গণহত্যা
প্রকাশিত: এপ্রিল ১৫, ২০১৮
লেখকঃ vickycherry05

 109 বার দেখা হয়েছে

এই লেখক এর আরও লেখা পড়ুনঃ vickycherry05

গল্প লেখকঃ
সাকি সোহাগ
(এপ্রিল – ২০১৮)
……………

রাশেদা বেগম স্বামী ও দুই বছরের বাচ্চাকে নিয়ে বড় ঘরে শুয়ে আছে আর অন্য ঘরে নিজের যুবতী মেয়ে ও তার বান্ধবী। এটা ৭১ এর ২৫শে মার্চ কাল রাত্রির কথা।

হঠাৎ মধ্য রাতে অন্য ঘর থেকে মেয়ের চিৎকার ও আর্তনাদ শুনে ঘুম ভাঙ্গে বাবা মার। তাড়াহুড়া করে উঠে মেয়ের ঘরের দরজার কাছে এসে দেখে দুই মেয়ের রক্তাক্ত লাশ মেঝেতে পরে আছে। ঘরের মধ্যে তিন জন পাকিস্তানি জানোয়ার। আর আঙ্গিনায় আট দশজন। মেয়ের রক্তাক্ত লাশ দেখে চিৎকার দিয়ে বুকে জড়ায়ে ধরে কাঁদার আগেই বাবা-মাকে অন্য শয়তানরা ঠাস ঠাস করে কয়েকটা গুলি মেরে রক্তাক্ত করে ফেললো।
বাহিরে গুলির শব্দ শুনে ঘুম ভাঙ্গে রাশেদার ছোট ছেলেটার। মা, মা করে কেঁদে উঠলো। লাইট নিয়ে আরেক শয়তান ঘরে ঢুকে পিচ্চিকে বিছানা থেকে তুলে আঙ্গিনায় নিয়ে আসে এবং সঙ্গে সঙ্গে রাইফেলের বাট দিয়ে পিচ্চিটাকে মেরে মাটিয়ে নুয়ে দেয়। মুখ দিয়ে রক্ত এসে মারা যায় সেও।
অতঃপর আশেপাশের ঘর বাড়ী গুলো জ্বালিয়ে দেয়। সামনে যাকে পাচ্ছে তাকেই গুলি করে মেরে ফেলছে। এই মধ্য রাতে বাংলার শান্তিময় ঘুমে কাতর মানুষগুলোকে মেরে একাকার করে ফেলে সেই শয়তানরা । সেই রাত্রে কত বাঙ্গালীকে যে মেরেছে! পরিবারের সব সদস্যকে একত্রে পেলে একত্রেই মেরে ফেলেছে। এক কথায় যেটাকে বলে গণহত্যা। যদিও ২৫ শে মার্চ গণহত্যা দিবস না।

সম্পর্কিত পোস্ট

পূনর্জন্ম

জুয়াইরিয়া জেসমিন অর্পি . কলেজ থেকে ফিরেই পিঠের ব্যাগটা বিছানায় ছুড়ে ফেললো অন্বেষা। তারপর পড়ার টেবিলের কাছে গিয়ে চেয়ার টেনে নিয়ে ধপ করে বসে দুই হাত দিয়ে মাথাটা চেপে ধরলো।প্রচণ্ড মেজাজ খারাপ ওর। আজ ওদের সেমিস্টার ফাইনালের রেজাল্ট দিয়েছে। একদমই ভালো করেনি সে। যদিও শুরু...

অনুভূতি

অনুভূতি

লেখা: মুন্নি রহমান চারদিকে ফজরের আজানের সুমধুর ধ্বনি ভেসে আসছে। বাইরে এখনো আবছা অন্ধকার। তড়িঘড়ি করে বিছানা ছাড়লো মালা। ঘরের কাজ সেরে বের হতে হবে ফুল কিনতে। তাড়াতাড়ি না গেলে ভালো ফুল পাওয়া যায় না আর ফুল তরতাজা না হলে কেউ কিনতে চায় না। মাথার ওপরে তপ্ত রোদ যেন...

অসাধারণ বাবা

অসাধারণ বাবা

লেখক:সাজেদ আল শাফি বাসায় আসলাম প্রায় চার মাস পর। বাবা অসুস্থ খুব।তা নাহলে হয়তো আরও পরে আসতে হতো।গাড়ি ভাড়া লাগে ছয়শো পঁচিশ টাকা।এই টাকাটা রুমমেটের কাছ থেকে ধার নিয়েছি।তার কাছে এই পর্যন্ত দশ হাজার টাকা ঋণ হয়েছে।বলি চাকরি হলেই দিয়ে দিব। পড়াশোনা শেষ করে দুই বছর...

০ Comments

Submit a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *