খটখট খটাখট
প্রকাশিত: মার্চ ১৮, ২০১৮
লেখকঃ vickycherry05

 128 বার দেখা হয়েছে

এই লেখক এর আরও লেখা পড়ুনঃ vickycherry05

গল্প লেখকঃ
ইমরান হোসাইন ইমু
(মার্চ – ২০১৮)
…………

মজিবের চায়ের দোকানটা রাস্তার শেষ মাথায়। বাঁশের উপর তেরপলের সমন্বয়ে বেঁচে থাকা একটা সকালের দশকাপ চা। রাত জেগে ভোরে এখানে এসে এককাপ চা আর একটা সিগারেট নিয়ে বসি। রাস্তার কালো পথ আর ধূলিগুলো আবছা শাদা হতে শুরু করলেই অনুভব করি,সকাল হতে চলেছে। মজিবই বোধহয় সবার আগে এই মহল্লায় দোকান খোলে। আগে খুলে মধ্যরাত পর্যন্ত দোকান খোলা থাকলে আমরা অবশ্যই ভাবি, দোকানে ফুরফুরে ব্যবসা। কিন্তু মজিব যখন কাতর স্বরে গামছাতে দু’হাত মুছতে মুছতে বিনীতভাবে এককাপ চা বানিয়ে দিয়ে আমার দিকে বাড়িয়ে মুখটা ফ্যাকাসে বাচ্চার মতো করে বলে উঠে, চা-টা কেমন হয়েছে ভাই?
আমার তখন কাক ডাকা ভোরে মধ্যরাত ভেঙে পড়ে। মনীষী বলেছেন, ছোট ছোট মানুষেরা সবসময় তার যন্ত্রের সাথে ঝগড়া করে। আমি তার হাহাকারটা বুঝি। ছাব্বিশ বছরের অবিবাহিত চা দোকানদারের অন্তর্নিহিত বেদনা দ্যাখি কেটলির ধোঁয়ায়। সে যেন একপ্রকার ধরেই নিয়েছে, তার বানানো চা ভাল হয় না দ্যাখে তার দোকানে কাস্টমার আসে না। আমার কাছে হালকা প্রশংসা পেলেও যেন ভোরের চা দোকানদারের সপ্ত পাওয়া।
চা দোকানটার পাশেই একটা টাইপের দোকান। সকাল নয়টায় টাইপ রাইটার মফিদুল হক আসেন। মজিব তাকে চা সিগারেট দিয়ে আসে। আমিও আড্ডা জমাই প্রথম টিউশনি শেষে, ঘড়িতে যখন বারোটা বারো। সিগারেট খেতে খেতে মফিদুল হক কেশে উঠেন। পানির দু’লিটারের বোতলটার ছিপি খোলেন। পানের লাল পিক ফেলে আমার দিকে তাকিয়ে বলেন, বাবা, ভাষার অপর নাম কি?
আমি চিন্তায় না পড়ে বিরক্তে পড়ে যাই। এই মানুষটাকে অনেকে পাগল বলে।আমি বলি বিরক্তিকর। তিনি ভাষার অপর নাম জানতে চেয়ে এই পর্যন্ত তিনশত চুরাশিবারেরও বেশীবার আমাকে প্রশ্ন করেছেন। আমি নিরুত্তর থাকলে হাসিমুখে অন্যদিকে তাকাতেন। জবাব দিতেন না। কতবার বলেছি আপনিই বলুন। না, উনি বলবেনই না! মাঝেমধ্যে তাকে বলি, চাচা, কম্পিউটারের যুগে কি কেও টাইপ মেশিনের ধার ধারে?
তিনি সামান্য আহত হন। আমি অপমান করে তাকে কিছু বলি না। সব পেশাই তার জীবনের চে’ বড়, আত্মসম্মানের চাইতেও সম্মানীয়। অনেক বেশ্যাকেও আমি সম্মান জানিয়ে ‘মা’ ডেকেছি। বলেছি, কষ্ট থেকে সমকামী হওয়া মেয়েদের, “পুরুষাঙ্গ কাপুরুষেরও থাকে। তাই বলে সব ছেলেকে ঘৃণা করো না, প্লিয। আয়নায় মুখ দ্যাখতে পারব না।”
চাচা আমার দিকে তাকিয়ে নম্র ভাবে হাসলেন। ক্ষণস্থায়ী হাসি। এই এল, চলে গেল। মায়াভরা হাতে মেশিনটার গায়ে হাত বুলিয়ে বললেন, তুমি কাকে মেশিন বলো বাবা? এটা আমার ছেলে। আমার ছেলে আমার কাছে হেফাযতে আছে। রাস্তায় মহিলারা কি সন্তান কোলে নিয়ে ভিক্ষে করে না? বল, ওসব কাদের সন্তান? নিশ্চয়ই ভিখারিদের। ভিখারিরা কি নিজেদের নাক বোঁচা, কান কাটা, ট্যারা, হাত নেই, পঙ্গু, কালো চামড়ার ছেলেটাকে ফেলে রাজকন্যা বা রাজপুত্রকে বুকে জড়ায়?
আমি চাচার দিকে শীতল চোখে তাকালাম। তিনি গরম চোখে দৃষ্টি ফিরিয়ে নিলেন।
২.
চাচার টাইপ মেশিনে খটখট খটাখট শব্দ চলছে। মুখে হাসি। আমি পাশে বসে মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে আছি। পেটের দায়ে কাজ করলে মুখে এক ধরনের বিরক্তির ভাব ফুটে উঠে। তার মুখে সে ছাপ নিতান্তই অনুপস্থিত। বসন্তের ফুল যেন এই টাইপ মেশিন। আর শিমুল গাছটার নূতন নাম, মফিদুল হক। আমি সিগারেটে টান দিতে দিতে বললাম, কাজ করা হচ্ছে বুঝি?
চাচা খুব হেসে বললেন, জর্জ কোর্টের মামলার শুনানী। টোটাল আশি পৃষ্ঠা। বহুত কাজ। অনেকদিন এমন কাজ করা হয় না। কি যে ভাল লাগছে বাবা! যাও, মজিবের দোকান থেকে যা খুশি খাও। বিল আমার।
আমি চাচার খুশি মুখের দিকে তাকালাম। খুশিটা সংক্রামক হলো আমার অন্তরে।ঠোঁটে হলো না। কিছু কিছু আনন্দ, খুশি অপ্রকাশিত থাকে। এগুলো অপ্রকাশিত থাকে আমাদেরই অন্তরে। ঠোঁট আর চোখ হলো প্রকাশক, প্রচারক। আর হৃদয় হলো, প্রচার বিমুখ প্রচারক।
বিকেলের দিকে আবার চাচার দোকানে চলে এলাম। চাচা আমার দিকে প্রতিদিনকার চোখ মেলে তাকালেন। হাতে সিগারেট, চোখের উপর চুলগুলো উদাস। আমি এসে পাশে বসলাম। টাইপ মেশিনের রোলার চকচক করছে। করারই কথা। প্রতিদিন তা মুছে পরিষ্কার করা হয়। চাচার পাশে বসে তার সীমিত মৃত্যু, আর অজস্র বয়স, বয়সের শাদা চুলের ফেলে রাখা ‘অচিকিৎস্য চিহ্ন’ এর দিকে তাকিয়ে আপন মৃত্যু চিন্তা উঁকি দিল। চাচাকে শীতল কণ্ঠে বললাম, বেচাকেনা কেমন চলে?
ভাল না। অতিদ্রুত উত্তর। তবে তার বিষণ্ন থাকার পেছনের কারণটা ব্যবসায় লাভ-লোকসানের সাথে যুক্ত না।
এট ছাড়েন চাচা। একটা কম্পিউটার কেনেন। রমরমা ব্যবসা। শেষ বয়সে হোক না কিছু আমোদ-প্রমোদ।
তিনি ভ্রু কুঞ্চিত করে আমার দিকে ঘৃণা ভরে তাকালেন। খুব সম্ভব অভিশাপ দিচ্ছেন। আমি এত অভিশাপ কিভাবে নেবো? আমার বিপন্ন মুখ দ্যাখেই হয়তো তিনি চোখমুখ শীতল করে কণ্ঠস্বর যথেষ্ট স্বাভাবিক রেখে বললেন, ব্যবসা আমাকে চিন্তিত করে না।
তাহলে?
জানো, মানুষ না বাঙলা ভুলে যাচ্ছে! সবাই আধুনিক হবার পণ করেছে। আমরা বায়ান্ন-তে আধুনিক হওয়ার জন্য ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করেছিলাম। আজ তরুণ তরুণীরা আমাদের আত্মত্যাগ ভঙ্গ করছে। কি অসভ্য জানো? স্কুলের দরখাস্তটাও ইংলিশে লেখে। ভার্সিটি হতে চাকরি,সব ফর্ম ইংলিশে হয়। তবে কি আমরা বাঙলা বুঝি না? নাকি বাঙলাকে বায়ান্নোর ভাষা বলে ‘সেকেলে’ দাবী করি…? কয়েকটা উদ্ধত ছেলে এসেছিল মজিবের দোকানে। মোবাইলে অদ্ভুত, অরুচিকর ভিনদেশি চর্চা। অন্তর কলুষিত, নগ্ন হৃদয় তাদের। জানো, আমার না খুব কষ্ট হয়, যখন দ্যাখি আমাদের একজন দেশবরেণ্য শিল্পী মৃত্যুকালে পত্রিকার শেষের আগের পৃষ্ঠায় ছোট্ট করে এক কলামে ভিক্ষে চাচ্ছে। ভদ্র ভাষায়: সাহায্যের আবেদন।চমকে উঠি, উঠতে হয়।দেশে থেকে প্রবাসী যারা তারা এই কষ্ট বুঝবে না।
মফিদুল হক সিগারেটে টান দিলেন।আমি তার চোখের কোণে বিপন্ন বিস্ময় দ্যাখছি, কান্না দ্যাখছি না।বিস্ময়ে বিস্মিতরা কাঁদতে পারে না।হয়তো পারে, চোখ না ভিজিয়ে।
৩.
মজিবের দোকানে বসে আছি। মফিদুল হক তার ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানে ফুরফুরে মেজাজে বসে আছেন। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম। সামনের কম্পিউটারের দোকানের সামনে ভিড়ের দিকে কিছুক্ষণ চেয়ে থাকলেন। হিংসুক কোনও চাহনি মুখাবয়বে দ্যাখলাম না। বেশ স্নিগ্ধ চোখেই তাকিয়ে আছেন। যেন, আধুনিকতার সংজ্ঞা বোঝার চেষ্টা করছেন। ঐতিহ্যকে আঁকড়ে ধরা পাগলটার কথাও পাশাপাশি সতীন অবস্থানে রেখে ভাবছেন। মাঝেমধ্যে নিজেকে হয়তো প্রশ্ন করে বসেন, কি হবে টাইপ মেশিন আঁকড়ে ধরে? পরক্ষণেই নিজের ভুল বুঝতে পেরে নিজের কাছে ক্ষমা চান। আসলে তিনি কিছুই আঁকড়ে ধরেন নি। টাইপ মেশিনটাই তাকে আঁকড়ে ধরে টাইপ রাইটার বানিয়ে ছেড়েছে।
বিকেলে তার দোকানে খটখট খটাখটের আওয়াজ কানে এল। ডিভোর্স মামলা বোধহয়। রাতে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার রায়, শুনানি, আপিল, জেরা, সময় চেয়ে আবেদন আরও কত কি! এই তো দশ বছর আগেও তার দোকানে দৈনিক চার থেকে পাঁচশ টাকা ইনকাম হতো। এখনকার হিসেবে যা প্রায় দু’হাজারের কাছাকাছি। এখন বোধহয় তার সর্বোচ্চ একশ টাকার আয়েই চলে জগত সংসার। তার মৃতা প্রায় স্ত্রী বাসায় বসে অপেক্ষা করেন, কখন তার স্বামী আসবেন, সাথে আসবে বাজার। মফিদুল হক বাজার করে বাসায় গেলেই রান্না হয়, নয়তো হয় না। আজকের মানিব্যাগের ভেতর খটখট খটাখট ময়লা নোটগুলো দু’দিনের বাজার করতে দেয় না।
৪.
মফিদুল হকের মুখে বিস্তৃত হাসি। হঠাৎ অসময়ে সত্য হাসি?
কি হলো চাচা? চাচীর আদর পেয়েছেন বুঝি?
সলজ্জ হেসে তার উত্তর, সে তো রোজই পাই।
তবে আজ?
জানো, আজ তিনটা ছেলেকে ইচ্ছামত মারছি। তারা তো অবাক। এত বয়স্ক, চুরাশি বছরের বুড়া, মরবে কয়দিন পর, এমন বুড়া পারল কিভাবে তাদের মত ইয়ং ব্লাডদের গায়ে হাত তোলার সাহস? হা হা হা! ইচ্ছামত দিছি। কিছু বলতেও পারে নাই।
কেন এত মারামারি শুনি।
তিনি বিজয়ের হাসি হেসে বললেন, কিসব অদ্ভুত ভাষায় কথা বলছিল। না বাঙলা, না ইংলিশ! তার উপর সাংস্কৃতিক প্রোগ্রাম করবে, বললাম, ব্যানারটা বাঙলায় করতে। আমাকে উপাধি দিল, পাগল। ব্যস, আমিও পাগলামি দ্যাখিয়ে দিলাম।
চাচা হাসছেন। সরল, সুন্দর, স্নিগ্ধ সেই হাসি। বালিকার এন্টিসেপ্টিক চুমুর চে’ও কার্যকরী ঔষধ।
৫.
খটখট খটাখট।
দোকানে মুহুরি এসেছেন কোনও আসামীর জামিন হাতে।
খটখট খটাখট।
কোনও জায়গায় ন্যায়বিচার না পাওয়া এক অসহায় মহিলা দারস্থ হবেন আইনের কাছে। চাইবেন ন্যায়বিচার। কোন আইনে যাবে সে? কোথাও সে ন্যায়বিচার পায় নি। আর কোথায় পাবে সে? খটখট খটাখট শব্দে তার আর্তনাদ কাগজে লিপিবদ্ধ হচ্ছে। কান্নার মাঝখানে যেমন বিরতি সূচক ‘ফোঁপানী’ আসে, তেমনি এক লাইন লিখা শেষে রোলারে একটান বসিয়ে পরবর্তী লাইনে যেতে হয়।
খটখট খটাখট।
ফাঁসির আসামির রায়।
খটখট খটাখট।
যাবজ্জীবন প্রাপ্ত আসামির সাজা কমানোর আহাজারি।
খটখট খটাখট।
কোন অজপাঁড়া গাঁয়ে নাকি মেলা বসবে। তাই একখানা খোলা চিঠি, অনুমতি চেয়ে মহাজনের নিকট।
খটখট খটাখট।
কোনও শৌখিন প্রেমিকের ফুটন্ত প্রেমপত্র।
খটখট খটাখট।
কোনও শেষ পরীক্ষার ভর্তি ফর্মের এপ্লাই।
খটখট খটাখট।
ভাষার অপমৃত্যু।
চমকে উঠলাম। মফিদুল হকের চোখে জল। এগিয়ে এসে তার পাশে বসলাম।কখনও কাঁদতে দ্যাখি নি তাকে। ইদানীং তার স্ত্রীর ডায়াবেটিস নাকি বেড়েছে। ইনসুলিন লাগে। খরচ যথেষ্ট। তাই কি এই নিরব এবং স্ত্রীর আড়ালে অপ্রকাশিত কান্না? আমি বরফগলা চোখে টেবিলের এককোণে পেপার ওয়েট দিয়ে ঝড়ো বাতাস হতে রেহাই দেয়া কচকচে দশ টাকার নোটটার দিকে তাকিয়ে আছি। খুব দ্রুত চোখ ফিরিয়ে বললাম, কি হয়েছে চাচা?
চাচা নিশ্চুপ।
বলবেন না? প্লিয বলুন।
নৈশব্দ।
চাচীর কিছু হয়েছে? প্লিয, চুপ করে থাকবেন না।
নিরব চিৎকার।
আমি এযুগের মাথামোটা ছেলে। প্রেমিকার ঘন নিশ্বাসে যৌনতা টের পাই, কিন্তু ভাষা সৈনিকের দীর্ঘশ্বাসে ভাষার অপমৃত্যু টের পাই না। কথাটা শুনলেন চাচা? বাস্তব সত্য। বলবেন না আমায়? প্লিয, পায়ে ধরি, কেন কিভাবে কি হলো?
চাচার উপরের ঠোঁটটা চুম্বক। নিচেরটা লোহা।
বলুন না। আমি আপনার ছেলের মতো কি না!
বিশিষ্ট ভাষা সৈনিক মফিদুল হক আমার দিকে আগুন ভরা রক্তজবা চোখে তাকিয়ে সশব্দে আকাশ-পাতাল এক করে আবেগে মিশ্রিত ঘন লজিক, শাদা পাতায় শাদা কালিতে লেখা ‘ভালবাসা’,আর আধুনিকতার চায়ের কাপে বিস্কিটের মতো ভাষাকে চিবিয়ে খেতে খেতে বললেন, কক্ষনো না! কক্ষনো তুমি আমার ছেলে হতে পারো না। আমার এক এবং একমাত্র ছেলের নাম, ভাষা। তার জন্মসাল : ১৯৫২। গর্ভধারিণী: বাঙলাদেশ। ভাষার জন্মের সময় সে দুটা লাইন বলেছিল,
“মৃত্যু আমাকে কখন ছুঁতে পারবে না,
কারণ, সাতটা খুনের পর আমি কবরে জন্ম নিয়েছি।”
তোমার মতো ছেলের দুঃসাহস কিভাবে হয়, ভাষার মতো মহান সন্তানের ভাই হবে?
আমি চূড়ান্ত অপমানবোধ করলাম। টেবিলের দিকে তাকিয়ে দ্যাখলাম, বাঙলা আর ইংলিশে ভরা কুরুচিপসম্পন্ন বিশাল, বোধহয় তিনশত পৃষ্ঠা হবে, এই কাজটি করতে পারলে নিশ্চয় তার তিনদিনের টাকা হয়ে যেত, হয়ে যেত স্ত্রীর ইনসুলিনের টাকা-টাও। আমি ভারী বুক হালকা করতে মফিদুল হককে জড়িয়ে ধরলাম। চেষ্টাচরিত্র করেও কাঁদতে পারলাম না। কেন যে এই চোখে কান্নারা নিয়মিত নিয়ম মেনে অনিয়মের মধ্যরাতে শুধুমাত্র সিগারেটের সাথে আসে,জানি না।
আমি হাঁটতে থাকলাম। পেছনে গ্যাসলাইট দিয়ে ভাষার অপমৃত্যু পুড়িয়ে দিলেন মফিদুল হক। দোতলা, তিনতলা কম্পিউটার দোকানের দিকে তাকিয়ে তৃতীয় পলক ফেললাম, আর দ্যাখতে পেলাম, ঝুপড়ি মতন বাঁশ, তেরপলের জীবন, একটা টেবিল, একটা চেয়ার, একটা টাইপ মেশিন, একটা ভাষা, আর লক্ষ কোটি বাবা মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।

আমার ঠোঁটে সিগারেট জ্বলছে। আজ রাতে বাড়ি ফিরব না। আকাশের নিচে বসে ‘ভাষার অপর নাম কি?’ এ নিয়ে ভাবব। সিগারেটে আজ একটুও বুকটা জ্বলল না। কেন? চাচাকে জড়িয়ে ধরেছিলাম বলে…?

পরিশিষ্ট :
আমি আমার মতো করে মফিদুল হকের প্রশ্নের জবাব এনেছি। তা খটখট খটাখটে টাইপ করে সেঁটে দিয়ে এসেছি এক মধ্যরাতে, কোনও নিশ্চুপ তারাকে সঙ্গী করে, মফিদুল হকের এপিটাফে।

আকাশে কালো মেঘ। বৃষ্টি হবে। বৃষ্টি বোধহয় এখন আকাশেই জমে আছে। বৃষ্টি এখন সার্থক না। বৃষ্টির সার্থকতা মাটি অথবা তোমায় স্পর্শ করলে। এর আগে বৃষ্টি নিরর্থক; তারচে’ও ধ্রুব সত্য, এর আগে পদার্থটা ‘বৃষ্টি’ই না। হঠাৎ দমকা হাওয়া বয়ে গেল। আকাশে তাল মাতাল সৃষ্টি করে এক পশলা বৃষ্টি আনলো। বৃষ্টি সার্থক হলো মফিদুল হকের কবর ছুঁয়ে। ভাষার অপর নাম, মফিদুল হক।

সম্পর্কিত পোস্ট

শয়তানকে পরাজিত করুন –

শয়তানকে পরাজিত করুন –

কোন এক দাওয়াতে এক ভাবী গল্প করছিলেন যে, এক মহিলা যখন তার Husband রাগ হয় তখন তিনি আয়াতুল কুরসি পড়েন আর তার স্বামী বিড়াল হয়ে যান । তখন আর এক ভাবী বললেন," ভাবী - আয়াতুল কুরসি পড়লে উনার স্বামী বিড়াল হন না বরং ঐ মহিলার সাথের শয়তানটা পালিয়ে যায়” । ভাবীদের এই...

একজন মানুষের গল্প

একজন মানুষের গল্প

দুই টাকার আইসক্রিম, বই সামনে নিয়ে চিৎকার করে পড়া, কলম দিয়ে এক অক্ষর বারবার লিখে হাত ব্যাথা সহ্য করতে করতেই ছোটবেলা কাটিয়ে দেওয়া। একটু বড় হওয়ার পর ছন্নছাড়া হয়ে যাওয়া। ক্লাস ফাঁকি দিয়ে বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দেয়া কোনো এক বট তলা। যেখানে বসে আড্ডা দিত কয়েকজন স্কুল পালানো...

অস্ফুট কান্না

অস্ফুট কান্না

লেখা: মোহসিনা বেগম , প্রচণ্ড শীত পড়েছে আজ। চারদিক কুয়াশা যেন চাদর বিছিয়ে রেখেছে। সকাল এগারোটা বেজে গেছে এখনও সূর্যের দেখা নেই। ছুটিতে কয়েকটা দিন গ্রামে থেকে আনন্দ করব কিন্তু প্রচণ্ড শীতে জমে যাচ্ছি। লেপের নীচ থেকে বের হতেই ইচ্ছে করছে না। ওদিকে মা কতক্ষণ ধরে ডেকেই...

০ Comments

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *