মান অভিমান
প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৮
লেখকঃ

 173 বার দেখা হয়েছে

এই লেখক এর আরও লেখা পড়ুনঃ

Taslima Amrin

ভার্সিটিতে প্রায় একটা ছেলে দেখতাম
খুব শান্ত
সৃষ্ট
তবে সারাক্ষণ মিটিং মিছিল সাধারণ
ছাত্রদের জন্য
নিজের প্রাণ পণ দিয়ে তাদের প্রবলেম
সল্ভ
করা যার কাজ।
তবে একদম সাদামাটা জীবনধারন।
একদিন ভার্সিটিতে একটা হট্টগোল
হয়েছিল। বাসায়
কিভাবে যাবো ঠিক বুঝতে পারছিলাম
না। যাক
ছেলেটার হেল্পে সেদিন রিক্সা করে
বাসায়
আসলাম।
তারপর থেকে একটু,একটু করে রোজ
ক্যামপাসে দেখা হতো কথা হতো।
আপনার নামটা জানা হলো না….?
আমি মিলি….!
আপনার নামটাও তো জানা হলো না?
আমি মুনির…!
তো পড়াশোনা কতোদূর আপনার…?
এইতো এবার মাস্টার্সের পাটকাঠ চুকিয়ে
দিবো
কোনরকম?
আপনার কোন ইয়ার চলছে এখন…?
এইতো অনার্স ৩য় বর্ষের পরীক্ষা
শেষকরলাম।
বাইদ্যাওয়ে চলুন না কোথাও গিয়ে একটু
বসি?
আপনার কোন প্রবলেম না থাকলে?
হ্যাঁ চলুন কোন প্রবলেম নেই আমার।
এভাবে প্রতিদিন ক্যান্টিনে
খাওয়া,ধাওয়া করা টিএসসিতে
ঘোরাঘুরি কখনো ফুচকা, কখনো চা, কফি
খেতাম।
রিক্সা করে ঢাকাতে ঘোরাঘুরি করতাম।
আমাদের সমর্পকটা ধীরে,ধীরে আপনি
থেকে তুমিতে এসে দাঁড়িয়েছে। আমি
ওকে
নিয়ে প্রায়ই রেস্টুরেন্টে খেতে
যেতাম।
ও আমাকে প্রায়ই বলতো দেখো আমি তো
তোমাকে তেমন কিছু খাওয়াতে পারি
না।আর আমি যা
ইনকাম করি তার ৫০% সাধারণ
শিক্ষার্থীর পিছনে ব্যয়
করি।
আমিওকে প্রায়ই বলতাম তোমার এই
কাজটা আমার
ভাল লাগে।আজকাল এরকম কয়জন বা
ভাবে।
আমরা এক হলেই দুজনের পরিবারের কথা
বলতাম।
আমি মুনিরকে বলেছিলাম আমার মা নেই
আমার যখন ৫বছর বয়স তখন আমার মা মারা
যায়। তারপর
আমার বাবা আবার আরেকটা বিয়ে করে।
যদিও আমার
জন্য করেছিলো। আমার সত মা আমাকে
অনেক
আদর করে।একটা ভাইও আছে এইটে পড়ে
আমাকে চোখে হারায়। কিন্তু আমার কষ্ট
একটাই
আমার বাবা কোনদিন আমাকে সময়
দেয়নি।
মুনির বলেছিলো আমার বাবা,একজন
রিটায়ার প্রাইমারী
টিচার আর মা গৃহিণী। বড় ভাই বিয়ে
করে ঘরজামাই
হয়ে গেছে।বিদেশে থাকে।আমার ছোট্ট
দুটো ভাইবোন আছে ওরাই আমার সব।ওদের
গ্রামের কথা, মানুষের কথা।
এভাবে ওর গল্প আমার গল্প চলতো। দেখা
হলে
কথা শেষ হতো না। আর আমার খুব হিংসে
হতো।
কবে ওর বাড়ি আর গ্রামে যাবো।
একদিন আমি আর মুনির রিক্সা করে
যাচ্ছিলাম। আমার বাবা
সেটা দেখে ফেলে। বাসায় আসার পর
আমাকে
রুমে তালা দিয়ে রাখে। আমার জন্য
বাবার মান,সম্মান
রইল না,ছোট মা আর ছোট্ট ভাইটি
অনেক আকুতি মিনতি করেছিলো কিন্তু
বাবার মন
গলেনি। তারপর রাতে আমার ভাইয়ের
সুবাদে আমি
বাসা থেকে পালিয়ে আসি।
সোজা মুনিরের হলে এসে ওকে ফোন
দেই।
মুনির তো অবাক এতো রাতে তুমি
এনিপ্রবলেম।
আমি ওকে সব বুঝিয়ে বলি।আমরা আজই
বিয়ে
করবো। প্রথমে ও একটু ঘাবড়ে যায়। তারপর
যখন
আমার সিরিয়াস অবস্থা দেখে ও বলে
তোমাকে
এই প্রথম তোমাকে এতো উত্তেজিত
দেখাচ্ছে।
আমি কিন্তু ফান করছি না।
সেটা বুঝলাম কিন্তু এতো রাতে সব
এরেঞ্জ করি
কিভাবে?তাছাড়া তোমাকে নিয়ে তো
এ অবস্থায়
হলে ঢুকতে পারবো না। সকাল হোক
তারপর
ডিসাইড করবো কি করা যায়।
তারপর পরেরদিন আমার বাবা,আমাকে
অনেক
খোঁজাখুঁজি করে কিন্তু পায়নি।
আমরা দুজনে ওর বন্ধু, বান্ধবের সহায়তায়
কোর্ট
ম্যারেজ করে ফেলি।
ইতিমধ্যে আমার বাবা সব জেনে গেছে।
এডাল্ট
ছেলে মেয়ে বিয়ে করেছে তাই আমার
বাবার
কিছুই করার ছিল না।
আমার খুব স্বপ্ন ছিল শশুড়,শাশুড়ি, দেবর,
ননদ,
জা,বাশুড় মিলে একটা ভরা সংসার হবে।
সবাই মিলেমিশে
এক সাথে থাকবো। শশুড়, শাশুড়ির সেবা
যত্ন
করবো। শাশুড়ি মা তার নিজোর হাতে
আমার মাথায়
তেল দিয়ে দিবে, চুলে বেনি করে
দিবে।
নিজের মেয়ের মতো আমাকে
ভালোবাসবে।
এভাবে বিয়ের পর প্রায়ই মুনিরদের
পরিবারের গল্প
শুনতাম আর ওকে বলতাম আমিও তোমার
সাথে
যাবো।
অল্প কিছুদিনের মধ্যে লক্ষ্য করলাম আমি
এই
পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিতে
পারছি না।খুব
অস্বস্তি হচ্ছে। টানাটুনির সংসার
সারাক্ষণ অভাব অনটন
লেগে আছে।তারমধ্যে মুনির রাত করে
বাসায়
আসে। বাসায় আসলে শুধু ফোন আর ফোন
নিজেকে খুব একা মনে হতো।
আমার বাবা আমাকে প্রায়ই বলতো এখনো
সময়
আছে তুই ফিরে আয়। আমি শুধু কানভরে
বাবার কথা
শুনতাম। বাবা অনেক বার বলেছিলো
বাবার ব্যবসাটা
যাতে দেখাশোনা করে মুনির।আমার
বাবা এতটাই খারাপ
নয় যে নিজের মেয়ের কষ্ট বুঝবে না।
অনেক
বুঝিয়েছি কিন্তু মুনির রাজি হয়নি। ওর
একটাই কথা
জীবনে কারো দয়ায় বাঁচবো না। নিজের
যোগ্যতায় কিছু করবো।
মাঝেমধ্যে ওর ফোনে মেয়েরা কল
দিতো
আমি প্রায়ই এ নিয়ে ঝগড়া করতাম।
একদিন রাতে বাসায়
আসেনি। আমি একটা চিঠি লিখে পড়ার
টেবিলে
রেখে আসি।বাসায় একটা পিচ্চি ছিল
যাকে মুনির
পড়াতো।আমাদের বিয়ের পর ও আমাদের
সাথে
থাকতো। ওর মা নেই, আমার সময় কাটতো
ওকে
নিয়ে। সারাদিন গল্পগুজব করতো ভাইয়া
আমার জন্য
এটা করেছে ওঠা করেছে ।আমিও মুগ্ধ
হয়ে ওর
গল্প শুনতাম ।ওর কাছে চাবি দিয়ে
বাবাকে ফোন
দিয়ে আমি লাগিস গুছিয়ে বাবার গাড়ি
করে চলে আসি।
পিচ্চিটা অনেক বুঝিয়েছে ভাবি তুমি
চলে গেলে
ভাইয়া অনেক কষ্ট পাবে।তোমাকে
অনেক
ভালোবাসে ভাইয়া বিশ্বাস করো?
কিন্তু আমি ওর কথায় কোন পাত্তা
দেয়নি সোজা
গাড়িকরে চলে আসি।
রাগের মাথায় চিঠিতে অনেক কথা
লিখে আসছি।বাসায়
এসে দরজা বন্ধ করে কাঁদছি। রাগের
মাথায় চিঠিটা
পড়ে সত্যি কি মুনির আমাকে ডির্ভোস
দিয়ে দিবে
কি?
আজ ৩ দিন হয়ে গেলো আমি শুধু ওর কথা
ভাবছি।
আমার বাবা শুধুই বলে যাচ্ছে। মানুষ
মাত্রই ভুল করে।
তুইও একটা ভুল করেছিস। চাল নেই চুলো
নেই
এরকম একটা ছেলের সাথে কিভাবে
সংসার করবে
তুই। বাবা তো বাবার জায়গায় ঠিক।
কোন বাবাই তার
মেয়ের কষ্ট সহ্য করতে পারে না।
কিন্তু আমি তো জানি আমি মুনিরকে
কতোটা
ভালোবাসি।
৩ দিন পর ওর চিঠির রিপ্লাই আসলো।
তুমি যখন আমার
সাথে আর থাকবে না বলে ডিসাইড
করেছো
ওকে ফাইন আমি তোমাকে ডির্ভোস
দিয়ে
দিবো। তবে আমার কিছুদিন টাইম
লাগবে।তোমার
দেনমোহরের টাকাটা তো আমাকে
এরেঞ্জ
করতে হবে।তোমার প্রাপ্য হক দিতে
হবে।
আমি পুরো চোখের জলে চিঠিটা
ভিজিয়ে দিয়েছি।
চালাকি করে দেনমোহরের টাকা ১০লাখ
কাবিনে
লিখিয়েছিলাম।যাতে কোনদিন
আমাকে ডির্ভোস না
দেয়।
আমি ওকে ফোন দিয়ে অনেক ঝগড়া
করি।এতো
অল্প সময়ে এতো টাকা কোথায় পাবে
তাহলে
কি,চুরি, ডাকাতি নাকি মার্ডার করে
টাকা এরেঞ্জ
করবে।
ও আমাকে বলে যে ভাবেই হোক টাকা
এরেঞ্জ
করবো তাতে তো তোমার কোন প্রবলেম
হবার কথা নয়।
আমি ওর কথা শুনে আরো ভেঙ্গে পড়ি।
বিকালে পিচ্চিটা ফোন দিয়ে বলে।আজ
দুদিন
থেকে মুনির ভাইয়া তোমার জন্য না
খেয়ে
কাঁদতে,কাঁদতে শুকিয়ে গেছে। ভাইয়ার
বাবা খুব
অসুস্থ আজ রাতের ট্রেনে বাড়ি যাবে।
আমি তো আরো টেনশনে পড়ে যাই। ওর
কি একা
কষ্ট লাগছে আমি এই ৬ মাসে ওকে ছাড়া
মাত্র ৩ টা
দিন থেকেছি। আমার কাছে ৩ বছর মনে
হচ্ছে।
আর এখন আমাকে ফেলে একা গ্রামে চলে
যাবে।
আমি লাগিস গুছিয়ে সোজা ষ্টেশনের
উদ্দেশ্য
বের হলাম।আমার বাবা, মা আজ আমাকে
আটকায়নি।ওরা
এ কয়েকদিনে আমার কষ্ট নিজ চোখে
দেখেছে।
আমি ষ্টেশন এসে দেখি মুনির বসে আছি।
আমি
পিছন দিক থেকে এসে বললাম। টেনশন
করো না
আমি আছি তো।
মুনির অবাক দৃষ্টি তে আমার দিকে
থাকিয়ে আছে।
অবাক হবার কিছু নেই।ভীরু কাপুরুষ একটা
তুমি
কেমনে ভাবলে আমাকে ছাড়া তুমি
গ্রামে যাবে।
মান অভিমান শুধু কি তোমার আছে আমার
নেই?
মুনির পকেট থেকে একটা হলুদ চিঠির খাম
দিলো।
খুলে দেখি জয়নিং লেটার।প্রাইভেট
কোম্পানিতে
চাকুরী হয়েছে।চিঠিটা খুলে দেখেনি।
সেদিন এই সংবাদ দিবো বলে বাসায়
যাইনি।
আর তুমি কিনা আমাকে ভুল বুঝে তোমার
বাবার বাসায়
চলে গেলে।
সরি আমি অনুতপ্ত। তুমি নিজেই তো
জানো আমি
তোমাকে কতোটা ভালোবাসি।
মুনির চশমাটা পড়ে নিয়ে বলছে।
তোমাকে নীল
সাড়িতে বেশ মানিয়েছে।
তাই বুঝি…! ঢং ছাড়ো এবার ট্রেন এসেছে
বাড়ি
যাবো।এই প্রথমবার শশুড় বাড়ি যাচ্ছি।
এবার সত্যি মনে
হচ্ছে আমার বিয়ে হয়েছে।
মুনির হেসেই চলেছে।
@সমাপ্ত

সম্পর্কিত পোস্ট

পূনর্জন্ম

জুয়াইরিয়া জেসমিন অর্পি . কলেজ থেকে ফিরেই পিঠের ব্যাগটা বিছানায় ছুড়ে ফেললো অন্বেষা। তারপর পড়ার টেবিলের কাছে গিয়ে চেয়ার টেনে নিয়ে ধপ করে বসে দুই হাত দিয়ে মাথাটা চেপে ধরলো।প্রচণ্ড মেজাজ খারাপ ওর। আজ ওদের সেমিস্টার ফাইনালের রেজাল্ট দিয়েছে। একদমই ভালো করেনি সে। যদিও শুরু...

অনুভূতি

অনুভূতি

লেখা: মুন্নি রহমান চারদিকে ফজরের আজানের সুমধুর ধ্বনি ভেসে আসছে। বাইরে এখনো আবছা অন্ধকার। তড়িঘড়ি করে বিছানা ছাড়লো মালা। ঘরের কাজ সেরে বের হতে হবে ফুল কিনতে। তাড়াতাড়ি না গেলে ভালো ফুল পাওয়া যায় না আর ফুল তরতাজা না হলে কেউ কিনতে চায় না। মাথার ওপরে তপ্ত রোদ যেন...

অসাধারণ বাবা

অসাধারণ বাবা

লেখক:সাজেদ আল শাফি বাসায় আসলাম প্রায় চার মাস পর। বাবা অসুস্থ খুব।তা নাহলে হয়তো আরও পরে আসতে হতো।গাড়ি ভাড়া লাগে ছয়শো পঁচিশ টাকা।এই টাকাটা রুমমেটের কাছ থেকে ধার নিয়েছি।তার কাছে এই পর্যন্ত দশ হাজার টাকা ঋণ হয়েছে।বলি চাকরি হলেই দিয়ে দিব। পড়াশোনা শেষ করে দুই বছর...

২ Comments

  1. আফরোজা আক্তার ইতি

    দারুণ একটি গল্প। পরিসমাপ্তিও ঘটল খুব সুন্দরভাবেই। অবশেষে মুনির তার নিজের যোগ্যতায় চাকরি পেয়েছে, আর মিলিও সুখেই থাকবে। গল্পটা ভালো ছিল। তবে আপনি কথোপকথনে কোটেশন ব্যবহার করেন নি, যার কারণে এটি মূল গল্পের সাথে মিশে ধারাবাহিকতা নষ্ট করে ফেলেছে আর এলোমেলো লেগেছে। বানানে কিছু ভুল আছে, সংশোধন করে দেই।
    শান্ত সৃষ্ট- শান্ত-শিষ্ট।
    জীবনধারন- জীবনধারণ।
    ক্যামপাস- ক্যাম্পাস।
    সমপর্কটা- সম্পর্কটা।
    সত মা- সৎ মা।
    শশুড়- শ্বশুড়।
    লাগিস- লাগেজ।

    Reply
  2. মাহফুজা সালওয়া

    কাহিনীটা সুন্দর,উপস্থাপন ও দারুণ।
    তবে কনভার্সেশন গুলা খুবই অস্পষ্ট,যা গল্পের সৌন্দর্য নষ্ট করেছে।
    অনেকগুলো বানান ভূল আর বিরামচিহ্নের অপপ্রয়োগ এটাই প্রমাণ করে, লেখিকার লেখার হাত ভীষণ কাঁচা।
    নেক্সট টাইম আরো ভালো করবেন,এই আশা রাখি।শুভকামনা রইল।

    Reply

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *