হিমু ও মায়া
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৬, ২০১৮
লেখকঃ

 101 বার দেখা হয়েছে

এই লেখক এর আরও লেখা পড়ুনঃ

হিমু ও মায়া

-সজল আহমেদ জয়

অনেকক্ষণ ধরে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছি । ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে । এর আগেও আকাশ ‌দেখেছি কিন্তু আজকের আকাশটা অন্য দিনের চেয়ে আলাদা । কালো মেঘ গুরি গুরি বৃষ্টি সাথে হলকা বাতাসে মেঘের খেলা । তাই তো আকাশটার সৌন্দর্যের গভীরতা বুঝার জন্য তাকিয়ে আছি ।

আজকে রুপার কথা মনে পরছে কারণ রুপার ইচ্ছে ছিলো নীল শাড়ি পড়ে ঝুম বৃষ্টিতে আমার পাশে দাঁড়িয়ে হাত ধরে আকাশটা দেখবে । কিন্তু কখনো বলেনি আমাকে ওর ইচ্ছেটা । কারণ রুপা জানতো আমি কখনই ওর ইচ্ছেটাকে পূরণ করবো না । কিন্তু আমি বুঝতে পেরেছিলাম যখন ওর মায়া টানা চোখের দিকে তাকিয়ে ছিলাম । বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকি কারণ আমার জন্য ওর অনেক মায়া ছিল । মায়া জিনিসটা অন্য মানুষের জন্য হিমুদের জন্য নয় । বাবা আমাকে মহামানব বানানোর জন্য মায়া ত্যাগের শিক্ষা দিয়েছিলেন প্রথমে। হয়তো তিনি জানতেন মায়া নামক বস্তুটি থাকলে মহামানব হতে পারবো না । জানি না বাবার ইচ্ছের মহামানব হতে পেরেছি কিনা ।

ভাবান্তর ঘটলো গাড়ির হর্নে । মেয়েটি গাড়ির বাইরে মাথা বের করে বলছে লাগলো “এই যে রাস্তার মাঝখানে এইভাবে দাঁড়িয়ে ঊপরে কি দেখছেন ?” পিছনে তাকিয়ে বললাম আমাকে বলছেন ?
সে বলে উঠলো এখানে আর কেউ আছে আপনি বাদে আশে পাশে আর এভাবেই বা আকাশ দেখার কি আছে, আগে দেখেন নি ? আমি মৃদু হাসি হেসে বললাম দেখেছি কিন্তু আজকের আকাশটা অন্য দিনের আকাশের থেকে আলাদা । কথাটা বলতেই রেগে গেল গিয়ে বলল ফালতু কথা এক‌ এক দিন আকাশ অন্যরকম হয় নাকি । রাগি মুখে মেয়ের একটু বেশি সুন্দর লাগে কিন্তু রুপার থেকে বেশি না । আজ পর্যন্ত কাউকে ওর থেকে বেশি সুন্দর দেখিনি ।
হুম বললাম শুধু । তাতেই আরও রেগে গিয়ে বলল দেখবেন ঠিক আছে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে দেখেন । আমি বললাম রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে এই আকাশটা দেখা যাবে না ।
তাতেই রেগে বলল পাগল নাকি । মৃদু হেসে বললাম মিস মিমি ছেলেটার কিছু হবে না । কালকে তার জ্ঞান ফিরে আসবে আর হ্যাঁ আপনার কানের নিচের তিলটা অনেক সুন্দর । মেয়েটি অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে । হয়তো এইটাই ভাবছে আমি জানলাম কেমনে ছেলেটা হসপিটালে ভর্তি আর নামটাও জানলাম কেমন করে । এইসব প্রশ্ন তার মুখে ভেসে উঠছে । তাকে বিচলিত করতে পেরেছি । মানুষ অল্পেই বিব্রত হয়ে যায় । মানুষের বিব্রত মুখ দেখতে অন্যরকম হয় । আর কিছু না ভেবে হাঁটতে শুরু করলাম । জানি পিছনে মেয়েটা অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে । কালকে আমাকে খুঁজতে এখানেই আসবে কারণ তার প্রশ্নের উত্তর চায় । সাধারণত মানুষ কিছু জিনিসের জন্য সব করতে পারে তার মধ্যে এটি একটি ।

অনেকদিন হলো ময়ূরাক্ষী নদীটার পারে বসে শীতল পানিতে পা ডুবিয়ে রাখে পাকুড় গাছে বসে থাকা ঘুঘুর বিষন্ন গলার ডাক শুনা হয় না । নদীটা বের করে আনতে পারলে‌ অনেকটা সময় কাটানো‌ যাবে । ময়ূরাক্ষী নিয়ে ভাবতেই শফিক এসে ডাকতে শুরু করলো ।
হিমু ভাই আছো ? তোমার সাথে কে যেন দেখা করতে আসছে । অনেকক্ষণ ধরে বসে আছে গাড়ি নিয়ে ।
হুম । কে আসছে মুখে বিরক্তির ছাপ নিয়ে জিজ্ঞেস করলাম । জানি না কিন্তু একজন মেয়ে । ও আচ্ছা যা দেখছি আমি বলে বিছানা থেকে উঠে পরলাম আমার বুঝতে বাকি নেই যে মিমি আসছে আমার খোঁজ করতে করতে এখানে । রুম থেকে বের হয়ে গাড়ির দিকে যেতেই লক্ষ্য করলাম সে নীল রঙের শাড়ি পড়ে চোখে কাজল আর কপালে একটা নীল টিপ দিয়ে সেজেছে । গাড়ির কাছে যেতেই বলে উঠলো সে । আজ সাতদিন ধরে আপনাকে খুঁজছি । মৃদু হেসে বললাম জানতাম আপনি খুঁজবেন । জানতেনই যখন দেখা করলেন না কেন ? কিছু বলার আগেই সে বলে উঠলো উঠে পড়ুন গাড়িতে আপনার সাথে কিছু কথা ছিল । কিছু না বলে উঠে পরলাম । গাড়িতে উঠতেই ড্রাইভার চালাতে ‌শুরু করল । আমি বলে উঠলাম ছেলেটা ঠিক হয়েছে না ?
মিমি মাথা নেড়ে বলল আপনি কেমন করে জানলেন ছেলেটির কথা আর জানলেই বা কেমন করে আমার সম্পর্কে ? আমি বললাম তাকে বলতে পারেন ধারণা । সে অবাক হয়ে তাকিয়ে বলল ধারণা থেকে এতো নিখুঁত ভাবে মিলে যায় ? আপনার কি কোন অদ্ভুত ক্ষমতা আছে যে কাউকে দেখে বলে দিতে পারেন তার সম্পর্কে ? মৃদু হেসে ড্রাইভারকে বললাম গাড়িটা থামাতে । গাড়ির দরজা খুলে নেমে পড়লাম । মিমি বলে উঠলো আমাদের কি আবার দেখা হবে ? মৃদু হেসে তাকে বললাম ছেলেটাকে বিয়ে করে নিন ভালো‌ থাকবেন আপনারা । আপনাকে অনেক ভালোবাসে বলেই হাঁটতে শুরু করলাম । জানি মেয়েটা মায়া ভরা চোখে তাকিয়ে আছে কিন্তু আমাকে এইসব মায়ায় জাড়ানো যাবে না করণ
হিমুরা অন্যদের মায়ায় জড়ায় , নিজেরা মায়ায় জড়ায় না ।

হাঁটতে হাঁটতে ভাবছি আজকে আসাদ ভাইয়ের অফিসে যাব । সেখানে গেলে ফ্রিতে চা পাওয়া যাবে সাথে রুপাকে ফোন করতে পারবো অনেক দিন হলো ফোন দেওয়া হয় না জানি আজকে ওর বাবা ধরবে আর রুপা পাশেই থাকবে দাঁড়িয়ে । ভাবতে ভাবতে হাঁটতেছি । আজকে অন্ধকারটা অন্যরকম । খারাপ লাগছে‌ না হাঁটতে অন্ধকারে।

সম্পর্কিত পোস্ট

পূনর্জন্ম

জুয়াইরিয়া জেসমিন অর্পি . কলেজ থেকে ফিরেই পিঠের ব্যাগটা বিছানায় ছুড়ে ফেললো অন্বেষা। তারপর পড়ার টেবিলের কাছে গিয়ে চেয়ার টেনে নিয়ে ধপ করে বসে দুই হাত দিয়ে মাথাটা চেপে ধরলো।প্রচণ্ড মেজাজ খারাপ ওর। আজ ওদের সেমিস্টার ফাইনালের রেজাল্ট দিয়েছে। একদমই ভালো করেনি সে। যদিও শুরু...

অনুভূতি

অনুভূতি

লেখা: মুন্নি রহমান চারদিকে ফজরের আজানের সুমধুর ধ্বনি ভেসে আসছে। বাইরে এখনো আবছা অন্ধকার। তড়িঘড়ি করে বিছানা ছাড়লো মালা। ঘরের কাজ সেরে বের হতে হবে ফুল কিনতে। তাড়াতাড়ি না গেলে ভালো ফুল পাওয়া যায় না আর ফুল তরতাজা না হলে কেউ কিনতে চায় না। মাথার ওপরে তপ্ত রোদ যেন...

অসাধারণ বাবা

অসাধারণ বাবা

লেখক:সাজেদ আল শাফি বাসায় আসলাম প্রায় চার মাস পর। বাবা অসুস্থ খুব।তা নাহলে হয়তো আরও পরে আসতে হতো।গাড়ি ভাড়া লাগে ছয়শো পঁচিশ টাকা।এই টাকাটা রুমমেটের কাছ থেকে ধার নিয়েছি।তার কাছে এই পর্যন্ত দশ হাজার টাকা ঋণ হয়েছে।বলি চাকরি হলেই দিয়ে দিব। পড়াশোনা শেষ করে দুই বছর...

০ Comments

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *