হলুদ খাম
প্রকাশিত: জুলাই ২৩, ২০১৮
লেখকঃ

 50 বার দেখা হয়েছে

এই লেখক এর আরও লেখা পড়ুনঃ

লেখা : মাহমুদ হাসান

“আপনার ছাত্র বেশ কিউট এবং ইন্টিলিজেন্ট । আপনি অবাক হইবেন এই কথা শুনিয়া যে এই ঘোর অধঃপতনের যুগেও আমার সন্তান বিপথগামী হয়নাই। এইটুকু বয়সে সে সততার প্রকৃষ্ট উদাহরন রুপে নিজেকে আমাদের সকলে সম্মূখে প্রতীয়মান করিতে সক্ষম হইয়াছে। আপনি তাকে শিক্ষাদান করিয়া নিজেই মুগ্ধ হইবেন এ টুকু ভরসা আপনাকে দিতেই পারি।”

প্রথমদিন টিউশনিতে যাইয়া ছাত্রের কক্ষে ঢুকিবার পূর্বে চা পান করিবার প্রাক্কালে অভিভাবক মহাশয়ের সহিত আলাপকালীন তাহার মুখ হইতে এই কথা শুনিয়া বড়ই বিমোহিত হইলাম। ভাবিলাম অনিচ্ছা সত্বেও উহার বাসায় পড়াইতে আসিয়ছিলাম বলিয়া মনোমধ্যে যে বিনাক্তভাব ছিলো আমার তাহা অতি নিমেষেই দুর হইয়া যাইবে।

তখন আমার আসলে টিউশনির খুব একটা প্রয়োজন ছিল না। মূলত করিয়া দিয়াছিলেন আমার এক অন্তরঙ্গ জেষ্ঠ্য ভ্রাতার অনুরোধেই সপ্তাহে ৫ দিন গনিত আর ইংরেজী মাত্র ৩০০০ টাকা সম্মানীর বিনিময়ে পড়াইতে রাজী হইয়াছিলাম।
শিক্ষাদান করিতে বসিয়া দেখিলাম ছাত্র আমার অতিশয় শান্ত।গুলুমুল টাইপের নবম শ্রেনীর এই বালক অতি অল্পতেই আমার মন জয় করিয়া ফেলিলো। ছাত্রের স্বভাবসুলভ চপলতা এবং বুদ্ধিদীপ্ত উত্তর তাহাকে শিক্ষাদানের প্রতি আমার আগ্রহ বহুগুনে বাড়াইয়া চলিলো।

কিছুদিন বাদে আমার দক্ষিণ হস্তের তালুখানি খুব করিয়া চুলকাইতে লাগিলো। আমি কারনখানা কোনক্রমেই উপলব্ধি করিতে না পারিয়া টিউশনি শেষ করিয়া চিকিৎসকের শরনাপন্ন হইবো ভাবিতে ভাবিতে ছাত্রের বাসায় উপস্থিত হইলাম। শিক্ষাদানের মধ্যপথে টেবিলের উপর হঠাৎ করিয়া একখানি হলুদ খামরে উপর নজর পড়িতেই আমার হস্ত চুলকানি একদম কমিয়া গেলো। বুঝিলাম মাস গত হইয়াছে। পাঠদান শেষ করিয়া ছাত্রের হস্ত হইতে হলুদ খামখানি নিজের হস্তগত করিয়া বাসস্থানে প্রত্যাবর্তন করিলাম।
আহা তিন হাজার টাকা। পাঠক ভাবিয়া দেখুন আজি হইতে ৬/৭ বছর পূর্বে গ্রামের একজন কিশোর টিউটরের নিকট অতিরিক্ত ৩০০০ টাকা তো বাংলাদেশ ব্যাংকে রক্ষিত সোনার থেকেও কতখানি মূল্যবান!!

বেশ কয়েকবার খামখানিতে চুম্বন করিয়া কাগজের নোটের সুঘ্রাণ পাইবার নিমিত্তে সেটি খুলিলাম।
একি হায় !! খামের ভিতর পাঁচশত টাকার মাত্র চার খানা নোট রহিয়াছে। ইহা যোগ করিয়া কীভাবে তিন হাজার হয় তাহা আমার ক্ষুদ্র মস্তিষ্কে তো প্রবেশ করিলোই নাই বরং আমার গৃহে রক্ষিত গণনা যন্ত্র খানিও অনুধাবন করিতে ব্যর্থ হইলো।

বড্ড বেশী অভিমানী এই আমি পরবর্তী দিবস হইতে বালকটিকে শিক্ষাদান করিতে গমন করা হইতে নিজেকে বিরত রাখিলাম। বেশ কয়েকবার আমার মুঠোফোনে ছাত্রের বাসা হইতে ফোন আসিলেও আমি আর কখোনোই তাহাকে শিক্ষাদান করিতে যাইবোনা এই সিদ্ধান্তেই স্থির রহিলাম।

বেশ কিছুদিন কাটিয়া গেলো। একদিন অবসর সময়ে আমি বন্ধু বান্ধবীদের সহিত স্থানীয় এক রেস্টুরেন্টে বসিয়া হাস্যরসে মগ্ন রহিয়াছি এমন সময় সেই অভিভাবক সেস্থানে প্রবেশ করিলেন। আমাকে এক প্রান্তে ডাকিয়া লইয়া তাহার সন্তানকে পড়াইতে না যাওয়ার কারন জানার আগ্রহ প্রকাশ করিলেন। আমিও প্রতিউত্তরে তাহার কাছে ৪ খানা ৫০০ টাকার নোটে কীভাবে ৩০০০ টাকা হয় তাহার ব্যাখ্যা দাবী করিলাম।

উনি আমাকে শুধাইলেন যে উনি নাকি তাহার সন্তানকে ৬ খানা নোট ই দিয়াছিলেন। বুঝিলাম বালক খামবন্দী করিবার সময় উহা হইতে মাত্র দুই খানা কাগজের মুদ্রা নিজের মনে করিয়া হয়তোবা ঘ্রাণ লইবার নিমিত্তে পকেটস্থ করিয়াছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে রক্ষিত স্বর্ণ যেরূপে ধাতুতে পরিনত হইয়াছে ঠিক সেইরূপেই আমার মনের হাস্যরসপূর্ণ ভাব বিষাদে পরিনত হইলো।

সততার প্রকৃষ্ট উদাহরন ছাত্রটি আমার বেশ ইনটিলিজেন্ট। বেশ কিউট ও বটে!!!!!

সম্পর্কিত পোস্ট

পূনর্জন্ম

জুয়াইরিয়া জেসমিন অর্পি . কলেজ থেকে ফিরেই পিঠের ব্যাগটা বিছানায় ছুড়ে ফেললো অন্বেষা। তারপর পড়ার টেবিলের কাছে গিয়ে চেয়ার টেনে নিয়ে ধপ করে বসে দুই হাত দিয়ে মাথাটা চেপে ধরলো।প্রচণ্ড মেজাজ খারাপ ওর। আজ ওদের সেমিস্টার ফাইনালের রেজাল্ট দিয়েছে। একদমই ভালো করেনি সে। যদিও শুরু...

অনুভূতি

অনুভূতি

লেখা: মুন্নি রহমান চারদিকে ফজরের আজানের সুমধুর ধ্বনি ভেসে আসছে। বাইরে এখনো আবছা অন্ধকার। তড়িঘড়ি করে বিছানা ছাড়লো মালা। ঘরের কাজ সেরে বের হতে হবে ফুল কিনতে। তাড়াতাড়ি না গেলে ভালো ফুল পাওয়া যায় না আর ফুল তরতাজা না হলে কেউ কিনতে চায় না। মাথার ওপরে তপ্ত রোদ যেন...

অসাধারণ বাবা

অসাধারণ বাবা

লেখক:সাজেদ আল শাফি বাসায় আসলাম প্রায় চার মাস পর। বাবা অসুস্থ খুব।তা নাহলে হয়তো আরও পরে আসতে হতো।গাড়ি ভাড়া লাগে ছয়শো পঁচিশ টাকা।এই টাকাটা রুমমেটের কাছ থেকে ধার নিয়েছি।তার কাছে এই পর্যন্ত দশ হাজার টাকা ঋণ হয়েছে।বলি চাকরি হলেই দিয়ে দিব। পড়াশোনা শেষ করে দুই বছর...

০ Comments

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *