতে চাইছে। কিন্তু আবুইল্লা মইরা যাওয়ার কারণে তা পারে নাই ।
কিন্তু তার পোলা আক্কাইসা বাপটার মতো হারামি। গরিবের হক মাইরা খায়।
আর মতি যখন পাশের গ্রামের ফাতেমারে বিয়া করে তখন থেইক্কা যেন মতির উপর আরো চড়াও হয় আক্কাস। মতির বৌ এর উপর কু নজর দিছিল।
এই নিয়া কয়েকবার সালিশ হইছে কিন্তু একটা কথা আছে না জোর যার মুল্লুক তার। এইতো গতকাল সকালে আক্কাইসা হাটে যাওয়ার সময় পথে ফাতেমারে পাইয়া নাকি বলে বিয়ার প্রস্তাব দিছিল। আর হেইল্লাইজ্ঞা ফাতেমা আক্কাইসারে একটা থাপ্পড় মারছিল। তারপর আক্কাইসা ফাতেমার কইছিল যে ফাতেমারে আর মতি রে দেইক্কা লইব।
আর হেলিগা মনে হয় কাইল রাইতে মতিরে আর ওর বৌ রে মাইরা পুকুরে হালাইয়া গেছে।
তারপর পুলিশ আক্কাস এর বাড়িতে গিয়ে দেখে আক্কাস পালিয়ে গেছে।
তিন দিন পর আক্কাস ধরা পরে।
কিন্তু কোন লাভ নাই। ১৫ দিন পর জেল থাইক্কা বের হইয়া এলাকায় নেতার মত ঘুইরা বেড়ায়।
এমন অনেক মুক্তিযোদ্ধার পরিবারসহ নিরিহ হাজারও মানুষ আছে যারা সমাজের কিছু উচ্চবিত্ত মানুষ দ্বারা নির্যাতিত। যারা সবসময় নিরিহ মানুষকে নির্যাতন করে।
এই কি আমাদের স্বাধীন দেশ যার জন্য ত্রিশ লাখ মানুষ শহিদ হয়েছে?
এটাই কি স্বাধীনতা?

সম্পর্কিত পোস্ট

পূনর্জন্ম

জুয়াইরিয়া জেসমিন অর্পি . কলেজ থেকে ফিরেই পিঠের ব্যাগটা বিছানায় ছুড়ে ফেললো অন্বেষা। তারপর পড়ার টেবিলের কাছে গিয়ে চেয়ার টেনে নিয়ে ধপ করে বসে দুই হাত দিয়ে মাথাটা চেপে ধরলো।প্রচণ্ড মেজাজ খারাপ ওর। আজ ওদের সেমিস্টার ফাইনালের রেজাল্ট দিয়েছে। একদমই ভালো করেনি সে। যদিও শুরু...

অনুভূতি

অনুভূতি

লেখা: মুন্নি রহমান চারদিকে ফজরের আজানের সুমধুর ধ্বনি ভেসে আসছে। বাইরে এখনো আবছা অন্ধকার। তড়িঘড়ি করে বিছানা ছাড়লো মালা। ঘরের কাজ সেরে বের হতে হবে ফুল কিনতে। তাড়াতাড়ি না গেলে ভালো ফুল পাওয়া যায় না আর ফুল তরতাজা না হলে কেউ কিনতে চায় না। মাথার ওপরে তপ্ত রোদ যেন...

অসাধারণ বাবা

অসাধারণ বাবা

লেখক:সাজেদ আল শাফি বাসায় আসলাম প্রায় চার মাস পর। বাবা অসুস্থ খুব।তা নাহলে হয়তো আরও পরে আসতে হতো।গাড়ি ভাড়া লাগে ছয়শো পঁচিশ টাকা।এই টাকাটা রুমমেটের কাছ থেকে ধার নিয়েছি।তার কাছে এই পর্যন্ত দশ হাজার টাকা ঋণ হয়েছে।বলি চাকরি হলেই দিয়ে দিব। পড়াশোনা শেষ করে দুই বছর...

০ Comments

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *