হিংসা
প্রকাশিত: জানুয়ারী ৫, ২০১৯
লেখকঃ

 80 বার দেখা হয়েছে

এই লেখক এর আরও লেখা পড়ুনঃ

গল্পঃ- হিংসা— যে অনল জ্বেলে দেয় হৃদয় পরাণ৷
লেখাঃ- মারিয়াম
.
হিমতলা গ্রামে প্রতিবছরের মতো এবারেও আয়োজন করা হয়েছে টেনিস বল কম্পিটিশনের। তবে এবারের আয়োজনটা তুলনামূলক ভাবে আগের থেকেও অনেক বেশি সমৃদ্ধ এবং জাঁকজমকপূর্ণ। প্রতিবারের ন্যায় এবারও আশেপাশের সব গ্রাম থেকে লোকে এসে ভিড় জমাবে, দর্শকদের করতালিতে মুখরিত হবে জনপদ, এ তো বড্ড স্বাভাবিক।
এগারো জনের একটা বিখ্যাত ফ্রেন্ড সার্কেল ‘লিজেন্ড টিম!’ গ্রামাঞ্চলে এটাই তাদের সব থেকে বড় পরিচিতি। বন্ধুত্ব কখনও আর্থিক অবস্থা কিংবা চরিত্র দেখে হয় না। অনেক সময় সবচেয়ে ভালো ছেলেটারও কিন্তু একটা খারাপ ছেলের সাথে বন্ধুত্ব থাকে। সমাজের চোখে তা খারাপ দেখালেও বন্ধুত্বের অভিধানে তারা প্রত্যেকেই নিজেদের জায়গা থেকে সঠিক। ‘লিজেন্ড টিম’ এর মধ্যমনি সাজিদ রহমান। গ্রামের বেস্ট টেনিস প্লেয়ার। আদর্শবান ভদ্র ছেলেটা সকলেরই প্রিয় পাত্র। সাজিদের সব থেকে কাছের বন্ধু মাহিম মারজান। ছেলেটার
অপরিপক্কতা শুধুমাত্র টেনিস খেলায়, অন্যসব ক্ষেত্রে তার দক্ষতা কিংবা বুদ্ধিমত্তার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারবে, এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া ভার। দীর্ঘ বারো বছরের বন্ধুত্ব ওদের। শত ঝড়ঝাপটাতেও কখনো তৈরি হয়নি ওদের মাঝে শত্রুতার দেয়াল। হাতের পাঁচটা আঙুল যেমন একইরকম নয়, ঠিক তেমনই সার্কেলের সব বন্ধুরাও একরকম হয় না। প্রতিটা মানুষই তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে স্বতন্ত্র। এবং তাতেই তাকে বেশ মানায়।
সাজিদের প্রস্তুতি চলছে পুরাপুরিভাবে। সবার বিশ্বাস, চ্যাম্পিয়নের খাতায় এবার নাম লেখাবে সাজিদ। তাই তো রোজ সকলের আশীর্বাদের বাণীতে সাজিদ যেন নিজেকে আরো বেশি করে তৈরি করে নেয়। দীর্ঘ দিন সাজিদের সাথে থাকার ফলে টেনিস খেলা সম্পর্কে কিছুটা হলেও শিখেছে মারজান। তাই সেও অংশ নিতে চায় প্রতিযোগিতায়। বন্ধুর এমন প্রস্তাব শুনে খুশি হয় সাজিদ। শুরু হয় দুই বন্ধুর রিহার্সেল। দ্রুতই ঘনিয়ে আসে সেই কাঙ্খিত দিন, এত এত দর্শকের ভিড়ে মাহিম কেমন যেন দিশেহারা বোধ করে। সাজিদ সাহস যোগায় তার বন্ধুকে, তবু কেন যেন আশ্বস্ত হতে পারে না মারজান। শুরু হয় খেলার প্রথম ধাপ, সবার মাঝে প্রবল উত্তেজনা। ভাগ্যের লীলা! টিকে যায় মারজান, অন্যদের টপকে উত্তীর্ণ হয়ে যায় খেলার দ্বিতীয় পর্বে। অপর পক্ষে সাজিদও তার প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়ে চলে যায় পরের পর্বে। আবারও শুরু হয় খেলা, ভাগ্যের জোরে এবারও টিকে যায় মারজান! সাজিদ অবাক হলেও খুশি হয় বেশ, তার এই বন্ধুটা বড্ড ভিতু, টেনিস বলের নাম শুনলেই তার গা কাঁপিয়ে জ্বর আসে, অথচ এখন কী দারুণ খেলছে! ‘পাগল একটা’ বন্ধুর কথা ভেবে আপন মনে হেসে ওঠে সাজিদ। দর্শকদের হাততালিতে গ্রামটা কেমন দুলে দুলে উঠছে, সবাই অবাক হয়ে দেখছে, খেলার মাঠ থেকেই আজ চোখ সরানো দায়। একে একে সবক’টা ধাপ শেষ। একটু পরেই শুরু হতে যাচ্ছে ফাইনাল রাউন্ড। এই উত্তেজনামূলক রাউন্ডের দুই প্রতিযোগী সাজিদ রহমান এবং মাহিম মারজান! দুই বন্ধু আজ জীবনে প্রথমবারের মতো কোনো বিষয়ে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছে। ওদের বন্ধুত্বের বিষয়ে সবারই কম বেশি জানা, তাইতো উৎসুক জনতা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে ওদের খেলা শুরু হবার। কী হবে, কী হবে ভেবেই সবার মাথাটা আউলিয়ে যাচ্ছে। সাজিদ ভেবে পায় না, এত এত ভালো খেলোয়াড়দের টপকে মারজান এ পর্যন্ত এলো কীভাবে? অপরদিকে দুশ্চিন্তায় মারজানে মরে যাই মরে যাই অবস্থা। ঝোঁকের বশে খেলায় অংশ নিলেও খেলতে শুরু করার পর সে বুঝেছিল, যতটা সহজভাবে ভেবেছে সে, ততটা সহজ মোটেও না। কিন্তু নাম লিখিয়ে ফেলার পর তো আর কোনো উপায় ছিল না। তাই দায়সারাভাবে খেলছিল, ‘কোনোভাবে আজ মাঠ থেকে বেরোতে পারলেই বাঁচি’, শুরু থেকেই এমন একটা মনোভাব নিয়েই ছিল সে। কিন্তু এটা কী হলো? সে ফাইনাল রাউন্ড পর্যন্ত কেন? এত উন্নতি তার কবে হল যে বর্তমান সময়ের সেরা টেনিস প্লেয়ার সাজিদ এখন তার মুখামুখি? মারজান ভাবতে পারে না কিছু, ওর মাথা ঝিমঝিম করে ওঠে। আড় চোখে তাকায় বন্ধুর দিকে, সাজিদও এদিকটাতেই তাকিয়ে আছে, সরাসরি ওর দিকে। ফস করে দীর্ঘশ্বাস ছাড়তে গিয়েও থমকে যায় মারজান। এত ভালো খেলে সে, চ্যম্পিয়ান হলেও তো হতে পারে! এই তো সুযোগ, এমন সুযোগ সব সময় আসে না। খুব ভালো করে খেলে সাজিদকে হারাতেই হবে। সিদ্ধান্ত নিতে পেরে বেশ প্রফুল্ল লাগছে তার। অপর দিকে সাজিদ ভাবে, তার সংস্পর্শে থেকে তার কাছ থেকে খেলা শিখে মারজান বেটা এখন তার সাথেই লড়তে আসছে? সে জানে না, সাজিদরে হারানো অসম্ভব!
খেলা শুরু হওয়ার আগে শেষবারের মতো দুই বন্ধুর মাঝে চোখাচোখি হয়, আশেপাশের মানুষ দেখছে দু’জনেই হাসছে, কিন্তু হাসির পেছনের ব্যাখ্যাটা যে কেবল তাদের দুজনেরই জানা!
খেলা শুরু হওয়ার সাথে সাথেই উল্লাসধ্বনিতে মেতে উঠলো সবাই। দু’জনের মাঝেই যেন সমানতালে চলছে লড়াই, দুর্বারগতিতে খেলে চলছে দু’জনে। আর মাত্র কয়েক মিনিট! তারপরেই সেই অতি কাঙ্খিত মুহূর্ত, যার জন্য এতদিন সবার অপেক্ষা।
এক পক্ষ মারজানের নাম নিয়ে চেচাচ্ছে, অপর পক্ষ সাজিদের জন্য বাহবা দিচ্ছে। সাজিদের সমর্থকরাই বেশি, তবে মারজানের সমর্থকদের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। বিচারকরা এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে, এবার যেন দু’জনেই চ্যাম্পিয়ন হয়ে ঘরে ফিরবে, এই প্রতিজ্ঞা নিয়েই মাঠে নেমেছে। কী দুর্দান্ত পারফর্মেন্স!
সমস্ত জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে খেলা শেষ হলো। চ্যাম্পিয়নের খাতায় সাজিদের নাম উঠে এলো। প্রচণ্ড খুশিতে ওখানে সবার সামনে দাঁড়িয়েই কেঁদে দিলো সাজিদ। এই প্রথমবারের মতো মারজানের মনে বন্ধুর প্রতি হিংসার আবির্ভাব ঘটলো। অগ্নিলাল দৃষ্টিতে সে সাজিদকে ভস্ম করে দিতে চাইলো। সাজিদের সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই, সে দৌড়ে এসে মারজানকে জড়িয়ে ধরলো, দূরে সরে গেল মারজান। ভীষণ অবাক হলো সাজিদ! খেলায় তো হার জিত থাকবেই, এতে এত অভিমান করার কী আছে? তা ছাড়া ছোটবেলায় তো ইচ্ছে করেই কত খেলায় মারজান নিজে হেরে সাজিদকে জিতিয়ে দিয়েছে, তবে আজ কী হলো?
মারজানের মাথাটা ধরেছে, সাজিদকে নিয়ে সবার এত আহ্লাদীপনা তার সহ্য হচ্ছে না। সেদিনের পর থেকে সাজিদকে যথাসম্ভব এড়িয়ে চলতে শুরু করলো সে। আর সাজিদ বারবার ওকে বুঝাবার চেষ্টা করতো। কিন্তু কে শোনে কার কথা? সাজিদকে দেখলেই ফুঁসে ওঠে মারজান, সাজিদের সাথে দেখা হলেই প্রচণ্ড বিরক্ত হতো সে। এক পর্যায়ে দু’জনের মাঝে কথা বলাটাও বন্ধ হয়ে যায়। আজকাল মারজানের সামনে কেউ সাজিদের নাম নিলেই সে তেড়ে আসে, নামটা শুনলেও তার রাগে গা রি রি করে।
.
রাবেয়া বেগম তার ছেলের সমস্ত গতিবিধি লক্ষ্য করছিলেন৷ তাছাড়া গ্রামের ছেলেপেলেদের কাছেও শুনেছেন, তার ছেলে মারজান তার বন্ধুর সাথে খুব দুর্ব্যবহার করেছে বেশ কয়েক বার, এখন নাকি দুজনের মুখ দেখাদেখিও বন্ধ।
এসব শুনে রাবেয়া বেগম বিস্মিত হলেন। মানুষ ওদের দুজনের বন্ধুত্বকে উদাহরণস্বরূপ পেশ করতো। আর আজ?! এত গভীর বন্ধন, এত সহজে কী করে টুটে গেল?
রাবেয়া বেগম ছেলেকে কাছে ডাকলেন,
– মারজান বাবা, এ দিকে আয় তো!
– আসছি! কী হয়েছে বলো!
– আমার সাথে একটু রান্নাঘরে চল বাবা।
– কিন্তু মা, ওখানে কী?
– আগে চল।
রান্না ঘরে ঢুকে রাবেয়া বেগম একটা মোড়া এগিয়ে দিলেন ছেলের দিকে। মারজান জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকালো ওর মায়ের দিকে, মা ইশারায় তাকে বসতে বললেন।
উনুনের পাশে বসে রাবেয়া বেগম ছেলেকে বললেন, আমি কী করছি, সেটা মনোযোগ দিয়ে দেখ।
রাবেয়া বেগম মোমবাতি জ্বালিয়ে একটা নারিকেলের শুকনো পাতায় আগুন ধরালেন, তারপর তা উনুনের ভিতর ঢুকিয়ে দিলেন। একে একে অনেকগুলো লাকড়ি উনুনে দিয়ে তিনি পুড়িয়ে ফেললেন৷
– কী দেখলি?
মারজান এতক্ষণ অবাক হয়ে মায়ের কার্যকলাপ দেখছিল, ওর মাথায় কিছু ঢুকছে না। মা ওকে রান্নাঘরে ডেকেছে কেন? প্রথমে ভেবেছিল হয়তো কোনো স্পেশাল ডিশ রান্না করে খাওয়াবে ওকে, ওর পছন্দের হালুয়া কিংবা পাস্তা, কিন্তু মা এ কী করছেন? অযথাই শুধু লাকড়ি পুড়িয়ে যাচ্ছেন৷ কিন্তু কেন?
– মারজান বাবা!
– হ্যাঁ মা!
– কী দেখলি?
– লাকড়ি পুড়ে গেছে, কিন্তু তাতে দেখার কী হলো?
রাবেয়া বেগম ছেলের এলোমেলো চুলগুলোয় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন, ‘শোন বাবা! এই উনুনটা হচ্ছে হিংসে সদৃশ্য। আর এই যে দেখলি কাঠগুলোকে কীভাবে তা পুড়িয়ে ছারখার করে দিলো?
– হ্যাঁ, তো?
– বাবা! হিংসা তোর পূণ্যগুলোকে এমনভাবে পুড়িয়ে দেবে, যেমনভাবে এই লাকড়িগুলো পুড়ে ছাই হয়ে গেল। হিংসার পরিমাণ যত বাড়বে, আগুণ ততই জ্বলবে। তোর পূণ্যগুলো সব মুছে যাবে৷ আর যাকে তুই হিংসে করছিস, তার কিন্তু কিছুই হবে না। ক্ষতি হবে তোর, পুরাই ডুবে যাবি তুই। হিংসের ফলে তোর অন্তরে মরিচা পড়ে যাবে। তুই আনন্দবোধ করবি না কখনও৷ হিংসে হলো এক ভয়ংকর আগুন বাবা! যা তোকে নিঃশেষ করা অবধি দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকবে। কোনো মুসলমান ভাইয়ের সাথে রাগ করে বা ঝগড়া করে তিন দিনের বেশি কথা বন্ধ রাখা উচিত নয়। কারো সাথে দুর্ব্যবহার করাটা মস্ত বড় অন্যায়! আর সাজিদ তোর বন্ধু। নিঃস্বার্থভাবে ছেলেটা সবসময় তোর পাশে থেকেছে, আর তুই…?
– মা! আমি…
– শোন বাবা! খেলায় হার-জিত থাকবেই। কিন্তু তাই বলে সামান্য একটা খেলার জন্য বন্ধুত্বটাকে নষ্ট করা কোনো বুদ্ধিমানের কাজ নয়। বন্ধুত্বের সম্পর্ক পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী সম্পর্ক! এর সুতো শত চেষ্টাতেও ছেঁড়া যায় না।
আর সামান্য চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য এতদিনের সম্পর্কটা ফিকে হয়ে গেল তোর কাছে? কেন বাবা?
– মা!…
আর কিছু বলতে পারে না মারজান। মায়ের কথাগুলোই বারবার প্রতিধ্বনিত হয়ে ফিরে আসে ওর কাছে। আসলেই তো, এতটা নড়বড়ে তো কখনওই ছিল না ওদের সম্পর্ক। দোষটা ওর নিজেরই, নিজের প্রিয় বন্ধুর সাথে কেউ এমন করে? মনে মনে অনুতপ্ত হয়ে মারজান ভাবে, দ্রুত গিয়ে সাজিদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। আসলেই, অন্তরে হিংসে থাকলে কখনও শান্তি পাওয়া যায় না। প্রিয় বন্ধু সাজিদের থেকে বিচ্ছিন্ন হবার পরে যেমনটা সে নিজেও অনুভব করেছে৷
.
গভীর রাত! আকাশে বসেছে আজ কেবলই তারাদের মেলা। চারিদিকে বিরাজ করছে পিনপিন নীরবতা। পুরো গ্রাম ঘুমিয়ে আছে। শুধু ঘুম নেই মারজানের চোখে৷ সে ভোরের অপেক্ষা করছে। ভোর হয়ে এলেই সে দৌড়ে যাবে বন্ধুর কাছে, শক্ত করে তাকে জড়িয়ে ধরবে। কতদিন হলো ঠিকঠাক মতো আড্ডা দেওয়া হয়নি দুই বন্ধুর!
ঘড়ির কাঁটা স্থির হয়ে আছে, সময়টা যেন আজ হঠাৎ করে থমকে গেছে। রাত পোহাতে আর কত দেরি পাঞ্জেরী?

সম্পর্কিত পোস্ট

পূনর্জন্ম

জুয়াইরিয়া জেসমিন অর্পি . কলেজ থেকে ফিরেই পিঠের ব্যাগটা বিছানায় ছুড়ে ফেললো অন্বেষা। তারপর পড়ার টেবিলের কাছে গিয়ে চেয়ার টেনে নিয়ে ধপ করে বসে দুই হাত দিয়ে মাথাটা চেপে ধরলো।প্রচণ্ড মেজাজ খারাপ ওর। আজ ওদের সেমিস্টার ফাইনালের রেজাল্ট দিয়েছে। একদমই ভালো করেনি সে। যদিও শুরু...

অনুভূতি

অনুভূতি

লেখা: মুন্নি রহমান চারদিকে ফজরের আজানের সুমধুর ধ্বনি ভেসে আসছে। বাইরে এখনো আবছা অন্ধকার। তড়িঘড়ি করে বিছানা ছাড়লো মালা। ঘরের কাজ সেরে বের হতে হবে ফুল কিনতে। তাড়াতাড়ি না গেলে ভালো ফুল পাওয়া যায় না আর ফুল তরতাজা না হলে কেউ কিনতে চায় না। মাথার ওপরে তপ্ত রোদ যেন...

অসাধারণ বাবা

অসাধারণ বাবা

লেখক:সাজেদ আল শাফি বাসায় আসলাম প্রায় চার মাস পর। বাবা অসুস্থ খুব।তা নাহলে হয়তো আরও পরে আসতে হতো।গাড়ি ভাড়া লাগে ছয়শো পঁচিশ টাকা।এই টাকাটা রুমমেটের কাছ থেকে ধার নিয়েছি।তার কাছে এই পর্যন্ত দশ হাজার টাকা ঋণ হয়েছে।বলি চাকরি হলেই দিয়ে দিব। পড়াশোনা শেষ করে দুই বছর...

৫ Comments

  1. সুস্মিতা শশী

    অনেক সুন্দর ছি গল্পটি। সত্যিই হিংসা পূণ্যগুলোকে পুড়িয়ে দেয়।

    Reply
  2. আফরোজা আক্তার ইতি

    বাহ! বেশ চমৎকার একটা গল্প পড়লাম। তৃপ্তি পেলাম বেশ। এমন চমৎকার আর শিক্ষণীয় গল্প অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে। লেখনশৈলী অসাধারণ ছিল। আসলেই বন্ধুত্বের কাছে কখনওই অন্যকিছু শ্রেষ্ঠ হতে পারে না। হিংসা নামক অভ্যাসটি অনেক সম্পর্ককেই নষ্ট করে দেয়। হিংসার জন্য মানুষ আপন-পর ভুলে যায়, ছোট-বড় ভুলে যায়। এ যেন আগুনের মতোই। একবার লেগে গেলে তা সবকিছুকেই জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছাই করে দেয়। হিংসার জন্য বিপথে পা বাড়াতেও বুক কাঁপে না তখন। মারজান অবশেষে নিজের ভুল বুঝতে পেরেছে।
    প্রিয় লেখিকা, বানানে কিছু ভুল আছে তা সংশোধন করে দিচ্ছি।
    মধ্যমনি- মধ্যমণি।
    মাথা আউলিয়ে যাচ্ছে- বাক্যটা কেমন জানি শ্রুতিমধুর লাগে নি। মাথা আউলে যাচ্ছে/ মাথা গুলিয়ে যাচ্ছে দিলে ভালো লাগত।
    মুখামুখি- মুখোমুখি।
    দুজনেরই- দু’জনেরই।
    চেচাচ্ছে- চেঁচাচ্ছে।
    আগুণ- আগুন।
    অনেক শুভ কামনা রইল।

    Reply
  3. Eti Akter Chandni

    মাস আল্লাহ খুব ভালো লাগল গল্পটি, কিছুদিন আহেও একবার গল্পটি পড়া শুরু করেছিলাম কিন্তু ব্যস্ততার জন্য গল্প শেষ করা হয়নি, আজ গল্পটা পড়ে শেষ করলাম।গল্পতে নিজেকে আবিষ্কার করেছিলাম, কখনো নিজেই সাজিদ আবার কখনো মারজান, কখনো আমি হিংসা করি আবার কখনো আমার বান্ধবি হিংসে করে আমাকে দেখে।
    গল্পটা বাস্তবতার সাথে লেখা হয়েছে, দোয়া করি আরও ভালো গল্প লিখতে পারবেন ইনশাআল্লা। শুভ কামনা আপনার জন্য।

    Reply
  4. Md Rahim Miah

    একইরকম-একরকম(যেহেতু পরবর্তী উদাহরণ শব্দে একরকম লেখা হয়েছে)
    শুনে-শোনে(যেহেতু চলিত শুদ্ধ ভাষা ব্যবহার হয়েছে)
    ওঠে-উঠে(ওঠে লাইনের শেষে বসে)
    তাইতো-তাই তো
    যাই-যায়(যেহেতু অন্য কারোর কথা বলা হয়েছে আর অন্য কাউকে উক্তি করার সময় য় হয়)
    ওঠে-উঠে
    শুনে-শোনে

    বাহ্ অসাধারণ লিখেছেন। তবে শেষে যদি সাজিদের কাছে ক্ষমা চাওয়া ঘটনাটাও উল্লেখ করে দিতেন আরো ভালো হতো । তবে গল্পের মাঝে সুন্দর একটি শিক্ষণীয় দিক ফুটে উঠেছে হিংসা যে ভালো নয় । আসলে হিংসা এমন এক জিনিস যা মানুষের নেক আমলকে ধ্বংস করে দেয়। যাইহোক কিছু বানান ভুল ছিল আগামীতে এইগুলো খেয়াল রাখবেন আশা করি আর কিছু ছিল যেগুলো আরেকজন উল্লেখ করে দিয়েছে সেগুলোর প্রতিও। অনেক শুভ কামনা রইল।

    Reply
  5. Halima Tus Sadia

    অসাধারণ লিখেছেন।
    খুব সুন্দর একটি শিক্ষণীয় গল্প।

    সত্যিই হিংসা মানুষের নেক আমল ধ্বংশ করে।
    হিংনা করে কেউ কখনো উন্নতি হতে পারে না।বরং অবনতির দিকে ঠেলে দেয়।

    আমাদের সবারই বুঝা উচিৎ খেলায় হার জিত থাকবেই।তাই বলে হিংসে করে বন্ধুত্ব শেষ হয়ে যাবে।
    এই জিংনার কারণে আজ সমাজে কতো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে।
    হিংসার জন্য আপন পর মানে না,ভাই বোনকে হত্য্য করে,ভাই ভাইকে হত্যা করে।

    হিংসার রোষানলে পড়ে কাউকে খুন করতে কুণ্ঠাবোধ করে না।

    গল্পে দারুণ একটা মেসেজ আছে” হিংসা মানুষকে ধ্বংশ করে।

    শুভ কামনা রইলো।

    Reply

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *